ওম মনি পদ্মে হুম

শান্তা মারিয়া | ২৩ মে ২০১৩ ১:১৮ পূর্বাহ্ন

তারপর কোশলের প্রাচীন সড়কে
রাত্রি নেমে এলো।
আরতির প্রদীপ আর ধূপের ধোঁয়া
মিলিয়ে এলো শিশিরের জলজ সৌরভে।

বিষ্ণু মন্দিরের দেবদাসীরা
কামজ লীলা শেষে
আঁচলে বেঁধে নিল প্রগাঢ় রাত্রিকে।

নগর নটীর উচ্ছ্বল নূপুর
ক্লান্ত হতে হতে
আকাশের দেহে উৎকীর্ণ করে চলে
বাসনার ক্ষীণ ক্যাসিওপিয়া।

ঘুমন্ত কপিলাবস্তুর উদ্যান প্রাসাদে
শাক্যকুমার
জীবনের অনিঃশেষ ক্লান্তিতে বিপর্যস্ত।

তবে কি যযাতিই ঠিক?
বাসনার রক্তবীজ
দেহকে উত্তাল করে
যে দেহ কীটের খাদ্য
সে দেহের অলিতে গলিতে
কন্দর্পের অক্ষয় রাজ্যপাট।
তক্ষশীলা থেকে গান্ধার মিথিলা
আকণ্ঠ নিমগ্ন কেন মৃগয়া মৈথুনে
সুপ্রাচীন আর্যভূমি জুড়ে
চার্বাকের অট্টহাসি
ভয়ংকর প্রতিধ্বনি তোলে।

যশোধরা অথবা রাহুল
চেতনার স্তরে স্তরে নতুন পলল।

গৌতম হেঁটে যান।
তার পদশব্দে
আড়মোড়া ভাঙে যাবতীয় মোহান্ধ অসুর।
কাঁচ ভাঙার শব্দে ভেঙে পড়ে
বৈশালী, শ্রাবস্তী, বারাণসী, লিচ্ছবি নগর।

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি
সংঘং শরণং গচ্ছামি

পথ শুধু পথ
অন্তহীন প্রবাহণ
শ্রাবস্তীর জেতবনে উচ্চারিত অলংঘ্য বিধান
শ্রেষ্ঠী, নৃপতি, ক্ষত্রপ, বণিতা
স্বয়ম্ভুর স্তুপে জ্বলে অমোঘ প্রদীপ।
মহা উচ্চতায় মাথা হেঁট করে
অন্নপূর্ণা, কাঞ্চনজংঘা, সাগরমাতা
তীব্র শিখায় বিস্ময়ে বিমুগ্ধ দূরবর্তী কাল।

সিদ্ধার্থ দুইচোখ করুণায়
অবিরল নিম্নমুখী।

ব্যধি জরা মৃত্যু ধ্বংস
তবুও নির্বাণ নয়
বড় বেশি আকাঙ্খিত মানবজীবন

অবন্তিকা মালবিকা বাসবদত্তা
এখনও উত্তাল
বাজে প্রলয় নিক্কণ।
আমাদের নিভৃত রক্তকণিকায়
বাৎস্যায়ন জয়ধ্বনি তোলে
যশোং দেহি ধনং দেহি
হোমাগ্নি আচ্ছন্ন আকাশ।

তুষিত স্বর্গ ছেড়ে আরেকবার যদি
বোধিসত্ব দিয়ে যায় অবারিত প্রেম
অনিঃশেষ আর্যভূমি
কুমার মৈত্রেয়
বোধিদ্রুমের প্রাচীন শিকড় ছুঁয়ে
আরেকবার উচ্চারিত হোক
ওম মনি পদ্মে হুম।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (5) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — মে ২৩, ২০১৩ @ ১২:০২ অপরাহ্ন

      শান্তা মারিয়ার কবিতাটি পাঠে প্রশান্তি আনে, সুন্দর এই কবিতাটিতে ইতিহাস এর বিস্তৃতি আছে, বর্তমানের সমাজ রাজনীতি আছে, দূর অতীত আর নিকট দিনের নানা চেহারার মুখগুলো-মুখোশগুলো উঁকি দিয়ে দেখবার জানালা আছে। কবিতাটিতে হৈচৈ নেই, আছে ধীরে ধীরে অন্দরে প্রবেশের দরোজা। নানা চরিত্রের সংযোগ ঘটিয়ে চরিত্রগুলোর স্পষ্টতার মধ্যে আছে কবির বক্তব্য । কোন পাঠক ইতিহাসকে পাঠে যুক্ত করে নিলে এবং চরিত্রগুলো তার আলোকে খুলে নিতে পারলে খুব ভালোভাবে কবিতাটির বক্তব্যকে হৃদ-ঘনিষ্ট করে নিতে পারেন। কবিকে শুভেচ্ছা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন kazi m abbas — মে ২৩, ২০১৩ @ ৩:২৪ অপরাহ্ন

      ইতিহাসবোধ, গল্প বলার ক্ষমতা, কবিতার শরীর এবং কালান্তর পরিভ্রমণের সক্ষমতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। রচয়িতাকে অভিনন্দন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন nadim — মে ২৩, ২০১৩ @ ৪:৫৪ অপরাহ্ন

      বোধিদ্রুমের প্রাচীন শিকড় ছুঁয়ে
      আরেকবার উচ্চারিত হোক
      ওম মনি পদ্মে হুম। oshadharon !

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — মে ২৪, ২০১৩ @ ১২:০৩ অপরাহ্ন

      শান্তা, কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে দিয়েছেন ভাললাগা এবং ভাবনার বৈচিত্র্যময় অনেক অনুষঙ্গ। শব্দের যাদুময়তায় হৃদযকে করেছেন আলোড়িত। আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

      মানিক মোঃ রাজ্জাক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Taposh Gayen — মে ২৫, ২০১৩ @ ৮:১৪ পূর্বাহ্ন

      শান্তা মারিয়ার কবিতায় জেগে ওঠে সময়ের রথ এবং তার পথ পরিক্রমা । ইতিহাস-যাত্রায় আমরা দেখছি প্রাচীন ভারতের এক মহাসন্ধিক্ষন ; পেয়ে যাই অবতার বিষ্ণুর বিগ্রহকে, দার্শনিক চার্বাকের ভাবনার প্রসঙ্গকে, এবং অবসাদে আক্রান্ত অবলোকিতেশ্বরকে–একার্থে সময়ের ভিতরে জীবনের জটিল গ্রন্থণাকে । বুদ্ধের প্রেমে ভারত জেগেও যেন জাগছে না– এমনই এক অসামান্য সময়ের আবর্তনকে ঘিরে কবিতার ভিতরে আমাদের যাত্রা । কবি শান্তা মারিয়াকে আমার অনেক শুভেচ্ছা !

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com