সিডনির পথে পথে (৫)

আবু সুফিয়ান | ১৮ জুলাই ২০১১ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪

(গত সংখ্যার পর)

46.jpg………
দূরে সিডনি হারবার ব্রিজ। দাঁড়িয়ে লেখক
……..
বনদাই বীচ থেকে আমরা রওয়ানা হলাম “মিলিয়ন ডলার” হাউস দেখতে। সরল বাংলায় বললে ওগুলো সিডনি শহরের টাকাঅলাদের বাসা। বাংলাদেশের হিসাবে এখানকার যে কোনো বাড়ির মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দুনিয়ার প্রায় সব মানুষই বড় শহরে আসতে চায়। ভালো জায়গায় থাকতে চায়। নিজের একটা দামি বাড়ি চায়। এই ক্ষেত্রে আমীর থেকে ফকিরের চাহিদার মধ্যে তেমন তফাত নেই।

35.jpg
সস্ত্রীক লেখক। পেছনে সাগরের উড়োযান-সী-প্লেন

ঢাকাতে মনতুর মিয়া নামে এক ভিক্ষুককে চিনি। তারও ইচ্ছা ঢাকাতে থাকা। এক খণ্ড জমি কেনা এবং বাড়ি করা। কিন্তু ঢাকাতে জমির দাম এখন এত বেড়ে গেছে, সারা জীবনের ভিক্ষা দিয়েও তার পক্ষে বাড়ি করা সম্ভব না। তাই বলে সে হতাশও না। ঢাকাতে তাকে থাকতেই হবে। মনতুর মিয়া এখন টাকা জমাচ্ছে বনানী গোরস্থানে একটা কবর কেনার জন্য। মরার পরে হলেও ঢাকার বড়লোকদের পাশে প্রতিবেশি হয়ে তাদের সাথে থাকার বড় শখ।

‘টাকাঅলা’ বা ‘বড়লোকদের’ প্রতি সবারই আকর্ষণ। মনতুর মিয়ার চিন্তা প্রশংসনীয়।

প্রসঙ্গক্রমে চাচি শ্যারনদের স্কুলের একটি ঘটনা বললেন। এক বাচ্চা মেয়ে তার কোনো একটি অ্যাসাইনমেন্ট নোটস-এ লিখেছে তার টার্গেট একজন ধনী অস্ট্রেলিয়ান মিলিয়নেয়ারকে বিয়ে করা। বিয়ে করলে এরকম বাড়িতে থাকা যাবে।

আমাদের গাড়ি ‘মিলিয়ন ডলার হাউস’গুলো ক্রস করে যাচ্ছে। তন্ময় বললো, ভায়া দেখেন। আমি দেখছি।

টাকা বিষয়ে অনেক সাধারণ মানুষের কৌতূহলও সীমাহীন। সিডনির ভ্রমণ কাহিনী পড়তে গিয়ে কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন এত জায়গা ভ্রমণ করতে আমি টাকা পেলাম কোথায়? উদাহরণসহ এর অনেকগুলো উত্তর পাওয়া যাবে আমার ‘প্যারিসের পথে পথে’ এবং ‘লন্ডন শহরে’ বই দুটো পড়লে। নামমাত্র অর্থ ব্যয়েও যে দুনিয়া ঘোরা যায় তার জীবন্ত উদাহরণ সেখানে পাবেন। তবু দু-একটা উল্লেখ করি।

কেউ কি ভাবতে পারেন মাত্র ৪২৫ ডলারে (চারশত পচিশ ডলার অর্থাৎ ত্রিশ হাজার টাকার কিছু বেশি) মধ্য ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, দি নেদারল্যান্ডস, জার্মানি এবং স্পেনের মতো পাঁচটি দেশে ঘোরা যায়? ৭৫ ডলারে যাতায়াত করা যায় প্যারিস থেকে লন্ডন কিংবা লন্ডন থেকে প্যারিসে। ফুকেটে গিয়ে বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি চেইন একর গ্রুপের (Accor Group) নভোটেল রিসোর্টের সেরা কক্ষে থেকেছি মাত্র ৪৫ ডলারে। যার স্বাভাবিক মূল্য এক রাতেই কয়েকশ ডলার। এই বিষয়ে বিস্তারিত অন্য কোনো লেখায় বলার ইচ্ছা রইলো।

গাড়ি চলছে। সিডনির পথঘাট বড়ই চমৎকার। গোটা শহরটাই উজ্জ্বল। আলোকিত। সাবৃনা বলে, সামারের লন্ডনের মতো সিডনি শহর নাকি হাসে। সমুদ্রের পাশে অসম্ভব সুন্দর বাড়িগুলোর ভেতরও হাসে কি-না জানি না। তবে এখানে অ্যাপার্টমেন্ট চোখে পড়ছে না। প্রতিটিই আলাদা বাড়ি।

41.jpg
‘ফেরি’ আসতে দেখে সস্ত্রীক লেখক

বৃষ্টি থেমে গেছে। আমরা ওয়াটসন বে’র কাছে এসে নামলাম। এটা নৌ বন্দর। এখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে নৌ-যান চলাচল করে। যেগুলো ‘ফেরি’ হিসাবেই বেশি পরিচিত।

আমরা জেটিতে উঠেছি। জেটির সামনের দিকে রেলিং দেয়া। যেদিকেই দৃষ্টি যায়–নীল সমুদ্র। ছোট ছোট স্পীড বোট ছোটাছুটি করছে। বর্ণিল। কিছু টুরিস্ট বোট ট্রিপ দিচ্ছে।

চাচি তন্ময়কে বললেন, আমাদের একদিন ফেরিতে ঘোরাতে। নয়তো সিডনির এই সৌন্দর্য মিস করবো।

এর মধ্যে একটা ফেরি এলো। নীল এবং শাদা রঙের বডি। সুন্দর।

বাংলাদেশে ‘ফেরি’ মানে লোকে স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের বৃহৎ জলযান। যেগুলো গাড়িসহ ব্যাপক মালামাল বহন করে। আসলে এখানে এই ফেরি মানে হচ্ছে আমাদের দেশের লোকাল লঞ্চ। তফাত হলো বাংলাদেশের লোকাল লঞ্চগুলোর লুক ভয়াবহ। অবস্থা ‘লেদু’ টাইপের। দেখলেই মনে হয় যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটাবে (ঘটায়ও)। এই ফেরিগুলোও ছোট, কিন্তু লুকই বলে দিচ্ছে–মজবুত। স্মার্ট। আস্থা রাখা যায়।

40.jpg………
বিকেলে জেটির রেলিংয়ে সাবৃনা
……..
বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ফেরিতে উঠলেন। ফেরির সামনে কন্ডাকটার দাঁড়ানো। তার পরনে হাফ প্যান্ট। গায়ে অ্যাশ কালারের গেঞ্জি। মাথায় ক্যাপ। মুখে খোঁচা খোঁচা লালচে দাড়ি। সদরঘাটে লঞ্চ স্টাফরা যাত্রীদের ‘বস্তা’ টানাটানি করার মতো করে নিজেদের লঞ্চে ওঠানোর জন্য পুরুষ-নারী-শিশুদের সাথে ছেনাছেনি করে। সেই টানাটানিতে পানিতে পড়ে যাত্রীর মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেরির এই কন্ডাকটার কাউকে ধরাধরি তো দূরের কথা, তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজও করলো না। প্রায় দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলো। তারপর নিরবে জেটি থেকে ফেরির রশি খুলে নিলো। ফেরি চলে গেলো।

সবাই ফটো সেশন করছে। একটু গা ছাড়া। ক্লান্তি এর কারণ।

জেটির পেছন দিকে দুই লোক বড়শি পেতেছে। মাছ মারছে। একজন একটা মাছ হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। তারা বসেছে এক প্রান্তে, সিঁড়ির নিচে। আমি, তন্ময় নিচে নামতে নামতে হাতের মাছটা সে পানিতে ছুঁড়ে ফেললো।

ঘটনা কী–তন্ময়ের মুখের দিকে তাকালাম। মাছ ছেড়ে দিলো কেন?

সে তার ধাক্কানো বাংলায় বললো, ওর মাছটা আন্ডার সাইজ।

অস্ট্রেলিয়ায় মাছের অভাব নেই। এখানে ফিশিংয়ের ক্ষেত্রে আইন হচ্ছে নির্দিস্ট আকার বা সাইজের ছোট মাছ ধরা যাবে না। বড়শিতে উঠলেও ছেড়ে দিতে হবে। নয়তো ফাইন।

সেজন্যই ছোট সাইজের মাছ বড়শিতে পড়ায় ওরা ছেড়ে দিয়েছে। এরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

বাংলাদেশেও আইন আছে। আমার আফসোস হয়–আহারে আমাদের দেশের মানুষ কবে এরকম হবে?

সফর সঙ্গীরা সবাই অবসন্ন। লাইট হাউজের কাছে যাওয়ার কথা ছিলো। সাবৃনা বললো, দরকার নেই। এখন আর ছবি ভালো হবে না। চেহারা খারাপ হয়ে গেছে। বাসায় চলেন।

বাইরে ফকফকা আলো। আমরা চলে এলাম এক পার্কে।

কে যেন বললো, এখানে ‘দিল চাহাতা হ্যায়’ ছবির শুটিং হয়েছে। অসহ্য সুন্দর পার্ক । সামনে সমুদ্র। পানিতে থাকে জলযান। এখানে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে উড়োযান অর্থাৎ সী প্লেন। এগুলো টুরিস্টরা ভাড়া নিতে পারেন। কোনো কারণে এখন সেগুলো বন্ধ রয়েছে।

ক্লান্তি নিয়ে খাদ্য ভোগ করা যায়, সৌন্দর্য উপভোগ করা কঠিন।

কিছু সময় থেকে আমরা ফিরে এলাম মিন্টোতে।

সিডনি হারবার
আজ সোমবার। ওয়ার্ক ডে। ফলে ফ্যামিলিসহ দলবল নিয়ে বের হওয়ার সুযোগ নেই। সবাই কাজে ব্যস্ত। রাতেই প্রোগ্রাম ঠিক হয়েছে তন্ময়কে নিয়ে আজ আমরা যাবো সিডনি হারবারে। যেতে হবে ট্রেনে। সাবৃনা জানালো সে যাবে না।

যাবে না মানে? সিডনি এসে সিডনি হারবারে যাবে না?

যাবো, তবে ট্রেনে যাবো না। হাঁটতে ভালো লাগে না। তোমরা যাও। আমি পরে আরেকদিন যাবো। আজ বিশ্রাম।

না হাঁটলে কোনো শহরকে বোঝা যায় না। অবশ্য ঢাকার কথা ভিন্ন। মানুষের ভিড়ে ঢাকায় হাঁটার উপায় নেই। উপরন্তু ১৬৫ কিলোমিটারের ফুটপাথের প্রায় পুরোটাই দখল করে রেখেছে হকাররা।

আমি এবং তন্ময় রেডি হলাম।

‘মিন্টো’র বাসা থেকে রেল স্টেশন পাঁচ থেকে দশ মিনিটের ড্রাইভ। গাড়ির কারণে টের পাওয়া যায় না। আসলে যথেষ্ট দূরত্ব। তন্ময় এবং আমাকে স্টেশনে নামিয়ে দিলেন চাচি। আমরা সিডনি হারবার যাবো ট্রেনে।

স্টেশনের টিকেট কাউন্টারে এলাম। ইউরোপে ট্রেন-বাসের জন্য যেমন তিনদিন, সাতদিন কিংবা ডে পাস আছে, সিডনিতে সেই সিস্টেম নেই। পাস হলে যে কোনো জায়গায় যতবার ইচ্ছে আসা-যাওয়া করা সহজ। এর একটা কারণ হয়তো ইউরোপে ট্রেন বা পাবলিক বাসই মানুষের প্রধান বাহন। সিডনিতে প্রাইভেট কার।

আমরা মিন্টো থেকে সার্কুলার কি (Circular Quay) রিটার্ন টিকেট নিলাম। প্রতিটির দাম অস্ট্রেলিয়ান ৭.২০ ডলার।

রেল জার্নি তুলনামূলক শস্তা হওয়ার কথা। এখানে উল্টো নিয়ম।

তন্ময়কে জিজ্ঞেসা করলাম, যেতে কতক্ষণ লাগবে?

এক ঘণ্টা।

এখনো ট্রেন আসেনি। ট্রেন আসতে কতক্ষণ লাগবে?

আধঘণ্টা।

‘মিন্টো’র এই স্টেশনটি ইউরোপের তুলনায় ভিন্ন। খোলামেলা। এসিতে আবদ্ধ না। আয়তনে ছোট। ব্যস্ততাও কম। লন্ডন-প্যারিসে যেখানে মানুষ দৌড়াদৌড়ি করে ট্রেন ধরার জন্য, সেই তুলনায় এখানে যাত্রী নেই বললেই চলে। ট্রেনের আসা-যাওয়াও ফ্রিকোয়েন্ট না। সীমিত। নির্দিষ্ট ট্রেনের জন্য আধঘণ্টা-চল্লিশ মিনিটও অপেক্ষা করতে হয়। আমরা প্লাটফর্মে হাঁটাহাঁটি করছি। চারিদিক খোলা। ঝলমলে রোদ। গরম। কিন্তু বাতাস আছে।

ট্রেন চলে এলো।

অস্ট্রেলিয়ার উজ্জ্বল আবহাওয়ার মতো সবকিছুর মধ্যেই একটা ঝলমলে ব্যাপার আছে। ট্রেনের লুকটাও চকচকে। দ্বিতল ট্রেন। হল্যান্ডে ট্রেন দেখতে অনেকটা এরকম। আমস্টারডামের সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে ‘খেইন’ গিয়েছিলাম এমন দ্বিতল ট্রেনে।
ভেতরে ঝকঝকা পরিষ্কার। অল্প কিছু যাত্রী আছে। আমরা ওপরে উঠে জানালার কাছে বসলাম। সিডনি শহর দেখতে দেখতে হারবার যাবো।

তন্ময়ের সাথে আমার তেমন কথাবার্তা হয়নি। সুযোগও ছিলো না। ট্রেন ভ্রমণে সেই সম্ভাবনা সৃষ্টি হলো। তন্ময়ের জন্ম বাংলাদেশে। ৫/৬ বছর বয়সে বিদেশে চলে আসে। জিজ্ঞেস করলাম, অস্ট্রেলিয়া তোমার কেমন লাগে?

ভালো।

সে কথা বলে হিসাব করে।

সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে কী?

এখানকার সিস্টাম। ডিসিপলিন। সব কিছুই সিস্টেমাইজড। এটা খুব ভালো লাগে।

আর বাংলাদেশে?

বাংলাদেশে সবকিছুই মনে হয় এলোমেলো। ইনডিসিপলিনড।

সিডনিতে কোনো কিছু খারাপ লাগে না?

না। শুধু বাংলাদেশের একটা জিনিস খুব মিস করি–কাজের মানুষ। সিডনিতে বাসার সব কাজ নিজেকে করতে হয়। আর বাংলাদেশে বাসায় কোনো কাজই করতে হতো না। কাজের মানুষ সব করে দেয়। এটা মিস করি।

ট্রেন চলছে। স্টেশন ঘন ঘন না হওয়ায় থামছে কম। আমরা গল্প করছি।

তন্ময় একটা সিকিউরিটি কম্পানিতে কাজ করে। গত প্রায় ছয়মাস যাবত সে লসের মধ্যে আছে। কাজ করতে পারছে না। কারণ তার ড্রাইভিং লাইসেন্স সাসপেনডেড রয়েছে। গাড়ি ছাড়া এখানে জীবন অচল। সিকিউরিটি জবে যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায় যাওয়ার কল থাকে। অনেক সময় লেট নাইটে কলও করে। নিজস্ব গাড়ি ছাড়া কোনো উপায় নেই। ট্রেইন ফ্রিকোয়েন্ট না হওয়াতে ঠিক সময়ে এক্সাক্ট গন্তব্যে পৌঁছানোও কঠিন।

তন্ময় বললো, ব্যাড টাইম যাচ্ছে। ব্যাটা পুলিশ…

জানতে চাইলাম, পুলিশ তোমার এত বড় সর্বনাশটা করলো কেন?

ঐ ব্যাটা তার ক্ষমতা দেখিয়েছে। বলে, আমি বিশ বছর পুলিশের চাকারি করি, তুমি জানো–আমি তোমাকে কী করতে পারি? আমি ঝাড়ি দিয়ে বললাম, তুমি আমার কিছুই করতে পারো না। কারণ আমি ই-লিগাল কিছু করিনি। এই নিয়ে দুই জনের তুমুল ঝগড়া।

সিডনির আইন-শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় ঘাপাটি মেরে লুকিয়ে লাকে। এই পুলিশও কোনো এক জায়গায় রেস্ট করছিলো। হুট করে তন্ময়কে পাকরাও করেছে। তার অভিযোগ তন্ময়ের গাড়ির স্পীড নির্ধারিত লিমিটের চেয়ে বেশি ছিলো।

সিডনিতে সাধারণভাবে স্কুল এরিয়ায় গাড়ির অনুমোদিত স্পীড লিমিট ৪০ কিমি। কিছু স্থানে গতি ৬০ কিমি। পথ বদলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ কিমি। কেবল মটর ওয়েতে গাড়ি চলে ১০০ থেকে ১১০ কিমি গতিতে।

শহরের ওপর মূল রাস্তার প্রায় বেশির ভাগ জায়গায় স্পীড মিটার এবং ক্যামেরা বসানো আছে। কেউ সেখানে আইন লংঘন করলে অটোমেটিক্যালি ধরা পড়ে যায়। ফাইনের চিঠি বাসায় চলে আসে। সমস্যা হয় স্থানীয় এলাকাগুলোতে। যেমন তন্ময়ের সাথে ঘটেছে।

জিজ্ঞেসা করলাম, এখানকার পুলিশরাও কি উল্টাপাল্টা করে নাকি?

উল্টাপাল্টা তো করেই। আমার এক বন্ধু একদিন সকাল বেলা মাউথ ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে স্কুল থেকে ওর বোনকে আনতে যাচ্ছিলো। পথে পুলিশ তাকে ধরলো। ধরে বলে, তুমি মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছো। ও বললে, না। পুলিশ যন্ত্র দিয়ে ব্রেথ টেস্ট (নিশ্বাস পরীক্ষা) করলো। টেস্টে অ্যালকোহল পাওয়া গেলো। ও তো থান্ডারড! সকালে ঘুম থেকে উঠে পাগলও তো মদ খায় না। এখানে যাদের ফুল ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে, তাদের জন্য ০.০৫০ লিমিট পর্যন্ত অ্যালকোহল অ্যালাউড। আমার বন্ধুর ফুল লাইসেন্স ছিলো না। সবচেয়ে বড় কথা ও কোনো অ্যালকোহল নেয়নি। সে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করলো। বললো, তোমার অ্যালকোহল ডিটেকটিং মেশিন ঠিক নেই। সে মাউথ ওয়াশের ঘটনা বললো। প্রমাণ করার জন্য বাসায় ফিরে আবার মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করে দেখালো। এবার পুলিশ তাদের ভুল বুঝে ওকে ছেড়ে দিলো। আমার ক্ষেত্রেও তারা একটি ভুল করেছে।

ট্রেন সার্কুলার কি স্টেশনে চলে এসেছে। বড় স্টেশন। আমরা রাস্তায় উঠে এলাম।

বিশ্ববিখ্যাত হারবার ব্রিজ দেখা যাচ্ছে। ট্রাভেল শো উপস্থাপক সামান্থা ব্রাউনের অনুষ্ঠানে সিডনি হারবার ব্রিজের উপর খুব ভালো একটি প্রেজেন্টেশন দেখার সুযোগ আমার হয়েছিলো।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ওয়েদারের মাথা ঠিক নেই। আমরা এগিয়ে গেলাম।

হারবারের পুরো এলাকাটি অসাধারণ সুন্দর। এখানে সাগর আর সবুজ প্রকৃতি যেমন মনোরম, মানুষের গড়া অবকাঠামোও তেমনি মুগ্ধকর। একদিকে জগৎবিখ্যাত সিডনি অপেরা হাউস, আরেক দিকে হারবার ব্রিজ। আমরা উঠলাম পোর্টের ওপরের টার্মিনালের দিকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল পর্যন্ত এই পোর্টের নাম ছিলো পোর্ট জ্যাকসন। এখন সিডনি হারবার। পোর্টে এক বিশাল ক্রুজ শিপ ভিড়েছে। জাহাজের নাম–ক্রিস্টাল সেরিনিটি, অর্থাৎ স্বচ্ছ প্রশান্তি। শাদা রঙের বিশাল শিপ। প্রায় দশ এগারো তলা উঁচু। মাস্তুলের মাথায় নিউজিল্যান্ডের পতাকা উড়ছে। এত বড় জাহাজ কাছ থেকে এই প্রথম দেখলাম। জাহাজটায় একটু উঠতে পারলে মনটা ভরতো।

তন্ময়কে জিজ্ঞেস করলাম, জাহাজে একটু ওঠা যাবে?

ট্রাই করে দেখি, চলেন।

জাহাজ দেখে আমার অস্থির লাগছে। এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে বিশাল সিঁড়ি। দোতলায় উঠেছি।

তন্ময়কে বললাম, কাউকে জিজ্ঞেসা করো–জাহাজটায় শুধু একটু ওঠা যাবে কি-না?

একজনকে জিজ্ঞেস করলো। আমি সাথে যোগ করলাম, উঠতে না দিলেও অসুবিধা নেই। শুধু ছুঁয়ে দেখবো।

উত্তর এলো, সামনে গিয়ে দেখো।

আমরা পোর্টের করিডোরে চলে এলাম। স্টেডিয়াম সাইজের বিশাল করিডোর। নিচে থেকে ধারণা করতে পারিনি–জাহাজ এখান থেকে অনেক দূরে। স্পর্শ করার উপায় নেই। এন্ট্রান্স টপে সাইনবোর্ড দেয়া আছে ‘ওভারসিজ প্যাসেনজার ইমিগ্রেশন’
আমি জাহাজের দিকে তাকিয়ে আছি। নিচের ডেকে রং-বেরঙের স্পিড বোট, লাইফ বোট সাজিয়ে রাখা। ডেকের পেছন দিক থেকে দুই বুড়াবুড়ি বেরিয়ে এলো। শান্ত নয়নে তারা চারিদিকে তাকাচ্ছে।

এখান থেকে জাহাজের দরজা জানালা সবই দেখা যাচ্ছে। ক্রিস্টালের মতোই গোটা জাহাজটা স্বচ্ছ।

ক্রুজ শিপে ভ্রমণ করার ইচ্ছা আমার বহুদিনের। বাকি জীবনে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে কিনা জানি না! তবে না হলেও আফসোস নেই। আমি লোভী মানুষ। লোভ হচ্ছে পাপ। নিঃসন্দেহে আমি পাপী। গুনাহগার। কারণ বেহেশতে যাওয়ার জন্য আমার লোভ বিরাট। পৃথিবীতে সেই লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক কিছুই করি। বেহেশত এমন একটি স্থান–যেখানে মানুষ যা চাইবে, তাই পাবে। পৃথিবীতে আমার অনেক কিছু দেখার সাধ–কিন্তু সাধ্য নেই। যেগুলো সাধ্যের মধ্যে নেই সেগুলো বেহেশতি তালিকায় নোট করে রাখি। কোনো কারণে স্বর্গ লাভ করলে তখন সেসব ইচ্ছা পূরণ করবো ইনশাআল্লাহ।

ক্রুজ শিপ ‘ক্রিস্টাল সেরিনিটি’ আমার বেহেশতি তালিকায় ঢুকে গেলো।

Deusaland নামে আরেকটা ক্রুজ শিপ পোর্ট ক্রস করে যাচ্ছে। শীপের যাত্রীরা ডেকে দাঁড়িয়ে সিডনি হারবারের ছবি তুলছে। জার্মানির আরেক নাম হচ্ছে ডয়েশল্যান্ড। এই শিপটি নিশ্চয়ই ইউরোপ মহাদেশ থেকেই এসেছে।

ফোন বাজছে। আমার ছোট বোন আফসানা ফোন করেছে। তার স্বামীর নাম পারভেজ। দুজন সিডনিতেই থাকে। আমি একটি বড় ধরনের গলতি করেছি। সিডনিতে আসার আগে বারবার যাত্রার তারিখ বদল হওয়ায় শেষ বারের নির্দিষ্ট তারিখটা তাদের আর জানানো হয়নি। অস্ট্রেলিয়াতে এসে এসএমএস করেছি।

আমি ফোন ধরার সাথে সাথেই আফসানা বললো, মেজো ভাই, তুমি এখন কোথায়?

সিডনি হারবারে।

তুমি আমাকে এভাবে না জানিয়ে কাজটা ঠিক করোনি।

আফসানা আমার চেয়ে প্রায় ১৬/১৭ বছরের ছোট। তার কণ্ঠে তীব্র আবেগ। চাপা রাগ।

সে আবার বললো, তুমি কাজটা একদমই ঠিক করোনি!

এরকম সম্পর্কের পরিস্থিতিতে কাউন্টার কথা বলা মহা বোকামি। দোষ স্বীকার করে বললাম, তুমি ঠিক বলেছো আফসু–আমি তোমাদের না জানিয়ে কাজটা একদম ঠিক করিনি।

এবার সে মহা ফাঁপড়ে পড়ে গেলো।

রাগের সময় রাগ না দেখাতে পারা আরো যন্ত্রণার বিষয়। সে আবার বললো, কিন্তু তোমার এরকম করা কি উচিত হয়েছে?

না। একদম উচিত হয় নাই। আমি অনুচিত কাজের জন্য লজ্জিত।

কেউ আত্মসমর্পণ করলে তার সাথে লড়াই করে মজা পাওয়া যায় না। তবে হয়তো যাতনার উপশম ঘটতে পারে।

39.jpg………
ছোট বোন আফসানার সাথে লেখক
………
আফসানার ক্ষেত্রে কী হলো জানি না। সে আমার প্রোগ্রাম শুনে বললো, তোমাকে পরে ফোন করছি।

হঠাৎ করে আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। আমরা দ্রুত নিচে নেমে এলাম। এখানে হরেক রকম দোকানপাট। তারমধ্যে একটা নতুন সাইনবোর্ড দেখলাম শুধু লেখা TAB।

তন্ময়কে জিজ্ঞেসা করলাম, TAB কী?

এখানে বাজিকররা থাকে। এখানে বসে তারা বিভিন্ন বাজি ধরে। এটা বাজির দোকান।

তাই নাকি! শুধু বাজি ধরার জন্যই এই জায়গা?

হ্যাঁ।

পশ্চিমা দেশে বাজি ধরাও একটি পেশা বা প্রফেশন। অর্থাৎ বাজি ধরাই তাদের আয় রোজগারের উপলক্ষ! এরকম বাজির ঘটনা আগে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বা বইয়ে পড়েছি। আমেরিকার একটি বিখ্যাত বাজির ঘটনা এখনো মনে আছে। নিউইয়র্কের ম্যানহাটান হচ্ছে ব্যস্ততম বিজনেস এরিয়া। সেখানে ব্যাংকে এক লোক প্রায় নিয়মিতই মিলিয়ন-মিলিয়ন ডলার জমা রাখতো। বছর শেষে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তারা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে অবহিত করে। সিদ্ধান্ত হয় তারা তাদের বিগ ক্লায়েন্টকে পুরস্কৃত করবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ব্যাংক রেকর্ডে ক্লায়েন্টের বিজনেস বা পেশার কথা লেখা ছিলো না। বিষয়টি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তিনি ওই গ্রাহককে চা পানের নিমন্ত্রণ করেন। এবং পরদিন চা খেতে খেতে তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি যে নিয়মিতভাবেই ব্যাংকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ডিপোজিট করছেন–আপনার পেশা কী? ব্যাংক রেকর্ডে আপনার পেশার কথা লেখা নেই।

লোকটি বললো, আমার পেশা বাজি ধরা। এবং বাজিতে আমি কখনোই হারি না। জয়ী হই।

চেয়ারম্যান অবাক!

লোকটি বললো, আপনার বিশ্বাস না হলে এখনই আপনি আমার সাথে বাজি ধরে সেই প্রমাণ পেতে পারেন।

চেয়ারম্যান চ্যালেন্‌জ গ্রহন করলেন। বললেন, কী বাজি ধরতে চান? ধরতে পারেন।

লোকটি বললো, বাজির বিষয় হলেন আপনি। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আগামী রবিবারের মধ্যে আপনি যে কোনো কারণেই হোক আপনার একটি অণ্ডকোষ (Testiclc) হারাবেন।

চেয়ারম্যান বিব্রত।

আপনি উকিল এনে এখনই আইনগতভাবে বাজি ধরতে পারেন। যদি সত্যি সত্যি আগামী রবিবার আপনার একটি টেসটিকল লস হয়ে যায় তাহলে আপনি আমাকে দেবেন চার মিলিয়ান ডলার। আর যদি আমার কথা ভুল প্রমাণিত হয়, আপনার অঙ্গ আপনার শরীরে অক্ষত থাকে, তাহলে আমি আপনাকে দেবো দুই মিলিয়ন ডলার।

উভয় পক্ষের উকিল এলো। বাজির কাগজপত্র তৈরি হলো। লোকটা চলে গেলো। ব্যাংক চেয়ারম্যান তার গোপনাঙ্গ হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। বাড়ি ফিরে পরবর্তী রবিবার পর্যন্ত আর ঘর থেকে বের হলেন না। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, অঙ্গ হারিয়ে ফেলেন…। বিভিন্ন সময় নিজেই পরীক্ষা করে দেখেন তার ‘দুটো জিনিস’ ঠিক আছে কিনা।

42.jpg………
হারবার পোর্টে লেখক। পাশে ক্রুজ শীপ কৃস্টাল সেরিনিটি, সাগরের আরেক পাশে সিডনি অপেরা হাউস
……..
এমন শ্বাসরুদ্ধকরভাবে নির্দিষ্ট রবিবার চলে এলো। চেয়ারম্যানের মনে ভারি আনন্দ। কারণ লোকটির সঙ্গে তিনি বাজিতে আজ জিতবেন। দুই মিলিয়ন ডলার লাভ করবেন। লোকটি অহঙ্কার করে বলেছিলো, সে জীবনে বাজিতে হারে না। আজ হারবে।
চেয়ারম্যান শেষবারের মতো নিজের বডি টেস্ট করে দেখলেন তার নির্দিষ্ট দুটি অঙ্গ ঠিক জায়গায় ঠিকভাবেই আছে। যথা সময়ে ওই লোক চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাতের জন্য এলো। সঙ্গে এক চাইনিজকে নিয়ে এসেছে।

চেয়ারম্যান বললেন, মিস্টার…. আজ আপনি বাজিতে হেরে গেছেন। আপনি কি দুই মিলিয়ন ডলার নিয়ে এসেছেন?

হ্যাঁ। কিন্তু আমি আপনাকে আগেই বলেছি–আমি বাজি ধরে কখনোই হারি না।

কিন্তু আজ হেরেছেন। কারণ আমার কোনো অণ্ডকোষ খোয়া যায়নি।

লোকটি বললো, ঠিক আছে। আমি পরীক্ষা করার জন্য এই চাইনিজকে নিয়ে এসেছি। সে আপনাকে পরীক্ষা করে যদি বলে আপনার কথা ঠিক–খোয়া যায়নি, তাহলে এখনই আপনাকে দুই মিলিয়ন ডলার বাজির মূল্য পরিশোধ করা হবে। আপনি আপনার বিশেষ স্থানটি এই চাইনিজকে খুলে দেখান।

চেয়ারম্যান সাহেব লজ্জায় পড়ে গেলেন। নেহায়েত বাজির আইনগত কারণে নগ্ন হয়ে চাইনিজকে তার শরীরের বিশেষ গোপনীয় অঙ্গ পরীক্ষা করতে দিলেন। চাইনীজ পরীক্ষা করে বললো, ও-কে। দুটোই ঠিক আছে।

লোকটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে দুই মিলিয়ান ডলার দিয়ে দিলেন।

চেয়ারম্যান বললেন, আপনি না বলেছিলেন কখনো বাজিতে পরাজিত হন না–আজ আপনি বাজিতে হারলেন।

আমি হারিনি। আমি এই চাইনিজের সাথে ছয় মিলিয়ান ডলার বাজি ধরেছিলাম আমেরিকার বিখ্যাত ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অণ্ডকোষ তাকে ধরার সুযোগ করে দেবো। চাইনিজ সেই সুযোগ পেয়েছে। ফলে আমি ছয় মিলিয়ন ডলার বাজি জিতেছি। সেখান থেকেই আপনাকে দুই মিলিয়ন ডলার দেয়া হলো।

(কিস্তি ৬)

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: আবু সুফিয়ান
ইমেইল: abusufian18@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters
Free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহবুব — জুলাই ২০, ২০১১ @ ২:১৪ পূর্বাহ্ন

      লেখক বলেছেন ” ইউরোপে ট্রেন-বাসের জন্য যেমন তিনদিন, সাতদিন কিংবা ডে পাস আছে, সিডনিতে সেই সিস্টেম নেই। ” লেখককে দয়া করে এই সাইটখানা http://www.cityrail.info/tickets/which ভ্রমণ করার অনুরোধ করা যাচ্ছে। না জেনে কোনো ভুল কিছু লেখার দায়ভার একান্তই লেখকের।

      লেখককে দয়া করে এই সাইটখানাও ভ্রমণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে, http://www.rta.nsw.gov.au/rulesregulations/penalties/index.html, এখানে কি কারণে লাইসেন্স ৬ মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয় সেটা সহজ ইংলিশে বলা আছে।

      স্থানীয় পুলিশ স্পিডিং এর কারণে লাইসেন্স বাতিল বা ফাইন ও পয়েন্ট কাটলে পুলিশের কাছে স্পিড রিডিং এর কপি পাওয়া অফেন্ডারের অধিকার ও পুলিশ সেটা দিতে বাধ্য থাকে। এর পরও আদালতে যাওয়ার অপশন থাকে কারণ ৬ মাসের লাইসেন্স সাসপেনশন গুরুতর শাস্তি হিসেবে গণ্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন safq — জুলাই ২০, ২০১১ @ ৫:১৬ অপরাহ্ন

      লেখা পড়ে ভাল লাগল কিন্তু ভ্রমণের কাহিনীতে অনেক অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা চলে এসেছে যা না থাকলেও পারত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মো: হাসান রেজা শুভ — জুলাই ২১, ২০১১ @ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

      খুব সুন্দর লেখা। খুব ভালো লেগেছে। আপনার ভ্রমণের উপর লেখা বই গুলোর নাম বলবেন দয়া করে। ধন্যবাদ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com