গুচ্ছ কবিতা
মহুল কুড়ি-১
আজ যদি আকাশে আর একটি চাঁদ উঠত
তাকে
ফুল গাছের দেবতা দিতাম
বাঁশ পাতার তীক্ষ্ণতা দিতাম
নীরার ভালোবাসা দিতাম
হ্যেলাঞ্চার নিছক স্বাদ দিতাম
যদি সে সে-গুলোকে নিতে প্রস্তত থাকত
তাহলে
আমি আমার যত্নের চাদর
পৃথিবীতে বিছিয়ে দিয়ে
প্রকৃতিকে উলঙ্গ হতে বলতাম
আমিও ভ্রমণ করতাম তার সঙ্গে
নিভৃতে – নিশ্চিন্তে
মহুল কুড়ি-২
আজকের গোটা রাতে
ভাঙা চাঁদ উঠেছিল
চাঁদ উঠতে পেরেছিল
বিজোড় আকাশে
তার ডাইনে বামে
মাছের পুত্রের ভীড়
দুরন্ত সাহসী মেঘের
খল খল হাসি
পাসে বসন্ন ছায়াপথ
ঠিক তার-ই কিনারে কয়েকটি
পবন ঝাউ
উদাম বাতাসকে আটকে রেখেছে
পথ আটকে
দুটো কথা
শোনাতে চায়
এই যে দূরে মাটির জগত
কয়েকটি মাটির মানুষ
আর কয়েকটি সুর
ভালো করে দে’খে
শুরা পাঠ কর
সুরা পান করো
নায্য ভাগ দিও
অসুরের
না
হলে—-
মহুল কুড়ি-৩
১
পালক শুধু ডানা তো নয় পালক কানের দুল
চিনতারাটির টিকলি পরায় - মা-এর ছেঁড়া চুল
সেই সকালের কথা সে সব ভাবতে গেলে কাঁদা
জীবন ভাঁড়ার গিয়ে দেখি সব হয়েছে রাঁধা
২
পালক মানে ডানায় গোঁজা ওড়ার খবর নয়
পালক মানে নরম মনের বুক দুরুদুর ভয়
পালক মানে উচ্চ আকাশ নীচেই ছড়া মাটি
পালক মানে মানুষ মনের ওড়ার ডানা দুটি
৩
পালক মানে পাখির কথা বিশাল পৃথিবী
পালক মানে বোরাখ ধরা মিরাজ খোওয়াবি
পালক মানে রাইট ভায়ের ভাবনা ভরা মাথা
পালক মানে ভূবনময়ী ছবি এঁকে রাখা
তাগিদে
ভালোবাসারতো বীজ ছিলনা
শুধু ছিল কতকগুলো সুতো
নয়তো বাবলা ফুল আর তার
মিহিপাতার মানানসয় সমন্বয়
কাউকে-ই টানেনি সে
মনে হলো
গান গাওয়া
সে-ও-তো
কাউকে মনে রাখা
কবিতার ডানায় কল্পনা রাখি
কলম আর সাদা কাগজ
দুজনে চুমু খেয়ে খেয়ে গড়ে তোলে
গল্পের রূপ
সেও তো
কেউ পড়বে বলে নয়
তাগিদে
ভালবাসা তাও পেয়েছি
বুনেছি মনের পর্দায়
কখনও রঙধনু
শুধুই ঢেউ
কখনও
বিচ্ছেদের গর্জন
রাতে নিস্তব্ধতায়
ঝর্ণা থেমে যায়
নিথর
তুমি আর আমি
নিশ্চুপ
মায়াবি আকাশ
সারা হৃদয় জুড়ে
আমাকে দেখি
অনুভূত হতেথাকে
আমি মেঘ হয়ে
আঁধারে ছড়িয়ে
জচ্ছোনার আল্পনা আঁকি
ভালো থাকো
কতদিন হল হিসাব রাখি-নি
আব্বুকে দেখি-নি
তার ঘাড় ব্যাথা হলে
বলতেন
বেশ আছি
আরও
কত কত মানুষ
কত-বড়ো ব্যাধি নিয়ে বেঁচে আছে
সে-সব কথা
টেনেনিয়ে যায় বহু দূরে
বাবাকে দেখি-না
কথাও হয়নি বহু-দিন
কি হল বুঝি-না
মানুষের শরীর হারিয়ে যাওয়ার সূত্র
বিশ্বাসের অঙ্ক মুছে দেয়
শুধু স্বপ্ন কথা বলে
খুকি -রাত দিন
তুই - আমি
মিলে - মিশে
রোদ্ মাখা বাতাসে
আছি
এই তো তোর কাছে
একটি ফুল ও একটি অক্ষর
দৈবাত আজ একটি মালা পেয়ে-গেলাম
ফুলের মালা
ও
একটি গোলাপ
আলাদা করে
এটা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল-না
অসংখ্য শিশুরা পরিয়ে দিল
শিশুরাই পরিয়ে ছিল
সে মালা
কেউ কেউ কখন কখনও
এমনি করে ফুল পেয়ে যায়
অথবা পায়ই
ফুল নেবের কথা থাকলে-ও
পাবার কথা ছিলনা
দিনটা বদলে গেল
বাদল দিনে সূর্যের আলোর কবিতার মতো
পাল্টে গেল দিনটা
বাচ্চাটি দূরে ভীড়ের মাঝে
লজেন্স বিক্রি করছে
বাচ্চাদের জন্য
বাচ্চাটি
এঁটো টেবিলের আবর্জনা লুকাছে
ওদের অন্যজন
জুতোয় পালিশ লাগাচ্ছে
ওরা একবার
মালাপরা
আমাকে দে’খে
চোখ জুড়ে স্বপ্নের ছবি
মালাপরা মেয়েটি
যদি কনোদিন
একটি গান লেখে
আমাদের জন্য
একটি অক্ষর
এনে দেয়
ওরা
রাস্তার কুকুরগুলো বেঁচে আছে
কি-করে যে বেঁচে আছে
কে জানে
কোথাও খাবার নেই
থাকার যাগা জবর দখল
পথচারিরা কেউ না কেউ প্রতি মুহূর্তে
পা তোলে
অথচ ওরা হৃদয়কে পরবের দিন
করে রাখে
বুড়ি চাঁদ ও ভালোবাসা
এখনও
বুড়ি চাঁদ
পাতা উল্টে পদক খোঁজে
তার নবযৌবনের ফেলে আসা দিন
যা ছিলো তার কাছে
শুধু বাঁচবার খাদ্য
সে যৌবন নতুন না পড়ন্ত জানত-না
সে কেবল তাচ্ছিল্যের মানুষ
কেবল মজার খোরাক
অথবা
আফশোশ
যখন
সে কষ্টের তলানি চাটে
জিহ্বার কাটা অংশে গলে পড়ে দুঃখ
যখন সে কষ্টের ঘাম ফেলে ঠোঁটে
জিহ্বার কাটা অংশ
নিরবাক হাসে
আর সুথ শুষে নেয়
জিহ্বার কাটা অংশ
কথা বলতে শেখায়
তখন কাঙাল যৌবনের
শাপের জিহ্বা
ক্রমশ জোড়া লাগে
সে
জিহ্বা দিয়ে অনুভূত হয়না যৌবন
জিহ্বা কেবল ময়লা চাটে
ময়লা সরে যায়
তারা ফোটে
ওঠে সূর্য
বুড়ি চাঁদ সেও ওঠে
দূরে ছেঁড়া মেঘ
বুড়ি চাঁদের ঘোমটা হতে চায়
তার
নব কাঙালি যৌবন
একটা একটা করে
পাতা উল্টায়
পাতা উল্টায়
পাতা উল্টায়
বিড়বিড় বকে
আর
ভালোবাসার
ফলকটি খোঁজে
পদকটি খোঁজে
টেলিফোন বাজে
কথা ভেসে আসে
ওপাড়া গিয়ে
কিংবা
ঊপর তলায় বসবাস করা
আয়ুষকে
সামনা সামনি ডাকেও না
বা
কথাও বলে-না
-প্রয়োজন
অভাব বিয়জন
এ-সব আর বলা চলে-না
কান্না-বেদনা প্রতারনা
এসব-ও
আসে না
কারও মনে
কারন
সারা রাত কথা বলা
একাকীত্ব
প্রেমের কিচ্ছুক্ষণ
বা
জলঝরার
সব ব্যবস্থা করে
টেলিফোন
সমানে সমান কেন
মাঝের মধ্যে মনে হয় ডান হাতে ব্যথা
হয়ত হাতটি একদিন
বেয়াদব হতে পারে
বে হায়ার মত ঝুলে পড়বে কাঁধের সঙ্গমে
মাঝ রাত-
সকলে চূপ হয়
ভাবে - ভাবতে থাকে
না-থাকা ভাবনায়
রাত কথা বলে
কত যে সুরে
সুন্দর অসুর আসে -বসে
কথা বলে
রাত্রির মুখে
রাত্রির চোখে কাঁদে
কান পাতে কুকুরের ডাকে
মাঝে মধ্যে মনে হয়
বাম-বুকে ব্যাথা আছে নাকি
চুপি চুপি অসুরের চুক্তিপত্রটি
কচলে-দিই
কাজ শেষ হলে
চূক্তির হাসির দাঁত ঢেকে দিতে হয়
না হলে
দেবতা- দানব
সমানে -সমান


Beautiful poems.Heartiest thanks to the Poet.Respected poet please go ahead.
খুব ভালো খুব ভালো!
খুব ভালো খুব ভালো!
খুব ভালো খুব ভালো!
খুব ভালো খুব ভালো!
কোন এক পানকৌরি কবিতার মাধ্যমে উড়ে বেড়াচ্ছে মুক্ত আকাশে।
মোটামুটি ভাল । আপার কাছে আরাো ভাল কবিতা চাই।
“দুরন্ত সাহসী মেঘের
খল খল হাসি “
আপা আপনার কবিতাগুলি খুবই ভাল লাগল, কিন্তু কিছু শব্দ কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন তা বুঝতে পারিনি,যেমন ’পালক’।
কিছু শব্দ - শব্দ বুনন কেন যে এমন হলো বোধগম্য হলো না। যেমন, ‘মাঝের মধ্যে’, ‘সুরা পান করো’, ‘শুরা পাঠ করো’, ইত্যাদি। তবে ‘কতদিন আব্বুকে দেখি নি’ এমন হৃদয়াবেদন দোলা লাগালো।
very good.
বেশ ভালো লাগল।
ধন্যবাদের চেয়েও বেশি কিছু পাবার যোগ্য।
Thanks for all poems
Wish you best of luck ……………….
কবিতা পড়ে খুব ভালো লাগল ।