এক মেহমান দুই মেজবান

শিবব্রত বর্মন | ১০ জুন ২০১২ ৬:২৯ অপরাহ্ন

বাল্যে আমাদের মফস্বল শহরের সিনেমা হলে একটি সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। ছবির নাম ’এতিম’। তখনকার দিনের সুপারহিট ছবি। মনে পড়ে, সিমেনার কাহিনী পুরোপুরি জমে ওঠার আগেই আমার সহদর্শক মামি-মাসীরা আঁচলে চোখ মুছছিলেন। ছবির প্লট আমার হৃদয় গলাতে পারেনি। কেননা, আমার মন তখন পড়ে ছিল রেললাইনের অপর পাড়ে আরেকটি সিনেমা হলে, যেখানে একটি ফাইটিং ছবি চলছিল| ওই সিনেমা হলের সামনে একটি সফেদ ঘোটকে আসীন চিত্রনায়ক ওয়াসীমের উদ্যত তরবারি| তার দৃষ্টিকাড়া হোর্ডিংয়ের তলা দিয়ে আমরা পরিপূর্ণ সামাজিক ছবি ’এতিম’ দেখতে এসেছি; আমার পীড়াপীড়িকে গুরুজনেরা পাত্তা দেননি।

এতিম ছবির কাহিনী ট্রাজিক। একটি শিশু কিভাবে অভিভাবকবৃক্ষের বৃন্তচ্যুত হয়ে পৃথিবীর নিষ্ঠুর মরুভূমে নিক্ষিপ্ত হলো, সেই কাহিনী দীর্ঘশ্বাস উদ্রেককারী। শিশুদের এতিমত্ব সমাজের বড়দের চোখে খুবই বেদনাদায়ক একটি বিষয়। এর একটি কারণ বোধ করি এই যে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শিশু অভিভাবকহীন হলে তার যথাযথ পরিচর্যার অভাব ঘটে এবং তার মধ্যে নিহিত প্রতিভা ও সম্ভাবনাগুলো বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। একজন এতিমের পক্ষে সমাজে একজন ব্যর্থ মানুষে পর্যবসিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেতিম অপেক্ষা বেশি থাকে।
তবে এই অভিজ্ঞানের কিছু ব্যতিক্রম যে নেই, তা নয়। যেমন ব্যতিক্রম ঊনবিংশ শতকের মার্কিন লেখক এডগার অ্যাল্যান পো। অতি শৈশবে তার বাবা তাদের পরিবারটিকে ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরে মায়েরও মৃত্যু ঘটলে একেবারে এতিম অবস্থায় সে-যুগে বিশ্বের সবচেয়ে নির্দয় শহর নিউইয়র্কের ফুটপাথে নিক্ষিপ্ত হন মিস্টার পো। শোনা যায়, একদা পরিস্থিতি এমন সঙ্গীন হয়ে উঠেছিল যে, তাকে ভিক্ষা পর্যন্ত করতে হয়েছে। সেই পো কালক্রমে বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা লেখকদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। তবে এই সত্য ভোলা খুবই কঠিন যে, অ্যালান পো যা-ই লিখে থাকুন না কেন, তিনি তা লিখেছেন একেবারে পেটের দায়ে। বহু গল্প আর কবিতা তার হাত দিয়ে বেরিয়েছে দুপুরে খাবার জোটাতে। ক্ষুধা নামক সৃজনঘাতী চেতনালোপী এক বাস্তবতার ভেতর থেকে জন্ম নিয়েছে পৃথিবীর প্রথম গোয়েন্দা গল্প, অজস্র ফ্যান্টাসি কাহিনী।

এতিম পো যে-দেশে জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন, সেই দেশ থেকে অতি সম্প্রতি একজন অতিথি বেড়াতে এসেছিলেন আমাদের এই এতিমের দেশে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন মেহমান। আমাদের ভাঙ্গা ঘরে তাকে কোথায় বসতে দেব, কী খেতে দেব, তা নিয়ে আমরা তটস্থ হয়ে পড়েছিলাম।
পো-কে মনে করার আরেকটি কারণ আছে। এই গুরুস্থানীয় লেখকের সবচেয়ে কম পঠিত গল্পগুলোর একটির নাম, ’দ্য সিস্টেম অব ডক্টর টার অ্যান্ড প্রফেসর ফেদার’| সেই গল্পটির কাহিনীও আমার মনে পড়ে গেল। কিছু দৈবদুর্বিপাকজনিত কারণে এ মুহূর্তে সেই গল্পটির কাহিনী খুবই সংক্ষেপে বলার লোভ আমি সামলাতে পারছি না।
গল্প একটি পাগলা গারদ নিয়ে।

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে সেটির অবস্থান। ওই এলাকা তখন ভ্রমণ করছিলেন এক মার্কিন অতিথি। আমাদের এই অতিথিটির মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ অতিথি নন। ইনি পরিব্রাজক গোছের লোক। বিশেষ ওই পাগলা গারদের খ্যাতির কথা তিনি শুনেছেন। ফলে কৌতুহল নিবৃত্ত করতে তিনি সেটি পরিদর্শন করবেন বলে মনস্থ করেছেন।
ম্যাডহাউস বা পাগলা গারদটির খ্যাতির উৎস এটির চিকিৎসাপদ্ধতি।
কী-রকম চিকিৎসাপদ্ধতি?

গারদের সুপারইনটেনডেন্ট মঁসিয়ে মেইলার মার্কিন অতিথিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বললেন, এখানে মানসিক রোগীদের আলাদা করে রাখা হয় না, কাউকে কোথাও আটকে রাখা হয় না, তারা সাধারণ মানুষের পোশাক পরে সাধারণ মানুষের মতোই যত্রতত্র ঘুরে বেড়ান। শুধু তাই না, উন্মাদ লোকজনের উৎকল্পনা যতো উদ্ভটই হোক না কেন, কোনো কল্পনার সঙ্গেই দ্বিমত পোষণ করা হয় না। অর্থাৎ পাগলদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, তারা যা কিছুই কল্পনা করছেন, তার সবই আসলে বাস্তব। যেমন, কেউ একজন হয়তো নিজেকে একটি তাগড়াই মোরগ হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করেছেন। তখন চিকিৎসক আর কেয়ারটেকারের কাজ হবে, ওই লোককে দিনরাত মোরগের খাবার খাইয়ে যাওয়া, যাতে লোকটির মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ তৈরী না হয় যে, নিজেকে মোরগ মনে করার পেছনে তার মাথায় কোনো গোলমাল কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় রোগী নাকি দিব্যি সেরে ওঠে।
অভিনব পদ্ধতি, সন্দেহ নেই।

কিন্তু একটি সমস্যা আছে। সুপারিনটেনডেন্ট মেইলার মার্কিন অতিথিকে জানালেন, চিকিৎসার যে সিস্টেম বা পদ্ধতিটি এতোক্ষণ বর্ণনা করা হলো, সেটি কিছুদিন আগে পর্যন্তও বহাল ছিল। এখন আর নেই। কেন নেই? কেননা, মানসিক রোগী বা উন্মাদ লোকজনকে এভাবে উন্মুক্ত চলাফেরা করতে দেওয়ার পেছনে যেসব ভয়ঙ্কর বিপদের ঝুঁকি নিহিত, সেগুলো অতিসম্প্রতি প্রকাশ হতে শুরু করেছে। ফলে ওই পদ্ধতি বাতিল। উন্মাদদের পথঘাট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আটক করা হয়েছে গারদে। পায়ে লাগানো হয়েছে ডান্ডাবেরি। বাইরের পৃথিবীর কাউকেই তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।

নতুন একটি পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। সেই পদ্ধতি অতিমাত্রায় কঠোর, নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন। আর এই নতুন পদ্ধতির আবিষ্কর্তা ডক্টর টার এবং এবং অধ্যাপক ফেদার।
মার্কিন অতিথি মেজবান সুপারইনটেনডেন্টের বাংলোয় এক ভোজসভায় যোগ দেন। বিরাট ভোজসভা। তাতে আরো যোগ দিয়েছেন জনাতিরিশেক অভ্যাগত, সুপারের দাবি অনুযায়ী যারা এই পাগলা গারদের নানান পদমর্যাদার কেয়ারটেকার। খেতে খেতে আলাপ গড়াতে থাকে। কিন্তু আলাপ যতোই গড়ায়, মার্কিন অতিথির মনে দেখা দিতে থাকে খটকা। শেষে তিনি টের পান, সুপারসহ পুরো দলটিই আসলে উন্মাদ। এরাই এখানকার রোগী। খোলামেলা চলাফেরার সুবিধা কাজে লাগিয়ে এরা একদিন বিদ্রোহ করে পুরো পাগলা গারদ দখল করে নিয়েছে। নিয়ে এটির দশ কেয়ারটেকারকে আটক করে তাদেরকেই উল্টো পাগল হিসেবে সনাক্ত করে মাটির তলার গারদে বন্দি করে রেখেছে। সেখানে তাদের পাগলামির চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসক এই উপরিতলের উন্মাদরা। চিকিৎসা পদ্ধতি: সারা গায়ে আলকাতরা (টার) মাখিয়ে পাখির পালক (ফেদার) গুঁজে দেওয়া।

এই হলো পো-এর গল্প ’দ্য সিস্টেম অব ডক্টর টার অ্যান্ড প্রফেসর ফেদার’।
লক্ষ্য করার বিষয়, মার্কিন অতিথি সফরের আগে আগে ওই পাগলা গারদে একটি বড় ধরনের সিস্টেম পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। দুটি সিস্টেম পরস্পরবিরোধী। একটি সিস্টেম পরিচালনাকারী পক্ষ অপর সিস্টেমের লোকজনকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিতে চায়। শুধু তাই না, একটি সিস্টেমের সমর্থনকারী লোকজন অপর পক্ষকে উন্মাদ হিসেবে সনাক্ত করে। পক্ষ দুটি আবার পরস্পর বিযুক্তও নয়। কেননা একটি পক্ষ উন্মাদ হলে আরেকটি পক্ষ উন্মাদনার চিকিৎসাকারী। একপক্ষ সাপ তো আরেকপক্ষ ওঝা।
আমাদের হাইপ্রোফাইল মার্কিন অতিথি যখন এ দেশ সফর করছেন, তখন এখানেও একটি সিস্টেম বদলের বিতর্ক বহাল। কেয়ারটেকার পদ্ধতি নামে ভূতপূর্ব একটি সিস্টেম (যেটি অভিনব হিসেবে কোনো কোনো মহলে খ্যাত) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আগের সিস্টেমের দশ কেয়ারটেকারের গায়ে যদিও আলকাতরা মাখিয়ে দেওয়া হয়নি, তবে তাদের দুএকজনকে আদালতের কাঠগড়া মাড়াতে হয়েছে।

এরকম এক পরিস্থিতিতে মার্কিন এই মেহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এদেশীয় দুই খ্যাতিমান মেজবান। এরা দুজনেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খেতাবে ভূষিত। দুই মেজবানই ভূতপূর্ব পদ্ধতিটি সমর্থন করার কথা বলেছেন বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, যদিও তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কেন মতামত চাওয়া হবে, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। কেননা, এ বিষয়টি তাদের বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতার মধ্যে পড়ে না। তবে পত্রিকার খবরকে সত্য ধরে নিলে বলতে হয়, তারা মাটির তলার কক্ষ থেকে সেই দশ দুর্দশাগ্রস্তকে উদ্ধার করে বাইরে বের করে আনার পক্ষ সমর্থন করেছেন। কিন্তু সেটা করতে গেলে আসলে আগে বাইরের উন্মাদদের পাকড়াও করার একটা পদ্ধতি বের করতে হবে। সেটা কিভাবে করা সম্ভব হবে, এই দুই মেজবান সে ব্যাপারে কিছু বলেছেন বলে আমরা শুনিনি। শুধু শুনেছি, মার্কিন মেহমান সংলাপের পরামর্শ দিয়েছেন।

আমি পো-এর গল্পে ফিরে যাই। পো তার এই গল্পটি লিখেছেন ১৮৪০-এর দশকে। সেটা এমন এক সময়, যখন বিশেষ করে ফ্রান্সে মানসিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সাইকিয়াট্রিস্টদের মধ্যে একটা বড় বিতর্ক ঘনিয়ে উঠছে। ওই সময়েই ফ্রাসোয়া লুরে নামে এক মনোরোগবিশেষজ্ঞ ঠিক উল্টো একটি চিকিৎসাপদ্ধতি অবলম্বন করতে শুরু করেছিলেন। তিনি পাগলদের নানারকম শারিরীক পীড়নের মুখোমুখি করে তাকে আগে মেনে নিতে বাধ্য করতেন যে, সেই ব্যক্তি যা-যা কল্পনা করছে, তার সবই পাগলামি। অর্থাৎ পাগলকে আগে স্বীকার করে নিতে হতো, আমি পাগল। একবার এই স্বীকারোক্তি আদায় করে নিতে পারলে বাকিটা নাকি ডালভাত।

পাগলামির প্রসঙ্গ এলে অবশ্য আরেকজনের কথা স্মরণ না করে পারা যায় না। তিনি এই ফরাসি মুল্লুকেরই আরেক দার্শনিক মিশেল ফুকো। জীবনে প্রথম যে দার্শনিক বইটি তিনি লিখেছিলেন, সেটির নাম উন্মাদনা ও সভ্যতা। শুনেছি, ওই বইতে তিনি বলার চেষ্টা করেছেন যে, নিজেকে পাগল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিষয় হিসেবে মানুষের নিজের দিকে তাকানোর সূত্রপাত। সভ্যতার যাত্রাবিন্দুও সম্ভবত সেটাই।
অ্যালান পো-এর প্রিয় একটা মার্কিন ছড়াগান শোনা যাক :

What ho! what ho! this fellow is dancing mad!
He hath been bitten by the Tarantula.

মৎকৃত বঙ্গানুবাদ :

লোকটা এমন নাচছে কেন সঙ্কটে?
লোকটাকে কি কামড় দিলো মর্কটে!

১১ মে, ২০১২

free counters

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসিবুর রহমান মুক্তি — জুন ১১, ২০১২ @ ৫:৫৩ অপরাহ্ন

      লেখাটি পড়ে আমার নিজেকেই পাগল মনে হচ্ছে। শিবুদা লেখাটি ভালো লেগেছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — জুন ১২, ২০১২ @ ৪:১৯ পূর্বাহ্ন

      শিবব্রত বর্মনকে ধন্যবাদ এমন প্রাঞ্জল ও প্রতীকী একটি লেখার জন্য। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমারই চারপাশের ঘটনাবলী লেখক তুলে এনেছেন বৈশ্বিক আর সামাজিক পরিসরের বিভিন্ন অনুষঙ্গ। “লোকটা এমন নাচছে কেন সঙ্কটে? / লোকটাকে কি কামড় দিলো মর্কটে!” শেষের এই ‘মৎকৃত’ অনুবাদটা মুখে লেগে থাকবে আগামী কিছুদিন। মজার পাঠভ্রমণ হলো। ধন্যবাদ আর্টসকেও।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরিফুর রহমান — জুন ১৪, ২০১২ @ ১২:১৭ অপরাহ্ন

      ’দ্য সিস্টেম অব ডক্টর টার অ্যান্ড প্রফেসর ফেদার’ এর সাথে চমৎকার কনটেক্সটচুয়ালাইজড বিশ্লেষণ!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Gani Adam — জুন ১৫, ২০১২ @ ৭:৩৫ অপরাহ্ন

      মুক্তি ভাইয়ের সাথে সহমত এবং সিদ্ধান্ত এই যে, এই লেখা যাদের নিয়ে, যিনি লিখেছেন এই লেখা, যারা পড়ছেন এটি, যারা প্রতিক্রিয়াও জানাচ্ছেন এবং সর্বশেষ যারা এমনকি প্রতিক্রিয়াগুলোও পড়ছেন…… সবাই পাগল!

      লোকটা এমন নাচছে কেনো ফাঁপড়ে?
      লোকটাকে কি কামড়ে দিলো মাকড়ে?

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।