নদী নেই, বৃক্ষ নেই তবু প্রেম আছে

মণীশ রায় | ১৩ জুন ২০১২ ১০:৪৬ অপরাহ্ন

কোনো ভণিতা না করে শফিক সরাসরি বলে ফেলল,‘ তাহলে কিন্তু আমি আসছি।’
এতটাই সহজ ও সাবলীল শোনাল ওর নিজের কন্ঠস্বর যে, সঙ্গে সঙ্গে মনে হল সে একটা খেলার পুরো ম্যাচের ফাইনাল জিতে নিয়েছে। মনে মনে নিজের পিঠে নিজেই চাপড় দিয়ে বলতে লাগল,‘ গুড , ভেরি গুড। ওয়েল ডান। ’
‘আপনাকে আসতে কে বারণ করেছে? আপনি একজন স্বাধীন দেশের মুক্ত পুরুষ। যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারেন , তাই না?’ যুঁৎসই উত্তর দেয়াকে কখনো খুঁজতে হয় না। চমকে দেবার মতো বিশাল উত্তরের ভান্ডার ওর মগজের হার্ড ডিস্কে জমা রয়েছে। সেখান থেকেই সে একটি ছুঁড়ে দেয় শফিককে।
‘আমি তো আপনাকে দেখতে চাই।’ ফের কোনো ভণিতার আশ্রয় না নিয়ে নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করল সে।
‘তাহলে তো আমার দেয়া শর্ত মানতে হবে। মেনেছেন?’ চাঁছাছোলা প্রশ্ন দেয়ার।
‘ফিলমটা দেখেছি। ‘এভেটার’ দেখার পর দেখেছি তো। একটু সাদামাটা লেগেছে। ঘুমও পাচ্ছিল। ’সরল স্বীকারোক্তি শফিকের।
‘আপনি ঋত্বিক ঘটকের ছায়াছবি দেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন ? রোজী সামাদকেও ভাল লাগেনি? ওহ্ , আপনি লন্ডনে থেকে থেকে একেবারেই গোল্ল¬ায় গেছেন। আবার গর্ব করে বলেন আমাদের নানী বাড়ি ছিল ব্রাম্মণবাড়িয়ার কসবায়। ফালতু। ’ দেয়া মেকী রাগ দেখায়। মন্দ লাগে না দেয়ার কথা বলার ধরন। যতই চাঁছাছোলা কথা বলুক , একটা আহ্লাদিপনার সুর মিশে থাকে ওর কথা বলার ঢং-এ, সেটাই ওর খুব ভাল লাগে। তারিয়ে তারিয়ে তা সে উপভোগ করে।
‘যদি ভাল না লাগে তো সেটা বলব না? আমি কি হিপোক্রিট নাকি?’ শফিকের কন্ঠ সামান্য চড়া, হয়তো দেয়াকে কিঞ্চিৎ উসকে দেয়াই ওর লক্ষ্য।
‘আপনি হিপোক্রিট নন, আপনি একটা ইগনোর‌্যান্ট , যে তার শেকড় কোথায় জানে না। পরগাছার মতো শুধু আকাশের দিকে হাঁ করে রয়েছেন। ’ দেয়ার কন্ঠে মিষ্টি ঝাঁঝ । খনখনে গলায় এই ঝাঁঝটুকু কেমন মানিয়ে গেছে। শুনতে মন্দ লাগছে না শফিকের।
‘তাহলে কী করতে হবে আমাকে?
‘ ‘তিতাশ একটি নদীর নাম ’ উপন্যাসটি কি সংগ্রহ করেছেন?’
‘খুঁজেছি । পাইনি। উপন্যাসিকের নাম বলায় অনেক দোকানদার হাঁ করে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। যেন আজব এক লোকের নাম বলে ফেলেছি। ’
এবার খিলখিল করে হেসে ফেলল দেয়া। সে বুঝতে পারছে – শফিক উল্টা পাল্টা জায়গায় গিয়ে বইটার খোঁজ করেছে।
‘আপনি আজিজ সুপার মার্কেটে কিংবা কনকর্ড এমপোরিয়ামে গিয়েছেন? ওখানে না পেলেও বলে এলে কয়েক সপ্তাহ পর গেলে ঠিকই পেয়ে যাবেন। ’
‘বইটা পড়লে কি আমি আপনার দেখা পাব ম্যাডাম ? বলুন পাওয়া যাবে , তাহলে অবশ্যই বইটি সংগ্রহ করে আমি পড়ে ফেলব। কারণ, আপনার প্রতি আমার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ’
‘আমি তো আপনার হাতের নাগালের ভেতর। চাইলেই আপনি আমাকে পেতে পারেন। কিন্তু ভুল পথে এগোলে তো পাবেন না। ’ গম্ভীর শোনায় দেয়ার কন্ঠ।
‘ আমি অত শত বুঝি না। আগামী পরশু আমি রওয়ানা দিচ্ছি ব্রাম্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে। দেখা হউক বা না হউক আসছি। ’ বেশ তেজোদীপ্ত শোনাল শফিকের কন্ঠস্বর। নিজের সিদ্ধান্তটি সে যে কোনোরূপ ভণিতা ছাড়াই দেয়াকে জানাতে পারছে এজন্য ওর ভেতর বেশ তৃপ্তিবোধ কাজ করছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের পরিচয়। কেউ কারোকে দেখেনি। এ পর্যন্ত যা কিছু, সব এই মোবাইল মারফত। ‘আপনি ঝুমুর কে হন?’ প্রশ্নের উত্তরে শিবলীর উত্তর ,‘ ঝুমাু আমার বোন। আপনি? ’
‘আমি ঝুমুর বান্ধবী । ’ কথা শুরু হয়ে গেল। একটু পরই দেয়া টের পেল সে ক্রস কানেকশনের শিকার।
‘আপনি মিথ্যা বললেন কেন? ’ দেয়ার খনখনে গলা।
‘আপনি জিজ্ঞাসা করলেন কেন?’ শফিকের সাফ সাফ জবাব।
‘জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর দিতে হবে? আপনি না ভদ্রলোক?’ দেয়ার প্রশ্ন।
‘আমি ভদ্রলোক আপনাকে বলেছে কে? ভদ্রলোক নই বলেই তো এত কথা বলছি। নইলে তো লজ্জায় মুৃখচোখ ঢাকতাম। ’
‘আজব পাবলিক। ’ দেয়া ঠোঁট উল্টায়।
‘আজব মহিলা। ’ এরকম ফালতু অসার কথাবার্তা দিয়ে শুরু হয় ওদের পরিচয় পর্ব। কদিন পর দুজন দুজনকে নিজেদের পরিচয় খুলে বলে।
‘আমি শফিক শাহিন। কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে এমেরিকা পাড়ি জমিয়েছিলাম ভাগ্যান্বেষণে। কিভাবে যেন একটা ভাল চাকুরি জুটে গেল। এখন মন্দ নেই। বিদেশের মাটিতে খেয়ে পড়ে ভালই আছি। আপনি?’
‘আমি ব্রাম্মণবাড়িয়া কলেজে পড়াই। বাংলা সাহিত্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বিসিএস দেবার পর প্রথম চাকুরি এটি। শহরেই বাড়ি । কলেজে যাওয়া-আসা আর দুটো তিনটে ক্লাস নেয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। বোরিং। ’
এসব নানা কথা বলতে বলতে ওরা বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল। নিয়ম করে প্রতিদিন কথা না বললে যেন হয় না। কথা বলা ওদের অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেছে। রাগ, অভিমান , খুনসুটি , অনুরাগ সব এই কথার ভেতর দিয়েই প্রতিদিন প্রবেশ করছে দুজনার ভেতর। ঘোর লাগা অদ্ভুত সময় কাটছে ওদের।
‘আপনি যে ফের রিং করলেন ? তখন তো মনে হল আর কোনদিন করবেন না? ’ শফিক মুখের উপর কথাগুলো বলে বেশ আনন্দ উপভোগ করতে লাগল।
‘আপনাকে রিং করার আমার কোন ইচ্ছেই ছিল না। অসংস্কৃত পুরুষ আমার দুচোখের বিষ। ’
‘তবু যে করলেন? ’ শ্লেষের ছোঁয়া কথায়।
‘কারণ সকাল থেকে লোডশেডিংএর ভেতর বসে রয়েছি বাসায়। ভাল লাগছে না কিছু। ’ বলেই দেয়া হি: হি: করে দুষ্টুমিভরা হাসি হাসতে লাগল।
‘আমি কি আই পিএস না জেনারেটর? ’
‘আপনি একটা বুদ্ধু ।’ ফোনটা কেটে গেল সত্যি। কিন্তু শফিকের মনে এর রেশ রইল অনেক্ষণ। সে বুঝতে পারছে – কিছু একটা হচ্ছে ওর ভেতরে। প্রেম নামের যে আবেগকে সে এদ্দিন মানসিক স্থিতাবস্থার বিচ্যুতি বলে ব্যঙ্গ করেছে এখন তা-ই ওর ভেতরে কবুতরের বাসা বানাতে চাইছে !
ওদের কথাবার্তা এবার তৃতীয় স্থরে পৌঁছাল। শফিক বলল,‘ আমি আসলে একটা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। ’
‘কি?’
‘বিয়ে করতে পারছি না। একটা নেতিবাচক ফিলিং এত বেশি ঘাপটি মেরে রয়েছে আমার ভেতর যে কিছুতেই সেটি সরিয়ে কাউকে কবুল বলা যাচ্ছে না। ’
‘এই সমস্যাটার সমাধান বোধ হয় আমরা করে ফেলতে পারব। ’ বলে একটু দম নেয় দেয়া। শফিককে রহস্যের ভেতর জোর করে বেধে রাখার চেষ্টা করে।
‘কিভাবে? জানেন, এর সমাধান করতে পারলে আমার আব্বা-আম্মা ভীষণ খুশি হবেন। ওরা এখন আমাকে নিয়ে হতাশার শেষ প্রান্তে রয়েছে। প্লিজ হেল্প করুন। ’
‘শর্ত মানতে হবে। ’
‘বলুন। ’
‘তিতাশ একটি নদীর নাম ছায়াছবিটি যেমন দেখতে হবে তেমিন উপন্যাসটিও পড়তে হবে । শর্ত না মানলে কিছু হবে না। । ’ হেঁয়ালি করে দেয়া।
‘আপনি তো সাংঘাতিক একগুঁয়ে। ’ মন্তব্য শফিকের।
‘এদ্দিনে বুঝলেন?’ বলেই খিল খিল করে হেসে ওঠে দেয়। যেন অনেকদিন পর মনের মতো এক ছাত্র খুঁজে পেয়েছে, যাকে নিয়ে ফান করা যায় , ইচ্ছে মতন !

২.
শুক্কুরবার সকালে ট্রেনে করে রওয়ানা দিল শফিক । মাত্র ঘন্টা দুয়েকের ভেতর পৌঁছে গেল ব্রাম্মণবাড়িয়া স্টেশনে। স্টেশনে পা দিয়ে বেশ রোমাঞ্চ বোধ করতে থাকে সে। ওর কেবলি মনে হতে থাকে দেয়া ওর প্রতিটি গতিবিধি চোরা চোখ দিয়ে পরখ করে দেখছে। ও কী পোশাক পরে এখানে এসেছে , ও দেখতে কেমন , আচার আচরণ কতটা ভদ্র ও মার্জিত – সব যেন ওর শিকারী চোখের বাইরে যাচ্ছে না।
সে চারপাশে তাকিয়ে সজাগ দৃষ্টি সামনে ফেলে এগোতে লাগল। মফস্বলের রেলস্টেশন যেরকম দেখতে হয় , ব্রাম্মণ বাড়িয়া এর বাইরে নয়। চারাপাশে প্রচুর নোংরা, কফ -থুথু ছাড়াও মানুষের বিষ্ঠা , পশুর মল কোনো কিছুই ওর দৃষ্টির বাইরে যাচ্ছে না। এরই মাঝে সারি সারি মালের বস্তা , চা আর পত্রিকার দোকান । পুরো প্ল¬্যাটফর্ম জুড়ে অপেক্ষারত রক্ষণশীল মধ্যবিত্ত মানুষ ও কুলি কামিনের ব্যস্ত চলাফেরা, চারপাশ থেকে বড় রকমের একটা সোরগোল তুলছে তারা ।
শফিক বেরিয়ে এল সেখান থেকে।
দেয়ার টেলিফোন এল ,‘ আপনি কলেজে যেতে চান কেন? মফস্বলের কলেজ কখনও দেখেন নি নাকি?’
‘আমি তো মফস্বলেরই ছেলে । ছেলেবেলায় চলে গেছি ঢাকায়। এই আর কি’। বোঝাবার চেষ্টা করে দেয়াকে।
‘একদম ভন্ডামি করবেন না। সামনে এগিয়ে দক্ষিণ দিকে রওয়ানা দিলেই কলেজটা দেখতে পাবেন ।’ আদেশের সুর কন্ঠে। শফিক উপভোগ করে ওর খবরদারি।
শফিক যথারীতি কলেজটি খুঁজে বের করে এর মাঠে এসে দাঁড়ায়। মাঠের পাশে দুটো অর্জুন গাছের ছায়া ঘেরা শহীদমিনার , সে কিছুক্ষণ সেখানে আনমনা সময় কাটায়।
শুক্রবারের কলেজ প্রাঙ্গন। চারপাশ সুনসান। তবু শফিক যেন দেখতে পায় দেয়া নামের এক ব্যক্তিত্বময়ী অধ্যাপিকা ক্লাস সেরে বেরিয়ে আসছেন। হাতে তার বই। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। অথচ চেহারাটা অসম্ভব কোমল ও মায়াময়। শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বসে শফিক যেন সব দেখতে পাচ্ছে। ওকে কি দেখতে পাচ্ছে ওর বিদ্যাবিনোদিনী?
ফিক করে হাসির রেখা ভেসে উঠল শফিকের ঠোঁটের ডগায়।
সে এখান থেকে বেরিয়ে ফের একটা রিং দিল দেয়াকে। প্রশ্ন করতেই চেঁচিয়ে উঠল দেয়া,‘ উফ, পারি না আপনাকে নিয়ে। আবার স্কুল? একটা রিক্সা নিন। রিক্সাওলাকে বলবেন সাবেরা সোবহান হাই স্কুল। পৌঁছে দেবে। বিওয়্যার, ওটা মেয়েদের স্কুল। ভেতরে হোস্টেল রয়েছে। ঢোকার চেষ্টা করবেন না যেন। যা দেখার প্রাণভরে বাইরে থেকে দেখে চলে আসুন। যত্তোসব।’ কথায় মেকী রাগ । শফিক কোনো উত্তর না দিয়ে ওকে অনুসরণ করে।
শফিক স্কুলটির সামনে এসে দাঁড়ায়। হলুদ রঙের এল -টাইপ বিল্ডিং । চারপাশ জুড়ে বড় বড় গাছগাছালি। লোহার বড় গেটের উপর হুমড়ি খেয়ে রয়েছে মাধবী লতার ঝোপ। সেখান থেকে মন কাড়া মিষ্টি একটা গন্ধ আসছে শফিকের নাকে। বেশ কবার লম্বা শ্বাস নিয়ে সেই গন্ধটুকু নিজের ভেতর নিতে চাইল সে।
এখানেও শুক্রবার ! দারোয়ান ছাড়া তেমন কেউ নেই। স্কুলের বাইরে থেকে দোতলাটা চোখে পড়ে। সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে সেখানে দাঁড়োনো বেনী এক চঞ্চল কিশোরী, অপলক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। গায়ে স্কুল য়ূনিফর্ম, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। আদুরে চেহারার পরতে পরতে কৌতূহল।
শফিকের সাথে চোখাচোখি হতেই মেয়েটি লজ্জা পেল। একুটখানি হাসল। তারপর ছুটে পালাল।
শফিকের ঠোঁটের ফাঁকে হাসির রেখা।
শফিক ঘোর থেকে বেরিয়ে মোবাইল করল দেয়াকে ,‘ এবার তো দেখা হতে পারে?’
কথার উত্তর না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দেয়া বলে উঠল ,‘ গোকর্ণ ঘাট চেনেন?’
‘না। ’
‘ওটা বললে হবে না। রিক্সাওলাকে বলতে হবে গুপন বা গোফন ঘাটে যাবেন । পারবেন তো?’
‘ঘাটে গিয়ে বসে থাকব?’
‘ওফ! এত অস্থির লোকটা। সব বলছি। আজ তিতাশ নদীর পাড়ে মানে গোকর্ণ ঘাট নামের জায়গাটায় একটা বান্নি হচ্ছে। মানে মেলা। মেলাটার নাম জানেন?’
‘না। কি?’
‘রাধার মার কেডকেডি। হি: হি: হি:। কেডকেডি মানে জানেন? চেঁচামেচি । মজার একাট নাম। শুনলেই কেমন কাতুকুতু জাগে। ’
‘আমার কাতুকুতু হচ্ছে না। আমি চৈত্র মাসের রোদে পুড়ছি। ’
‘এত অধৈর্য হলে হবে না। একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ’
‘বলুন ম্যাম। ’
‘চৈত্র সংক্রান্তির দিনটিতে হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়ের লোকেরা এখানে দলে দলে স্নান করতে আসে । ওদের ধারণা – এই দিনে নদীতে স্নান করলে পাপমোচন হয়। যদিও হিন্দুদের অনুষ্ঠান তবু বান্নি উপলক্ষ্যে এখানে হিন্দু -মুসলমান সবাই আসে। আমি ছোটবেলায় মামার হাত ধরে এখানে বহুবার নাগর দোলায় চড়েছি, নদীর নির্মল বাতাস খেতে খেতে ব্রাম্মণবাড়িয়ার মাঠা খেয়েছি। নদীতে গোসল করেছি। মাকড়শার আঁশ (হাওয়াই মিঠাই) খেয়ে জিহ্বা লাল করেছি।
প্লাস্টিকের খেলনা কিনে নিয়ে গিয়ে বাসায় তুমুল আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছি। এসব আমার স্মৃতি। আমার সম্পদ। ’
‘কিন্তু অনুষ্ঠানটি হিন্দুদের। আপনারা সেখানে স্রেফ গেস্ট। ’
‘ ওফ, টিপিক্যাল মুসলিম লীগারদের মতো কথা বলবেন না তো। আমার কখনোই সেরকম মনে হয় নি। বরং আমার উল্টোটা মনে হয়। আমাদের হাজার বছরের মিলিত লোকাচার, ঐতিহ্য, কিংবা সংস্কৃতিতিগুলোকে খুন করার জন্যই এসব ভেদাভেদ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে আমাদের ভেতর। যাকগে, আজকাল এসব বলতে গেলেও লোকজন ভুল বোঝে। ’
‘বলুন । মন্দ লাগছে না। আপনি যে একজন অসাম্প্রদায়িক অধ্যাপিকা তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ’
‘থ্যাংক য়ূ। তবে একটা কথা বলেই ফেলি। ভুল বুঝলে বুঝবেন। শরীরে মানব বোমা বেধে সভ্যতা ধ্বংস করার চেয়ে কেউ যদি ধর্মের নামে নদী , পাহাড় , সমুদ্র , বৃক্ষের কাছে ধর্না দেয় তো তা খারাপ কি? মানুষ যত প্রকৃতি থেকে দূরে সরেছে তত তার আচরণ হয়েছে অসভ্যের মতো। যাকগে, আপনার জন্য অপেক্ষা করছি । আপনি আসুন। ’
‘কোথায়?’
‘মালো পাড়ার খুব কাছে, গোকর্ণ ঘাটে। মেলাটা খুব জমে উঠেছে। তাড়াতাড়ি আসুন। আপনি এলে আমরা একসঙ্গে মাঠা খাব আর নাগরদোলায় চড়ব।’
‘ব্রাম্মণবাড়িয়ার মাঠা? সত্যি পাওয়া যায় এখন?’
‘খুব। এসেই দেখুন না। ’ বলে মোবাইলের লাইনটা কেটে দিল দেয়া।
শফিক এতটুকু দেরি না করে রিক্সায় চেপে বসল।

৩.
লন্ডন থেকে ঢাকায় আসার পর তেমন একটা বের হয়নি শফিক। কেবল কনে দেখে সময় কাটছিল ওর। কিছুতেই ঠিক মনে ধরছিল না কাউকে। সবার মন রাখার জন্য চোখকান বুঁেজে এক -একটি প্র¯তাবে যখনি হ্যা বলবে বলে নিজেকে তৈরি করেছে তখনি ভেতর থেকে কে যেন বলে ওঠে, ‘আরেকটু সবুর কর।’
শফিক পিছিয়ে যায়। সে বিশ্বাস করে পৃথিবীতে সবাই ওকে ভুল পথে পরিচালিত করলেও নিজের মন কখনো উল্টাপাল্টা করে না। সে ঠিকই সত্যি কথাটা জানিয়ে দেয়। অনেকে শোনে , অনেকে শোনে না।
শফিক যে কোনো কাজের বেলায় নিজের মনের কাছে পরামর্শ চায়।
আজ সে যে ব্রাম্মণবাড়িয়ার একটি নাম না জানা মেয়ের সাথে দেখা করতে চলে এসেছে কারোকে না জানিয়ে, তা তো ওই মনেরই তাগিদে। নইলে সে এমন ঝুঁকি নিয়ে মফস্বলে আসে ?
শফিক ফোন করে দেয়াকে। সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে ওঠে সে,‘ আপনি কোথায়?’
‘আমি চারপাশের প্রাকৃতিক শোভা দেখতে দেখতে এগোচ্ছি। জায়গাটা শহর থেকে খানিকটা দূরে , তাই না?’
‘শহর থেকে দূরে হওয়াতেই তো মজা। আপনি তিতাশের পাড়ে এসে আমাকে রিং দেবেন । ’
শফিক মুচকী হাসল। খোলা হাওয়ায় ওর মন্দ লাগছে না। মাথার উপর চৈত্রের আকাশ ধীরে ধীরে গরম হতে শুরু করলেও দমকা হাওয়ার দাপট শরীর জুড়িয়ে দিয়ে যায়। বোঝা যায় ধারে কাছে কোথাও নদী রয়েছে। নইলে বাতাসে এমন আর্দ্রতা পাওয়া দুষ্কর।
রিক্সাওলা ওকে সরাসরি তিতাশের পাড়ে নিয়ে এল। এখানেই লোক জমায়েত হচ্ছে। বান্নিটা বছর বছর এখানেই হয়ে থাকে।
শফিকের চোখের সামনে তিতাশ নদী। অদ্বৈত মল্ল বর্মণের সেই যৌবনবতী তিতাশ এখন শুকিয়ে খড়খড়ে রূপোলি দড়ি । চোখের সামনে ধূ- ধূ বালুচর। জলেও স্রোত নেই, মরমর দশা। তবু একে ঘিরেই আনন্দে মাতোয়ারা ব্রাম্মণবাড়িয়ার মানুষগুলো। বেশিরভাগ নরনারীদের ভেতর কে যে হিন্দু আর কে মুসলমান তা বোঝা সত্যি মুশকিল। সবাই এসেছে এখানে আনন্দ আর পূণ্য ভাগাভাগি করতে। নদীর ঘোলা জলে অগুনতি মানুষের , বিশেষ করে বাচ্চাকাচ্চাদের দাপাদাপি দেখে শফিকেরও ভাল লাগছে। ওরও ইচ্ছে করছে তীরে জামাকাপড় রেখে এক দৌঁড়ে তিতাশের জলে ঝাপ দিয়ে ওপাড়ে গিয়ে জিরিয়ে নিতে। কিন্তু ওর তো সাঁতার জানা নেই। তিতাশ যতই ক্ষীণকায় হউক তাতে ওর কি? তাছাড়া, যা নোংরা জল , পা দেয়া মাত্র চুলকানি হবেই ! ভেবে নিজেকে সামলে নিল শফিক।
সে চারপাশে ভাল করে তাকাল। কাঠের নাগরদোলা গরুর গাড়ির মতো ক্যাঁচক্যাঁচর শব্দে ঘুরে চলেছে। নানা রকমের পসরা সাজিয়ে দোকানীরা বসে রয়েছে চারপাশ জুড়ে। সেখানে মাঠা-চিড়ার বন্দোবস্ত যেমন রয়েছে তেমনি আছে নাড়ু, সন্দেশ, জিলাপি , সরবত, পানতোয়া, মুড়ি- মুড়কি, হাওয়াই মিঠাই, তরমুজ- খিরাই- বাঙির মতো হরেক খাবার দাবার।
শফিকের দৃষ্টি তীরের ফলার মতো প্রতিটি দোকানের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কমবয়েসী যে কোনো নারী চোখে পড়লেই ওর দৃষ্টি স্থির হচ্ছে। থমকে দাঁড়িয়ে ভাবছে এ দেয়া নাত ! কিন্তু একজন উচ্চ শিক্ষিতা সরকারী চাকুরিরতা মহিলাকে সে কিছুতেই মেলাতে পারছে না এদের সাথে। ক্লান্ত হয়ে একসময় বালুর উপর জামাকাপড় নিয়ে বসে পড়ল। দেয়া তাহলে ওকে বগি বানাল নাত! প্রশ্নটা মনের কোণে উঁকি মেরেই হারিয়ে গেল। পরক্ষণেই মন ওকে চোখ শাসাল। বোকা কোথাকার!
এসময় রিং বেজে উঠল মোবাইলে।
‘শুনুন, আপনাকে আমরা দেখতে পাচ্ছি । যতটা স্মার্ট ভেবেছিলাম আপনি ততটা নন। বিদেশে আসলে কী করেছেন? সত্যি করে বলবেন কি? ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিলেন নাত ? ট্যাক্সি ড্রাইভার বলে কারে আজ ঘৃণা কর, হি:হি:হি! ’ শফিকের মনে হল দেয়ার কন্ঠে উলটো সুর। উলটো গীত গয়ে ওকে দর্বল করতে চাইছে।
‘আপনি আমার কোম্পানীতে যোগাযোগ করতে পারেন। ফ্যাক্স , মেইল , ফোন সব দিয়ে দেব। কোনো সমস্যা নেই। ’ আত্মবিশ্বাস নিয়ে উত্তর দেয় শফিক।
‘এমনি দুষ্টামি করলাম। শুনুন, একটা পরীক্ষা দিতে হবে। সামান্য ফান আর কি। একুট সাসপেন্সও আছে। ’ রহস্য ঝরে দেয়ার কন্ঠে।
‘আবার?’
‘হ্যা। আমরা কজন বান্ধবী রয়েছি একসাথে। আপনাকে এদের ভেতর আমাকে চিনে নিতে হবে । পারবেন তো?’
‘আপনি কি রে ভাই? এটা কোন কাজের কথা হল? ভুল তো হতে পারে আমার। তাহলে কি সবকিছু মিথ্যে হয়ে যাবে?’
‘হলে হবে। এটা একটা খেলা । খেলতে পারলে আছি । নইলে নেই। ব্যস। খেলবেন?’ তাচ্ছিল্য ভরা উত্তর দেয়ার। শফিকের কেন যেন এসময়টায় দুশ্চিন্তা পেয়ে বসে। সে বুক ভরা উদ্বেগ -উৎকন্ঠা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে,‘এতদূর এসে জুয়া খেলতে বলছেন আমাকে? ’
‘জুয়া বলছেন কেন। এটা রোমাঞ্চ। সম্পর্কের ভেতর যদি ওটা না থাকে তাহলে প্রতিদিনের ভাত মাছ খাওয়ার মতো মনে হয় সবকিছু। ভাল লাগে না।’
‘আপনার বান্ধবীরা কে কি করেন জানতে পারি?’
‘নিশ্চয়ই । ওরা সবাই বিবাহিতা। একজন জজকোর্টের উকিল। অন্যজন প্রাইমারী স্কুলের টীচার। দেখতে আমার চেয়ে সুন্দরী । ক্লু একটা দিয়ে দিলাম। আর বলব না। শুনুন, আমরা একাট নৌকার ভেতর বসে খিরাই খাচ্ছি। খুঁজে নিন। ’
‘খিরাই? কিভাবে খাচ্ছেন?
‘এক্কেরে বুদ্ধু। এটা কোন প্রশ্ন হল? মুখ দিয়ে , কচকচ করে। হল?’
‘আমাকে বারবার করে বুদ্ধু বললে রাগ করব। ’ ঠোঁট ফোলায় শফিক, বালকদের মতো।
‘বলব না। সরি। খুঁজে নিন। কুইক। রেডি, গেট , সেট, গো। হি:হি:হি:’
সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছুটা দূরে একটা পাল তোলা নৌকার উপর দৃষ্টি আছড়ে পড়ল শফিকের । ইউরেকা বলে চেঁচিয়ে উঠতে চেয়েও চুপ হয়ে গেল। সে এগিয়ে যাবার আগে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করল,‘ আমি দেখতে কেমন?’
ভেতর থেকে উত্তর এল ,‘ গড়পরতা। হাইট পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। গায়ের রং ফর্সা। চোখের মণি বেড়ালের মতো। চুল কাল। মেদ নেই বললেই চলে। চট করে বয়স বোঝা যায় না। হল?’
দেয়ার মুখোমুখি দাঁড়ানোর আগে শফিক নিজের সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আত্মবিশ্বাস অর্জন করে নিতে চায়। সে যে মেয়েদের সাথে মেশে নি তা নয়। ম্যালা অভিজ্ঞতা ওর ঝুলিতে । কিন্তু এটি ভিন্ন রকমের অর্জন। এরকম আগে কখনো হয়নি।
নৌকার সামনে দাঁড়াতেই তিনজন এক সাথে হেসে ওঠে। ঘাবড়ে যাওয়ার মতো হাসির গমক। কিন্তু বিদেশ চড়িয়ে খাওয়া ছেলে সে। নিত্যদিন হাতের ডানে ছেলে -মেয়ের চুমু খাওয়ার উত্তেজক দৃশ্য রেখে বাঁহাত দিয়ে বার্গার কিনতে হয় তাকে। তবু সেদিকে তাকানো বারণ । যদি অসভ্যতা হয়ে যায়! পুলিশ এসে ধরে পর্য়ন্ত নিয়ে যেতে পারে। সেই পুরুষটি ঘাবড়াবে কেন?
তিনজনের তিন রকম হাইট। তিনজনই একই রকম পোশাক পরেছে। লাল পাড় দুধসাদা শাড়ি । খোঁপায় ফুল। কপালে বড় লাল টিপ। দুজনার মেকাপ বেশ লাউড। একজন একেবারেই সাদামাটা , সামান্য স্নো-পাউডার ছাড়া কিছু মাখেনি। তিনজনই খিরাই খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু কারো চোখে কোনো চশমা নেই। কাজল টানা বড় বড় আয়ত চোখ প্রায় সবার।
আরো কিছু ভাববার আগে একটি চিরকুট ওর হাতে এসে গেল। তাতে লেখা রয়েছে -‘ মোট তিনবার চান্স পাবেন। ভাল করে দেখে নিন। ’
শফিক এতটুকু না চমকে স্মার্টলি বলে উঠল, ‘আপনি দেয়া । তাই না? ’
সঙ্গে সঙ্গে তিনজন একসাথে হেসে উঠল। মনে হল সে জিতে গেছে। কিন্তু মেয়েটি অনুচ্চ কন্ঠে উত্তর দিল , ‘আমি দেয়া নই। ’
চমকে উঠল শফিক। ওর বুকের কোথায় যেন মোচড় দিয়ে উঠল। দেয়াকে তাহলে এ যাত্রায় হারিয়ে ফেলল সে?
সে চীৎকার করে বলে উঠল‘, তাহলে আপনি দেয়া ? তাই না? ফাঁকি দিতে পারবেন না। আমি অনেক কষ্ট করে এখানে এসেছি। আমি কিছু একটা বোধ করছি নিজের ভেতর। আমি দেয়ার খোঁজেই এ পর্যন্ত এসেছি। আই ডু ফিল দেয়া !’ কথাগুলোয় কিঞ্চিৎ নাটুকেপনা থাকলেও তিতাশ পাড়ের খোলা হাওয়ায় কথাগুলো কেমন যেন মানিয়ে গেল।
সামান্য দূরে একটি লোক টিনের তৈরি একটি বড় বাক্সের গায়ে হাতের তালু দিয়ে বাড়ি দিচ্ছে আর বলছে : আরে মজা লাইগা বইল , একট্যাকা তার দাম অইল , কেমন মজা লাইগা বইল , বা:…সুন্দর বাড়ি ঘর আইল ….. রূপমতি কইন্যা আইল …. আগ্রার তাজমহল আইল …. বা: । দুচারজন কিশোর -কিশোরী টিনের বাক্সের অপর পাশে মুখ লাগিয়ে সেই দৃশ্য দেখছে। নিশ্চয়ই এর ভেতর স্টিল ছবি চলছে। এই কমপিউটার আর প্রজেক্টরের যুগে মানুষ এখনও এগুলো নিয়ে মেতে থাকে? শফিক প্রশ্ন করে নিজেকে।
‘আপনি কিন্তু হেরে যাচ্ছেন। ’ যে মেয়েটিকে ও দেয়া বলে সনাক্ত করল সে উচ্চকন্ঠে বলে উঠল।
শফিক থতমত খেয়ে গেল। একধরনের পরাজয়ের কষ্ট ওর বুকের তলায় জমা হচ্ছে। মেয়েটি কি চাইছে ওর কাছে? ওর একটুখানি ভাল লাগাকে এভাবে খেলাবে সে? শফিকের আত্মসম্মানবোধ এসময় টনটন করে উঠল। একটা মেয়ের জন্য এতটুকু? যোগ্যতায় সে কারো থেকে কম কিসে? তারপরও ওকে এধরনের ফাজলামোর মুখোমুখি হতে হচ্ছে কেন? রাগে গড় গড় করে ওঠে শফিক।
আর ঠিক তখনি ওর মনে হল সে কোথাও একটা ভুল করছে। বড় কোনো ভুল। ভেতর থেকে ওর বন্ধু ফিস ফিস করে বলে উঠল, ‘একটুখানি ভাবো আরো। প্লি¬জ। তাড়াহুড়ো করো না। ’
একটু বাদে সে সহসা চেঁচিয়ে উঠল,‘ এখানে কেউ দেয়া নয়। আপনারা কেউ দেয়া নন। ’
মেয়েগুলো এবার বসা থেকে দাঁড়িয়ে বাধভাঙা হাসিতে ভেঙে পড়ে নিজেদেও ভেতর। ছৈ-ওলা নৌকার পিছন থেকে বেরিয়ে আসে এক নারী। মুখে সলজ্জ হাসির রেখা। চোখে পাওয়ারের চশমা। এলো চুল।
শফিক কল্পনায় দেয়ার চেহারা যেরকম এঁকেছিল , অবিকল সেরকম। কারুকাজময় সবুজ শাড়ি গায় , সবুজ টিপ আর সাদা বর্ডার দেয়া লাল ব্লাউজে ওকে দেখে মনে হচ্ছে – এ দেয়া নয় , এতো বাংলাদেশের পতাকা!
উৎফুল্ল শফিক জ্ঞিজ্ঞাসা করল,‘ খেলায় জিতেছি তো ? ’
গরম বালির দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে উত্তর দিল দেয়া,‘ হু’।

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Hameem Faruque — জুন ১৪, ২০১২ @ ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

      Excellent, Manish. After a pretty long time, I read your piece. As well knitted as before. keep it up.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shahin — জুন ১৭, ২০১২ @ ১২:১৭ অপরাহ্ন

      ITS SO NICE PIECE OF WORK.THANKS .

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রনিতা বসু — জুন ১৮, ২০১২ @ ৩:১৮ অপরাহ্ন

      ভালো হয়েছে যদিও গতানুগতিক কাহিনী । উপস্থাপন বেশ ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন miraj — জুন ২৬, ২০১২ @ ২:২৭ অপরাহ্ন

      সুন্দর একটা গল্প।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ZAHURUL — আগস্ট ৪, ২০১২ @ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

      VALO HOESE TOBE AREKTU BOICHITRO ANLE VALO HOTO!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com