হে ফেস্টিভাল ও তার ঘোস্ট হোস্ট

আহমাদ মাযহার | ২৪ নভেম্বর ২০১২ ৮:২৭ অপরাহ্ন

গত ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ২০১২ ঢাকার বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত হয়ে গেল ‘হে ফেস্টিভাল’। আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সংস্কৃতির উৎসব এটি। ‘হে ফেস্টিভাল’-এর ‘অফিশিয়াল’ ওয়েবসাইট থেকে জানা গেল বাংলাদেশে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টার এই আয়োজনের ‘টাইটেল স্পন্সর’, যাত্রিক নামে একটি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজেক্ট পার্টনার’, বেঙ্গল লাইটস নামের একটি ইংরেজি পত্রিকা ‘কী স্পন্সর’, সবচেয়ে প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ‘অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর’, বৃটিশ কাউন্সিল ‘গ্লোবাল পার্টনার’ এবং বাংলা একাডেমী ‘হোস্ট’। আজকালকার বাণিজ্যিকতার যুগে ‘টাইটেল স্পন্সর’, ‘প্রজেক্ট পার্টনার’, ‘গ্লোবাল পার্টনার’, ‘কী স্পন্সর’, ‘অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর’ এবং ‘হোস্ট’ এই কথাগুলোর আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় এই রকম আয়োজনে কার কী প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ভূমিকা। উৎসবের স্লোগান imagine the world, বাংলায় লেখা আছে ‘কল্পনায় জগত’ (‘কল্পনা’ শব্দের বানান ‘ক’-এর পরে ‘ল’-এর নিচে হস চিহ্ন দেয়া আছে। ইউনিকোডে ক-এর নিচে হস চিহ্ন দেয়া গেল না)। জগৎ বানানটি ভুল, লেখা আছে ‘জগত’। ইংরেজি প্রতিবর্ণিকরণে লেখা আছে nobo digonter kolpona। অন্যান্য কয়েকটি ভাষায়ও এই কথাগুলো লেখা হয়েছে। তার মধ্যে আরবিও আছে। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে এই উৎসব যে স্বভাবে আন্তর্জাতিক তার পরিচয় রাখা হলো।

এর উদ্ভব ১৯৮৮ সালে গ্রেট বৃটেনের ওয়েলশ রাজ্যের হে শহরে। আন্তর্জাতিকতার তকমা লেগেছে খুব বেশিদিন হয় নি। এই উৎসবের হোস্ট এই কারণেই হবার কথা বৃটিশ কাউন্সিলের। কিন্তু দেখছি বাংলাদেশে তারা ‘গ্লোবাল পার্টনার’! তাহলে কারা এর মূলে? অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে তিন প্রতিষ্ঠান ডেইলি স্টার-প্রথম আলো-যাত্রিক এর মূলে। এরা আসলে একই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানভুক্ত। সুতরাং ‘হোস্ট’ হিশেবে বাংলা একাডেমীর নাম থাকলেও বাংলাদেশের জন্য আসল হোস্ট তারাই! অর্থাৎ সেদিক থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে বাংলাদেশে বাংলা একাডেমী আসলে হে ফেস্টিভালের ‘ঘোস্ট হোস্ট’, মানে বলির পাঁঠা! আমার প্রশ্ন কর্পোরেটপুঁজির বলিরপাঁঠা হবার কী দরকার পড়েছিল বাংলা একাডেমীর?

আমরা লক্ষ করেছি ইংরেজি ভাষায় লেখেন এমন লেখকদের প্রাধান্য ছিল এই উৎসবে। যদিও ‘কবিতা’ ও ‘ছড়া’ পাঠের আসর বা ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাহিত্য’ নিয়ে আলোচনার আসর বসিয়ে কায়দা করে বাংলাভাষার লেখক-কবিদের সংখ্যাকেও যথেষ্ট বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। তাঁরা উপস্থিতও ছিলেন উল্লেখযোগ্য-সংখ্যকই। কিন্তু উৎসবে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের অনেকের কাছে মনে হয়েছে যে বাংলাভাষার লেখকেরা সেখানে ছিলেন গৌণ অবস্থানে। যদিও আমাদের কথাসাহিত্যের অঙ্গনের খ্যাতিমান কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় লেখকও ডাক পেয়েছিলেন।

উৎসবটি সাহিত্য-উৎসব হিশেবে কতটা আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ পেয়েছে তার পরিচয় তাদের ওয়েবসাইট দেখে বোঝা যায় না! বাংলাদেশে গতবছরও এই উৎসব হয়ে গেছে। কিন্তু তখন এর সম্পর্কে উৎসাহ-উদ্দীপনার খবর তেমন কেউ জানতো না! এ বছর আয়োজনটাকে বড় আকার দেয়ার চেষ্টা কার ছিল? ব্রিটিশ কাউন্সিলের? নাকি ডেইলি স্টার-প্রথম আলো-যাত্রিকের!

বাংলা একাডেমী সত্যিকারের আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব করেছিল ১৯৭৪ সালে। দীর্ঘ বিরতির পরে গত বছর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে আরেকটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আমার ধারণা ঐ সম্মেলনের সাফল্যের সূত্র ধরেই হে ফেস্টিভালে বাংলা একাডেমীর ‘হোস্ট’ হওয়া। কিন্তু এই উৎসবের স্বভাবে স্পষ্টই অনুভূত হয় যে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বাংলাসাহিত্যের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল বৃদ্ধি নয়; বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে ইংরেজি সাহিত্যের যে-অংশটি উপনিবেশিত দেশসমূহের পটভূমিতে বিকাশমান এবং যার অবস্থান ইংরেজি সাহিত্যের অঙ্গনেই দ্বিতীয় বাংলাদেশে তার সম্প্রসারণ ঘটানো। এই দিক থেকে দেখতে গেলে অবশ্য এই উৎসবকে ‘আন্তর্জাতিক’ বলা যাবে! কারণ ইংরেজি ভাষাটাতো খালি ইংল্যান্ডের ভাষা নয়! ‘আন্তর্জাতিক’ ভাষা! তাছাড়া ইংরেজিমাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থাগুণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে একটি ইংরেজিভাষী জনগোষ্ঠী গড়ে উঠছে যাদের শারীরিক উপস্থিতি বাংলাদেশে হলেও মানসিক অবস্থান সুদূর মার্কিন মুলুকে কিংবা পাশ্চাত্যের কোনো দেশে! তারা পাঠক হিশেবে ‘আন্তর্জাতিক’। কারণ তারা বাংলা জানে না! ইংরেজি ছাড়া বাংলায় তারা সাহিত্যের আস্বাদ নিতে পারে না বলে ‘আন্তর্জাতিক ভাষা’র আশ্রয়ে তাদের জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটছে। সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলা একাডেমী বাংলাভাষায় লেখা বাংলাসাহিত্যকে প্রত্নতত্ত্বের বিষয় হিশেবে বিবেচনা করে কর্মসূচি পরিচালনা করবে!

বাংলা সাহিত্যের ‘জাতীয়’ পাঠকসংখ্যা এতদিন হুমায়ূন আহমেদ ধরে রেখেছিলেন। এখন তাঁর অবর্তমানে তার ভবিষ্যৎ এমনিতেই অন্ধকার! এর ত্রাণে বাংলা একাডেমী ছাড়া আর কে আছে! আর এ ধরনের উদ্যোগে ভবিষ্যতের বিনিয়োগকারীদের তো এখনই উজ্জীবিত করে রাখা উচিত!

ইংরেজিভাষা-চর্চার বিস্তার ব্যাপকতর হতে থাকলেও এখনও বাংলাদেশে ‘আন্তর্জাতিক’ পাঠকসংখ্যা খুবই কম, প্রায় নেই বললেই চলে! বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বাংলাভাষী দু-একজন লেখক সবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি পেতে শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক কালে এ বিষয়ে সবচেয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন তাহমিমা আনাম। এই উৎসবে তাঁকেই মোটামুটিভাবে বাংলাদেশের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব ও অধিনায়কত্ব করতে দেখা গেছে। সময়ের যথার্থ নকীবের কাছেই এর আহ্বানকারীর ভার দেয়া হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তার প্রয়োগ জাতীয় অবস্থান থেকে করা তো জরুরিও!

আমি যতদূর জানি এ উৎসবে বাংলা কবিতা পাঠের যে আসর বসেছিল তাতে বিদেশি বা বিভাষী শ্রোতা একজনও ছিলেন না। এমনকি বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে যারা ইংরেজিতে সাহিত্যচর্চা করেন তাঁদের উপস্থিতিও প্রায় ছিল না বললেই চলে। কারণ তাঁরা বাংলাভাষা ঠিকমতো অনুধাবনই করতে পারেন না, অথবা যে জীবন বাংলা কবিতার উপজীব্য সে জীবন তাঁরা যাপন করেন না বলে তা নিয়ে লেখা কাব্য তাঁদের বোধের সীমানায় পৌঁছায় না। এটাতো আর তাদের দোষ হতে পারে না! আর কথাসাহিত্য নিয়ে একটা পর্বে তো অংশগ্রহণকারী মডারেটর ও লেখক ছাড়া কাকপক্ষীও ছিল না। এমনকি এই পর্বে অংশগ্রহণকারী তালিকাভুক্ত একজন লেখক [আহমাদ মোস্তফা কামাল] উপস্থিত হতে পারেন নি যথাযথভাবে তাঁকে সময় নির্দিষ্ট করে অবহিত করা হয় নি বলে।

বাংলাভাষার জন্য আমাদের রক্ত ঝরলেও এর মূল্য আমরা দিতে শিখি নি! বাংলাভাষাটাকে ভালো না জানার জন্য আমাদের কখনো লজ্জা হয় না। কিন্তু ইংরেজি ভালো না জানা নিয়ে আমাদের হীনম্মন্যতার শেষ নেই! এ-কথা ঠিক যে বিশ্বায়নের কারণে বিশ্বব্যাপী ইংরেজির প্রসার বাড়ছে। সে হিশেবে ইংরেজির চর্চা না করে আমাদের উপায় নেই! সুতরাং ইংরেজির যে কোনো ধরনের চর্চা নিয়ে আপত্তি থাকা কোনোভাবেই উচিত নয়! তাছাড়া ইংরেজি সাহিত্য অনায়াসে বৃটিশ কাউন্সিলের সরাসরি উদ্যোগ ছাড়াই বাংলাদেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে। হে উৎসবের মাধ্যমে তার সীমানা কতই আর বাড়বে! বরং আমাদের মধ্যে যারা ওদের হয়ে খেটেখুটে দেবে তারা খানিকটা খাতির-যত্ন পাবে পাশ্চাত্যের সেবকদের কাছে, দু-একটা কুলীন জায়গায় উপস্থিত হবার সুযোগ পাবে–এটাও তো কম কথা নয়! অনেককেই তো বলতে শুনি যে, বাংলায় লিখে কদ্দূর আর কী করা যাবে! বিশ্ববাসী বাংলা জানে না, সুতরাং ইংরেজিতে লিখে বিশ্বের সঙ্গে ‘ডাইরেক্ট’ হয়ে যাওয়াই ভালো! তারা তো ভুল বলে না! সুতরাং এ-সব আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে আমাদের কবিসাহিত্যিকদের অংশগ্রহণ দোষের হবে কেন!

কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি কিছুতেই মানতে পারি না যে খোদ বাংলা একাডেমী বৃটিশ কাউন্সিলের ‘হে উৎসবে’র হোস্ট হবে! কারণ বাংলা একাডেমীর কাছে জাতির প্রত্যাশা বাংলাভাষার সামর্থ্য দেশের মানুষকে অনুভব করানো এবং তাকে বিশ্বের কাছে নিয়ে যাওয়া! সেই বিবেচনায় এর একটা অন্যতম দায়িত্ব হতে পারে বাংলাদেশের সাহিত্যের আন্তর্জাতিকীকরণ! বাংলাদেশের যে লেখকেরা তাঁদের সামর্থ্য দিয়ে বাংলাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছেন তাঁদের লেখাকে অনুবাদ করিয়ে বিদেশে প্রচার করা। এইরকম একটি প্রতিষ্ঠানের কি এভাবে সত্তা খুইয়ে ফেলতে দেয়া উচিত?

হে ফেস্টিভালের ছাপা programme-এ দেখা যাচ্ছে বাংলা বর্ণমালায় বাংলাদেশের অধিকাংশ লেখকেরই নাম আছে ভুলভাবে। এমনকি ইংরেজিতেও অনেকের নাম ভুল বানানে ছাপা হয়েছে। যেমন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার নাম লিখতে গিয়ে লেখা হয়েছে Poet Mohammad, Nurul Huda এবং ছড়াকার আনজীর লিটনের নাম লেখা হয়েছে Anjil Liton। কারো কারো সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা না করেই তাদের নাম দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এতেই কি না জানি কী হলুয়া মিস হয়ে যায় সেই ভয়ে আমাদের কবি-সাহিত্যিকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সেখানে। বৃটিশ কাউন্সিল-প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের তালিকা থেকে বাদ পড়লে তো জগৎ বিরান হয়ে যাবে! দুঃখ হয় যে বাংলাদেশের অধিকাংশ লেখক এত দেউলিয়াপনায় ভোগেন যে তাঁরা বিনামূল্যে তাদের আত্মা বিক্রি করে বসে থাকেন। হে ফেস্টিভালের নিম্নমানের আয়োজনে সকলের এত গুরুত্বদানে এটাই প্রতীয়মান হয়।

আরেকটা কথা: এতগুলো বড় সংগঠনের দামি দামি কর্মকর্তা (অনেক বেতন দিয়ে রাখা উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা অর্থে) মিলে যেখানে এই ‘আন্তর্জাতিক’ উৎসবের আয়োজন করলেন, বাংলা একাডেমী যার ‘হোস্ট’ সেখানে তাঁরা বাংলাদেশের এতগুলো লেখকের নামের বানানই ঠিকমতো লিখতে পারলেন না! চার পৃষ্ঠার যে programme পাওয়া গেছে তাতে ২ কলামে লেখা ফোল্ডারে [পিডিএফ ফর্ম্যাটে পাওয়া] মোট তেইশ লাইনে লেখকদের নাম বাংলালিপিতে মুদ্রিত আছে। কীভাবে লেখা হয়েছে লেখকদের নাম সেটা দেখে নেয়া যেতে পারে। একজন লেখকের নাম দেখলাম মৃক্তিকা চাকমা [এই নামে বাংলাদেশে কোনো মানুষ থাকতে পারে কি না সন্দেহ! প্রকৃতপক্ষে নামটি হবে মৃত্তিকা চাকমা], দেখলাম লেখা আছে মাসুমা ভাট্টি [মাসুমা ভাট্টি নামে বাংলাদেশে কোনো লেখক আছেন বলে শুনি নি যিনি এমন ‘আন্তর্জাতিক’ ফেস্টিভালে যোগ দিতে পারেন। মাসুদা ভাট্টি নামে একজন লেখক অবশ্য আছেন], আহমেদ মুস্তফা কামাল [এই নামেও কোনো লেখক আছেন বলে শুনি নি। অবশ্য আমি তো আর সবজান্তা নই! আহমাদ মোস্তফা কামাল নামে একজন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক অবশ্য আছেন যিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাহিত্যের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন], শাহীন আক্তার [এই নামেও কোনো লেখক আছেন বলে শুনি নি। শাহীন আখতার নামে একজন কথাসাহিত্যিক সাম্প্রতিক কালে খ্যাতি অর্জন করেছেন যিনি প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন], সলিমুলস্নাহ খান [এই নামে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কি পৃথিবীতে অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব? সলিমুল্লাহ খান নামে একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক আছেন বলে শুনেছি], শাখাওয়ত টিপু [সাখাওয়াত টিপু নামে একজন কবিকে চিনি আমরা ‘শাখাওয়াত টিপু’কে নয়!], সাজ্জাদ শরীফ [আন্তর্জাতিক এই উৎসবের ‘অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর’ প্রথম আলোর অন্যতম বড়কর্তা সাজ্জাদ শরিফের নামের সঠিক বানানটিও লিখতে পারল না ‘হোস্ট’ বাংলা একাডেমী!] তারা যে কী আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্য উৎসব করবে তা বুঝতে পারি!

‘হে ফেস্টিভালে’র কর্মকাণ্ড দেখে বার বার মনে হচ্ছে আমরা নিজেরাই আমাদের মূল্য জানি না বলে অন্যদের দ্বারা অবমূল্যায়িত হই! অর্থাৎ আমরা নিজেরাই বোধ হয় নিজেদের ক্ষতি করি সবচেয়ে বেশি!

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (৮) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমাদ মাযহার — নভেম্বর ২৫, ২০১২ @ ২:১২ পূর্বাহ্ন

      ‘হে ফেস্টিভালে’র যজ্ঞ সংগঠনে বলির পাঁঠার তালিকায়, মানে ইনস্টিটিউশনাল পার্টনারের দলে দেখলাম জাতীয় কবিতা পরিষদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রও রয়েছে! প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থাকতে পারে, কারণ তারা ঐ তরিকারই প্রতিনিধি! কিন্তু সঙ্গে দেখলাম আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও। দেখছি এইসব প্রতিষ্ঠানও আজকাল এই ধরনের আয়োজনের ‘স্পন্সর’ হতে শুরু করেছে! লক্ষ করছি যে বেশ কিছুকাল ধরেই গ্লোবালাইজেশনের ঘোরতর কবলে পড়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সুতরাং লোগোর ব্যাপারে সচেতনতার বোধও কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের আজকাল থাকবার কথা নয়!কারণ অর্থের বিনিময়ে আত্মোৎসর্গকারীতেই এখন কেন্দ্র পূর্ণ! তাঁরা বড় বড় ব্যাপার নিয়ে কাজ করবেন। কোটি টাকার কারবার নিয়ে যাদের মাথা ঘামাবার কথা তাঁরা ভাববেন তুচ্ছ লোগো নিয়ে!কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্সূচিতে লক্ষ লক্ষ আলোকিত অংশগ্রহণকারী কেন্দ্রের লোগোতে ব্যবহৃত প্রতীকী শিখাটাকে না চিনলেও তো চলে! লোগোর অংশ ফেলে দিলে তাদের কী আর তেমন যায় আসে। কারণ ইতিহাস চেতনা, আত্মপরিচয়ের বোধ ইত্যাদি ব্যাপারগুলো তো রীতিমতো ক্ষুদ্রতার পরিচায়ক! বিশ্বায়নের উদারীকরণের বিরাটত্বের কাছে লোগোর অসম্পূর্ণতা নিয়ে মাথা ঘামানো তো সংকীর্ণতারই আরেক নাম!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্যামল দাষ — নভেম্বর ২৫, ২০১২ @ ২:৩৮ পূর্বাহ্ন

      বাংলা একাডেমী যা করার তা সবই বাংলায় করে নিজ দেশের ভাষার ক্ষতি করছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন iqbal hasnu — নভেম্বর ২৫, ২০১২ @ ৮:০৮ পূর্বাহ্ন

      তোরা যে যা বলিস ভাই
      আমার সাদা হরিণ চাই

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লীনা দিলরুবা — নভেম্বর ২৫, ২০১২ @ ১২:৫৯ অপরাহ্ন

      সাহিত্যকে কর্পোরেট অফিস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করার হীন চেষ্টা, “বড়লোক”দের ছেলে-মেয়েকে জোর করে লেখক বানানোর জন্য আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যাল আসলে পুরোই ব্যর্থ হয়েছে; তা এখন প্রমাণিত।

      লেখাটি অতি চমৎকার লেগেছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — নভেম্বর ২৬, ২০১২ @ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

      প্রয়াত হুমায়ুন আজাদ স্যার আশঙ্কা করে বলেছিলেন, ‌‌‍‍”সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে”। তাঁর আশঙ্কা ইতিমধ্যে সত্যে পরিণত হয়েছে। সব কিছু আজ নষ্টদের দখলে চলে গেছে। লেখককে তাঁর যথার্থ লেখনির জন্য ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন DEYA MAHBUB — নভেম্বর ২৬, ২০১২ @ ১:২৬ অপরাহ্ন

      It is not so far since we condemn our great prose writer Humayun Ahmed for frequent spelling mistakes & incorrect Bengali syntax!
      Anyway, spelling mistakes of the names of Bengali writers should not be done by Bangla Academy at all.
      Thanks for good observations Mazhar Vai. . But we should not forget that apart from Rabindranath & Nazrul Bengali literature owed a lot to Jibonanada Das , Nirendra nath Chaktaborti, Budhadev Vasu, Sunil Ganguli and Shamsur Rahman who did not learn Bengali lit. academically. Even our great prose writer Humayun Ahmed belongs to Chemistry Department and had to go through a lot of bites by our mediocre poets & writers who advised him frequently to follow Bengali Crammer properly . These people now have become the admirers of Humayun Ahmed ! Now they never raise such question. If they raise such question now Channel I will show such people their red eye!!
      So, let the doors & windows of knowledge wide open . Don’t see Hindi Movie , it will do harm to us. Don’t read Urdu lit. Don’t listen to Indian songs & music , don’t watch unreal Hindi & even west Bengal TV dramas , they will let down our status. Don’t read the writers of West Bengal and if you read , express sarcasm and prove we are far grown up than those people . Never try to to compare us with others . What we do is great and incomparable .
      This mental -make up should be avoided . We should compare us at every step with others and feel within us our limitations so that we can cope with them.
      Thank you Mazhar Vai.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিধান রিবেরু — নভেম্বর ২৭, ২০১২ @ ৩:৪৮ অপরাহ্ন

      একমত। আমি মনে করি, বাংলা একাডেমীর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে অবশ্যই একটি হলো অনুবাদকর্ম। বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা ভাষায় অনুবাদ হবে। বাংলা ভাষার সাহিত্য অনুদিত হবে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়। তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনা। এটা সত্যি দু:খজনক।
      লেখককে ধন্যবাদ এমন একটি লেখার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাফাত মিশু — নভেম্বর ৩০, ২০১২ @ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

      ‘হে উৎসবে’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অবমাননাই হয়েছে বলবো। প্রথম আলো গ্রুপ ওপরে ওপরে যতো মিষ্টি কথাই বলুক না কেন, মূলত তারা বাণিজ্যিকীকরণের চূড়ান্ত করেছে।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com