গুচ্ছ কবিতা

মতিন বৈরাগী | ৬ জানুয়ারি ২০১৩ ১:৪১ পূর্বাহ্ন

কোন আগামীতে

–এবং তারপর চারিদিকে ভাঙ-চুর পতন-ধ্বনি, মনে হলো
এক পাহাড় ধ্বসের মুখে কিংকর্তব্যবিমুঢ় আমি। ফুরিয়ে যাচ্ছে সকল
শক্তি, বন্ধ হয়ে আসছে নিশ্বাস, মুছে যাচ্ছে আলো। আমি এক অন্ধকারে
ঠাঁয় দাঁড়িয়ে যেনো এক অচিন বৃক্ষ যে তার নিজ ভারে দাঁড়াতে পারছে না আর।
মনে হলো আমার কোনো স্মৃতি নেই চারিদিকে হাঙর সাঁতার।
মহাকাল শকুনের মতো চঞ্চু উঁচিয়ে আসছে দিক-ভ্রান্ত মানুষের দিকে ।
আকাশটা নূয়ে পড়ছে মাথার উপর। আমি বার বার স্মরণের দরোজায়
উঁকি দিতে চাইলাম, মনে করতে চাইলাম ইতিহাসের দিনগুলো
মানুষের জয়-পরাজয় ঘুরে দাঁড়াবার সাহস, ক্লিবতা-
অ্যালঝাইমার দুলিয়ে দিচ্ছে আমার মাথা।

আমার স্মৃতিরা সব আটকে গেছে কোন এক শহরের পতন দৃশ্যে
এখন আমি আর কিছুই মনে করতে পারছি না- আমার
কেবলি মনে হচ্ছে আকাশে কখনো চাঁদ ওঠেনি, নক্ষত্ররা দেয়নি আলো
কিংবা কোন প্রভাত হয়নি এই গ্রহে, বয়নি বাতাস, ফোটেনি কুসুম
কেবল পাখিরা তাদের বিষন্ন ডানায় উড়িয়ে তূষার হারিয়েছে পথে-

আমি সামনে পিছনে তাকালাম কোথাও কাউকে দেখছি না
কেবল আর্তধ্বনি শুনছি। আমার মনে হলো সমুদ্র উঠে আসছে প্রান্তরে
ধ্বসে পড়ছে পাহাড়, শ্যামল-সবুজের বুক চিরে নেমে আসছে বুনো মোষ।
আমি মানুষের আর্তনাদ শুনছি কিন্তু বর্তমানের এক ফাঁকা প্রান্তরে আমার
দৃষ্টি আটকে আছে, আমি বুঝতে পারছি না আগামীতে কারা কবে কখন
অই প্রান্তর পেরিয়ে পৌঁছে যাবে জীবন ঘনিষ্ট দিনে-

শব্দটা আছে

শব্দটা ছিলো, নিশ্চয়ই ছিলো, ছিলো তো–আমি ভুল শুনবো কেনো-
হয়তো হাতুড়ির, নয়তো চাকার কিংবা শুকনো মাটির
পরিশ্রমী হাত টানছে লাঙল
এমনো হতে পারে নৌকার দাঁড় টেনে কেউ বা কাহারা যাচ্ছিল

শব্দগুলো থেমে গেছে তুমি আমি বসে বসে এক বিচ্ত্রি বাতাসে
কান পেতে শুনতে চাইছি কোনো একটা শব্দ
অথচ দেখো ঝিঁঝিঁ পোকারা ডাকছে না নিস্তব্ধ নদী
সিমান্ত খুলছে রাত্রি
অদ্ভুত রোদ চারিদিকে হলুদ ফ্যাকাশে
একটা ফুল ফুটে ফুটে ঝরে যাচ্ছে কোন আবেগ নেই
আর চিকন কঞ্চিগুলো কেমন মোটা-সোটা এখন মানুষ ও কী খাবে!
ক’টাই-বা বছর সময়টা হাতের কড়ে গুনে নেয়া যায়

শব্দটা ছিলো এখনো কোথাও না কোথাও আছে, থাকতেই পারে
প্রকৃতির মতো থাকতে পারে মিশে শিশির স্নিগ্ধ ফোটায়
তারপর হাওয়া-রোদ পেলে হতে পারে সঠিক বিভাজন
তুমি বললে, আর আমি বললাম ঃ ভালো, দ্যাখো– তাই যদি হয়

তখন মধ্যরাত্রির মরা চাঁদ দুলছিলো আকাশের ।

তুমি বলতে বলে ছিলে

একটা পাহাড়ের কথা তুমি আমাকে বলতে বলেছিলে
আমি বলিনি, কি হবে বলে : আমরাতো পাহাড়ের মতো
উচু হয়ে দাঁড়াতে পারবো না–

একটা নদীর কথা আমি বলতে পারতাম তুমি শুনতে চাইবে !
সেতো নদী নয়, পানি নেই ঢেউ নেই আনন্দ নেই
বালুর ওড়াউড়ি বাতাসের খিন্ন কান্না
ঝাউগাছগুলো মরে যাচ্ছে, হায় ঈশ্বর–

হ্যা, সিমান্তের কথাও বলা যায় যা মানবিক অপমানের ক্ষত-চিহ্ন
হিংসা-হিংস্রতা আর মানুষ হত্যায় পারঙ্গম হয়েছে খুউব
পুরাণো গল্প শুনতে চেয়োনা কেবল বেদনার জমিন বাড়বে,
স্বাধীনতার গল্প ! আমরা কবে তেমন আর স্বাধীন হতে পারলাম ?

তার চেয়ে চলো ওইখানটায় একটু বসি
দেখি প্রতিশ্রুতিগুলো প্রতিদিন কী করে স্মৃতি হয়ে যায়
হেঁটে যায় নিরন্ন মানুষের কাঁধে চড়ে, যতো দূর সেও যায়–

তুমিই জানো

তুমিই জানো যা তুমি বলেছো । সারাটা পথে আমরা হাঁটছিলাম
আর শিরীষ,কড়ই বাবলা কাটার ফাঁকে এক একটা আকাশ
আমরা পেরিয়ে যাচ্ছি আমাদের পায়ে লাল মাটির গুড়ো
আমরা পেরিয়ে যাচ্ছি পথ, পাতা ঝরছে বাতাস নাড়াচ্ছে সবুজ
আমরা কোথায় যাচ্ছি, দূর পথরেখা অস্পষ্ট ঠান্ডা হিমের মতো
কুয়াশা নেই তবু কুয়াশার মতো অনেক দেয়াল
তুমি যেনো কী বলছো আমি শুনছি– কিছুই শুনছি না
আমার ভেতরে স্মৃতির তোলপাড়
আমি তাদের খুলতে চাচ্ছি, সব জটপাকিয়ে যেনো
সাপিনীকে পেঁচিয়ে সঙ্গমমূখী অনেক সরিসৃপ-
এক ঘুমের ভেতরে পাতালের হিম-শীতল অন্ধকারে
কার চোখ? ইয়াহিয়া, রাওফরমান আলীর টেবিল!
নানা রকম স্কেচ আর
উলু-ঝুলু চুল দাড়ি-গোঁফ ছেড়া পাতলুন ভেজা শরীর
অমন অটল দঁড়িয়ে কারা?

আমরা হাটছি.
তুমি কেবলি কি সব বলছো -
কিন্তু আমারতো মনে হয় হাঁটাই কেবল কাজ নয়
সব পথেই-তো ইয়াহিয়া, টিক্কা নিয়াজিরা..
তবুও তুমি বলছো স্বাধীনতা, স্বাধীনতা–
বলো, একটা স্বাধীনতা কতোবার পেলে তবে স্বাধীনতা হয় !

একটি রাতের গল্প

ঝুপ-ঝুপ শব্দ সে কি বৃষ্টির, কোথাও কি বৃষ্টি এলো ?
্বাইরে অন্ধকার বিদ্যুত ঝলকানী ! জানালার পর্দায় ভেজা কাক
না-কি ছায়া ! বাতাস কি বইছে কোথাও
লম্বা হুইসিল রাতের ট্রেন কী যায় ! কোন গাঁয়ে বৃষ্টির মাথায়
দাঁড়িয়ে আছে রাত্রি– থমকে আছে সময়
শেফালীর মরা মুখ ভাঙা জানালায় ভাসে, কার গলায় কে হাত রাখে!
কেই-বা কাঁদে কেই-বা ককায়
মস্তিষ্কের সিড়ি ভেঙে কারা ওঠে নামে, কোন মুখ প্রেতের মতো
কে যায় বাড়ি ঘর ছেড়ে বাপ-দাদার ভিটে, সে কি আর ফেরে?

ঝুপ-ঝাপ শব্দের ভেতরে মগজের কাজ থেমে গেলে এক রাত্রির ঘুম
বিদ্যুতের তীক্ষ্ণ ধারে কেটে ফেলে সকল সন্তাপ
তারপর এক অন্ধকার হিম ভেঙে তোমার উঠে আসা
অপরূপ জ্যোৎস্নামাখা : দারুণ লাফিয়ে পড়ে সিংহ
এক অন্ধকার ছেঁড়া যৌবন বিদ্যুত-বল্লম
তারপর টুপটাপ বৃষ্টি অন্ধকার কাটে –

তুমি হয়ে ওঠো না বলে

তুমি যখন গ্যালারীর ছবিগুলো নিবিষ্ট হয়ে দেখছিলে
পড়ছিলে তার কাব্যময় ক্যাপশন, আর ভাবছিলে ছবিগুলো না মানুষগুলো
কোনটা প্রধান, কিংবা হতে পারে এপাড়-ওপাড় ওই যে নির্জণ নদী
কাঁশবন হিজলের সবুজ ডালে নির্নিমেষ মাছরাঙা ঠিক তার ওপাশে
দাউ-দাউ চিতা, ওই চিতা কার ! আমি ওখানে ছিলাম-

তুমি যখন ভাস্কর্যের মুখ-চোখ নাক-কান দেখছিলে খুউব খুঁটিয়ে
ভাবছিলে পেশীর কোমলতা কিংবা খুঁজছিলে বিন্যাস
অথবা ভঙির ভেতরে ছিলো কার ছায়া কারা এসেছিলো
কবে বা কখন র্যাঁদার টানে ফুটেছে সেইসব
আমি তখন সেখানে ছিলাম-

তুমি যখন হাঁটছিলে পথ রেখা ধরে দেখেছিলে চেয়ে
পায়ের শব্দে পথগুলো হয়েছে অবাক
আমি তখন সেখানেও ছিলাম-
আমি তোমার মধ্যে সারাক্ষণ জেগে থাকি ,
কেবল তুমি, তুমি হয়ে উঠছো না আর-

ছবি-১

একটা সমুদ্র, আকাশ যার বুকে প্রশান্তির রঙ মিশিয়ে
দেখছে জলের শরীর
আকাশের বুক ভরা প্রেম–তাই চাঁদের ঈর্ষা
মাঝে মাঝে চাঁদ নিজের শরীর ভেঙে মিলায় সেই জলে
সমুদ্র খলবলিয়ে নাচে
দেখো, আমি সমুদ্র এঁকেছি–

তুমি যদি খুব ভালো করে দেখো, দেখবে পাখিও আছে
বিশাল ডানার এ্যালবট্রস, কোলরিজের বিবেক
তুমি তাকেও নিয়ে ভাবতে পারো খানিক্ষণ–
সমুদ্র ফুঁসে না উঠলে সমুদ্র আর এ্যালবট্রসকে নিয়ে
আঁকতে পারো তোমার মনের মতো অন্য একটা ছবি
যার খুব প্রয়োজন আজ ।

কিংবা বলতে পারো অনেক কিছু, যদি তোমার
বলবার স্বাধীনতা থাকে আর সমুদ্র দানব
কখনো তেড়ে না আসে তট-ভূমির দিকে-

ছবি-২

দেখো আরেকটা ছবি, একটু গভীরে তাকিয়ে দেখো
কতোরকম গাছ, গাছের ফাক দিয়ে এক চিলতে পথ
আর মানুষগুলো পথের ওপাশে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে,
তাদের হাত-মুখ-চোখ তাও এঁকেছি-
ঠিক তার বিপরীতে দেখো কেমন হাসি-খুশী
জুলু-জুলু চোখের আরো কিছু মানুষ
যেনো কখনো দেখেনি ওই মানুষগুলোকে , দেখছে
আর ভাবছে কটাই-বা দিন পাওয়া গেলো
এখনতো অনেক কিছু রয়ে গেছে বাকী ।

সব কিছু দেখানোর পর আমি বললাম : আচ্ছা বলতো
হাত-পা-মস্তক সবইতো আছে তবু কী যেনো হয়নি আঁকা
তুমি বললে : মানুষগুলোর চেতনা–
আমি বললাম: চেতনায় ফিরাবার গল্প আমিতো জানি না ।

ছবি-৩

একটা নদী, নদীর জল রক্ত-লাল এপাড়ে নৌকাটা দুলছে
লোকগুলো যাচ্ছে নগরে
তারা আসতে আসতে বলছে
আমাদের বিজয় আমাদের চেতনা-
ঠিক ওপাশে যারা দাঁড়িয়ে
অবাক হয়ে দেখছে ঃ মুখ থুবড়ে পড়ছে সব

আর চেতনা !
ধুলি হয়ে উড়ছে নগরীর স্কাই স্ক্যাপারে

ছবি-৪

এই পর্বের শেষ ছবিটায় তুমি দাঁড়িয়ে থাকলে খানিকক্ষণ,
তাপর হাত দিয়ে ছুঁলে, কাছে আবার পিছিয়ে
দৃষ্টি সুক্ষ্ম করে নিবদ্ধ করলে রঙের শরীরে এবঙ বললে:
একটা হাত রবারের দড়ির মতো করকরে রুক্ষ বিবর্ন
ধেয়ে গেছে দেশ,মহাদেশ হয়ে অন্য মহা-দেশে-
প্রেক্ষাপটে সবুজ,বেগুনী হলুদ আর লালের অভিব্যক্তিময় বিভা
ফুটে আছে অ-রব আঁচড়ে-

কী রয়েছে এই ছবিতে ! শুধু একটা হাত !
আমি বললাম: দু:খ,
কেবল উপলব্ধিময় দু:খই পারে ফিরাতে মানুষ
আলোকপুঞ্জের দিকে-

সঙ্কেত

সব কিছু ভেঙে পড়ার আগে আকাশটা থমকে থাকে
ফুসতে থাকে জল আর জলজ প্রাণীর হাঁস-ফাশ কাঁপায় বাতাস
আকাশের তারাগুলো মুছে গিয়ে মেঘের শরীরে বিদ্যুত ঝলকায়
প্রাণীরা ছুটতে থাকে দিশাহীন আর আস্তাবলের ঘোড়ার হ্রেস্বাধ্বনি
কুকুরের আর্তনাদ ভারি করে তোলে সকল বাতাস
আতঙ্কিত পাখি দিক-ভ্রান্তিতে উড়তে থাকে ঘুরতে থাকে
থেমে যাওয়া প্রকৃতিতে বৃক্ষেরা গুটায় সবুজ
আর চেয়ে চেয়ে দেখে
মানুষের রাজ্য-রাজত্ব ধুলির ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাচ্ছে
মুছে যাচ্ছে স্মৃতির জাদুঘর-
শুধু ইতিহাসের পাতাগুলো উল্টে যায় এবঙ একটি
সাদা পাতায় থেমে থাকে যেখানে এখনো লেখা হয়নি
সন তারিখ ক্ষণ ঘটনার অনুপুঙ্খ বিবরণী..

মহামতির পূণ্য-স্পর্শে

চারিদিকে পড়ে আছে মত্ততার অঢেল অশেষ
টুকরো টুকরো তৈজষ ভাঙা দেয়ালের ইট
চকচকে বালুর কণা করগেটেড শিট পুড়ে যাওয়া পান্ডু-লিপি
ঝলসানো বৃক্ষ সবুজ পাখির পালক
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বুদ্ধের হাত অহিংসার পবিত্র আঙুল
ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ তবু বসে আছেন মুদিত চোখে কোথাও শুয়ে
বিশ্রাম ভঙিতে যেনো এতো কিছুর পরও বিচলিত হননি তিনি
তিনি কী দেখছেন অহিংসা ধুয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের জলে!

এমন সময় এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া শরীর-প্রাণ ছূঁয়ে গেলে পর
তুমি খুব অবাক চোখে বললে : দেখো মাউথ অর্গান
পড়ে আছে আধেক কাদায়,
পাষ-ের পা’ পড়েছে তার বুকে হয়েছে পিষ্ট
ভেঙেছে কি সুরের পাঁজর?
তুমি তুললে, মুছলে বললে: মনে হয় সুর আছে এখনো
আমি বললাম চলো ওই জ্বলে যাওয়া বৃক্ষতলে বসি
সুর তুলি মানব মেলার বৃক্ষের দাহ-জ্বালা কমুক
শরীরি হোন বুদ্ধ প্রশান্তির হাওয়া লাগুক
জাগুক মানুষ হাজার বছরের ঘুম ভেঙে
খুঁজে পাক তারা জীবনের সুর
বুদ্ধ যাকে বলেছিলেন মুক্তি বলেছিলেন নির্বাণ

তখন মনে হলো কোন এক মহা-প্রাণ আমাদের পাশে এসে
বসলেন আশাময় চোখে–
আর এক প্রশান্তির বাতাস বইলো মন্দির প্রাঙ্গনে
ম্উাথ অরগান বেজে উঠলে তাকিয়ে থাকলো পথ
সুরভিত প্রভাতের মুখে–

সময়টা বয়ে বয়ে

আকাশের বয়স কতো? সূর্য কি বুড়িয়ে গেছে!
পাখিরা কি ফুরিয়ে যাচ্ছে, তারণ্য! গোলাপগুলো
ঝরে যায় দিকচিহ্ন হীন। যেখানে আমরা বসতাম
সেই জায়গাগুলো কি এখনো আছে!
আমাদের স্বপ্নই আমাদের অস্তিত্ব
আনন্দের ভেতর পরাজিত আশার কান্না।

বৃক্ষের সবুজ পাতায় জমে আছে ধুলো
নদীগুলো কঙ্কালের মতো ক্ষীণ কায়ার মরা স্রোত
নদীরা মরে যাচ্ছে ইচ্ছের মতো!
বুড়িয়ে যাওয়া রৌদ্রের মতো ! আকাশ কী বুড়িয়ে যাচ্ছে!
সূর্য পাড়ি দিচ্ছে এক রাত্রি!

ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলোয় কি লিখবে তুমি? ক্লিবতা!
সভ্যতার সন্ধিক্ষণে আমার কাঁধের উপর
ক্ষয়ে যাওয়া রৌদ্রের-কণা, বিষন্ন বিদ্যুত
না-কী সময়টা বয়ে বয়ে হাওয়া দিচ্ছে
কোন কিছু বদলে নেবার জন্যে !

দু:স্বপ্ন থেকে

…একটা সরোবর, ওদিকে পাহাড় মনে হলো
উঁচু আবার ছোট্ট টিলায় ঘেরা…না খুব উঁচু নয়–
উপসাগর আমাদের পায়ের কাছে–
কয়েকজন মানুষ হাঁটছে কেউ কেউ বসে ’৭১-এর গল্প করছে
তাদের কাঁপা স্বর আমরা শুনছি কেমন ঘুম ঘুম দৃশ্য
ওরা কি কখনো ছিলো ? কী করে বুঝবো!
মৃত্যু এক নিস্তব্ধতা,জলতরঙ্গ নেই নিপ্রদীপ রাত্রি–

…তারপর আমাদের উপস্থিতির শব্দে মিলিয়ে গেলো তারা
অবিকল বরফ গলার মতো কিছুই জানা হলো না
ঠিক সেই সময় মাথার উপর এক গাঙ চিল দীর্ণ করলো রাত্রি
ছিটকে পড়লাম আমি … ঘুম ভেঙে গেলো –

ওপাশে ঝলমলে এক সূর্য সবুজের জমিনে উড়ছে
আহা, কী-যে অদ্ভুত বেঁচে থাকা ।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (২) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — জানুয়ারি ৭, ২০১৩ @ ১:৩৬ অপরাহ্ন

      প্রিয় কবি মতিন বৈরাগীর কবিতা গুচ্ছ’ পড়ে বেশ ভাল লাগল। সমকালীন আর্থ সামাজিক প্রপঞ্চের নানাবিধ অনুষঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে তাঁর কাব্য গুচ্ছে। শব্দ চয়ন এবং বর্ণনা শৈলীতেও পরিস্ফুটিত হয়েছে যথার্থ মুন্সীয়ানার ছাপ। ‌”কোন আগামীর” কবিতায় তিনি যেভাবে লিখেছেন, “আমি বুঝতে পারছি না আগামীতে কারা কখন অই প্রান্তর পেরিয়ে পৌঁছে যাবে জীবন অনিষ্ট দিনে” এভাবে আমরাও হয়ত ভাবছি, ভাবতে বাধ্য হচ্ছি। অনেক কবিতার অনেক পঙক্তিই হৃদয় ছুঁয়েছে কিন্তু সংক্ষিপ্ত পরিসরের কারণে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। তাই সংক্ষিপ্তাকারেই ভাললাগার অভিব্যক্তি প্রকাশ করছি। ভাল লেগেছে “তুমি বলতে বলেছিলে” কবিতার “আমরা কবে আর তেমন স্বাধীন হতে পারলাম”। “তুমিই জানো” কবিতার, “একটা স্বাধীনতা কতোবার পেলে তবে স্বাধীনতা হয়”। “তুমি হয়ে ওঠো না বলে” এর “আমি তোমার মধ্যে সারাক্ষণ জেগে থাকি, কেবল তুমি, তুমি হয়ে উঠছো না বলে”। ছবি সিরিজের কবিতাগুলোও মন কেড়েছে। “সঙ্কেত” কবিতার, “মানুষের রাজ্য-রাজত্ব ধুলির ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাচ্ছে” । “দুঃস্বপ্ন থেকে” এর “ওপাশে ঝলমলে এক সূর্য সবুজের জমিনে উড়ছে আহা! কী যে অদ্ভূত বেঁচে থাকা” । এ সব পঙক্তিতে খুঁজে পেয়েছি যাপিত জীবনের নানাদিক। কবির কলমে এভাবেই অঙ্কিত হতে থাকুক আমাদের প্রাণের স্পন্দন, এ প্রত্যাশায় ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছ জ্ঞাপন করছি।

      মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন hasan shahriar — জানুয়ারি ২২, ২০১৩ @ ২:৪৫ পূর্বাহ্ন

      অনেক দেরি করে হলেও কবিতাগুলো পড়তে পেরে আমি আনন্দিত। কবির যথাযথ শব্দ প্রয়োগে নিজের ভাবনাগুলো এতো প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরাটা- পাঠক হিসেবে আমাকে বিমোহিত করেছে। কখনো কবির সাথে দেখা হলে আমি নিজেই কবিতাগুলো আবৃত্তি করে কবিকে শোনাতে চাইবো। কবিতাগুলো সংগ্রহ করে রাখলাম।

      প্রিয় মতিন বৈরাগী, অনেক ভালোবাসা আপনাকে।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 

মাউস ক্লিকে বাংলা লেখার জন্য ত্রিভুজ প্যাড-এর 'ভার্চুয়াল কীবোর্ড' ব্যবহার করুন


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com