গুচ্ছ কবিতা
দেখা, না দেখা
এক বন্ধু বলে ছিল
সকাল বেলা বি-জোন গেলে
পার্কটা একটু ঘুরে আসিস।
গিয়ে ছিলাম একদিন -
ও যা বলেছিল দেখিনি।
দেখেছি
শিশির ভেজা ঘাসের উপর
সূর্যের আলো পড়তে,
দেখেছি
একটা মাছরাঙা পাখিকে
ঝিলের ধারে ঝিমুতে,
আর দেখেছি
শিশু গাছের শুকনো পাতাগুলি ঝুরঝুর ঝরতে ।
হয়তো-বা ও যা দেখেনি ।
স্কেচ খাতার একটি মুহূর্ত
নির্জন এক দুপুর বেলা
ভায়য়র হাত ধরে
তন্বী এক গন্তব্যের প্রতীক্ষায়।
আমি তখন আঁকছি ছবি
একটা সাঁকো, একটা গাছ
মধ্যে শুধু ব্যবধান সুদীর্ঘ পথ
ছায়া ফেলেছে জায়গা জুড়ে বিশাল অর্জুনগাছ।
কোথায় আছে সেই ছবিটি কে জানে
তবু এখনও
দেয় উঁকি সেই মেয়েটি-ই
ভায়ের ধরে হাত।
পরিচিত শব্দ
ডাকপিওনের সাইকেলের ক্রিং ক্রিং শব্দ
আমার খুব চেনা,
চিনিয়েছে প্রকৃতি
তার শেষ চিঠিতে লিখেছে
আজ এপর্যন্তই
লিখবে আবার।
সেই থেকে আছি প্রতীক্ষায়-
ভাবি
এখন কত তাড়াতাড়ি দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়
সন্ধ্যা নামার আগেই
সেই পরিচিত শব্দ শুনতে পাবো।
কে সে
অনেক দিনের চেনা;
তবু হঠাৎ হল ভুল
কে সে?
মনের মাঝে উথাল পাথাল ঢেউয়ে
হারিয়ে যেতে চায়
পিছল জমি পা ধরে না
পিছলে দিতে চায়
ভাবছি শুধু একই কথা
কে সে ?
কে সে?
যখন আমি গহীন জলে
কূল দেখিনা চোখে
পাঁকের মাঝে তলিয়ে যাবার দশা
আমার দিকে চাইলো তখন হেসে
এক নিমিষে বলে দিল
চেনা মুখের হাসি
কে সে ?
কে ?
ভান
সেদিন ধর্মতলায় বন্ধুর সাথে হাঁটছি
রাস্তা জুড়ে পড়ে আছে দেখি
নগ্ন এক জীর্ণ শরীর।
তাই দেখে বন্ধুর দুঃখ ভারী
এড়িয়ে যেতে যেতে ভূলুণ্ঠিত শরীর বলে,
দেখো – এদের কেউ দেখবার নেই।
শব্দ কানে যেতে মনে মনে ভাবলাম
সত্যিই নেই!
অথচ
ইচ্ছে করলেই যা পারি তা করিনি
তার সহজ অনুরোধও
রাখিনি
বেয়াড়া স্বভাব মাঝে মাঝে লাগাম কাটে
অবাধ্য শিশুর জেদ ধরে ।
পীড়নের অন্য এক স্বাদ আছে
সুখের পাশবালিশ থেকে থান ইট ।
সব কিছুরই একটা সমাধান হতে পারত
কিন্তু …
শূন্য পূরণ
কোন কিছুই যায় আসে না পৃথিবীর
তুমি আমি থাকি বা না থাকি
যদি কিছু যায়, আসে- সে শুধু তোমার আমার ।
শততম ছুঁই ছুঁই চলে গেলেও
হা হুতাশ দেশময়
অজস্র কাজ ছিল -
নব জন্ম থেমে থাকল অপারেশন টেবিলে।
শোক সভা, সভা, ভাষণ, সম্ভাষণ-
ক্ষতি হোল বড় ক্ষতি হল দেশের। শূন্য পুরনের ক্ষতি।
ক্ষতি কি হল কিছু আদতে?
প্রকৃতির কাছে প্রশ্ন করলে
প্রকৃতিও থাকে নিরুত্তর ।
বেয়াড়া মানুষ
মিছেমিছি কেন এত ভাবনা
সুখে থাকতে ভুতের কিল কেন খাওয়া
এসো, দু-দণ্ড বসো শান্তিতে
কথা শোন,
মন দাও আপন কর্মে ।
জলবতী তরল এই বাণী
নব্বই ভাগ কানের ভিতর দিয়ে মরমে নেয়
এপাস ওপাস দোলাদুলি করে ন-জন
একজন বেয়াড়া মানুষ
না কানে নেয়, না মনে।
সুখে থাকা তার সয়না - তাই
ভুতের কিল খায়।
সমাধান সূত্র
এমন কিছুই কি আছে
মনে হয় যার কোন সমাধান নেই?
বুকে হাত রেখে বলতো জোর দিয়ে- না!
যদিও তুমি আমি আমরা সবাই জানি
আছে, বেশ আছে, আপাতত সূত্রটা মিলছে না।
দুই আর দুয়ে চার হয়
তিন আর এক দিলেও হয়
মেঘ কাটলে আলো দেখা দেবেই
যেমন রাতের পরেই আসে দিন
এই ভেবেই নিশ্চিন্ত হও
ঠিক গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে কাল।
আত্মহত্যা
আত্মহত্যা করলেই সমস্যার সমাধান হয়
এতটা নিশ্চিত কি করে হলে?
যে জন্য মাঝে মাঝে দড়িটা পরখ করছ,
ভাবছ ফ্যানের হুকটা ঠিক ঠাক ওজন বইবে তো?
মৃত্যুর ওপারটা কি তোমার একটুও জানা নেই
অথচ কালকের দিনটা কেমন হবে তা ভালই আনুমান কর।
রুখে দাঁড়ালে সব কিছু বদলে নেওয়া যায়
তাহলে নিশ্চিত না হয়ে, মিছে মিছে আত্মহত্যা কেন?


সব কবিতাগুলিই জীবন-সম্পৃক্ত কবিতা। ভালো লাগলো।
খুব সুন্দর। ধন্যবাদ আপনাকে। আরো লিখবেন।
Sadek tomar kobita porlam, valo laglo Likhe jao. Subhakana thaklo
Bulbul