আমার বিশ্ববিদ্যালয়

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১১ নভেম্বর ২০১১ ৬:৫১ অপরাহ্ন


১৯৬৬ সাল। উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরিয়েছে। পরীক্ষা মোটেই সুবিধের হয়নি। কাজেই ফল জানবার উৎসাহ তেমন নেই। ছোট ভাই রবু খবর দিল, দ্বিতীয় বিভাগে উতরে গেছি। কুটিমামার তীর্যক মন্তব্য–হয়ে গেল বু’ তোমার স্কলার ছেলের লেখাপড়া! মুসলমান ঘরে বিদ্যেবত্তার পশার তো এমন-ই হয়ে এসেছে এতকাল! আমি মায়ের কাছে বসে মুড়ি নারকেল চিবোতে চিবোতে টিপ্পুনি কাটি–সে আর বলতে। বছর দশেক আগে এই কুটিমামাই তো হতোদ্যম হয়ে লেখাপড়ার ইস্তফা দিয়ে বাটা জুতোর কোম্পানিতে কাজ জুটিয়ে নিয়েছিলেন। তারই গুণধর ভাগ্নে-রত্নটির কপালে এবার কী আছে আল্লা মালুম! মা পাখার ডাটি দিয়ে একঘা’ কষাতে এলে আমি দৌঁড়ে ঘর পেরিয়ে বারান্দার ধার ঘেঁষে দাঁড় করানো এশিয়া বাইকে উঠে শাঁ শাঁ করে লন পার হয়ে স্বামীবাগের সুড়কি বাঁধানো পথে পড়ি। ঢাকা-ডেমরা সড়ক আড়াআড়ি পেরিয়ে রোজ গার্ডেনের পাশ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে ১নং রামকৃষ্ণ মিশন রোডের দেশবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে পৌঁছে যাই।
student_leader_tufael_ahmed_in_dhaka_university_during_1969_mass_uprising.jpg
………
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন তোফায়েল আহমেদ, ১৯৬৯
………
ওখানে তখন রীতিমত দু’তিন টেবিল ঘিরে আড্ডা জমেছে। বড়দের টেবিলের মধ্যমণি মানিক ভাই ইপসু’র মস্কোপন্থিদের নিয়ে নিচুস্বরে সিরিয়াস কোন আন্দোলনের ছক কষছেন! সালাম জানিয়ে গোপীবাগের মনি-চুনিদের টেবিলে গিয়ে বসি। ওরা দু’জনেই প্রথম বিভাগে পাশ করেছে জানি। আমার স্কুলের বন্ধু আল-আমিন বিরস বদনে শুকনো হাসল। জিওগ্রাফিতে তো তোমার ভাল নম্বর উঠতো, খামখেয়ালিপনার বশে পরীক্ষাটা দিলে না! ফোর্থ সাবজেক্ট হোক, নম্বর ভাল হলে চান্স নিতে পারতে। আরেকজন ফাজাল আমেদ হবার জন্য, নাকি? আমি নাক সিঁটকোই। চুনি সহানুভূতির সুরে উপদেশ দেয়, মানিক ভাইকে আজ থেকে ধরে পড়। একটা হিল্লে হয়ে যাবে। মানিক ভাইয়ের কানে বার্তা পৌঁছে গেছে। উনি জরুরি আলাপ থামিয়ে এদিকে তাকালেন, হাত নেড়ে জানালেন, আরে শোন্, তোদের সায়েন্সের কিছু আমি করতে পারব না। সকালে উঠে ইকবাল হলে গিয়ে ডাকসু’র ভিপি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দেখা করবে। নাছোড়বান্দা হয়ে ঝুলে পড়বে, হিল্লে হয়ে যাবে। আর, লেখাপড়াটা করবে এবার ভালো ভাবে, কেমন? আগে নিজেকে তৈরি করে নাও, তারপর যতখুশি ভাকুয়াগিরি কোরো, কেউ মানা করবে না, বুঝলে? হালে পানি পাওয়া গেল, ভেবে একরাউন্ড ভাজি-পরাটা-দই দিতে বল্লাম আমাদের টেবিলে। মানিক ভাইকে অফার করতে উনি হাত নেড়ে জানালেন, শুধু চা বল আমাদের জন্য।

গোপীবাগ আড়াই লেনে আল-আমিন অর্থাৎ শিপারদের বাড়িতে দুপুরে খেয়ে গল্পগুজব সেরে বিকেলে বাড়ি ফিরলাম। আব্বা যথারীতি টমকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন। ওর নাকি হজমের গোলমাল চলছে। ওর মালসাভোগ যেমনকে তেমন পড়ে থাকছে, খাচ্ছে না মোটেই। আব্বা কচি কচি দুর্বা ছিঁড়ে টমের মালসাতে রাখছেন আর ওর গলকম্বলে হাত বুলিয়ে আদর করে ওই ওষধি খাওয়াচ্ছেন। মা নাক সিঁটকোচ্ছেন, আদিখ্যেতা দেখে বাঁচিনে। বড়ছেলে পরীক্ষায় কাঁচকলা পেয়ে কোথায় কোথায় ঘুরে মরছে, কারো কোন মাথাব্যথা নেই! আমি বারান্দায় সাইকেল তুলে লক্ করে আব্বার পাশে উবু হয়ে বসে চুপি চুপি জানাই, কাল সকালে ডাকসু’র ভিপির কাছে যাব, চিন্তার কিছু নেই। আব্বা হাসলেন নিঃশব্দে, তুমিও চিন্তা করবে না একদম। চেষ্টায় সব হয়। আমি মনোজ বসুর ‘নিশিকুটম্ব’ আলমারি থেকে নামিয়ে নিয়ে বিছানায় উপুড় হই। সোশ্যালিস্ট লেখকের কলমে এমন রসঘন রোম্যান্টিক উপন্যাস লেখা হয়েছে ভাবা যায় না!

সকালে ফাঁকা রাস্তায় অল্পবয়সী এক হুজুরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইকেল দাবড়ে ইকবাল হলে পৌঁছলাম। তত্ত্ব-তালাশ করে মঞ্জিলে পৌঁছে জানা গেল, ভিপি সাহেব স্নানঘরে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলাম। ক্যান্টিনের একটি ছেলে নাশতার ট্রে হাতে দাঁড়িয়েছিল। সে ফিসফিসিয়ে বলল, ওই যে সারে আসে। আমি সালাম দিলাম। উনি থমকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসু ভঙ্গিতে তাকাতেই আমি গড়গড় করে মাথায় যা এল, বললাম। সুদর্শন শ্যামল মানুষটি হেসে ডাকলেন–এস, এস, তুমি তো আমাদেরই ছেলে। ভেতরে এসে বোস। ক্যান্টিনের বয়টি নাশতার ট্রে টেবিলে রাখলে উনি ঢাকা খুলে আমাকে বললেন, এগিয়ে বোস। খেয়ে নিই আগে। অনেক খাবার। সংকোচ ঝেড়ে ফেলে খেয়ে নিলাম। স্বামীবাগ থেকে সাইকেল চালিয়ে এসেছি শুনে উনি বললেন, ভাল করে খাও। তারপর আমরা সয়েল সায়েন্স বিভাগে যাব। ইনশা আল্লা ভর্তি হয়ে যাবে। আমাকে সবাই তোফায়েল ভাই বলে ডাকে, বুঝলে?

সয়েল সায়েন্সে ভর্তি হলাম যথাসময়ে। স্কুলের বন্ধু মোজাম্মেল আর মিঠুও ওখানে ভর্তি হয়েছে। আড্ডা মিস্ করছিলাম ব্যস্ততার কারণে। সকাল থেকে সন্ধে থিওরির ক্লাস আর ল্যাবের কাজে চলে যেত। নটরডেমের বন্ধুদের অনেকেই ফিজিক্সে ভর্তি হয়েছে। কেবল তাদের সান্নিধ্য পাব, এই আশায় পুনরায় চেষ্টা তদবির করে ফিজিক্সে ট্রান্সফার নিলাম। কিন্তু সকাল-সন্ধে বিদ্যাভ্যাসে হাঁপিয়ে উঠলাম। ফ্যাকাল্টি বদলে আর্টস-এ ভর্তি হবার সাধ জাগল। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে এই যে টানাপোড়েন চলছিল আমার, এর অনেকটাই বাড়ির অনেকে জানত না। আব্বাকে আমি অবশ্য খুঁটিনাটি জানিয়ে রাখতাম। তিনি কেবল বলতেন, আমি অতশত জানিনে, তুমি একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক হলে আমি অখুশি হব না। মূর্খতার জ্বালা মর্মান্তিক হতে পারে, জানবে। কথাটা মনে রেখেছি। সুযোগ মত একে-ওকে জানাইও। জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন ঘটেনি, একথা হলফ করে বলতে পারি। ব্রহ্মচর্য পালন করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনায় দীর্ঘজীবন নিবেদন করেও যারা সম্মুখে জ্ঞানসমুদ্রের হাতছানি কেবল দেখেছেন, তাদের উপলব্ধির গভীরতা বিষয়ে ভেবে আপ্লুত হই শুধু। কি অকিঞ্চিৎকর তুচ্ছাতিতুচ্ছ জীবনযাপন করে যাচ্ছি, সেটুকু হৃদয়ঙ্গম করতে পারি ইদানিং, যখন শারীরিক-পাশবিক সামর্থ্য কমছে।

যেকথা বলছিলাম। নটরডেম কলেজ থেকে আসা অনেকেই তখন আর্টস ফ্যাকাল্টির নানা বিভাগ, বিশেষ করে ইংরেজি, অর্থনীতি ও সমাজতত্ত্বে ভর্তি হয়েছে। মধুদা’ আর শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে আড্ডায় যোগ দিচ্ছি নিয়মিত। খোঁজখবর নিচ্ছি। কোন কোন বিভাগে প্রথম বর্ষের সব আসন পূর্ণ না হওয়ায় দ্বিতীয়বার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। অনেককালের সখ, বুদ্ধদেব বসুর মতো ইংরেজি সাহিত্য পড়ব আর রমনায় ঘুরে বেড়াব। বিরক্তি চেপে, আড্ডা থেকে কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেল,ইংরেজিতে দু’বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ চলে গেছে। মরিয়া হয়ে সাহসে ভর করে বিভাগীয় প্রধানের কক্ষে ঢুকে পড়লাম। মহাপ্রমাদ ঘটে গেল। ডঃ সাজ্জাদ হোসাইন তখন লাঞ্চের পর সিয়েস্তায় রয়েছেন। ব্যক্তিগত বেয়ারা হাঁ হাঁ করে এসে আমাকে প্রায় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিয়ে জানাল, এখন আধঘন্টা ব্রহ্মাণ্ড রসাতলে গেলেও সার দেখা করবেন না কারো সাথে। নিজেকে দীনাতিদীন অযোগ্য উমেদার মনে হচ্ছিল। তবুও বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলাম। জীবনে আলসেমি করে অনেক কিছুই হারিয়েছি, এবারটা শেষ পর্যন্ত দেখব। এরকম পণ করে ঘামছি, এমন সময় ডাক পড়ল ভেতরে। বেয়ারাটি অবশ্য ইতোমধ্যেই আমাকে দৃশ্যতঃ ডিস-এ্যাপ্রুভ করেছে–পা থেকে মাথা পর্যন্ত দু’বার স্ক্যান করার পর। প্রায়ান্ধকার বিশাল কক্ষে ঢুকে প্রায় কিছুই দেখছি না — পর্দা সরিয়ে দেয়ার পর চোখ রগড়ে তাকালাম। সালাম জানালাম, সাক্ষাতের উদ্দেশ্য খুলে বললাম। ডঃ হোসাইন মুচকি হেসে পরীক্ষার নম্বর জানতে চাইলেন। মার্কশীট নিয়ে পরদিন অধ্যাপক মুনিমের সঙ্গে দেখা করতে বললেন। শেষে অত্যন্ত অসন্তোষের গলায় জানিয়ে দিলেন, অ্যাকাডেমিক্যালি কোয়ালিফাই করার পরও তিনি আমাকে পোশাকের কারণে অযোগ্য বিবেচনা করতে পারেন। ওই গরমেও বুকের ভেতরে, মস্তিষ্কে হিমবাহ গড়িয়ে যাচ্ছে, মনে হল।

শরীফ মিয়ার দোকানে খাসির তেহারি ততক্ষণে শেষ। অতএব মধুদার দোকানে বাটারড টোস্ট-সন্দেশ- ওভালটিনের পুষ্টিভোজন শেষে আবার আড্ডায় ফিরে নটরডেম থেকে আসা ইংরেজির ছাত্র হান্নান, মাসুকদের সব জানালাম। ওরা বলল, তোর হয়ে গেছে। তবে আজই সন্ধেবেলা রাজ্জাক’স-এ গিয়ে দু’প্রস্থ শার্ট-ট্রাউজার্স আর কালো অক্সফোর্ড জুতো আর মোজা নিবি। ফুলহাতা শার্ট প্যান্টে গুঁজে পরতে হবে, দোস্ত। এই গরমে? আমি আঁতকে উঠি। কষ্ট করে না হয় স্যান্ডাল বিসর্জন দিলাম, কিন্তু বুশ শার্ট চলবে না ? আমার করুণ চেহারা দেখে কমেডিয়ান সাইফুদ্দিনের কনিষ্ঠ ভ্রাতা ধুবড়ির মাসুক দু’কলি মানবেন্দ্র গেয়ে জানাল, ডঃ হোসাইন বলেন, আফ্রিকার বুশম্যানরাই ওই শার্ট পরে।

আমি আশায় বুক বেঁধে সাইকেলে চাপি। বাড়ি ফিরে আব্বাকে সব জানালাম। বাপ-ব্যাটা গুলিস্তান গিয়ে দরকারি কেনাকাটা সেরে এলাম। আমার অস্বস্তি বিবেচনা করে আব্বা জাপানি সাইডকাটা বুশশার্টও একটা কিনে দিলেন। বল্লেন, দেখ, কপাল ভাল হলে সামারে এতে পার পেতেও পার। নইলে..। রাতে খেতে বসে কুটিমামার ইন্টারোগেশ্যনের মুখোমুখি হলাম। আমি চুপ করে ছিলাম। আব্বা বললেন, এখনো কিছু হয়নি, হলে পরে জানাবে।

পরদিন চকচকে মোজা-জুতো, কালো ট্রাউজার্স, সাদা শার্ট পরে যথাসময়ে মুনিম স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম। উনি মার্কশীট, টেস্টিমোনিয়াল দেখে এক তাল কর্ণফুলি সাদা লেখার কাগজ আমার হাতে দিলেন। বললেন, ‘প্লেজার’ বিষয়ে আড়াইশ’ শব্দের একটি কম্পোজিশ্যন লেখ। আধঘন্টা সময়। আমি ঠিক সময়ে এসে কাগজ নিয়ে যাব, কেমন? জানলা দিয়ে দূরে আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। পড়েছি মোগলের হাতে… অগত্যা শ’আড়াই শব্দ লিখে কলম কেবল ক্যাপবন্দি করেছি, এমনি সময় অধ্যাপক দরজা খুলে ঢুকলেন। ডান, ইয়াং ম্যান? ইয়েস স্যর। তুমি এখানেই ওয়েইট কর, আমি আসছি। আরো আধঘন্টা পর ফিরে এসে মুনিম স্যার হাসতে হাসতে বললেন, কংগ্র্যাচুলেইশ্যনজ, ওয়ালি, ডঃ হোসাইন সেড, ইউ আর ইন। তোমার নম্বর, হাতের লেখা, কম্পোজিশ্যন দেখে হি সিমড স্যাটিসফায়েড। ইউ’ল বি দ্য টুয়েন্টি এইটথ্ স্টুডেন্ট ইন দ্য ফার্স্ট ইয়ার ব্যাচ। ওয়েল ডান, মাই বয়। করমর্দন করার জন্য উনি হাত বাড়ালেন।

এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর বিজ্ঞান পড়ার চেষ্টা চালিয়ে বিএ অনার্স ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পড়ার সুযোগ পেলাম। প্রথমদিন ক্লাসে ডঃ হোসাইন এলেন ইংরেজি অনুবাদে ক্লাসিকস্ পড়াতে। একইসঙ্গে ইনি ফোনেটিক্স পড়াতেন। উপলব্ধি হল, ইংরেজি উচ্চারণের কিছুই শিখিনি সতেরো বছরে। আলাপ হল নিজামুল হক, সেলিম সারওয়ার, আবুল হাসান, মুস্তাফা চৌধুরি, ফতে আলী চৌধুরিদের সাথে। টিউটরিয়াল গ্রুপে আমি ৬ষ্ঠ ছাত্র–বাকি পাঁচজন মেয়ে। আমার তখন ‘পিঠে বেঁধেছি কুলো’ অবস্থা। চোখকান বুঁজে সকাল থেকে সন্ধে কেবল কনফর্ম করে যাচ্ছি, যে যা বলছে, দ্বিরুক্তি না করে সেটাই করে যাচ্ছি শুধু। কয়েক সপ্তাহ গেল নতুন রুটিনে ধাতস্থ হতে–ক্লাসের সঙ্গে তাল মেলাতে রাত জেগে লেখাপড়া, সকালে নাশতা সেরে ফরাসি ভাষা শিখতে ছোটা, তারপর অনার্স, সাবসিডিয়ারি ক্লাস করা, ফাঁকে ফাঁকে বিভাগীয় সেমিনার, লাইব্রেরিতে বইপত্তরের খোঁজ, নোট্স তৈরি, টিউটরিয়ালের প্রস্তুতি, বিকেলে জিমন্যাজিয়ামে হাজিরা দেয়া — ভালই ব্যস্ত সময় যাচ্ছিল।

নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ, নতুন লেখক কবির সন্ধান, নতুন বিষয়ের স্বাদ, সাবসিডিয়ারি বিষয়গুলি তো নতুন–তবে ভরসার কথা এই–ইংরেজি মাধ্যম হওয়ায় আর কমনসেন্সের অবাধ প্রয়োগ সুবিধা থাকায় এক রকম তরতরিয়ে যাচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনতরী। ফার্স্ট টার্মিনাল পরীক্ষায় ‘বি’ প্লাস অর্থাৎ পঞ্চান্নর ওপরে (এবং ষাটের নিচে) নম্বর পেলাম। রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতলাম। কিন্তু পুরস্কার পছন্দ না হওয়ায় সেটা আমার ভাগ্যে জুটল না। একইসঙ্গে মজার অথচ অস্বস্তিকর সে ব্যাপার। অল পাকিস্তান এসেই কম্পিটিশনের পুরস্কার ঘোষণার পর জানা গেল, বিজয়ীদের মাঝে যারা পূর্ব পাকিস্তানি, তারা পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের সুযোগ পাবে এবং পশ্চিমীরা এখানে আসবে বেড়াতে। জানিয়ে দিলাম, আমি পুরস্কার গ্রহণে অনিচ্ছুক, অপারগ। ডিপার্টমেন্ট হেড এবং আরও দু’একজন অধ্যাপক আমাকে ডেকে নিয়ে মৃদু ভৎর্সনা করেছিলেন, মনে আছে। কেন, মনে নেই।

হেমন্তের ছুটিতে সময় কিভাবে কাটবে, ভেবে না পেয়ে প্রথমদিন কেটে গেল বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে বই ঘেঁটে। পরদিন সকালে চা খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে দুপুর পর্যন্ত পড়লাম। বেরিয়ে শরীফ মিয়ার দোকানে খাওয়া সেরে বিকেল কাটল পাশের পাবলিক লাইব্রেরিতে। ডঃ হোসাইন বেশ ক’টি উপন্যাস-নাটক-প্রবন্ধ সংকলন পড়তে বলে দিয়েছিলেন। নিয়মিত দু’বেলা পড়া আর বিকেলে ব্যায়াম করে ছুটির দিনগুলো কেটে গেল। ডঃ হোসাইনের গ্রীক আর রোমান ক্ল্যাসিকস্ ক্লাসে বিশেষ আগ্রহ জন্মাল। বোধহয় গ্রীক মিথলজির টানে। নিউ মার্কেটে তখন মিথলজি বিষয়ক প্রচুর বই পাওয়া যেত। একটি একটি করে কেনা হত, পড়তাম, নিজাম, ফতে, সেলিম সারওয়ারের সঙ্গে আলোচনা হত। সায়েন্স ফ্যাকাল্টির বন্ধুদের অনেকে সন্ধের ঝোঁকে টিএসসি-তে আসত, জিমন্যাজিয়ামে কয়েকজনের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হত। ইংরেজি-বাংলা বিভাগের সিনিয়রদের অনেকের সঙ্গে আলাপ হল। বাংলার কবি হুমায়ুন কবির, ইংরেজির শেহাব ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা গল্প যেমন হত, তেমনি পড়াশোনার বিষয়েও প্রভূত সহায়তা পেয়েছি। বন্ধু হুমায়ুন রাজনীতিতে জড়িত হন। ১৯৭২ সালে আততায়ীর হাতে মৃত্যুবরণ করেন। টিউটরিয়ালের প্রবন্ধ কিভাবে লিখব — এরকম আলাপ করতে করতে শেহাব ভাইয়ের আগা মসিহ্ লেইনের বাড়ি চলে গেছি সাইকেল ঠেলতে ঠেলতে অথবা ডাবল রাইড করে, রাতে ওর খাবার ভাগ করে খেয়ে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়েছি। সকালে উঠে আবার ফ্রেঞ্চ ক্লাসে গেছি।

খবরের কাগজ পড়া হত না। সময়াভাব। দেশের অবস্থা ঘোরালো হয়ে উঠছিল, টের পেতাম বাড়িতে গুরুজনের আলাপ আলোচনা শুনে। মাওলানা ভাসানি এবং শেখ মুজিবর রহমানের নাম বারবার উচ্চারিত হত। শুনতাম, শেখ মুজিবকে বর্ষীয়ান মাওলানা পুত্রবৎ স্নেহ করতেন। পূর্ব পাকিস্তানে তখন গভর্নর মোনেম খানের শাসন চলেছে বহুদিন। সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে মজার কথা অনেক মনে পড়ে। মোনেম খান নাকি আমাদের শিক্ষকদের চ্যালেঞ্জ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত দু’চারখানা কেন তারা লিখতে পারেন না জিজ্ঞেস করতেন অবহেলায়। ঐ অমুসলিম ভারতীয় কবিকে নিয়ে অহেতুক হৈচৈ করতে বারণ করতেন নাকি! দিনে পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, সায় দিয়ে, রাতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের লংপ্লেয়িং রেকর্ড বাজিয়ে গান শুনতেন, এমন শিক্ষকও তাদের মাঝে ছিলেন শুনেছি। ক্লাসে আহ্সানুল হক স্যার তখন ‘আ টেইল অব ট্যু সিটিজ’ পড়াচ্ছেন। ফরাসি বিল্পবের সময়ে প্যারিস ও লন্ডন–দুই শহরের বর্ণনা ঐ উপন্যাসে পড়ছিলাম, তার সঙ্গে যেন আমাদের সেই চেনা ঢাকার পাল্টে যাওয়া চেহারা অনেকাংশে মিলে যাচ্ছিল—‘ইট ওয়জ দ্য বেস্ট অব টাইমজ, ইট ওয়জ দ্য ওয়র্স্ট অব টাইমজ…’

15th-feb-1971.jpg
………
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাপ আঁকা পতাকা
………
সেকেন্ড ইয়ারে সবাই প্রমোশন পেলাম না। আবুল হাসানের পরীক্ষা দেয়া ঘটেনি এবারও। ও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি বোদলেয়ার বনে গেল। আপাদমস্তক, মায় আবাসন তক্ রিলোকেইটেড হল ওর। আমাদের দু’একজনের সঙ্গে সখ্য রইল আগেরই মতো অবশ্য। খান সারওয়ার মুর্শিদ শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজিডি পড়াতে এলেন। হুসনেয়ারা হক পড়াতেন রোম্যান্টিক কবিতা অত্যন্ত মন্যাসটিক ভঙ্গিতে–আমরাও টেনস্ড হয়ে থাকতাম ম্যাডামের সঙ্গে। মুনিম স্যারের রোলকল এখনো আমার কানে বাজে–সুদীর্ঘ চুয়াল্লিশ বছর পরও। প্রত্যেক ছাত্রের পুরো নাম ডাকা তার প্রাত্যহিক কাজ ছিল। তাই অনেক সহপাঠীর নাম এখনো পরিষ্কার মনে পড়ে। কীটস আর শেলি পড়াতেন স্যার কী আবেগ ভরে! আমার মনে হত ‘হি ইজ দ্য ইনস্পায়ার্ড ওয়ান–দ্য পজেস্ড’। নির্মলেন্দু গুণ আসতেন শরীফ মিয়ার দোকানে নিয়মিত, দেখা হত আবদুল মান্নান সৈয়দ, নরেন বিশ্বাস, ছফা ভাইয়ের সঙ্গে। এর বাইরের আড্ডা বলতে আমার খালাতো ভাই পান্নার সায়েন্স ল্যাবরেটরির বাসায় যেতাম আমরা — হাসান, নির্মল, শেহাব, আমি। ওখানে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত ইন্টারএকশ্যন হত শিল্প-সাহিত্য, সিনেমা বিষয়ে, রাজনীতিও বাদ যেত না একেবারে। চারদিকে স্বাদেশিকতার এক নতুন জোয়ার চলছে তখন। উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আমরা অনেকেই জড়িয়ে যাচ্ছি তার নানাবিধ এক্সপ্রেশনের সঙ্গে সম্পৃক্তির কারণে।

পাকিস্তান স্টুডেন্টস ওয়র্ক ক্যাম্প এসৌসিয়েশন (পাসোকা)- এর বিশ্ববিদ্যালয় অফিস ছিল সমাজতত্ত্ব বিভাগীয় সেমিনারে। সদস্য হলাম। সুনামগঞ্জ ও সোনারগাঁও ক্যাম্পে যোগ দিয়ে আরেক বিশ্বের জানালা খুলে গেল। জার্মানি ফেরত মাহের আবদুল্লা বল্লেন, দুনিয়া দেখা আর লেখাপড়া, দায়-দায়িত্ব পালন সব একই সঙ্গে চলবে। ভাল লাগল। জীবনচর্যায় প্রয়োগ করে দেখা যায়, ভাবলাম। সাবসিডিয়ারি সমাজতত্ত্ব আর পলিটিক্যাল সায়েন্সের ক্লাস নিতেন রেজা স্যার আর মিজানুর রহমান শেলি। তারা দু’জন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে পড়ানোর কাজ ছেড়ে গেলেন। চাঁদে মানুষ নামল। দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয় হঠাৎ বন্ধ হল। আমাকে অনার্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে মামার কর্মস্থল সিলেটে পাঠিয়ে দেয়া হল। সেখানে কাজিটোলার বাসায় থেকে পড়াশোনা, নামাজ রোজার সঙ্গে পিকটালের ‘দ্য গ্লোরিয়াস কোরান’ পড়া চলল। অবরে-সবরে তামাবিল-জাফলং বেড়াতে যাওয়া, চড়ুইভাতিও হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি খুলল। পরীক্ষার রুটিন দিয়েছে। ঢাকায় ফিরলাম।

গ্রীন রোডে মুস্তফার বাড়ির ছাদে বসে দু’তিনজনে কনসাল্ট করে পড়াশোনা হতে লাগল। ফরাসি ভাষায় ডিপ্লোমা হয়ে গিয়েছিল। আলিয়স ফ্রঁসেজে সন্ধেবেলা লাইব্রেরি কিপিং-এর চাকরি মিলল। ওখানে নেহাল আদিল, ইংরেজির অনেকে যেত। আড্ডা হত, কাজও করতাম। পাসোকা সদস্যরা সন্ধের পর রমনা রেঁস্তোরার টেরাসে বসত। মাঝে মাঝে যাওয়া হত সেখানেও। অনার্স পরীক্ষার পর আড্ডার সময় বেড়ে গেল। কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগলাম। মুস্তফা আর আমি ঠিক করলাম, এমএ-তে এ্যামেরিকান সাহিত্য নিয়ে পড়ব কিছুটা। গণ আন্দোলন দানা বাঁধল। ক্রান্তি-র গণসঙ্গীত দলে গান গাইতে প্রায়ই যমুনার চর, হাতিয়া দ্বীপ, হাওড় এলাকায় যেতাম। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটতে লাগল। জীবনযাত্রা হঠাৎই যেন বহুমাত্রিক হয়ে যেতে থাকল। অনার্সের ফল বেরোল। নিজাম একাই ফার্স্ট ক্লাস পেল। সেকেন্ড ক্লাসে ওপরের দিকে সেলিম, আরো ক’জন। আমিও উতরে গেলাম। শেষ বছরে রাজনীতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠল। আগরতলা মামলা সরকার প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ সকল অভিযুক্তকে মুক্তি দিতে বাধ্য হল। গণজাগরণের ঢেউ গড়িয়ে চলল স্বাধিকার অর্জনের দিকে।

ইউনিভার্সিটিতে প্রতিদিন তখন নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে। আজ বিখ্যাত বক্তা তারিক আলি এসে বটতলা কাঁপিয়ে গেলেন তো কাল কলাভবনের সামনের রাস্তায় ইপিআর গুলি চালাল, পরশু আসাদ শহীদ হলেন…। শামসুর রাহমান লিখে চলেছেন আসাদের শার্ট, সফেদ পাঞ্জাবি–সব অমর কবিতা। জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা ও কবিতা গাইছেন বিখ্যাত গায়কেরা, আমরাও কোরাসে গাইছি। রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য মঞ্চায়িত হচ্ছে এঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে–শ্যামা, চিত্রাঙ্গদা .. একের পর এক। ‘হাজার তারের বীণা’ রেকর্ড বেরল–দেশের সবাই শুনল, মুগ্ধ হল। আপেল মাহমুদের কন্ঠে ‘ও বাঙালি…’ এখনো কানে বাজে। এর মাঝেই চলছে ক্লাস। টিউটোরিয়াল, ব্যায়াম, সন্ধেবেলা চাকরি, রাতে আড্ডা রমনায়। পরীক্ষা সামনে। দেশ কাঁপছে নির্বাচনী জ্বরে। সত্তর সাল ভয়ঙ্কর জীবন্ত, চলিষ্ণু এক ক্রান্তিকাল। পাসোকার ক্যাম্প করা চলছে। ডেমরা-র ঘূর্ণিঝড়ে ধ্বস্তদের ত্রাণকাজে ক’দিন সবাই ব্যস্ত ছিলাম। সালাউদ্দিন জাকী, দেওয়ান শামসুল আরেফিন সাহিত্য সাময়িকী বের করছেন। ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছি। রাত জেগে জেগে প্রুফ দেখছি। আব্দুল্লাহ্ ভাইয়ের কাগজ বেরোচ্ছে শতাব্দী শত। কে এস দাস লেইনে অফিস। ওখানে সহ-সম্পাদক আমি।

এল ১২ই নভেম্বর। ঝাঁপিয়ে পড়ল উপকূল জুড়ে দৈত্য ঘূর্ণিঝড় গর্কি। পরদিন কালো ব্যানারে খবর ছাপা হল–আনুমানিক ১০ লক্ষ মানুষ হত। সমস্ত দেশ শোকে মূক। ঠিক সাতদিন পরে ত্রাণ নিয়ে লঞ্চে উঠলাম পাসোকা ও আমরা। চরফ্যাশন-লালমোহনে নেমে ত্রাণকর্ম সেরে ফিরলাম। পরীক্ষা শিকায় তুলে বারবার ছুটে যেতে লাগলাম গর্কি বিধ্বস্ত দক্ষিণের জনপদে। নির্বাচনের ফলাফলে দেশ তোলপাড়। আওয়ামী লীগ একচেটিয়া বিজয়ী। কেন্দ্রে এবার বাঙালি নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে। বাঙালি স্বপ্ন দেখেছে এতকাল, এবার স্বপ্নপূরণ ঘটতে যাচ্ছে। এরিমাঝে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছি, এক এক পেপার করে, দক্ষিণে ছুটছি রিলিফের সম্ভারে লঞ্চ বোঝাই করে–সে এক চরম উদ্দীপনা, কর্মপ্রেরণার কাল!

পরীক্ষা শেষ হল। দেশের রাজনীতি খারাপ দিকে মোড় নিচ্ছে। পাকিস্তানিরা তাদের ২৪ বছরের মোড়লি এমনি এমনি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছেড়ে দেবে! সংশয় ছিল অনেকের মনে। শেষে ওদের মনোভাব নির্লজ্জভাবে প্রকাশিত হল–বাঙালিও গর্জে উঠল। শুরু হল আরেক অধ্যায় –একাত্তরের সংগ্রাম–আমার, পরিবারের সকলের, দেশবাসীর।


লেখকের আর্টস প্রোফাইল: মীর ওয়ালীউজ্জামান
ইমেইল: m.waliuzzaman@gmail.com

free counters

ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

প্রতিক্রিয়া (5) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shifat — নভেম্বর ১১, ২০১১ @ ১১:৩৪ অপরাহ্ন

      অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। আমি যেন নিজেকে আপনাদের সেই দিনগুলোতে নিয়ে গিয়েছিলাম কিছু সময়ের জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনান্তিক — নভেম্বর ১২, ২০১১ @ ৯:১৫ অপরাহ্ন

      সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে হলুদ টেক্সট ফন্ট–এইটা কোন ওয়েব ডিজাইনারের–বাচ্চা পোলাপানের রঙ্গের তামাসার খেলা শুরু হইল! ভালই ত চলতাছিল–আপনারা কিছু পড়তে পারতাছেন! ‘ওয়েব কালার ওপটিমাইজেন নট এ কিডস্’ খেলা বাডি! ‘ডোন্ট কিল এ ওয়ান্ডফুল ওয়েব প্যাজ! ধন্যবাদ!

      ধন্যবাদ জনান্তিক। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে ফন্ট রঙ-এর এ সমস্যাটি দ্রুত শোধরানো হবে।
      বি. স.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোহেল — নভেম্বর ১৪, ২০১১ @ ৪:৩৬ অপরাহ্ন

      খুব ভাল লেগেছে, চালিয়ে যান।
      বার বার মনে হয় ওই দিন গুলোতে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারতাম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনূঢ়া অরুন্ধতী — নভেম্বর ১৫, ২০১১ @ ১২:০০ পূর্বাহ্ন

      ‘সত্তর সাল ভয়ঙ্কর জীবন্ত, চলিষ্ণু এক ক্রান্তিকাল।’………এটাই বোধহয় এই লেখার সবচেয়ে জীবন্ত ও চলিষ্ণাংশ সারকথা। লেখাটা খুবই ভালো লাগল….।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুমন হালদার — নভেম্বর ২৭, ২০১১ @ ১:২৫ অপরাহ্ন

      আপনার লেখা সব সময়ই ভাল লাগে। বলা ভঙ্গি এক কথায় চমৎকার!!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।