গিরিশ কারনাডের নাইপল-সংহার
পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত বিখ্যাত ভারতীয় লেখক, নাট্যকার ও অভিনেতা গিরিশ কারনাড সম্প্রতি মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে নোবেন লরিয়েট ভি. এস. নাইপলের ওপর বিরূপ মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। তাঁর আক্রমণের বিষয় নাইপলের ইসলাম-বিরোধী মনোভাব এবং ভারত-বিদ্বেষ। তিনি নাইপলকে দেওয়া লিটফেস্ট সম্মাননার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

কারনাড নাইপলের কিছু সাহিত্যকর্মের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত শুক্রবার (০২ নভেম্বর, ২০১২) টাটা লিটারেচার লাইভ লিটফেস্টেরস এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ত্রিনিদাদিয়ান-ব্রিটিশ লেখকের ওপর এ আক্রমণের সূত্রপাত করেন। নাইপল অবশ্য এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, নাইপল বর্তমান সময়ের একজন শক্তিমান লেখক হলেও তিনি ভারতীয় নন। তাঁর অভিযোগ, নাইপল তাঁর সাহিত্যে তাজমহলকে বিবর্ণরূপে চিত্রিত করেছেন। নাইপল বলেছেন, তাজমহল একটি অপচয়ী ও নীতিবিবর্জিত স্থাপত্য। এটি এতোটা নিষ্ঠুর যে সেখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। এতে শ্রমিকের রক্তের দাগ লেগে আছে।
কারনাডের আরো অভিযোগ, নাইপলের সাহিত্যে ভারতের যে চিত্র পাওয়া যায় তা সন্দেহজনক। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ১৯৭৭ সালে লেখা ‘ইন্ডিয়াঃ এন উণ্ডেড সিভিলাইজেশন’। আহমেদাবাদের এনআইডির প্রাক্তন পরিচালক অশোক চ্যাটার্জির উদ্ধৃতি দিয়ে গিরিশ বলেন, বইটিকে কল্পকথা হিসেবে আখ্যায়িত করা উচিত। নোবেল পুরস্কার তাঁকে ভূঁইফোর প্রভাবশালীতে পরিণত করেছে।
কারনাড দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে নাইপল দিল্লীর বিজেপি অফিসে গিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অযোদ্ধা এক ধরনের প্রেম। যে কোনো প্রেমই সৃজনশীল। প্রেম মানুষকে সৃজনশীল করে তোলে। উইলিয়াম ডালরিম্পলের মতো বিদেশী লেখক এ ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, নাইপল ভারতীয়দের কাছে বিদেশী। এমন একজন বিদেশীকে কেনো ভারতীয়রা সম্মানিত করবে যিনি মুসলিমদের বলেছেন ‘আক্রমণকারী’ ও ‘হত্যাকারী’? ‘এ ব্যাপারে আমার চরম আপত্তি। আমারও তো মুসলিম বন্ধু আছে,’ কারনাড বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই অবশ্য কারনাডের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। নাইপলের বন্ধু লেখক ফারুক ধনি শ্রোতাদের মধ্য থেকে প্রশ্ন করতে উঠে দাঁড়িয়ে যান, কিন্তু কারনাড কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন। ধনি জেদ করে বলেন, এ অনুষ্ঠানটি এমন এক আদালতে পরিণত হয়েছে যেখানে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বিচারের রায় ঘোষণা করা হলো।
অনুষ্ঠানের পরিচালক অনিল ধারকার কারনাডের বক্তব্যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি কারনাডকে লক্ষ করে বলেন, ‘আপনাকে এখানে ডাকা হয়েছিলো আপনার নাট্যজীবন সম্পর্কে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য, একজন নোবেলবিজয়ী লেখকের সমালোচনা করার জন্য নয়। আমরা তাঁকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছি তাঁর সারা জ়ীবনের সাহিত্যকর্মের জন্য, কোনো বিশেষ লেখার জন্য নয়। এভাবে একজনকে আক্রমণ করা ভদ্রোচিত হয়নি।
কারনাড অবশ্য তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন নি। তাঁর যুক্তি, ‘এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে নাইপলের সম্পর্ক আছে, কাজেই আমি তাঁর সম্পর্কে বলতে পারি। আমি অনাহুত নই।’
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ধনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, নাইপল কখনোই অযোদ্ধা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। ওসব কারনাডের বানানো কথা। নাইপলের স্ত্রী নাদিরা একজন মুসলমান এবং তাঁদের দত্তক সন্তানও মুসলমান। তিনি সবসময় ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
গত বুধবার (৩১ অক্টোবর, ২০১২) মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল সেন্টার অফ পারফর্মিং আর্টস (এন.সি.পি.এ.)-এর লাইফফেস্ট ভেনুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নাইপলকে টাটা লাইফটাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সেখানে স্ত্রী নাদিরাসহ নাইপল নিজে উপস্থিত ছিলেন।
(দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে। অনুবাদঃ বিনয় বর্মন)


নাইপল এর Among the Believers: An Islamic Journey পড়লে তাকে অনেকেই ইসলাম বিদ্বেষী ভাবতে পারেন।
বিনয় বর্মনের অনুবাদ লেখাটি পড়ে ভালো লাগল।
অনুবাদক বিনয়কে বিনয়ের সাথে ধন্যবাদ……….
-নাফিজ আশরাফ
নভেম্বর ১২.২০১২
নাইপলের লেখা আমার কাছে ভাল লাগে। তার এমাং দা বিলিভার্স, বিয়ন্ড দা বিলিভ বইদুটো আমি পড়েছি। কোথাও অতিরঞ্জন মনে হয়নি। আমার বরং মনে হয়েছে, তিনি বাংলাদেশে আসেননি কেন? তাহলে আমাদের দেশ সম্পর্কে তার নির্মোহ বিশ্লেষণ, বর্ণনা পেতাম। যাহোক, বিনয় বর্মনকে ধন্যবাদ তার সুখপাঠ্য অনুবাদের জন্য।