গুচ্ছ কবিতা
কবিতা কখন
ম ম মধু খেয়ে
কবিতায় চাক বাঁধছে নাগরিক মৌমাছিরা
সদাগরী অহংকারে ফ্রয়েডিক জপ স্তব
গমগম সভাকক্ষ
বিয়োগের ব্যথা নিয়ে নকশা তুলছে
অন্ত্যমিলে
হিলস্টিকে কেঁপে ওঠে লাস্যময় একাডেমি
শৃঙ্গারের ফণা তুলে
হিস্ হিস্ শব্দ আসে কানে
ভাব-কবি দুধে ভাতে বিভাবে বেশ আছে।
ঈশ্বর
চোখের পাতা ভিজে এল ঈশ্বরের স্মৃতিতে।
ঈশ্বর মানে ঈশ্বরচন্দ্র
এক অশরীরী মানবাত্মার ক্রন্দনে মগ্নতা ভেঙেছে দেবলোকে
ব্রহ্মা এলেন ঈশ্বরকে নিয়ে ক্ষীর সমুদ্রের পাড়ে।
একটা গাছে সুঁতো বাঁধা। দেবতারা বেঁধে গেছে
পৌরুষত্ব মানত করে।
ঈশ্বরের সারা গা চুম্বন করতে করতে
হাউ মাউ শব্দে কেঁদে উঠলেন ব্রহ্মা:
আমাকে পৌরুষ দাও।
দেবলোকের অনুরোধে বিষ্ণু বললেন:
তোমার সনেটটা শোনাও না মধু একটিবার।
বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত….
‘সাগর’ শব্দে ত্রিভুবনে জোয়ার এল।
ব্রহ্মার শুকনোবুকে ঢেউ জাগল
বিড় বিড় করে বললেন,
অণ্ডদেশে পৌরুষ দাও আমায়
নইলে
পঞ্চভূত মিথ্যা। মিথ্যা মিথ্যা
ঈশ্বরের চোখ থেকে দু’ ফোঁটা অশ্রু পড়ল।
সিক্ত হল ব্রহ্মারর অণ্ড। দ্যুতিময় হল ভুলোক দেবলোক।
সমর্পণ
সমর্পণ ছাড়া
নির্মাণের কোন অর্থ হয় না
নারীর কথা বলো
আর
নিসর্গের কথা বলো
সমর্পণ ছাড়া লীলা হয় না
আমি শুঁকে দেখেছি
গুমে যাওয়া শব্দকে
অন্ধকারে সেই শব্দ ফুটেছে
উথলে পড়েছে ফ্যান
ভাতের গন্ধে রাতে জেগেছে কোলাহল।
অবগাহন
যোগনিদ্রা ভেঙ্গে বিষ্ণু চাইলেন:
তুমি, জাতিসত্তার কবি
কবিতা-বাংলায় বেঁধেছো জগৎ প্রপঞ্চকে
তাই এত ব্যথা মোচড় দিয়েছে স্রোতে
প্রেতের শরীরে জেগেছে প্রারম্ভের বোধ।
শিউরে উঠল ঝাউ পড়ন্ত বেলায়
ছায়া দিয়ে শেকড় লিখেছে
কবি-র জন্মদিনে শুভেচ্ছা বার্তা।
বিষ্ণু বললেন তামাটে জাতির
এক প্রত্ন মেয়েকে ডেকে:
আমাকে জাতিসত্তার কবি-র একটা কবিতা শোনাবে
যে কবিতায় স্নান সেরে
অবগাহনের সত্যকে জানবো
সার্থক হবে আমার দেবজন্ম।


কবির প্রতিটা কবিতা মন ছুঁয়ে গেল যে..প্রতিটা পংতিই অনবদ্য…কবির প্রতি অনেক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা..।