পাঁচটি কবিতা
কবিতা ১
অক্ষরগুলিকে মাঝেমাঝেই দাঁড় করিয়ে রাখতে ইচ্ছা করে
এই কাজটি মনে হয় পারি
বেশ লাগে
লাইনের পর লাইন
মাথায় বিশাল শান্তির এক অখণ্ড শ্বেতপতাকা
চলেছে কোনো একদিকে
স্নিগ্ধ
কালো সৈনিকেরা
কবিতা ২
পৃথিবী ওই যে অনেক দূর চলে গেছে উত্তরে
ট্রেনের পর ট্রেন, আরও অনেক ট্রেন
বাস, অটো প্রহরে প্রহরে
একটি দৃশ্যমাত্র চোখের আড়ালে গেছে,অপেক্ষায়
পরের দৃশ্যগুলি
পশ্চিম দিগন্ত ছুঁয়ে ধু-ধু প্রান্তর
তা ব্যেপে রৌশনআরার ঝিঁঝিঁট কান্নাভরা
হয়তো শেষ কোষাটি নিয়ে বেরোবে তুমি নদীর দিকে
ফেরার কথা মনে থাকবে না আর
সূর্য ওপরে উঠতে-উঠতে হঠাৎ অন্যমনস্ক
নামতে শুরু করবে
কবিতা ৩
তোমরা যে বলছ ওই যে সমুদ্র এসে গেছে ও যে সমুদ্র তা আমিও বলছি
মনে জেনে আরও একটি লক্ষ-লক্ষবারের সত্যি কথা
আমি সত্যি অর্ণব জানি না
কবিতা ৪
এগুলো তো আর কবিতা নয়, হিজিবিজি নয়
কষ্ট
বার্বিচুরেটস-টার্বিচুরেটস রেখেছিলাম মজুদ করে
যাতে নিঃশব্দে যেতে পারি
ডাক্তার যখন নিশ্চিন্তমনে রায় দিয়েছিলেন,
প্যানক্রিয়াটাইটিস
ওষুধে ওষুধে ফুরিয়ে আসছিল দম
লীলা বলেছিল,
‘তোমাকে ফোন করতে কেন নিষেধ করো?’
বলেছিলাম,’তোমাকে নয়, বলো, তোমাকেও’
আমার অফিস বলে কিছু ছিল না
বাসা বলে কিছু না
মিলিয়ে যাচ্ছিল মাঠ
ক্রিকেটের
কবিতা এগুলো কীভাবে হবে
বিষ
কবিতা ৫
রাত জেগে ভিসাফর্ম পূরণ করেছি
আরও রাত্রি জুড়ে পরীক্ষণ, পুনর্পরীক্ষণ
লক্ষ বছরের অপেক্ষার পরের সকালে
নিশ্চিন্ত ভিসা অফিসে গিয়েছি
তরুণীটি দেখালেন পাসপোর্ট নম্বরেই ভুল
এ নিয়ে চব্বিশ লক্ষ রাত
প্রিন্টারে ভিসাফর্ম নেমেছে ও নিয়ে চলে গেছি, আর ভুল
তোমাদের দেশে আর না গেলে কী হয়
‘আমাদের’ দেশ থেকে ‘তোমাদের’ দেশে!


অন্যরকম, মজা আছে!