সিডনির পথে পথে (১)

আবু সুফিয়ান | ১১ জুন ২০১১ ৯:৫৯ অপরাহ্ন

abu_2.jpg
অস্ট্রেলিয়ার লা প্যারোজে লেখক ও সাবৃনা

অস্ট্রেলিয়া ‘যাবো’ ‘যাবো’ করছি দুই বছরের বেশি সময় ধরে। কিন্তু কুফা লেগে আছে। যাওয়া হচ্ছে না। এরমধ্যে আমরা লন্ডন গেছি। সাবৃনা কানাডা ঘুরে এসেছে। আমার কুয়ালালামপুর, থাইল্যান্ডের ফুকেট এবং সিঙ্গাপুরেও যাওয়া হয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যাওয়া হয়নি। অস্ট্রেলিয়া বড় তাগাদা দিচ্ছে।
—————————————————————–
একজন এয়ার হোস্টেজ সমস্যা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে। তার মেজাজ রুক্ষ। আমাকে বললো, তোমার বোর্ডিং কার্ডটা দাও। তাকে জানালাম, আমরা কাপল। দুই জায়গায় বসলে কেমন হয়! বয়স্ক লোকটা বললেন, এটা আমার সিট, আমাকে যদি একটা জানালার ধারে বসার ব্যবস্থা করে দিতে পারো–তাহলে আমি এই সিট ছাড়তে পারি।
—————————————————————–
আমাদের ভ্রমণ বৃত্তান্তের তালিকা দেখে অনেকেই অবাক হবেন। কেউ কেউ বিস্মিত হতে পরেন! কারো মনে কৌতূহলও জাগতে পারে–এরা এত টাকা পায় কোথায়?

এরা কি ঘুষের চাকরি করে? দুই তিন নম্বর কোনো কাজ করে? না চার-পাঁচ নম্বর ব্যবসা বাণিজ্য করে? বাংলাদেশে এইসব কাজীদের অর্থের অভাব নেই। তাদেরই এরকম ভ্রমণ করার কথা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তারা ভ্রমণকে ভাবে অপচয়। অনেকেই আবার দেশে মানুষের টাকা লুটপাট করে বিদেশি ডাক্তার আর হাসপাতালে চিকিৎসার নামে বছর বছর অর্থ ব্যয় করে। এটা তাদের বিদেশ ভ্রমণ!

আমি দুই তিন নম্বর কোনো কাজ করি না। আবার উপরঅলার দয়ায় ঐরকম ‘ভ্রমণ’ও করি না। কিন্তু ঘুরে বেড়াই।

তাহলে ভ্রমণ করে কে?

ভ্রমণ করে দুই শ্রেণীর মানুষ—‘আমীর’ এবং ‘ফকির’। ’আমীরে’র থাকে ধনসম্পদ। আর ‘ফকিরে’র সম্পত্তি তার হৃদয়। আমীর ধনকে নিজের জন্য ভোগ করে। আর ফকির অন্যের সাথে নিজের সবকিছুকেই ভাগ করে দেয়। ভাগ করে দিয়ে সে জীবনকে উপভোগ করে।

আমি একজন ‘ফকির’। ফকিরের যেমন ক্ষুধার চিন্তা নেই, আমারও ভ্রমণের চিন্তা নেই। কোনো না কোনোভাবে আল্লাহপাক ব্যবস্থা করে দেন। মোজাদ্দেদ আল ফেসানি শায়েখ আহমদ ফারুকির (র.) গ্রন্থ মকতুবাত-এ আছে, “অন্বেষণ প্রাপ্তির পূর্বলক্ষণ।” আমি অণ্বেষণকারী!

নতুন কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে নানারকম লোকজনের সাথে কথা বলি। দেশে এবং বিদেশে। কোথায় থাকবো–কোথায় ঘুরবো, শস্তা কীভাবে হবে, সুবিধা কোথায় পাওয়া যাবে ইত্যাদি। এইবারই প্রথম বিদেশে যাওয়ার আগে কারো সাথেই আমি যোগাযোগ করিনি। সমস্ত কিছুই করেছে সাবৃনা।

আমি কোনো রিস্ক নেইনি। কেন নেইনি, কারণটা বলি।

বছরখানেক আগে সুমন ভাই বললেন, আপনারা কানাডা এসে ঘুরে যান। সুমন ভাই মানে সাবৃনার বড় ভাই। স্বপরিবারে কানাডা থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক। উনি আমাদের ভিসা আবেদনের জন্য চিঠি এবং অনুষাঙ্গিক কাগজপত্র পাঠালেন। আমি কাজ গুছাতে পারলাম না। ঠিক হলো সাবৃনা একাই ভাইয়ের বাড়িতে বেড়িয়ে আসবে। ভিসা হলো। যাওয়ার তারিখও ঠিক হলো। আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ সবই খুশি, বোন ভাইয়ের কাছে যাচ্ছে।

যাওয়ার দিন কয়েক আগে সাবৃনা ভাইয়ের সাথে কথা বললো। কথা শেষ করে হাসিমুখে ফোন রাখলো। আমি জিজ্ঞেসা করলাম, কী, সবাই তোমার জন্য কানাডাতে অপেক্ষা করছে, তাই না?

সে বললো, হ্যা। কিন্ত আমি ভাইয়ার ওখানে যাবো না।

যাবে নামানে! ভিসা নিয়েছো, না গেলেতো পরে কখনো ভিসা নিতে গেলে ঝামেলা করবে।

কথা ক্লিয়ার বোঝার চেষ্টা করো। আমি কানাডা যাবো। কিন্ত ভাইয়ার ওখানে থাকছি না। ভাইয়ার বাসায় যাবোনা।

বলো কী? তুমি তাদের একমাত্র বোন। তোমাকে নেয়ার জন্য সুমন ভাই কাগজপত্র সব পাঠালো, প্লেনের টিকেট পাঠাচ্ছে, আর তুমি বলছো যাবো না! যাবে না কেন?

ভাইয়ার সাথে কথা বলে আমার কানাডা যাওয়ার মুড খারাপ হয়ে গেছে। আই ফিল স্যাড! সেজন্য যাব না। এবিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। নাউ এন্ড অফ ইট।

আমিও বললাম, আচ্ছা! এন্ড অফ ইট!

abu_3.jpg
লা পেরোজে কাঠের ব্রিজের নিচে সমুদ্র

সাবৃনা ঠিক সময়ে কানাডা গেলো। ভাইয়ের কাছে তার এক মাস থাকার কথা ছিলো। কিন্ত সে টরেন্টোতে গিয়ে সাতদিনের মধ্যে ঢাকা চলে এলো। ভাইয়ের সাথে তার যোগাযোগই হলোনা। খুশি মনে ফিরে এসে বললো, ভিসা কাজে লাগালাম।

তার মুডের ওঠানামা খুবই আকস্মিক। বিদেশের ক্ষেত্রে সেটা ভীষণরকম কঠিন। ঝুকিপূর্ণ! আমার রিস্ক না নেওয়ার প্রধান কারণ সেটি। তবে এটাও নিশ্চিত সে যেটা করবে সেটা ভালো হওয়ার কোনো কারণ নেই, সেটা হবে বেস্ট!

অস্ট্রেলিয়া রওয়ানা হওয়ার দিন দুপুর পর্যন্ত আমি ঢাকার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এরমধ্যে সাবৃনার মুড কয়েকবারই ওঠানামা করেছে। প্রতি সন্ধ্যায় পয়েন্ট ফাইভ এমজির ডেসোপ্যান ট্যাবলেট খাচ্ছে মাথা শান্ত রাখতে।

বিকেলেও যখন আমার ব্যস্ততা কমলো না তখন চা খেতে খেতে বললো, তুমিতো জানো আমার মেজাজ যদি খুব বেশি খারাপ হয়, তাহলে আমি যাওয়া ক্যানসেল করতে পারি।

হ্যাঁ। না জানার কী! তোমার সাথে বারো বছর সংসার করি, আমি না জানলে জানবে কে?

সেইক্ষেত্রে তোমার একা যেতে হবে।

আমি বললাম, আচ্ছা।

এখন পর্যন্ত তুমি তোমার কিছুই গোছাওনি–কোথাও যাওয়ার আগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াটাওতো আনন্দ–সেগুলো নিয়ে কথা বলাও আনন্দ, আনন্দ কি-না বলো?

অবশ্যই আনন্দ।

মুখে আমি আনন্দের কথা বলছি, কিন্ত অন্তরে একটা ভীতি কাজ করছে। যদি এই ভীতি বাস্তবে পরিণত হয় তাহলে দুই সপ্তাহের অস্ট্রেলিয়া সফর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে!

সিডনি যাওয়ার আগে কুয়ালালামপুরে আমাদের দুই দিন থাকার কথা। কিন্তু সময়ের কারণে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ান ভিসা নেয়া হয়নি। এর আগে একবার এই ভুল করেছি। মালয়েশিয়া গিয়ে মনে হয়েছিলো ভিসা নেইনি। পরে এয়ারপোর্টে দুইশ ডলার দণ্ডি দিয়ে ভিসা নিয়েছিলাম। প্রথমবারের ভুল ক্ষমাযোগ্য অন্যায়। দ্বিতীয়বারের ভুল শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভেতরে বিরাট যন্ত্রণা চলছে। মালয়েশিয়ানরা হুটহাট ইমিগ্রেশনের আইন বদল করে। আগে নিয়ম ছিলো টুরিস্ট বা যারা তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়া-আসার পথে মালয়েশিয়া ভ্রমণ করতে চান, তারা পাঁচদিন মালয়েশিয়া থাকতে পারবেন। এয়ারপোর্ট থেকে ট্রানজিট ভিসা দিয়ে দেয়া হয়। আমরাও একাধিকবার সেই সুবিধা পেয়েছি। কিন্তু ২০০৭ সালে এক বিপদ ঘটলো। লন্ডন থেকে ১৪ ঘণ্টার ফ্লাইটে উড়ে কুয়ালালামপুর নামলাম। তিনদিন থাকবো। বুকিত বিনতাং-এ ফেডারেল হোটেলে রিজার্ভেশনও আছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো হঠাৎ করে আগের সন্ধ্যায় না-কি নতুন আইন জারি হয়েছে, কোনো বাংলাদেশী যাত্রীকেই ভিসা ছাড়া কুয়ালালামপুর ঢুকতে দেয়া হবে না।

আমরা মহা বিপদে পড়ে গেলাম। কেনাকাটাসহ আমাদের দুনিয়ার পরিকল্পনা এক মুহূর্তে শেষ! তারচেয়েও বড় কথা এই দুইদিন আমরা থাকবো কোথায়?করবো কি? কুয়ালামপুর এয়ারপোর্টের ভেতরে একটাই হোটেল। সেই হোটেলেও কোনো রুম খালি নেই।

চৌদ্দ ঘণ্টার প্লেন ভ্রমণে আমরা ক্লান্ত। পরিশ্রান্ত।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে গিয়ে অবস্থা জানালাম। ওরা বললো, আমাদের কিছু করার নেই। সরকারের আইন। আমরা তো আর আইন ভাঙতে পারি না।

আইন ভাঙতে না পারো–আমাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করো। খাবারের আয়োজন করো। আমরা তোমাদের এয়ারলাইন্সের যাত্রী।

অপেক্ষা করো। দেখছি।

কুয়ালালামপুরে সাবৃনার চুল রিবন্ডিং করার কথা ছিলো।সে রাগে ফেটে যাচ্ছে। তার হাতে রসস্বী গ্রীন আপেল। লন্ডন থেকে আনা। সে আপেলে কামড় দিয়ে দিয়ে টুকরাগুলো মেঝেতে ফেলছে। আপেলের টুকরা নিক্ষেপে রাগের উপশম হতে পারে। তার হাতের আপেল শেষ হওয়ার আগেই আমি জিজ্ঞেসা করলাম, আরেকটা আপেল দিবো?

সেকোনো জবাব দিলো না।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের লোক এসে জানালো তোমাদের হোটেলে রাখার একটা বিশেষ ব্যবস্থা হয়েছে। আসো।

সাবৃনা তীব্র রাগে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আপেলেরটুকরা মেঝেতে ফেললো। এয়ারলাইন্সের লোক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। ফ্লোর দেখে ঘটনা না বুঝে আমার মুখের দিকে তাকালো। চোখভর্তি প্রশ্ন। উত্তরে বললাম, বিলাতী কাঁচা আপেল। অধিক টক। খেতে পারছে না। সেজন্য থুতানি দিচ্ছে। চলো আমরা যাই।

এয়ার সাইড ট্রানজিট হোটেলে আমাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হলো। এক রাত থাকবো। এরমধ্যে আরেক বাঙালী ভদ্রলোকের সাথে এয়ারপোর্টেই পরিচয় হলো। তিনি একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। তারও আমাদের কেস। জাপান থেকে ঢাকা ফিরছেন। ফেরার পথে কুয়ালালামপুর থাকার কথা ছিলো। আমাদের হোটেলমুখী যাত্রা দেখে হতাশ নয়নে তাকিয়ে আছেন। কারণ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে তার জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব না। কারণ তিনি টিকেট নিয়েছেন ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে। এখানে হোটেলে থাকতে হলে তাকে নিজের পয়সায় থাকতে হবে।

ভদ্রলোক হাসতে হাসতেই বললেন, কোনো অসুবিধা নাই। এয়ারপোর্টের সুন্দর চেয়ারে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়ে দেবো।

পরদিন সকালে আমি নাশতার জন্য হোটেল থেকে বেরুচ্ছি তখন দেখি ভদ্রলোক কাপতে কাপতে হোটেলে ঢুকছেন। বললেন, আর পারলাম না ভাই। কাথা কম্বল ছাড়া জ্বর এসে গেছে। বেটারা এত জোরে এসি চালায়!

উল্লেখ্য, কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টের ঠাণ্ডা অতিরিক্ত রকম বেশি। ভদ্রলোক ঠাণ্ডার ভয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য ১২০ ডলার ভাড়া দিয়ে হোটেলে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন।

আমরা ঢাকা ফিরলাম রাত আটটার ফ্লাইটে।

মালয়েশিয়ানদের মন-মতলবির কোনো ঠিক নেই। ক্ষণে ক্ষণে এরা ইমিগ্রেশনের আইন স্থগিত করে। বদল করে। বাতিল করে।

সতর্কতা স্বরূপ তাই যাওয়ার অগে ঢাকার মালয়েশিয়ান হাইকমিশনে কথা বলেছি। হাইকমিশনের ১৮ (আঠারো) এক্সটেনশন নম্বরে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়। আমাদের অবস্থা জানালাম। অফিসার বললেন, তোমাদের ঢাকা থেকে ভিসা নিতে হবে। তবে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সে গেলে তুমি ট্রানজিট ভিসা পেতে পারো।এয়ারলাইন্সের সাথে কথা বলো।
এয়ারলাইন্সের বড়কর্তা কবির ভাই। তিনি কথা বলেন কম, কাজ করেন বেশি। চমৎকার একজন মানুষ। আমি ফোন করলাম তার কথা শোনার জন্য। উনি বললেন, মালয়েশিয়ায় নতুন একটা আইন হয়েছে। তাইওয়ান-চায়না-অস্ট্রেলিয়াসহ নয়টা দেশের ভিসা যদি কারো পাসপোর্টে থাকে–তাকে কুয়ালালামপুর থেকে ১২০ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা দিয়ে দেওয়ার কথা।

এয়ারলাইন্সেরই তানভির ভাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমাকে হাইকমিশনের ইমিগ্রেশন বিভাগে আরেকবার কথা বলতে বললেন। ফোন করলাম ৮৮২৭৭৫৯-এক্সটেনশন ১৮। এবার একজন মহিলা ধরলেন। মালয়েশিয়ানদের সব ইংরেজি বোঝা যায় না। তবে ইনার কথা বোঝা গেলো। আমার সিডনি যাত্রার কথা শুনে জানালেন, তোমাকে ঢাকা থেকে ভিসা নিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ান ভিসা নিতে সময় লাগে তিন থেকে পাঁচ দিন। আমার যাত্রার তারিখ আজ ২২ তারিখের রাতে। ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়া থাকবো। ২৫ তারিখ সিডনি রওয়ানা হবো। জিজ্ঞেস করলাম, আমার উপায় আর কী?

সে বললো, তুমি প্রয়োজনে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের সাথে কথা বলো।

আমি আর কারো সাথে কথা বললাম না। স্ত্রীকেও ঘটনা কিছুই জানালাম না। কপালে যা থাকে তাই হবে। আল্লাহপাকের ইচ্ছার বাইরেতো কিছু ঘটবে না। আর তার ইচ্ছায় যাই ঘটবেতার মধ্যেই মঙ্গল। এই বিশ্বাস নিয়ে সিডনির পথে আমরা এয়ারপোর্টে রওয়ানা হলাম।

ঢাকা টু কুয়ালালামপুর
এয়ারপোর্টে টিকেট চেক ইন করার সময় আরো বিপদের কথা শুনলাম। আমাদের পাসপোর্ট উল্টে পাল্টে দেখে কাউন্টারের ছেলেটি বললো, মালয়েশিয়া দুইদিন থাকবেন, মালয়েশিয়ার ভিসা নেননি?

না। এয়ারপোর্ট থেকে পাঁচদিনের ট্রানজিট ভিসা দেয়ার একটা নিয়ম আছে। ওখান থেকে ভিসা নিয়ে নেবো।

ভিসা নিয়ে গেলে ভালো হতো। ওরা ঝামেলা করে। ঝামেলায় পড়তে পারেন।

সাবৃনা পেছনে দাঁড়ানো ছিলো। ভিসার ঝামেলার কথা শুনে এগিয়ে এলো। জিজ্ঞেসা করলো, ভিসা ঝামেলা করতে পারে?

সুন্দরী তরুণীর প্রশ্ন শুনে কাউন্টারের ছেলেটি শুধু উত্তর দিলো না। কিছু উদাহরণসহ ঘটনার বিবরণ দিলো, শুধু ঝামেলা না! কিছুদিন আগে আমাদের মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের স্টাফকে ফিরিয়ে দিয়েছে। ভিসা দেয়নি! চিন্তা করতে পারেন! ভুল করেছেন।

সাবৃনা আমার দিকে দৃষ্টি রেখে বললো, বলেন কি!

আমি জানালাম, ঢাকা থেকে কবির ভাই আমাকে বলেছেন অস্ট্রেলিয়া, চায়না, তাইওয়ানসহ পাসপোর্টে নয়টি দেশের ভিসা থাকলে মালয়শিয়ান ট্রানজিট ভিসা দিয়ে দেয়। এরকম একটা আইন আছে।

কাউন্টারম্যান বললো, আইন আছে। তবে ডিপেন্ড করে ইমিগ্রেশন অফিসারের মুডের ওপর। মুড ভালো থাকলে দেয়। মুড খারাপ হলে বিপদ! মুড মানে মন। মানুষের মনতো ভয়ঙ্কর জিনিস। তারওপর অফিসারের মুড যদি সাবৃনার মতো ওঠানামা করে তাহলে খবর আছে।

সাবৃনা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো। আমি দ্রুত বোর্ডিং পাস নিয়ে বললাম, তুমি দাঁড়াও! তৃষ্ণা পেয়েছে। একটা ড্রিংকস কিনে আনি।

চেক ইন কাউন্টার জোনের সামনেই খাবারের দোকান আছে। কাছে গিয়ে দেখি ভেতরে লোকজন খাচ্ছে। কাচের দরজা। ভেতর থেকে বন্ধ। লকড। যারা খাচ্ছে তাদেও অধিকাংশই দাড়ি-টুপি-পাগড়ি পরা। একটি ছেলে এসে জিজ্ঞেসা করলো, কী নিবেন?

সেভেন আপ আছে?

মিরিন্ডা হবে শুধু–নিবেন?

দেন।

হাফ লিটার ৫০ টাকা।

দোকানের পাশ দিয়ে থাই গ্লাসের ওয়াল। গ্লাসের নিচের আড়াইফুট প্লাস্টিক ব্লাইন্ড। ছেলেটি আঙুল দিয়ে ঠেলে সেই ব্লাইন্ড ফাঁক করে মিরিন্ডা দিলো।

কী আশ্চর্যের বিষয়! দরজা বন্ধ রেখে থাই গ্লাস ব্লাইন্ডের দেয়ালটা নষ্ট করার মানে কী?এয়ারপোর্টে এত রকম নিরাপত্তার লোকজন ব্যস্ত– তারা কি দেখে না?চোখে কী দিয়ে রেখেছে?

ইমিগ্রেশন কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইন। আমার কাছে প্রাইয়োরিটি পাস আছে। যেকোনো প্রায়োরিটি পাস হোল্ডার পৃথিবীর প্রায় দুইশ দেশে ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। তাদের লাইনে দাঁড়ানোর কথা না। অবশ্য বাংলাদেশের কথা ভিন্ন। বহু চোর-ডাকাত-বদমাশ-দুর্নীতিবাজও এই দেশে ভিআইপি। অগ্রাধিকার পেতে তাদের কোনো সমস্যা হয় না।

আমি পাসটা নিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানালাম, এখানে প্রায়োরিটি পাসের কাউন্টার নেই। সে কী বুঝলো জানি না। উত্তরে বললো, উপর থেকে আমাদের প্রতি এই ধরনের কোনো নির্দেশনা আসে নাই।

উপরের নির্দেশ ছাড়া এই দেশে কেউ কিছু করে না। পাশের এক পুলিশ অফিসার এগিয়ে এসে জানতে চাইলেন, বিষয় কী?
আমি তাকে প্রায়োরিটি পাসের কথা জানালাম। তিনি সাথে সাথেই আমাকে একটা লাইনের সামনে দাঁড় করিয়ে ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করে দিলেন।

এয়ারপোর্টে যারা কাজ করেন, তাদের এই জাতীয় সব রকম তথ্য জানা থাকা দরকার।

পৃথিবীর প্রায় পনেরোটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট দেখার ভাগ্য আমার ঘটেছে। লন্ডনের হিথরো থেকে গেটউইক, প্যারিসের শার্লস দ্য গল থেকে মাদ্রিদের বারাজাস কিংবা আমস্টারডামের শিফল, মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুর বি কেএলআইএ, পেনাং এয়ারপোর্ট, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ফুকেট ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমান বন্দর, নেপালের ত্রিভুবন, কলকাতার দমদম কিংবা দিল্লীর ইন্দিরা গান্ধি এয়ারপোর্টসহ কোনো কোনোটিতে একাধিকবারও ভ্রমণ করেছি। কিন্তু ঢাকা বিমানবন্দর অতুলনীয়!

ঢাকার এই এয়ারপোর্টের নাম যেমন অনেক বদলাবদলি হয়– এটার মানেরও ওঠানামা করে।

ইমিগ্রেশন পাস করে হলে গিয়ে বসলাম।

বসার সাথে সাথে শত-সহশ্র মশা একযোগে আক্রমণ করলো। এয়ারকন্ডিশনড হলে এত মশা এলো কীভাবে কে জানে? মশার মুহুর্মুহু আক্রমণে টিকতে না পেরে পা তুলে বসলাম। মশার সাথে যুদ্ধ শুরু হলো। সেই যুদ্ধে হাতে এবং গেঞ্জিতে রক্তের দাগ বসে গেছে।

সাবৃনা জিজ্ঞেসা করলো, ফ্লাইট কি অন টাইম ছাড়বে?

না। বিশ মিনিট লেট। একটা বিশের প্লেন একটা চল্লিশে উড়বে।

মশা মেরে হাত ধুতে গেছি টয়লেটে! খুবই নোংরা এবং উৎকট গন্ধ। দ্রুত ফিরে এলাম। পৃথিবীর দশটা নোংরা শহরের মধ্যে ঢাকার স্থান এক নম্বরে। অচিরেই পৃথিবীর দশটা নোংরা এয়ারপোর্টের মধ্যে ঢাকার নামও ঢুকে যাবে–যদি এই অবস্থা থাকে।

এয়ারক্রাফটে ওঠার অ্যানাউন্সমেন্ট হয়েছে।

আমরা প্লেনে উঠে বিজনেস ক্লাস পাস করে ভেতরে যাচ্ছি। প্রশস্ত সিট। এর আগে একাধিকবার এয়ারবাসের বিজনেস ক্লাসে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার ঘটেছে। খুবই আরামদায়ক। ফ্লেক্সিবল। মনে মনে চিন্তা করছি আল্লাহপাক যদি আজও এখানে বসিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতো!

পরক্ষণেই মনে হলো আমি লোভ করছি। লোভ হচ্ছে পাপ। পাপ করছি। আমাদের টিকেট ইকোনোমি ক্লাসের। ইকোনোমি ক্লাসে যাচ্ছি–এটাতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। লোভ করা ঠিক না।

আমাদের সিট নাম্বার হচ্ছে ২৫এ এবং ২৫সি। সিটে বসে কেওয়াজ লেগে গেলো। সাবৃনা ও আমার দুজনের সিট দুই জায়গায় পড়েছে। এমন হওয়ার কথা ছিলো না। অনেকেরই এই সমস্যা হচ্ছে! এয়ার হস্টেজদের ডাকা-ডাকি করছে। আমরা পাশাপাশি দুই সিটে বসলাম। যে আসবে তাকে বুঝিয়ে বলা যাবে।

সিট উলটপালটের মূল কারণ হলো এয়ারক্রাফট বদল হয়ে গেছে। সাধারণত এয়ারবাস ৩৩০ ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাত্রা করে। সেভাবেই আমাদের আগের সিট রিজার্ভ করা ছিলো!

একজন বয়স্ক লোক এসে জানালো এটা তার সিট–আমাকে উঠতে হবে।

পাশের সিটেও হাউকাউ হচ্ছে। হাউকাউ ছাড়া শান্তভাবে বাঙালীরা সমস্যার কথা বলতে পারে না। বড় লজ্জা!

abu_1.jpg…….
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানে
……
একজন এয়ার হোস্টেজ সমস্যা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে। তার মেজাজ রুক্ষ। আমাকে বললো, তোমার বোর্ডিং কার্ডটা দাও। তাকে জানালাম, আমরা কাপল। দুই জায়গায় বসলে কেমন হয়!

বয়স্ক লোকটা বললেন, এটা আমার সিট, আমাকে যদি একটা জানালার ধারে বসার ব্যবস্থা করে দিতে পারো–তাহলে আমি এই সিট ছাড়তে পারি।

এবার হোস্টেজ কথা শেষ না করে দ্রুত চলে গেলো।

বয়স্ক লোকটার জ্বালা উঠে গেছে। সে আরেক হোস্টেজকে ডেকে নিয়ে এলো আমার কাছ থেকে সিট উদ্ধার করার জন্য। হোস্টেজ আমার বোর্ডিং পাস চাইছে। বললাম, একজন নিয়ে গেছে।

সে চলে গেলো।

(কিস্তি ২)

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: আবু সুফিয়ান
ইমেইল: abusufian18@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (17) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Jahangir Habib — জুন ১২, ২০১১ @ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

      আপনি ভ্রমণপিপাসু বটে, কিন্তু অর্থের ঊৎসের কথা পরিস্কার করলেন না। কেননা বিস্তৃত থাকলে আমার মত সাধারণরাও হয়তো বা ভ্রমণে আগ্রহী হতে পারে। অনুরোধ থাকল ভিসা পাবার পন্থা যদি বাতলে দেন, ভাল হয়। নিয়মিত আরো বিস্তারিত আকারে লিখবেন এ কামনা রইল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ হাসান — জুন ১২, ২০১১ @ ১২:৫২ অপরাহ্ন

      অনেকদিন পর আপনার লেখা পড়লাম। খুব ভালো লাগলো। লেখায় সেই ভোরের কাগজের ‌‌‌‌‘আধঘণ্টা’র স্টাইল এখনো আছে। ফকিরাপুলের প্রেস এখনও কি আছে?

      – ঢাকা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন juhi — জুন ১২, ২০১১ @ ৪:২৩ অপরাহ্ন

      বউ-এর রাগের পাবলিসিটি না করলে হতো না? এমনিতে ভাল লাগছে। ধন্যবাদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আল-আমিন কবির — জুন ১৩, ২০১১ @ ২:৩৯ পূর্বাহ্ন

      লেখক কোথা থেকে কোথায় গেলেন আল্লাহ মালুম। লেখার সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখবেন। অস্থিরভাবে কিছু লেখা যায়? কোন কিছুর ধারাবাহিকতা নেই। সময় নষ্ট শুধু শুধু।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মিজানুর — জুন ১৩, ২০১১ @ ৯:২৯ পূর্বাহ্ন

      উদ্ভট লাগলো। এটা কি আত্মজীবনী, নাকি ভ্রমণকাহিনী? বুঝলাম না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Anwar Hossan — জুন ১৪, ২০১১ @ ৩:৩২ পূর্বাহ্ন

      আরে, আপনি তো সিরিয়াস ম্যান। আমি একবার সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম ২০০৮-এ। তো সৌভাগ্য বলতে হবে, যাওয়া এবং আসার সময় উভয় ক্ষেত্রে রিসিভ করার লোক ছিল। ফলে কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। দেশে ফেরার পথে ওভার লোডেড লাগেজ ছিল, সহযাত্রীদের সহযোগীতায় সমস্যার সমাধান হয়েছিল।

      আসলে, বাইরে গেলে কোনও সমস্যায় পড়লে একটা না একটা সমাধান বের হয়ে আসে। কিন্তু দেশে থেকে, দেশের মানুষ সমস্যার জট যে কত প্রকারে পাকাতে পারে আমি টের পেয়েছিলাম যখন আমার জি.ও হওয়া সত্ত্বেও পর পর দুবার যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তৃতীয় বারে আমি সরাসরি ফেস করেছিলাম প্রতিটা ক্ষেত্রে বেশ সাহসের সাথে। অতঃপর তিন মাসের কাজ টানা সাত দিনের মাথায় সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিলাম কোনও অর্থদণ্ড ছাড়াই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Joy — জুন ১৪, ২০১১ @ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

      ভালো লেগেছে, বেশ ভালো। নিরস ভ্রমণ বর্ণনার চাইতে অনেক ভালো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন elias — জুন ১৪, ২০১১ @ ৭:১০ অপরাহ্ন

      ভাল লাগল। আমিও আপনার মত ঘুরতে গিয়ে সব টাকা পয়্সা শেষ। এবার বলেন টাকা কোথায় পেলেন?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন zillur399@yahoo.com — জুন ১৫, ২০১১ @ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

      আসলে, বাইরে গেলে কোনও সমস্যায় পড়লে একটা না একটা সমাধান বের হয়ে আসে। কিন্তু দেশে থেকে, দেশের মানুষ সমস্যার জট যে কত প্রকারে পাকাতে পারে আমি টের পেয়েছিলাম যখন আমার জি.ও হওয়া সত্ত্বেও পর পর দু’বার যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তৃতীয় বারে আমি সরাসরি ফেস করেছিলাম প্রতিটা ক্ষেত্রে বেশ সাহসের সাথে। অতঃপর তিন মাসের কাজ টানা সাত দিনের মাথায় সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিলাম, কোনও অর্থদণ্ড ছাড়াই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিবলী আহমেদ — জুন ১৫, ২০১১ @ ৩:৫৭ অপরাহ্ন

      দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণটা আমারো মনে হয় এই ফাঁকে হয়েই গেল আপনার প্রাণবন্ত লেখনীর সাথে। সম্প্রতি হাদীস শরীফের যে অসাধারণ সংকলন সহজ-সরল ভাষায় করেছেন তা পাঠ করে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ খুঁজছিলাম। তাই খুব বড় করে একটা ধন্য……………………….বাদ জানাচ্ছি।

      শান্তি সম্ভাষণ সর্বাগ্রে ও সর্বান্তে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পতিত পবন — জুন ১৫, ২০১১ @ ৫:৫০ অপরাহ্ন

      এই লেখায় ভ্রমণের চেয়ে আত্মকথনটাই বেশি মনে হল। আর স্ত্রীর বিষয়ে লেখক যে বাড়াবাড়ি মাত্রার আদিখ্যেতাটুকু প্রদর্শন করলেন, তা না করলে এই লেখার মানহানি ঘটার কোনো আশঙ্কা কী ছিলো?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Tauhidur rahman — জুন ১৬, ২০১১ @ ৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

      লেখার কোনো আগামাথা নেই। আর ভ্রমনকাহিনীতে আসে না এমন অপ্রয়োজনীয় অনেক কথা বেশি এখানে। বউয়ের রাগের কথাও একেবারেই নিষ্প্রয়োজন। বিরক্ত হয়ে পুরোটা পড়তে পারলাম না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ — জুন ১৭, ২০১১ @ ১১:৪৩ অপরাহ্ন

      আমার প্রশ্ন শুধু আল্লাহপাকের ইচ্ছায় ও রহমতে এতগুলো দেশে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, ভিসা, পাসপোর্ট, টিকেট, থাকা-খাওয়া এসব সম্ভব কি না? টাকা পয়সা যদি না লাগে, তাহলে তো খুবই ভালো। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে? আল্লাহপাকের অশেষ এই রহমত কি শুধু লেখকের একার জন্য? রহস্যটা খোলাসা করলে ভালো হয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন arshad — জুন ২০, ২০১১ @ ৯:৫৮ অপরাহ্ন

      টাকা কোথায় পাইছে, তা জানার কোনো দরকার আছে?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহবুব — জুলাই ২, ২০১১ @ ১১:০৬ অপরাহ্ন

      প্রায়োরিটি পাসের দ্বারা বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ ব্যবহার করা যায়, কোনো ক্রমেই সেটা ইমিগ্রেশনের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা দেয় না, যেটা লেখক প্রকাশ করলেন। তৃতীয় পর্বে লেখক কেএল বা সিডনি ইমিগ্রেশনে তার সেই প্রায়োরিটি পাসের ব্যবহার করেছেন কিনা সেটা কিন্তু উল্লেখ করলেন না!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Aronna — জুলাই ৩, ২০১১ @ ৭:০৫ অপরাহ্ন

      ঢাকা বিমান বন্দরে কি সত্যি এতো মশা আছে? আমি তো এই বছরে ২ বার গেলাম, কি দূর্ভাগ্য আমার একবারও মশা কামড়ালো না। আর সত্যি সত্যি কি আমাদের এয়ারপোর্ট এতটাই খারাপ? হয়তো অন্য এয়ারপোর্টের মত এতো সুন্দর নয়, তাই বলে শত শত মশা, একটু বেশি হয়ে গেলো না? নিজের যা আছে তা নিয়ে অবশ্য ইচ্ছে করলে অনেকসময় সুখী থাকা যায়।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com