আমাদের সঞ্জীবদা

গিয়াস আহমেদ | ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩৭ অপরাহ্ন

এই যে আজ তাঁকে নিয়ে লিখতে বসেছি, এই ‘লিখতে পারা’র অনেকখানিই তাঁর কাছে শেখা। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন – কী করে লিখতে হয়। শিখেছি কতটুকু জানি না, তবে তাঁর জানানোর আন্তরিকতা ছিল আকাশের মাপে মাপে।
photo-1.jpg
দার্জিলিং-এর পথে গাড়িতে সামনের সিটে সঞ্জীব চৌধুরী

তিনি সঞ্জীব চৌধুরী – আমাদের সঞ্জীব’দা। কবে তাঁর সাথে পরিচয় হয়েছিল? কোথায়? এই কদিন ধরে নিজের ভিতরে হাতড়াচ্ছি। দুটো ছবি ভাসে আবছা। একটি টিএসসি’র ঘাসে। আরেকটি আজকের কাগজ-এর ঘরে। মনে হচ্ছে, আজকের কাগজেই মুন্নী পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। মুন্নী সাহা আমাদের ভার্সিটি বন্ধু। ও তখন সাংবাদিকতা পড়ে আবার কাজ করে আজকের কাগজ-এ।

আমরা যেতাম আজকের কাগজ-এ মুন্নীর সাথে আড্ডা মারতে। এই দৃশ্যটি বড় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে আজ – মুন্নী সব ভুলানো হাসি আঁকা এক ঝাকড়া চুলোকে দেখিয়ে বলেছিল, ‘এই আমাদের সঞ্জীব’দা।’

সেই থেকে সঞ্জীব’দা আমারও। এবং আমৃত্যু আমাদেরই ছিলেন। কত স্মৃতি! কত কথা! সঞ্জীব’দা নিজে লিখতেন বাইবেলের ভাষায়। অসংখ্য লেখা আছে তাঁর, ‘এবং’ দিয়ে শুরু করেছেন তিনি বাক্য। ‘এবং তিনি বললেন…’ – এ রকম। কখনো সঞ্জীব’দা লিখতেন – ‘তবে তাই হোক, এসো আমরা জীবনের কথা বলি…।’

সঞ্জীব’দা আমাদের লেখার কৌশল শেখাতেন, লেখায় শোভনশোভা শেখাতেন, শেখাতেন সাংবাদিকতার অ আ। আক্ষরিক অর্থেই হাতে ধরে শেখাতেন। আমাদের লেখা সম্পাদনা করতে করতে এমন হতো, কাটতে কাটতে লেখাটি তাঁরই হয়ে যেত। আমাদের আর থাকত না। এই ‘আমরা’ যে কতজন! আজ তাই আমাদের বয়সী, আমারে বয়সের ছোটরা – সবাই কাঁদতে কাঁদতে বলে – দাদার কাছে শিখেছি। আমি, মুন্নী সাহা, মুনীর রানা, তাপস বিশ্বাস, কবির বকুল, তানজিনা হোসেন, তাঁর স্ত্রী প্রজ্ঞা নাসরীন, রাসেল ও’নীল, আবিদা নাসরীন কলি, তাজিন আহমেদ…কতজন! মনে পড়ে, দাদা বলতেন – ছোট ছোট বাক্যে লিখবি, ক্লিশে শব্দ লিখবি না, মজা থাকবে লেখায়, উল্লাস থাকবে…। দাদা, আমাদের যতই লেখার কৌশল শেখান, কী করে পারি ‘তবে তাই হোক, তিনি নেই আজ সেই কথা লিখি!’

যেদিন ভোরের কাগজ-এ জয়েন করলাম, মনে পড়ে, সঞ্জীব’দা বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘তুই কিন্তু এখন আমার সহকর্মী।’ ভোরের কাগজ তখন নয়া পল্টনের জুয়েল হাউসে। দাদা টেবিল বাজিয়ে গান করতেন। প্রতুল মুখার্জীর ‘আলু বেচো কয়লা বেচো, বেচো বাকরখনি, বেচো না বেচো না বন্ধু তোমার চোখের মণি…’। একটি হিন্দি গানের দু’লাইন দাদা গাইতেন। আমার বড় প্রিয় ছিল – ‘রে মিত না মিলারে মনকা, তু মিত না মিলা…’। খুব অনুরোধ করে গানটি গাওয়াতাম। গোঁফের নিচে সেই সর্বজয়ী হাসি নিয়ে গাইতেন। আহ, দাদার সেই হাসিটা বড় ভাসে…!

photo-3.jpg
জোড়পুখরীতে সহকর্মীদের সঙ্গে সঞ্জীব। এখানে আশেপাশে সারাক্ষণই মেঘ ঘুরতে থাকে।

তারপর ভোরের কাগজ অফিসটা চলে এল বাংলা মোটরে। তারও পর আমরা চলে এলাম প্রথম আলোয়। দাদা ভোরের কাগজ, আবার আজকের কাগজ হয়ে ফিচার সম্পাদক হিসেবে গেলেন দৈনিক যায়যায়দিন-এ। সেখানে আবার তাঁর সঙ্গী হলাম। দাদার ভাষায় ‘সহকর্মী’।

ততদিনে বন্ধুঘেরা ঘরোয়া গায়ক সঞ্জীব’দা সবার গায়ক হয়ে গেছেন। বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে ‘দলছুট’ গড়ে অসাধারণ সব গান করে যাচ্ছেন। তো সেই সময়ে যায়যায়দিন-এর আমরা ২০ জন গেলাম দার্জিলিং বেড়াতে। দাদার শরীর খারাপ। মন আরো। আগাপাশতলা অভিমানে মোড়া মানুষ, কোথাও যান না। আমরা খুব বেড়াই, ঘুরি। দাদা কোত্থাও যান না। ট্যুরের প্রায় সাত-সাতটা দিনই দাদা হোটেল কক্ষে একলা কাটিয়ে দিলেন। মনে পড়ে তেমনই একদিন… আমার স্ত্রী ঢাকা থেকে ফোন করলেন দার্জিলিংয়ের নর্থ স্টার হোটেলে। আমরা তখন বাইরে ঘুরেটুরে, রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরছি সবে। ঢোকার মুখে হোটেল ম্যানেজার বললেন, ‘তোমার স্ত্রী ফোন করেছিলেন, তুমি বাড়িতে একটা ফোন দাও।’ স্থির হয়ে গেলাম। পাথর। তাহলে কী হয়েছে! দার্জিলিয়ের হোটেলের ফোন নম্বর তো আমার বাসার কেউ জানে না। তাহলে কী হলো! আমার পাশে অন্য কলিগরাও দাঁড়িয়ে। নিশ্চয়ই খারাপ কোনো খবর! কী সে খবর!

কেউ আমার হাতে ফোনের রিসিভারটা ধরিয়ে দিল। বাসায় ফোন করলাম। গডব্লেস, সব ঠিক আছে। আমার স্ত্রী সাহেবান কী এক দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন। দুঃস্বপ্নতাড়িত হয়ে কী এ দুর্ভাবনায় তিনি ফোন করেছিলেন হোটেলে। শিলিগুড়িতে এক পরিচিতজনের মোবাইল থেকে বাড়িতে একবার ফোন করেছিলাম। সেই মোবাইলে ফোন দিয়ে, তার কাছ থেকে দার্জিলিংয়ের হোটেলের নম্বর নিয়ে তিনি ফোন করেছিলেন। যাক।

রুমে ফিরে দেখি সঞ্জীব’দা তার ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে রেডি। আমার বাড়ি থেকে ফোন এসেছিল, তিনি শুনেছেন। অন্যদের মতো তিনিও ভেবেছেন, আমার বাড়িতে খারাপ কোনো কিছু ঘটেছে। এবং ভেবেছেন, তাই যদি হয় তাহলে গিয়াসকে তো বাড়ি ফিরে যেতে হবে। কিন্তু ‘তার গিয়াস’ তো আর একা যেতে পারবে না! তাই তিনিও তার সাথে যাবেন। তিনি রেডি। এসে আমার কাঁধে হাত রাখলেন। আমি সঞ্জীব’দাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলাম।

photo-2.jpg
মিরিক লেক থেকে ফেরার পথে। একটি খ্রীস্টান কবরের সামনে সহকর্মীদের সঙ্গে সঞ্জীব চৌধুরী। এই স্থানে সঞ্জীব চৌধুরী সহকর্মীদের প্যান্টের পকেটে বৃষ্টির শীলা ঢুকিয়ে আনন্দ করছিলেন।

এই হলেন আমাদের সঞ্জীব’দা – যিনি শরীরের যাতনায়, মনের কাতরতায় একদিনের জন্য ঘর থেকে বেরননি, তিনি পলকে তৈরি হয়েছিলেন আমার দুঃসময়ের সঙ্গী হতে। এই হলেন আমাদের সঞ্জীব’দা- হৃদয় ছিল তাঁর আকাশের মাপে মাপে বোনা। এমন সাদা কাগজের মতো মনের মানুষ আমরা আর পাব না।

তিনি যখন আল-হেলাল হাসপাতালে, ছুটে গেছি। তিনি অ্যাপলোয়, ছুটে গেছি। অসুস্থ সঞ্জীব’দাকে নিয়ে রিপোর্ট লিখতে লিখতে কেঁদেছি। ভিডিও ফুটেজ এডিট করতে করতে কেঁদেছি। টিএসসিতে তাঁর শেষ বিদায়ের দিনে মুন্নী কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘সঞ্জীব’দাকে নিয়ে আমাদের এই রিপোর্ট করতে হবে, গিয়াস! তাঁর মৃত্যুর রিপোর্ট!’

মুন্নী কাঁদছিল, আমি কাঁদছিলাম, প্রথম আলোর সুমি আপা কাঁদছিলেন, বকুল কাঁদছিল, তাজিন কাঁদছিল, সংবাদ-এর কলি কাঁদছিল, একুশে টেলিভিশন-এর সুমি খান – দাদাকে তিনি দেখেননি কখনো, গান শুনে শুনে তিনি তাঁর ভক্ত, তিনি কাঁদছিলেন। এত্ত এত্ত মানুষ সেদিন টিএসসিতে – সবাই কাঁদছিল।

কত কিছু মনে হয়, কত কথা মনে হয়, আর আজ আমার খালি এই কথাটা মনে হয় – আমার সরল মানুষ দাদাটা, আগাপাশতলা অভিমানে মোড়া মানুষটা, জানল না সবাই তাঁকে কত ভালোবাসতো! চোখের জল মানুষের আপন আত্মার জিনিস, সেই আত্মাধারা থেকে তাঁকে ভালোবাসতো…!

giasahmed@yahoo.com

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (12) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন M A Palash — নভেম্বর ২৪, ২০০৭ @ ৪:৫৪ অপরাহ্ন

      Thanks for your write-up.

      I don’t know the date,may be sometime during 2000,me & my best friend Nasir ware in Sylhet.we were in semi job semi holiday mood & fixed a rainy day to go to the Jaflong hill to see/feel the beauty of rainy /wet hill. I was driving my small but manly looking Suzuki Alto 650cc car,listing red Indian flute,talking with Nasir,sometimes feeling silence of the surround,seeing that hill is becoming visible & nearer to our skyline etc.I can remember,sometimes we also stopped the car when liked the places too much to stop.from the roadside,we also seen a tiny boat nowhere in the wetland.don’t know when,we entered Jaflong area & sometime ride in a lonely Tin shed Banglo situated top of the hill for the better view.we have seen several beautiful temporary water fall from that point. I still re-call that havenly beauty & sound I have collected from there (for the rest of my life)…at some point of our activity,suddenly we felt that we are not alone.some other people also traveled in same mood/style at that very day-time. found that – they are not only traveled or doing picnic things – they like us. they might have/keep enough time for themselves,may be free spirited & sometime also want to go to the hill to enjoy or to be lost!….we also partly heared some song humming by somebody from the group – still I remember the power of that voice & every moments of that day!.we were going here & there together & seen each other with a distance. after some time, at Tamabil point where a yellow plate shows that Bangladesh 0 India 0-near no mans land – we meet,found that Shanjib Choudhury was the singer & leader of that group – Oh Sanjibda! we were known each other because of our life-style & other activity but I was so happy to find him at Jaflong at that time! not at Dhaka & not only at Jaflong but at a picnic free rainy hilly Jaflong-day…he was also happy to find us there at that day. there was nobody like us at that rainy day at Jaflong! we passed sometime together,talked & enjoyed moments. what a exclusive – unique memory!

      It is not possible to passed away a person like him! not possible…no. he again proved that if any person have talent & lead a honest life – people love them. person is the most important & powerful things in this world! person like him. I remember, always he was so simple so gentle so humble…never bother for anything or any recognition. who have that capability to give/offer him something? he was FULL of by himself. he was the symbol of joy & life. he was the true reflection of Bauliana & Bohemia in our ongoing limited life…he is so great that even made himself useful after his death.

      Shanjib Choudhury have a basic contribution/impact to our modern life/songs.
      his songs/group was the light over our dark zombie junk music activity.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নুরুজ্জামান লাবু — নভেম্বর ২৪, ২০০৭ @ ৫:৫১ অপরাহ্ন

      লেখাটা পড়ে ভালো লাগল গিয়াস ভাই।
      নুরুজ্জামান লাবু
      অন্যদিন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাবেদ সুলতান পিয়াস — নভেম্বর ২৫, ২০০৭ @ ১:৪৫ পূর্বাহ্ন

      সঞ্জীব দা-র সঙ্গে সেভাবে মেশার সুযোগ হয়নি আমার। তবু মানুষটাকে কেন জানি খুব বেশি ভাল লাগত। হতে পারে তাঁর সঙ্গে যারা মেশার সুযোগ পেয়েছেন এমন কজনার সঙ্গে আমার মেশার সৌভাগ্য হয়েছে বলে। গিয়াস ভাই, সুমি আপা কিংবা বকুল ভাইয়ের মুখে অনেক শুনেছি উনার কথা।

      ভাল লাগার আরেকটা কারণ আছে হয়ত। আমিও চেষ্টা করছি লিখার, হচ্ছে না। তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি, আসলে ইচ্ছা আছে অনেক। এই আগ্রহটা আমাকে দেখিয়েছেন যিনি, যিনি আমার হাতে হাতে কলম চালানোর চেষ্টা করেছেন, তিনি লিখতে শিখেছেন সঞ্জীব দার কাছ থেকে। গিয়াস ভাই। আমাদের জন্য গিয়াস ভাইয়ের যে ভালোবাসা, বুঝতে পারছি সেটা সঞ্জীব দার কাছ থেকেই এসেছে।

      সঞ্জীব দা যেদিন চলে গেলেন, অনেক খারাপ লেগেছিল। টিএসসিতে গিয়ে চোখের পানি আটকাতে পারিনি। সবাই কাঁদছিল তখন। ভালো লেগেছিল তাঁর জন্য মানুষের ভালোবাসা দেখে। সারা জীবন যিনি ভালবাসা বিলিয়েছেন, নিজের ঝুলিতে তাঁরও কমতি ছিল না।

      সেদিন কান্না আসছিল সবসময়ের চেনা উচ্ছলতায় মুখর সঞ্জীব দার হঠাৎ থেমে যাওয়া দেখে। আজ এমনটা হচ্ছে এই লেখাটি পড়ে। সঞ্জীব দার মতো মানুষ বেঁচে থাকবেন লাখো জনের ভালোবাসায়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Lutfar Rahman Nirjhar — নভেম্বর ২৫, ২০০৭ @ ৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

      গিয়াস ভাই,
      আমার মনে হয় ভাগ্যটাই খারাপ! জীবনে আপনার দুইটা লেখা খুব মনযোগ দিয়ে পড়লাম। প্রথমটা পড়েছিলাম টুশিকে নিয়ে ছুটির দিনের কভার স্টোরি, দ্বিতীয়টা আজকে। হয়তো আপনার জীবনের সেরা লেখাটা আজকে পড়লাম, অনেক কিছু হারিয়ে ফেলার মাঝে। জানি তিনি আর ফিরে আসবেন না! বড় কষ্ট করে পেয়ে পড়লাম লেখাটা। বড় কষ্ট!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গিয়াস আহমেদ — নভেম্বর ২৫, ২০০৭ @ ২:২৪ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ লাবু, পিয়াস ও নিঝর্র। কী আর বলব বেলা! এত কষ্ট লাগে দাদার কথা মনে হলে! পরশু রাতে পুরনো পত্রিকা, ছবির অ্যালবাম ঘাটছিম – কত স্মৃতি! দাদা বড় ঋণী করে গেছেন।

      মি. পলাশ, ধন্যবাদ। চমৎকার স্মৃতিচারণ আপনার। হু, মনে পড়ছে আরেকটি স্মৃতি। আমরা একবার ‘দলছুট’কে নিয়ে চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম একটি মানবিক কনসার্ট করতে। সেখানে দাদা বড় এলোমেলো হয়ে পড়েছিলেন। তখন বারবার বলছিলেন, জাফলং যাবি বৃষ্টির দিনে। শীতে জাফলংয়ের কোনো সৌন্দর্য নেই। তোকে আমি ঝুম বৃষ্টিতে জাফলং দেখিয়ে আনব।

      হায়, জাফলং! হায় আমাদের পাগল দাদাটা…!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Hitlar A. Halim — নভেম্বর ২৫, ২০০৭ @ ৫:৪০ অপরাহ্ন

      গিয়াস ভাই,
      স্মৃতি বড়ই বেদনার। স্মৃতিচারণ আরো।
      হিটলার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পারু — নভেম্বর ২৬, ২০০৭ @ ৩:০২ অপরাহ্ন

      মন খারাপ লাগার মত লেখা…..।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরশাদ রহমান — নভেম্বর ২৬, ২০০৭ @ ৯:৩৭ অপরাহ্ন

      গিয়াস ভাই,

      লেখার জন্য ধন্যবাদ। সঞ্জীব চৌধুরী খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। আমারা সবাই তাঁর শূন্যতা অনুভব করবো।

      আরশাদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দিনা — নভেম্বর ২৭, ২০০৭ @ ৩:৪০ অপরাহ্ন

      সেও তো অদ্ভূত যোগাযোগ । গিয়াস ভাইর সঙ্গে দেখা হয়নি অনেকেরই,তবু সবার প্রিয় পাঠক ফোরামের বি.স.গিয়াস আহমেদ । আর আমাদের মত অনেক অনেক অবুঝ যারা ক্রমাগত একঘেয়ে কথা আর সুরের অথবা হিন্দি গানের নকল সুরের যন্ত্রণায় বাংলাদেশের নতুন গান শোনা ছাড়ি ছাড়ি করে হাত বাড়াচ্ছি কলকাতার সুমন,নিচেকতা,মহীনের ঘোড়াগুলির দিকে…তখনই সঞ্জীব আর বাপ্পার দলছুট তাদের দলে ভেড়ায় অনেককে। এরকম এক সময় পাঠক ফোরাম থেকে একটি চিঠি আসবার কথা আমার ঠিকানায়…অপেক্ষায় আছি। বি.স.পাঠাবেন । কিন্তু এর মাঝে গিয়াস ভাই চলে এসেছেন সদ্যজাত প্রথম আলোতে । আর সঞ্জীব চৌধুরী এলেন পা.ফো.তে । যদি ভুল না করি, তিনিই সম্ভবত আগে এর দায়িত্বে ছিলেন । তো আমার কাছে এল সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত চিঠিটি । তবে বি.স.-র স্বাক্ষরের স্থানটি ফাঁকা!এ বুঝি আত্মোভোলা সঞ্জীবদারই কাজ…
      তারপর…অনেকগুলো দিন পরে দুজনের সঙ্গে দেখা একই দিনে-যায়যায়দিন অফিসে…ফিচার বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে পরিচয়-পর্ব। দেরী করছেন সঞ্জীবদা । একটু বেশিই । একটু-আধটু বিরক্ত অনেকেই । তারপর এলেন সঞ্জীবদা । এবং জমালেন । সঞ্জীবদার দেরীর কারণে যারা উশখুশ করছিলেন বের হয়ে আসার সময় দেখলাম তাদেরকে মুগ্ধ শ্রোতার অপূর্ব ভঙ্গীমায় । এখানেই বোধহয় সঞ্জীব চৌধুরীর সাথে বাকিদের ফারাকটা । এই জমিয়ে রাখা – আজও শেষ হলো না । লক্ষ কোটি যোজন মাইল দূরে চলে গিয়েও তাই সবাইকে জমিয়ে রাখছেন …স্মৃতির সূতোয়…

      একটা ছোট্ট অনুরোধ কি করা যেতে পারে? সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে অনেকেই গিয়েছেন সাকুরাতে বা অন্য কোথাও -পানের উৎসবে। কেউ পান করতে,কেউ তাকে ভালো লাগার কারণে । আজ অনেকেই,বিভিন্ন সময় তার নিজেকে হারিয়ে ফেলার গল্প করেন বেশ আয়োজন করে । তখন আসলে খারাপ লাগে ।
      এসব কথার মানে বুঝতে পারলে খারাপ লাগতো ছোট্ট মেয়ে কিংবদন্তীরও ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবুল বাসার — নভেম্বর ২৮, ২০০৭ @ ৫:৪২ অপরাহ্ন

      গিয়াস ভাই,
      আপনার লেখাটা ভীষণ ভালো লাগল। আবার একটু কষ্টও লাগল সঞ্জীবদা আর নেই এটা মনে হওয়াতে। সঞ্জীবদার সাথে আমার পরিচয় বেশি দিনের নয়, কিন্তু তারপরও কেন জানি তার জন্য আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খায়রুল বাবুই — december ১৮, ২০০৭ @ ২:২২ অপরাহ্ন

      মনে পড়ে,
      সিরডাপ মিলনায়তন। বন্ধু সন্মেলন। অদ্ভুত সেই মানুষগুলোকে। তারচেয়েও বেশি মনে পড়ে ঝাকড়া চুল, পুরুষ্ঠ গোঁফ, বিশ্বজয়ী হাসি। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ‘পাঠক সংগঠনের জনক’-এর ক্রেস্ট। নিলাম অটোগ্রাফ। বন্ধুসভা তখন চিনতাম। জানতাম না।
      মনে পড়ে,
      শুক্রবার। প্রথম আলোর দোতলার বোর্ডরুম। অচেনা বন্ধু। আমিই সবচেয়ে বেশি চেনা, নিজের কাছে। ধীরে ধীরে চিনলাম গিয়াস ভাই, ফারুখ ভাই, মেসবাহ ভাইৃ। লিস্টিটা শেষ হওয়ার নয়।
      মনে পড়ে,
      আগস্ট মাস। ঢাকা দেখা।
      মনে পড়ে,
      সিএ ভবনের দোতলার সিড়ি। হাতে সাধু ভাষায় লেখা ‘ঢাকা দেখার হাড়ির খবর’-এর প্রিন্টেড কপি। বুক দুরুদুর। পান্থ’র হাতে দিয়ে বাঁচলাম। গিয়াস ভাই, কোনো এক অজানা কারণে কিছু কিছু মানুষের সামনে আমি সহজ হতে পারি না। অবাক হয়ে আবিস্কার করি, সেই ‘কিছু কিছু মানুষ’ আমার কাছে অসম্ভব শ্রদ্ধার, ভালোবাসার, সন্মনের। সেই ‘কিছু কিছু মানুষ’-এর মধ্যে আপনিও একজন, জানেন গিয়াস ভাই?
      মনে পড়ে,
      বুধবার। প্রথম আলোর দোতলার বোর্ডরুম। ‘গিয়াস ভাই, লেখাটা আমি-ই লিখেছিলাম। আমার নামৃ’। ‘তাই নাকি?’ আমার বুকে হাতুড়ির ঘা। পিঠে আপনার হাত। সে স্পর্শ স্নেহের, ভালোবাসার, আশীর্বাদের; আমি বুঝেছিলাম।
      মনে পড়ে,
      তারপর,
      কত লেখা দিয়েছি। কিছু কিছু গিয়েছে ছাপাখানায়। বাকি সব নীলক্ষেতে। কাগজ বিক্রেতাদের কাছে। বুধবার, বন্ধুসভা খুলে দেখি, এটা আমার লেখা? আমি এমন লিখতে পারি? পরে বুঝেছি, আসলে পাকা রাঁধুনির হাতের ছোঁয়ায়-ই এমন জাদুকরি পরিবর্তন।
      মনে পড়ে।
      সবই মনে পড়ে।
      গিয়াস ভাই,
      এখনো কাঁচা-পাকা হাতেই ব্যর্থ চেষ্টা। পাকা রাঁধুনি আর পেলাম না। যে রাঁধুনির গল্প আপনি বললেন, তাঁর অনুজ’র হাতের কলম আমার লেখাকে ব্যবচ্ছেদ করেছিল। ভাবতেই মনটা ভরে ওঠে।
      এই রাঁধুনি এখন রান্নাঘরে আসবেন না আর। শেখাবেন না নতুন নতুন রেসিপি। সুস্বাদু রান্না পাব না আমরা।
      মনটা হু হু করে ওঠে। চোখটা ভেজে ওঠে। ভীষণ বিষাদে।
      সঞ্জীবদার হাতে তৈরি, আপনার হাত ধরেই আমার গুটি গুটি পায়ে চলা শুরু। সেই শুরুটা শেষ হবে কবে জানি না। শুধু জানি, পাকা রাঁধুনির বড় অভাব। খুঁজছি আমি। পাচ্ছি না।
      নিঃসীম শূণ্যতা যাকে নিয়ে গেছে চিরতরে, তার পথ চেয়ে থেকে আর কত? নির্ভার হতে চাইছি। পারছি না।
      মনটা হু হু করে ওঠে। চোখটা ভেজে ওঠে। ভীষণ আফসোসে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নজমুল আলবাব — জানুয়ারি ৩, ২০০৮ @ ৪:৪৭ অপরাহ্ন

      গিয়াস ভাই মন খারাপ হয়ে যায়, যখনই মনে হয় দাদা নেই।

      দাদার সাথে পরিচয় সূত্রগুলোর একটা ছিলেন আপনি।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com