প্লাতনিয় সক্রাতেসের সহিত কবিতা বিষয়ে সামান্য তর্ক

জাহেদ সরওয়ার | ১৭ আগস্ট ২০১২ ৭:৩১ অপরাহ্ন

“টাকার থলি হাতিয়ে নিয়ে পালাল চোর/ দড়ি একটা গেল ফেলে মনের ভুলে/থলির মালিক হারিয়ে টাকা মনের দুখে/ সেই দড়িতেই ফাঁস লাগিয়ে পড়ল ঝুলে।” (গলায় দড়ি)

সাম্প্রতিক কবিতার আবেদন ও প্রবণতা বাদ দিয়ে যদি আমরা এই কবিতাটা পড়ি তাহলে ছোট এই কবিতাটা, কিন্তু জীবন্ত। যেন অনুভূতির সর্বোচ্চ কাশ। টাকার থলি নিয়ে চোর পালিয়ে যাওয়ার পর যে ফাঁকটা তৈরি হয়েছে তাকে মালিকের জন্য গলার ফাঁস বলে বয়ান করা হয়েছে কবিতাটায়। সত্যিকার অর্থে হয়তো চোর দড়ি ফেলে যায়নি। টাকা চুরি যাওয়ার পর পরিস্থিতিটা যা নাই তাকে ধারণ করেই তৈরি হয়েছে। কারণ টাকার থলিটা হয়তো একজনের মুলধন, হয়তো একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তার পণ্য বিক্রি করে বাজার থেকে ফিরেছেন, হয়তো তিনি কারো অসুখের জন্য টাকাটা জমিয়ে রেখেছেন। থলির মালিকের মনের দুঃখ থেকেই তা অনুমান করা যায়। এখানে একধরণের বিষাদ তৈরি হয়েছে। এ থেকে দুটি মানুষের চরিত্র ও তাদের কর্ম সম্পর্কেও আমরা ধারণা লাভ করতে পারি। আবার শিশুদের পাঠ্য বইয়ে এই কবিতাটা ছাপা হলে এ নিয়ে নানান রকম নীতি গল্পও তৈরি করা যায়। যেমন চুরিবিদ্যা খারাপ কেননা তা মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সুতরাং চুরি করা যাবে না। আবার বলা যাবে টাকা হারানো খুব দু:খের কিন্তু তাতে যেন টাকা হারালেই আমাদের পরিণতি অই লোকের মত না হয়। যেন আমরা এমন দু:খ না পাই যাতে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়তে হয়। কারণ জীবন অনেক বড় হয়তো নিজেদের চেষ্টায় আমরা আবার টাকার মালিক বনে যেতে পারি। কিংবা এই কবিতাটা :

“আকাশে তাকিয়ে তুমি/ দেখো তারা হাজার হাজার;/ আমি যদি আকাশ হতাম/ হাজার হাজার চোখে তাকাতাম/ তোমার দিকেই শুধু।” (আকাশ)

“অথবা, আপেল দিলাম উপহার/ নিও যদি ভালোবাসো/ দিও মন বিনিময়ে তার/ না দিলেও, এই ফল লাল/ হাতে নিয়ে দেখো রূপসীর/ আয়ু কতকাল।” (রূপসীর আয়ু)

‘আকাশ’ কবিতাটায় প্রেমাস্পদকে এমন গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সবদিক দিয়ে তাকে সুখী করার একটা প্রত্যয় ব্যক্ত হচ্ছে এই কবিতায়। ঐশ্বরিক নিরাপত্তায় বা ক্ষমতায় তাকে রক্ষা করবার বাসনা।
‘রূপসীর আয়ু’ কবিতাটা লাল আপেলকে একটা প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে যা একই সাথে ক্ষণস্থায়ী ও সুন্দর। ঠিক যেন মানুষের আয়ুর মত। ফলের যেমন আয়ু বেশি না তেমনি মানুষেরও আয়ু চিরকালীন না। এই ফলের মতই একদিন নিঃশেষ হবে জগতের সবচাইতে সুন্দরীও। সুতরাং ভালবাসা টুকুকে হারিও না। ভালবাসা নিলে ভালবাসা দিও। প্রেমের আবেদনের অসামান্য প্রকাশ। যা মানুষের মনের ভেতর যেন আরেকটা মন সৃজন করে তাকে আরও সুন্দর ও গভীর করে অনুভব করতে শেখায়। অনুভবকে আরো গভীরতরভাবে প্রকাশ করতে শেখায়। তাহলে দেখা যায় সামান্য অনুভূতির অসামান্য শব্দে সুন্দরতম প্রকাশভঙ্গিই কবিতা।

উপরোক্ত কবিতা তিনটি রচিত হয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রীসে। আর কবিতা তিনটার রচয়িতা মানবজাতির অন্যতম শিক্ষক প্লাতন। হাজার বছর পরেও এই অনুভূতি পুরানো নয়। যে কেউ এখনো এই কবিতা পড়ে অনুভব করতে পারে।
কবিতায় প্রকাশের এই সত্যকে তখনই অনন্তকাল পরেও অনুভব করা যায় যখন তা সত্যাশ্রয়ী। আর যদি কোনো মিথ্যা বিষয় নিয়ে কারো সুনামগীতি বা দুর্নামগীতি বয়ান করা হতো তাহলে হয়তো এসব কেউ মুখেও নিত না।

যাইহোক প্লাতন এমন এক দার্শনিক, জগতের সমস্ত সূক্ষ্ম ব্যপারা নিয়ে যিনি তর্ক করেছেন। যা থেকে বাদ যায়নি কবি আর কবিতাও। ‘গণরাজ্য’ কিতাবে তিনি এ নিয়ে একটা অধ্যায়ই রচনা করেছেন। এবং হতভম্ব হবার মত ঘটনা হচ্ছে প্লাতনিয় সক্রাতেস তাদের কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্র থেকে কবিদের বহিষ্কার করেছিলেন।

কোন আত্মসন্ধানী কবিতা রচয়িতা প্রথমদিকে কবিতা লিখতে লিখতে যে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় তা হচ্ছে, প্লাতনের মত মানবজাতির শিক্ষক কেন কবিদের মত অনাসক্ত মানুষকে তাদের কাল্পনিক রাজ্য থেকে বহিষ্কার করেছিলেন, যেখানে তিনি নিজেই কবি হিসাবে মোটামুটি নাম করেছিলেন। যদিও হোমারের মত গণকবি হিসাবে নয়। এবং খুব স্বভাবতই কবিতা বিরোধী শিবিরে এই অভিযোগ মহীরুহ হয়ে দেখা দিয়েছিল যা এখনো বহমান।

রিপাবলিক কিতাবে প্লাতনিয় সক্রাতেস ও গ্লোকনের তর্কের মাধ্যমে বুঝা যায়, তাদের অভিযোগ কত কৃত্রিম ও খেলো।
প্লাতনিয় সক্রাতেস বলেন;
“এ নির্বাসনের দাবী যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু যদি বলা হয় যে, কাব্য বাদে আমরা অচেতন এবং বর্বরে পরিণত হইব, তাহা হইলে আমাদের জবাব হইবে: দর্শনের সহিত কাব্যের বিরোধ একটি পুরাতন বিরোধ। এই প্রাচীন বিরোধের দৃষ্টান্তের অভাব নাই। ‘জন্তুটি প্রভুর দিকে মুখ ব্যাদান করিল’ শূন্যমস্তিস্ক নির্বোধের মধ্যে তিনি সম্মানের পাত্র’ অথবা ‘বুদ্ধিতে অতিশয় স্ফীত মস্তিষ্কওয়ালাদের দল’ এবং ‘বুদ্ধিতে ভারী বটে কিন্তু সম্পদে সর্বহারা ভিক্ষুক’ ইত্যাকার উক্তি আমাদের অপরিচিত নহে।”

দার্শনিক সোরেন কিয়ের্কেগার্দ বলেছিলেন, কবি কি? কবি হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যাঁর হৃদয় জুড়ে থাকে গভীর যন্ত্রণা; কিন্তু তাঁর ওষ্ঠ দুটি গড়া এমন ছাঁচে যে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা কান্না বা কাতরতা রূপান্তরিত হয় চমৎকার এক সঙ্গীতে। তাঁর ভাগ্য সেই অত্যাচারী ফ্যালারিস-এর হতভাগ্য শিকারদের মত, যাঁদের বন্দী করেছিলেন এক পিতল নির্মিত ষাঁড়-এর অভ্যন্তরে এবং প্রজ্জ্বলিত এক অগ্নির দ্বারা ধীরে ধীরে দগ্ধ করেছেন। তাঁদের কান্না সেই অত্যাচারীর কানে কখনোই পৌছায়নি এমনভাবে, যাতে তাঁর হৃদয় কম্পিত হতে পারে ভয়ে। বরং তা মধুর সঙ্গীত হয়ে বেজেছিল তার কানে। মানুষ ভীড় জমায় কবিকে ঘিরে, তাঁকে বলে ‘আপনি আবার সঙ্গীত শোনান আমাদের’ – এর মানে এ কথা বলা ‘নতুন নতুন যন্ত্রণায় দগ্ধ হোক আপনার হৃদয়, কিন্তু আপনার ওষ্ঠদ্বয় গড়া থাক সেই ছাঁচেই, যা থেকে যন্ত্রণা ধ্বনিত হয় সঙ্গীত হয়ে। কান্না আমাদের কষ্ট দেয়; কিন্তু সঙ্গীত? সঙ্গীত দেয় অপার আনন্দ।’

তাহলে দেখা যাচ্ছে কবি এমন একজন মানুষ যন্ত্রণাদগ্ধ কান্নাকে তিনি রূপান্তরিত করেন সঙ্গীতে। কবির কাজ বস্তুর আত্মা নিয়ে। যে কোনো বস্তু কবিতায় জীবন্ত, ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে প্রকৃত কবির উচ্চারণ জগত-আত্মার উচ্চারণের সামিল। কবিতার জন্মমূলে থাকে বেদনা ও বিদ্রোহ। বেদনার ভেতরে থাকে সুনির্দিষ্টি ইতিহাস চেতনা। ঐতিহাসিক শ্রেণী-চৈতন্যই পরিণত হয় বিদ্রোহে। সে ক্ষেত্রে প্রকৃত কবি কখনো দাসত্ব মানে না। কবির আত্মা অনন্ত স্বাধীনতার স্মারক। কোনো মানুষেরতো নয়ই, এমনকি কোনো প্রাণীর দাসত্বকেও তিনি মেনে নিতে পারেন না।

ফলে প্রভুর দিকে তাকিয়ে মুখ ব্যাদান করাই তার কাজ। আর জনসাধারণ কবিতা বোঝেনা এ ধরনের অভিযোগ সত্বেও জনসাধারণের মাঝে কবিদের যে রকম প্রভাব, আর কারও সে রকম প্রভাব কল্পনাও করা যায় না। এখনো পৃথিবীর নেতারা তাদের বক্তৃতা দেয়ার আগে কবিতা আওড়ায়। কারণ ভাষাকে সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার করতে গেলে কবিতার বিকল্প হয়না। হয়তো হোমারের জনপ্রিয়তাই ছিল প্লাতনের অপছন্দের বিষয়।

বুদ্ধির চাইতে কবি চালিত আত্মা দিয়ে। কবিকে বুদ্ধিমান বলা যাবে না। তাকে বলা যায় আত্মার কণ্ঠস্বর। কবি সবসময় জগতের নির্যাতিতের পক্ষে। প্রকৃত কবি নিজে সম্পদ সংগ্রহের চেষ্টা কস্মিনকালেও করেন না। সম্পদের জন্য তার হাহাকারও নাই। ক্রমশ বুদ্ধিমান হয়ে ওঠা, সম্পদ সংগ্রহের মত চালাকি কবিকে কবিতা থেকে, আত্মার কণ্ঠস্বর থেকে, নির্যাতিতের পক্ষ থেকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। সর্বোপরি সে দার্শনিকদের চিরকালীন সাধনা, এক অনাসক্ত মানুষ। সে কথা হোমার থেকে শুরু করলে আজ পর্যন্ত প্রকৃত কবিদের দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারি। কারণ কবিতার শুরুই জীবন নামের এই স্বল্পকালীন খ-িত প্রবাহের গূঢ়চেতনা থেকে। এই যে একশ বছরের অধিক বেঁচে-না-থাকা মানবজীবন। জন্মের আগের শূন্যতা বোধ ও মৃত্যুর পরের শূন্যতাবোধ ও এর ভেতর ঘটে যাওয়া বিচিত্র যজ্ঞ তাকে আনমনা করে রাখে, দূরে সরিয়ে রাখে বৈষয়িক হওয়া থেকে। সে সচেতন এই ‘বিষয়’ কত ক্ষণস্থায়ী।

কবিদের ঘরবাড়ি, চাকরি, বা ব্যবসা দখল করেছে প্লাতনের আদর্শ মানুষেরা, নাগরিকরা; কিন্তু কবির দ্বারা মানবজাতির কোনো ক্ষতি হয়েছে এরকম প্রমাণ নাই।

কবিতা সম্পর্কে আরেক বৈপ্লবিক মত দিয়েছিলেন দার্শনিক মার্টিন হাইডেগার। জর্মন কবি হোল্ডারলিনকে নিয়ে লিখিত প্রবন্ধে তিনি বলেন, একটা নয়া ভাষা সৃষ্টি করে একটা নতুনতর আদিম দেখার চোখ নিতে হবে, যাতে মানুষ ঠিকমত চিন্তা করতে পারে। দর্শনকে যুক্তি ও যুক্তিবিদ্যার বিপরীতে একটি নতুন চিন্তা পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে দার্শনিকের বন্ধু হলেন কবি। কবিতা ও দর্শন একই স্তরের এবং উভয়ের চিন্তা ধারার মিল আছে। আমাদের অস্তিত্ব কাব্যময়। কবিতা প্রাথমিক আদিতম নির্দোষ দেখা। কবিতা রচনা সব চেয়ে পবিত্রতম কাজ। কবিই আমাদের কাছের মানুষ, যিনি মাটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি সংস্কারহীন চোখে সব কিছু যেমন সেই রকম দেখেন। কবিতাই দর্শনকে পথ দেখাবে।

কত দার্শনিক, কত শাসক গত হয়ে যায়; তাদের নাম নিশানাও মুছে যায়। কিন্তু প্রকৃত কবির ভাষাই সর্বশেষ আশ্রয়। মানবজাতির কথা নি:শেষ হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত প্রকৃত কবিতা টিকে থাকবে। সার্বিকভাবে না হলেও স্ব স্ব ভাষার প্রকৃত কবিদের চির জাগরুক চেহারা সবসময় জ্বলজ্বল করতে থাকে। যেমন বাংলাভাষায় লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, হিন্দি-উর্দূতে কবীর, গালিব, মীর তকি মীর, কিংবা ইতালির কিওকোমো লিওপার্ডি বা ফরাসী বোদলেয়ার বা রাশিয়ার পুশকিন, মায়াকভস্কি, আখমাতোভা বা ইংরাজি সাহিত্যে কীটস, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, এলিয়ট, রবার্ট ফ্রস্ট, শেলী বা চিলির নেরুদা, পাররা, মিস্ত্রাল বা লাতিন আমেরিকা বা পূর্ব ইউরোপের কবিবৃন্দ। জগতের প্রত্যেক ভাষায় এমন অজ¯্র অমর ও প্রকৃত কবিরা রয়েছেন।
সক্রাতেস আরো বলেন:
“কবিবর হোমার, আমরা যদি নিজেদের সংজ্ঞায় ভ্রান্ত হইয়া থাকি এবং আপনি যদি সত্য থেকে তিন প্রস্ত দূর থেকে সত্যের ছায়া সৃষ্টি না করিয়া থাকেন, যদি আপনি মানুষের উৎকৃষ্টতা সম্পর্কে সত্যের এক প্রস্ত নিকটবর্তী হইয়া থাকেন এবং আপনি যদি যথার্থই বলিতে পারেন কোন আচরণ ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রকে উত্তম কিংবা অধম করে, তাহা হইলে আপনি দয়া করিয়া বলিবেন লাইকারগাস যেমন স্পার্টার কিংবা অপরে যেমন অন্যত্র রাষ্ট্রের সংবিধানের সংস্কার কম কিংবা অধিক পরিমাণে সাধন করিয়াছেন, তেমনি আপনি কোন রাষ্ট্রের সংবিধানের সংস্কার সাধন করিয়াছেন। কোন নগরীর বিধানাবলী আপনার জ্ঞানের নিকট ঋণী? ইতালি এবং সিসিলি তাহাদের সংবিধানের জন্য চারোন্দাজের নিকট ঋণী, আমরা ঋণী সলোনের নিকট। আপনি বলুন কোন রাষ্ট্রের মানুষ অনুরূপভাবে আপনার নিকট ঋণী হইয়াছে?”

সক্রাতেসের এই বাক্যংশটা অসম্ভব যুক্তিপূর্ণ হলেও অর্থহীন। কারণ যুক্তিই সক্রাতেসের একমাত্র ভরসা। কবি সংবিধান রচয়িতা নয়, সংবিধান রচয়িতাদের শিক্ষক। কবি যুক্তির কাছে খুব বেশি যায় না। আত্মা নিয়েই তার কারবার। এক হিসাবে প্রকৃত সব কবিতাই সংবিধান। সক্রাতেস বাক্যবাগীশ হলেও এখানে এসে মূঢ়তা ও অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। মিথ্যাচারও করেছেন। আথিনার সংবিধান প্রণেতা হিসাবে যার নাম তিনি করেছেন সেই সলোন একজন প্রকৃত কবি ছিলেন। আথিনার শাসকও ছিলেন তিনি। বলা যায়, ইনিই একজন রাজনীতিক যিনি কবিতার শক্তি অনুধাবন করেছিলেন এবং তা কাজে লাগিয়েছিলেন। সলোনের একটি কবিতা প্লাতন তার ‘লুসিস’ কিতাবেও উল্লেখ করেছেন। কবিতাটা পাঠকের সুবিধার্থে তুলে দেয়া হল।

“সেই সুখী, পুত্র যার প্রিয়/ প্রিয় যার তেজি ঘোড়া, শিকারি কুকুর/ আর প্রিয়/বিদেশের অচেনা মানুষ।” (সুখী)
পাঠকের জ্ঞাতার্থে সলোনের আরো কয়েকটি কবিতা:
“মৃত্যু এলে থাকি যেন আমি অবিহ্বল/ শুধু থাক বন্ধুদের চোখে অশ্রুজল।” (মৃত্যুর দিনে)
অথবা
“কেউ সুখী নয়/ কোনও মানুষ, যারাই আলোয়/ চোখ মেলেছে, সবাই দুখী/ কেউ সুখী নয়।” (সুখী)
আড়াই তিনহাজার বছর আগেকার গ্রীসের এ ধরনের অসংখ্য ছোট কবিতার সংকলন ‘প্যালাটাইন অ্যানথলজি’তে কবিতাগুলো সংকলিত।

সক্রাতেসের মত এক মহান বিদ্বৎজ্জনকে অপবাদ দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। যুক্তির খাতিরে সব কিছুকে তিনি যেভাবে তছনছ করেন তাও মেনে নেয়া যায় না। পৃথিবীর অনেক শাসকই কবি ছিলেন। তার মধ্যে মোঘল সা¤্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর ছিলেন উৎকৃষ্ট কবি। তার বহু কালজয়ী বয়াত আছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে এখনো যা নিয়মিত পাঠ্য। এই বাবরের সৃষ্ট শাসকগোষ্ঠী বহুবছর ভারতবর্ষ শাসন করেছেন।

সক্রাতেস আরো বলেন,
“তাঁহাদের সম্পর্কে বলা হইয়া থাকে, তাঁহারা নাকি সকল নৈপুণ্যে দক্ষ। তাঁহারা ধর্ম ও নীতির ক্ষেত্রেও সর্বজ্ঞ। কারণ কবিদের সমর্থকরা বলিয়া থাকেন, একজন উৎকৃষ্ট কবিকে কোন বিষয়ে উত্তম রচনার জন্য তাহাকে সে বিষয়ের সবকিছ্ইু জানিতে হয়। যাঁহারা এই কবিদের সাক্ষাৎ পাইয়াছেন, যাঁহারা ইহাদের রচনা পাঠ করিয়াছেন আমরা তাহাদের জিজ্ঞেস করিব তাঁহারা কি একটি বিষয় লক্ষ্য করেন নাই যে কবিদের এই সৃষ্টি সত্য থেকে তিন প্রস্ত দূরে অবস্থিত: ইহারা সত্যের ছায়ামাত্র, সত্য নয় এবং এই কারণে সত্যের জ্ঞান ব্যতীত ইহাদের সৃষ্টি করা কবিদের পক্ষে সহজ হইয়াছে?”
“তাহা হইলে আমাদের এই কথাই মনে করিতে হইবে যে, হোমার থেকে শুরু করিয়া কবিকুলের কাহারই সত্যের যথার্থ কোন জ্ঞান নাই। যেই বিষয়ে তাহারা আলোচনা করে তাহার অগভীর প্রতি-রূপই মাত্র তাহারা সৃষ্টি করিতে সক্ষম।”

“অনুরূপভাবেই একজন কবি শব্দের মাধ্যমে যে কোন কারিগরের একটি চিত্র তৈয়ার করিতে পারেন। অথচ তিনি তাহার ছবি তৈয়ার করা ব্যতীত তাহার সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কিন্তু তাহার শব্দের মাত্রা এবং ছন্দ এবং তাহার সঙ্গীত মানুষকে বিভ্রান্ত করিবে। সাধারণ মানুষ যাহারা নিজেরা কবির মতোই অজ্ঞ, যাহারা কেবল শব্দের ভিত্তিতেই কোন বিষয়কে বিচার করে তাহারা মনে করিবে, এ কবির পাদুকা প্রস্তুতকারক কিংবা যুদ্ধ পরিচালনা কিংবা ইত্যাকার সব বিষয় সম্পর্কেই গুরুতর বক্তব্য একটা কিছু রহিয়াছে। এরূপ প্রবল হচ্ছে কাব্যের স্বভাবগত যাদুর ক্ষমতা। কবির এই বক্তব্যকে তুমি তাহার কাব্যিক কর্ণলেপ থেকে মুক্ত করিয়া ফেল, সাধারণ গদ্যে তাকে পরিণত কর, তাহা হইলেই তুমি দেখিবে, সে বক্তব্য কতই না মূল্যহীন।”

বস্তুর প্রতিরূপ সৃষ্টি করা কবির কাজ নয়। যে কোন কারিগরের ছবি বা অন্যান্য চিত্রের শব্দচিত্র তৈরিও তার কাজ নয়। কবির কাজ অনেকটা ঈশ্বরের প্রতিনিধির মত। সৃষ্টির প্রতিক্রিয়াকে সে আগে থেকেই ধরতে পারে। যাকে বলা যায় প্রকৃতির ইশারা তা সে বুঝতে পারে। সৌর্ন্দযবোধের মর্মে কী বিরাজিত তা সে অনুভব করতে পারে। কবি মূলত সত্যের প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যাকারী। সে ক্ষেত্রে সত্যের তিন প্রস্ত দূরে নয়, সত্যের সাথে সে সরাসরি জড়িত। কবি জানে জীবন কত ক্ষণস্থায়ী। এবং এটা কত সত্য ফলে সুনির্দিষ্ট কিছুর প্রতি তার স্থায়ী আগ্রহ জন্মায় না। বস্তুকে ধরে রাখার মত বা বস্তুর ভেতর ডুবে থাকার মত আসক্ত সে হয় না। যার কোনো স্থায়ীত্ব নাই তার প্রতি আসক্তি সত্যের বরখেলাপ যা প্রকৃত কবি ভাল করেই জানে।
অদ্ভুত সন্দেহ জাগে সক্রাতেস যখন বলেন,
“রাষ্ট্রে যদি তুমি কোন কাব্যকলাকে অনুমোদিত কর, তবে তাহা অবশ্যই দেবতা ও উত্তম মানুষের প্রশংসায় রচিত স্তোত্র ব্যতীত অপর কিছু হইতে পারে না।”

কবির জন্মই হয় দেবতা আর তথাকথিত উত্তম মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মাধ্যমে। সক্রাতেসের দেবতারা, উত্তম মানুষেরা যারা সুস্বাস্থ্যবান, সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, তর্কবাগীশ, দার্শনিক শাসক, তারাই আজ জগতের কা-ারী। জগতের কোথায় ব্যবসা আছে, কোথায় তেলের খনি, সোনার খনি, হীরার খনি, কোথায় প্রোটিন কোথায় ম্যাঙ্গানিজ, প্লাটিনাম, কোথায় পাওয়া যায় উৎকৃষ্ট পানি। শেষ পর্যন্তু যেখানে যা পাও, কোনো পণ্য না পেলে মানুষগুলোকেই পরিণত করো পণ্যে আর সেই পণ্যগুলোকেই পরিণত করো ভোক্তায়। তারাই পণ্য তারাই ভোক্তা। যেখানে সক্রাতেসের পরামর্শ সরাসরি চলে যায় স্বৈরাচারীর পক্ষে; মানবাত্মা, জগত আত্মা বা মানবতার বিপক্ষে। সেখানে একজন যুক্তিউন্মাদ, তর্কোন্মাদ ছাড়া সক্রাতেসকে বেশি কিছু ভাবার অবকাশ থাকেনা।

যেখানে গোপনে গোপনে খানিকটা গেরিলা যোদ্ধার মত হৃদয় নিয়ে জেগে থাকে প্রকৃত কবিরা, অনাসক্ত মানুষেরা। কলমই যাদের একমাত্র যুদ্ধাস্ত্র। দেবতা আর উত্তম মানুষের শোষণে পীড়নে দমনে নুয়ে পড়া জগতময় ক্রীতদাসদের ভেতর দ্রোহ আর বেদনা জাগিয়ে তোলার জন্য বেঁচে থাকে ভাষা, সেই ভাষারই আশ্রয় কবিতা সাহিত্য। যেখানে সত্য অম্লান হয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধেই সক্রাতেসের অবস্থান!

কবিতা আজীবন শোষক দেবতা আর তথাকথিত উত্তম মানুষদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কবিতা বেঁচে থেকেছে জনগণের পক্ষে জনগণের অগোচরে। যখনই চরম দমন পীড়ন শোষণ শুরু হয় তখনই কবিতা গেরিলাযোদ্ধার মত কাজ করে জনগণের পক্ষে। বিশ্বযুদ্ধগুলোতে বা গৃহযুদ্ধগুলোতে কবি সাহিত্যিকদের যে অংশগ্রহণ তাতে এই সমাধানে আসা যায়।

সক্রাতেসের এই কথা আমরাও মানি যে, যা কিছু অপর কিছুকে দুষিত করে কিংবা ধ্বংস করে তাই হচ্ছে অধম এবং যা কিছু অপর কিছুকে রক্ষা করে এবং তাকে উন্নত করে, তাই উত্তম। পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য মানুষকে রক্ষা করার জন্য কবিদের মত ক্রন্দন কেউ করেনি কখনো।

পৃথিবীতে দরকার অজস্র প্রকৃত কবি, অজস্র অনাসক্ত মানুষ। অনাসক্ত কবিরাই পারে বস্তুগত প্রতিযোগিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে প্রেম ও মিলনের কবিতা সৃষ্টি করতে। তারাই পারে বস্তুকে ধূলিতে পরিণত করার স্বপ্ন সৃষ্টি করতে। যা বাঁচাতে পারে সক্রাতেসের দেবতা ও তথাকথিত উত্তম মানুষদের লোভ, উন্মত্ততা, ভোগ আর উন্মাদনা থেকে পৃথিবী ও তার জনগণকে রক্ষা করতে।
সক্রাতেস অন্তিম সিদ্ধান্ত করেন ‘আমাদের সুশাসিত রাষ্ট্রে কবির প্রবেশ নিষিদ্ধ করিলে আমরা সঠিক কাজই করিব। কারণ, যুক্তির বিনিময়ে কবি আমাদের আত্মার অধম উপাদানগুলোকে উত্তেজিত করিয়া তোলে। আত্মার অধম অংশকে প্রবল করার অর্থ, রাষ্ট্রের ক্ষমতা এবং পরিচালনার ভার নিকৃষ্টতম চরিত্রের হাতে তুলিয়া দেওয়া এবং রাষ্ট্রের উত্তম চরিত্রের ধ্বংস সাধন করা।’

পৃথিবীতে ‘রাষ্ট্র’ শব্দটা এখন জনগণের কাছে ভীতিকর। রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে হেন কোনো শোষণ নাই যা জনগণকে করা হচ্ছে না। রাষ্ট্রও চালায় বস্তুত কিছু মানুষ। আর কোনো মানুষই নানা ধরনের ব্যক্তিগত মোহের উর্ধ্বে উঠতে পারে না। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা মানুষগুলো যাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্যাতিত অভাবগ্রস্থ অশিক্ষিত প্রতিবন্ধী শোষণে শোষণে কঙ্কালসার জনগণ নির্বাচিত করে। এরা বর্তমান পৃথিবীতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। ব্যবসায়ই যাদের একমাত্র ধর্ম। রাষ্ট্র এই ব্যবসায়ী সংঘকে রক্ষা করার যন্ত্রমাত্র। রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন দুইধরনের মানুষ এক ব্যবসায়ী, দ্বিতীয়ত ব্যবসায়ীদের সম্পদের পাহারাদার জনগণের পীড়নকারী ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়। এরা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। যে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীরই কাজ ব্যবসায়ীদের অবৈধ সম্পদের পাহারা দেয়া আর জনগণকে পণ্যে পরিণত করা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বিধান, সেই রাষ্ট্রের আনুগত্য জনগণ মানতে পারেনা। কবিতো একেবারেই পারেনা। এখন দরকার সক্রাতেসেদের মত গণবিরোধী দার্শনিকদেরকেই কবিদের আদর্শ রাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়া। এই পরাশ্রয়ী সমালোচক শ্রেণী যারা যুক্তির বিভিন্ন খেল দেখিয়ে আখের গোছায় আর রাষ্ট্রনায়কদের তাবেদার, তাদরকেই রাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করলে জনগণ সঠিক কাজই করবে। কবিদের দরকার জনগণকে আরো বেশি বেদনায় ভারাক্রান্ত ও বিদ্রোহের চূড়ান্ত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া।

কিন্তু সক্রাতেস শেষ পর্যন্ত নিজেকে আড়াল করার পথ খোলা রাখেন। তিনি বলেন,
“যেভাবে আমরা বর্ধিত হয়েছি, তাতে কাব্যকে ভালবাসিতে আমরা বাধ্য। এবং কাব্য যদি আমাদের মঙ্গলের উৎস বলে প্রমাণিত হয়, তাহা হইলে আমরা যর্থাথই আনন্দিত হইব।”

যা-হোক, সবসময় সবদেশে কবিতার জগতে এমন কিছু বিকৃত আত্মার ছদ্মবেশী মানুষ থাকেন যারা মনে করেন তারা কবি। হয়তো তারা একদা চেষ্টা করেছিলেন কবিতা লিখতে, হয়তো কোন এক সময় মাত্রার সমতালে দু’একটা কবিতা পয়দাও করেছিলেন। তাকে পুঁজি করে সারাজীবন তারা উপটৌকন বাগাবার ধান্ধায় কাব্যজগতকেই দূষিত করে চলেন। ফলে তার কলম থেকে কবিতার বদলে বের হয় ধুয়া।

আরেক শ্রেণীর কবিপদবাচ্যদের দেখা মেলে যারা নিয়ত জনপ্রিয় হবার আশায় প্রেমের কবিতার নামে নিরন্তর কামকলার চর্চা করেন। যে কোনো নারীকেই তারা শয্যায় নিতে চান কবিতায়। কিন্তু এরাও ভুল মানুষ এই এলাকায়। তাদের এলাকা বরং হতে পারতো ব্রথেল। এদের আবেদন সবসময় মানবাত্মার নিকৃষ্ট গহ্বরের কাছে।

আরেক শ্রেণীর কবিপদবাচ্যরা আছেন যারা জেনে গেছেন তাদের দিয়ে আর কবিতা হওয়া সম্ভব না বা একজন প্রকৃত কবির নিরাসক্ত জীবন তাদের কেউ যাপন করতে পারবেন না। হয়তো এই কবিতার নামে কসম খেয়ে তিনি ইতিমধ্যে নিজের খেয়ে পরে বাঁচার কোনো উপায় সৃষ্টি করেছেন। হয়তো হতে পারে সেটা মিডিয়া। তিনি অবিরাম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন প্রকৃত কবি ও কবিতার। মিডিয়ায় তিনি এমনভাবে জাল বিস্তার করেন এবং ক্রমাগত ছা পয়দা করার মাধ্যমে নিরন্তর কবিতার এলাকাটাকে কলঙ্কিত করা চেষ্টা চালান। এমনকি তখন তার জীবন্ত অমর হবার বাসনা এতবেশি প্রখর হয়ে ওঠে যে তিনি ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান বা কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কোনো পত্রিকার সম্পাদককে নিয়ে বই লিখে ফেলেন। প্রভাব খাটিয়ে পুরস্কার বাগিয়ে নেন। ফলে তিনি কবিতা রচনা এবং কবিতাকেন্দ্রিক প্রচারণার কারণে জনমনে এমন একটা প্রভাব সৃষ্টি করেন। তখন জনগণ এদেরকে ঘৃণা করতে গিয়ে সবকবিকেই একই শ্রেণীভুক্ত করে সমালোচনা করতে থাকেন এবং দ্রুত বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন কবিদের কর্মকাণ্ডে।
কিন্তু প্রকৃত কবিরা শান্ত নিস্তরঙ্গ আর নিরন্তর সত্যের শৃঙ্খলা চিন্তায় ভেতরে ভেতরে নিয়ত প্রেমী, বেদনাদীর্ণ, নিয়ত বিদ্রোহী ও সৃজন-সত্যে অঙ্গীকৃত।

সক্রাতেস বলে কেউ একজন ছিলেন তা হয়তো প্লাতন বা অন্য অনেকে, যারা সক্রাতাসের সংস্পর্শে ছিলেন তারা না হলে আমরা বিশ্বাস করতে পারতাম না, কারণ রিপাবলিকসহ প্লাতনের সংলাপভিত্তিক বইসমূহ উপন্যাস হিসাবে পড়লেও অসামান্য। সক্রাতেসকে একটা উপন্যাসের চরিত্র ধরে নিলে তাতে প্লাতনই মুখ্য হয়ে ওঠেন। হতে পারে সক্রাতেসকে একটা চরিত্র বানিয়ে প্লাতনই মূলত এই তর্কটা করেছেন। তাই প্লাতনকে উপস্থাপন করা হল, কেননা তিনি নিজেও কবি হিসাবে নাম করেছিলেন। তিনি কবির আত্মা বুঝতে পারতেন। প্লাতন বুঝতে পারতেন, কবি-হৃদয় যে গভীরতায় কাজ করে সেটা যদি অন্য কোনো জায়গায় কনভার্ট করা যায়, তাহলে বিপদ। এবং রিপাবলিক কিতাবের দশম পুস্তকে এই বিষয়টা নিয়েই তর্ক করা হয়েছে। মনে হয়, আসলে এই বিপথগ্রস্ত কবিদের নিয়েই কার যত তর্কাতর্কি।

সহায়ক গ্রন্থ:
রিপাবলিক/প্লেটো।
গণরাজ্য/প্লাতন।
বাবর/পিরিমকুল কাদিরভ।
বহু যুগের ওপার হতে/শিশিরকুমার দাশ।
আইদার – অর/সোরেন কিয়ের্কেগার্দ।

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — আগস্ট ১৮, ২০১২ @ ১২:১১ অপরাহ্ন

      “প্রকৃত কবিরা শান্ত নিস্তরঙ্গ আর নিরন্তর সত্যের শৃঙ্খলা চিন্তায় ভেতরে ভেতরে নিয়ত প্রেমী, বেদনাদীর্ণ, নিয়ত বিদ্রোহী ও সৃজন-সত্যে অঙ্গীকৃত।” বাহ্!

      অনেক ধন্যবাদ এমন দুর্দান্ত একটা লেখা প্রকাশ করার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হানযালা — আগস্ট ১৮, ২০১২ @ ৩:০০ অপরাহ্ন

      ‘সবসময় সবদেশে কবিতার জগতে এমন কিছু বিকৃত আত্মার ছদ্মবেশী মানুষ থাকেন যারা মনে করেন তারা কবি। হয়তো তারা একদা চেষ্টা করেছিলেন কবিতা লিখতে, হয়তো কোন এক সময় মাত্রার সমতালে দু’একটা কবিতা পয়দাও করেছিলেন। তাকে পুঁজি করে সারাজীবন তারা উপটৌকন বাগাবার ধান্ধায় কাব্যজগতকেই দূষিত করে চলেন। ফলে তার কলম থেকে কবিতার বদলে বের হয় ধুয়া।’ ভালো লিখছেন।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com