যে কথা পুষিও জানে

মণীশ রায় | ১৯ মে ২০১৩ ৩:০৭ অপরাহ্ন

মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে আনন্দে মজেছিল লিজা, আম্মাকে জানাল,‘আম্মা , তাড়াতাড়ি টেলিভিশনটা খোল। লাইভ টেলিকাস্ট চলছে। আমাদেরও দেখাচ্ছে।’
বিকেলের দিকটায় বিউটি বেগম খানিকক্ষণ দিবানিদ্রা উপভোগ করেন। এসময় কেউ তাকে বিরক্ত করুক তা তিনি চান না। দেখতে কিঞ্চিৎ পৃথুলা , গায়ের রং ফর্সা। বয়স চল্লিশ না হলেও আচার-আচরণের ভারিক্কিয়ানার কারণে তাকে বয়স্ক লাগে সবার কাছে।
স্বামী বিদেশে থাকেন। পেশায় ইঞ্জিনীয়ার। বছরে একবার করে বাংলাদেশে বেড়িয়ে যান আর মাসে-মাসে সংসার খরচ পাঠান।

একেবারে এসে পড়ার কথা বললে বাধা উত্তর ,‘ খাওয়াবে কে? শ্বশুরবাড়ি?’
শ্বশুরবাড়ির আর্থিক অবস্থা বলার মতো কিছু নয় বলে খোঁচাটা বারবার নীরবে হজম করতে হয় বিউটি বেগমকে।
ঢাকায় নিজের ফ্ল্যাটে বসবাস করেন বিউটি। একমাত্র মেয়ে কলেজ-পড়ুয়া লিজা ছাড়াও সংগে রয়েছে একজন বাধা কাজের বুয়া আর ছোটভাই।

ছোটভাইর পড়ার খরচ চালান তিনি, যদিও মুখে স্বামীর কাছে সেকথা কখনো স্বীকার করেন না।
সবকিছুতেই বিউটি বেগমের বড় ভয়। এমন কি , তিনি যখন দুপুরবেলাকার ঘুম উপভোগ করেন তখনো কাজের বুয়ার পাশে থাকা চাই। রাতে তো কথাই নেই।

এ নিয়ে লিজার হাসি-তামাশার শেষ নেই। কারণ, সে একা শোয় পাশের ঘরে। গর্বভরে বলে বেড়ায়,‘ আমি হলাম আব্বার মতো। কোনকিছু ভয় পাই না। আমার দাদু মুক্তিযোদ্ধা ; তার ছেলে আমার আব্বুা । তা-ই।’
বিউটি বেগম এসব কথায় যে খুব অসন্তুষ্ট হন তা নয়। বরং মেয়ের এরকম সৎ ও সাহসী উচ্চারণ শুনে স্বামীর মতো তিনিও স্বপ্ন দেখেন , বড় হয়ে লিজা একটা কিছু হবে।

সেই লিজা এখন গণ-জাগরণ মঞ্চের সামনের কাতারে দর্শকের সারিতে বসে রয়েছে। মায়ের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে দুপুরবেলায়।
‘কী জন্য টাকা?’ বিউটি বেগমের প্রশ্ন।
‘ওমা , ভাইয়ারা এত কষ্ট করছে , তাদের খাওয়াবো না?’
‘এতগুলো মানুষকে খাওয়াবি তুই? মাাথা খারাপ?’
‘আম্মা , তুমি যে কি?’ চোখ-ঠোঁট উল্টে এক অদ্ভুত আদিখ্যেতার মুদ্রা দেখায় লিজা আম্মাকে, ‘আমি কি সেখানে খাওয়াতে যাচ্ছি? আমি তো ভাইয়াদের সাথে শেয়ার করবো।’
‘সাথে যাবে কে? আমি যাবো?’ কন্ঠের পরতে পরতে উৎকন্ঠার সুর ।
‘ওফ। কারো যাওয়ার দরকার নেই। হল?’ মুখ ঝামটা দেয় লিজা।
মেয়েটার আবার রেগে যাওয়ার ধাত। বাবার মতো। বিউটি বেগম কথা থামিয়ে পাঁচশত টাকার একটি নোট মেয়ের হাতে গুঁজে দেন।

লিজা টাকাটা নিয়ে ওর সাইড-ব্যাগে পুরে নেয়। তারপর নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায়।
খাটের উপর পুষি চোখ বুঁজে শুয়ে রয়েছে। বিউটি বেগমের মতো ওরও দুপুরের খাওয়ার পর কিঞ্চিৎ শোয়ার ধাত। নইলে মেজাজ খিঁচেড়ে থাকে। লিজার সাথে মেজাজ করে যখন তখন।
পুষির মুখের সামনে মুখ নিয়ে লিজা বলে,‘ ওঠ। আমি শাহবাগে যাচ্ছি । যাবি না?’
পুষি তন্দ্রালু চোখে লিজার দিকে ক সেকেন্ড তাকায় । কিভাবে যেন সে বুঝতে পারে ওর মনের কথা। সঙ্গে সঙ্গে ওর কোলে লাফ দিয়ে বসে মুখ ঘষতে শুরু করে দেয়।

‘হইছে । ভাব দেখাতে হবে না। চল।’ বলে লিজা আদর করে বুকে তুলে নেয় পুষিকে।
পেছন থেকে বিউটি বেগম বলে ওঠেন, ‘আমি না গেলেও সাথে মিন্টু মামাকে নিয়ে যা। খাওয়ার জিনিষপত্রগুলো কিনতে হবে। তারপর সেগুলো বইতে হবে। অনেক কাজ। যাবে ও?’
একটুক্ষণ ভাবল লিজা। তারপর ঘাড় নেড়ে সায় জানায় মায়ের কথায়।
আর এখন তাদেরই নাকি টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছে!
এক লাফে ড্রয়িংরুমে ছুটে এসে টেলিভিশনটা অন করে দেন বিউটি বেগম। পিছন পিছন ছুটে আসে কাজের বুয়া আম্বিয়া। বিউটি বেগমের চেয়ে ও আরো মরিয়া টেলিভিশনের পর্দায় লিজাকে দেখতে।
দুজনার চার চোখ এলোপাতাড়ি ঘেুারাঘুরি করছে পর্দায়।
সহসা চেঁচিয়ে ওঠে আম্বিয়া ‘, খালাম্মা গো , ওই যে লিজা আফা। লগে মিন্টু। ’
তৃষ্ণার্তের মতো একই দৃশ্য বিউটি বেগম বারবার করে দেখতে থাকেন। নিজের অজান্তে চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে এসময়।

কী ভেবে নিজের রুমে গিয়ে মোবাইলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ওর আব্বাকে ধরেন,‘ তোমার মেয়েকে টেলিভিশনে দেখাচ্ছে। গণ-জাগরণ মঞ্চের সামনের সারিতে পুষিকে কোলে নিয়ে বসে আছে তোমার মেয়ে। সাথে মিন্টু আছে। ’
‘ও গেল সেখানে ? তুমি কিছু বলেছিলে?’ নান্টু সাহেব বেশ কদিন আগেই জেনে গেছেন তরুণদের এই মঞ্চের কথা। সেখানে কে কখন সংহতি প্রকাশ করছেন সব খবরাখবরই ইন্টারনেটের কল্যাণে তিনি অবগত রয়েছেন। কিন্তু অসম্ভব চাপা ও মিতভাষী আত্মজাও যে সেখানে যোগ দেবে তা ওর ধারণার ভেতর ছিল না। তাই মুখ ফস্কে প্রশ্নটি বেরিয়ে এল।
‘খোদার কসম, আমি কিছুই বলিনি। ও নিজে থেকে সেখানে গেল। ’
নান্টু কিছুক্ষণ নিশ্চুুপ থাকেন ওপাশে। তারপর একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলেন,‘আব্বা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন। ’

২.

গণ জাগরণ মঞ্চ জমে উঠছে।
একে-একে সব প্রথিতযশা ব্যক্তিরা এসে সংহতি প্রকাশ করছেন মঞ্চে। সৈয়দ শামসুল হক , সৈয়দ আবুল মকসুদ , ইমদাদুল হক মিলন, রামেন্দু মজুমদার, সুবর্ণা মোস্তফাসহ শত শত পরিচিত মুখ। সবার মুখে এক কথা- অশান্তি আর হিংসার দাবানলে যখন পুরো জাতি পুড়ে ছারখার হচ্ছে তখন এরাই ভরসা। এরাই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় ফিরে গিয়ে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা ও সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। এই সুসভ্য , শিক্ষিত, নিস্বার্থ ও উদারমনা তরুণরাই হবে আগামি দিনের সমাজ ও জাতি গঠনের মূল চালিকা শক্তি। জয় বাংলা।

বিউটি বেগমের চোখ আর সরছে না। তিনি কেবল নিজের মেয়েকে দেখতে চাইছেন পর্দায়। ক্যামেরাটি যেইমাত্র প্যান করে দর্শকসারি বরাবর মুখ ঘুরায় ওমনি চীৎকার দিয়ে ওঠে আম্বিায়,‘ আফা!’
আর আনন্দ আর গর্ব ভরা চোখে বিউটি বেগম সেই অমিয় দৃশ্যটি নিজের ভেতর ধারণ করে পরম তৃপ্তিতে কাঁদতে শুরু করে দেন।

এসময় হাতে ধরা মোবাইলটি বেজে ওঠে নির্দিষ্ট রিং টোনে।
‘ তোরে দেখা যাচ্ছে। তোর আব্বারেও বলে দিছি। ’ বিউটি বেগম এক নি:শ্বাসে কথাগুলো বলে দেন।
‘আম্মা , আমার পুষি…..’ আশপাশের চীৎকার-চেঁচামেচি আর হৈ -হট্টগোলের ভেতর লিজার কন্ঠ হারিয়ে যাচ্ছে। তবু তিনি যেন কিছু একটা ঠাহর করতে পারছেন এমনি উৎকন্ঠা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন,‘ কি হইছে রে মা?’
‘আম্মা, আমার পুষি হারিয়ে গেছে।’ আর্তনাদের মতো শোনায় মেয়ের কন্ঠ।
‘পুষি হারিয়ে গেছে? কিভাবে? ও না তোর কোলে বসেছিল?’ জিজ্ঞাসা মায়ের।
‘জানি না। জানি না।’ মোবাইলে মেয়ের কান্নার শব্দ ভেসে এল যেন।
‘ মিন্টু কই? ’
‘পুষিকে খুঁজছে।’ কান্না মাখা কন্ঠে জানাল লিজা।

বিউটি বেগমের মন থেকে নিমিষে সমস্ত ভাল লাগার অনুভুতি চলে গেল। তিনি জানেন তার মেয়েকে। পুষি নামের এই বেড়ালটিকে ছোট থেকে বড় করেছে লিজা। ওর ভেতরকার যা কিছু ভালো তা সব উজাড় করে দিয়ে বেড়ালটিকে বড় করার চেষ্টা করেছে। এখন ওর নিত্যদিনের সঙ্গী এই পুষি। মনের যত কথা সব ওকে জানায় সে। ভাল-লাগা খারাপ-লাগা সব। লিজার ধারণা -মানুষের চেয়েও ওর বোধবুদ্ধি অনেক বেশি প্রখর।

সেই পুষিকে পাওয়া যাচ্ছে না। লিজার অবস্থা কল্পনা করে বিউটি বেগমের মাথা ঘুরতে থাকে। চোখে সর্ষেফুল দেখার মতো অবস্থা।
পাশ থেকে আম্বিয়া কিছু বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করে,‘ কী অইছে খালাম্মা?’
‘লিজার পুষি হারাইয়া গেছে । খুঁইজা পাইতেছে না। হায় খোদা! মাইয়ারে আমি ক্যামনে বাঁচামু। মাইয়া তো আমার শেষ।’ বিলাপ করে ওঠেন বিউটি বেগম।
আম্বিয়া থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে পাশে। দশ বছর ধরে এই বাড়িতে কাজ করছে সে। কৈশোরে বিয়ে হয়েছিল একাবার, স্বামী ওর উপর জুলুম করত বলে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তখন থেকে আম্বিয়া আছে ওদের সাথে। এখন গ্রামে থাকা নিজের মা-বাবা-ভাই-বোনদের চাইতেও ওদের আপন ভাবে সে।

‘আম্মা, আফনে অস্থির হইয়েন না। আল্লাতালা নিচ্চয় এর একটা বিহিত করব। দেইখ্যেন।’ কথা কটি আপনাআপনি চলে আসে ওর জিহ্বায়। চোখ ছলছল করে উঠছে কান্নায়। কারণ, পুষি ওর লিজা আপার বড় পেয়ারের ধন। এটি হারিয়ে গেলে লিজা আপা পাগল হয়ে যাবে। একথা আম্বিয়া যত ভাবছে তত কান্না পাচ্ছে ওর।

একই অনুভূতি বিউটি বেগমেরও। তিনিও আলুথালু বেশে টাইলের উপর বসে রয়েছেন। পাশে একইভাবে বসা আম্বিয়া। থেকে থেকে বিউটি বেগম যত বলেন ‘এখন কি হবে আম্বিয়া? আমার মেয়ের পরান- ভোমরা যে পুষি। ওইটা হারায়া গেলে কি হবে? আমি যাবো একবার সেখানে?’ তত পাশে বসে আম্বিয়া ওকে শান্ত করার চেষ্টা করে,‘ খালাম্মা আফনে অস্থির হইয়েন না। স্থির হন।’
ভূতগ্রস্ত রোগীর মতো বিউটি বেগমের দৃষ্টি বারবার হোঁচট খেতে থাকে টেলিভিশনের পর্দায়। কিছুতেই শান্তি পাচ্ছেন না তিনি।
লিজার অসহায় করুণ মুখটা যত মনে হচ্ছে তত বিউটি বেগমের বুকের ভেতরটা সবকিছু ছারখার হয়ে যাওয়া অনুভবে ভরে উঠছে।
মোবাইলটি টিপতে গিয়েও টিপছেন না। কী এক অপ্রতিরোধ্য ইতস্ততবোধ ওকে আটকে রাখছে, যদি ফের মেয়ের পুষি হারানো করুণ কান্না ওকে শুনতে হয়!
এ যে সহ্য করবার মতো নয়। কোন মা কি তা সহ্য করতে পারে?

৩.

গান আর শ্লোগানে মঞ্চ এখন উত্তাল। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের উদ্দীপক গান যেন ভাঁপ ওঠা গরম ভাতের মতো কচিকন্ঠের
শ্লোগানের সাথে মিলেমিশে একাকার।
পুরো শাহবাগ-মঞ্চ দুলছে আবেগ আর স্বপ্নের দ্যোতনায়। ওদের চোখে স্বপ্ন আর মননে একাত্তর।
এটুকু সম্বল নিয়ে ওরা বেপথু সমাজকে যেন সত্য ও সুন্দরের পথে আনতে চাইছে। ওদের কন্ঠস্বর স্পষ্ট অথচ বিনয়ী , দ্রোহী অথচ হিংসাশ্রয়ী নয়।

মঞ্চে গান চলছে ‘আমরা করবো জয় একদিন’ এবং পাশেই চশমা পরা পবিত্র চেহারার এক কিশোরী তালে তালে
শ্লোগান দিচ্ছে , ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা / তোমার আমার ঠিকানা।’
বিউটি বেগম কয়েকবার চেষ্টা করেও মোবাইলের ডিজিটগুলো টিপতে পারছেন না। বারবার নার্ভাস হয়ে পড়ছেন। মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেই ভেঙে পড়ছেন। কী করবেন বুঝতেও পারছেন না।
এর কয়েক মিনিটের ভেতর লিজা টেলিফোন করল বিউটি বেগমকে।
দুরুদুরু বুক নিয়ে মোবাইলটি কানের কাছে নিয়ে গেল। ফিসফিস করে উৎকন্ঠায় অধীর হওয়া পাশের আম্বিয়াকে জানাল,‘ লিজার ফোন।’
‘বল মা। পেলি তোর পুষিকে?’ স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করেন বিউটি বেগম। মনে মনে আশা করছেন ওপাশে মেয়ের আর্দ্র কন্ঠের করুণ উচ্চারণ।
‘আম্মা, তুমি কি নার্ভাস? চিন্তা কোর না। আমি আর মিন্টু মামা মিলে খুঁজছি পুষিকে।’
‘তুই ঠিক আছিস তো?’
‘না ঠিক থাকার কি হয়েছে? ’
‘তোর পুষি যে হারিয়ে গেছে?’ বুঁজে এল বিউটি বেগমের গলা । চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।
‘কে বলেছে তোমাকে পুষি আমার হারিয়ে গেছে? শোন, আমার পুষি আমার কাছেই ফিরে আসবে। ও রক্তপিপাসু নেকড়ে আর আমার তফাৎটুকু ভালভাবেই বোঝে।’
লিজা কি বলতে চাইছে বিউটি বেগম ঠিক তা বুঝতে পারছেন না। তবু বলে উঠলেন,‘ একটু আগে যে তুই কাঁদছিলিরে মা?’
‘ওফ আম্মা। আমি কখন কাঁদলাম? তোমার মনে হচ্ছে আমি কাঁদছি। আমি তো ব্যাপারটা তোমাকে জানালাম শুধু । তুমি যে কি?’ বলে মোবাইলের লাইনটি অফ করে দেয় লিজা।

বিউটি বেগমের মাথা রীতিমতো ভন ভন করতে থাকে। মেয়ের কথাবার্তা অপরিচিত লাগছে । তিনি নিজে মফস্বল শহরের বিএ পাস করা মহিলা। কান্না পেলে কেঁদেছেন , হাসি পেলেও অথৈ হাসিতে গা ভাসিয়েছেন। রাগ হলে সহজ সরল মানুষের মতো রাগ দেখিয়েছেন। কোন ঘোরপ্যাঁচ নেই।
অথচ নিজের মেয়েকে নিজেই চিনতে পারছেন না এখন । যাকে তিনি কান্না ভাবছেন তা নাকি কান্নাই নয়?
বেকুব বনে কিছুক্ষণ বিউটি বেগম আম্বিয়ার চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
আম্বিয়া ভয় পেয়ে কোনোকিছু জিজ্ঞাসাও করতে চাইছে না। পাছে আরো কোনো বড় বিপদের খবর শুনতে হয় সেই শঙ্কায় সে বধির হয়ে যায় এবং ফ্যাল ফ্যাল করা শুন্য দৃষ্টিতে মালকিনকে দেখতে থাকে।
এসময় আরো একবার বিউটি বেগমের মোবাইল বেজে ওঠে সুরেলা কন্ঠে।
‘হ্যালো?’ কন্ঠস্বর রীতিমতো কাঁপছে বিউটি বেগমের।
‘আম্মা, টেলিভিশনের পর্দায় তাকাও। ’ খলবলে কন্ঠস্বর লিজার।
একথায় ধড়মড় করে বসা থেকে উঠে টেলিভিশনের কাছে গিয়ে পর্দার উপর চোখজোড়া স্থির রেখে উত্তর দেন,‘ চোখ তো রাখলাম।’
‘ মঞ্চের উপর চোখ রাখ। ’
‘তাই তো রাখলাম। ’
‘কিছুই দেখতে পাচ্ছ না?’
‘নাত।’ বলে বিউটি বেগম পাশ থেকে টেলিভিশনের পর্দার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়া আম্বিয়ার দিকে তাকান।
আম্বিয়া খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে মঞ্চের উপর দাঁড়ানো ঠাসাঠাসি করা মানুষগুলোকে।
সহসা সে দু-হাত ছুঁড়ে চেঁচিয়ে ওঠে,‘ খালাম্মা, আমাদের পুষি। ওই যে।’
বিউটি বেগম সঙ্গে সঙ্গে বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন সমস্ত তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা যে মঞ্চটিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাদেরই পায়ের কাছে লেজ গুটিয়ে গুঁটিশুটি মেরে বসে আছে পুষি। নির্বিকার মার্বেল-চোখে তাকিয়ে রয়েছে সমাগত পুরো জনসমুদ্রের দিকে!
লিজার আবেগ থরথর কন্ঠ ভেসে এল,‘ আম্মা , আমার পুষিও…..’
বিউটি বেগম কথা বলতে পারেন না; আবেগ বেড়ে গেলে তার কান্না করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
তিনি ছুটে চলে যান পাশের ঘরে। মোবাইলে মালয়েশিয়া ধরে বলে ওঠেন,‘ হ্যালো?’

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (11) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন sagar — মে ২০, ২০১৩ @ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

      অসাধারন……………।। এভাবেই অনুপ্রাণিত করুন আমাদের।বিজয় আমরা ছিনিয়ে আনবই……………ধন্যবাদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন vaskar — মে ২০, ২০১৩ @ ১:৪৫ অপরাহ্ন

      পড়লাম আর কামনা করলাম। আমরা আসলে পুষিও হতে পারলাম না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Ashesh Chowdhury — মে ২০, ২০১৩ @ ৫:০৮ অপরাহ্ন

      Excellent ! A wonderful story. Thanks to Monish Roy.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন sufian — মে ২১, ২০১৩ @ ১২:২১ অপরাহ্ন

      খুব ভাল লাগল।লেখককে ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Deya Mahbub — মে ২১, ২০১৩ @ ১:২৯ অপরাহ্ন

      A powerful and positive story while we are feeling sick of reading a story written by Hasnath Abdul Hai on Gonojagoron Mancha.
      Everybody who once shared the emotion of Gonojagoron Mancha should read this story . A true and natural picturization of innocent emotion of those patriotic people at Shahbag.
      Powerful, powerful writer. Thanks

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মো.রেজাউল করিম — মে ২১, ২০১৩ @ ১:৫৬ অপরাহ্ন

      সত্যি অভাবণীয়!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন al mamun — মে ২৩, ২০১৩ @ ৬:০১ পূর্বাহ্ন

      এটা একটা গল্প! এটা কোন গল্প হলো ?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন al mamun — মে ২৩, ২০১৩ @ ৬:০৯ পূর্বাহ্ন

      নাস্তিকদের গল্প এ দেশবাসি আর শুনতে চায় না ।এ দেশবাসি শুনতে চায় ধর্মপ্রান প্রকৃত হেফাজত ইসলামীদের।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mahmud — জুলাই ১৫, ২০১৩ @ ২:২৯ অপরাহ্ন

      এটা একটা গল্প! এটা কোন গল্প হলো ???????????

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com