স্বাধীনতার কবিতা

মতিন বৈরাগী | ২৬ মার্চ ২০১৩ ৯:১২ অপরাহ্ন

স্বাধীনতা শব্দটি এতো প্রিয় কেন মানুষের !

মাটি থেকে ফুঁপিয়ে উঠছে কান্না রাত্রির আকাশ থেকে মেঘবর্ষণ
ইতিহাস থেকে যে আলো ছড়িয়ে পড়ছে এখনো : স্নিগ্ধ মিহিন
তবুও এগিয়ে আসছে অন্ধকার
ড্রয়ারের স্মৃতিগুলো কাটছে অলীক ইঁদুর
কাহাকাফের কুকুর শুকছে ফুঁপিয়ে ওঠা মাটি !
মানুষের শরীরের উত্তাপ থেকে যায় বহুকাল হাড়ের ভেতর।

অষ্টপ্রহর মাথার মধ্যে দেয়াল ভাঙার চিৎকার : স্বাধীনতা
আটপৌরে একটা শব্দ কেনো এতো প্রিয় হলো মানুষের!
মাটির মধ্য থেকে উঠে আসছে স্তব্ধতায় আটকে থাকা ভাষা
ভাষার কী বিষ্ফোরণ প্রিয়তা আসন্ন!
মানুষেরা কী আনন্দময় ইতিহাসের দিকেই যাচ্ছে!

স্বাধীনতা জাগো

আশেপাশে তুমি থাকো আছো পথের বাঁকে
হাতের কোমল স্পর্শে তোমার মুখ বুকের পাঁজর
টিয়ের লাল টকককে ঠোঁটের মতো তুমি জেগে থাকা প্রাণ
কখনো দৃশ্য হও কখনো নদী.. কখনো
ঘিঞ্জিগলির কান্নার মতো উড়ে আসা বিবর্ন ধুলো
মানুষের আর্তনাদ অসীমে জেগে থাকে , থাকে-
মানুষের মনে অলক্ষ্যে প্রিয় হয়ে সেই কাল থেকে
সত্যের রেণূ প্রতিটি জন্মে হে স্বাধীনতা
উদিত সূর্যের মতো জীবনে ও জ্ঞানে ।

কতো সময় চলে গেছে, যাবে হয়তো আরো
বহু কাল ঝরা পাতা মরা পাতা সকল রাত্রি
খুঁড়বে মাটি, খুঁজবে প্রাণ নিঝুম জলে ভেসে থাকা
পদ্ম-পাতায় একটি ফোটার মতো অস্তিত্বের অন্বেষণে অস্থির
হেমন্তের রূঢ়-কর্কশ হিম সয়ে
সময়ের স্মৃতি ভেঙে জেগে ওঠা প্রাণ
স্বাধীনতা, জাগো মহাকালের আলো
উদিত আলোর মতো শত সূর্য-বিভায়।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — মার্চ ২৭, ২০১৩ @ ২:২৬ অপরাহ্ন

      মতিন ভাই, কবিতা দুটি পড়লাম, বেশ ভাল লাগলো। প্রথম কবিতায় উদ্ধৃত “মানুষেরা কী আনন্দময় ইতিহাসের দিকে যাচ্ছে” বক্তব্যের সাথে আমারও বলতে ইচ্ছে করছে, “আমরা চলেছি আগামীর পথে, যেখানে আমার অপেক্ষায় আছে আনন্দের স্রোতধারা, মতিনের মতো আত্মহারা কবি”। পরের কবিতাটির ” জাগো মহাকালের আলো/ উদিত আলোর মতো সূর্য বিভায়” বেশ ভাল লাগলো। সময়োপযোগী কবিতা দুটির জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

      মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সলিমুল্লাহ খান — মার্চ ২৯, ২০১৩ @ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

      অনেক অনেক দিন পর বিডিআর্টস পাতা খুলিলাম।

      আর অনেকদিন বছর পর মতিন বৈরাগীর কবিতা পড়িলাম। একদা তাঁহাকে লোকে বলিত বস্তুজীবী কবি। যেমন বলিত মহাত্মা ইন্দু সাহাকে। আহা, আজিকালি কেহ ইন্দু সাহার কথা বড় স্মরণ করে না!

      মতিন বৈরাগীও আজিকালি দেখিতেছি বেশ ভাবজীবী হইয়া আছেন। তিনিও বুঝিতেছেন মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচিবে না। তাহার স্বাধীনতাও দরকার হইবেক। আরো দীর্ঘজীবী হৌক মহাত্মার ভাবজীবন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এমদাদুল আনোয়ার — মার্চ ৩০, ২০১৩ @ ১২:১১ পূর্বাহ্ন

      আধুনিক কবিতার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এটি অনেক শ্রমলব্ধ।মন মেধা সাধ্যানুযায়ী ঢেলেও মনে হয় কিছু হোলনা। নতুন করে তোলার জন্য, একান্ত নিজের করে তোলার জন্য কবি তাকে আরো বেশি মেজে, আরো বেশি ঘষে তৈরী করেন। মতিন বৈরাগীর কবিতায় সেই নিজের করে তোলার প্রাণপণ প্রয়াসের একটি ছাপ চোখে পড়ে এবং এটি-ই আমাকে মুগ্ধ করে।

      এই পাতায় বর্তমান প্রথম কবিতাটির প্রথম স্তবকের শেষ চরণ “মানুষের শরীরের উত্তাপ থেকে যায় বহুকাল হাড়ের ভেতর।” গভীর অন্তর্দর্শন-সক্ষম কবি না হলে, এ উপলব্ধি সম্ভব নয়। আশাবাদী কবি যুগ যুগান্তব্যাপী বন্দী মানবাত্মার মুক্তির আভাস দেখতে পাচ্ছেন।

      দ্বিতীয় কবিতায় মহাকালজোড়া লিজ নেওয়া ব্যার্থ আকাংখার কষ্টক্লিষ্ট অনুভবে কবি-হৃদয় কিছুটা নিষ্পিষ্ট। তবু তিনি আশাবাদী কবি। স্বাধীনতাকেতিনি আহবান করে বলছেন,”স্বাধীনতা, জাগো মহাকালের আলো/উদিত আলোর শত সূর্য বিভায়।” বলিহারি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ASADUSJAMAN SHAIN — december ১৩, ২০১৪ @ ৭:১৩ অপরাহ্ন

      অনেক ভাল লেগেছে।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com