জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি ৫)

বেবী মওদুদ | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৯:২৭ অপরাহ্ন

শুরুর কিস্তি
——————————–
স্মৃতিকথা ধারাবাহিক
——————————–

বগুড়া থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেলগাড়িতে এলাম। তারপর ফেরী চড়ে যমুনা নদী পার হয়ে আবার রেলগাড়ি চড়ে ঢাকায় ফুলবাড়িয়া স্টেশনে এসে যখন নামলাম, তখন রাত প্রায় দশটা হবে। বাইরে প্রবলবেগে বাতাস আর মুষল ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে আমরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বসলাম। বৃষ্টি হচ্ছে তারপর আবার রাতের অন্ধকার। বাইরে কী দেখবো, কিছুই বোঝার উপায় নেই। শুধু ঘোড়ার পায়ের খট খট আওয়াজ, গলার ঠুন ঠুন ঘণ্টির শব্দ আর সহিসের চাবুকের সপাং সপাং শব্দ শুনতে শুনতে আমরা আজিমপুর কলোনীতে এলাম। ৪৯/ডি, দোতালার একটি ফ্ল্যাটে আমাদের নতুন বাসা, ঢাকার ঠিকানা। এই প্রথম ঢাকায় এলাম আমরা। আমার বাবা আগেই কয়েকবার এসেছেন। রেলগাড়িতেই আমাদের রাতের খাবার পালা শেষ হওয়ায়, ঘরে ঢুকে মেঝেতে মাদুরের বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসতে একটুও দেরি হলো না।

bm1.jpg………
আজিমপুর কলোনীর সেই বাসা এখন
……..
পরদিন ভোরে উঠে ফ্ল্যাটটা ঘুরে দেখলাম। দু’টো বারান্দা, দু’টো শোবার ঘর, আর একটা বড় ঘর বসার ও খাবার জন্য। বাড়িটা দোতলায় বলে মাটি ও ঘাসের কোনো স্পর্শ নেই। আমার মন খারাপ হয়ে গেলো। সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বড় রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ দেখে ভালো লাগলো। রাস্তায় দুপাশে গাছপালা। আমাদের কলোনীর উল্টোদিকে মেথর কলোনী (বর্তমানে ইডেন গার্লস কলেজ ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ।) বারান্দা থেকে দেখলাম রাস্তার পাশে কল থেকে পানি নেবার জন্য মেয়েদের হাড়ি-কলসি নিয়ে জটলা। সেই সঙ্গে তাদের ঝগড়াঝাঁটি ও অশ্রাব্য গালাগালি। আমার কাছে একেবারে নতুন লাগলো। যতদিন ছিলাম প্রতিদিনই এ চিত্রটা দেখতাম। তবে যখন সময় ধরে পানি ছাড়া হতো তখনই এই কলরব কানে আসতো। আমাদের মালপত্র এলো আরও কয়েকদিন পর। তারপর সব গোছগাছ হলো।

bm2.jpg…….
বাংলাবাজার গার্লস স্কুল, এখন
……
১০ জুলাই ১৯৫৬ সালে ঢাকা জেলা জজ কোর্টে অতিরিক্ত জেলা ও সেশন জজ হিসেবে নিয়োগ পান আমার বাবা। আমার বড় দু’ভাই ভর্তি হলো ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। বাবার সঙ্গে তারা বাসে চড়ে যাতায়াত করতো। আর আমি ভর্তি হলাম বাংলাবাজার গার্লস স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে। স্কুলের বাসে আমি যাতায়াত করতাম। বাসায় ফিরতে অনেক সময় সন্ধ্যা নেমে যেত। ক্ষুধায় খুব ক্লান্ত হতাম। বাসা থেকে হালকা টিফিন দিত মা। স্কুলেও টিফিন দেয়া হতো লুচি ও ভাজি বা হালুয়া, কোনও দিন সিঙ্গারা, কোনও দিন কলা ও পাউরুটি।

ঢাকায় এসে আমরা প্রথম খেলাম পাউরুটি। নাবিস্কো কোম্পানীর ছোট্ট পাউরুটির প্যাকেট ছিল চিনি মাখা মিষ্টি। আমার মা প্রতিদিন নিউমার্কেট থেকে ঐ পাউরুটি আনিয়ে খেতেন। আমিও মাঝে মাঝে ভাগ পেতাম। স্কুলে আমার বেশ কিছু বান্ধবী হলো, যাদের কারুরই নাম আজ মনে নেই। কে কোথায় আছে তাও জানি না। তবে স্কুলে গিয়ে একসঙ্গে বসা, মাঠে খেলাধুলা করা, আবার পাড়ায় চাঁদা তুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও চলতো। এসব নিয়ে ঝগড়াও চলতো। এ কারণে একসময় এসব বাদ দিয়ে আমি ঘরেই থাকার চেষ্টা করলাম।

আমাদের বিল্ডিংয়ের পাশের বিল্ডিংয়ে বেশ যাতায়াত ছিল আমাদের। ধীরে ধীরে পাশের ফ্ল্যাট এবং আশে-পাশের সবার সঙ্গে পরিচয় হলো। লেডিজ ক্লাবের বিরাট মাঠজুড়ে আমরা কত খেলেছি। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো এই মাঠেই। আমাদের প্রিয় স্থান ছিল এটাই। এছাড়া আজিমপুর পলাশির মোড়ে বেবী আইসক্রিম ফ্যাক্টরী ছিল। ধাঙর বস্তির পেছনে রেলাইন ছিল। আমরা ওখানে যেতাম পাথর টোকাতে। রেলগাড়ি ঝম ঝম শব্দ তুলে যেত, সেটা দেখারও লোভ ছিল। আমার ছোট ভাই হুমায়ুন আমার সবকিছুতে সঙ্গী ছিল। ও তখনও স্কুলে ভর্তি হয় নি।

তখন বড় রাস্তা দিয়ে ছোট্ট বাস যাতায়াত করতো, যাকে মুড়ির টিন বলা হতো। আমার বাবা ওই বাসে চড়ে পুরোন ঢাকার কোর্টে যেতেন। বড় ভাইরাও তার সঙ্গে যেত। রিকশা ও ঘোড়ার গাড়িও ছিল। আমার ছোট ভাই হুমায়ুন ঘরের বারান্দায় বসে শুধুমাত্র হর্ন শুনে বাসের নম্বর বলতে পারতো। আমরা অবাক হতাম ওর এই সঠিক নম্বর বলা দেখে। আমাদের লেখাপড়ার জন্য গৃহশিক্ষক ছিল। শুধু ছিল না বাগান করা, ফুল ও ফল গাছ লাগানো, প্রজাপতি ধরা, বৃষ্টিতে ভেজা ইত্যাদি সব মজা। ফ্ল্যাট বাড়িতে যেন কোনও স্বাধীনতাই নেই–কোনো আনন্দও নেই। তারপরও বিকাল বেলা নিচে খেলাধুলা করতাম। আজিমপুর লেডিজ ক্লাবে খেলার ব্যবস্থা ছিল। আমাদের স্কুলের বার্ষিক খেলাধুলাও এখানে হতো। আশেপাশের ফ্ল্যাটের মেয়েরা মিলে এই ক্লাবের মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করতাম।

আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন, ইঞ্জিনিয়ার বি. এম. আব্বাস। তার মা সঙ্গে থাকতেন। আমি তাকে দাদী বলে ডাকতাম। আমার আব্বার সঙ্গে চাচার ভালো সম্পর্ক। দাদী ভালো কিছু রান্না করলেই আমাদের বাসায় পাঠাতেন। আমার অনেকটা সময় দাদীর কাছে কেটে যেতো গল্প করে। ঈদের সময় দাদীকে সালাম করার পর আমাদের এক টাকা করে ঈদি দিতেন। এটা আগে কখনও দেখিনি। তাই সংকোচ করতাম নিতে। দাদী বলতেন নে আইসক্রিম খাবি। তখন বেবী আইসক্রিম এক আনায় লাল ঘ্রাণযুক্ত কাঠিতে পাওয়া যেত। তবে দু আনায় দুধসাদা আইসক্রিম আমার প্রিয় ছিল। একসঙ্গে দুটো তিনটে খেতে পারতাম।

আমাদের পাড়ায় পতাকা উড়িয়ে একটা গাড়ি আসতো মাঝে মাঝে। আমরা দৌড়ে যেতাম দেখার জন্য। গাড়িতে আসতেন গভর্নর শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। তার মেয়ের বাসায় আসতেন। মানুষের ভিড় জমে যেত তাঁকে দেখার জন্য। আজিমপুর কবর স্থানের পাশে মহররমের মেলা বসতো। মেলায় পুঁতির মালা, খেলনা, মুড়কি, বাতাসা, ডালমুট পাওয়া যেতো। নাগর দোলা দেখতাম, তবে চড়তে ভয় করতো। মায়ের কাছে পয়সা নিয়ে এসব কিনে আনতাম। মহররমের দিনে শিয়ারা মিছিল বের করতো। তারা ’হায় হোসেন’ ‘হায় হোসেন’ বলে বুক চাপড়াতো। রক্ত ভরা থাকতো বুকে। দেখে কেমন যেন ভয় লাগতো।

বাংলাবাজার স্কুলে তখন প্রধান শিক্ষয়িত্রী ছিলেন মিসেস ভারতী নন্দি। স্কুলটি লেখাপড়ায় তো ভালো বটেই, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে খুব নামকরা ছিল। স্কুলের ভেতরে খেলার মাঠে আমরা খুব খেলাধুলা করতাম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের যে রিহার্সাল হতো তা ছিল আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে হাত প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে গানটি শোনার স্মৃতি আমার আজও মনে আছে। শুধু শোনা নয় লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে এ গানটি গাওয়ার সময়কার সেই দৃশ্য আমি আজও ভুলিনি। গানটি এখনও শুনলে আমার সেই প্রদীপ হাতে লালপাড় শাড়ি পরা দৃশ্যটি মনে পড়ে যায়।

ঐ সময় ঢাকার গুলিস্তান সিনেমা হলে কলকাতার ছবি কাবুলিওয়ালা দেখানো হচ্ছিল। আমার মায়ের সঙ্গে আমি ছবিটি দেখেছিলাম। এরপর শুনলাম, স্কুল থেকে ছবিটি দেখতে নিয়ে যাওয়া হবে। চার আনা দিতে হবে। আমার বাবার কাছে চাইতেই পেয়ে গেলাম। স্কুলবাসে চড়ে আমরা গুলিস্তান হলে এসে ছবি দেখলাম। আমরা ছোট্টরা নিচতলায় একেবারে সামনের আসনে বসার সুযোগ পেলাম। ছবিটা দেখার অনেক পরে আমি কাবুলিওয়ালা গল্পটা পড়েছিলাম। পড়ার সময় ছবির দৃশ্যগুলো মনে পড়ে যেতো। আর ‘খরাবায়ু বয় বেগে, চারদিক ছায় মেঘে’ গানটির সঙ্গে সেই মিনির নাচ প্রিয় হয়ে ওঠে। ছবি বিশ্বাসের সেই অভিনয়ও সবার মন জয় করেছিল। এই সময় সন্ধ্যারাণীর সিনেমা এলে আমার মা দেখতে যেতো। সন্ধ্যারাণী তার খুব প্রিয় ছিল।

আমার ছোট ভাই রায়হানের জন্ম হয় আজিমপুর কলোনীর বাসায়। সবাই খবর পেয়ে তাকে দেখতে এলো। আমাদের সব ভাই-বোনের থেকে সে বেশ ময়লা রং নিয়ে জন্মায়। তাকে সবাই কালা মিয়া বলে ডাকতো। আমি একটু বড় হওয়ার কারণে তখন তাকে কোলে নিতাম। বেশ রোগা-পাতলা ছিল সে। তবে খুব শান্ত ছিল। তার জন্মের অনেক দিন পর আমার বাবা তাকে প্রথম দেখেন এবং বলেন, এ যে কালো হবে দেখছি। এই স্মৃতিটা আমার মনে আছে। সবচেয়ে ছোট হওয়ায় সবার আদরের ছিল সে। অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকতো। ছোটবেলায় থেকে সে আমার কাছে থাকায়, এখনও কাছে রয়ে গেছে। আমার বাবা সব ছেলেদের নাম রাজা-বাদশাহদের নামে রাখেন, কেননা তিনি ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন। আমাদের ছোট ভাইটির নাম রাখা হলো, আবু রায়হান আজিমুল হক। আজিমপুরে জন্ম বলে আজিমুল রাখা হয়।

ঢাকায় আসার পর আমাদের দু’তিনজন আত্মীয়র সঙ্গে দেখা হয়। তারা ১৯৪৭ সালেই অপশন নিয়ে চলে আসেন। আমার বাবার দুই চাচাতো ভাই। মো. মনোয়ার হোসেন ও আবু তাহের। আমার বাবার এক চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে আম্মিয়া বুবুদের বাসা ছিল আজিমপুর কলোনীতে। সম্ভবতঃ আজিমপুর ম্যাটারনিটি হাসপাতালের পিছনে। সেখানেই আমাদের যাতায়াত বেশি ছিল। বর্ধমান থেকেও আমার ছোট চাচা আবদুল করিম বছরে একবার, কখনও তিনবারও আসতেন। কিন্তু আমাদের যাওয়াটা পাসপোর্ট-ভিসার কারণে হতো না। পাকিস্তান সরকারও বোধহয় চাইতো না সরকারী চাকুরি যারা করে তারা কেউ ভারত বেড়াতে যাক। আমার বাবা মোহাজের হওয়ায় সমস্যা আরও বেশি ছিল।

ঢাকায় আসার পর আমার বড় ভাই প্রবেশিকা পরীক্ষা দিলেন কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে। তার আগে অবশ্য প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। বড় ভাইয়ের পড়া এবং পরীক্ষা নিয়ে আমার বাবা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখেন। পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিয়ে কোর্টে যেতেন। বড় ভাই ভালো ছাত্র ছিলেন। দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে নটরডেম কলেজে আইএসসি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর প্রতি আমাদের একটা আলাদা শ্রদ্ধাবোধ ছিল। তিনি স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে কলেজে পড়ছেন, আমাদের কাছে এটাই ছিল বিস্ময়। আমরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করি একদিন কলেজে নিশ্চয় লেখাপড়া করবো। বড় ভাই আমাদেরও লেখাপড়ায় সাহায্য করতেন।

১৯৫৪ সালে ঢাকার আদমজী জুটমিলে শ্রমিকদের মধ্যে একটা দাঙ্গা হয়, এতে পাঁচশতাধিক বাঙালি শ্রমিক নিহত হয়। মালিক ছিল পাকিস্তানের ধনীগোষ্ঠী আদমজী গ্রুপের শিল্পপতি। তারাই বিহারী শ্রমিকদের উসকে দিয়ে বিহারী-বাঙ্গালী দাঙ্গা বাধায়। এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি আমার বাবার কোর্টে হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে শুনানী হয়, তারপর রায় ঘোষিত হয়। আদমজীর মালিকরা বড় বড় আইনজীবী নিয়োগ করে আর সাধারণ শ্রমিকদের আইনজীবি ছিলেন আলী আমজাদ খান। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান তার অন্যতম সহকারি ছিলেন। এই কোর্টেই তিনি প্রথম আইনজীবি হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর কাছেই আমি শুনেছি আদমজী দাঙ্গা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলে। পত্রিকায় প্রতিদিন সংবাদ ছাপা হতো। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মামলাটি। শ্রদ্ধেয় জিল্লুর রহমান সাহেব বলেছেন, মামলার রায় কী হতে পারে এ নিয়েও তখন নানা গুঞ্জন শোনা যেত। কোর্ট পাড়ায় বলাবলি হতো পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে মালিকরা তাদের পক্ষে রায় নিয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করতাম না। বলতাম এই বিচারক দিয়ে সেটা হবে না। বিচারকের ওপর আমাদের বিশ্বাস ছিল। রায় ঘোষণা হয় শ্রমিকদের পক্ষে। নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয় মালিকদের। এই মামলার রায়ে সব মহলে স্বস্থির নিঃ:স্বাস পড়ে। ন্যায় বিচার হওয়ায় শ্রমিকরাও খুব খুশি হয়।

ঢাকার স্মৃতি হিসেবে আমার মনে আছে তখন ছোট্ট বাস চলতো কিছু যাকে মুড়ির টিন হিসাবে খ্যাতনামা করা হয়। রিকশা চলতো, ঘোড়াটানা গাড়িও ছিল। ঠেলাগাড়িতে মালপত্র বহন করা হতো। প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা ছিল খুব কম। সরকারি গাড়ি বেশি চলাচল করতো। প্রচুর গাছপালা ছিল, তাই নানারকম পাখি দেখা যেত। ঢাকায় তখন এতো মানুষ ছিল না। এলিফ্যান্ট রোডটা ছিল মেঠোপথ। আব্বা একবার বড়ভাইকে আমজাদ আলী নামে এক মুনসেফের বাড়িতে একটা বই আনতে পাঠান। বড় ভাই এসে বলেছিলেন, জঙ্গলের ভেতর একটা মাত্র বাড়ি। রাতের বেলা শেয়াল ডাকে। আজিমপুরের বাসায় শেয়ালের ডাক ও রেলগাড়ির ঝিকঝিক শব্দ শুনতে পেতাম। মাঝে মাঝে হুইসেল বাজতো। তখন ধানমণ্ডিও ছিল পরিত্যক্ত ধানখেত। সরকার এক বিঘার প্লট বরাদ্দ করে বিক্রি করছে। আমরা নিউমার্কেট পর্যন্ত চলে যেতাম, তারপর সাহস হতো না। এতো গাছপালা ছিল, আর পাখির ডাক শুনতে শুনতে আমাদের ঘুম ভাঙতো–এখন বিস্ময় লাগে সব কোথায় গেলো!

১৯৫৭ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর আমার বাবা ফরিদপুর জেলা ও সেশন জজের পদোন্নতি পেয়ে যোগদান করেন। তিনি সেখানে গিয়ে কয়েকদিন থেকে এসে আমাদের নিয়ে যান। আবার সেই মালপত্র গোছগাছ করা। আমার মা খুব বিরক্ত হতেন। নতুন জায়গায় গিয়ে কত কী দেখবো, আবারও নতুন বন্ধু হবে–আমাদের কাছে সেটাই খুব আনন্দের বিষয় ছিল।

(চলবে)

আর্টস প্রোফাইল: বেবী মওদুদ
ইমেইল: baby.maudud@gmail.com

ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters
Free counters

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন rudraksha rahman — সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১১ @ ৭:৩৫ অপরাহ্ন

      সুন্দর। সরল। ঝরঝরে। ঢাকার অতীত চিত্রটা নিটোলভাবে ওঠে আসছে। লেখাটা বন্ধ করবেন না। এটা বই হোক। প্রতিভা বসুর জীবনের জলছবি পড়েছি। লীলা মজুমদারের ‌‌পাকদন্ডী পড়ি। জ্যোতি বসুর যতদূর মনে পড়ে- সব অসাধারণ স্মৃতি কথা। এই লেখায় সব সত্য উঠে আসুক। উঠে আসুক অরনক জীবন। একটা জীবনের সঙ্গে বহু জীবন জড়িয়ে থাকে।
      লেখককে ধন্যবাদ

      রুদ্রাক্ষ রহমান
      উত্তরা, ঢাকা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্জী মাশরেকুস সিদ্দিকীন — সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১১ @ ১১:১১ পূর্বাহ্ন

      পুরনো দিনের কথা পড়তে কার না ভাল লাগে! আর তা যদি এমনি করে সুন্দর ভাবে লেখা হয়!! আরে লিখুন, অনেক ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Md Hafizur Rahim — december ১৮, ২০১৬ @ ১১:৫১ অপরাহ্ন

      Very attractive description of early childhood stories. Thanks to the writer. Please try to continue. All the good wishes to you.

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।