কবিতায় সমাজ চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা ও নির্মিতি

মতিন বৈরাগী | ৪ december ২০১২ ৮:৫৯ অপরাহ্ন

ভাষার মাধ্যমে মানুষ তার ভাব প্রকাশ করে। ভাষা ভাব প্রকাশের সংকেত। স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই একজন মানুষ তার ভাবের কথা যা কিছু ভাষায় প্রকাশ করেন তা হুবহু ভাবের প্রকাশ নয়। পন্ডিতজনরা অন্তত তাই ভাবছেন । তাদের মতে এর ফলে আমরা ভাব প্রকাশের খণ্ডিত রূপটি পাই। “ভাষা মানুষকে মানুষ হতে আলাদা করে ফেলে যেমন আমি, যে মানুষ আমি উচ্চারণ করে সে আমি দ্বারা তার নিজকে প্রকাশ করে.. আর যাহাকে বলে তুমি বা সে,..তুমি বা সে যখন বলে তারাও আমি বলে..আমি শব্দের কোনো অর্থ নেই..কারণ আমি শব্দ ভাষার ক্ষেত্র হইতে শস্য আকারে ফলিয়াছে, এখানে লালনের দুটি পঙক্তি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আমি কি তাই জানলে সাধন সিদ্ধ হয়/আমি শব্দের অর্থভার সে-তো আমি নয়” তবুও এই অসম্পূর্ণতা নিয়েই কেমন করে একটি কবিতা কবিতা হয়ে উঠতে পারে এবং একটি ভালো কবিতার সংজ্ঞা কী হওয়া উচিৎ তা’ নির্ণয় করার চেষ্টা। বলা যায় নির্মিত পঙক্তিমালা যা রূপ, রস, সৌন্দর্যে উত্তীর্ণ হয়ে পাঠকের মনে প্রশান্তি হবার ক্ষমতা দেখায় তাই কবিতা । এরকম একটি কবিতা রচনা সারা জীবনের কাজও হতে পারে, আবার অনেকের হাতে বেশ কিছু রচিত হয়ে থাকতে পারে, দিতে পারে কবি হিসেবে কবিতায় বেঁচে থাকার সুযোগ। কবিতা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, সম-আলোচনা আছে এর বিষয়-ব্যঞ্জনা-শিল্প-প্রকরণ, কতো কী নিয়ে। নান্দনিকতা কী শুধুই বিনোদন? যারা সাহিত্যের নামে সস্তা জিনিসের বিকিকিনী করেন তারা মূলতই, দেশ ও সমাজের জন্যে কিছু কি রেখে যান ? হৈচৈ আর সৃজনশীল সাহিত্য, যা দেশ জাতি মানুষের মানস গঠনের জন্য নিবেদিত হবে বলে আশা করা হয়, তার অভাব থেকে যায়। কবিরাও তেমন মানসিকতা ধারণ করেন না তা’ নয়, তবে কবিতা পণ্য হয়ে চাহিদা তৈরী করে কবির বা প্রকাশকের লাভ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি । সঙ্গত কারণে আমাদের কাব্যাঙ্গনে অস্থিরতা কম। একটি ভালো কবিতা বহু সময় ধরে পাঠকের মননশীল মানসিকতা তৈরীতে অবদান রাখে । এটাই শিল্পের প্রভাব বা শক্তি ।

এখন প্রশ্ন হলো কবিতা কি শিল্প ? যদি কবিতা শিল্প হয় তা’ হলে কোন মাত্রায় তা’ শিল্পরূপ লাভ করে এবং মানুষের মনে কিভাবে প্রভাব ফেলে ? এর উত্তর শক্ত, কারণ মানুষের মনোজগতের সংগে এর সম্পর্ক । তেমনি সমাজ অগ্রগতির সংগেও এর সম্পৃক্ততা । ’সাহিত্য সৃষ্টি একজন মানুষের কল্পনা বা খেয়াল নয় বা উত্তজিত মস্তিষ্কের খুশির প্রকাশ নয়, সমকালে প্রচলিত পদ্ধতি ও স্রষ্টার বিশেষ মানসিকতার প্রতিলিপি সাহিত্য’ তেইন এমন মত ব্যক্ত করেছেন । মানুষে মানুষে রয়েছে চিন্তার ভিন্নতা এর কারণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক । বিভাজিত সমাজে শিক্ষা, সংস্কৃতি চর্চা, অভ্যাস ইত্যাদিতে পার্থক্য বিদ্যমান । লুনাচারস্কি বলেছেন লেখক ‘নিজে যে শ্রেণির অন্তর্গত সেই শ্রেণির মনস্তত্ত্ব কোনো না কোনভাবে সহিত্যে সর্বদাই প্রতিফলিত হয়’ । ক্রোচের মতে সুন্দর তাকেই বলবো যা দৃষ্টি নন্দন এবং শ্রুতিনন্দন’ যদিও এর বিপক্ষ মত রয়েছে যে দৃষ্টি নন্দন বা শ্রুতি নন্দন কথাটা আপেক্ষিক, কারণ অসম সমাজে মানুষের চিত্তের প্রবৃত্তিগত পার্থক্য রয়েছে। যা সুন্দর তা উপভোগ করার ক্ষমতা সকলের সমান ভাবে অর্জন করতে পারে না প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার অভাবে। তার পরেও সুন্দর প্রায় প্রতিটি মানুষকেই কম বেশী প্রভাবিত করে। যাকে আমরা বলতে পারি প্রশান্তি। রবীন্দ্রনাথ যাকে বলেছেন ‘ ‘সত্যই সুন্দর, সুন্দরই সত্যই ’ তাই নান্দনিকতার প্রভাব মানুষের মনে সর্বোপরি সমাজে । মানুষ সব সময় সত্যের সন্ধান করে এবং সত্যের মধ্যে তার প্রশান্তি খোঁজে । কেউ কেউ মনে করেন ‘শিল্প কারুকে খুশি করতে বলেনি, ভাবতে বলেনি হতেও বলেনি, আপনি ইচ্ছে করলে তার প্রসংশাও করতে পারেন, তার ছায়া তলে বসতেও পারেন.. শিল্পী ও শিল্প সম্পূর্ণ দায়মুক্ত’ যা এলিয়ট এজরা পাউন্ড সমর্থন করেছেন তারা সমাজের দাবীর প্রতি গুরুত্ব দিতে চাননি । তবুও এসব বক্তব্যকে একটানে নাকচ করে দেয়াও এক পেশে যুক্তি । আধুনিক সমাজ বিকাশের ধারায় তাঁদের সৃষ্টির রূপঘনো কৃতকৌশল শিল্প নির্মাণ এর ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে । মানব সমাজে অর্জিত জ্ঞানের মালিক কিংবা ভাগিদার একক কোন সত্ত্বা নয়. সকলেই । সে ক্ষেত্রে কবিকে সচেতন হয়েই লিখতে হয়। যে সমাজে তার বসবাস, তার চারপাশে যতো মানুষ এবং তাঁদের জীবন-জীবিকা উপলব্ধি করতে হয়। এজন্য এই কথাটি বলবার অবকাশ থাকা উচিত নয় যে শ্রমিক-কৃষক- মেহনতি মানুষের বিষয়কে লিখতে হলে শ্রমিক-কৃষকের পেশায় যুক্ত হয়েই লিখতে হবে । কারণ যে ব্যক্তি সারা জীবন এক ফোটা মদ খায়নি সেও খুব যথার্থ ভাবে একজন মদ্যপ, বা যিনি জীবনে কখনো (নিষিদ্ধ) পল্লিতে যাননি তিনিও নিষিদ্ধ পল্লির জীবন-রীতি, ইত্যাদি চিত্রায়নে সফলতা দেখাতে পারেন। প্রয়োজন শুধু বুদ্ধিদীপ্ত কল্পনা । জ্ঞান এখানে একটি বড় বিষয় যা মানুষ অর্জন করে দু’ভাবে ‘তাৎক্ষণিক জ্ঞান ও তর্কশাস্ত্র সম্মত জ্ঞান। তাৎক্ষণিক জ্ঞান আসে কল্পনার মাধ্যমে, তর্কশাস্ত্র সম্মত জ্ঞান বুদ্ধির পথে’ । তাই সচেতন ভাবে উপলব্ধি করতে হবে কেমন করে লিখতে হবে ।

কবিতায় সে সব বিষয়কে কি করে আনা যায়। যেমন একটি বিশাল বটবৃক্ষ, কথা-সাহিত্যিক যখন তাকে প্রকাশ করেন সে বৃক্ষের মূল-কান্ড,ডাল-পালা পত্র-পল্লব, সৌন্দর্য ব্যাখ্যায় আরো অনেক কিছুকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতীক করে অথবা লোকজ বিশ্বাস কে উপজিব্য করে মানবজীবনে বৃক্ষকে মহিমান্বিত করতে পারেন। কিন্তু একজন কবি শুধু ম্ত্রা তার ইমেজটুকু নিয়েই বিষয়স্তু করেন ।একটি মাত্র পঙক্তি বা যুৎসই শব্দ দিয়ে কবি পারেন পাঠক মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করতে আর তা’ হতে হলে একজন কবিকে তার উপলব্ধির মাত্রা বাড়িয়ে দেখে নিতে হয় চার পাশ। নির্বাচন করতে হয় বিষয়, যে বিষয়ের সংগে সম্পৃক্ততা থাকবে রূপের। যাকে কেন্দ্র করে কবিতাটি রূপে,রসে, সুন্দরে উপভোগ্য হয়ে মানুষের স্বার্থকে সুরক্ষা দেয় । তার পরেও বহু কবির অস্তিত্ত্বই অনুল্লেখ্য থেকে যায়। এর কারণ অবশ্য এই নয় যে কবিতা খুব একটা কেউ পড়েনি । মুল বিষয়টি হলো সমাজের চাহিদার বিপরীতে সৃষ্ট শিল্প তার মূল্য হারিয়েছে । আবার সময়ের গতি পরিবর্তনের সংগে তাকে হতে হয় ‘সম-সাময়িক এবং দূরবর্তী’ । শ্রেষ্ঠ ’রূপদক্ষ’ সমকালীন হয়েও একই সঙ্গে কালাতীত। আজকের যুগ আর মহাকাব্য লিখবার নয় ।

তা’হলে আমরা মেনে নিতে পারি যে শিল্পের সামাজিক চাহিদা আছে । চাহিদা আছে বলে তার উপযোগিতাও আছে, মূল্যমান নির্ণয়ের মাপকাঠিটা হলো সামাজিক মানুষ–তার প্রয়োজন। সংগত কারণেই সৌন্দর্য সৃষ্টির নিয়মানুসারী বলে শিল্প-সাহিত্য-কবিতায় যুগ ও সমাজ পরিবর্তনের ছাপ তাৎক্ষণিক নয়।

সাহিত্যের নিজস্ব জগৎ রয়েছে আর সেখানে একটা নিয়ম আছে তবে তার অর্থ এই নয় যে এই জগতের স্রষ্টারা সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্বহীন এবং অবাধ ও যথেচ্ছচারী হবেন । সে কারণে কবিকে তার কবিতা নিয়ে ভাবতে হবে, ভাবতে হবে বিষয় নির্বাচন নিয়ে, রূপ নিয়ে। বিষয় ঠিক হয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে রূপটা মোটামুটি দাঁড়িয়ে যায়, তার পর টেক্সট ও সাব-টেক্সটগুলোকে সাজিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কল্পনায় তাকে রূপ-কাঠামোয় অঙ্গিভূত করতে হয় । পরে আসে সম্পদনা, মোহমুক্ত হয়ে সে কাজটি কবিকেই করতে হয় বিমাতার মতো, কারণ টেক্সটগুলোতে এমন কিছু শব্দ আছে যা এমন কিছু চিত্রকল্প তৈরী করেছে, যার প্রতি কবির বিশেষ মোহ রয়েছে। এবং তাকে বাদ দিয়ে কবি এগুতে পারছেন না। অথচ ওই প্রকাশ কিংবা উপমা, উৎপ্রেক্ষা জনহিতে সামাঞ্জস্য পূর্ণ নয়। সে ক্ষেত্রে কবি কে বিমাতা হয়েই অধিকতর সচেতনতা দ্বারা কবিতাটিকে রক্ষা করতে হয় ।

’মানুষের সামাজিক অবস্থান তার চেতনাকে নির্ধারণ করে’, স্বাভাবিক ভাবে শিল্পী কবি-সাহিত্যিকরা যা কিছু নির্মাণ করেন তাতে সামাজিক অবস্থানের চিত্রই স্পষ্ট হয়ে ওঠে । নিসর্গ, উৎপাদন ব্যাবস্থা ও মানুষ এই তিনের সম্পর্ক যুগে যুগে বদলেছে আর এর প্রভাব শিল্প সাহিত্যে যে পড়েছে তা’ আমরা বিভিন্ন সময়ের সাহিত্য ও অন্যান্য শিল্প মাধ্যম থেকে বুঝতে পারি । আনেক তাত্ত্বিক, কবি-সাহিত্যিক যদিও এ কথাটি বিভিন্ন সময় বলে আসছেন যে ’শিল্প শিল্পের জন্য’, আনন্দ আর অনুভবের জন্য তাঁরা কোন ভাবেই শিল্পী বা কবির সামাজিক দায়ের বিষয়টিকে সক্রিয় ভাবে বিবেচনা করেননি । লু সুন-এর কথায় ’কবিতায় রাজনীতিই প্রথম’ আর একজন সচেতন কবির কবিতায় সেই রাজনীতি হয়ে ওঠে বিপুল মানুষের চিন্তা আর কল্পনা বিকাশে সাহায়ক শক্তি । যারা তা স্বীকার না করে কেবলমাত্র নান্দনিক বিষয়ে ধূয়ো তোলেন তারা অবশেষে প্রতারণার শিকার হন । মজার বিষয় হচ্ছে এঁরা বুঝতেও চান না যে সমাজে বিরাজমান পরিস্থিতি তার চেতনায় যে প্রতিবিম্বের সৃষ্টি করছে তিনি তার রূপায়নই করছেন মাত্র । সে কারণে কবিতা কর্ম একটি যৌথ কর্মও বটে, এবং কডওয়েলের বক্তব্য অনুসারে ’কবিতা হচ্ছে জমাট বদ্ধ সামাজিক ইতিহাস’ তার পরেও কবিরা তা’ স্বীকার করে নিতে চান না । কারণ সামজে তার অবস্থানটাই তার চেতনাকে আবদ্ধ করে রাখে যদিও তিনি অনেকটা অগ্রসর অংশেরই মানুষ। কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীদের এসব কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়, প্রথমত পৃষ্ঠ-পোষকতার অভাব, সামাজিক অসায়ত্ব, স্বাধীনতাহীনতা এবং কিছু হারানোর ভয়। যা কবি বা সাহিত্যিককে সাহসহীন করে তোলে ।

তা’হলে কবিতা শ্লোগান হয়ে উঠবে? না, শিল্প মাধ্যমের সকল প্রকাশ শুধু মাত্র রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ঘিরে সৃষ্ট হতে পারে না, দেশ কাল পরিবেশ পরিস্থিতিও বিবেচ্যে। শিল্পীর দায় মানুষের কাছে, মানুষের আকাঙ্খা, সামাজিক অবস্থান, সমাজের দাবী, আগামীর পথ নির্মাণ এবং সর্বোপরি উপলব্ধিময় আত্মতৃপ্তি শিল্পের সার্থকতা। কবিতা ইতিহাস নয়, ’কবিতা হলো মনুষ্য সমাজের মাতৃভাষা,অকর্ষিত ভূমি, কর্ষিত কৃষি ক্ষ্ত্রে থেকেও পুরাতন,বিনিময় প্রথা ও বানিজ্যিক প্রথা থেকে বেশি পুরানো’ কবিতা নির্দিষ্ট ইন্দ্রিয়গুলোক সুখ দেয়, তৃপ্ত করে । তিনি-তো দায়িত্বহীন একজন মানুষ হতে

পারেন না। সকল মানুষেরই রয়েছে কল্পনা ও চিন্তার চিরন্তনতা যা সৃষ্টি করছে নান্দনিকতার বোধ । যা আমরা তাঁদের সৃষ্টি ও ব্যবহারিক রীতি থেকে বুঝতে পারি । যেমন কৃষক তার চাষ-আবাদে কেবল চাষই করে না সে তার কর্মজ্ঞান, চিন্তা এবং কল্পনাকে প্রয়োগ করে চাষাবাদের ক্রিয়াগুলোকে লাগসই সহজ ও স্বচ্ছ করে তোলে। ঠিক তেমনি সমাজের অন্যান্য অংশে মানুষ প্রতিটি কর্মে-চিন্তায় ও কল্পনায় সুন্দরের যে ইমেজ তৈরী করে তা ভাষায় প্রকাশ করতে না পারলেও অর্জিত অভিজ্ঞতার বিকাশ তাদের কর্মে ঘটায় উদ্ভাবনাময় চিন্তা আর কল্পনার জোরে । সৃষ্টি করে নান্দনিকতা । এই নান্দনিকতা আকস্মিক নয়, পরিকল্পিতও বটে । সৃষ্টি বস্তুর হুবহু প্রতিরূপ নয় (শিল্পীরা তাদের বিশেষ চিত্র আঁকার কালে মডেল হিসেবে অনেককেই বাছাই করেন এবং তাদের প্রত্যেকের সুন্দরগুলো অবলোকন করেন অনুধাবন করেন। নিজের মধ্যে তার একটা রূপ তৈরী করেন হুবহু তাই নয় যা তারা তাদের উপলক্ষ্যগুলোর মধ্যে দেখেছিলেন)—ক্রিয়া ভাবনায় মূর্ত হয়েছে, রূপ-রসে-উপমায়-উৎপ্রেক্ষায় সে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে ’সংবেদনশীল মননে এই ভাবনা ক্রোধ হয়ে, প্রতিবাদ হয়ে, আনন্দ হয়ে ফুটতে পারে এবং প্রকাশিত হতে পারে নানা অনুষঙ্গে’ । প্রতিক্রিয়ার এই পর্বে যদি তা’ লক্ষ্য স্থির করে উপযুক্ত আঙ্গিকে প্রকাশ করতে পারে তবেই তা’ হয়ে উঠতে পারে শিল্প সমৃদ্ধ কবিতা । যার প্রভাব আজকে হয়তো অনুভব করা যাবে না কিন্তু সময় তাকে নিয়ে যায় আগামীতে।

কবিকে যেমন আজকাল নানা অভিধায় অভিষিক্ত হতে দেখি কবিতার নামকরণে রকম-ফের আছে, দ্রোহেরকবিতা, বিপ্লবের কবিতা, বিষন্নতার কবিতা, প্রেমের কবিতা, রাজনৈতিক কবিতা এবং আরো- । কবি যেমন কবি, কবিতাও ঠিক তেমনি কবিতা এর বিশেষত্ত্ব তৈরীর কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কবিতার জন্য বিষয়ের প্রয়োজন আছে । লিখতে না জানলে তিনি কবি হবেন কী করে? অ-কবিতাকে কবিতা বলবে কে? সে রাজনৈতিক,দ্রোহের,প্রেমের যা কিছুই হোকনা কেন-কবিতাকে-তো কবিতাই হতে হবে। শ্রেণি বিভক্ত সমাজে মানুষের মনে ও মননে যে প্রেমের রূপ আমরা প্রত্যক্ষ করি তা অধিকাংশই শরীর বৃত্তিক, সংকোচিত, স্থবির ও স্থুল । তাই তার প্রকাশও দেখি অশ্লীলতার মধ্যে । নারীর দেহ বর্ণনায় পুরুষ কবিরা এতোই পারঙ্গম যে পরিপার্শে¦র সকল সুন্দরকে অনুভব করার ক্ষমতাও তারা হারিয়েছে । ভুলে গেছেন নারীরা মানুষ । এ’যে পুরুষ আধিপত্যবাদী সংস্কৃতিরই লুক্কায়িত রূপ আর তাঁরা যে তারই একটি সচল অংশ সে ব্যাপারে সচেতন হতে চান না । তারা জানতেও চান না যে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থা ধর্মকে তূঙ্গে তুলে শাসক শোষক জনগণের শত্রুরা জনগণের সংগে প্রতারণা করছে এবং নিপীড়ণ চালাচ্ছে । ধনতন্ত্রও তার বাইরে নয়, যদিও তার রূপটি আপাতত আধুনিক, কিন্তু আধুনিকতার মোড়কে নারীকেই পণ্য করে নারী মুক্তির চিৎকার করছে । নারীরাও নানা বিভ্রন্তির মধ্যে পড়ে নিজের অস্তিত্বকে চিনবার ক্ষমতায় বিভ্রান্ত হচ্ছে । নারীবাদী লেখকরাও তাদের লেখায় যে অপসংস্কতৃতির দাগরাজি গায়ে মেখে স্বাধীনতা বলে চিৎকার করছেন। সমাজের এই অবস্থান যে একজন সচেতন মানুষকেও বিভ্রান্ত করতে পারে আমরা তা’ ভালো ভাবেই লক্ষ্য করতে পারি । আমি বলছি না যে কাব্যে কোনরূপ যৌন শব্দাবলী ব্যবহার যোগ্য নয়, নিশ্চয়ই প্রয়োগ যোগ্য হতে পারে যদি কোন বিশেষ মুহূর্তকে প্রকাশ যোগ্য করবার জন্য তার প্রয়োজন হয়। তবে একজন সচেতন কবি অবশ্যই প্রতিশব্দদ্বারা এর প্রয়োজন মিটাবেন। যদি তা’ প্রকাশকে বিভ্রান্ত না করে–শিল্প সৌন্দর্যকে খাটো না করে । আবার অনেকেই রাজনীতির ধারক বাহকের মতো এমনই আচরণ করেন যেনো রাজনীতির প্রচারটা তার কাজ। একজন সচেতন লেখক কবির লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে শিল্পের ক্ষেত্রটি যাতে আবব্ধ ও আরোপিত চিন্তার কাঠামো হয়ে না পড়ে– তাতে শিল্পের স্বার্বভৌমত্ব খর্ব হতে পারে । হ্যা, রাজনৈতিক বক্তব্য থাকতেই পারে, তা’ হতে হবে শিল্প-মাত্রায় সমন্বিত।

বাস্তবে ’সৌন্দর্য অনুভবের বিষয়’। সুন্দর-অসুন্দর বিচারের পরিধি অনুভবের প্রভাব-প্রবাল্য বহুতর বিস্তৃত এবং বিচিত্র.. যেমন কেউ মেঘলা আকাশ দেখলে অনন্দ অনুভব করেন কেউ মুক্ত আকাশ। যদি আকাশ কেবল মেঘলা হয়, অথবা কেবল খররৌদতাপময় হয় তা’ হলে ওই ব্যক্তির ভালোলাগায় হের ফের হতে পারে। এর প্রভাবে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বের যে ঐক্য রয়েছে তা’ বিপর্যস্ত হতে পারে । ভালগার কখনো আনন্দদায়ক হলেও সর্বদাই তা’ সুখের নয় আনন্দেরও নয়। যদিও আমরা আমাদের গ্রাম্যজীবনে প্রচুর ভালগার ব্যবহারের উপস্থিতি দেখি, রস উপভোগের অংশ হিসেবে, কিন্তু স্থানিক রীতি-নীতিতে তার ব্যাবধান লক্ষ্যনীয় । গ্রাম্য ভালগার-এর একটা ব্যাবহারিক রীতি রয়েছে, যা সব সময় উদোম নয় । শিল্প সহিত্য-কবিতার ব্যাপকতা একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যের নয়, এর বিস্তৃতি সমাজে। আমাদের সমাজে যেখানে অনেকগুলো মূল্যবোধ নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে একটা মাত্রা পেয়েছে এবং তার প্রয়োজন এখনো ফুরিয়ে যায় নি । এই ব্যাধি সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থা ও অবস্থানের সৃষ্ট সে বিষয়টি কবি সচেতনতার সাথে বুঝতে পারলে তার সৃষ্টিকে ত্রুটি মুক্ত করে প্রকৃত শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে মূল্যায়ন করতে পারবেন।

‘পুরাণ-এর উপকরণগত ব্যাপ্তি মিথোলজিরর চেয়ে বেশী । ভারতীয় পরিপ্রেক্ষিতে পুরাণ ধর্মীয় প্রতিতির ইউরোপিয় অর্থে মিথ কিংবদন্তী’… ‘মিথ ইতিহাস নয়. পুরাণও তা’ নয়, কিন্তু ইতিহাসের দিক সংকেত ওই দুয়ের মধ্যে অনিবার্যভাবে লুকিয়ে থাকে। মিথের মধ্যে একটি জাতির নিজস্ব ঐতিহ্য মিশে থাকে । ..পুরাণ মুলত ধর্মীয় অনুষঙ্গটিকে উত্তরকাল পর্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রাখে । মিথ তার বাইরের আবরণটা পাল্টাতে পাল্টাতে চলে এলেও পুরাণের বাহির-অঙ্গনটি অপরিবর্তিত থেকে যায়। তাই পুরাণের ব্যবহার সমান্তরাল দুটি মাত্রাকে উদ্ঘাটিত করে, একটির চালিকা শক্তি ভক্তি ও ধর্মবিশ্বাস আর অন্যটি ধর্মীয় আবেগ থেকে মুক্ত হয়ে ইতিহাসের ইঙ্গিতকে সূচিত করে’ খুবই লক্ষনীয় যে সাহিত্যে-কবিতায় লোকপুরাণ বা মিথের ব্যাবহার সাহিত্য বা কবিতাকে সমৃদ্ধ করে। এমনকী সাহিত্যকে কালজয়ী করে তুলতে পারে । আধুনিক যুগ ও জীবন পরিপ্রেক্ষিতে ওডিসি-কাহিনীকে জেমস জয়েস তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘ইউলিসিস’-এ মিথকলার প্রয়োগে সমৃদ্ধ করেছেন । আবার মাইকেল মধুসুধন পুরাণকে ব্যাবহার করেছেন আধুনিকতার প্রেক্ষাপটে, তিনি রামায়ণে রামচন্দ্রের চরিত্রকে ভিন্নভাবে ব্যাবহার করে সার্থক করেছেন তার সৃষ্টি। ‘মিথ সাহিত্যে তৃতীয় মাত্রার সংযোজন ঘটায়’ । মিথের ব্যাবহার বক্তব্য প্রকাশে বহুমাত্রিকতার সৃষ্টি করে । এমন কী লোকজ কাহিনী নিয়ে প্রচুর কবিতা রচিতও হয়, সে হতে কোনো বাঁধা নেই। লোকজ কাহিনী গুলোকে ভালোভাবে জেনে বুঝে তারপর কবিতার গঠন শৈলীতে প্রয়োগযোগ্য হলে-তো নতুন মিথের সৃষ্টি হয়। এলিয়ট এর মতে ‘ঐতিহ্যের অন্ধ অনুসরণ নয় ঐতিহাসিক চেতনার উপলব্ধি’। তাই মনে রাখা দরকার মিথ-পুরাণের কাহিনীগুলোর জনপ্রিয়তার যেমন একটা দিক আছে ঠিক তার বিপরীতে আছে অন্য সমাজ চিত্র। লোকজ কাহিনীগুলো গড়ে উঠেছে আদিম মানব সমাজে মানুষের অসহায়ত্ব থেকে, নানা প্রতিকুলতায় মানুষ নানা প্রাকৃতিক শক্তির কাছে তাদের সমাধান খুঁজেছে, যা পরবর্তীতে নানা সামাজিক স্তরে নানা আনুষ্ঠানিকতায় বিন্নস্ত হয়েছে। সেই সমাজে মানুষের অবস্থানটা কেমন ছিল ? সমাজ কী সুখে সমৃদ্ধিতে ভরপুর অবস্থায় ছিলো না কি তারা অসভ্য,বর্বর, দাস, অসুর, রাক্ষস এরকমই পরিচয়ে পরিচিত হয়েছিল ? তাদের দু:খের কহিনী কি ওই সব কাহিনীর কোন চরিত্র হয়েছে? তারা কি উল্লেখিত কাহিনীর যোগ্য ছিলো ? তবে যেহেতু এইসব মানুষের কোন কাহিনী থাকবার নয়, এবং তা’ গ্রহণ যোগ্যও নয় সে কারণে সমাজের নিয়ন্ত্রক শ্রেণির স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নানা সময়ে নানা অনুষঙ্গে এর রচনা ও বিকাশ। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব যা পাওয়া যায়–তা’ অসুর বর্বর অস্পৃশ্য রাক্ষস আর কিছু নয় । আবার মিথে মানুষের আশা আকাঙ্খার রূপায়নও যদি দেখি, তা’ হলে দেখা যায় যে মানব সমাজের চাহিদা আগুনের আর তার অর্জন মানুষেরই, করেছিল এই সব মানুষেরা তাদের প্রয়োজনের আকস্মিকতায়, তবু সে সব স্বীকৃতি তাদের প্রাপ্য হবে কেনো? তাই দেবতা প্রমিউথিউস এই আগুন মর্তে এনেছিল, এজন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে । আসলে এই সব রচনা গুলোর মধ্যে যে বেদনার অস্তিত্ব আছে. তা ওই মানুষগুলোর নিজেদের যার উপশম কখনো তাদের নাগালে ছিল না, আজও নেই। তবুও এসব কাহিনী ওইসব মানুষকে এবং আজো মানুষকে উপশমের একটা পথ-পন্থায় ভাবায় উৎসাহিত করে। (উচ্চশ্রেণির এসবের তেমন প্রয়োজন হয় না ) আবার যখন কোন বীর ঘটনায় তাড়িত হয়ে বিপর্যস্ত হয়, যিনি মোটেও তাদের লোক নন তবুও তার বেদনায় নিজেরা সম্পৃক্ত হয়ে বীরের মুক্তি কৌশলকে তার মুক্তির আকাঙ্খার উপশম বলে মনে করে। ওতে তাদের ইচ্ছে পুরনের কাল্পনিক সুখ ছিলো বা আছে । এখন কবি বা সাহিত্যিকরা কালের এই পর্বে এসে কী ভাবে পুরাণ বা মিথোলজি ব্যাবহার করবেন তা’ নিশ্চয়ই বিবেচ্য হওয়া উচিৎ ।

দেব-দেবীরা যে যৌন আচরণ করেছে, তা মানুষেরই কামনা বাসনা মানব মনে সর্বদাই জাগরিত। দেবতারা মর্তের এসব মানবী-রাক্ষসীদের ভোগে লাগিয়েছে এবঙ যখন তা’ করেছে নানা ছল-চাতুরীর মাধ্যমে তাকে রূপে-সৌন্দর্যে অপরূপ মানবী সাজিয়ে। আবার পরিত্যাগও করে গেছে তার নিরাপত্তা না দিয়েই। ফলে তাকে জংগল বাসিনী হয়ে সমাজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে । সাধারণরা সেগুলোকে দেবতার আশির্বাদ হিসেবে মান্য করেছে। যার মধ্যে বিশ্বাস-অবিশ্বাস,অসহায়ত্ব মিলে-মিশে একাকার হয়েছে এবং মানুষ তা’ উত্তরাধিকারিত্বের ন্যায় বহন করে চলেছে। এটাকে কোন কোন গবেষক ‘কালেকটিভ আনকনসাস’ বলেছেন। এসবে সাধারণ মানুষের আনন্দ মানুষের সুপ্ত জৈবিক প্রবৃত্তি হিসেবে । যদিও এর রচনা কারীরাও এই পতিত জনগোষ্ঠিরই লোক রাজ শক্তির পৃষ্ঠ-পোষকতা তাদের প্রলুব্ধ করেছে, যা আজো নানা ভাবে আমাদের সমাজে বিরাজমান । একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যে এসব রাক্ষসীদের গর্ভে বীরেরজন্ম নিয়েছে, কারণ আর্য-রক্ত বলে কথা, তাদের ঔরসজাত-তো বীর, জ্ঞানী, যোদ্ধা না হয়ে পারে না! তারা আবার নিয়তির দ্বারা সীমাবদ্ধ, কারণ ওই বীর যাতে কোন ভাবেই রাজশক্তি, বনিক সম্প্রদায়, পুরোহিতের বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়। তার মানবতা,

সহিষ্ণুতা কোন ক্রমেই মাত্রাকে অতিক্রম না করে । তার পরেও বলতে বাঁধা নেই যে, যা কিছু জনপ্রিয় তার যেমন তাত্ত্বিক দিক আছে, আছে শিল্প মূল্য । সমাজ যতো বদলে যাবে এর সস্তা মূল্যগুলো শরীর থেকে খশে গিয়ে সৌর্য-বীর্য-বীরত্বটুকু প্রাণরস হয়ে থাকবে মানুষের জন্যে এটাই শিল্পের সুদূর প্রভাব । মাওসেতূং তার অনেক কবিতায় লোককাহিনীর ব্যাবহার করেছেন, পুরানোকে নতুন করে বলেছেন, নতুন কালের উপযোগী করে, যেমন ’বোকাবুড়োর পাহাড় সরানো’র গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি জনগণের সংগ্রাম দৃঢ়, বিরামহীন প্রেরণা হিসাবেই তুলে এনেছিলেন। তাই মিথের বা পুরাণ-এর চরিত্রের উদহরণ তখনই সার্থক হতে পারে যখন একজন কবি তার রচনার প্রেক্ষাপট, প্রাসঙ্গিকতা ইত্যাদিতে মিথ বা পুরাণ কে আরো বেশী প্রাসংগিক করে তুলতে পারবেন। এবং কবিতাটিকে মিথ করে তুলবেন যেমন আমরা জীবনানন্দে পাই ।

বিপুল মানুষকে খুব বেশী দিন কোন অপতৎপরতার দ্বারা আটকে রাখা যায় না । কিছু সংখ্যক মানুষ খুব বেশীদিন বিপুল মানুষের ক্ষতিও করতে পারে না । সুতরাং কবিরা ভাবতে পারেন যে নরনারীর সম্পর্ক অশ্লীল শব্দ দ্বারা প্রকাশ করে তাকে প্রেম বলে চালিয়ে দেয়া যায় না । প্রেম একটি বহু মাত্রিক বিষয় যা মানুষের সংগ্রামের মৌল কাঠামোর মধ্যে অন্তসার হিসেবে কাজ করে । নিছক শরীরবৃত্তিক প্রেম ভাষণ কোন প্রেমের প্রকাশ নয়। বিপ্লব শুধুমাত্র অস্ত্রের ঝনঝনানিও নয়,বিপ্লব নিত্য প্রগতিসিদ্ধ কর্মের মধ্যদিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, তার প্রেরণা যোগানো কবিরও কাজ । আর তা কবিতায় অনুষঙ্গ হলে প্রেমের মূল রূপটি আরো সৌন্দর্যময় হয়ে উঠবে ।

এবারে কবিতায় আধুনিকতা না আধুনিক কবিতা প্রসংগে আমরা দৃষ্টি দিতে পারি। এ বিষয়ে প্রচুর তর্ক-বিতর্ক আছে, বদ্ধুদেব বসুর মতে..‘কবিতা এমন কোনো পদার্থ নয় যাকে কোনো একটা চিহ্নদ্বারা সনাক্ত করা যায়’ যেহেতু আধুনিকতা হচ্ছে সমাজ প্রগতির মৌলিক অংশ এবং সমাজ উত্তরণ চিন্তার প্রসার যার প্রভাব পড়বে কবিতায় যা সেই আদি কাল থেকেই মানুষের চেতনায় বিরাজমান থেকে অগ্রগতির প্রেরণা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘কাজটা সহজ নয়, পাঁজি মিলিয়ে মডারনের সীমানা নির্ধারণ করবে কে ?’ অনেকে তা আবার মানতে নারাজ এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কবিতাকেই আধুনিক কবিতা বলে চিহ্নিত করেন । কিন্তু কথা থাকে তা হলে কী কবিরা স্থবির সমকালের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকেন, তারা কি সময়কে অতিক্রমণ করে আগামীর কথা বলেন না? আসলে কবিরা সব সময়ই অগ্রবর্তি সময়ের। শেলী বা কীটস বা রবিন্দ্রনাথ সকলেই সমকালের হয়েও আগামীর কবি ছিলেন । প্রত্যেকেই চিন্তায় চেতনায় ছিলেন আগামী মানুষ। সুতরাং কবিতা সবসময়ই আধুনিক। এখন দরকার কবিতায় আরো বেশী আধুনিকতার সংযোজন। সে বিষয়ে.ভাষায়, রূপে, নির্মানে এবং নিজস্বতা আনয়নে যার দ্বারা সনাক্ত করা যাবে কবিকে । এখন নতুন আঙ্গিকে যদি পুরাণো চিন্তাকে পুণরবাসিত করা হয় এবং তা সমাজ বদলের চিন্তায় যথোপযুক্ত ভাবে সংশ্লিষ্ট হতে না পারে তা’ হলে তা’ কি ভাবে আধুনিক হবে ? যে শিল্পের অন্তসার কেবল মাত্র মনোবৈকল্য থেকে উদ্ভুত কেবল মাত্র সিজোফ্রেনিক তা’ প্রগতির সহায়ক হবে কী করে ? এ ক্ষেত্রে দু’টো অংশেরই অগ্রগতি প্রয়োজন যা উপযুক্ত কাঠামোয় উপযুক্ত হয়ে উঠবে। মানব প্রগতির জন্যে হবে অধিকতর আধুনিক কবিতা । আর সমাজ প্রগতির চিন্তায় কবিতাও হয়ে উঠবে গতিময় হৃদয়গ্রাহী ।


সাহায্য:

১. আধুনিক কবিতা আলোচনা, ড.দিপ্তী ত্রিপাঠি।
২. ক্রোচের নন্দন তত্ত্ব, অনুবাদ ড. সুধীর কুমার নন্দী’ ঃ
৩. মার্ক্সীয় সাহিত্যতত্ব, ড. বিমলকুমার মুখোপাধ্যায়
৪. মিথপুরাণের বাঙাগড়া, অধ্যাপক চন্দ্রমল্ল সেনগুপ্ত
৫. বুদ্ধদেব বসুর কবিতা, বিষয় ও প্রকরণ, ড. মাহবুব সাদিক, কবি
৬. মধুসুদন ও নবজাগৃতি, মোবাশ্বের আলী
৭. ড.সলিমুল্লাহ খান, প্রবন্ধ সমকাল-১২.১০.১২

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (১৬) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — december ৯, ২০১২ @ ১:৩১ অপরাহ্ন

      মতিন ভাই শুভেচ্ছা রইল,

      আপনার গবেষণাধর্মী মূল্যবান প্রবন্ধটি পাঠ করে বেশ ভাল লাগল। উত্থাপিত প্রশ্নগুলো যেমন প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে, তেমনি এর প্রতি উত্তরও যথার্থ বলেই অনুমিত হয়েছে। আপনার মত আমরাও মনে করি ‌”শিল্পের সামাজিক চাহিদা আছে”, মনে করি “কবিতা সব সময়ই আধুনিক’। ভবিষ্যতে আরও লিখবেন এ প্রত্যাশা করে পুনর্বার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Dr. Binoy Barman — december ৯, ২০১২ @ ৫:০৬ অপরাহ্ন

      মতিন বৈরাগী একজন অভিজ্ঞ কবি। কাজেই তার কাব্যভাবনা সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ‘কবিতায় সমাজ চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা ও নির্মিতি’তে তিনি তার কাব্যচিন্তন প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন কবিদের একটি সোশাল কমিটমেন্ট থাকা উচিত। কবিতার একটি সামাজিক ভূমিকা থাকবে, যা হবে প্রগতি-সহায়ক। এ অবস্থান মার্ক্সীয় সাহিত্য-ঐতিহ্যের অনুসারী। কিন্তু কবিতায় সম্ভবত অমার্ক্সীয় ধারাই বেশি প্রবল, যেখানে মনে করা হয় কবি কোনোকিছুর কাছে দায়বদ্ধ নন - তিনি মুক্ত, স্বাধীন। কবিতা সমাজমুখি না সমাজবিমুখি হবে সেটি আসলে এক জটিল প্রশ্ন। এটির মীমাংসা কোনোকালে হবে বলেও আমার (স্বল্পবুদ্ধিতে) মনে হয় না। কবিতায় সামাজিক বক্তব্য আনলে তা নান্দনিক ঔজ্জ্বল্য হারাতে পারে। আবার কবিতাকে শুধু শিল্পের জন্য শিল্প করে তুললে তা পৃথিবীর কাছে অপ্রয়োজনীয় বলে প্রতিভাত হতে পারে। এ এক উভয় সঙ্কট। তবু কবিকে কোনো একটি পথ বেছে নিতে হয় অথবা দুয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হয়। মতিন বৈরাগীকে ধন্যবাদ বৃহৎ ক্যানভাসে কিছুটা সংহত, কিছুটা বিক্ষিপ্ত চিন্তার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Md Kamrul Islam Shamim — december ৯, ২০১২ @ ৫:৪৪ অপরাহ্ন

      nice ………………………………….

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Omar Shams — december ৯, ২০১২ @ ৭:২৯ অপরাহ্ন

      মতিন বৈরাগীকে সাব্বাস! তিনি কবিতা নিয়ে ভেবেছেন। লক্ষ্যণীয়, কবির সংখ্যা আজকাল বহু-উউউউউ। কিন্তু, কবিতা নিয়ে বলার মতো লোকের সংখ্যা নিতান্ত কম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বপন মাঝি — december ১০, ২০১২ @ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

      চার চোখ বললেই যদি হয় শিল্পের জন্য শিল্প, রাবনের নির্মাতারা হাজার বছর আগেই উত্তর আধুনিকতাকে ছাড়িয়ে, শিল্পের জন্য শিল্পের এক নজীরবিহীন নজির স্থাপন করে গেছেন।
      মতিন ভাইয়ের জ্ঞান-গম্যি, বোধ আর আরাধনার জগৎ যে কবিতা, অনেকদিন হলো শুনা হয়নি, পড়াও হয়নি। যারা দেশ থেকে হারিয়ে গেছে, বেঁচে থাকার নাম করে, সেইসব ঝরাপাতাদের মনে করে মাঝে মাঝে কবিতা দিয়েন। অন্তত কিছুক্ষণ স্মৃতিবিহ্বলতায়…।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Afrina Hasan — december ১০, ২০১২ @ ১২:০৬ অপরাহ্ন

      Onek kisu janlam! Kothin kotha sohoj kore uposthaponer jonno Kobi ke antorik dhonnobad.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাজী মনজুর — december ১০, ২০১২ @ ১০:৪৬ অপরাহ্ন

      মতিন বৈরাগীকে তার সুলিখিত ও সুচিন্তিত প্রবন্ধের জন্য ধন্যবাদ। আমাদের দেশে অনেক কবি আছেন, তারা কেন কবিতা লেখেন- এ সম্বন্ধে ধারনা আছে বলে মনে হয়না। মতিন বৈরাগী এ বিষয়ে সচেতন। তার প্রবন্ধের মূল বক্তব্যই হল কবিকে সমাজ সচেতন হয়েই সমাজ প্রগতির চাকা ঘুরানোকে অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করাই একজন কবির কাজ। অবশ্যই শিল্প সুষমার মধ্যে থেকে, উপমায়, উৎপ্রেক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেই কবিতা তথা শিল্প সাহিত্য রচনা করতে হবে। এ ধরনের প্রজ্ঞা সমৃদ্ধ প্রবন্ধের আকালের দিনে এক পশলা বৃষ্টির আমেজ দেবার জন্য মতিন বৈরাগী সবার প্রশংসা পেতেই পারেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rasheduzzaman — december ১০, ২০১২ @ ১১:৪৮ অপরাহ্ন

      লেখককে ধন্যবাদ তার দীর্ঘ কবিতা-যাপনের সূত্র পেশ করার জন্য।

      চিন্তার সপক্ষে চিন্তা হাজির থেকে যুক্তিকে দুর্ভেদ্য করতে চেয়েছেন। কিন্তু কবিতা থেকে দরকারি দলিল উপস্থাপন জরুরি ছিল। তাই পর্যবেক্ষণগুলিকে মনে হয়েছে বিহগদৃষ্টির।

      সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা বিষয়ে কবির (লেখকের) প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রইলাম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভজন সরকার — december ১১, ২০১২ @ ৬:৫১ পূর্বাহ্ন

      কবি মতিন বৈরাগী,আমাদের প্রিয় মতিন ভাই, কবিতার আলপথে হাঁটছেন দীপ্ত পদে প্রায় চার দশকেরও বেশী সময়| কবির বিশ্বাস ও মনোবীক্ষণের একটি ধারণা পাঠক তাঁর কবিতার মধ্যে দিয়েই অনুধাবন করতে পারেন|কবি মতিন বৈরাগীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিষন্ন প্রহরে দ্বিধাহীন’ বেরোয় ১৯৭৬ -এ| আশির দশকের শেষ কিংবা মাঝামাঝি সময়ের উত্তাল দিন্গুলোতে আমি প্রথম কবি মতিন বৈরাগীর কবিতা পাঠ করি প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ থেকে| ততোদিনে প্রকাশিত হয়েছে’কাছের মানুষ পাশের বাড়ী (১৯৮২)’,”খরায় পীড়িত স্বদেশ ( ১৯৮৬)|তারপর প্রকাশিত হয়েছে’আশা অনন্ত হে’,'বেদনার বনভূমি’,'অন্তিমের আনন্দধ্বনি’,'অন্ধকারে চন্দ্রালোকে’| এর পরের খবর আর নেই আমার কাছে|কারণ, ততোদিনে আমি চন্দ্রালোকের অনুসন্ধানে নিজকেই ঢেকে ফেলেছি প্রবাসের ব্যস্ততম অন্ধকারে|
      কিন্ত যুগযন্ত্রনার বিপরীতে একটি সাহসী আত্মসন্ধানী প্রয়াস কবির প্রায় সকল কবিতাতেই| সেই থেকে এবং আজও তাই কবি মতিন বৈরাগীর কবিতা আমার সাহসের জ্বলনকাঠি| কবিতা নিয়ে মতিন ভাইয়ের ভাবনা তো সমাজ নিয়ে ভাবনারই অন্য নাম |অনেক দিন পরে কবিতা বিষয়ক একটি সমৃদ্ধ আলোচনা পড়লাম আমার প্রিয় কবি, শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় মানুষ মতিন ভাইয়ের কাছ থেকে| ‘যে জীবন কারো কোনো প্রয়োজনে হয় না উদ্ধার/ হয় না রোদ- হাসি ফোঁটায় না কুসুম/হাসে না,হয় না প্রীতিকর কোনো সভায় সুষম শোভা/ সে জীবন খোয়া যাক খুব দ্রুত ধুঁয়ে মুছে যাক/ পৃথিবী হয়ে উঠুক অনন্ত সম্ভবা|’ ( ডাক দিয়ে যাই, কবি মতিন বৈরাগী)

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন jhoneey — december ১১, ২০১২ @ ১:০৫ অপরাহ্ন

      তিনি মূলত কবি। দ্রোহের কবি। প্রবন্ধ একেবারেই হাতেগোনা।তারপরও কবিতার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এই গবেষনা কর্মটি তার ক্রিয়াশীল মনের এক আত্মীক প্রকাশ।সময়কে ধারণ করাই যদি অধুনিকতা হয় তাহলে কবি সে পথেই হাঁটছেন এবং অবশ্যই তিনি অভিনন্দিত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন hasan shahriar — december ১৩, ২০১২ @ ১:৪৭ পূর্বাহ্ন

      একজন কবি যখন সমাজের সামগ্রিক বিকাশের পক্ষে থাকেন, তখনি তিনি পারেন এমনকি একজন ব্যক্তি মানুষের বিভিন্ন বোধ, স্বপ্ন, সৌন্দর্যকে নিজের অনুভব দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে। কবিতাও তখন- যে শিল্পমানের কাছে দায়বদ্ধ, সেটাকে এড়িয়ে যেতে পারে না। আর এটা খুব জোড়ালোভাবেই শিল্পের জন্য শিল্প জাতীয় আমদানি করা তত্ত্বগুলোকে বাতিল করে দেয়।

      আপনি বুদ্ধদেবের বক্তব্যে আধুনিকতার সংজ্ঞা দিয়েছেন যদিও বুদ্ধদেব এটা ধার করেছিলেন ফরাসি বোদলেয়ার থেকে। বোদলেয়ার আধুনিকতার সংজ্ঞা থেকে কালের হিসাবকে বাদ দিয়ে মানুষের দ্বারা সৃষ্ট ভালো-মন্দের ব্যপারকে চিহ্নিত করেছিলেন; যেটা কালে কালে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। দুঃখ হলো এই, আমাদের রোমান্টিকেরা, আধুনিকেরা সেসময় পশ্চিমের ওইসব আধুনিকদের কাছ থেকে দেদারসে দীক্ষা নিয়েছেন রোমান্টিক,আধুনিক কবিতা সৃষ্টির কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলেন এখান থেকে ঐ পশ্চিমের সামাজিক কাঠামোর পার্থক্য করতে!

      প্রিয় মতিন বৈরাগী, কবিতা সম্পর্কিত আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভালো লেগেছে আমার। উৎসাহিতও হয়েছি। শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা রইলো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মনসুর আজিজ — december ১৩, ২০১২ @ ২:৩৭ অপরাহ্ন

      “বিপুল মানুষকে খুব বেশী দিন কোন অপতৎপরতার দ্বারা আটকে রাখা যায় না । কিছু সংখ্যক মানুষ খুব বেশীদিন বিপুল মানুষের ক্ষতিও করতে পারে না । সুতরাং কবিরা ভাবতে পারেন যে নরনারীর সম্পর্ক অশ্লীল শব্দ দ্বারা প্রকাশ করে তাকে প্রেম বলে চালিয়ে দেয়া যায় না । প্রেম একটি বহু মাত্রিক বিষয় যা মানুষের সংগ্রামের মৌল কাঠামোর মধ্যে অন্তসার হিসেবে কাজ করে । নিছক শরীরবৃত্তিক প্রেম ভাষণ কোন প্রেমের প্রকাশ নয়। বিপ্লব শুধুমাত্র অস্ত্রের ঝনঝনানিও নয়,বিপ্লব নিত্য প্রগতিসিদ্ধ কর্মের মধ্যদিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, তার প্রেরণা যোগানো কবিরও কাজ । আর তা কবিতায় অনুষঙ্গ হলে প্রেমের মূল রূপটি আরো সৌন্দর্যময় হয়ে উঠবে ।”
      খু্বই ভালো লাগলো। মতিন ভাই শুভেচ্ছা রইলো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Ali Habib — december ১৩, ২০১২ @ ৫:০৯ অপরাহ্ন

      কবি মতিন বৈরাগীর সঙ্গে আমার পরিচয় সত্তর দশকের শেষার্ধে বা আশির দশকের শুরুতে। একই সময়ে পরিচয় তাঁর কবিতার সঙ্গেও। সেই সময়ের টগবগে তরুণ মতিন বৈরাগীকে আমি দেখেছি। পেয়েছি তাঁর সমাজ বদলের প্রত্যয়। তিনি কবি, সমাজকে নিয়ে ভাবেন। সেই সমাজ ভাবনা তাঁর কবিতায় স্পষ্ট। সব লেখাতেই তিনি সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রলোভনের ফাঁদ এড়িয়ে চলেছেন সযতেœ। মতিন বৈরাগীর স্বাতন্ত্র্য এখানেই। তাঁর কাছ থেকে এমন আরো লেখা আশা করি।
      আলী হাবিব
      ১৩-১২-২০১২

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Akhlasur Rahman — december ১৪, ২০১২ @ ১১:৪২ অপরাহ্ন

      অগ্রজ কবির প্রতি অনেক অনেক শ্রদ্ধা । অনেক দিন পর কবি ও কবিতা বিষয়ক মূল‌্যবান একটি রচনা পড়লাম । যা চৈত্রের তাপদাহে এক পশলা বৃষ্টির মতো । তাই মতিন ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — december ১৬, ২০১২ @ ১০:৫৪ অপরাহ্ন

      শ্রদ্ধেয় হাসান শাহরিয়র ভাই লেখাটি পড়ে অনুগ্রহ করে মন্তব্য করেছেন, এ জন্যে আমি বিনীত এবং কৃতজ্ঞ ।

      প্রবাসী শক্তিমান কবি ওমর শামস, ডা. বিনয় বর্মন ও কবি মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক ভাইয়ের মন্তব্য/উপদেশ আমার জন্য সমানগুরুত্বপূর্ণ।

      কবি বন্ধু কাজী মনজুর, প্রবাসী বন্ধু কবি ভজন সরকার ও লেখক ও কবি স্বপন মাঝিকে অনেক ধন্যবাদ।

      স্নেহের সাংবাদিক আলী হাবিব,জনি,কবি মনসুর আজিজ,আখলাসুর রহমানএবং মো.কামরুল ইসলাম শামীম কে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা ।

      অগ্রজ বন্ধু মহসিন শস্ত্রপাণির মন্তব্য(বিভ্রাটের কারণে যার উপরে মতিন বৈরাগীর প্রতিক্রিয়া লেখা রয়েছে) তার সকল উপদেশ স্মরণে রাখবার উচ্ছে রয়েছে।তার জন্যও তার প্রতি শ্রদ্ধা রইলো ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন fariduzzaman — december ১৯, ২০১২ @ ৪:৪৩ অপরাহ্ন

      “লিখতে না জানলে তিনি কবি হবেন কী করে? অ-কবিতাকে কবিতা বলবে কে? সে রাজনৈতিক,দ্রোহের,প্রেমের যা কিছুই হোকনা কেন-কবিতাকে-তো কবিতাই হতে হবে। শ্রেণি বিভক্ত সমাজে মানুষের মনে ও মননে যে প্রেমের রূপ আমরা প্রত্যক্ষ করি তা অধিকাংশই শরীর বৃত্তিক, সংকোচিত, স্থবির ও স্থুল । তাই তার প্রকাশও দেখি অশ্লীলতার মধ্যে । নারীর দেহ বর্ণনায় পুরুষ কবিরা এতোই পারঙ্গম যে পরিপার্শে¦র সকল সুন্দরকে অনুভব করার ক্ষমতাও তারা হারিয়েছে । ভুলে গেছেন নারীরা মানুষ । এ’যে পুরুষ আধিপত্যবাদী সংস্কৃতিরই লুক্কায়িত রূপ আর তাঁরা যে তারই একটি সচল অংশ সে ব্যাপারে সচেতন হতে চান না । তারা জানতেও চান না যে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থা ধর্মকে তূঙ্গে তুলে শাসক শোষক জনগণের শত্রুরা জনগণের সংগে প্রতারণা করছে এবং নিপীড়ণ চালাচ্ছে । ধনতন্ত্রও তার বাইরে নয়, যদিও তার রূপটি আপাতত আধুনিক, কিন্তু আধুনিকতার মোড়কে নারীকেই পণ্য করে নারী মুক্তির চিৎকার করছে । নারীরাও নানা বিভ্রন্তির মধ্যে পড়ে নিজের অস্তিত্বকে চিনবার ক্ষমতায় বিভ্রান্ত হচ্ছে । নারীবাদী লেখকরাও তাদের লেখায় যে অপসংস্কতৃতির দাগরাজি গায়ে মেখে স্বাধীনতা বলে চিৎকার করছেন। সমাজের এই অবস্থান যে একজন সচেতন মানুষকেও বিভ্রান্ত করতে পারে আমরা তা’ ভালো ভাবেই লক্ষ্য করতে পারি ।”
      এমন স্বতঃস্ফূত সত্য উচ্চারণের জন্য ক িব ম তিন বৈরাগীেক ধন্যবাদ

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com