সিডনির পথে পথে (২)

আবু সুফিয়ান | ২০ জুন ২০১১ ৭:৪০ অপরাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১

abu-s2_16.jpg
সিডনি লিভারপুলে একটি মলের সামনে সস্ত্রীক লেখক

(গত সংখ্যার পর)

ফ্লাইটে লোক বেশি! আজ কোথায় সিট পড়বে কে জানে!

এয়ারপোর্টের মশা এয়ারক্রাফটের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে। সমানে কামড় দিচ্ছে। মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য চাঁদর খুলে গায়ে দিয়ে বসে আছি। মহা যন্ত্রণা!

কুয়ালালমপুর-এ ভিসার কী হবে এখনো জানি না। মশার কামড় এবং সিটের ঝামেলায় এখন কিছুই মাথায় নেই। রুক্ষ মেজাজের হোস্টেজ ফিরে এলো। আমার অন্য বোর্ডিং পাসটা নিয়ে দুটা নতুন বোর্ডিং পাস দিলো। বললো, তোমরা আমার সাথে আসো। তোমরা বিজনেস ক্লাসে যাবে।

আমি-সাবৃনা মুখ চাওয়াচাওয়ি করছি, বলে কী! সবই উপরঅলার দয়া। সাবৃনা বললো, তাড়াতাড়ি ওঠো।

দুজনই উঠলাম।

খানিক পথ যাওয়ার পরে স্ত্রী কঠিন চোখে তাকালো, তোমার জন্য মান-সম্মান তো কিছুই থাকবে না!

আবার অসম্মানের কী করেছি?আমরা বিজনেস ক্লাসে যাচ্ছি এটা কি অসম্মানের?

সে আরো কঠোর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে জানতে চাইলো, গায়ের চাঁদরটা পরে আসা কি জরুরী ছিলো?মানুষ ক্ষেত বলবে না? এখানে সব বাঙালী প্যাসেন্জার!

গায়ের চাদরের কথা খেয়াল ছিলো না। তবে ‘ক্ষেত’ মানে খারাপ–এই তত্ত্ব কে কবে আবিষ্কার করেছে কে জানে? ‘ক্ষেত’ মানে কৃষক। চাষী। সে যে কাজ করে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদার কর্ম এই পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। দুজন বিশ্বকাঁপানো ক্ষেতের নাম হচ্ছে রোনাল্ড রিগ্যান এবং জর্জ বুশ। তারা দুজনই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এই দুজনসহ পৃথিবীর অনেক বড় বড় মানুষই ‘ক্ষেতে’র কাজ করেছেন। নিজেদের ‘ক্ষেত’ পরিচয় দিতে তারা গর্ববোধ করেন। শুধু বাংলাদেশেই ব্যতিক্রম। এখানে ‘ক্ষেত’ পরিচয় লজ্জার! অসম্মানের! স্ত্রীর সম্মান রক্ষার্থে আমি দ্রুত চাঁদর রেখে এলাম।

বিজনেস ক্লাসে আজ আমাদের যে সিট দেয়া হয়েছে সেটা আমার স্বপ্ন ছিলো। প্লেনে উঠে ঘুমিয়ে যাওয়ার সাধ অনেকদিনের। কিন্তু সাধ্য ছিলোনা। ইতিহাদ এয়ার এ সাবৃনার এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তখন থেকেই আমার জন্য তার আফসোসের শেষ ছিলো না। আজ সেই আফসোস শেষ হলো।

বিজনেস ক্লাসে এসেও দেখি মশার আক্রমণ! মালয়েশিয়ানরা প্লেনে করে কি মশাও নিয়ে যাবে নাকি? হোস্টেজকে ডাকার জন্য সুইচ টিপেছি। একজন পুরুষ হোস্টেজ এলো। তাকে ঘটনা জানালাম, এ কী যন্ত্রণা! হোস্টেজকে আবার বললাম, প্লেনের ভেতরে মশা! মশা কামড়াচ্ছে! ঘটনা কী?

সে খুবই হাসিমুখে জবাব দিলো, ইয়েস। আই নো। অর্থাৎ হ্যাঁ–আমিও জানি।

ভাবটা এমন যেন এটাই স্বাভাবিক! বলেই আরেক দিকে চলে গেলো! প্লেনের মধ্যে মশা উঠেছে এবং যাত্রীকে কামড়াচ্ছে এটা যেন বিরাট মজার খবর!

আমি নতুন চাঁদর খুলে পা ঢাকলাম। বিজনেস ক্লাসের এই সিটগুলো খুবই স্পেশাল। সাবৃনা সুইচ টিপে চেয়ারকে বিছানা বানিয়ে ফেললো। ইতিহাদের অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে! আমি তার দেখাদেখি হাতলের সুইচ টিপে দেখছি।

কী অত্যাধুনিক আসন। সুইচ চাপলেই সাধারণ চেয়ার হয়ে যাচ্ছে ইজি চেয়ার কিংবা সম্পূর্ণ বিছানা। পা যেন ঝুলে না যায় সেজন্য পায়ের দিকে বেরিয়ারও আছে।

প্লেন ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আবার মশার নালিশ জানালাম। একজন এসে ফ্রেশনার স্প্রে করে গেলো।

মাথা ধরে গেছে। এবার হোস্টেজকে বললাম,এক গ্লাস পানি দাও! ওষুধ খাবো।
তারা তিন রকমের কাবাবসহ বিরাট খাদ্যের আয়োজন নিয়ে হাজির হলো।

প্লেন উড়ছে। আমি বিছানা পেতে শুয়ে পড়লাম। প্লেনে খাট-পালং পেতে শুয়ে যাওয়ার তৃপ্তি’ই আলাদা।

সাবৃনা ঘুমিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দিকে নড়াচড়া করে আমি বিছানার স্বাদ বোঝার চেষ্টা করছি। কখন নিদ্রা গিয়েছি টের পাইনি। ঘুম ভাঙলো প্লেন-সেবিকার ডাকে। বললো, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করবে। সিটগুলো সোজা করে সিটবেল্ট বেঁধে নিন। সাবৃনাকেও ডেকে তুললাম। এবার হবে আসল পরীক্ষা। ভিসার পরীক্ষা। ইমিগ্রেশন অফিসারের মুড ভালো হলে কুয়ালালামপুর শহরে ঢুকতে পারবো। আর ভিসা না পেলে কী হবে জানি না!

প্লেন থেকে নেমেই সাবৃনা বললো, কোনো মহিলা ইমগ্রেশন অফিসারের কাছে যাবে না। পুরুষ কাউন্টারে যাবে। মহিলাগুলো দুষ্ট হয়।

ইমিগ্রেশন হলে যেতে হলে অ্যারোট্রেনে উঠতে হয়। কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে এই অ্যারোট্রেন। কিন্তু দুঃসংবাদ হলো অ্যারোট্রেন বন্ধ। মেইনটিনেন্সের কাজ চলছে। শাটল বাস ধরে ইমিগ্রেশনে যেতে হবে। হাঁটতে হলো দীর্ঘ পথ।

ইমিগ্রেশন হলে বিরাট ভিড়। সম্ভবত একাধিক ফ্লাইট নেমেছে। বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পর্যটক এসেছে। দীর্ঘ লাইন শেষে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে এলাম। পুরুষ অফিসার। কমবয়সী। সে পাসপোর্ট নেড়েচেড়ে বললো, তোমাদের মালয়েশিয়ান ভিসা কোথায়?

আমরা সিডনি যাবো। দুইদিন কুয়ালালামপুর থাকবো। ট্রনজিট ভিসা চাচ্ছি!

অফিসার শান্ত কণ্ঠে জানালো, এখানে ট্রানজিট ভিসা দেয়া হয় না।

বলে কী! আমরা স্বামী-স্ত্রী মুখ চাওয়াচাওয়ি করছি।

অফিসার যোগ করলো, তোমরা একুশ নম্বর কাউন্টারে যাও!

একুশ নম্বর কাউন্টারে ভিড় নেই। মোটা মতো এক ছেলে বসা। তরুণ অফিসার। চুল খাড়া। ট্রানজিট ভিসার কথা শুনে সে অবাক হলো। অথচ এটি’ই ট্রানজিট ভিসার কাউন্টার। পাশের অফিসারের সাথে মালয় ভাষায় কথা বলছে। সেই অফিসার নারী। কী কথা বলছে কে জানে!
ভিসা না পেলে মহা বিপদ।

আমি দোয়া ইউনুস পড়ছি–লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুব্হানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায্যোয়ালেমিন!

ইউনুস নবী মাছের পেটে আটকে গিয়ে মুক্তির জন্য এই দোয়া পাঠ করেছিলেন। উত্তরে আল্লাহপাক বলেছেন, ফাস্তাজাব্না লাহু ওয়ানাজজাইনাহু মিনাল গাম্মি ওয়াকা জালিকা নুনজিল মু’মিনিন!

এর মমার্থ হচ্ছে, আমি (আল্লাহ) নবী ইউনুসকে উদ্ধার করলাম। রক্ষা করলাম। এবং এইভাবে পৃথিবীতে যত মুমিন বান্দা বিপদে পড়ে এই দোয়া পাঠ করবে, তাদেরকেও একইভাবে রক্ষা করবো।

আমরা নিকৃষ্টতম দুই পাপী বান্দা দোয়া ইউনুস পাঠ করছি।

তখনই ইমিগ্রেশন অফিসার আমাদের টিকেট দেখে পাসপোর্টে ৫ দিনের ভিসাসহ সীল মারলো।

আমরা ভেতরে চলে এলাম।

গুডমর্নিং কুয়ালালামপুর!

গুড ইভিনিং সিডনি
কুয়ালালামপুর থেকে সিডনির ফ্লাইট প্রায় আট ঘণ্টা। কুয়ালালামপুরের সময় সকাল নয়টায় ফ্লাইট। অন টাইম। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে ইউরোপ যাত্রায় একটানা চৌদ্দ ঘণ্টা জার্নি করার অভিজ্ঞতা একাধিকবার আমার হয়েছে। প্রথম দিকে মজা লাগতো। ক্ষণে ক্ষণে খানা-দানা আসে, জুস, চা-কফি খাই, হরেক রকম ম্যাগাজিন পড়ি, একটু পরে পরে সিটের সামনের টিভি স্ক্রীনে দেখি প্লেন কোথা দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। নিচের জায়গা মনে ধরলে জানালা দিয়ে উঁকিঝুঁকি পারি, নিচে তাকাই দেখার জন্য। এরকম দেখায় দুবাইয়ের কথা মনে পড়ে। রাতে যখন দুবাইয়ের ওপর দিয়ে প্লেন যায় নিচে দেখা যায় অনেক লাইট। আলো ঝলমল করে। দুবাই নিশ্চয়ই এমনই ঝলমলা শহর। একবার যাবো ইনশাআল্লাহ।

তবে দীর্ঘ প্লেনযাত্রায় গত কয়েকবারের এক্সপেরিয়েন্স সুখকর না। আমাদের গতবারের লন্ডন শহরের খানিকটা অভিজ্ঞতার এখানে ভাগাভাগি করি। আমি নিজে ভোজনপ্রিয়। প্লেনজার্নিতে একটা বড় আনন্দ হচ্ছে খাওয়া-দাওয়া! মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের খানা বহুবার খেয়েছি। সেজন্য এখন আগ্রহ নেই। গত ট্রিপের কথা। প্লেনে হোস্টেজ খাবারের ট্রলি এনে জিজ্ঞাসা করলো, কী খাবেন?

খাবারের মূল মেনু হচ্ছে বিফ উইথ রাইস অথবা চিকেন উইথ রাইস। ঢাকা থেকে বিমান রওনা হওয়ার আগে ব্যাপক চিকেন খেয়েছি। বাহারি স্বাদের চিকেন। ফ্রাই থেকে কাবাব। ভুনা থেকে ঝোল। চিকেন বিরিয়ানী কিংবা ফুল চিকেন মাসালদাম। আমার অন্তর ভরে গেছে চিকেন খেয়ে। সাবৃনার রান্না অসাধারণ। আমি ভোজনপ্রিয়। ভালো খেতে পারলে মন খুশি লাগে। স্ত্রীকে বললাম, তুমি আমাকে এত মজার মজার গোশত আইটেম রান্না করে খাইয়েছো সেজন্য আমি তোমার উপর বড় খুশি। বিদেশে গিয়ে কী গিফট চাও বলো!

সাবৃনা বললো, তোমাকে এত মজার মজার চিকেন-মাটন বিফ কেন খাওয়াচ্ছি জানো?

অবশ্যাই জানি। কারণ তুমি আমাকে খুবই ভালোবাসো!

সে শান্ত গলায় উত্তর দিলো, তোমাকে হরেক রকম মাংস খাওয়ানোর কারণ হলো তুমি বিদেশে গিয়ে খুবই খাই খাই করো এবং আমাদের পুরো ভ্রমণে তোমার খাবারের বিল হচ্ছে ইনডিভিজুয়ালি সর্বোচ্চ খরচ। এটা গত চার বছরের রেকর্ড। এবার বিদেশ যেয়ে যেন তোমার ‘খাই খাই’ না লাগে সেজন্য ঢাকা থেকে চিকেন, মাটন, বিফ থেকে তোমার ভক্তি ওঠাচ্ছি। রুচি নষ্ট করছি। এটা হচ্ছে আদর করে খাওয়ানোর মূল কারণ।

সাবৃনার পরিকল্পনা যে সফল হতে চলেছে তার প্রথম প্রমাণ পেলাম প্লেনে। চিকেন বা বিফ কিছুই আমার খেতে ইচ্ছা করছে না।

এয়ার হোস্টেজ আবারো জিজ্ঞাসা করলো, কী খাবেন?

আমি খুবই অভক্তি নিয়ে বললাম, কিছুই খাবো না!

সে খুবই দরদের সাথে বললো, স্যার এখন লাঞ্চ টাইম।

ঠিক আছে, এত যখন বলছেন, যা ইচ্ছা দেন।

সে খাবার দিয়ে গেলো। অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করলাম। খেতে পারলাম না।

আমাদের পাশের মেয়েটি তরুণী। সম্ভবত বৃটিশ। সোনালি চুল। খেতে খেতে তার গরম লেগে গেছে। সুয়েটার খুলে সে চেটে-পুটে খাচ্ছে। বিলাতিরা খাবার খুব পছন্দ করে।

খাওয়া শেষে অনেকেই ঘুমানোর চেষ্টা করছে। কেউ কেউ শরাব খাচ্ছে। এয়ার হোস্টেজরা শরাবের বোতল নিয়ে ছুটাছুটি করছে। আমি তাদের ছুটাছুটি দেখছি। দীর্ঘ ফ্লাইটে এ ছাড়া কাজ নেই। আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে হোস্টেজের মনে হলো শরাবের তৃষ্ণায় আমার কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে। হয়তো কোনো কারণে বলতে পারছি না। কাছে এসে বললো, স্যার শরাব দিবো?

না। থ্যাংক ইয়ু।

আমি গভীর মনোযোগে তাদের কাণ্ড-কারবার দেখছি। এতে ওই হোস্টেজের মনে সন্দেহ হয়েছে। আমার স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি উঠে পেছনে এসেছি। ইমারজেন্সি দরজার ডালার সাথে হেলান দিয়ে বাইরের দিকে দেখছি। এয়ার হোস্টেজ আবার মদের বোতলসহ কাছে এলো। সে ভেবেছে বৌয়ের ভয়ে বোধহয় আমি সিটে বসে শরাব চাইতে সাহস পাচ্ছি না। জিজ্ঞাসা করলো, স্যার আপনাকে ড্রিংকস কিছু দিবো?

দুই গ্লাস জুস এবং দুই গ্লাস পানি দেন!

নো ওয়াইন?

নো!

ইয়ু শিওর স্যার, নো ওয়াইন?

এই মেয়ে তো দেখি ভারি বেত্তমিজ! আমি কোনো উত্তর দিলাম না। সে আমাকে বললো, ইমারজেন্সি দরজার ডালা থেকে সরে দাঁড়াতে। ওখানে হেলান দেয়া যাবে না।

আমি উঠে হাঁটাহাঁটি শুরু করলাম। লন্ডন পৌঁছাতে তখনো ৫ ঘণ্টা বাকি। প্লেনের সিটগুলোতে জায়গা অনেক কম। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকা কষ্টকর। আর বসে থাকাও উচিৎ না। সাম্প্রতিক সময়ে প্লেনযাত্রীদের মধ্যে একটি নতুন অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। এয়ারলাইন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী এই রোগের নাম ডীপ ভেইন থ্রম্বসিস (Deep Vein Thrombosis) সংক্ষেপে (DVT)। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকার ফলে পায়ের ডীপ ভেইনগুলোতে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। পরে সেগুলো ভেঙে হার্ট, লাং বা ব্রেনেও ছড়িয়ে গিয়ে স্বাস্থ্যের জটিল অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

এই বিপদ এড়ানোর জন্য প্লেনের দীর্ঘ যাত্রায় প্রচুর পরিমাণ পানি এবং জুস খেতে বলা হয়। একইভাবে বসে না থেকে নড়াচড়া করতে বলা হয়, হাঁটতে বলা হয়। যদিও ডিভিটির নিশ্চিত কোনো কারণ এখনো অবিষ্কার হয়নি।

ডিভিটি সতর্কতা স্বরূপ আমি প্লেনে হাঁটাহাঁটি করি। এইসব অভিজ্ঞতার তুলনায় সিডনির ফ্লাইট কম সময়ের। সাবৃনা ঘুম দিলো।

এম এইচ-১৪১ সিডনি পৌঁছালো স্থানীয় সময় রাত ৮টা পনেরোতে। ঢাকায় তখন দুপুর তিনটা পনেরো। অর্থাৎ ঢাকার সাথে সময়ের দূরত্ব ৫ ঘণ্টা প্লাস। এপ্রিল মাসের তিন তারিখ থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম রবিবার পর্যন্ত সময়ের তফাৎ চার ঘণ্টা। বাকি সময় শীতকালে ইউরোপ-আমেরিকার মতো অস্ট্রেলিয়াতেও একঘণ্টা ডে লাইট পেতে সময় এগিয়ে দেয়া হয়। তখন সময়ের দূরত্ব হয় চার ঘণ্টা।

প্লেন সিডনি এয়ারপোর্ট টার্মিনালের বোর্ডিং ব্রিজে দাঁড়ানো। যাত্রীরা নামার জন্য সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আছে। নামা যাচ্ছে না। সামনে ঝামেলা হয়েছে। আমাদের সিট থেকে দরজা খুব দূরে না। আমরাও অপেক্ষা করছি। কয়েকজন সাদা চামড়ার অস্ট্রেলীয় ডাক্তার দ্রুত গতিতে প্লেনে উঠলো। প্লেনের একজন স্টাফ আসার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জোয়ান ছেলে। সু-স্বাস্থ্য। আমাদেরও দুই তিনবার সেবা দিয়েছেন।

এক্সিট ওয়েতে দুজন এয়ার হোস্টেজ পর্দা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি উঁকি মেরে ফাঁক দিয়ে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করছি। অসুস্থ ক্রু খালি গায়ে বসা। তার মুখে মাস্ক পরানো। ডাক্তাররা তাকে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পশ্চিমাদের মতো অস্ট্রেলীয়ারও রোগ-বালাইকে বড় ভয় করে।

কোনো একটা কিছুতে মানুষের ভয় থাকা দরকার।

যাত্রীরা নামা শুরু করেছে। আমরাও নামলাম।

পৃথিবীর সব এয়ারপোর্টেই নামার পরে প্রথম একটি জিনিস চোখে পড়ে–Welcome লেখা কোনো নিয়ন সাইন। সিডনি এয়ারপোর্টে নেমে তাকিতুকি করলাম। কোথাও `ওয়েলকাম’ কথাটা লেখা নেই। না-কি আছে, আমার চোখে পড়েনি; তাই বা কে জানে! অবশ্য কোনো যাত্রী এয়ারপোর্টে ঢুকেই যদি ওই লেখাটা না দেখতে পান, তাহলে সেই থাকা বা না থাকা একই কথা।

কিছুদিন আগে পত্রিকায় একটা জরিপ রিপোর্টে পড়েছি, অস্ট্রেলীয়রা শুধু ক্রিকেট খেলাতেই সর্বাধিকবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন না। হিংসুটে জাতি হিসাবেও তারা এখন পৃথিবীতে এক নম্বর। বিবিসির ফোকাস ম্যাগাজিন জানাচ্ছে বিশ্বের এক নম্বর অনাচারের দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। যৌন কামনা, লোভ, অতিভোজন, আলস্য, রাগ, ঈর্ষা এবং গর্ব–এই সাতটি বিষয়ের ওপর জরিপ করে এই তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ানদের হিংসা সবচেয়ে পাপী দেশের তালিকায় তাদের শীর্ষে নিয়ে গেছে। অতিভোজনের তালিকায় এক নম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যৌন কামনা বাসনার শীর্ষে দক্ষিণ কোরিয়া। গর্ব ও আলস্যের জন্য আইসল্যান্ড এক নম্বরে আছে। লোভী দেশের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে মেক্সিকো।

মানুষ খারাপ হয় তার চারিত্রিক কারণে। এজন্য সাত ধরনের পাপের সামাজিক তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোন জাতির রাগ বেশি তা জানার জন্য প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে খুন, ধর্ষণ ও অপরাধ প্রবণতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিভিন্ন দেশের সাথে তা তুলনা করে তালিকা করা হয়েছে। কোন জাতি বেশি অলস তা বের করার জন্য শ্রমিকের কাজের সময়ের তুলনা করা হয়েছে। গর্ববোধ কেমন তা জানার জন্য জাতির মাথাপিছু প্লাস্টিক সার্জারির হারের তুলনা করা হয়েছে। অতিভোজনের বিষয়টি জানার জন্য কোন জাতি ক্যালরি-রিচ ফাস্ট ফুডের জন্য মাথাপিছু বেশি ব্যয় করে তার তুলনা করা হয়েছে। আর ডাকাতি, গাড়ি চুরি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে কোন জাতি বেশি হিংসুক তা বের করা হয়েছে। এরপর প্রতি শ্রেণীর পাপের জন্য ১০ পয়েন্টের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতিকে পয়েন্ট প্রদান করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৬ পয়েন্ট পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ৩২, কানাডা ২৪। উল্লেখ্য পয়েন্ট বেশি পাওয়া লাভ নয় বরং কাল হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার জন্য। (সূত্র: বিবিসি)।

এশিয়ান বা আফ্রিকানদের সাথে অস্ট্রেলিয়ানদের হিংসা বেশি। এটি পত্রিকার রিপোর্ট। এয়ারপোর্টে আমাদের সাথে কী আচরণ করবে কে জানে!

সিডনি এয়ারপোর্টে প্রচুর যাত্রী। সম্ভবত একাধিক ফ্লাইট ল্যান্ড করেছে। আমরা ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ালাম। সাবৃনা বললো, লেদুভাবে দাঁড়াবে না। স্মার্টলি পাসপোর্টটা হাতে নাও।

আমি আরো লেদু ভঙ্গিতে পাসপোর্ট ধরলাম। দাঁড়ালাম। আমার কাছে স্মার্টনেসের একটা ডেফিনেশন আছে।

কোনো ব্যক্তির সর্বাধিক স্মার্টনেস কী? উত্তর হচ্ছে সর্ব অবস্থায় সর্বোচ্চ বিনয় প্রকাশ করাই আসল স্মার্টনেস।

ইমিগ্রেশন হলটা মনে হচ্ছে কনজাস্টেড। আয়তনের তুলনায় লোক বেশি।

সাবৃনা বললো, পুরুষদের কাউন্টারে যাবে। মহিলাগুলো ফাজিল।

তার মধ্যে স্বজাতির প্রতি বিরক্তির কারণ কী কে জানে!

কাউন্টারে সাদা মানুষই বেশি। কিছু এশিয়ান স্কিনের লোকও আছে। আমরা পড়লাম এক সাদা চামড়ার নারীর কাউন্টারে। তার পরনে কালো কোট। মাথার চুল সাদা। রং দিয়ে সেগুলো গোল্ডেন করেছে। বাড়তি চুল দেখে সেটা বোঝা যায়। অনেক কাউন্টারেই যাত্রীদের প্রশ্ন করা হচ্ছে। কেন এসেছো, কয়দিন থাকবে, সাথে কী কী আছে, এই দেশে কে থাকে ইত্যাদি। গোল্ডেন চুলওয়ালি ভিসা স্ক্যান করে মুহূর্তের মধ্যে সিল মেরে দিলো। কোনো প্রশ্ন করলো না। আমরা ভেতরে ঢুকে পড়লাম। বিষয়টা বেশি সহজে ঘটে গেলো। এটা আমার লেদুপনার জন্য কি-না আল্লাহপাকই জানে। অস্ট্রেলিয়াতে কোনো খাদ্যদ্রব্য, বীজ কিংবা কাঠের তৈরি গিফট বা দশ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের পরিমাণ গিফটও যদি কেউ আনে, কাস্টমস-এ ঘোষণা দিতে হয়। আমাদের সাথে ওইসব কিছুই নেই। লাগেজ স্ক্যান করে বেরিয়ে এলাম।
বাইরে সুন্দর আবহাওয়া। তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিদেশে গেলে এয়ারপোর্টে কেউ নিতে আসে এমন ঘটনা আনন্দদায়ক। সিডনি সেই আনন্দ দিলো। কালু কাকু এবং তন্ময় আমাদের রিসিভ করতে এসেছেন। কালু কাকু মানে সাবৃনার চাচা। তন্ময় কাজিন। আমার বারো বছরের বিবাহিত জীবনে এটি তাদের সাথে সম্ভবত তৃতীয় সাক্ষাৎ। হাই হ্যালো-র বাইরে তেমন কোনো বাতচিত এখনো হয়নি। কেমন হবে সেটাও জানি না।

আমাদের দেখে তন্ময় এগিয়ে এলো। কাকু আড়ালে ছিলেন। তন্ময়ের ডাকে ছুটে এলেন। তার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস। আনন্দ। আনন্দের আতিশয্যে তিনি ছবি তোলা শুরু করলেন। পশ্চিমা জীবনে বসবাস সত্ত্বেও তার এই আবেগ আমাকে অভিভূত করেছে।

আমি তার সাথে গলা মেলালাম।

সিডনির এয়ারপোর্টের লুক অনেকখানি লন্ডনের হিথরো বিমান বন্দরের মতো। তবে বাইরে চাপ কম। ভিড় বলতে গেলে নেই। রাস্তাঘাট পরিষ্কার। ফকফকা আলো চারিদিকে। কাকু বললেন, তোমরা এখানে থাকো। আমি গাড়ি নিয়ে আসি।

abu-s2_1.jpg…….
সিডনি এয়ারপোর্টে লেখকের স্ত্রী।
……
তন্ময়ের সাথে বছর দুই আগে একবারই দেখা হয়েছিলো ঢাকাতে। তখন সে ছিলো কৈশোর পেরুনো সদ্য তরুণ। লম্বা ছয় ফুটি দেহ। পাতলা শরীর। মাথার পেছনে দীর্ঘ চুলের ঝুটি। কানে দুল। এখন সেসব কিছুই নেই। তার ওজন বেড়েছে। হেভি হয়েছে। মুখটা আগের মতোই সুইট। মায়াভর্তি। কাকু পাজেরো টাইপের জীপ নিয়ে এলেন। প্রথম দিককার বিদেশ সফরে লোকে আমাদের সটুকেস দেখে চমকাতো–এত বড় বাক্স নিয়ে আমরা জার্নি করছি কী করে! এবার কাকু আমাদের লাগেজ দেখে অবাক হলেন। জানতে চাইলেন, লাগেজ এই দুইটা-ই?

জ্বি।

তন্ময় গাড়ির পেছনে লাগেজ তুললো। আমি কাকুর পাশে সামনে বসলাম। ওরা দুজন ব্যাক সিটে বসেছে।

এখান থেকে বাসায় যেতে কতক্ষণ লগবে?

কাকু বললেন, চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট।

আপনারা যে জায়গায় থাকেন সেই জায়গার নাম কী?

মিন্টো।

তন্ময় বললো, বাঙালীরা বলে ‘মিন্টু’। আসলে উচ্চারণ হবে ‘মিনঠো’।

তন্ময়ের অ্যাকসেন্ট অস্ট্রেলিয়ানদের মতো। তার বাংলা ফ্লুয়েন্ট না। একটু ধাক্কানো ভঙ্গিতে কথা বলে।

সাবৃনা জিজ্ঞাসা করলো, চাচি কোথায়, বাসায়?

না সবাই দাওয়াতে গেছে। তোমাদেরও দাওয়াত। তোমরাও যাবে।

কাকু গাড়ি চালাতে শুরু করেই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, সিট বেল্ট বেঁধে নাও। বেল্ট না বাঁধলে তিনশ ডলার ফাইন। এখানে আইন কঠোর।

abu-s2_18.jpg……
এয়ারপোর্টের বাইরে লেখক ও তন্ময়।
…….
ফাইন করার রাজা হচ্ছে বৃটিশরা। পান থেকে চুন খসলেই ফাইন। ফাইনের আইন দিয়ে তারা দেশ টাইট দিয়ে রেখেছে। বৃটিশদের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। আমি ইংল্যান্ডে গিয়ে সাহেব জাতের কাছে ফাইন থিওরি শিখে এসে দেশে প্রয়োগ করলাম। কয়দিন পর দেখি আমার স্টাফরা অন্যায় অনিয়মের মাত্রা বাড়িয়ে দিলো। জিজ্ঞাসা করলাম ঘটনা কী, তোমরা এমন করছো কেন?

তারা সরল জবাব দিলো, ফাইন করেন। অসুবিধা কী! যত ইচ্ছা আমরা ফাউল করবো। আপনেরও যত ইচ্ছা ফাইন করবেন।

পরে বুঝতে পারলাম ভদ্র সমাজের আইন অসভ্য সমাজে অচল।

তন্ময় জানালো সে নিজেও ফাইনের মধ্যে আছে। ফাইনের অতিরিক্ত সাজা হিসাবে বর্তমানে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও সাসপেন্ডেড আবস্থায় রয়েছে। ছয় মাসের শাস্তি। ৩ মার্চ লাইসেন্স ফেরত পাবে।

গাড়ি চলছে। একটার পরে একটা রোড বদল হচ্ছে। কাকু বললেন, আমরা মটর ওয়েতে উঠলাম। মটরওয়ে মানে হচ্ছে এক ধরনের উড়াল সড়ক। এই সড়কে চলাচলের জন্য অতিরিক্ত টোল দিতে হয়। এখানে স্পিড লিমিট ডিরেকশন ১১০ কিমি। অর্থাৎ ১১০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলতে পারবে। কাকু গাড়ির গতি বাড়িয়ে উড়াল দিলেন। প্লেন যাত্রার ক্লান্তিতে রাতের সিডনির তেমন কিছুই টের পেলাম না। শুধু এইটুকু বুঝলাম, কাকু গাড়ি চালানোয় উস্তাদ!

আমরা মিন্টো (মিনঠো) এসে পৌঁছালাম। বাড়ির দরজায় পিংক কালারের সাইনবোর্ড লাগানো– মারিয়া’স বিউটি পার্লার।

কাকু বললেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে মুখ ধুয়ে রেডি হয়ে নাও। সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

আমরা যাবো কাকুর বন্ধু মুশতাক আঙ্কেলের বাসায়। সেখানে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের খেলা উপলক্ষে বিরাট আয়োজন হয়েছে।

আমার পকেট উঁচু হয়ে আছে পাসপোর্টের ব্যাগে। কাকুকে বললাম, এগুলো রেখে যাই। অস্বস্তি লাগে।

কোনো অসুবিধা নাই। আসো, এই ঘরে রেখে যাও।

তিনি সামনের গেস্ট কম্পিউটার রুমে নিয়ে গেলেন। আলমারির দরজা খুলে বললেন, এখানে রেখে দাও।
abu-s2_19.jpg
লেখকের ‘কাকু’র বাসার সামনে তন্ময়, শ্যারন, চাচি, সাবৃনা ও লেখক।

আলমারিতে কোনো লক নেই। ঘরে বড় জানালা আছে। থাই গ্লাস লাগানো। দুই গ্লাসের মাঝখানে আলগা কেরোসিন কাঠের টুকরা দিয়ে ঠেস দেওয়া। তন্ময়কে জিজ্ঞাসা করলাম, জানালায় কাঠের ঠেকা দেয়া কেন?

সে সরল গলায় জবাব দিলো, মাঝে মাঝে চোর আসে। জানালা খুলে ভেতরে ঢোকে।

সাবৃনা বিস্মিত নয়নে তাকালো। আমি জানতে চাইলাম, জানালায় লক সিস্টেম নেই?

না।

কাকু বললেন, কোনো অসুবিধা নেই। ভয় পেয়ো না। আমাদের বাড়ির সবকিছু ইন্সুরেন্স করা আছে। চুরি হলেও অসুবিধা নেই।

আমি কোনো জবাব দিলাম না। আলমারি থেকে পাসপোর্টের ব্যাগ পকেটে নিয়ে বললাম, চলেন।

(সিডনির পথে পথে ৩)

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: আবু সুফিয়ান
ইমেইল: abusufian18@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৌফিক — জুন ২২, ২০১১ @ ৩:৪৪ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ। চমৎকার সরস ভঙ্গীতে লেখা। খুব আনন্দ পেলাম। এক নিঃশ্বাসে শেষ করেছি। তিন উল্লাস।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com