স্পানঞল জগতে রবীন্দ্র প্রসারে হোসে বাসকোনসেলোস

রাজু আলাউদ্দিন | ৯ মে ২০১৩ ৮:৫৮ অপরাহ্ন

লাতিন আমেরিকায় রবীন্দ্রপ্রীতির প্রথম দিককার একজন হচ্ছেন মেহিকোর শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হোসে বাসকোনসেলোস। লক্ষ্য করেছি ইংরেজি এবং বাংলাভাষী রবীন্দ্র-গবেষকদের কাছে তিনি প্রায় অপরিচিত বা উপেক্ষিত একটি নাম। অথচ স্প্যানীশ জগতে রবীন্দ্র প্রসারে তাঁর যে অসামান্য ভূমিকা ছিলো তার ইতিহাসটুকু না জানা থাকলে স্প্যানীশে রবীন্দ্র-চর্চার ধারাবাহিক রূপটা আমরা পরিপূর্ণভাবে পাবো না, পাবো এক খণ্ডিত আদল। বহির্বিশ্বে রবীন্দ্র-চর্চার ইতিহাস নির্মাণে নিবেদিত কোন গবেষকের লেখাতেই তাঁর ভূমিকার কথা খুঁজে পাওয়া যায় না।

১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথ লাতিন আমেরিকায় পৌঁছার আগেই যে তাঁর বই সহজলভ্য হয়ে উঠেছিলো তার পেছনে এই হোসে বাসকোনসেলোসের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তিনি নিজে অনুবাদ করেননি বটে তবে অনুবাদ করিয়েছেন এবং তা প্রকাশ করেছেন। ভারত এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে লিখেছেন Estudios Indostanicos (ভারত-বীক্ষা) নামে অসাধারণ একটি গ্রন্থও। রবীন্দ্রনাথ লাতিন আমেরিকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন:
”প্রথমে আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ আমার লেখার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। পরে জানতে পারলাম, তারা আমার রচনা পড়েছে হিস্পানি অনুবাদে আর তা থেকেই আমার লেখালেখির প্রতি তাদের জন্মেছে প্রবল অনুরাগ। এ ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা; আমি যে স্টিমারে করে ভ্রমণ করছিলাম আর তাদের বাড়িতে যাচ্ছিলাম, সেই স্টিমারের অনেকেই আমার বিভিন্ন ধরনের বই সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ থেকে এটাই মনে হচ্ছিল, আমি তাদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছি। মিলানেও আমার ঠিক একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল।” (Edited by Nityaprio Ghosh, English writings of Rabindranath Tagore (volume-4), Sahitya Akademi, published 2008, page-653)

রবীন্দ্রনাথ লাতিন আমেরিকায় পৌঁছার আগেই মেহিকো থেকে তাঁর অন্তত চারটি বই বেরিয়েছিলো। প্রথমটি অকাল প্রয়াত মেক্সিকান অনুবাদক পেদ্রো রেকেনা লেগাররেতার অনুবাদে গীতাঞ্জলি (১৯১৮), দ্বিতীয়টি হেরেম্বলাল গুপ্ত’র অনুবাদে চিত্রা (১৯১৯) আর অন্য দুটি হচ্ছে হোসে বাসকোনসেলোসের তত্ত্বাবধানে ক্রিসেন্ট মুনন্যাশনালিজম

কিন্তু কে এই বাসকোনসেলোস? মেহিকানোদের (প্রচলিত উচ্চারণ মেক্সিকানদের) মানসগঠনের নতুন রূপকার তিনি। উচ্চতর আকাঙক্ষা ও চিরায়ত জ্ঞানকে জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিলো অসামান্য। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাসকোনসেলোস ছিলেন লেখক, ভাবুক, সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদ। ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী অল্প সময়ের জন্য। ১৯২৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীও হয়েছিলেন। দর্শন, নীতিশাস্ত্র, নন্দনতত্ত্ব, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও শিল্প সম্পর্কিত তার গ্রন্থগুলো ছিলো নতুন ভাবনায় উজ্জ্বল। দেশ ও বিদেশ, প্রাচ্য ও প্রতীচ্যসহ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সৃষ্টির এক শাশ্বত মৌচাক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। জ্ঞানের সুষমা ও মাধুর্যকে নিজের জাতির বা বলা যায় গোটা স্প্যানীশভাষী জগতে ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে হাতে নিয়েছিলেন দানবীয় সব প্রকল্প যা এর আগে কিংবা পরেও লাতিন আমেরিকায় আর কেউ করেছেন বলে জানা নেই। প্রাথমিক জাতীয় শিক্ষালয়ের সচিব (১৯১১-১৯১৩), গণশিক্ষা ও শিল্পকলা মন্ত্রালয়ের সচিব (১৯১৪-১৯১৫) উনিবের্সিদাদ দে মেহিকোর র‌্যাক্টর (১৯২০-১৯২১) এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তাঁর গণমুখী জ্ঞান বিজ্ঞানের দানবীয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ পান। এই সব প্রকল্পের একটি ছিলো স্প্যানীশ ভাষায় পৃথিবীর চিরায়ত সাহিত্যের প্রকাশ। বিভিন্নভাষী ১২ জন লেখকের ১২টি শিরোনামে চিরায়ত সাহিত্যের এক বিপুল যজ্ঞকে তিনি বাস্তবায়িত করেন। আর যে ১২ জন লেখক এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে গোটা প্রাচ্য থেকে একমাত্র রবীন্দ্রনাথই মনোনীত হয়েছিলেন। লেখকদের মধ্যে ছিলেন রোমাঁ রোলাঁ, গ্যোটে, প্লেটো, ইউরিপিডিস, এস্কাইলাস, প্লুটার্ক, দান্তে, প্লাটিনাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আগুস্তিন রিবেরা, হোমার এবং তলস্তয়। রবীন্দ্রনাথের যে লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো এই প্রকল্প থেকে তার একটি হচ্ছে ক্রিসেন্ট মুন। আর অন্যটি হচ্ছে ন্যাশনালিজম। ১৯২১ থেকে ১৯২৪ সালের মধ্যে প্রকল্পের সবগুলো বই বেরিয়ে যায়। প্রতিটি গ্রন্থের মুদ্রণ সংখ্যা ছিলো ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মতো। বাসকোনসেলোসের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ ছিলো না। অনেকেই এর বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি সংসদেও (Camara Legislativa) অন্যদের সাথে এ নিয়ে তাঁকে বিতর্কেও লিপ্ত হতে হয়েছিলো। পুরোপুরি অর্থহীন উদ্যোগ বলতেও কেউ দ্বিধা করেন নি। এই সব বিতর্ক ও বিরোধিতা তাঁকে আহত ও বিমর্ষ করলেও প্রকল্পের হাল ছাড়েন নি। সৃষ্টি আর কর্মচঞ্চল এই মানুষটি শেষ পর্যন্ত ঠিকই প্রকাশ করেছিলেন বইগুলো।
vasconcelos-m.jpg
মূলত স্বাক্ষরতা প্রকল্পের অংশ হিসেবেই বেরিয়েছিলো বইগুলো তবে দূরদর্শী ও সুগভীর চিন্তাশীল এই ভাবুক মানুষটি জানতেন কেবল স্বাক্ষরতাই সব নয়। এ দিয়ে একটি জাতির মানস-কঙ্কাল তৈরি করা সম্ভব হলেও একে বিশ্বসাহিত্যের রক্তে মাংশে মুড়িয়ে না দিতে পারলে তা হবে নিরানন্দ, অর্থহীন ও অনন্দন। ঐ প্রথম এবং একবারই মেহিকোতে নির্বাচিত লেখকরা প্রবেশ করেছিলেন বহু মানুষের ঘরে বৈশ্বিক আত্মার আলো ছড়িয়ে দিতে। তিনি বলতেন ’আমার জাতির জন্য কথা বলবে আত্মা’ (Por mi raza hablara el espiritu) পৃথিবীর মহান আত্মাদের কথা শুনিয়েছিলেন তার জাতিকে। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সেই মহান আত্মাদের একজন।

মনে হয় না রবীন্দ্রনাথ কোন দিন মেহিকোর এই অনুরাগী মানুষটির কথা জানতেন। হয়তো নামই শোনেন নি। তবে এটা ঠিক যে রবীন্দ্রনাথ মেহিকো গেলে বিপুলভাবেই সম্বর্ধিত হতেন এবং বাসকোনসেলোসের সাথে নিশ্চয়ই দেখাও হতো। কারণ বাসকোনসেলোস তাঁর কাজের সাথে শুধু পরিচিতই ছিলেন না, ছিলেন তাঁর কাজের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে না চিনলেও সমকালের অনেক বড় বড় লেখক ও ভাবুক তাঁকে ঠিকই চিনতেন, লাতিন আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাতো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গ্রাবিয়েলে দাননুনজিও এবং রোমাঁ রোলাঁর মতো বিখ্যাত লোকরা তাঁকে চিনতেন। তিনি যে কতটা পরিচিত তা রবীন্দ্র প্রসঙ্গে একটি উল্লেখ থেকেই আমরা বুঝতে পারবো। রবীন্দ্রনাথ যখন ২৪ সালে পেরু যাচ্ছিলেন তখন পেরুর তৎকালীন শাসকদের স্বৈরাচারী মনোভাব সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথকে সতর্ক করতে গিয়ে তাঁর জুলাই মাসের দিনপঞ্জীতে লেখেন, “তাড়াতাড়ি কালিদাস নাগের চিঠির উত্তর দিলাম: আর প্রথমে লিখলাম জোসে বাস্কোনথেলোসকে (মেক্সিকো), দ্বিতীয় কার্লোস আমেরিকো আমাইয়া, লা প্লাতার (আর্জেন্টিন) ‘বালোবাথিওনেস’ পত্রিকার সম্পাদককে-আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথের আগমন সম্পর্কে তাঁদের সতর্ক করে দিতে।” (প্রশান্ত পাল, রবিজীবনী, ৯ম খণ্ড, চতুর্থ মুদ্রণ মে ২০১০,আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, পৃ-১৬৫)

গোটা লাতিন আমেরিকার বুদ্ধিজীবী মহলেই তিনি সুপরিচিত ছিলেন তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য। আর্হেন্তিনার বিক্তোরিয়া ওকাম্পোর sur(পত্রিকা)-এর আবির্ভাবের বেশ খানিকটা আগেই মোহিকো(প্রচলিত উচ্চারণ মেক্সিকো)তে বাসকোনসেলোস শুরু করে দিয়েছিলেন বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলন। অন্য জাতি ও সংস্কৃতির সহস্র শিখার আলো এনে প্রমিথিউসের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজের জাতির মনোলোকে। সে কারণে নিজের জাতির ভৌগলিক সীমাকে লঙ্ঘন করে কসমিক রাসা বা কসমিক রেস-এর আয়ত ধারণাকে সহজেই আলিঙ্গন করতে পেরেছিলেন। লাতিন আমেরিকায় প্রথমদিককার ভারততত্ত্ববিদদেরও তিনি একজন। ১৯২২ সালে বেরিয়েছিলো তাঁর ভারতভাবনা বিষয়ে মননশীল সৌন্দর্যের এক অসামান্য বই Estudios Indostanicos.
tagore-in-spanish.jpg
লাতিন আমেরিকায়, আঞ্চলিকতাবাদের বিপক্ষে, শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকতা ও অন্য সংস্কৃতির প্রতি কৌতূহল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও মননশীল চর্চার সূচনা মূলত মেহিকোতে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে আধুনিককালে উৎসাহ উদ্দীপনা এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে মেহিকানোদের জাতিসত্তার নবায়নের নতুন প্রস্তাবনা এসেছিলো হোসে বাসকোনসেলোসের মাধ্যমেই। বাসকোনসেলোসের পরিচয় দিতে গিয়ে অক্তাবিও পাস এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন: “পরবর্তীতে গুরুত্বহীন বলে বিবেচনা করলেও হোসে বাসকনসেলোস তাঁর প্রথম দিককার একটি বই লা রাসা কসমিকায় তিনি আমাদেরকে একটা দর্শন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন লাতিন আমেরিকাকে বৈশ্বিক সংস্কৃতির এমন একটি ভিত্তি হিসেবে তৈরি করতে যেখানে পূর্ব ও পশ্চিমের শ্রেষ্ঠ উপাদানগুলোর মিলন ঘটবে। এই ভাবনার বিপরীতে শিল্পী ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীরা যখন মার্ক্সবাদের দিকে ছুটে গেছেন বাসকনসেলোস তখন এগিয়ে গেছেন ক্যাথলিকবাদের দিকে।” (Selden Rodman, Tongues of Fallen Angels, New Directions 1974, p-138)

হয়তো এই কারণে তিনি তার দর্শনের অনুকূলে রবীন্দ্রনাথের কর্মকে অনেক বেশি কাছের ভেবেছেন। Estudios Indostanicos গ্রন্থের ভূমিকায় তাই তিনি সে দেশের পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলেন:
”পাঠক লক্ষ্য করবেন যে আমার বইটি ভারতীয় ভাবনায় মুগ্ধ আলোচনার প্রতিফলন হওয়া থেকে বেশ দূরে অবস্থান করছে; তারপরও এটা আমাদেরকে নিশ্চিত করে যে খৃস্টীয় সত্যকে পরখ ও উপলদ্ধির জন্যই বুদ্ধের পথ ধরে খৃস্টবাদের সাথে বৈদিক ঐতিহ্যকে যুক্ত করা দরকার, কেননা বুদ্ধই হচ্ছেন সত্যিকারের পুরোহিত। এর ফলে, এক অর্থে ভারতের বিপুল অপরিমেয়কে খৃষ্টীয় আত্মার সঙ্গে যদি যুক্ত করার দরকার হয়, তাহলে ভারতের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী যেন আত্মমগ্ন না হয়ে যায়–সে দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। সামাজিক ও অধিবিদ্যায় আন্তরিকভাবে ব্যবহৃত খৃষ্টীয় সত্যের বিজয়কেই বরং গুরুত্বের সাথে দেখা উচিৎ। কেননা এ হচ্ছে মানবাত্মার সার্বিক বিজয়ের এক অভিষেক। নতুন ভাষ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা ও সমন্বয় সাধনের জন্য ধর্মগুলোর একত্রিত হওয়ার বিষয়টি দেখা যাবে কলকাতায় সত্যিকার অর্থে সার্বজনীন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথের পরিকল্পনার মধ্যে। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়টি হয়ে উঠবে সকল জাতি ও সকল যুগের মিলন ক্ষেত্র। এই বিশ্ববিদ্যালয় ও সকল স্প্যানীশভাষীদেরকে আমি উৎসর্গ করছি বর্তমান সংস্কারণটি। কারণ ইংরেজদের (Sajona) মাধ্যমে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের যে ঐক্য সম্ভব হয়নি তা, আশা করি, স্পেন ও তরুণ আমেরিকা সম্পর্কে অভিজ্ঞ মরমী (Mistica) ও বাস্তাবানুগ (Practico) স্প্যানীশ জাতির মাধ্যমে পরিণতি লাভ করবে। সত্যিকারের বিশ্বসভ্যতার দিকে যেতে এর মধ্যে রয়েছে নতুন পথের একমাত্র ইঙ্গিত দ্ইু মহাদেশের জন্য।”
মেহিকো, ১৫ মে, ১৯২২।

এভাবেই তিনি শেষ করেছিলেন Estudios Indostanicos গ্রন্থের ভূমিকাটি। এই আংশিক উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায় গোটা বইয়ের উদ্দেশ্যকে সফল করে তুলতে রবীন্দ্র দর্শন বা রবীন্দ্র রচনা কতটা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছিলো মেহিকোর এই মহান ব্যক্তিত্বের কর্ম ও সাধনায়। এমনকি বছর তিনেক পরেও তিনি যখন আবারও প্রসঙ্গক্রমে বাঙালী এই লেখক সম্পর্কে্ লেখেন তখনও রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ব একটুও ম্লানতো হয়ই নি, বরং রবীন্দ্র-পাঠের প্রভাবকে তিনি আরও তীক্ষ্ণতা ও গভীরতার সঙ্গে প্রকাশ করেছেন ’বার্তাবাহক’ নামের এক লেখায় এভাবে:
“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহান কারণ তিনি এক বিস্ময়কর শিল্পী, এক ভারতীয় কবি যার কাছে কবিতা হচ্ছে গান, যার কাছে ভাবনার ছন্দ সংগীতেরই অনুরুপ।” (Rabindranath Tagore es grande porque es un prodigioso artista, un poeta a la hindu, para quien el verso es cancion y el ritmo del pensamiento es el mismo de la musica)
(J. Vasconcelos, ‘El apostolo’, La Antorcha, Enero de 1925, Num. 14, P-4)

এই ধরনের প্রশংসা যে নিছক মুগ্ধতা থেকে তৈরি হয়নি, বরং নিজেদের সংস্কৃতির বিনির্মাণে কতটা প্রয়োজনীয় ্ও সহায়ক উপাদান হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে বিবেচনা করেছিলেন তার এক নজির আমরা দেখতে পাই Estudios Indostanicos গ্রন্থের ভূমিকাটির মন্তব্যে। আর La Antorcha-এ তিনি প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে রবীন্দ্র-কর্মের নান্দনিক সৌকর্য ও বৈশিষ্ট্যের দিকটিও লক্ষ্য করেছিলেন নির্ভুলভাবে।

রবীন্দ্র ভাবনার আন্তর্জাতিক আবেদনকে আমরা পরিপূর্ণভাবে বুঝতে চাইলে রবীন্দ্র রচনার পাশাপাশি তাঁর অনুরাগী ব্যক্তিত্বদেরকেও জানা জরুরী। কারণ তারা ভিন্ন জাতিসত্তা এবং ভিন্ন ভাষা থেকে কীভাবে সাড়া দিচ্ছেন তা জানতে পারলেই আমরা রবীন্দ্রনাথের বিস্তারটুকু বুঝতে পারবো।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Taposh Gayen — মে ১২, ২০১৩ @ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

      কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন জগতের অমৃত নিয়ে হাজির হচ্ছেন আমাদের দুয়ারে– ভক্তের কাছে ভগবানের অমৃত নিয়ে । একবার নয়– পুনরপি, পুর্নবার । এই হোল মানবধর্ম । পৃথিবীর ঋষিপ্রবাহে (=জ্ঞানপ্রবাহে) আমরা যেন অবগাহন করতে পারি, এই হোল অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিনের ইচ্ছা । আমার মাতৃভাষা বাংলা বিধায়, আমি সাধক–হোসে বাসকোনসেলোস–কে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই এবং অফুরান ভালোবাসা রাখি কবি রাজু আলাউদ্দিনের প্রতি ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — মে ২০, ২০১৩ @ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

      রবীন্দ্র ভাবনার এক নব দিগন্ত উন্মোচনের জন্য রাজু ভাইকে সাধুবাদ জানাই। আপনার মত আমরাও মনে করি, ‌-রবীন্দ্র ভাবনার আন্তর্জাতিক আবেদনকে আমরা পরিপূর্ণভাবে বুঝতে চাইলে রবীন্দ্র রচনার পাশাপাশি তাঁর অনুরাগী ব্যক্তিত্বদেরকেও জানা জরুরী।- আপনার এ ধরনের অনুসন্ধিৎসু লেখনি ধারা চলমান থাকুক, এ প্রত্যাশায় পুনর্বার সাধুবাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।

      মানিক মোঃ রাজ্জাক

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com