ধারাবাহিক উপন্যাস

শতকিয়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ১০ জুলাই ২০১১ ৭:৫৭ অপরাহ্ন

shotokiya_sketch_tania.jpg
অলংকরণ: সাগুফতা শারমীন তানিয়া

প্রথম পর্ব

পৌষমাসের দুর্জয় শীতে যখন পাড়াগাঁয়ে মোষের শরীরে কাঁপই ধরিয়া যাইতো, আমরা তিনভাই মিলিয়া দোলাই গায়ে দিয়া হি হি করিতে করিতে আখি-গুড়ে পাক দেওয়া চিড়ার চাক কি ছোলার চাক খাইতাম, তখন পাগলা সাবু নিজের নগ্ন পৃষ্ঠে শিকলের বাড়ি দিতে দিতে আমাদের ঘরের সুমুখ দিয়া ভিখ মাঙিয়া হাঁটিয়া যাইতো। সাবু কোনকালে পাগল হইয়া আমাদের গ্রামে আসিয়া থান গাঁড়িয়াছিল, তাহা কেহ হলপ করিয়া বলিতে পারিত না। সাবুর গায়ের রঙ এককালে টকটকে ছিল শোনা যায়, অনাচারে তাহা ধূলিমলিন হইয়া গিয়াছে। পিঙ্গল পৃষ্ঠে কতকগুলি দড়ার ন্যায় পাকানো দীর্ঘ কালশিটা। চুলে জট। পিন্ধনে চট। গভীর মনোবৈকল্যে শাদা হইয়া আসা দৃষ্টি সত্ত্বেও বুঝা যাইতো–একদা সাবু পরম সুপুরুষ ছিল। আমরা ছেলেপুলেরা তাহাকে দেখিবামাত্র ভয়ে পলাইতাম। শুনিতে পাইতাম সাবুর আসল নাম সাহাবুদ্দীন। গোরাসাহেবদের অত্যাচারে পাগল হইয়া গিয়াছে। কেহ বলিতো সাহাবুদ্দীন শেখেদের পো, এক ব্রাহ্মণকন্যার প্রেমে পড়িয়াছিল, বিবাহ দূরে থাক, কন্যার পিতা তাহাকে জনসমক্ষে এমন বে-ইজ্জত করিয়াছিল যে সেই শোকে সে পাগল হইয়া ঘর ছাড়িয়াছে। মোটের উপর বুঝিতাম–সাবু জাতে মোসলমান। করুনাপরবশ হইয়া আমার মা তাহাকে ডাকিয়া ভাত খাওয়াইতেন। আউশ চালের রাঙা রাঙা ভাত। পুরাতন তেঁতুল আর চিটাগুড়। পাগল ছড়াইয়া ছিটাইয়া কলাপাতায় মোটা ভাত খাইয়া উঠিতো, উঠিয়া পগারের দিকে নিজের উচ্ছিষ্ট টান মারিয়া ফেলিয়া দিয়া আসিতো।

দুরন্তপনা করিলে কিংবা ঘুমাইতে দেরি করিলে আমার নানী তালপাখার ডাঁটা দিয়া দুইচারি ঘা বসাইয়া দিয়া কহিতেন–“সাবুর মাইয়ার লগে বিয়া দিমু তরে জুড়ান।” লোকমুখে শোনা যায়, সাবু নীলকুঠির গুপ্তধনের খোঁজ জানিত, কন্যার বিবাহে খরচ করিবে বলিয়া লুকাইয়া রাখিয়াছে। ঘোষেদের ঢোলগোবিন্দ বলিত–সে স্বচক্ষে দেখিয়াছে, সাবুর একটি কন্যা আছে এবং সে নিরতিশয় সুরূপা। কিন্তু সাবুকে শ্বশুর হিসাবে কে চাহিবে? অতএব পাগল শ্বশুরলাভের আশংকায় বাধ্য হইয়া ঘুমাইয়া পড়িতাম।

আমাদের পালপাড়ার বন্ধু রাখাল একদিন খবর আনিল সাবুর আসল নাম শিবু, শিবনাথ। মালোদের ছেলে। ইংরাজবিরোধী বিপ্লবের ষড়যন্ত্র করিয়াছিল বলিয়া তাহাকে ব্রহ্মদেশের মান্দালয়ে জেল খাটিতে হইয়াছে। জেলর সাহেবের অত্যাচারে পাগল হইয়া গিয়াছে। সেকালে দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক দেখিয়া আমাদের নবীন বুকের রক্ত রোষে ফুলিয়া উঠিতো। অতএব আমরা তিন ভাই, রাখাল আর পালপাড়ার অন্যান্য ছেলেরা ঠিক করিলাম ছেলেরা মিলিয়া সাবুর জন্য একখানি ঘর তুলিয়া দিব।

নদীর ধারে শ্মশানবাড়ির নিকটে পোড়োজমিতে প্রবল দেশপ্রেমের তাড়নায় আমরা ঘর তুলিতে শুরু করিলাম। শীতের নদী শীর্ণ হইয়া আসিয়াছে। পাড়ের কর্দমে নীলাভ সবুজ গাঙদাঁড়া মাছ বুড়বুড়ি কাটিয়া যায়। মাখনা আর কলমীলতা ছাইতে শুরু করিয়াছে। রাখালের দিদি উলূপী আসিয়া একদিন কাদামাটির চাপড়া লেপিয়া-জুড়িয়া মাটির চুলা গড়িয়া দিয়া গেল। চালে খড় ছাওয়া হইয়াছে। খড়ি ঠেলিবার চুলা হইয়াছে। উঠানমতন একটুখানি জায়গা ঝাঁটা দিয়া পরিষ্কার করিয়া দিশিকুমড়ার চারা লাগানো হইয়াছে। পরিত্যক্ত মাদুর আর ছিঁড়া কাঁথা জুটাইয়া আনিয়াছি–চাষাদের গাঁ, ছিঁড়া কাঁথাখানি গেরস্তলোকে শ্রাবণমাসে বউ-মেয়েকে দিয়া আরেকবার সিলাইয়া লয়, কিছুতেই ছাড়িতে চাহে না। ঘর তো একরকম হইলো, কিন্তু পাগলকে আনিবে কে? একে বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদ, তায় তাহার হাতে ভীষণদর্শন শিকল। তাহার কাছেই ভিড়িতে সাহস হয় না আর কুটীরে টানিয়া আনা!

দেখা গেল, শীঘ্রই আমাদের ঘরখানির আরো উপযোগিতা বাহির হইলো। নদীর ধারে ঐদিকটায় সহসা কেহ আসিত না, উদাস কাশ আর শর বাতাসে দুলিত, গুগলি খাইতে বিলাতি হাঁস নামিত অদূরে পদ্মার চরে, নাও বোঝাই করিয়া কুমড়া নিয়া চাষারা ওপাড়ের হাটে যাইতো, ছাতারে পাখি ডাকিত, শাদা-শাদা ঘেঁটুফুল ফুটিত ঘরের পিছনের ঝোপগুলিতে–তাহার ভিতর দিয়া সর সর করিয়া বদরাগী স্বর্ণগোধিকা চলিয়া যাইতো। শুক্লপক্ষের সন্ধ্যাবেলা সেই দাওয়ায় বসিয়া থাকিলে একেবারে নাকবরাবর পিঠার আকৃতির হলুদ চাঁদ উঠিত। ঐঘরখানি আমাদের খেলাঘরে পরিণত হইলো। ক্ষেতের চাউল, কড়াইশুঁটি, কলাই, বেগুনক্ষেতের বেগুন (সকলি চুরির দ্রব্য), শেওলার আড়ালে জুটিয়া যাওয়া হাঁসের ডিম–আমরা একদিন চড়াইভাতি করিয়া ফেলিলাম। করিয়া ফেলিয়া এহেন চিত্তচাপল্যে লজ্জিতও হইলাম, কোথায় বিপ্লবী বীরের আবাস হইবে–তাহা নয়, কিছু মতিচ্ছন্ন বালকের প্রমোদক্রীড়াস্থল হইয়াছে সেই কুটীর। আমাদের প্রেষণার মতন আমাদের লজ্জাও দীর্ঘস্থায়ী হইলো না, সেই শীতে আরো কয়েকবার আমরা চড়াইভাতি করিলাম। আমাদের সর্বসুখ অবশ্য অধিককাল পরমপিতার সহিল না। শ্মশানের সিদ্ধিখোরদের একটি দল আসিয়া আমাদের সে ঘর হইতে উন্মূল করিয়া দিল।

আমাদের বেদনাও দীর্ঘস্থায়ী হইলো না। লঘুচিত্তের বালকদের কান্নাহাসিতে কী আসে যায়। পরামাণিকের কাছে খেউরি করিতে বসাইয়া দিলে যাহার চোখে পানি আসে, তাহার বেদনাতে বিশ্বাস কী!

গাঁয়ের জীবন যথারীতি চলিতে লাগিল। উত্তরের ভিনগাঁ হইতে মোষ আনিয়া মলন চলিল। সিউলিদের ছেলেদিগের খেজুররস আহরণ চলিল। মাঠে গুড় জ্বাল দেওয়া চলিল। মাটির হাঁড়িতে রাত জাগিয়া ধানসিদ্ধ করা চলিল। জ্যোৎস্নার মতন ফকফকে চিঁড়া কোটা হইতে লাগিল। গভীর রাত্রে চাষাদের ঘরে পিঠার চাউল গুঁড়ি হইতে লাগিল। রবিশস্যে মাঠকে মাঠ ঝলমল করিতে লাগিল। ঢোলগোবিন্দের কাকির পরপর তিনটি মৃতসন্তান জন্মিয়াছে, কাকি কার্তিকপূজা করিলেন এবং তাহাতে রবাহূত ছেলেরা তিলের নাড়ু-ক্ষীরের নাড়ু-মুগের নাড়ু মুঠি-মুঠি খাইলো-ছড়াইল।

শীত চলিয়া গিয়া একসময় বেজায় গরম পড়িল। ওলাবিবি আসিবার ভয়ে গাঁয়ের চতুর্দিকে বাঁধানো হইলো। সারাবেলা নিমগাছে পাতিকাকগুলি বসিয়া কমলা টাগরা দেখাইয়া হাঁপাইতে থাকে। আমাদের বাড়িতে কেবলি সজিনাখাঁড়া আর গ্যাঁদালপাতার ঝোল রান্না হইতে লাগিল। রাধা-কৃষ্ণ সাজিয়া অষ্টকপূজারীর দল ঢোল-কাঁসি-চাকি বাজাইয়া চৈত্রের গাঁওগেরামে ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল। চাষের জমি ফাটিতে লাগিল। ঝাঁ-ঝাঁ রৌদ্রের দুপুরে চিল তীক্ষ্ণস্বরে ডাকিতে লাগিল কেবল। ঘোলাজলে পাতিহাঁসগুলি সারাবেলা গুগলি খুঁজিয়া নিষ্ফল ফিরিতে লাগিল–কাজেমের পিতার রাতকানা রোগ সারাইতে কাজেমের বোনেরা ডোবার সকল গুগলি নিয়মিত তুলিয়া রাঁধিয়া ফেলিয়াছে–নদীর দিকের খোঁড়লগুলিতে কিঞ্চিৎ প্রয়াসেই কই-ল্যাটা-রয়না-সরপুঁটি উঠিত, সেস্থলে কেবলি কাদা, জাল ঠেলিলে তাহা ভরিয়া বড়জোর কোলাব্যাঙ মিলিবে। ব্যাঙের লোভে আবার কালসাপ আসিয়া জুটিবে। কাহারদের এক ছেলেকে সেইদিন কেউটে সাপে কাটিল, ধড়ফড়াইয়া মরিয়া গেল সে–ওঝা-গুণিন-বিষবেদে কেহই কিছু করিতে পারিল না।

আমাদের নদীতীরবর্তী সেই খড়ের ঘরের অদূরে একদিন একটি মড়া ভাসিয়া উঠিল। দীর্ঘকেশ, লালপাড় বিলাতি-ধুতির শাড়ি পালের মতন ফুলিয়া উঠিয়াছে, হতভাগিনীর হাতে লাল বেলোয়ারি চুড়ি। কূলবধূ কি কূলটা–হিন্দু কি মোসলমান কেহ বলিতে পারিল না। তাহার সৎকার কীরূপে হইবে, তাহাও কেহ মনস্থির করিতে পারিল না। রাখালের বোন উলূপী বিবাহ হইয়া ভিন্‌গাঁয়ে চলিয়া গিয়াছে–শাশুড়ির গঞ্জনা সহিতে না পারিয়া সেও কবে এইরকম জলে ঝাঁপ দিবে, এই সাতপাঁচ ভাবিয়া পালপাড়ার রাখালের চোখে জল আসিল, উলূপীর বুনিয়া যাওয়া কুমড়াচারার মাচা বাঁধিতে বাঁধিতে শ্বাস ফেলিয়া ডাকিল–“হে জগবন্ধু!” জোলাদের ছেলে কাজেমের এক ভগ্নি গেল সালে গলায় দড়ি দিয়াছে, কাজেমও সে ঘরের দাওয়ায় বসিয়া ফোঁপাইয়া উঠিল। কিন্তু সৎকারের প্রশ্নে একতা আসিল না, কাজিয়া লাগিয়া গেল। ইতোমধ্যে একদিন সকলের অগোচরে মড়াটিকে সম্ভবতঃ কুমীরে টানিয়া লইয়া গেল। কুমীরে মড়া খায় কীনা এইবিষয়ে আমরা মাথা ঘামাইতে লাগিলাম।

ঘোষেদের ঢোলগোবিন্দ আবার খবর আনিল, মড়াটি জমিদার করুণাসিন্ধু রায়ের বাড়ির আশ্রিতা, দামী ধুতি পরিয়াছে দেখ নাই? তাহাকে কেহ কেহ জীবদ্দশায় দেখিয়াছে, সুন্দর সাজ করিয়া বিনুনিতে বাদলা জড়াইয়া জামাইসোহাগী টিপ পরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে। তাহার গর্ভে কী করিয়া রাজার সন্তান আসিয়াছিল, তাই জমিদারের লোকে পালকি করিয়া তাহাকে মাঝগাঙে লহিয়া ডুবাইয়া দিয়াছে। আমরা জানি দরমার বেড়া দেওয়া খড়ের আঁতুড়ঘরে মোসলমানের পোয়াতি ৪০ দিন অবধি সময়কাল কয়েদ থাকে, হিন্দুর পোয়াতি থাকে ২১দিন। শিশুটিকে বেশম মাখিয়া বেশ করিয়া নাওয়ানো হয়, গাভীর দুগ্ধে তালমিছরি মিশাইয়া খাওয়ানো হয়, কাঁদিলে শিশুকে শান্ত করিবার জন্য অনেকের ঘরে আফিম খাওয়ানো চলে–শিশুর জন্মের সহিত যে কলঙ্ক জড়াইয়া থাকে, তাহা যেন সেই প্রথম কেহ আমাদের ঘাড় ধরিয়া বুঝাইয়া দিল। সেই সঙ্গে আর একটি দিকে আমাদের চোখ পড়িল–নারী ও পুরুষের সম্পর্ক। যাহা দেখিয়া আসিয়াছি, যাহা ঊষাকালের মতন প্রতিদিন চোখের সামনে ঘটিয়াছে তাহা যেন নতুন আলোকে প্রতিভাত হইলো। জগত যে কেবল স্ত্রী এবং স্বামী দিয়াই তৈয়ার নহে, তাহাতে গলদ আছে, তাহাতে কালিমা আছে, সেই জ্ঞান লাভ করিলাম।

করুণাসিন্ধুবাবুর বাগানবাড়িতে আমরা প্রায়শই সময়ের গুটি আম কি কাঁটালের ইচড় চুরি করিতে ঢুকিতাম। জমিদারবাবু শৌখিন লোক ছিলেন, ইয়ারদোস্তদের সহিত মিলিয়া বনভোজন করিতেন–পশ্চিম হইতে বাঈ ভাড়া করিয়া আনা হইতো। পাঁঠার মাংস আর আম-আদার অম্বলের সুঘ্রাণে তাঁহার বাগানের রন্ধ্রগুলি ভরিয়া উঠিত। কুঠির সাহেবদের সহিত তাঁহার পিতা-পিতামহের অন্তরঙ্গতা ছিল। তাঁহার খাস বাবুর্চির হাতের কান্ট্রি-কাপ্তেন চিকেন খাইয়া লালমুখো ফসেট সাহেব বাগানবাড়ির গোল-বারান্দায় প্যারাফিনল্যাম্পের আলোয় বসিয়া নেটিভ রায়তদের বিবাদ-বিসম্বাদের মীমাংসা করিতেন। জমিদারবাবুর আড়কালা হুকাবর্দার সাতকড়ি আলবোলা সাজাইয়া দিয়া যাইত।

অন্দর হইতে মেমসাহেবদের ফরাসি এসেন্সের সুবাস আসিতো, হিমানির সুবাস আসিতো, পাকশাল হইতে ভাল মাখন কিংবা গুড়ের পায়সের গন্ধ আসিতো। ঘোড়ার টানা গাড়িতে করিয়া জমিদারবাবু এস্টেট দেখিতে বাহির হইতেন, কী সুপুরুষ প্রৌঢ়, কানের পিছনে জবাফুল গোঁজা, ললাটে পূজার তিলক, মলমলের উৎকৃষ্ট পোশাক, তেলাকুচাফলে গিলা করা হাতা। সেই রাজরূপের আড়ালে এমন অন্ধকার!

কালে আষাঢ় মাস আসিয়া গেল। খালের নূতন পানিতে পুঁটিমাছ উঠিল। নদীর ধারের সেই কলঙ্কিনীর মড়াটিকে আমরা ভুলিতে বসিয়াছি, এমন সময় আবার খবর আসিল–মেয়েটি আশরাফ ঘরের মোসলমান যুবতী। খড়খড়ির পাখি তুলিয়া সার্কাসের দল আসিয়াছে কীনা দেখিতে গিয়া ধরা পড়িয়াছিল। পিতা তাহাকে এমন বেত্রাঘাত করিয়াছিলেন যে তাহার মৃত্যু হইয়াছে–লাশ অতঃপর ভাসাইয়া দেয়া হইয়াছে। এই গল্পের গলদ এই যে, মোসলমানের মড়া তো গোর দিবার কথা, লাশ ভাসাইয়া দিল কী বুঝিয়া? সত্যমিথ্যা রাখালের জগবন্ধু জানিবে, আমাদের চোখে ভাসিতে লাগিল ফিরোজা রেশমের উড়ানি জড়ানো তন্বী, তাহার গলায় বহুমূল্য জহরতের কণ্ঠী মসলিনে জড়ানো যাহাতে গরিমা প্রকাশ না পায়, চাকরানি সারা সন্ধ্যা বসিয়া তাহার রাশি রাশি কালো কেশে আফসাঁ ছড়াইয়াছে–যেন আড়াবনে জোনাকির দীপ জ্বালিয়াছে। নিমন্ত্রণে যাইবার কালে সে ঘরেই আকণ্ঠ খাইয়া তবে বাহির হইতো যাহাতে লোলুপতা প্রকাশ না করিয়া বসে, খাইবার লোভ নীচকূলের লক্ষণ। বাহির হইবারও কত ঝকমারি, পালকি কয়েক প্রস্থ কাপড়ে মুড়িয়া নিশ্ছিদ্র করিয়া তবে তাহাকে বাহির করা হইতো। রৌদ্রলেশহীন অন্দরের অলিন্দগুলিতে তাহার এবং তাহাদের আত্মাপুরুষ শুকাইয়া মরিতেছিল। হায়, কত দিনরাত্রির প্রয়াস-আয়োজন-বিলাস-ব্যাসন একটি মাত্র বেতগাছার প্রতাপে নিশ্চিহ্ন হইয়া গেল–তাহার জন্য সদরের সিভিল সার্জন ডাক্তার আসিল না। হাকিম আসিল না। আমার ভ্রাতা পরান সেই আশরাফকূলদুহিতার জন্য একটি কবিতা লিখিয়া ফেলিল। আমার কবিভাব ছিল না, নদীতীরে ঘুরিয়া ঘুরিয়া দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আমার নিতান্ত-সাধারণ প্রাণ আর কিছু প্রসব করিতে পারিল না।

(কিস্তি ২)

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: সাগুফতা শারমীন তানিয়া
ইমেইল: shaguftania@yahoo.com

ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শামসেত তাবরেজী — জুলাই ১১, ২০১১ @ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

      লেখাটা ভাল লাগিতেছে…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাবর — জুলাই ১১, ২০১১ @ ৪:৩৩ অপরাহ্ন

      লেখাটার মাঝে নস্টালজিয়ার আভাস পাওয়া গেল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Chanchal — জুলাই ১১, ২০১১ @ ৫:০১ অপরাহ্ন

      খুবই ভাল লাগিল। লেখিকার লেখার বাকি অংশখানি পড়িবার অদম্য ইচ্ছা নিয়া অপেক্ষায় রহিলাম।

      – চঞ্চল

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন kamrul al mamun — জুলাই ১১, ২০১১ @ ৫:২১ অপরাহ্ন

      ভাষার উপর লেখিকার অসামান্য দখল মুগ্ধতার দাবি রাখে। পরের পর্বগুলোর জন্য অপেক্ষায় থাকলাম..:

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজীব আহমেদ জয় — জুলাই ১৪, ২০১১ @ ২:০৭ পূর্বাহ্ন

      লেখাটা নিয়ে লেখকের প্রবল, গভীর পরিশ্রম অনুভব করছি আর শ্রদ্ধায়, বিস্ময়ে বুকটা ভরে উঠছে! লেখক যেন তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারেন–এই শুভকামনা রইল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মীর ওয়ালীউজ্জামান — জুলাই ১৪, ২০১১ @ ১০:৪৯ অপরাহ্ন

      তানিয়া, বহুদিন পর আপনার হৃদয়ছোঁয়া চিরচেনা বাংলার গাওগঞ্জ, প্রকৃতি আর মানুষের খোঁজখবর জানতে পারছি… কী যে ভালো লাগছে–এ যেন আমাদের জাদুবাস্তবতার কলমকার এসে গেছেন একজন–সে আমাদেরই ঘরের মেয়েটিও বটে! লিখুন আপনি, কমই লিখুন, তবে এই রকমই চাকবাঁধা মাখনের মতো লেখা তারিয়ে তারিয়ে ঝিম মেরে চাখতে চাই!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মৃমা — জুলাই ২৬, ২০১১ @ ৫:১১ অপরাহ্ন

      সত্যিই ভালো লাগছে…অনেক ভালো…অপেক্ষায় আছি বাকি গল্পের জন্য!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Khaled nobin — অক্টোবর ৩, ২০১১ @ ৪:৫৯ অপরাহ্ন

      খুব ই মজার লেখা। অনেক দিন পর তৃপ্ত মনে পড়লাম। পরবর্তী টার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com