অকৃতি অধমের হাতে পাঁচটি নীলপদ্ম

শাকুর মজিদ | ২১ নভেম্বর ২০১২ ৯:৪৩ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজার থেকে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়, নাম বিয়ানীবাজার বার্তা। সবচেয়ে কম স্টাফ নিয়ে বের হওয়া কোনো সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিযোগিতা থাকলে এ পত্রিকাটি পুরস্কার পেতো। এই পত্রিকার রিপোর্টার, ফটোগ্রাফার, এডিটর, কম্পোজার, মেকআপম্যান, বিজ্ঞাপন ম্যানেজার, সার্কুলেশন ম্যানেজার, বিলিবন্টনকারী - এ সব দায়িত্ব পালন করে একজন। নাম ছাদেক আহমদ আজাদ। প্রায়ই সে কিছু কিছু উদ্ভট কাজের প্রস্তাব নিয়ে আসে আমার কাছে। আমি কোনোটা হা করি, কোনোটা না, কোনোটা কোনো কিছু না বলে বিদায় করে দেই।

২০০৯ সালের ১ অক্টোবর আমাদের পঞ্চপর্যটকের দল ইস্তাম্বুল ও মিশর সফরে যাবে, সেদিনই কম্পিউটার বন্ধ করার আগে একটা ই-মেইল পাই ছাদেক আজাদের। তার ইচ্ছা, এ বছর আমার ৪৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সে ৪৫ জন লেখকের লেখা নিয়ে একটা স্যুভেনির বের করবে। আমার অনুমতি চায়। আমি ইংরেজী ‘ওয়াই’ হরফটি লিখে রিপ্লাই দিলাম এবং সেদিনই ভোর রাতে ইস্তাম্বুলের পথে রওয়ানা দিয়ে দিলাম।

কয়েকদিন পর মেইল খুলে দেখি- ছাদেক আজাদ এর মধ্যে কয়েকটা লেখা জোগাড় করে ফেলেছে, সেগুলো আমাকে ফর্ওয়ার্ড করা। সে নতুন সমস্যায় জর্জরিত, ঢাকার নামি দামি লেখক, যারা আমাকে চেনে, তাদের কারো সাথেই তার কোনো যোগাযোগ নাই। এদের লেখা কী করে পাবে?

আমি ছাদেককে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, আমি কারো কাছে লেখা চাবো না।

তাতে তার খুব অসুবিধা হলো না, তাকে কিছু লেখকের নাম, ফোন নাম্বার, ই-মেইল ঠিকানা দেয়া হলো, সে যোগাযোগ করে লেখা পেতে থাকলো। বিপদে পড়লো একজনকে নিয়ে - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের ই-মেইল নাই, তাঁকে ফোন করবে, সে রকম ব্যক্তিগত সম্পর্কও নাই। আমার কাছে কাকুতি মিনতি করে, যে করেই হোক আপনার হুমায়ূন আহমেদের লেখা আপনি আমাকে যোগাড় করে দেন।
পড়লাম বিপদে।

দখিন হাওয়ার আড্ডার এক ফাঁকে বিভিন্ন লেখকের কাছে লেখা চাওয়ার ইমেইল টেক্সট একটা কপি শাওনের হাতে দিলাম। সে পড়ে বললো - বাহ, কনগ্রেচুলেশনস॥ আপনার জন্মদিনের স্মারক গ্রন্থ বেরুচ্ছে!
আমি বললাম - নীচের দিকের অংশ পড়।
শাওন পড়লো, মিষ্টি করে হাসলো এবং চোখ মুখের ইশারায় যা বুঝালো, তা হচ্ছে - আপনার উপর লেখাটার কথা আমি তাকে বলবো।
আমাদের আড্ডার বাদবাকী অনুষঙ্গ চলতে থাকে। আমার জন্মদিনের বিষয়টির কথা তাঁকে আর বলা হয় না।
নভেম্বর মাস এসে গেছে। প্রথম সপ্তাহ শেষ। দ্বিতীয় সাপ্তাহে তাঁর নিজের জন্মদিন, তৃতীয় সপ্তাহ শেষ হলেই আমার জন্মদিন। আমরা প্রতিবেশী রাশিরও।

নভেম্বরের সাত তারিখ শাওন আমাকে ফোন করে বলে, আপনার জন্য একটা অতি সুসংবাদ আছে। লেখাটি এইমাত্র আমাকে পড়ে শুনিয়েছে, অসাধারণ লেখা। তাঁর হাতে নীল পদ্ম পাঁচটি- এ নামে তাঁর একটা উপন্যাসও আছে ‘হিমুর হাতে পাঁচটি নীল পদ্ম’- কাল সন্ধ্যায় আপনাকে আসতে বলা হয়েছে। এসে লেখা নিয়ে যান।

পরদিন হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের কিছু খাবার নিয়ে হাজির হয়ে যাই। দখিন হাওয়ায় ফ্লাটের ড্রইং রুমে কার্পেট বিছানো হয়েছে, তার উপর চাদর। গোল হয়ে বসে থাকি সবাই। হুমায়ূন আহমেদ, শাওন ছাড়াও আছেন আলমগীর ভাই, মাজহার, কমল। স্যারের পাশে ভাঁজ করা কাগজ। সবাই এসে গেলে শাওনকে স্যার বললেন - লেখাটি পড়তে।

শাওন হাতে কাগজগুলো নিয়ে বললো - শাকুর ভাই, আপনি হচ্ছেন দ্বিতীয় ভাগ্যবান, যার জন্মদিনের স্মরণিকার জন্য হুমায়ূন আহমেদ লিখলেন। এর আগে শুধুমাত্র ইমদাদুল হক মিলনের জন্মদিনে একটা লেখা লিখেছিল ও। লেখাটি পড়া শুরু করে শাওন।
shakur-and-humayun.gif
তখন শহীদুল্লাহ হলে থাকি। আমার কাজ তিনটা।
১. ছাত্র পড়ানো
২. লেখালেখি
৩. সাহিত্য-প্রেমীদের হাত থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা।
এরকম দুজন সাহিত্যপ্রেমী যুবকের একজনের নাম শাকুর মজিদ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। কোনো এক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। সে দায়িত্ব নিয়েছে ঐ পত্রিকায় আমার লেখা উপন্যাস ছাপবে।

আমি পাকাল মাছের মতো তার হাত থেকে বাঁচার চেষ্টায় জীবণ কাটাচ্ছি। প্রতি সপ্তাহেই ‘উপন্যাস’ কেন দিচ্ছিনা সেই বিষয়ে নতুন নতুন অজুহাত তৈরি করছি। হঠাৎ একদিন পরম করুণাময় আমার উপর করুণা করলেন। সাহিত্য পত্রিকাটির মৃত্যু হল। শাকুর মজিদ নামের অতি আগ্রহী তরুণও ডুব মারল।

তারপর ঢাকা শহরের কলের ট্যাপ দিয়ে ওয়াসার অনেক পানি পড়ল। আমি প্রথম ভুললাম শাকুর মজিদের চেহারা। তারপর ভুললাম নাম। দেড় বছর আগে আবার সে উদয় হল। এক সঙ্গে অনেকগুলো পরিচয় নিয়ে।
১. আর্কিটেক্ট
২. ভূ-পর্যটক [প্রায় রামনাথ]
৩. লেখক
৪. পরিচালক
৫. ফটোগ্রাফার
যখন কেউ নানান দিকে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটায় তখন তার শারীরিক কিছু পরিবর্তন ঘটে। মাথায় চুল কমতে থাকে। শাকুরের ক্ষেত্রেও তাই হল। প্রায় চুল শূন্য মাথার শাকুর মজিদকে চিনতে পারলাম না। আবছাভাবে মনে পড়ল তাকে দেখেছি। কিন্তু কোথায় দেখেছি?
সন্ধ্যা মেলাবার পর প্রায় দিনই আমার বাসায় আড্ডা বসে। আমার অতি ঘনিষ্ঠজন ছাড়া সেই আড্ডায় কেউ আসতে পারে না।

শাকুর মজিদ অতি দ্রুত আড্ডায় স্থান করে নিল। এখন সে নিয়মিত আড্ডাধারীদের একজন। সে কোনো কারণে উপস্থিত না হলে জরুরি টেলিফোন করে আনানো হয়। আড্ডায় এসে সে প্রথম যে বাক্যটি উচ্চারণ করে তা বেশ মজার। সে শুকনা মুখ করে বলে, ‘ঘরে কি কোনো খাবার আছে? আমি ক্ষুধার্ত।’

শাকুর মজিদকে নিয়ে যে গ্রন্থটি তার জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত হবে সেখানে তার Creative নানান দিক নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে। আমাকে তার যে গুণটি আকৃষ্ট করেছে তা হলো সত্য কথা বলার সাহস।

উদারহণ দেই। একদিন আমি তাকে বললাম, তুমি সব সময় একা আসো কেন? তোমার স্ত্রীকে কেন নিয়ে আসো না। সে বলল, আমার স্ত্রী আপনাকে একেবারেই পছন্দ করে না। এই জন্য তাকে আনি না।

অবশ্যই সত্য কথনে সাহস লাগে। শাকুর মজিদ সাহসী মানুষদের একজন। আমি মনে করি তার সমস্ত সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের চালিকা শক্তি এই ‘সাহস’।
শাকুর মজিদ! শুভ জন্মদিন। পরম করুণাময়ের করুণা ধারা তোমার উপর বর্ষিত হোক। জন্মদিনে এই শুভ কামনা।

আমার স্ত্রী তাঁকে পছন্দ করে না বলে যে তথ্য তাকে প্রথম দিনই জানিয়েছিলাম, সে তথ্য তিনি এতো যত্ন করে লালন করে আসছেন! আমি লেখাটি পড়ে কিঞ্চিত চিন্তিত হয়ে পড়ি। কিছুদিন পর, ২২ নভেম্বর আমার জন্মদিন এই বইটার প্রকাশনা অনুষ্ঠান হবে, সেখানে আমার স্ত্রীর সাথে মুখোমুখি হলে হুমায়ূন আহমেদ কী আচরণ করেন চিন্তায় পড়ে যাই।

এমনিতে আমাদের দখিন হাওয়ার আড্ডাবাজেরা ক্রামান্বয়ে প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতে ঘুরে ঘুরে দাওয়াত খাইয়েছেন। আমার বাড়ির দরোজা হুমায়ূন আহমেদের জন্য বন্ধ, সুতরাং আমি দাওয়াত দিতে পারি না। আমি আমার অফিসে তাঁদের সবাইকে ডাকি। আমার অফিসের ছাদটিতে ছাতা টাঙানো একটা অঞ্চল আছে, সেখানে বসে আড্ডা দেই, হোটেল থেকে খাবার এনে খাওয়াই। কিন্তু এবার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হুমায়ূন পরিবার আমার পরিবারের সাথে মুখোমুখি হবে। কী না কী ঘটে যায়, এ নিয়ে আমি আশংকায় থাকি।

২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর। গুলশানের ক্যাডেট কলেজ ক্লাব এর রেস্টুরেন্ট ফ্লোরে আয়োজন করা হয় আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠান (আয়োজক বিয়ানীবাজার বার্তা, খরচপাতি আমার)। প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ, আলোকধনু নামক জন্মদিন স্মারকগ্রন্থের উদ্বোধক হুমায়ূন আহেমদ। আমার বন্ধু-বান্ধব-স্বজনেরা উপস্থিত। প্রায় দেড়শ’ জনের উপস্থিতিতে মোড়ক উন্মোচনের জন্য ডাক পড়লো শুধু হুমায়ূন আহমেদের [আমি স্ত্রীর ভয়ে শাওনকে মঞ্চে ডাকতে সাহস পাইনি, এটা আমার ঠিক হয়নি, শাওনকেও ডাকা উচিৎ ছিলো। ভরসা ছিলো একটা যুক্তি, তা হলো হুমায়ূন আহমেদকেও দেখেছি, তিনি তার স্ত্রীর ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছু করতে বা কোথাও যেতে সাহস পাননি, আমি কোন ছার!]।

উপস্থাপক [আমাদের পঞ্চপর্যটকের স্বঘোষিত টিম লিডার স্থপতি কাজী মোহাম্মাদ আরিফ] আমাকে ডাকলেন সপরিবারে আর ডাকলেন শুধু হুমায়ূন আহমেদকে। হুমায়ূন আহমেদ সুযোগ পেয়ে গেলেন রসিকতা করার। যে বইটির মলাট তিনি ছিড়লেন, তার ভেতর দেখা গেলো অন্য বই। ভুল করে একই রংয়ের মলাট দেখে আরেকটি বই তার হাতে দেয়া হয়েছিল। মজা করার চমৎকার সুযোগ পেয়ে যান তিনি। আমি লক্ষ্য করি, হুমায়ূন আহমেদের প্রতিটি শব্দ উপস্থিত দর্শকেরা প্রাণভরে উপভোগ করছেন। অনেক রসিয়ে রসিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বললেন। আমার প্রশংসাসূচক কেউ কিছু বললে আমার বেশী মনে থাকে না, এজন্য বক্তৃতার বিশদ বর্ণনাও দিতে পারছি না। শুধু একটি কথা মনে আছে, আমার উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন যে, আজকের এই অনুষ্ঠানে এতো লোকের কাছ থেকে এতো এতো প্রশংসা শুনে শাকুরের মধ্যে যাতে কেনো অহংকার না জন্মে এটা আমি তার কাছ থেকে আশা করবো।

আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে মেহমানরা চলে যান। আমার স্ত্রী রেস্টুরেন্ট ফ্লোরে মেহমানদের তদারকি করেন। আমি হুমায়ূন আহমেদ ও তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধুদের নিয়ে ক্লাবের তেতলায় চলে যাই। সেখান থেকে নীচে নামি রাতের খাবারের জন্য রাত সাড়ে এগারোটায়। এসময় আমার স্ত্রী ও দুই পুত্র ছাড়া আর কোনো মেহমান নাই। আমাদের জন্য খাবারদাবার গরম করে দেয়া হয়। আমরা দুই পরিবার আর হুমায়ূন বন্ধুরা এক সাথে খেতে বসি।

টেবিল মাথার আসনে বসেছেন হুমায়ূন আহমেদ। তার ডান পাশের আসনে শাওন, বা পাশের আসনে আমার স্ত্রীকে বসিয়ে আমি বসলাম পাশাপাশি। এবং লক্ষ্য করলাম, খাওয়ার টেবিলে বসে সবাই বেশ খোস মেজাজে গল্প করছেন। আমার আনন্দ বেড়ে যায়।
খাওয়া শেষে আমার ছোট ছেলে ইবনকে নিয়ে গল্পে মেতে ওঠেন হুমায়ূন আহমেদ। কারো কাছ থেকে একটা কয়েন সংগ্রহ করে এটা লুকানোর ২/৩ টা যাদু ইবনকে দেখিয়ে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে মুগ্ধ করে ফেলেন।

এক পর্যায়ে ইবনকে প্রশ্নবানে বিব্রত করা হয়। তাঁর প্রশ্ন - তুমি কাকে বেশী ভালোবাসো? বাবাকে ? না মাকে? একজনের নাম বলতে হবে। ‘দু’জনই’ বলা যাবে না। ইবন প্রশ্নের কোনো জবাব দেয় না।
humayun-and-kids.gif
জলি [আমার স্ত্রী]’র সাথে দেখি স্যারের বেশ ভাব। শাওনের সাথেও দেখি সে হেসে হেসে কথা বলছে।
এক পর্যায়ে স্যার জলিকে বললেন, ‘ভাবী, আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে আগামী কাল সন্ধ্যায় আমার বাসায় আমি আমার মতো করে শাকুরের জন্মদিনের একটা পার্টি দেবো। আপনি কথা দেন যে, আপনিও আপনার বাচ্চাদের নিয়ে আমার বাসায় আসবেন। আমার কিছু বন্ধু বান্ধবকেও দাওয়াত দেবো, তাদের একজনের নাম জুয়েল আইচ।’
আমাকে অবাক করে দিয়ে জলি রাজি হয়ে গেলো। ঠিক হলো, কাল সন্ধ্যায় আমরা ‘দখিন হাওয়া’য় যাবো।
পরদিন দুপুর বেলা শাওনের ফোন। ‘শাকুর ভাই, প্রোগাম ঠিক তো!’
আমি বললাম, সব ঠিক। সাড়ে সাতটায় চলে আসবো।
যে ‘দখিন হাওয়া’র বাসায় যাওয়া নিয়ে এতোদিন মুখ কালো করে রেখেছিল জলি, সে আমার সাথে যেতে রাজি হয়েছে, আমরা যথারিতী গিয়ে হাজিরও হই।
হুমায়ূন আহমেদ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে জলিকে গ্রহণ করেন। আলাপের এক পর্যায়ে খুব সুন্দর করে বলেন, ‘ভাবী, আমরা আগামী সপ্তাহে নেপাল যাবো। আমার ইচ্ছা শাকুরও আমাদের সাথে যাবে। কিন্তু সে বলছে, তার স্ত্রী ছাড়া সে আমাদের সাথে যাবে না। ভাবী, আমার অনুরোধ আপনিও আমাদের সাথে চলুন।’
জলি বলে - আমার তো জিও (সরকারি আদেশ) লাগবে [তখন সে জগন্নাথ কলেজের সহকারী অধ্যাপক]। হুমায়ূন আহেমদ বলেন - এটা আমার দায়িত্ব। আমি কালকের মধ্যে করে দিব।
কিন্তু তারপরেও কথা এগোয় না। জলি স্পষ্ট করে বলে না, সে আদৌ যাবে কি না।
আলাপের প্রসঙ্গ পাল্টায়। কিন্তু নেপাল বারবার ঘুরে আসে। হুমায়ূন আহমেদ আর শাওন পাশাপাশি বসা। আছেন আলমগীর ভাই, আর্কিটেক্ট করিম ভাই, মাজহার, কমল। শাওনকে একটা গান গাইতে অনুরোধ করেন হুমায়ুন আহমেদ। রবীন্দ্র সঙ্গিত।
গান শোনা শেষ হলে হুমায়ূন আহমেদ বলেন, একবার [সম্ভবত ১৯৯৭-৯৮ সালে] নেপালে তারা বেড়াতে গিয়েছিলেন। একটা পাহাড়ের নীচে একটা খুব সুন্দর নদী। সেই নদীতে একটা নৌকার উপর বসে তিনি এই গানটি শুনেছিলেন শাওনের কণ্ঠে। সেদিনই তার মনে হয়েছিল, এ রকম গান যে মেয়ে গাইতে পারে, তার হাত ধরে একটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়।
সেই থেকেই মূলত: শাওনের সাথে তাঁর সম্পর্কের সূচনা।
জলি সব শুনে কিছু বলে না। নেপালের ব্যাপারে আমাদের কোনো সিন্ধান্ত হয় না। বলা হয়, আগামীকাল সে জানাবে। আমাদের আসর চলতে থাকে।

খাওয়া দাওয়া হয়ে যায়। আবার বসা হয় গানের আসরে। এক পর্যায়ে হুমায়ূন আহমেদ বলেন, গত কালের অনুষ্ঠানে যাবার আগে শাওন একটা গান প্রাকটিস করে গিয়েছিল। তার ইচ্ছা ছিলো অনুষ্ঠানে এ গানটির চার লাইন সে খালি গলায় গেয়ে শোনাবে। কিন্তু কেউই তাকে ডাকেনি বলে গানটি সে শোনাতে পারেনি। এ গানটি এখন শাওন গাইবে। রজনীকান্তের গান। শাওন গান ধরলো -

আমি অকৃতি অধম বলেওতো কিছু কম করে মোরে দাও নি
যা দিয়েছো তারই অযোগ্য ভাবিয়া কেড়েওতো কিছু নাও নি

আমার মনে হলো। আমি কি এমন রসগোল্লা হয়ে গেছি যে, আমাকে তুষ্ট করার জন্য হুমায়ূন আহমেদ এমন আয়োজন করবেন?
কিন্তু আমি নিশ্চিত, এটা আসলে আমার জন্য ছিলো না। হুমায়ূন আহমেদ আসলে চেয়েছিলেন আমার স্ত্রীর মুগ্ধতা। এতো বড় একজন মানুষ তার স্বামীর জন্মদিন উপলক্ষে দ্বিতীয়বার শুধু তার জন্য এ আয়োজন করছে দেখে পতিপ্রাণা এই স্ত্রী কী রকম মুগ্ধতা প্রকাশ করেন সেটা দেখার জন্যই ছিল তার এই আয়োজন।

পুনশ্চ : ‘দখিন হাওয়া’র বাড়ি থেকে বেরুনোর পর নিজের বাসায় যাওয়া এবং পরবর্তী সকাল পর্যন্ত আমার স্ত্রী কোনো কথাই বলেন না। নেপাল যাওয়ার বিষয়ে আমি আমার স্ত্রীর সাথে আলাপ করারও সুযোগ পাই নি।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (১৬) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আতাউর রহমান — নভেম্বর ২২, ২০১২ @ ১:৫৫ পূর্বাহ্ন

      শাকুর ভাই’র লেখাটি চমত্কার। মনে রাখার মত। এত সুন্দর করে ভাব প্রকাশ করার ভঙিমা ক’জনার থাকে। স্মৃতিচারণ এসেছে অবলীলায়। লেখক তাঁর লেখাটিতে অতীতকে শক্তিতে রুপান্তরিত করেছেন। বর্তমানকে ইশারায় টেনেছেন সুনিপুণভাবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Abu Raihan — নভেম্বর ২৩, ২০১২ @ ১২:০১ পূর্বাহ্ন

      Thanks for ur writing.Why was there a conflict between ur wife and Humayun Ahmed ?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Arin Amir — নভেম্বর ২৩, ২০১২ @ ৩:৩৭ অপরাহ্ন

      I am really amazed to read this write-up of Shakur Majid. This is very clever . Your wife is a lady with deep conviction, she is not easily amazed!

      Arin Amir

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Anwar — নভেম্বর ২৭, ২০১২ @ ৫:১২ অপরাহ্ন

      ভালো লাগলো ।
      হুমায়ুন আহমেদ এমনই এক যাদু।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Tarun — নভেম্বর ২৯, ২০১২ @ ১:১৬ অপরাহ্ন

      অনেক ভালো লাগলো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shomikoron Shawmadhan — নভেম্বর ২৯, ২০১২ @ ১১:২৮ অপরাহ্ন

      আমি জানি ক ভাবে ভালো লেখাকে ভালো বলতে হয় আর শাকুর শাহেব জানেন কিভাবে ভালো লিখতে হয়।

      ভালো বেশ ভালো লাগলো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Onik — december ১, ২০১২ @ ১:৪৪ অপরাহ্ন

      সাকুর ভাই, লেখাটি পরে অনেক ভাল লাগল, হুমায়ুন স্যার চিরদিন আমাদের মাঝে থাক্ববেন ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন najneen — december ৩, ২০১২ @ ২:০৯ অপরাহ্ন

      valo lagloo…….jani na keno jeno…somosto kichu Humayun Ahmed er valo lage. take keo like kore or dis like kore …everything valo lage. Sakur bhi er wife-er moto onek vhabi achhe jara baire theke dis like kore but vitorer modhhe theke 1000000000000000 % like kore.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Irin Sultana — december ৪, ২০১২ @ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

      Humayan Ahmed chole gelen bes kiso din…. kintu amader maje thakben ajibon… Sakur bhir lekha osadharon… lekha ta pore chokh vije gelo jol a… thik amni kore sob reader der mone thik amni vabe beche thakben amader prio Humayan Ahmed…. Its miracle…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন akbar — december ৯, ২০১২ @ ১০:৫৮ অপরাহ্ন

      আসলে এ রকম লিখা আসা দরকার। আমাদের অনেক অজানা অনেক ঘটনা আসা দরকার হুমায়ুন স্যারকে নিয়া । আমরা জানতে চাই আর অনেক কিছু ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন FAISAL — december ১১, ২০১২ @ ৩:৩০ অপরাহ্ন

      Its really nice to read this story about Humayun Ahmed. But we are not clear about conflict between humayun ahmed & your wife……
      pls finsh this story and clear us all.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mamun — december ১১, ২০১২ @ ৩:৪৫ অপরাহ্ন

      ami to vebecilam ei lekha ta humayon sir-er lekha……. apni aro likhun…. jonab

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shahed, sylhet — december ১৯, ২০১২ @ ২:২৪ পূর্বাহ্ন

      খুব ভাল লাগল ।রতনে রতন চেনে। শাকুর ভাই আমাদের গরব ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবিদুল ইসলাম রিমন — december ২১, ২০১২ @ ৩:৩৭ অপরাহ্ন

      ভালো লাগলো…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মো: ইস্রাফিল হোসেন — december ৩০, ২০১২ @ ১২:২৪ অপরাহ্ন

      অনেক ভালো লাগলো

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com