গুচ্ছ কবিতা
একমগ প্রেম
এই অঙ্গ খাটো
খানিকটা বাঁকা
যদ্দুর বাকানো যায়
তবু তুমি সোজা
মানে সহজের বোন
যদ্দুর সরল করা যায়।
হাতে হতে মাথা
মুখে মুখ মুখাগ্নির
ধারালো ঠোঁটের টান
সাড়ে তিন দেহ
ক্ষণে ক্ষণে অবরোহ
নাকি আরহের গায় গান।
উরু যেন অঙ্ক
বীজ হতে উঠা
যেন যুক্তিনাশক হরিণ
সীমান্ত না মানা
মানে দেহের ভাষার
দেহটাই শেষ মানবিক।
নদী আর পানি
কত কানাকানি ঢেউ
যেন খালে ডুবা চারদিক
কেমন রোহিঙ্গা
তুমি এক মগ চুমু
দাও আরাকানি বলে
কোন হে পুরুষ
নাফ নদে ভাসে
টেক নাফের বদলে।
শান্তিপুর ডুবুডুবু মদে ভেসে যায়
কে ডুবিল কে ডুবিল
কে ভাসিল জলে
আজলে মরিয়া সই
না বলি তোমায়
শান্তিপুর ডুবুডুবু মদে ভেসে যায়
ডুবিয়া উঠিল প্রেম কানায় কানায়
ডুবিয়া ডুবিয়া ভাসে
আন্ধার মাজারে
হাজারে হাজারে ঘাম
শ্বাসে শ্বাসে ঝরে
কে তুমি চুমার নারী কর হে বিহার
একি অঙ্গ কত কাঁপে জান কি তাহার
কাঁপে অঙ্গ মাপে তল
নিরক্ষর ঘরে
চুমুতে রক্তের দাগ
মাদুলি কি ধরে
মদন মদন ডাকে মদিরার ঘ্রাণে
কামে না কামনা কামিনীর প্রাণে
২১/৬/২০১২
প্রেম এক কিসিমের ভূমিকম্প
এত কেন যে কাতর
কেন এত নাচিতেছে মন
দেহ যায় দেহেরে বাহিরে
কম্পন আসিয়া ঘিরেতেছে তারে
বারে বারে যেরবারে পা’য়
দিন কত দিন বাদে
তবু, মনে মনে বাধে
নাবালক কালে দুলুনির
সহায় মায়ের কোল
আহা কত আদরের দুলুনি
এ হেন সাবালক আমলে
দুলুনির স্থল ভূমি
হায় তুমি দুলনির কেন্দ্র
কত না কাতর
কতই না অসহায়
যেন পুলসিরাতের সাঁকো
কাঁপিতেছে পায়ে
তুমি ভয়ে ভয়ে
তোমাকে জাপটে ধরো
একা এই ঘাপটির ঘোরে
হৃদয় ছিটকে পড়ে
কত দূরে?
১৮/৩/২০১২
ওঠো বাউন্ডুলে
কত দূর হতে কথা কও সোনা
তুমি বসিয়াছ বুকে ধুকে ধুকে
আমি তো অবশ সখি, গান গান শুনে।
হাতে গুনে গুনে মনে দোনামোনা
এই লো দেখিব, হাতের পাঁচ আঙুলে
নাচ রক্তে রক্তে, ওঠো বাউন্ডুলে!
চুমো দিলে দাও না দিলে জমা রাখ ঠোঁটে
বাকি দিন বাক স্বাধীনতা দিয়ে যাও
ধ্বনি হতে ভাব অভাবের কেচ্ছা শোনাও।
বাসবার কথা কয়ে কোন ডালে ফোটে
চেন বা না চেন কি আসে যায় চেনার
ফাঁক হচ্ছে হৃদয়, দেখ এই মুখ কার?
উত্তরে বিদায়, পশ্চিমে তুলেছি প্রশ্ন
দখিনের বায়ু কয়, হৃদয়ের মুক্তি ছাড়া
মানুষের আর কোন বাক স্বাধীনতা নাই।
২৫/১০/২০১২
স্বপ্নে মো ইয়ানের প্রস্তাব
গতকালি মাঝরাতি ছাড়িয়া অদ্ভুদ এক স্বপ্ন দেখিলাম। দেখিলাম মো ইয়ান আমারে এক ফিরিস্তি প্রস্তাবিছেন। কহিলেন, বাছা তোমার ‘কার্ল মার্কসের ধর্ম’ চিনা ভাষায় তরজমা করিতে চাহিতেছি। বলিলাম, অনুমতি দানে মতির কৃপণতা নাই। খুশি হইলেন তিনি, বাহ! কহিলাম তাহাকে, বাংলা একাডেমির লোকজন চিনা ভাষা দেখিতে পায় না। তো মুশকিল হইবে। কেননা অন্ধ লোকের সন্দেহ বাতিক বেশি! তাহারা বাধ সাধিতে পারে। তো এই আদি বাংলার চিনা ভাষায় লাভ কি? মো কহিলেন, তাহা চিনা আদি। আদি চিনা ভাষাকে আমি বিবাদি করি নাই। তোমার ভাষাও খানিক তাই। তাহাতে আমার শ্বাস স্বাভাবিক হইয়া উঠিল।
২০/১০/২০১২


কবিতা গুচ্ছ পড়িয়া মুগ্ধ হইলাম। বিশেষ করিয়া মো ইয়ানের প্রস্তাব কবিতাটি বিশেষ ভাবে ভাল লাগিল। সাখাওয়াত আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।
সাখাওয়াত টিপুর কবিতায় প্রাণের ছোঁয়া পাওয়া যায় — পাওয়া যায় নন্দনের চন্দনগন্ধ, ব্রাত্যবুকের গভীর নিঃশ্বাস। কবি একমগ প্রেম পান করেন দ্বিধান্বিত চিত্তে, কারন রোহিঙ্গারা তখন বাস্তুহারা, তাদের জীবন ভাসমান নাফ নদীতে। ঘোর দুঃসময়ে কবি সুরার সুরে ডুবে সমস্ত কষ্ট ভুলতে চান। চুমুতে রক্তের দাগ দেখে তিনি আঁতকে ওঠেন। যখন শান্তিপুর ডুবুডুবু মদে ভেসে যায়, তখন কামিনীর প্রাণে আর কামনার উদয় হয় না। কবি প্রেমে আশ্রিত নন। তার কাছে প্রেম এক কিসিমের ভূমিকম্প যা তার হৃদয়কে ছিটকে ফেলে দেয় দূরে। কবি নিপীড়িতকে জেগে ওঠার তাগিদ দেন, চিৎকার করে বলেন, ওঠো বাউন্ডুলে! বাহিরে বাক স্বাধীনতা যখন রুদ্ধ, তখন তার মনে হয় হৃদয়ের মুক্তি ছাড়া মানুষের আর কোন বাক স্বাধীনতা নাই। চিনা ভাষায় কার্ল মার্ক্সের অনুবাদ নিয়ে কবি কথা বলেন নোবেলবিজয়ী মো ইয়ানের সঙ্গে। স্বপ্নে মো ইয়ানের প্রস্তাব এক ধরনের কাব্যরসিকতা, যা পরাবাস্তবের ছোঁয়ার প্রাণবন্ত। সবগুলো কবিতাই ভালো লেগেছে। কবিতাগুলো উত্তরাধুনিক জীবন ও শিল্পদৃষ্টির জটিলতাকে ধারন করে, বিশেষ করে লজিক্যাল ক্লেফট (logical cleft) বিবেচনায়। এদের শক্তিময়তার বড় দিক হলো সময় ও সমাজ ঘনিষ্ঠতা এবং ভাষা ও প্রকাশের অভিনবত্ব। কবিকে অভিবাদন পাঁচটি সুন্দর কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য।
Thanks for your nice poem. That we feel when we share with love.. best luck
দূর-দান-তো!
কাব্যভাষার চলতি রূপের ভিড়ে মাঝে মাঝে সাধু বা জীবনানন্দীয় সাধুভাষার ব্যবহার ভালোই লাগে। কবিতায় ইদানীং আপনার মধ্যে এইটা পাই, আর গদ্যে সলিমুল্লাহ খান। প্রেম এক কিসিমের ভূমিকম্প কবিতাটি বেশি ভালো লাগলো। ধন্যবদা কবিকে।