গুচ্ছ কবিতা
বাবার নাম আকাশ, মায়ের নামও তাই
বন্ধু
প্রতিদিনের কথা তার সঙ্গে
কথা সুখ দু:খের
কথা ভালোবাসার
কথায় কথায় নীল আরো নীল হয়
জ্বলে ওঠে নক্ষত্র
শুরু হয নি:শব্দ সংগীত
সে সঙ্গ দেয় একইভাবে
সে আমার পূর্বপুরুষদের ঘর
সে আমার ভবিষ্যৎ
আমার বর্তমান
তাকে দেখে বাবার কথা মনে পড়ে
মায়ের কথা মনে পড়ে
নীরব আশ্রয়ে
সে-ই খুঁজে দেয় পরম বন্ধু
ভাল্লুকের গল্পে
যে ভাল্লুককে ভ্রুক্ষেপই করছে না।
হাঁটা নির্ভর
শৈশবের ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতেই
সম্পর্ক আকাশের সঙ্গে
কদমগাছের সঙ্গে
কাঁটা বাবলার ঝাড়ে ফুটে থাকা হলুদফুল
নির্ভয় বিচরণ
ভালোবাসায় ভয় কোথায়
পেট কাটা চাঁদিয়াল ভোঁকাট্টা হবার পর
মেঘে ঢাকা আকাশ
নদীও সরে যায় দূরে বহুদূরে
এখন আর ঘুড়ি ওড়াই না
ঠোঁট খুলি না
মনে মনে নীরবতার মধ্যে
হেঁটে যেতে চেষ্টা করি
কখনো কি ফিরে আসবে
কাঁটা বাবলার আড়, হলুদ ফুল, আর
আকাশ জোড়া ভাটিয়ালি
সাঁকো
হারমনিয়াম আর আকাশের সম্পর্ক নিয়ে
একটি সাঁকো তৈরি করতে
বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন নেই
মাটির বারান্দায় বেস
ছোড়দি হারমনিয়াম বাজাচ্ছেন
মাদুর পেতে
মা-বাবা আমরা সবাই
সন্ধ্যা নেমে আসার শুভলগ্ন
নিঝুমতার মধ্যেই গড়ে তুলছে
অবিরাম সাঁকো
সাঁকো অনাদিকালের বেজে ওঠা মুহূর্ত
কৃষ্ণকলি সন্ধ্যা
সন্ধে সন্ধে মুহূর্তকে আরো প্রাণময়
আরো সর্বব্যাপী করে তুলছে।
গল্প
মনের মধ্যে মেঘ জমলে
চোখ, চোখের দিকে তাকাতে ভয় করে
একদিন নীল আয়না রেখে
বাবা চলে গেলেন নীলেরই দেশে
শুরু হলো ভয়ের গল্প
শুরু হলো প্রেমের গল্প
গল্পে শুরু ভ্রমণ কাহিনি
একটুও এগুতে পারছি না
অথচ চলতে আমাকে হবেই
সমস্ত চলার গল্পই নির্ভয়
প্রত্যেকে প্রত্যেকেরই দিকে চেয়ে থাকা
না চেয়ে থাকা
মন জুড়ে
গাছ জুড়ে থাকে মনে মনে
খেলা শুরু হয়
সবুজের সঙ্গে সবুজের
রেইনট্রির ফুল থেকে মধু খেয়ে
ফুলটুসি আকাশ স্পর্শ করছে প্রতিদিন
স্পর্শে অপার আনন্দ
চিন চিন করে কেঁপে ওঠে জীবন
জীবন জুড়েই আমি আর আকাশ
অনাদিকালের আশ্রয়
আশ্রয় জুড়েই তোমাকে দেখছে
কতোদিনের মাধবীলতা
আজ সত্যিই মেঘমল্লারের দিন
যেন মন জুড়ে বসে আছে
যে কোল পেতে বসে আছে
তারাই প্রসারতা।


অসাধারণ এই ফিরে দেখা ! বাবা-মা বহুদূরে হারিয়ে গেলেও, সত্যিই কি তারা হারিয়ে যান ? চেতন-অবচেতনে তাঁরা বারবার ফিরে ফিরে আসেন। যেমন এসেছেন ঠাকুরদাসের কবিতায় …… স্মৃতির সরণি বেয়ে।