রশীদ করীম, সাপ্তাহিক প্রতিশ্রুতি ও তাঁর সময়

আহমাদ মাযহার | ২৯ নভেম্বর ২০১১ ৫:২০ অপরাহ্ন


rashid-karim-pic.jpg…….
শিল্পী অশোক কর্মকারের আঁকা সাহিত্য প্রকাশ প্রকাশিত প্রবন্ধ সমগ্র বইয়ের প্রচ্ছদে রশীদ করীম
……
রশীদ করীমের লেখা পড়তে শুরু করেছিলাম সেই ১৯৭৮ সালে, ঈদসংখ্যা বিচিত্রায়। তখন আমি সবে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে লক্ষ্মীবাজারের শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি হয়েছি। দেখলাম কলেজের লাইব্রেরিতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল বইয়ের সংগ্রহও প্রচুর। ততদিনে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম বলে ক্যাটালগে একেকটা বইয়ের নাম দেখে আকুল হয়ে উঠছিলাম সেগুলো পড়বার জন্য। সম্প্রতি-প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আতাহারুল ইসলামের সঙ্গে তখন খানিকটা সখ্য গড়ে উঠেছিল আমার এক কাকার সঙ্গে তাঁর সহপাঠিত্বের সূত্রে। কাকার সহপাঠী বলে তাঁকেও কাকা ডাকতাম। যতদূর মনে পড়ে তখনও তাঁর ছাত্রজীবন শেষ হয় নি।

কী বই পড়া উচিত সে পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে যেতাম মাঝে মাঝে। অনেকের সঙ্গে রশীদ করীমের নামও বলেছিলেন তিনি। তালিকা দেখে যে-কয়টি বই চেয়েছিলাম তার মধ্যে রশীদ করীমের উপন্যাস প্রসন্ন পাষাণ (১৯৬৩) ছিল। মনে আছে যে বেশ ভালো লেগেছিল সেটি। এতে বোধ হয় দুটি কবিতা ছিল। একটি লেখকের অনুরোধে কবি শামসুর রাহমান লিখে দিয়েছিলেন, অন্যটি ছিল রশীদ করীমের নিজের লেখা। পড়ে কতদূর বুঝেছিলাম মনে নেই, কিন্তু ভালো যে লেগেছিল তা মনে আছে।

অন্য বইগুলোও খুঁজতে লাগলাম তাঁর। প্রথম উপন্যাস উত্তম পুরুষ (১৯৬১)-এর পরে লেখা হয়েছিল প্রসন্ন পাষাণ। কিন্তু উত্তম পুরুষ আমি পেয়েছিলাম পরে। দুটি উপন্যাসের পটভূমিই কলকাতা শহর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মন্বন্তর দুটি উপন্যাসেরই উপজীব্য। উত্তম পুরুষ পড়ে বাঙালি মুসলমান নাগরিক অভিজাত মধ্যবিত্ত সমাজের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পেরেছিলাম খানিকটা। এই দুটি বই পড়া হয়ে গেলে আমি রীতিমতো তাঁর অনুরাগী হয়ে পড়ি। কাছাকাছি সময়ের ঈদসংখ্যাগুলোতে রশীদ করীমের উপন্যাসগুলো পেলেই পড়ে ফেলছিলাম। মনে পড়ে প্রেম একটি লাল গোলাপ (১৯৭৮), সাধারণ লোকের কাহিনী (১৯৮২), একালের রূপকথা (১৯৮০) আমি পড়ে ফেললাম বই হয়ে প্রকাশের আগেই! তাঁর উপন্যাস আমার যত গ্লানি (১৯৭৩) বেশ বিখ্যাত হয়েছিল। উপন্যাসটির প্রথম লাইনটিই চমকে দিয়েছিল আমাকে। ‘আমি লোকটা আসলে একটা খচ্চর’–এ-রকম একটা লাইন দিয়ে উপন্যাসের শুরু হতে পারে! আলবেয়ার কাম্যুর দ্য আউটসাইডার উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মোরসল যেমন বলেছিল, ‘আমার মা মারা গিয়েছেন আজ; অথবা গতকাল; আমি নিশ্চিত হতে পারছি না!’ পাঠকের চেতনাকে এই কথাগুলো যেমনভাবে নাড়িয়ে দেয় তেমনি রশীদ করীমের আমার যত গ্লানির বইয়ের প্রথম লাইনটিও পাঠকের চেতনায় ঝাঁকি দেয়। ব্যক্তির এ-রকম অকপট ও নির্মোহ আত্মঘোষণা এই উপন্যাসের আগে বাংলা উপন্যাসে আছে বলে আমার মনে পড়ছে না।

আমার মনে হয়েছিল নাগরিক জীবনযাত্রা সম্পর্কে তিনি অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। নাগরিক মানসের সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্ব তিনি খুব ভালো জানেন। মধ্যবিত্ত জীবনের অন্তর্গত সংঘাত, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে যে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা থাকে সে-সবকে তাঁর ঔপন্যাসিক পর্যবেক্ষণে ধরেছেন রশীদ করীম। মধ্যবিত্ত পরিবারের নরনারীর প্রেমকেও প্রধান উপজীব্য করে তোলেন তিনি উপন্যাসে। আমি নিজে সে-সময় ঢাকা নগরে বসবাস করলেও জীবন যাপন করতাম প্রায় নিম্নবিত্ত ধরনের। ঢাকার এমন একটা এলাকায় বসবাস করতাম যে জায়গাটা তখনও নগর হয়ে ওঠে নি। ফলে রশীদ করীমকে আমি সমীহ করতাম উচ্চবিত্ত ও অভিজাত জীবন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একজন লেখক হিসেবে। আমার মন তখনও পর্যন্ত ধর্মীয় নীতিবোধের কবল থেকে মুক্ত না হলেও শিল্পীরা যে একটু বেশি স্বাধীন এবং তাঁদেরকে যে ধর্মীয় বা অন্যান্য শৃঙ্খলামূলক নীতির বন্ধনে আটকে রাখা যায় না সে-রকম অনুভব আমার মধ্যে ততদিনে জন্মে গেছে। ফলে রশীদ করীমের লেখার যৌনতা আমাকে খানিকটা সংকুচিত করে রাখলেও তাঁর লেখা ভালো লেগে গিয়েছিল বলে পড়ে ফেলতাম। তাঁকে সভা-সমিতিতে মাঝে মাঝে দেখা যেত বলে দেখতামও দূর থেকে। তখন পর্যন্ত তাঁর যে-সব লেখাপত্র আমার পড়া হয়েছিল তাতে মনে হয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন উচ্চবিত্ত সমাজের অন্তর্গত চেতনার স্রোতোস্বিনীকে তাঁর লেখায় পেয়ে যাই!

কবি শামসুর রাহমানের সঙ্গে তাঁর ছিল বিশেষ সখ্য ও হার্দিক সম্পর্ক। তাঁদের দুজনের বন্ধুতার কথা একটু আলাদাভাবে উল্লেখ না করলে ঐ সময়ে তাঁদের সাহিত্যিক অবস্থার প্রভাব কল্পনা করা যাবে না। শামসুর রাহমানের কবিতাকে তিনি যেমন উচ্চমূল্য দিতেন তেমনি শামসুর রাহমানও মনে করতেন রশীদ করীম শক্তিমান লেখক। শামসুর রাহমানের ব্যক্তিত্বে এক ধরনের প্রসন্ন লাজুকতা ছিল। জানি না কেন যেন তাঁর ব্যক্তিত্বের এই মৃদুতার প্রতিও ছিল আমার ভালোলাগা। ফলে শামসুর রাহমানের অফিসে মাঝে মাঝে যাওয়ার আকর্ষণ বোধ করতাম। কিন্তু রশীদ করীমের ব্যক্তিত্বে একটু ঝাঁজ ছিল বলে থাকতাম দূরে দূরে। আশির দশকের প্রথম দিকে কিছুকাল আমি ছিলাম আবু হাসান শাহরিয়ারের প্রায় ছায়াসঙ্গী। যতদূর মনে পড়ে সেই সময়েরই কোনো একদিন রশীদ করীমের সঙ্গে আমাকে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেটা সম্ভবত উনিশ শো আশি কি একাশি সাল হবে। কথা বলতে গিয়ে কিন্তু সেদিন তাঁর কাছে প্রতিহত হই নি। আন্তরিকতার সঙ্গেই কথা বলেছিলেন। পড়াশোনার খোঁজ-খবর নিয়েছিলেন। পরিচিত হবার আগে আমার যে সংকোচ ছিল তা কেটে গিয়েছিল সেই থেকে।

শামসুর রাহমান কেবল বন্ধুই ছিলেন না রশীদ করীমের, ছিলেন গভীর অনুরাগীও। রশীদ করীমের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোচনা হতো না বলে দুঃখ পেতেন। আমার কাছেও একধিক বার এ ব্যাপারে দুঃখ করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে কলকাতার প্রতিক্ষণ পত্রিকার গোলটেবিল বৈঠকে একবার কথাপ্রসঙ্গে তাঁর এই মনোবেদনার কথা প্রকাশ করতে গিয়ে একটু বেশিই আবেগ প্রকাশ করেছিলেন। সে কারণে দেশে ফিরে অন্যদের কটূক্তি শুনতে হয়েছিল শামসুর রাহমানকে। রশীদ করীম কিন্তু শামসুর রাহমানের মতো মৃদুভাষী ছিলেন না। তিনি বরং জোরালো ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন। কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হকের জীবন আমার বোন উপন্যাসটি যখন সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হলো তখন পর্যন্ত মাহমুদুল হকের কোনো বই প্রকাশিত হয় নি। তখনই রশীদ করীম স্পষ্টভাষায় স্বাগত জানিয়েছিলেন অচেনা লেখক মাহমুদুল হককে। জীবন আমার বোন সম্পর্কে তাঁর সেই সমালোচনা প্রায় মিথ হয়ে আছে। আহমদ ছফার ওঙ্কার উপন্যাসটি সম্পর্কেও তাঁর সমালোচনা প্রশংসিত হয়েছিল সর্বমহলে। ওঙ্কার উপন্যাসটির প্রতি রসিক মহলের যথার্থ দৃষ্টি আকৃষ্ট হবার ব্যাপারে রশীদ করীমের লেখারও একটা ভূমিকা আছে!

rk245.jpg…….
প্রবন্ধের বই অতীত হয় নূতন পুনরায়বাংলা একাডেমী ১৯৯২
……..
সামান্য পরিচয়ের সূত্রে আমি তাঁর কাছে গিয়েছিলাম ১৯৯১ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে। সেটা একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের সূত্রে। সম্প্রতি প্রয়াত রাজনীতিক মহিবুর রহিম বাবুল সম্পাদিত সাপ্তাহিক প্রতিশ্রুতি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হলে প্রতি সংখ্যায় কলাম লেখার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো ছিল তাঁর কাছে যাবার উদ্দেশ্য। নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে পত্রিকার প্রতি সংখ্যার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। শফিক রেহমানের সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকার সূত্রে সে-সময় খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের কলাম নেয়ার একটা প্রচলন চালু হয়েছিল। আমরাও তার দ্বারা উজ্জীবিত হয়ে বিশিষ্ট কয়েকজনের কাছ থেকে কলাম নেব বলে ঠিক করেছিলাম। রশীদ করীম আমাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিলেন। তিনি কলাম দিতে সম্মত হলেও কিছুটা হতাশও হয়েছিলেন আমাদের পত্রিকার আর্থিক উৎস তেমন জোরালো নয় জেনে। তবে বলেছিলেন তাঁকে যথার্থ সম্মানী দিতে হবে। আমরা রশীদ করীমের কলাম পাব এই উত্তেজনাতেই বিভোর হয়ে ছিলাম বলে আমাদের সম্মতি ছিল তাঁর ভাষায় যথার্থ সম্মানী দিতে। তাঁর কলাম প্রকাশিত হয়েছিল মোট নয়টি সংখ্যায়। প্রথম দিকে কলামের বিষয় ছিল বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতি। নাম ছিল ‘বিশেষ বিষয়’; পরে বিষয় বদল করে লিখলেন সাহিত্য নিয়ে। কলামের নাম দিলেন ‘আলটপকা চিন্তা’। কলাম হিসেবে লিখলেও রচনাগুলো ছিল বৈদগ্ধ্য, স্পষ্ট বক্তব্য ও সূক্ষ্ম হিউমারে পূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে একটিই পূর্ণাঙ্গ রচনা তিনি লিখেছিলেন আমাদের স্বল্পজীবী সাপ্তাহিক প্রতিশ্রুতির আমন্ত্রণে পত্রিকটির ১৫ই আগস্ট সংখ্যায়। রচনাটির নাম ‘দেশের হৃদয় তারে রাখিয়াছে ধরি’। মনে রাখতে হবে যে সময়টি ছিল এরশাদ আমলের পরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পরবর্তী কাল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসবার পরের বঙ্গবন্ধু-প্রেমের হিড়িকের কাল নয় সেটা। প্রতিশ্রুতি পত্রিকায় প্রকাশিত সবগুলো লেখা তিনি গ্রন্থভুক্ত করেন নি। তবে ‘আলটপকা চিন্তা’ পর্বের ‘খোকা এল নায়ে লাল জুতুয়া পায়ে’ ১ম বর্ষ ১১ সংখ্যা, ১১ জুলাই ১৯৯১], ‘সাহিত্যের বিচারক’ [১ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা, ৩০ মে ১৯৯১] ‘দেশের হৃদয় তারে রাখিয়াছে ধরি’ [১ম বর্ষ ১৬শ সংখ্যা, ১৫ আগস্ট ১৯৯১], ‘বিশেষ বিষয়’ পর্বের ‘ধর্মনিরপেক্ষতার দণ্ড ও তার পুরস্কার’ [১ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, ১৫ এপ্রিল ১৯৯১], [আলটপকা চিন্তা পর্বের রচনা ‘কণ্ঠ থেকে গান কে নিল’ [১ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা, ২০ জুন ১৯৯১]–এই পাঁচটি রচনা তাঁর অতীত হয় নূতন পুনরায় (১৯৯২) বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। উল্লিখিত পাঁচটি রচনা ছাড়া অন্য রচনাগুলো হচ্ছে: ‘বিশেষ বিষয়’ পর্বের ‘কিছু মৌল প্রশ্ন:এডভোকেট সিরাজুল হক প্রসঙ্গে’ [১ম বর্ষ ২য় সংখ্যা, ২৪ এপ্রিল ১৯৯১], ‘কিছু মৌল প্রশ্ন: তিন জোটের রূপরেখা, খালেদা জিয়া ও ডঃ কামালের চিঠি প্রসঙ্গে’ [১ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা, ১ মে ১৯৯১] এবং ‘আলটপকা চিন্তা’ পর্বে আলাদা শিরোনাম ছাড়া বাংলা একাডেমীর বৈশাখী লোক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রসঙ্গিত রচনা [১ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা, ৯ মে ১৯৯১], ‘খুশ আমদেদ’ [১ম বর্ষ ৫ম সংখ্যা, ১৬ মে ১৯৯১], ‘দ্বিপ্রহরে অন্ধকার’, [১ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ২৩ মে ১৯৯১], ‘চুম্বন সমাচার’, [১ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা]। এই রচনাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা এখনও হারিয়ে যায় নি। দু-একটি তো এখনও বেশ প্রাসঙ্গিক। সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনা সম্পর্কিত রচনাগুলো ভূমিকাসহ প্রকাশ করলে এগুলোর ঐতিহাসিক মূল্য অনুভব করা যাবে।

বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবু রুশদ ছিলেন রশীদ করীমের বড় ভাই। ভারতের একসময়কার শিক্ষামন্ত্রী সাহিত্যিক দার্শনিক শিক্ষাবিদ ও অসাধারণ সাময়িকপত্র চতুরঙ্গ-এর সম্পাদক হুমায়ুন কবির ছিলেন তাঁর নিকটাত্মীয়। আবু সয়ীদ আইয়ুব, সৈয়দ মুজতবা আলী, বুদ্ধদেব বসু, সঞ্জয় ভট্টাচার্য্যরে মতো উচ্চমানের সাহিহিত্যক পরিমণ্ডলে তাঁর বেড়ে-ওঠা। আবুল হোসেন, আহসান হাবীব, শওকত ওসমান, সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখ অগ্রজের বন্ধুবলয়ে ছিল তাঁর বিচরণ। সাহিত্যকে ছেলেখেলার বিষয় মনে করতেন না।

রশীদ করীমের ব্যক্তিত্বে এক ধরনের আভিজাত্য ছিল। সেটা তিনি লুকাতে চাইতেন না। মতামত প্রকাশের ভঙ্গিতেও তা অপ্রকাশিত থাকতো না। নিজের রুচির আভিজাত্য সম্পর্কে খুবই সচেতন ছিলেন বলে তাঁর কথাবার্তায় অনেক সময় উন্নাসিকতা প্রকাশ পেত। কৈশোরেই তাঁর সাহিত্যরুচি গড়ে উঠেছিল এঁদের বিচার বিবেচনার আবহে। ফলে এক ধরনের নির্মোহতা তিনি অর্জন করেছিলেন। তাঁর উন্নাসিকতার মূলে ছিল এই নির্মোহতা। তিনি ছিলেন একটা দীর্ঘ সময়ের ইতিহাসের ধারক। আমাদের দেশে সমালোচনাসাহিত্য গড়ে ওঠে নি বলে রশীদ করীমের মতো লেখকের যথার্থ মূল্যায়ন হয়ে ওঠে নি। এই তাঁর সৃষ্টিকর্মে ইতিহাস-অনুভব যতটা ছড়িয়ে আছে তার আলো হয়তো আমরা পাব। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি থেকে যে কোনো সময় আমরা যা পেতে পারতাম তা আর পাওয়া যাবে না কোনো দিন।

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: আহমাদ মাযহার
ইমেইল: ahmadmazhar01@yahoo.com

আর্টসএ প্রকাশিত লেখা

আমাদের ভাষা আন্দোলনের গাজীউল হক
মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র
বুদ্ধদেব বসু: সামগ্র্যের সন্ধানে
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল: বাঙালিত্বের সম্পন্নতা
চিত্তরঞ্জন সাহা : মরণে যাঁর কর্মময় জীবনের বিশ্রাম
বাংলা সিনেমার নজরুল
আমাদের দুঃসময়ের রবীন্দ্রনাথ

ফেসবুক পেজ লিংক, আর্টস :: Arts

free counters

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর — নভেম্বর ২৯, ২০১১ @ ৮:৪৮ অপরাহ্ন

      লেখাটি বেশ ইনফর্মেটিভ। ভালো লেগেছে।
      রশীদ করীমের সমালোচনা সাহিত্য বেশ ঋদ্ধ–এ নিয়ে তেমন কথা হচ্ছে না!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হানিফ রাশেদীন — december ২, ২০১১ @ ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

      ভালো লেগেছে। রশীদ করীম সম্পর্কে আমরা যারা তেমন জানি না, এই আমাদের জন্য লেখাটি রশীদ করীম এবং তার সৃষ্টিকর্মের সামারি-স্বরূপ একটা ধারণা পেলাম।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।