দহের বাতাসে পাখি উড়ে গেলে…

শিকোয়া নাজনীন | ২৯ december ২০১২ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

এই টার্মের শেষ প্রজেক্ট ‘প্রমোটস জেন্ডার ইকুয়ালিটি এ্যান্ড এমপাওয়ার উইম্যান।’ আমার পার্ট সাউথ এশিয়ান রিজিয়ন। পিটার লিখছে পর্তুগালের হিষ্ট্রি।
ওর সাথে পরিচয় টার্মের মাঝখানে। কমন কোর্সে। আমি, সোফি বার্গম্যান, ডোরিয়া, আন্তনিও মেনদেজ আর পিটার এক ইউনিট। নিল্স খুঁতখুঁতে চঞ্চল পটবিহীন ন্যারেটিভ অধ্যাপক। অকারন নির্জন। দীর্ঘাকৃতি পুরুষ আরো পুরুষালি বিশেষত দাড়ি, কমা ঠিক না হলে আর্টিক্যালটা দ্বিগুন আশ্লেষে ফেলে দেয়। বাইরে কনকনে ঠান্ডা। ওক গাছের পাতা থেকে গড়িয়ে পড়ছে শিশির…টুপ করে বরফ হয়ে যাচ্ছে। এইসব দেখতে দেখতে দিগন্তের আড়াআড়ি উচুঁ টিলাতে হৃষ্ট পুষ্ট নিটোল চাঁদ বেঁকে থাকে জানালায়। সাউথ এশিয়ায় যুথির প্রতারনা অথবা প্রীতিলতা মন্দভাগ্যক্রমে আগুনে নিক্ষেপিত হয়েও পনরক্ষায় অকুতোভয়। বেঁচে থাকে দৈবক্রমে। অগ্নিময় নভোতলে বিষাদের আখ্যানে মন নেই আমার একচুল। টেবিলে মাথা রেখে চিন্তাহীন আমি। তবু লিখি ডরোথিয়ার জগত জুড়ে কেবল গহবর। দিনগুলি সুদীর্ঘ তার। আপনাকে বুঝে না পেলেও সে নি:শ্বাস নেয়। যেহেতু সন্ধ্যে হয়, আকাশ অনন্ত হয় তাই জলে তার নিপাট ছায়া থাকে। খদ্দের আসে। ক্ষীনাঙ্গে ক্ষমতাময় আফিমখোর পুরুষের গুরুভার কামলিপ্ত করে না তাকে। কিছুতেই অতল গর্তের ঝাঁপি বন্ধ হয় না।

দীর্ঘ প্রহর আমার এভাবে। অন্তরালের অভিসন্ধি লিখি। মাঝে মাঝে দেয়ালে এলিয়ে বিকট রাত নামে। আর ভাবি ইশ্বর করুন যাহাতে আমরা অতিব রক্তক্ষরিত নিজ¯ জীবনের প্রহসর প্রতারনা পিশাচি টেক্সট লিখতে পারি। শলাকাবিদ্ধ হ্রদয় নিয়ে নিত্য উচাটন থাকি। লাম্পট্য আমাকে খায়। পিটার বলে এতো বন্ধ্যা নারীর নিস্তাপ রাজছত্র লিখছো তুমি…। ধর্ষন জখম ধাপ্পবাজি লিখতে বসেছো তুমি ? হায়রে বিলোল রুপসী নারী…
জানালার ্ওধারে সুবিশাল ফাঁকা জমি, কোথ্ওা গ্রাম, পথরেখা…খররৌদ্র, দহের বাতাস, উড়ন্ত পাখি সকল… সেখানে ডরোথিয়া প্রতারিত হয়ে হাসে। অন্ধকারে ট্রামের শব্দ….মা তখন অশোক ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়েছিলেন আর….তার স্বামী তা অতিমাত্রায় ঘৃনিত মনে করেছিলেন। ফিরোজা সবুজ রঙ উপচাইয়া তার স্মিতহাস্য অন্যান্যদের তারিফ এই দেহে ফিরোজা কেন..রঙ..বিদেশি শিল্পীর প্রতিকৃতি..আঁধার সকালের রৌদ্রে তা আরো সঘন…বিশেষত পাশ্ববর্তী বন্ধুবান্ধবদের মুগ্ধতায় আমার মায়ের স্বামী পুরুষটি সেদিন স্তব্ধ হয়েছিলেন। ভালবাসতে বাঁধা পেয়েছিলেন কিনা। তার শিল্পী বন্ধু এক ভোজ রাতে মাকে বললেন আরে তোমার আলেখ্য আর ডেসডিমোনাতো এক…এই বলা তার জীবনে কাল হলো। স্থুল হয়ে পড়েছিল ফুল অর্ঘ্য আর যা কিছু এমন বিস্কুটের টিন, থার্মোমিটার….সমাজে তা ছিল অসভ্যতা. .ঘৃনিত। এতকাল এসবে মনোযোগ ছিল না। এই শিল্পীর কাজ দর্শনে… মা সেদিন কি লাঞ্চনাইনা পেলেন। শিল্পী তাকে বলেছিল, ছবি আঁকার আগে তিনি শিকারে যান। উহা দর্শনে তার মধ্যে শিল্পের ঘোর সৃষ্টি হয়। আপনাকার গুলিতে বুনো খঞ্জনা মাটিতে ধ্বসে পড়ে সে রাতে পাখির দানবিক গোঙানির ষ্টীল লাইফ আঁকেন। মৃত্যু গোঙানি আঁকার মধ্যে ফুটিয়ে তোলেন। এইবিধ রোষ না এলে মহত শিল্প তার আসে না। ফুলদানি সাজাতে গিয়ে মা মৃদু হাস্যে চমকপ্রদ শুভ্র তখন্ও। মেহেগনি কাঠের বাদাম দরজায় দাঁড়িয়ে দুই পাশে লতানো সবুজ কেয়ারি..একটু অষ্পষ্ট আভাসিত কঙ্কন নিয়ে সরোবরময়ী রাধা। বাহু তার সিক্ত মৃনাল।

শোনা যায় তিনি ইষত সচেতন হলে রহস্যঘন ত্রিবলিতে সরোবর ঘাটের তিনটি সোপান দেখেছিলেন। অনেক রাতে স্তব্দ অন্ধকারে. .ঘন আ্ওয়াজ আসিয়া তাকে প্রশ্ন করিলে..তিনি নিশ্চিত নিজের রূপদর্শনে তখন্ মোহিতই ছিলেন.. কুহক ছিল ফিরোজা রঙের..অন্ধকারকে ঘন করতে তারতো জুরি নেই। তিনি সে রাতে দেখলেন কি অদ্ভুত জানালা দিয়ে বৃক্ষপত্র আন্দোলিত হয়..অথবা স্বর্নকেতকি ফুটেছে এই অপবাদে তাকে ঘর ছাড়া করা হলো। নিজের সেই ছবি তিনিতো নিজেই চিনেন না। প্রাত্যাহিক দুধবার্লিতেই নিমজ্জিত তিনি। আকষ্মিক শিল্পের বিষয় হবেন, ডেসডিমোনা না হয়ে মোনালিসা হলে কি ভাল এরুপ ভাবার মতো জীবন মানসিকতা তিনি অর্জন করেন নাই।

পুনশ্চ ঐ মধ্যরাতের ব্যাপারে নির্ঘন্ট আছে… নির্জলা চাঁদের আলোতে ভেনেসিয় চিক জানালা দিয়ে তিনি শেষ রাতে খঞ্জনার গোঙানি ছাড়্ওা দেখেছিলেন…নদীতে ঢল ঢুকে পড়া প্রলয়। মেঘগর্জ্জন..বৃষ্টি..মৃত্যুময় বিরাট পাহাড় ধ্বসে পড়া….হলকর্ষনের শব্দে তিনি মূর্ছা যান তারপর। মরোন্ওোর বংশধরের পোড়োজমিতে পড়ে থাকতে হবে তার মানসিক উচ্চতা এরচেয়ে বেশি কিছু ছিল না। তারপর বারংবার তার জীবনে মোনালিসা…আখ্যান অথবা থিয়েটার ভাঙার পর…ডেসডিমোনায় আবিল আশ্চর্য মন। স্পিরিচুয়াল। তিনি আর কোনদিন স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন নাই।
এসবই লিখতে হবে। যে আলেখ্য দিয়ে সায়েন্টিফিক পেপার রাইটিংস এই যাত্রা রিসার্স প্রপোজাল আকারে খ্ওায়ানো যাবে।
পিটার বলে এটাতো ইজি..অনায়াস, তোমারই জীবনবেদ।
বিকেল ৪টা বাজতেই অন্ধকার হয়ে আসে। সারাদিন মঘ বৃষ্টি বাদল অন্ধকার।
আমারই দেশ। ধূলো আর পানাপুকুর। আমার চেনা ওমর খৈয়ামের সাকি নর্তকী। মাকে দেখি মুখটা তার চপল। টিলায় বসে কেঁদেছিল। এখন সে সিক্ত মৃনাল..ভেজা মুখ। অশোক ফুলের নিবির জুলুমে মার চোখে জল ঝরেছিল তারপর।
পিটারকে বলি, আমাদের দেশ্ওে বিরাট আকাশ আছে। নিম্ন গুলঞ্চ আর চারদিকে দোনার ঝোঁপ আছে। রোমহর্র্ষক দু:খ. . .মনোবিকার, পোষা বুলবুলি দুর্ভেদ্য প্রহেলিকা, ঘাস মাটি আলগা করলে আমরা গনগনে উনুনের মধ্যে অনন্ত হেমন্ত দেখেছি।
আমাদের তারায় জ্বলা আকাশ। আমাদের ইউক্লিড। আমরা স্বপ্নেও দেখি বাস্তবতা…রিয়েলিষ্টিক ওল্ড এম্পায়ার..। সামরিক অফিসারের বর্ননাতে রেপ হ্ওয়ার ডিটেইলে আমরা যৌন উত্তেজনা অবদমন করি। এসবই আমাদের হিষ্ট্রি। কাটাছেড়া রক্ত ছোপ উপচে….ক্ষতটা দগদগেটা দখাতে হয়। এসবই জেন্ডার আনইকুয়ালিটি. . .মোঙ্গলয়েডদের ষ্টেনসিল আরোপিত প্রথা।
তবু আমাদের ফুসফুস ভরে ওঠে দিনের মাধুরিতে।
হেমন্তের আতপ্ত সন্ধ্যায় স্টাডি করি ল্যাবে। অনুপম উদ্ভিদরাজি পাখা মেলে, রাত জেগে দেখি এশিয়ান সংস্বৃতি…শিল্প নিয়ে দৃশ্যকল্প তৈরি হয় খসখসে বিবর্ন…টেকচারে। এভাবেই বিশেষভাবে বলতে গেলে ঘটঁনাপন্জির এক….সংবেদনশীল লিপিকার হয়ে ওঠি। পাখি বৃক্ষশাখায় যেমন বসে- সেভাবে একজন কেউ নিজেকে দেখেছে এমন…কত মানুষইতো নিখিল আকাশে ডুবে থাকে। ঝড়ের আকাশে দহের বাতাসে পাখি উড়ে যেতে দেখে। পীড়িত এক দৃশ্য আঁকতে আমি প্রতিদিন মধ্য রাত অবধি বসে থাকি। একটা মৌন বাদামি আর খয়েরি লালের আঁকাবাঁকা প্রান্তরের অপরিসীম প্রসন্নতায় চারিদিক উচ্চ প্রাচীরে ঘেরা গ্লাডউইন ্ওয়ারেন হেষ্টিং পুস্তক সহকারে ঘুমিয়ে পড়ি। যেন উষা এসে গেছে। আশ্চর্য এক আত্মপ্রত্যয় আমার মনে। কখনও ভূশন্ডি মাটি রঙ এই উনিশশো বিরানব্বাইয়ের ফাল্গুনে আপার নিখোঁজ হ্ওয়াটা লিখি. .
শুষ্ক সমতল ভূমি বরাবর তার মুকুলবিকাশ। যা আসলে আমি পেয়েছি বাশোলি রাজস্থানি থেকে। হয়ত অমৃতসর যার উতপত্তিস্থল। অথবা তেহোরি গাড়োয়াল।
প্রতিদিন অরিগন উইথ মাসরুম, গার্লিক সসের দারুন ঝাঁঝটাই বাঁচায়।
বিস্বাদ ড্রাই বিফ স্যাঁতস্যাঁতে কবন্ধ চেতনারহিত গিলি। মেশিনে কয়েন ঢেলে দেই। কোঁকড়া লাজুক ডোরিয়া হানা দেয়। আচমকা ছলকে পড়ে কফি, পিটার মুসরেফ দ্ওেয়ানের মতো হাসে। আধমন চাউল লঙ্কা আর গোলমরিচের বস্তা নিয়া দেড়মন পায়েসান্ন রান্নার মতো আমার অপটুত্বের মাধুরিতে সে বিমোহিত ফিল করে। গজঝম্প, মেঘডম্বুর আভরন আমার। সে সবুজাভ চোখের লাস্য নিয়ে বলে- শোনো যদি ভালবাসো নম্যকলার ইন্দ্রজালে…অমানিশা..নাকি তারাহীনতায় নেশা বলতো?
অনেকদিন হলো এই কথা মনে আসে। মাইনাস ২৫ ডিগ্রির শীতার্ত ভিসতুলার মতো যে নদীকে জার্মানরা অতর্কিতে মেরে ফেলে। নাম দেয় রিভার অব স্কাউন্ড্রেলস, তর্জমায় রোগ রিভার। আমিও পিটারকে তর্জমা করি নদীর মতো।
আর আসলেতো রাতের নিদাঘ ল্যাবে কফিটাই উত্তাপ দেয় শুধু। পিটারের রেশমের থান লোহিত শ্বেতচন্দন মিশে থাকা চুয়া গোলাপজলের গন্ধ ছড়ায়।
আমি যেন সুগন্ধ গোকুলা। মাজেগুরান থেকে পিটার এনেছে কুন্দ মাধবী। সারে সাত রতি করিয়া ওজনে আমার তামার খাঁদ পূর্ন হয়।
আর আর্টিক্যালটাতে সশব্দ ফেনিল উচ্ছাস, শ্যামল অনুতাপ ইষ্পাতের উপরে শিলের অক্ষর পড়িয়া লালচে রঙ ধারন করে যখন, তখন বিশেষত মনে হয় জীবন আসলে এক সুখেরই প্রতীক।

যে সবটুক হিষ্ট্রি আমাদের সিংহল আর মালবপ্রদেশে আমি তার দুর্গম প্রান্তর. .ঝাড়জঙ্গল পঞ্চাশ সাল, শীতকাল, নীলাভ সূর্যোদয়. . . আর জলাশয়ে মুক্তকেশি অন্ধকার….শৈথিল্য বশত জয়চন্দ্রের সভার চাঁদকবির গান লিখতে শুরু করি। কেয়ারি ফুল, লম্বা প্ল্যাটফরম. .অথবা সামরিক অফিসার, বুট জুতা। ঝিল্লির শব্দ. . .বিদারিয়া মধ্যরাত. . . এ্যটস্যাটরা এ্যাটস্যাটরা. . . ।

নিলস্ ভগবানের জ্যোতির মতো সূর্যকান্তি মুখ নিয়া আবিভর্’ত হয়। স্ফটিক পদার্থের নির্বিকারত্ব নিয়া বলে.. কিছুই হয় নাই। বলে যে, আমার প্রনয় সঙ্গীতে সে সেটিসফায়েড নয়।

সে বলে, বাতীদান শুদ্ধ বাতি লইয়া নতুন অগ্নি সঞ্চারের ব্রত নিয়ে এসো।
বিষাদে আচ্ছন্ন আমি দেখি নিরেট আসমান। জলবিন্দু সেখানে খেলা করিতেছে।
‘তুমি ..একটু ব্রেক নাও’ নিল্স অভ্রের লন্ঠনের মধ্যে জ্বালা ধরায়। সে ছুড়ে ফেলে দেয় আমার কনসেপ্ট অব রাইটিংস টাইটেল সমেত।
আমি ভাবি সাধুতাই ভগবানকে সন্তুষ্ট রাখিবে। ষ্পন্দমান হৃদয় মোর শান্তির খোঁজে পাখা মেলে..।
ডিফারেন্ট টাইমস, ডিফারেন্ট মিডিয়ায় অল এবাউট এক্সপ্র্রেশন অব ইমাজিনেশনস। ওয়ান রং দ্যা ফ্রন্ট অব দ্যা লাইন এ্যান্ড দ্যা আদার ইজ এ্যাট দ্যা ব্যাক অব দ্যা লাইন অন দ্যা সেম প্রোডাকশান লাইন।

সাম হোয়ার সামটাইম ইন দ্যা পাষ্ট অর ফিউচার, দেয়ার এক্সিস্ট অ্যা ম্যাচ অব লিটারেচার এ্যান্ড ম্যাথস। ইট মাস্ট বি টু ডিফারেন্ট ল্যাংগুয়েজ। ফ্রিকুয়েন্সিস অব দ্যা সেম হিউমেন হার্ট … সো হোয়ার ডু ইউ স্ট্যান্ড অব মুভ স্ট্যান্ড। হোয়ার সুড ইউ এ্যান্ড আপ। ডোন্নো। আই ডোন্নো ইয়েট। নিল্স মাথা ঝাকায়।

আমি নিফিদ বাজনার মিষ্ট সুর শুনি। আমার প্রয়াগের জল পান করতে তৃষ্ঞা আসে।
মধ্যরাত জেগে ল্যাবে দেখেছি পেগানের প্রাচীন গুহার মতো লরেল বৃক্ষ শাখা। তুর্কী দেশের বারোক প্যাটার্নের ঘন কেতকি। আবার কোথ্ওা সে্উঁতি ফুটেছে। তপ্ত¯্রােতে রাগমালা বেজে যায়- আবিরমায়া কেশনে বেখর ফেতিল…। ভেসে যায় তুষারটিলা। মোগল মিনিয়েচার। শিরীষ ফুটেছে কোথ্ওা। কারখানার চিমনিতে আগুনের তাপে লেবু ফুলের ক্কাথ মেশানো লাল শার্টিন ব্লো কাট্ ব্লাউজ।

কেউ জানে না আপা কি করে মরেছিল। বুটজুতা তাকে থেতলে ফ্যালে। মৃত্যুর র্পও সে ইনগ্রেসের ন্যুড, ওফেলিয়া…। চন্দনপুরের আট তোলা তাসিকির। নলদময়ন্তী। নভেলে, এশিয়াতে উনিশ শতকের এনিগমা। বড় চেনা। সেন্ট পিটার্সে দাভিদে কত এমন।
আবার লিখতে বসি। সায়েন্টিফিক পেপার রাইটিংস অব রুলস শিখতে বসি পিটারের কাছে। চাউলে পূর্ন হাড়ি লইয়া পিটারের পানে অতিশয় উষ্হ দৃষ্টি নিক্ষেপ করি। প্রাতঃকালে চাউলের পরিবর্তে ফুল দেখিবো অথবা জাফরান দেখিতে পাইলে জয় নিশ্চিত জেনে দরজা বন্ধ করি। পিটার বলে, জানতো …চাউলের পাত্র পানিতে ডুবিয়া গেলে কি হয় !
সুগন্ধ ছড়ায়…।
শুক্লপক্ষের অষ্টমি তিথির মতো কম্পিত স্বর তার।
কানের কাছে পিন পিন করে… নিম্ন লিখিত উপায়ে স্বর্ন সংগ্রহ করিতে হয় প্রেয়সী মোর…
শৈশবের কটু স্মৃতি ভরা জীবন আমার কোন উপায় বুঝেনা আর।
নিল্স কতইনা প্রেবলেম ফেইস করে আমাকে নিয়ে।
দেখো, আটটি গ্রামই কোন পরগনাভূক্ত হয়নি। কাশ্মীরে তুমি কোন সৈন্য দ্ওানি। নিল্স যেন রাজসরকার বৃহষ্পতিগ্রহ। অতিশয় জলময় বলে-
দেখো টেকনিক্যাল বিষয়্ও সৃজনশীল। গত সেঞ্চুরিতে প্রথম দিকে যখন কোন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ছিল না, লেখালেখির এক্সপ্রেশন অব থটস থ্রু রাইটিং মিডিয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

রিডিং সাম্ওয়ান রাইটিং ওয়াজ লাইক ওয়াচিং মুভি। (ইমাজিনারি)
বাট ন্ওা মিডিয়া হ্যাজ চেঞ্জড। এনি রাইটিং ক্যান বি কনভার্টেড ইনটু কোডস এ্যান্ড দেয়ারফোর, দ্যা রেজাল্টড আর টু’ডেস ভিয্যুয়াল মিডিয়া। (মুভি, ইনট্রাকটিভ গেমস এ্যাটস্যাটরা..)
সুন দেয়ার উইল বি- অ্যা টাইম উই উইল কেচ ইওর পোয়েটিক মেলানকলিক মাইন্ড। ইউর মাদার কেস..সিষ্টার কেস…এ্যান্ড দ্যা রেষ্ট অব দ্যা ওয়াল্ড উইল এনজয় ইওর লিটারেচারসটিক বিউটি।
সিম্পলি, দ্যা মিডিয়া হ্যান্স চ্যাঞ্জড।
অ্যা বেষ্ট গল্পকার: ইন দ্যা নাইনটিন্থ টুয়েনটি ইজ ইকুয়াভালেন্ট টু অ্যা ক্রিয়েটিভ কোড ইন মর্ডান টাইমস। বোথ অব দেম টুক অ্যাডভানট্যাজ অব দ্যা কনজ্যুমার মার্কেট অব রিডার্স এ্যান্ড অব ভিউয়ারস।
সো ইউ আর দ্যা ওল্ড স্টাইল এ্যান্ড কনফিডেন্ট এ্যান্ড আই এম দ্যা নিউ স্টাইল এ্যান্ড এ্যডভেঞ্চারার।
মাদাম! তাহলে তারপর কিছুটা অবয়ব চেনা মনে হতে থাকে আমাদের। এভাবে যদি কিছুটা পারা যায় তবে তার মতো করে বলতে ইচ্ছে তো করতেই পারে…
আমি দেখি গির্জার উপরে বৃষ্টি পড়ছে। ঘাষ লতা গুল্ম ডুবে যাচ্ছে। নিচু অন্ধকার অপরিসর বারান্দায় চাদর জড়িয়ে পুরানো চামড়ার চেয়ারে বসে শূন্যে পা তুলে রাখি।
এ এক বিষাদে ঢাকা রাত। নীল্স বলে ব্রেক নাও ডার্লিং। জীবনকে চলমান রাখতে হয়।
তুমি একটু সমুদ্রে যাও।
আহ্ বাতাসে স্বনিত কোন নাবিকের গান যেন শুনি। মনে পড়ে একদা সংগ্রামে আনন্দ ছিল। যদ্ওি সমুদ্র বেশি দূর লাগে। পথটা তবু এত কনকনে বিষাদে ঢাকা।
ডিপ্রেস লাগে। এই উইন্টারে সায়েন্টিফিক পেপার রাইটিং আপাতত হিম¯্রব হয়ে উঠে।
পিটার আমাকে অদ্ভুত মিশ্র বচনে দেখে। কুম্ভলরাশি গ্রীবায় দেখে।
তুমি মোর আঁখিপাতে চিরদিন জমে থাকা জল…বুভুক্ষায় দেখে। করালি ডাকা দুপুরে রিফ্রেসমেন্টের জন্যে মহানদী পার হয়ে ধূ ধূ মার্সল্যান্ডে নিয়ে যায়। বলে আশ্চর্য জুনিপার ফুটেছে দেখো।
আমি দেখি জলাভূমির ধারে বেঢপ শিরীষ নিস্পত্র প্রায়। হায় প্রেম তোমার গন্ধের যানে খুঁজে পাই মোহন মন্ডল। পিটারের কাতরতা ঝরে পড়ে…দিনমান পড়ে থাকে।
শ্বেত মেঘ, মাস্তুলের ব্যাপক ঝাপট দেখতে দেখতে মনে পড়ে পঁচিশশো ইউরো পাবো প্রপোজাল ্আ্যাকসেপ্ট হলে। আহ্ ফরমাল আর্টিক্যাল রেফারেন্স লিষ্টটাই প্রচুর মিসটেক হচ্ছে। টাইপিং এ এত ক্লান্তি আমার।
এক করালি ডাকা দুপুরে পিটার আমার চুল স্পর্শ করে। দেখো, কেমন গুচ্ছ কার্ল। বতিচেল্লি। হাত চেপে ধরে পিটার, ওর কড়ে আঙুলগুলোতে নীল শিরা সটলেজ আর বেয়ার মধ্যস্থ ভূভাগ হয়ে আসে আমার কাছে। এই উইন্টারে মাইনাস টুয়েন্টি সেভেনের তিমির রাত্তিরে নিদ্রার বিবরে ডুবে যাই।
শোন…তোমার হাত যখন কোন গবেষনা ফেরেব্বাজি করে. . .কিছুতেই যেন না জানে তোমার মন কোন প্রমিতি প্রস্তাব করছে।

সি দ্যা ম্যাথমেটিক্যাল মডেল সব ফ্রিকুয়েন্সি ক্যালকুলেশন্স। দ্যাট এক্সপ্লেন এভরিথিংক।
ইট ইজ দ্যা কজ অব অ্যা মান রাইটিং এবাউট ওয়ারওলফ অর ভেমপায়ার অব ট্রান্সসিলভেনিয়া ষ্টোরি বিকস অব রাইটার্স ব্লাড প্রেসার রেসোনেন্স। হুইচ ইজ সিমিলার টু অ্যা কমুনিকেশন ব্রিজ দ্যাট-ভাইব্রেটস বিকজ..অব রেসোন্যান্স অলসো।

দ্যা সেইম এপ্লাইজ টু টাইডাল ওয়েভস (জোয়ার ভাটা) অথবা চান্দ্রিক যা (লুনার) প্রেসার সাইকেলস দ্যাট ক্রিয়েটেস উইমন্স মেন্ষ্ট্রুয়াল সাইকেলস।
হেন্স ডিফারেন্ট মুড সুইয়িং এ্যান্ড থটস্। ইস্রাফিলের সিংগার ফুঁ ইজ অলসো অ্যা দ্যা রেসোনেন্স দ্যাট ডেসট্রয়স আর্থ, অ্যান্ড এগেইন রেসোনেন্স বাই হোয়াট আল্লাহ উইল রিক্রেট লাইফ।
পর্তুগালে রেপের হার কেমন? আচমকা জানতে চাই।
আমার টেবিলে বসে পিটার।
লোজিক না ইমোশনই ভাল
তাইনা?
আমি ্ওর চোখে দেখি খয়েরি শিরা নিরন্তর কম্পমান। গাঢ়-নীল রঞ্জকের তপ্ত প্রজাপতির মধ্যে পরিশ্রমী পুরুষ পেশি। আমার মন খাঁ খাঁ করে। হেমন্তের অমল আকাশ তুমি। মাটি চাপা দেয়া নিখিলে, লাইট গ্রিন মিহি ঘাস। আহ্ প্রেম। খররৌদ্র কালো মাটি আর আামার বিধ্বস্ত হাইপারটেনসিভ অন্ধতা পরিব্যপ্ত.. দূরপ্রসারিত গভীরতা..পরখ করে।
মিহি ঘাস। মোগল মিনিয়েচার। অথবা অমৃতার মথুরা।
পিটার তবু আমার চুলে ব্রিন্দাবন খোঁজে। নিদাঘ স্পর্শ নিগূঢ়….নি:সাড় সেঁদিয়া পরিব্যপ্ত আমি..সেন্টপল থেকে সেন্ট অসাষ্টিন..প্রগাড় তোরে..অনার্য আর আমি আচমকা ইমোশোনাল চৈতন্য প্রবাহে লিখতে শুরু করি আমাদের পাখি না ্ওড়া আকাশটার কথা। নিল্স পড়ায় ইকোলজিক্যাল ফুটপ্রিন্ট। ্অতএব এতটাই যুতসই। এতটাই পারফেক্ট নিলস বলে, তোমরা এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অন্ধকার বসন্তও দেখেছো তাইনা? কোন সুদূরের জল প্লাবনের খোঁজ পাখি কি করে পাখার ভেতর পুরে রাখে বলতো? মাটিতে জলে উষ্ণ নয় আর আকাশটাও । বসন্তে বোঝে, বর্ষায় বোঝে। মাটিতে শুকনো ফুলের খড়কুটো খেতে গিয়ে বোঝে। গন্ধ আসছে মাটি থেকে তাতে আদ্র হাওয়াতো আর নেইই। শুধু মানুষ জানে না। জলের দিকে চেয়েও বাতাস আর রৌদ্রে সে জল কতটা বাতাস হবে আর কতটা শুধু জল থাকবে।

পেদ্রোস নিভিস পিটার তাকিয়ে থাকে দূরে মেঘবলয়ে। লাপিসে কনকনে বরফের পিঠে ওর ঘরটা। তার থেকে আমি মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে। ইচ্ছে করে সারা বছর ্ওর ডানার ঝাপট।
সোফি বার্গম্যান, আর ডোরিয়া আসে। জড়িয়ে ধরে। পিটার আমার সহায়ক থাকে। নিল্স ভাইকিং নিঁখুত মাইডিয়ার প্রফেসার। দীর্ঘাকৃতি পুরুষকে আরো পুরুষালি যেমন সন্ধ্যেবেলাতে বিশেষত..সমস্ত গড়নে একটা ক্রিষ্টাল শুভ্রতা। ভাইিকং সভ্যতার আবলুশ জলাভ’মি তার দেহ। চুলের ব্যক্তিত্বে সমুদ্র ঢুলে পড়া আাঁটো। সে সৌরলোক ইগনোর করে। একরাত্রের মধ্যেই দাড়ি, কমা, সেমিকোলনে লাল কাটাকাটি সমেত পেপারটা ফেলে দেয়।
আমার মায়া বিভ্রম কেটে যায়। আমার স্বপ্ন বিলাসের গোলক ধাঁধা বিচ্ছিরিভাবে খাবি খায়।
আমি তবু তার নরম গোলাপি সী লায়ন মাছের মতো হাত দুটির দিকে তাকিয়ে থাকি।
পিটার হিমঠান্ডা চাক পৃথিবীর সবচেয়ে পরিত্যক্ত নি:সঙ্গ পাংশুল বদান্যতায় চায়।
কিন্তু মাই ডিয়ার লাভ, আমি যখনই বলি নিল্স একদম শোনকনারি মার্কা চায়…
পিটার তখন ঘাসের চাপড়া দিয়ে ডলে ডলে গা থেকে কাঁদা তুলবার মতো উদ্ভিত। শ্য্ওালা হয়ে জমে তমসার। নুড়িপাথর দৃষ্টিতে আমাকে জট পাকিয়ে ধরে।

আর বাইরে তুষারপাত তখন মাছের আঁশ ছাড়ানোর মতো আস্তরটা সারা আকাশময় চেঁছে আমার দম আটকে দেয়।
তার মধ্যে বাঙালা আহ্ কত বৃষ্টি আর মধুমাসে সিক্ত। ইত্যাদি চলে…
আমাদেরতো মিশরের চেয়েও নীল জল আছে। আবার বার্নিয়ের। দিগন্তের আড়াআড়ি উঢ়ুঁ টিলাতে বরফসাদা আলো। চাঁদের আলোতে বরফ আরো ছলকায়। আমি পিটারের পাতলা সিফন পাতলুনটা দেখি। কফিতে চুমুক দেয়। কৃষ্ঞ বর্ন রাত্রি, সমুদ্র উত্তাল। পাশে বলবান পুরুষ। মজ্জায় মজ্জায় শিউরে ওঠি। বুকে জামপাতার সুগন্ধি…মনে মনে বলি-
নদীর বালুকা আমি ছাঁকিলে স্বর্ন প্ওায়া যাবে। অকৃত্রিম আমি। একপেশে রোদ মিলে দলা পাকানো অন্ধকার হ্ওায়া আমি।
করুন শৈশব মোর।
পর্তুগিজরা স্রেফ শুয়োরের মাংস খাওয়ার জন্য বাঙালায় নেটিভের মতো ছিল।
মিরান্ডা…শোননা…তোমাদেরই দুর্গাসাগরের তীরে বাসা বেঁধেছিল আমার পিতামহ।
সিরিয়াতে, কাসিম বাজারে রেশম ফ্যাক্টরিতে উনিশশো দুই সালে আমিইতো দুরধিগম্য মসলিনের জন্যে জেলে আর শিকারীদের ফেনিল উচ্ছল স্রোত সাঁতরে পেরিয়েছি।
তুমি আমাকে চেনো নাই?
সপ্তগ্রামের বন্দরে..হরিতকি আর রেশমের ফিনফিনে তসর নিয়ে শ্যাম সুমাত্রা চম্পাদেশ হয়ে. . শেষে কিনা এখানে এই মিসটেরিয়াস আইল্যান্ডে..মোরবিড উইন্টিারে তোমার দেখা…পাই..

পিটার আমি বন্ধুত, ইনফ্যাচুয়েশন, এনালিটিক ডেপথ, র‌্যাশনাল, সেমেনটিকস.. উপনিবেশিক প্রহসনের গল্পের দেশগুলি একদিন হারিয়ে যেতে থাকে। আর্টিক্যালটাও খাবি খায়…কোন আখ্যান নাই…কিছুই আর আমাদের গৃহস্থ করে না। পিটার বলেযে নিশ্চয়ই সরল নিশ্বাসে..আমি আর তুমি. . . আকাশে চাঁদ….ইনটেরিয়র মনোলোগ….ভাষা কি তোমার বুকের মধ্যে হু হু ভাব এইসব আমরা ইগনোর করি।
এইসব, এই মতো সব, এর মধ্য দিয়ে সুগন্ধি লতাগুল্ম, কুঞ্জবন, রঙের অক্ষয় বৃত্ত আর যা কিছু এসে পড়েই। মেট্রো রেলের জন্য অপেক্ষা। পাইনবন. . রেলগাড়ি. . আপার সাদা পা…আমি একদিন খুব ভোরবেলা সারি সারি ঝাপসা ছাদের কার্নিসে…তীব্র ঠান্ডা সেই প্রহর।
কোনদিন রামসিং বলেছিল বেঙ্গালিয়ান মনচেরি (ভ্রেইমেন্ট) ফুটেছে জানো। তোমার সুইট পয়েন্টে আসতে চাই এবার। তোমার আলেখ্য মানে সাহিত্য আই থিংক ইজ এ্যান এচিভম্যান্ট অব লাইফ টাইম। অ্যা ওয়াস্ট (!) অব টাইম টু গেট দ্যা অমৃত-ইন অরডার টু-আন্ডারস্ট্যান্ট দ্যা কমপ্লিট ফিলোসফি।
নিকোলের সঙ্গে তারাফুল…ডোডেক্যাথ্ওিন আলপিনাস অরেগনের পাহাড়ে…কোন কমন পেপারে ব্যাকরন শৃংখলা মেনে নিস্তাপ বিষাদ আখ্যান আর লিখতে হয়নি আমার কোনদিন।

পিটার বলে দেশগুলো সব চট করে উধ্ওা হয়ে যায়।
সেবাষ্টিনের ডায়েরি। একটা আশ্চর্য ঘটনা। না? ঝড়ে না পড়লে গর্জনে বধির না হলে তোমাকে চিনতাম কি করে…
রাতে ল্যাব থেকে বের হতে গিয়ে ব্যাগ হাতড়ে দেখি কয়েন নাই। আচমকা সোনালী উপকথা মন্ডিত, উজ্জল মিনার কারুকার্য খচিত রাশি রাশি মোহন পৃথুল মুদ্রা ঢেলে দেয় টেবিলে পিটার…ঝন্ঝন্ শব্দে ভেঙ্গে পড়ে নিস্তব্দ ল্যাবের সমতলীয় গাত্রবিহার। ওর ইষ্পাতের হাতঘড়িটা চিকচিক করে। পারসিক বাদশাহ যেন ্ও। নিমীলিত পাপড়ির মতো অক্ষিপল্লব। অস্বাভাবিক বঙ্কিম ওর দাঁড়ানোটা। চপল গভীর মুদ্রার শব্দে নিষ্পন্দ আমি।
এত ভাললাগে এই ক্ষনটা। কয়েনের সাথে সুপুরুষতার কি যোগ ভাবি। আচমকা গাঢ় হই স্বরে। ও মগ্ন মেশিনে মুদ্রা ঢেলে দেয়। কফিটার চেয়ে মেশিনে মুদ্রা দেয়াটাই জরুরি তার। চামেলির সুবাস পাই গা থেকে।
পিটার নীলথ্রাসের মতো ডানা মেলে দেয়। আর রৌদ্রজ্জ্বল হাওয়াবিহীন নানাবিধ নিবিড় আমি মুদ্রার নিবির ঝঁনঝঁনানিতে। আকাশে ঝড়ের বীজ দেখে কম্পিত হবার মতো মন উচাটন।
আমরা পন রক্ষায় অকুতোভয় তবু। জীবন ছিল অসম্ভব, তবু তাকে সয়ে নেয়া গেল? কার জীবন? পিটারের কাছে আমি কি তবে এমন কেউ যা আমি কখন্ও ছিলামনা। তবুও কেনইবা…এসবই যখন ভাবি..তখনই মনে আসে এমন মানুষ কে আছে বুকের তলে না পোষে বাসনা? কে আছে এমন না পোষে নীলিমার বন্ধন। মনে মনে পন করি…
জানলার ্ওপাড়ে দাঁড়কাক. . .আপার মৃত্যু, খঞ্জনার গোঙানি তারা আর আমার নয়। অন্যকোন আমি, সে নয় যার কথা এখন আমি ভাবছি।

সাউথ এশিয়া..ইনসিকিউরিটি মার্ডার রেপ, উইম্যান সাপ্রেশান নিয়ে ডেডলাইন ফেইল করি। লেট সাবমিশান হয়ে যায়। আর্টিক্যাল ছাপা হয় একাডেমিক জার্নালে। পি এইচ ডি প্রপোসালটা এ্যাকসেপ্ট হলো কিনা জানা যাবে আরো একমাস বাদে। একটানা সাড়ে সতেরো দিনের দু:সহ ক্লান্ত দেহ মন। ইষ্টারের আলস্যবিলাসে সবাই।
টার্ম ফাইনাল শেষে টিশিয়ানের ছবি দেখতে যাই।
দূরে সমুদ্রবন্দরে নিকোল হাঁটে এলোমেলো।

নরসবোরি থেকে বাস ছাড়ে। বাইরে কনকনে ঠান্ডা। পিঠ স্পর্শ করে পিটার। বাহুলতা আঁকড়ে থাকে। প্রসাধনে স্নিগ্ধ আমি, সোনালী বোতাম ছলকায় মখমলের জামার উপরে। সাতাত্তুর নাম্বার বাস ছাড়ে, আঁটোসাটো স্কার্টে ওরিয়েন্টাল ফ্লেবার। গায়ের ম্লান রঙটা নিয়ে ভাবি আহ্ মানুষ যতই ভাবুক মেলেনা জীবনে এমন নিবদ্ধতা। শহরতলি ভক্সহলমনের উদ্দেশ্যে। পুরনো ক্যাথিড্রাল। দূরের দ্বীপ। আলো জ্বলে রাখা পথটা। নানরা সাদা ভাঁজ করা গোটানো শার্টিন নিয়ে রৌদ্র ঘাটে বসে থাকে। গীর্জার ঘণ্টাধ্বনি বেজে চলেছে অবিরাম। কি মোহনীয় বন্দর, অথচ কি নি:সীম অনুতাপ, নান কি আাইয়োনীয় স্বম্ভ? এমন বেজে…যায় তাদের রশ্মি আমার জীবনে। বাতাসে নীলবর্নের ফুলকি মানুষ যেখানেই যাক সিন্ধুপারে।
শৈশব আমাকে নাগপাশের মতো জড়িয়ে ধরে।

ঘূর্নিলাগা অনাবৃত হান্সএন্ডারসন শিয়রে ছিল সেদিন। সকালটা এমন ঘন।
মার ঠান্ডা জল জমা মুখ। চোখে মুখে জমাট ভেজা মেঘ। সকালটাকে সন্ধ্যা মনে হচ্ছিলো। মা কি খঞ্জনার গোঙানি শোনে আবার? ভিজে জবজবে শরীর। অলীক সব ছায়ামূর্তি মাকে ঘিরে সারাক্ষন। থিয়েটার শো ভেঙে গেলে..আয়নার মধ্যে সে ডেসডিমোনা না দেখে আপাকে দেখে। ঘুমন্ত আমাকে টেনে তোলে। বিছানায় জীবনহন্তা পোকা দেখে সে রাতভর। নীল আলোটা মিলিয়ে যায়। সেদিন অতি গভীর মনের কথা কহিতে, চোখ নিজেই অক্ষরে পরিনত হয়…
সে কি জানতো?
তখন প্রত্যুষ। কেউ তাকাতে পারেনি তার চোখে। চুপিসারে বলে- আমার মেয়েটা মরে গেছে। কাঁথা আবৃত। টেবিলে তার পাঁজর কাটা। কম্পামান সাদা পা. .ধরে দেখি. .তাপদগ্ধ।
মা তুমি এত এবসার্ড কেন? আবার স্বপ্ন দেখলা?
তাকে ভষ্মমূর্তি লাগে। অশোক ফুল সাজিয়েছিল ভাসে… এই মা ? সে বলে শুধু. .সেই সাদা পা..গরম আর মৃত। ্ওল্টানো পাঁজর। আর তাপদগ্ধ। আমার মেয়েটা…
মা কোন মানুষই না নাকি। পলায়নপন কোন জীব। সারমর্ম নাই যার।
আমাদের চাতাল থেকে উড়াল দিলো বাজপাখি।
মায়ের চোখ দপদপ জ্বলে। বলছিনা?
স্থির হয়ে বসে বলে- এসবের মানে কি…
মামা বলে ‘আলগাকিছু আছে আমার বইনের লগে…’ সব আগাম টের পায়।
পাখির মতো স্বভাব। নিল্স যে পড়ায় পাখি জানে….।
মা কি তবে পাখি? যা ভাবে, তাই ঘটতে থাকে।

অলৌকিক এই দৃশ্য খনিজের দস্তানা অথবা উদাসীন অন্ধকার, ক্যানাপাতা দিয়ে মনসুরের পাখির পালক ডিজাইন ইকেবানা সে কোথায় শিখলো? ঝিনুককৃত বুলবুলি নিয়ে প্রতিরাতে তার অভিজ্ঞতা নানাবিধ। সবই আম্মার আনত ললাট।
যখনই চাচা আসে চামড়ার বেল্ট কোমরে বেঁধে। মাকড়সার ঝুলজাল দেখে। বলে ইলেকট্রিকের তারের উপর দাঁড়িয়ে দেখতে হবে সব। ধোঁয়া আর বাস্প ছড়িয়ে পড়ে ঘরে। হলুদ প্রজাপতি ্ওড়ে ঘরে। আম্মা বলে শিকড়-তন্তু আছে মাটির তলায়। ঘুনপোকার মতো খেয়ে নিচ্ছে আমাদের বাড়ি ঘর চাতাল আর মানুষ। বুলবুলি পাখি মাথা ঝাঁকায়। চাচা আসে হলুদ প্রজাপতিটিও আসে। মার চোখে অনুবীক্ষনের ছুরি। জ্বর আসে আমার। ষ্টীল লাইফ আঁকিয়ে শিল্পী স্পঞ্জ দিয়ে শুষে নেয় জল। মাকে দেখলে ভয়ে কুকড়ে যাই। সিন্ধুকে লুকিয়ে থাকি ডালা বন্ধ. . .দম বন্ধ।
শূন্য ধুমল আমি।
নানী মৃত্যুশয্যায় বলেছিল -‘আমার রোকাইয়ারে দেখবা তোমরা, সে সংসারের মানুষ না’
আম্মা সারাদিন গর্ত খুঁজে মরে। উম্মত্ততা ছড়িয়ে….অসীম ভিতরে বাইরে তার শেষকৃত্যের দৃশ্যে কর্কশ হ্ওায়ায় মনে হয় সে মৃত।. .থপথপ হাঁটে. .কাদায়। দোরে দোরে কড়া নাড়ে।
জানো কোথায় আমার মেয়ে?
আপা কি সমুদ্রে গেছে?
জল তার প্রিয় ছিল। পথের উপরে সেতো পড়ে ছিল মৃত। বুকে রক্ত স্রোত। আকাশ দিয়ে চেরা বুকটা। স্ফটিক স্তনযুগল দিয়ে তোবড়ানো বলিরেখা….নানা আশ্চর্য বাসনা পেয়েছিল তার। ভেবেছি আর কারা নিখোঁজ হয় এমন? কত দূরে তারা যেতে পারে. . .দূর কি পৃথিবীতে জন্মায় ঘাসের মতো? দূর কি গীতিকাব্যের মতো পাহাড়ি? দূর কি আখ্যান কোন?
গাছ, ফুল, নদী, বৃষ্টি, পাখির সংখ্যা কি এক লক্ষ বিশ হাজার? বাইরে ঝকঝকে ফাল্গুন হ্ওায়া। চামেলি ফুটেছে কোথাও। সকালের রৌদ্র নিয়ে আলোচনা চলে। কিছু একটা ডানা ঝাপটায়। ভুল নাতো? ডেইজি ফুলের পাতারা সব এদিকে। ভুলে যাই গতকাল পরশু আর এক আশ্চর্য পুরানা আলমারিটা। ডেসডিমোনা…ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায়….কুসুমে কীট। ্ওফেলিয়া…আপার করতল। নিবিড় হয়ে থাকে মন। হ্ওায়া এসে ঢেকে দেয় অশ্রুজলভার।
বিদ্যুৎ চমকিত সময় এসেছে জীবনে। বৃষ্টিকাতর সবাই আমরা। কারা কারা আসছে শুধু। চলে যাচ্ছে। দেখছি বসে। আপার দেহসীমায় তারা দাঁড়িয়ে। বাড়িটা উদোম। দরজায় খিড়কি নেই। যে আসছে আসে, চলে যায়। অনেকে কথা বলে- বলেযে, সবাই আসবে যাবে মৃত্যুর মহিমা তাই। রমনীসকল বনেদি লাবন্য ছড়ায়। ভদ্রলোকেরা হলমার্ক দেয়া সিগারেট খায়। সিঁড়িতে মুখোমুখি..পাথরের মোজাইক অতিকায় লাগে। সোফিসটিকেটেড আমরা বেশি কাঁদি না। মূল্যবান এমার‌্যাল্ড মৃতদেহে….চিরায়ত গন্ধ নিয়ে জেগে থাকে। সোসাইটির অন্যান্যর্ওা আসে। আমাদের পরিচয়পত্র দেখে. .মন্থন করার মতো ঘষটায় কাগজ।
বলে নাম কি তোমার?
ও বালিকা তোমার কি নাম?

সন্ধ্যা তখন বেগুনি হয়। কমলা পোষাক পড়া লোকটা। সাপের মতো ঝুলবারান্দা দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যায়। মুকুলের ভারে আম গাছ কেন নুয়ে পড়েছে মাটিতে? প্্রশ্ন করে চকিত। বলে যায় চোখে তাকিয়ে স্পষ্ট ওমর খৈয়াম…অপকর্ম ছলচাতুরি. .সব বেড়িয়ে পড়বে এবার। সাবধান হে বালিকা। আন্তরিক মিশমিশে কালো তারা। ঝুলবারান্দায় ঘনিয়ে আসে রাত।

রাত্রিবেলা..রুপোর রাত্তিরে তারা চলে গেলে দেখি….নিচে উঠানে ধনেশ পাখির পালক।
মা চুলা জ্বালায়। তাপদগ্ধ কড়াইতে ডিম ভাজির গন্ধ সারাঘরে ছড়ায়। কুঁজোপিঠে আমি মার রেশমি আলখেল্লার তলে বসে ডিম খাই। ফাল্গুনের রাত গোলাপের কাসিদার মতো নির্যাস ছড়ায়। সদ্য গোলাপ। সাকি…স্বপ্নেরই মতো, বড়সর চাঁদ মার পিঠে আলো ছড়ায়। দূরে…মেলা থেকে তাালপাতার এক বাঁশি কিনে এনেছি….সঙ্গীত আমাদের উদ্বুদ্ব করতে পারে না সে রাতে। বাবা হঠাৎ বলে ‘বাড়াবাড়ি ভাল নয়। সবাইকে মরতে হবে। এমনকি পাখিদেরও মরতে হয়।’
কেন বলে পাখির কথা? বাবা যেন সিন্ধুর পারে রূপকথার রাজ্যে প্রেমিক এক। স্মৃতির ভেতর মেয়ের জীবন হয়ে ওঠেছে জলস্তম্ভ।
নিল্স বলেছিল তারপর, রাতে জেগে থাকা মানেতো একটি পাকাপাকি ঋতু বদল দেখা। রাতের পাখি বনপথে নগরের সমৃদ্ধ প্রসাদে পুঞ্জিত মেঘের মধ্যে দিয়ে ফিরে আসে। পাংশুল বিকিরনে আসে…এক্ষনে নি:শ্বেষ তার ওড়া। দিনের পাখির মতো সে নয় কিছুতে। আকাশে একখন্ড ভূমি চিনে রেখে দিবে এমন তারা নয়। তারা বনেদি আকাশ চেনে শুধু। যত্রতত্র তারা জমি কিনে না।
কিন্তু আম্মা যে বলেছে পাখি জানে সব। ছত্রখান হয়ে য্ওায়া ঘরদোর তার।

শুধু মহিষের গোঙানিতে শিল্প..হয়..গিনিপিগ..পাখি সর্বজ্ঞ্যনের ভার বহিবে এমন হয় নাকি তাই। বাজপাখি। তাকে দেখতে পেলে সে নাকি চলেও গিয়েছিল। সে আগাম খবর নিয়ে এসেছিল কুটিল ব্যঙ্গ ভরে। মা বিলাপ করে…
নিবে যাক বাতি….অশ্রু ঝরে তার চোখে।
মূর্ছায় কাঁপে সে। কেন পাখির কৃষ্ণ কেশদাম..দিগন্তের দিকে বয়ে চলাটা চেনা গেলনা। সে রাতে অশোক ফুল দিয়ে ইকেবানার স্মৃতি তার বিলোপিত হয়। কৌটো থেকে সে এবার প্রিয় কোন বাষ্প সংগোপনে নিয়ে আসে।
সমুদ্র বন্দরে ্ওষ্ঠ কস্পিত আমার। ব্রোঞ্জের দুটি নিটোল মুদ্রা কৌটো ভরে রেখে দেয়া ভালবাসা…তার সেই দৃষ্টিপাতে….মাই ডিয়ার লাভ। সমরখন্দ থেকে বাতাস লতাপাতার গন্ধ বয়ে আনে তার জন্যে আমার মন কেমন করে। এই ছাইরঙা আকাশ..প্রেইরি সমতলঘাট সব ভাল আজ। পারস্য গালিচার মতো সাদা নিবির বৃত্তাকার জলাশয় অচেনা শহরতলি, পুরনো সাবওয়ে স্টেশন। তাজা অলিভ ঘাস। উৎকট পানাহার…
সব স্পিলনডিড অপূর্ব।
তবু শৈশব হানা দেয়
আশ্চর্য অশোক ফুলগুলি ছিল। প্রশান্ত নীল সমুদ্রের মতো আকাশ। এই শুদ্ধতা, বাশোলি ছবির প্রেমগাঁথা। সাইপ্রেসের বুনো গন্ধ…আমরা বসেই থাকি শুধু। মনে হয় নাবিকের বাহুর বিস্তারে সঁপে দেই জীবন।
বিদেশি নদী, কাংড়ার মিনিয়েচার। পনির তোলে মেয়েরা। লুপ্ত গ্রাম। পিটার চোখ পিটপিট করে এখানে ডিপ্রেশান আসার কারন কি বলতো? মাইনাস থার্টিত্ওেতো বুকে প্রেমের আগুন আমার?
ভ্যানেসিয়ান লাল ফিতা উড়ছে বাতাসে। এখানে বন্দরে তাই নিয়ম। বাশোলি মেয়ের রেখাময়তা। নিকোল অতি সন্তর্পণে চৈত্রের সোনালু ফোটে কিনা জানতে চায়।

তারপর?
এ ক্ষনে বলতো.. তারপর, বলো, তারপর?
কি জাপানি বাঁশপাতা? হোকুসাই হয়েছিল কিনা?
অথবা…. ষাড়ের গোঙানি?….রঙগুলি কি সব একরঙের? সাদা, ক্যাডলিয়াম, সবুজ, আইভরি এসব? অথবা শুধু সাদা? সাদা গন্ধরাজ। সুড়ঙ্গ খুড়েছিলাম আমরা কিনা? ্ওমর খৈয়ামেেতা তাই। ধীরে প্রবেশ করবেন নশ্বরতায়। স্মৃতির মধ্যে শৈশব নিষ্ঠুর কর্সেটে বনে যায়।
তারপর কি হয়েছিল?
গ্রীষ্মদুপুর গড়ালো কি করে? কোনখানে আপা এখন?
পানির তেষ্টা পেয়েছিল? বুকের ভেতর কি খরা হয়েছিল?
অপ্রতিহত আমি। নিল্স যে পড়ায় ‘শরীরের ভেতরে কোথায় যে জল থাকে সে তো সে নিজেও জানে না।’
রাত্রিবেলা তৃনপ্রান্তর আর লোহার কারখানার পাশে বকুলের চারা থেকে কবে বীজ হলো…
আমরা ভিসতুলা ঘাটে তখন। বন্দরে। কফি শপটা কি রোমান্টিক। যেন কোন মালাবারের মেয়েকে ডাকে পিটার.. সুকুমার পা তার। চারটি হট চকোলেট কফি উইথ গার্লিক টোষ্ট দিতে বলে সে। ছোট টেবিল। আর্টিষ্টিক এন্টিক।
‘আর্ট ন্যুভো’ মার্কা পোর্সেলিন পিরিচে স্ট্রবেরি গ্রিন অলিভ রেখে গেলো অ্যাভয়েটিং দ্যা কিউ ঘাঘড়ার সফেদ পা। এন্টিক জাহাজ দিয়ে আর্কিটেক্চার করা..।
মবিডিক রেষ্টুরেন্টটা। চারপাশে একটা মেছো গন্ধ… এমারেল্ড গ্রিন প্যারোন জুস নিয়ে এবার সাদা পা আমার কাছে এগিয়ে আসে।
তুমি দেখোনি ক্যানারি পাখিরা বৃত্তাকারে অগ্নিতাপ গা-ভরা আলোয় খেলে।
তুমি জানোনা.. মৃত্যু ব্যাতিত কোন প্রেম নেই পৃথিবীতে প্রেয়সী মোর।
তোমাারই মতো সুকুমার ছিল পথ চাওয়াটা সেদিন…
মেয়েটা বিদ্যুৎময় হাসে।
সে কি আমাদের প্রেম টের পায় পিটার? আমি হই পাতোকিনি।

ঘুম আসছিল অঝোর। মা জেগে থাকে শুধু। মাঝরাত্ওে আপার পদধ্বনি শোনে সে। দরজা মেলে রাখে। সেদিনই রাতে
স্বপ্নে দেখলাম একদল ব্যালেরিনাদের সাথে আপাকে। আশ্চর্য দ্যূতিময়। রেশমি লাল আচকান পড়া। পিটার বলে থাক্ না….
রোমে সেবার পার্থেনন দেখেছিলাম জানো। আমাদের সাদা বাড়িতে বসে বিয়ার খেয়েছি, বিরল ঝোঁপের পিছে বসে ক্যানারি আইল্যান্ডে কমলার মতো বিদেশি লিপসে চুমু খেয়েছি কত। কি নিদারুন সে স্থবির ভেনাস এক। অল শ্রমের মজুরি বুঝলে। সেই লাল রঙের ক্যানারি আইল্যান্ড হয়ে আমি আর আমার টিমের ডিজাইন করা বোট আটলান্টিক ওশেনে পার্টিসিপেইট করেছে।
হিম¯্রব নীল যামিনীতে নর্থ আটলান্টিকের আন্ডার ওয়াটার নেভিগেশান জরীপ করেছি ইঞ্চি বাই ইঞ্চি।
তুমি উঠে এসো …মৌন চিরন্তন শয্যাতল ফেলে,
হ্ওা স্পিলনডিড!
জীবনতো এমনই।
জলীয় কনকে বেজে উঠেছে পিটার যেনবা…
আর কিছুদিন আগে আমাকে এক ইরানী মেয়ে আনম্যাড বানিয়েছিল। সো প্রিটি।
ওর নেক ইজ সো ট্রান্সপারেন্ট। লাইক কনগলেস।
পানি খেলে ইউ ক্যান সি ফর ইনসাইড হার স্কিন। আমার এসোসিয়েট এ্যাট ওয়ার্ক।
অপরূপ সরল আজ পিটার।
আমি জানি তুমি কি ভাবো, যা নয় আলোয় জ্বলা…
লিটারেচার ওয়াজ এ গ্রেট মানি ম্যেকার ওয়ান টাইম লষ্ট সেঞ্চুরি। পেইন্টিং ওয়্যার ইভেন ইন দ্যা প্রাইয়র সেঞ্চুরিস ইন মিডল ফ্রান্স। স্ক্রিপচারস…
স্ক্রিপচারস অব রিলিজিন ওয়্যার ইভেন বিফোর দেন। সো তাই
তুমি ম্যাথমেটিকাল কোড চুুজ করেছো। প্লিজ ডোন্ট ইগনোর মি। লিটারেচারের সুধা আমি পাইনি।
আমার অজ্ঞতা মাফ কর। ্ওর কথার হোঁচটে আমার যেন জীর্নতা পায়। নিজের খড়খড়ি দৈবাৎ ভেঙ্গে পড়ে।
আমার শৈশব, আমি চিরন্তন স্যাঁতস্যাঁতে অপ্রতিরোধ্য। ন্যাকড়া সাঁটা আপার সাদা পা…ফর্সা একমুঠ স্তন…তরুন তনু বালিকা…আর কোন স্মৃতি নেই। আমার জীবন এর বেশি কিছু নয়।
মধ্যরাতে পাতলা চ্ছিন্ন মার্কিন কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা লাশটা একটু যেন কেঁপে উঠেছিল। সাদা জামা পড়া। সবুজ ফুল আঁকা, কোমল এক সরু লতার ডিজাইন… কুঁজোয় ঠান্ডা জল দিয়ে তার মুখটা ধুয়েছিলাম আমি। বারান্দার নরম মাদুরে বিছানো দেহ। পান্ডুবরনী। বাঁকা ভ্রু। বেওয়ারিশ। শব্দগুলি বাতাসে ভাসছিল আর সাবলীল চিবুকটা তার। প্রান্তটুকু ঢাকা। আহ্ এই দৃশ্যে…
একটুযে মর্মঘাতী সুখ ছিলনা মনে কারো তা কে বলবে। শুধু ভাস্করিত কোমলতা। নাভিমূল থেকে নিতম্বময় প্রমান মেলে অসীম গহব্বর। রক্তস্রোত নর্দমার গন্ধ। অমৃতের দিব্য প্রতিমা ছিল সে আজ কিনা নিবদ্ধ নয়নে পিশাচ নারী। মায়াবিনী।
দেখেছিলাম অবাক চোখে আমরা যারা। নীল আকাশে সন্ধ্যা যখন স্থির…পাখি নাই। বুলবুলি উড়ে গেছে..ডানা ঝাপটানোর স্মৃতিটা ছাড়া ভাবি আরো যারা ছিল তারা কে কে…
কে বলেছিল এসে…সৌন্দর্য..এই অন্ধকার..সব কি যে ভালোলাগা অকষ্মাৎ উন্মোচিত তার দেহ আর আত্মা। দু:খতো শতভাগ সৃজনশীল।
দুরত্বমুগ্ধ রামসিং তখন আমার দিকে মোহিনী দৃষ্টি দেয়। বলে সে আমি আর সেই বালক নেই। বলে… দেখেছি অনেক। প্রতারিত হয়েছি কত…
শিখেছি মাল্টিপ্যাল ন্যাশনাল মাইন্ড। উইমেন এ্যান্ড থটস, সরো..ইসথেটিক্স..
এখন আমি জানি হোয়েদ্যার টু ড্র, আ ফাইন লাইন। বিটুইন কোর্পোরেট কালচার, পোয়েট্রি কাপিটালিজম, লাভ। সো তুমি জানো আমি কি মিন করেছি।
চামেলির সুবাস। রৗদ্র হাওয়া দাপাদাপি করে। দমকা হাওয়ায় ভেজা হলুদ মাটিতে নুয়ে পড়ছে গাছের কান্ড পাতা। গুরুভার তার। পাখি এসে বাড়ির চাতালে খুট খুট করে কি খেয়ে যাচ্ছে সেই থেকে। প্রতিদিন মরে মানুষ। বাঘিনীর মতো দু:খ সেবার মার। আহা কে যেন বলেছিল মা আমার মহাপ্রান দাসী।
মা নিজের মনে কথা বলে-নিত্যদিন মরে মানুষ। কত লক্ষ মানুষ মরছে..জন্মাচ্ছে সেই সবে কি আমার কি…। সেই লাশ আমরা চিনবো কেমনে। দেশে কি অরাজক। ঘোর অন্ধকার শবযাত্রার আয়োজন। মরনের মতোই কোমল তন্দ্রা মার চোখে। যেখানে কবর খোড়া হয়েছে সেখানে দাঁড়াই সেদিন আমরা। নতুন আর কাঁচা মাটিতে বাঁশের ফর্সা বেড়াটা ধরে হোচট খ্ওায়া জীর্ন ঘোড়া যেন মা। সারাদিন মাটির দিকে চেয়ে রইলো..অনাদৃত দ্রক্ষালতার দিকে.. মেয়ের ঘাঘড়ার গন্ধ বুকে তার। একদিন এখানেই ফুটেছিলতো অশোক..এখানেইতো না…? খিন্ন প্রান তার অলকদামে আকুলি বিকুলি। প্রতিকারকারহীন নিষ্ঠুর নিয়তি সে মেনে নেয় কি করে?
ফাল্গুন হ্ওায়া বেশ অষ্পষ্ট। মৃতদেহ নেই আর। কোলাহল আছে তবু। সন্ধ্যাবেলা যখন আসলেন রাষ্ট্রীয় থানা অফিসার, বললেন এই মৃত্যু আমাদের বড় ভাবিত করেছে। মা শান্ত চেয়ারে বসে তখন। আমি পেছনের দরজাটা দেখি। সেই ফেব্রুয়ারিতে হিম প্লাবন নীল যামিনীতে দেখি মা আমার কুঁকড়ে আছে ঘরের এক কোনে…
কি অবস্থা বলেনতো? গমগম স্বর।
আমার কি পরিচয়? নিচু আ্ওয়াজ, বেশ সম্ভ্রম ঝরে পড়ে।
সেই পূন্য আত্মাকে কি উত্তর দেই আমি?
মৃতের আমি কে? একদা বোন..ছিলাম। এখন এই শবাধারের পাশে দাঁড়িয়ে কে আমি তাঁর? স্মৃতির বিষন্ন পৃথিবী পড়ে থাকে শুধু। আমিতো মিরানা…পাখি দেখি। পিপে গন্ধী আমার নিথর চোখ। আরো কতকি…আমার মায়ের স্কিতসোফ্রেনিয়া। ট্রিটমেন্ট চলছে। কত পরিচয় মোদের ভাই। মাই ডিয়ার সত্য হ্ও… জ্বলজল করে চোখ তাদের। বাইরে রোদ কমলা ভয়াল। ঢল ঢল করছিল মানুষের ভিড়টা।
প্রশ্ন এত। তারা নাছোড়। তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। চৈতন্য আর অবচৈতন্য। মগজহীন শরীরটা অবচৈতন্য। এক মুহূর্তে দেখা রঙ, আলো, দৃশ্যকল্প। জাপানি প্রিন্ট শুধু। ফুজিয়ামা। পুরাটা দেখা যায় না। বিউটি অব ইনকম্প্লিটনেস। অজ্ঞাত রহস্যময় বাসনার কথা বলে তারা। ইনট্যারগেশনে বেরিয়ে এলো এইতো সেই ঘর ছিল তার…। এইতো সেই লঘু গন্ধ। আর আসলে মৃত্যুর প্ররোচনা সে নিজেই দিয়েছিল যখন।
জোতস্না ঝড়ে।
আব্বা ব্লু শার্ট গায়ে দেয়। একটা কালো বুট জুতা পড়ে মন দিয়ে।
কিন্তু মা বলে- কই যান?
এস আই বলে-
‘কালকে রাত ধরে মুর্দা রাখা আছে আঢাকা। কেউ নিতে আসেনি।’
সরু কাঠের বেঞ্চিতে দেহ আটেনা। টানটান পা। দেহ এখনও সতেজ নাকি? চোখের পাপড়িতে জট। জলের। বৃষ্টির ফোঁটা জমে থাকা রঙিন কচু পাতা নকশাটা ভিজে জবজেব। টলটলে জলের স্রোত বুকে। সারাদিন রৌদ্রে এলোচুলে ভোরবেলার শান্ত উপকুলে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়া মুখ। সবুজ সাদা ছাপা ছাপা জামা লাল রক্ত তার আছড়ে পড়ে। তেপান্তরের মাঠ। রক্তের রঙ কালসিটে। আব্বা খোঁজে চিবুকের কাল তিল। লোকালয়ের বাইরে, জলাভূমির ধারে নিশ্চল ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা আব্বাা কাল তিল না পেলে সই দেয় না সেদিন। ঝুপসি অন্ধকারে শুকিয়ে যাওয়া আাঁখুটে চামেলির মতো সে বসে থাকে। বড্ড মায়াময় তার বসে থাকা।
তারপর অন্ধকার অজ্ঞাত, নি:সাড় জল পিপাসাকে চিনতে হলো যখন সেন্ট্রি আসে।
জলমাটি লতা ঝোপে বেড়ে ওঠা মৃত মুখ, শ্য্ওালা জমা..ভেজা বুনো দেহ গন্ধকে চিনতে হয় আচমকা।
শেষরাতে ভেনাস ডি মিলো পুলিশের টর্চের আলোতে,
অঝোর বৃষ্টিতে মেঘগুলি সব শ্যামাপোকা হলে, কাশ ফুলকে চিনতেই হয়। স্থির নি:শ্বাসে বুট পড়া অফিসারের কাগজে রৌদ্র অক্ষরে সই করে আব্বা।
‘ষ্টিল লাইফ আপা’ নির্ভুল কাল তিল চিবুকে অনির্দেশ্য অচেনার সম্ভাবনাকে দিকচিণ্হ হীন উপড়ে ফেলে। ঝাড়ো বাতাসের বেগ মেঘের তলদেশকে স্পর্শ করে। বিনা ক্লেশে আব্বা সেদিন ময়না রিপোর্ট পায়। চতুর্দিকে মানুষ রঙিন ঘুড়ির মতো। অদ্ভুত সাদা কাগজ। ভৌতিক বাক্যবিন্যাস। কোন শব্দ বোঝা যায় না। মৃত্যুর মুহুর্ত লিপিবদ্ধ। মূক..ঝাপসা অতলে ডুবে যাই আমরা কাগজের লিখনে। ‘যাবতীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থা লক্ষ্য করুন। কোন স্থানে জখমের আলামত তা স্পষ্ট করে লিখুন। জখমের চিহ্ন না পাইলে স্বাস্থ্যবান লিখুন….’
এবার বাহ্যিক লক্ষণের ঘর। বলবান, শীর্ণ, গলিত।’
তারপর আরো একটি খোপ। বিপন্ন জলবন্দি ঘর। ‘গাঢ় কালসিটে জখম গলার উপরিতলের বামদিকের মধ্যরেখা হইতে দেড় ইঞ্চি বাহিরে।’
যেন কেউটে সাপ গোপনে কেটেছে, চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত। মৃত্যু এত জীবন্ত।
লেখা এত অব্যক্ত ! নি:ঝুম দুপুরে মেঘের আশায় বসে থাকি। যদি কেউ বলে বাক্যের গঠন ভুল। ধূলা মাখা অন্ধ গরিব দেশে কত রকমের ভুলইতো হতে পারে। উইলিয়াম ব্লেক রোগ নির্নয় করতে পারেনি কোনদিন। আপাতো মোষের গোঙানির মতো ..মৃত্যু যন্ত্রনা..শিল্পীর ইনফ্যাচুয়েশন হতে চেয়েছিল।
জিহবা তরল, জলরাশি ক্ষার. . খোলা কঙ্কন।
শরীরের ভেতরে অবগাহন কামনা। বুকের গভীরে পাখি পুষেছিল আপা। সাদা কালো অক্ষরের কয়েকটি পৃষ্ঠা বাতাসে উড়ে যায়।
আদিম প্রদোষকাল। আমরা কি জানি যে সুসংবাদ আসবে… কিন্তু আসে। সন্ধ্যেবেলা আসে। আপার কফিনে বৃষ্টি পড়ে। আমাদের থাকে শুধু অন্ধকার। থানায় পেশকৃত ফৌজদারি বিধান কোষের একশত চুয়ান্ন নাম্বার ধারায় ধর্তব্য অপরাধ সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে মৃত্যুর সময় লেখা রয়েছে….দগদগে রৌদ্রদগ্ধ প্রত্যুষ।
হয়ত জগতে এরকম কাগজ আর একট্ওি নেই। চলে য্ওায়ার ক্ষণটির বিশদ বর্ননা আমরা দেখিনি এমন আগে। সেই ক্ষন মহাকালের অদৃশ্য ক্রিনোলিনের মতো…
বৃষ্টি আসার আগেই ঢালু মেঘের ছাদ বেয়ে জল আসে আপার উপরে। শুনেছি কেবল এর ভেতরে….গলার মধ্যরেখা বরাবর গাঢ় জখম’ কথাটা ফসকে চামেলির তলে আটকে থাকে। চিরকালের চাঁদ। চিরকালের আপার উপর চিরকালের বকের ঝাঁক। একটা সাদা মুক্তা, বন্ধ চোখে আপা। তুষারমোড়া পাহাড়চুড়া। আঙ্গুলগুলো গ্রন্থি ছেঁড়া শুকিয় য্ওায়া তোড়া।
ভেজা ভেজা বসন্ত সকাল।
মনে পড়ে জীবন আশ্চর্য ছিল।

‘উলম্ব রেখায় আকাশের দিকে উঠে গেছে সাইপ্রেসের সারি, প্রায় স্তব্ধ, সূর্যের শেষ রশ্মিতে শুধু তাদের শীর্ষগুলি কম্পিত হচ্ছে।..
সেই ঘনতার মধ্য দিয়ে, শিলা থেকে স্বচ্ছ শীতল জলধারার মতো নির্গত হচ্ছে এক আঁধার রহস্য। এক পবিত্র শান্তি, যেন মনুষ্যত্বের পরম মধুরতার মতো।’
ভেরনিতে পপলার যেমন…ওমর খৈয়ামের ষ্টেজ…

ওয়াইল্ড ওয়েস্ট..মেহগনি কাঠের দরজা…। কেবল পুরনো আমলের ট্রেন, কাঠের পুরনো জংধরা বাড়িঘর আমাদের। রোদে পুড়ে, ধুলো ওড়ে শীতের সকালে গির্জার ঘণ্টাকেও ট্রেনের হুইসেলের মতো লাগে।
চামেলি ফুটে গলির মোড়ে তব্ওু, সবুজ মাঠ অবধি গন্ধ ছড়ায়। কি রহস্যময়তা. .বাসষ্টপ. .বসন্ত বিকেলে ধুলো আর দুরত্ব. . পুলিশ আসে বার বার। বুলবুলিটা হুটোপুটি করে। আমাদের বাড়িটা ওলোটপালোট হয়। এক অদৃশ্য ছুঁচে-বেধা প্রজাপতি ডানা ঝাপটায়। বিষাদের প্ররোচনা চারপাশে। আমি মুক্তি খুঁজি। যদ্ওি কাগজটা লুকিয়ে রাখি। প্রতারনার জাল বুনি। সঙ্গোপনে এড়িয়ে চলি তার স্মৃতির গন্ধ। বুনো হাঁস। কবন্ধ স্যাঁতস্যঁতে শৈশব। ভুলে যেতে চাই সব আর যা যা…আমার নিয়তি ছিল।
ব্যক্তিগত হৃদয়গাথাঁ সে আমার তবু। অদ্ভুত এক সাদার আধিক্য ছিল মৃত দেহে তবু বার বার মনে আসে। নির্জন সরু কাঠালি চাঁপাকে চ্যাপ্টা করে দেয়া লাবন্য মাড়িয়ে কালো বড় গাড়ি নিয়ে যারা আসে, তারা কারা আমরা দেখিনি। ল্যাম্পপোষ্টে দু একজন দাঁড়িয়ে থাকে অচেনা।
নিউজটা কোন পাতায় যূতসই হবে? সম্পাদকীয় পাতার নীচে স্পেসটা এট্রাকটিভ। রেপ কেসে অপঘাতে ছবি লাগে। অপর্না মার্কা ছবিটা নেয় ্ওরা। আপা দারুন মোহনীয় সেদিন ছবিটা তাই মতো দূর থেকে তোলা। মৃত্যুর সময় গায়ের জামা কাপড়ের রঙ কি ছিল? ভেজা ছিল কেন.. কতখানি বিধ্বস্ত তার বুক, গলা নিতম্ব অথবা…
জানতে চায়, কি চাই আমরা এখন?
আশ্চর্য। আমরা ত্রিশাখাযুক্ত ফাঁসিকাঠে..
এই মৃত্যু ভুলতে চাই।
অনেক কিছু এমন আশ্চর্য ঘটছে জীবনভর।
তীব্র ঝাঁঝঅলা গন্ধ নাকি লোনা জলের বুদ্বুদ- কি চাই আমরা? লিথি নামের নদীর জল এনে দেবেন? শুনেছি সেই জল পানে মৃত্যু বিস্মৃত হ্ওয়া যায়।
আমরা কেউ সেদিন নতুন জগতে এমনই বুঁদ। নীল সাগরের তরঙ্গ ঝড়ে পড়ে আপার কবরে। শুয়ো পোকা অথবা রঙিন চিনামাটির রাজহাঁস আমরা। ভুলে যেতে চাই জীবন।
চৌমাথার ভিড়ে হারিয়ে যায় মানুষগুলি সব আর বলে, কি কি চাই আমরা। একটা লিষ্ট দেবেন। কাল আসবো।
কি চাই? ধন্ধে পড়ে বাবা। কি অমোঘ চাই?
নিকোল বলে …
পিটার হলে ঠিক বলতো- মঙ্গোলয়েড আলেখ্য। নাকি..ইষাবেলা রুদ্ররস?
তাইতো? এমন বলতে তুমি? তোমার এত মোহনীয়তা…
কিন্তু তখনতো আমরা কনফিউস্ড। আর চেনাই যায় না এমন বাস্তবতা। সময় কম ছিল। বৃষ্টি আসার আগেই মরে গেলযে আপা।
রাতের আকাশ ভেঙ্গে জ্যোৎস্না পড়েছে। অন্ধকার কোণে দাঁড়িয়ে এইটুকুতেই শুধু যার জগতের আবছায়াত্বর ছাড় হয়েছে। বৃষ্টি পাহারা দেই। মেঘে মেঘে বজ্র বিদ্যুত বহুদূরে চলে গেছে।
দূরত্বের দিক দিয়ে তাম্রলিপি…দূরত্বের দিক হিসেব করলে মেঘ এখন পনের ক্রোশ পাড়ি দিয়েছে মোটে। এই দূরত্ব ঘুচিবে না। বৃষ্টির সঙ্গে যার আর এ জীবনে দেখা হবে না।
একদিন তুমুল বৃষ্টিতে ভিজেছিল যদিও সে। ঝিঁ ঝিঁ ডাকে। মেঘ ফুঁড়ে অন্ধকার নামে। মরলে এত দূরের হয় মানুষ? আপা মাটি কাদা বৃষ্টিজলে অসম্ভব চিত্রিত হতে থাকে তারপর। আর আমরা তাকে ক্রমে ভুলে যেতে যেতে…
পরে হিসেব করে দেখেছি….দূরত্বের দিক দিয়ে পলাশ ফোটা পর্যন্তই এতসব ছলকানো।

আর এখন যখন ফাল্গুন আকাশে চাঁদ থাকে আশ্চর্য। খ- সাদা মেঘ ভাসে। মেঘের ভেতরে কোন গ্রীস্মে এত লু হাওয়া বয়… বৃষ্টিতে জলকাদা মাখামাখি হলে, মৃতের কবরে জল জমে ঘুটঘুটে কালো কাঁদায়…ঘুটে কাঁদায় বড়বেশি প্যাঁকপ্যাঁকে…নি:সাড়..সেই মেঘে বৃষ্টি তার দূরত্ব ভেঙেছিল পলাশ ফোটা পর্যন্তই আসলে।
বৃষ্টি বেশি হলে জলে যেমন স্রোত হয়, স্রোতটা রূপোলি নদীর মতো…বুকে বিঁধে। আমরা ভিজে যাই অদৃশ্য জলের তলে।
এমন বিষাদ ছড়ালে….পিটার যেন কিপচাক রাজকুমারীর গর্ভজাত শাহজাদা। শ্যামলকান্তি যুবা পুরুষ। কিংখাবের আংরাখা পরনে মরাল গ্রীবা…
বহুমূল্য পাথর খচিত কোমরবন্ধনী। রুপোলী গলা বেষ্টনী সাঁটা।
এক চকিত মুহূর্তে আমি তোমার যে মুখশ্রী দেখেছিলাম তা তুমি আর কি ফিরে পাবে?

হয়তো এই জগতে সেই একমাত্র…অনভিপ্রেত অশ্রু তার আমাকে রুখে দাঁড়ায়।

শুনেছি শেষটা এমন হয়. . .

নিকোল পিটার আর আমি সেই গোটা বসন্ত কাল জুড়ে বালিপথে, মন চকিত অলস দ্বীপে অনুপম উদ্ভিদের মতো বসে থেকেছি। সাইপ্রেসের সারি বেয়ে সূর্যের শেষ রশ্মির জন্যে অপেক্ষারতা প্রোটেষ্টান্ট কবরখানায় চেরিগোটে সেবার নের্ভালের গল্প নিয়ে সিথেরার পথে কতযে সুখময় যাত্রা ছিল সেসব। গীর্জার প্রার্থনা সঙ্গীত.. গুমরে মরা..মন নিয়ে ডরিয়ার গ্রে নীল ফুলটা তুলেছি। মনোরম নভোতলে সিথেরার মতো বহুদুর হেঁটে হেঁটে সেবার অনেক কিছুই আশ্চর্য ঘটছিল। কুঞ্জ ভোরের গানে আমার ছোট আকাশ লাল যেমন করে….দিগন্ত অবধি শান্ত মায়াময় অচেনা সমুদ্রবন্দরে, কনকনে ঠান্ডায় পপলারের ছায়ায় সূর্যের উত্তাপের প্রতীক্ষায়…। অরন্যের ঘনতা ভিসতুলার পাশে যেমন মৃয়মানতা নিয়ে আমরা কোনদিন আর
ভাবিনি যে প্রলয় অমোঘ স্নিগ্ধটা হারাবে কখন্ও।
আর দেখিনি কোথ্ওা। সে দূর দেশে গেছে। দেখা হবে না জেনেছি। অথচ আমরা ওফেলিয়াকে ভালবাসি এখন্ও। আমরা জল দেখি।
মলিয়েরের ডন জুয়ান দেখতে গিয়ে আমরা কুঞ্জ ভোরে গীত গাই। নিকোল হয় এলভিরা…. কিন্তু দেখাতো হয়ই আবার। পাতাল রেলে, ইট খসা কার্নিসে হেলান দিয়ে যখন হ্যান্ড গ্লাভস খুঁজি লেট উইন্টারে..আন্দ্রোমাকি অবাক করে শব্দহীন পাশে দাঁড়ায়। দেখি দূরে পাখি নিয়ে খেলছে পিটার। উন্মাদের মতো ভঙ্গি করে। কাতর অদ্ভ’ত সমর্পিত তার পাখি প্রেম। আমি তার চক্ষু থেকে, কৃশতনু থেকে কাফ্রি রমনীর মতো অপহৃত হতে থাকি।
এলিভেনে, গথিক গির্জায় রশ্মি জ্বলে, রাত্রি ফের। একই কবরখানায় আবার দেখা হয় বাবেল সুবিস্তীর্ন ডন জুয়ানের নৌকাডুবিতে যেমন…শিলাময় আগ্নেয় পুরুষ সে। শুকুন্তলার থিয়েটারে আরো একবার উদাসীন সে। থার্টি ফাষ্টে সলসেনে দেখা হয়, স্কুগশিরকোগোর্টেনের কবরখানায় তারপর সাবলীল কোমল তাকে দেখি। আকষ্মিক দেখা হয়ে যায় তারপর অপেরায়, ম্যাকব্যাথ দেখতে গিয়ে। ছোট আকাশটা তার যেমন লাল হয়ে ্ওঠে।
আর কি হবে না দেখা ভাবি সেদিন প্রথম।

আর বৃষ্টি বেশি হলে জলের বাড়তি স্রোতটা ছলকে পড়ে বুকে, দেখা হলে অন্তহীন সেই রাত্রে। হতচকিত রেখাবের নিজস্ব বেদনা…

নয় হাজার পাঁচশো পঞ্চাশ বছর আগের স্পারফি হানি সাক্যল বৃক্ষশাখায় সূর্য ডুবে যাচ্ছিলো টকটকে লাল সেদিন। নিরক্ষীয় অরণ্যের শূন্যতা বুকে।
অদ্ভুত তুমি…কনকে পাথরে আমি তোমার যে মুখশ্রী দেখেছিলাম তা তুমি বার বার কি ফিরে পাবে?
মনে পড়ে..
তারপর একদিন আবার অনেকদিন পর আমি যখন স্কটিশ চার্চে অবিকল পিটারকেই অন্য এক নদীর তীরে…. অটামের জুনিপার লাল…ফুল ..সব ঝরছিল যখন দেখলাম। হেমন্ত কিনা..আমি বললাম ‘—চিয়ারিমোন্তে. . .পেতোফি…’
যথেষ্ট সময় ছিলনা শুধু…
অন্য কোথ্ওা অনেকদিন আগে কি সব ঘটেছিল…
যদিও স্মরনে রয় তার স্বর্বস্ব মোর। তবু অনেকদূরে কোথাও স্পিনডেল্, ইওরোপিয়ান রোয়ান, হলি ইভ্ ফুটেছিল.. মার্টেলের তাজা গন্ধ আসছিল পাহাড় থেকে। তখন্ও সময়ের দিক দিয়ে তাহার ভাবনা কতদূর যায়; ভাবছিলাম যদিও হয়ত একবর্ছওতো কাটেনি। ঘোর অন্ধকারে চৌপর্ন ত্রিফলা দেখছিলাম।
উড়ে চলা কোন পাখির চিৎকারে তখন্ও আমার স্তব্দতা ব্যাহত হচ্ছিলো।

পূনর্লিখন, অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১২ ঢাকা।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (৩) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Abdur Rouf — december ৩১, ২০১২ @ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

      এটা কি গল্প না কবিতা নাকি অন্যকিছু, সেটাই বুঝে উঠতে পারলাম না। গল্পের নিজস্ব একটা ভাষা থাকে, নির্দিষ্ট বক্তব্য থাকে, একটা গতি থাকে, আর থাকে একটা শুরু ও শেষ। একই কথা কবিতার ক্ষেত্রেও। যে ভাষা, গতি ও আবেদনে লেখা হয়েছে, তাতে করে এটিকে কবিতা বলে ভুল করাই ভাল। তবে শেষ পর্যন্ত কবিতা বলা যাবে না। কেননা এটিরও নির্দিষ্ট কোন বক্তব্য নেই। একবারে তালগোল পাকানো। লেখক কি বলতে চেয়েছেন তার এ লেখার মাধ্যমে, তার মগজে ঢোকেনি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন golam rabbani — december ৩১, ২০১২ @ ২:৪৪ অপরাহ্ন

      তিনদিন ধরে তিনবার পড়ে মুটামুটি ছুঁতে পারলাম কি না তা-ও সন্দিহান। মনোবেদী ছুঁই ছুঁই করেও কথারা দেয়াল তুলে দিলো।। অবাক হবো কি না ভাবছি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মিজনুর রাহমান শিপন — জানুয়ারি ৩, ২০১৩ @ ৪:৩৫ অপরাহ্ন

      গল্প নয়, কবিতাও নয়, … স্রেফ ‘প্রলাপ’!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 

মাউস ক্লিকে বাংলা লেখার জন্য ত্রিভুজ প্যাড-এর 'ভার্চুয়াল কীবোর্ড' ব্যবহার করুন


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com