আগস্টের এক নির্বিণ্ন দিনে

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১১ জুন ২০১১ ৮:৫১ অপরাহ্ন

গ্রীষ্মের সেই সকালে ঘুম ভেঙেছিল অন্যদিনের মতোই। আগের রাতের দীর্ঘ আড্ডা শেষ হতে মাঝরাত পেরিয়েছিল। উর্দিধারী জীবনে যথেষ্ট বা প্রয়োজনীয় ঘুমের চাহিদা মেটানোর কোন অনুমোদিত সুযোগ নেই বলা চলে। মাঝে-মাঝে ‘ইন এইড অব সিভিল পাওয়ার’ ধরনের বিশেষ দায়িত্ব পালনকালে ছাউনি বহির্ভূত সিভিল (সভ্য?) এলাকায় তাঁবু গেঁড়ে বসলে এক আধদিন অমন কুম্ভকর্ণ নিদ্রা যাওয়া হয়তো সম্ভব। সে যাকগে। সেই সকালে উঠে আমাদের ‘আউটসাইডার’ (বন্ধুরা আদর করে ডাকে) নৈর্ব্যক্তিক ভঙ্গিতে একটি সিগ্রেট ধরিয়ে টয়লেটে যাবে, এমন সময় সিভিল ফোনটি বাজল। ঘরে দ্বিতীয় ব্যক্তি থাকলে সে কখনো ফোন ধরে না। রুমমেইট ক্যাপ্টেন এইহাব (বন্ধুরা আদর করে ডাকে) চোখ বুঁজেই ফোন ধরে। তারপর ধড়মড়িয়ে উঠে বসে বালিশের পাশে রাখা নোটবই আর কলম টেনে নেয়। ইয়েস স্যর, আ’ম আপ এন্ড রেডি। আউটসাইডার টয়েলেটে যায়। এন্টিরুম পেরিয়ে স্নানাগারে ঢুকে বাতি জ্বেলে দরজা বন্ধ করে। কমোডের পাশে বাথটাবের ধারে আজকের কাগজ। এইহাব তো বেড টি নিয়ে এখানে চলে আসে। বাইরে যাবার তাড়া থাকলে অবশ্য।
—————————————————————–
এইহাবের কেজো প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক অফিসারটি দু’হাত উলটে হতাশ ভঙ্গিতে বললেন, আমি ‘৬৫ আর ’৭১-এ দু’টো যুদ্ধ দেখেছি। এরকম গ্রোটেস্ক দৃশ্য দেখিনি আগে। ফ্লাইং ম্যাশিনটা টুকরো টুকরো হয়ে অনেকটা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে আছে। গ্রামবাসীরা ছুটে এসে পানি ছিটিয়ে আগুন নিবিয়েছে। শুধু ছাই। বডি চেনা যায় না। চক্রবর্তীর দীর্ঘশরীর কুঁকড়ে কুণ্ডলী। কার্পেটের রোলগুলো আধপোড়া, ভেজা। মিলিটারি পুলিস কর্ডন করে পাহারায় রয়েছে। ঢাকা থেকে মিলিটারি ইনটেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের এক্সপার্ট আসছে। আমি বডি নিয়ে এলাম।
—————————————————————–
প্রাতঃকৃত্য সেরে এন্টিরুমে এসে হ্যাঙারে ঝোলানো কড়কড়ে মাড় দেয়া খাকি উর্দি পরে বুটজোড়া হাতে সে শোবার ঘরে এসে চেয়ারে বসে। ব্যাটম্যান ঘনসবুজ রঙকরা কাচের দরজার পাল্লা ঠেলে নিঃশব্দে ঢোকে, পাশের টিপয়ে নাশতার ট্রে রাখে। আউটসাইডার পরোটার কোণ ভেঙে ডিমের কুসুমে ডুবিয়ে চিবোয়। চা-টা এক চুমুক পান করে। সিগ্রেট ধরিয়ে মোজা পায়ে গলায়। এই গরমে পশমি মোজা বোধহয় আমাদের মতো উটকোরাই পরে, সে ভাবে। হাসছেন যে? কী মনে করে? এইহাবের প্রশ্ন শুনে সে জিজ্ঞেস করে, অফিসে যাবেন, নাকি বাইরে ডিউটি পড়ল আবার? আপনি এগোন, আমি কমান্ডারকে এসকর্ট করে নিয়ে আসছি একটু পরে। ফ্ল্যাগস্টাফ হাউসকে এলার্ট করেছি। এইহাবের কথা শুনে সে বলল, কমান্ডার তো প্রায়ই আমাদের সঙ্গে হেঁটে অফিস যান। আজ কী হল? অফিসে গেলেই জানতে পারবেন, আজকের দিনটা ঠিক অন্য দিনের মতো নয়।

স্বভাবত গম্ভীর এইহাবের কণ্ঠস্বর যেন আরো গম্ভীর, বিষণ্ন বটে। ওকে, স্যর, আ’ম অফ্ বলে সে উঠে দাঁড়িয়ে হিল ক্লিক্ করে স্যালুটের ভঙ্গিতে হাত ওয়েভ করে বেরিয়ে এল বারান্দায়। পাশের ঘরের দরজায় দাঁড়ানো আর্মি ডেন্টাল কোরের ক্যাপ্টেন হাশেম দ্বিধান্বিত পায়ে এগিয়ে এল, সালাম করল, কী হয়েছে, ক্যাপ্টেন? ডাক্তারকে ও নিশ্চিন্ত করল, কিছু না, অফিসে যাবেন না? চলুন, এগোই।

মেসের অতিথি ভবনের সামনে দু’টো জীপ দাঁড়িয়ে। ওর মনে পড়ল, আজ প্রতিবেশী দেশের বিমান বাহিনীর দু’জন অফিসার এখানে ছ’মাস ডিউটি করে দেশে ফিরছেন। ও দাঁড়াল, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট চক্রবর্তীর সঙ্গে করমর্দন শেষে বলল, এ সেইফ ফ্লাইট হোম, স্যর। ধন্যবাদ, বলে চক্রবর্তী এক কার্টন ইন্ডিয়া কিংস ওর দিকে এগিয়ে দেন। ইট ওয়জ ফান ওয়ার্কিং উইথ ইউ, বয়েজ। প্লীজ কিপ ইট। গত ক’দিন দুই পাইলট বাড়ি যাবার আগে শপিং করেছে দু’হাত খুলে। এখানকার জুট কার্পেট ওদের খুব পছন্দের সওদা। অনেকগুলো রোল ডিসকাউন্টে কিনে দিয়েছে আউটসাইডার। চক্কোত্তিদা অত্যন্ত মজলিশি খুশদিল মানুষ। হাঁটতে হাঁটতে একসময় পদাতিক বাহিনীর রেকর্ডস অফিস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পেরিয়ে ও ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছে গেল। ব্রিগেড মেজর পাইপ কামড়ে ধরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে। চিন্তান্বিত মুখ। ও স্যালুট করে দাঁড়াল। হাতে কী? ওই ফ্লা. লে. চক্কোত্তি গিফ্ট করলেন, নেবেন? ওর অফার হেলায় ওয়েভ করে ঠেলে দিয়ে বিএম জানালেন, কমান্ডারের অফিসের ফোনগুলো ম্যান কর। তেমন বুঝলে আমাকে ডাকবে। কী যে হয়।

ও নিজের অফিসে ঢুকে টুপি খুলে রাখল। ব্রিফকেস খুলে নোটবই কলম বের করে নিয়ে কমান্ডারের অফিসে চলল। টানা বারান্দার শেষে একটু ওপরে উঠে এরিয়া কমান্ডারের অফিস। ঘরে ঢুকতেই ফোন বেজে উঠল। ও ধরল। পরিচয় জানাল। ওপাশ থেকে কেউ একজন কমান্ডারকে চাইলেন। প্রটোকল অনুযায়ী কলারের আইডি জানতে চাইল সে। কলার পরিচয় জানিয়ে টিভিতে খবর পড়ার মত বললেন, রাষ্ট্রপ্রধান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, আমরা বেতার ভবনের দখল নিয়ে সেখান থেকেই ফোন করছি। তোমার কমান্ডারের সঙ্গে জরুরি কথা রয়েছে। সে উদ্বিগ্ন মুখে কী বলবে ভাবতে ভাবতেই অফিসের সামনে একটি জীপ এসে দাঁড়াল। নেমে এলেন ব্রিগেড কমান্ডার খাস্তগীর, সঙ্গে এইহাব। সে ফোনের মাউথপিসে হাতের তালু চাপা দিয়ে রিপোর্ট করে, স্যর, মেজর তালিম উড লাইক টু স্পিক টু ইউ। গিভ ইট টু মি, কমান্ডার টেবিল ঘুরে চেয়ারে আসীন হয়ে ফোন ধরেন। আস্তে আস্তে শিরদাঁড়া টানটান হয় তার। কমান্ডারকে একা কথা বলতে দিয়ে ওরা বারান্দায় যায়। পাশেই প্যারেড গ্রাউন্ডে চক্কোত্তিদের এমআই-এইট হেলিকপ্টার ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওরা হাত নাড়ল। চক্কোত্তিদা-ও। পাখি উড়াল দিল। ওরা সিগ্রেট ধরাল।

কমান্ডারের বাড়িতে গিয়ে জানলাম, হি’জ শেইকিং অল ঔভা। নার্ভাসনেস। ভাবিকে বল্লাম, ফ্রিজে মিষ্টি থাকলে একটু খাইয়ে দিন, এইহাব বলতে থাকে। এক পিরিচ ফিরনি খেয়ে ডায়াবেটিক কমান্ডার ধাতস্থ হন। বাইরের ঘরে বসে বুট পরতে চেষ্টা করছিলেন। তার হাত কাঁপছিল। আমি ভাবিকে কেড্স আনতে বল্লাম। কমান্ডার পাতলা সোলের পিটি’র জুতো পরে নিলেন। চলুন, ভেতরে যাই। ওরা আবার অফিসে ঢোকে। কমান্ডার তার বিশাল চেয়ারের এককোণে– হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা, তারই মতো মুখ করে তাকালেন। তোমরা আমার কাছাকাছি থাকো, এখানে থাকলেই হবে। আমি লোকাল ইউনিটগুলোর পালস বুঝতে চাইছি। ক্যান ইউ হেল্প মি? শুওর, স্যর, এইহাব বলে ওঠে। আমরা দু’জনে একে একে সিও (কমান্ডিং অফিসার)-দের সঙ্গে একটু আলাপ করি। এখানে বসেই করছি। মিনিট দশেকের আলাপচারিতায় বোঝা গেল, সকলেই যার যার দপ্তরে উপস্থিত। জওয়ানদের ওপর নজর রাখছেন। বেচাল কিছু টের পেলে ব্যবস্থা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে বলা হল। কমান্ডার বললেন, এবারে এস, একটু চা খাই। নৌবাহিনী আর বিমানঘাঁটিতে কথা বল। এরিয়া কমান্ডের অথরিটি কোট করে কথা বলবে। সাবধান।

এগারোটার দিকে আরেকটি দুর্ঘটনার সংবাদ পৌঁছল। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট চক্রবর্তীদের চপার পাতিয়া দ্বীপের কাছে চরে ভেঙে পড়েছে। সিও ৪ ফিল্ড এমবুল্যান্সকে সরেজমিনে দেখেশুনে উদ্ধারযোগ্য কেউ বা কিছু থাকলে সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিপোর্ট করতে বলা হল। গোছগাছ কিছুটা হলে কমান্ডার বললেন, এবারে তোমরা নিজের অফিসে যাও। মেইল পড়, জবাব লেখ। লাঞ্চের পর আমার সঙ্গে বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী আর আটিয়ারির প্যারামিলিটারি বাহিনীর ঘাঁটি ভিজিটে যাবে। পার্সোনাল আর্মস নিও সঙ্গে। ওরা নিজেদের দপ্তরে ফিরল। আউটসাইডার আর এইহাব ঘরের মতো অফিসও শেয়ার করে। ইন্ডিয়া কিংস-এর কার্টন খুলে ওরা সিগ্রেট ধরিয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলি ছাদে পাঠায় আর চক্কোত্তিদা’র মজার মজার কথাগুলো মনে করার চেষ্টা করে। মনে পড়ছিল না কিছু, আজই সকালে দেখা তরতাজা সৌম্যদর্শন ভদ্রলোকটির একি হল! এইহাব গম্ভীরভাবে বলল, দেই হ্যাড পুট অনবোর্ড ঠ্যূ মেনি রোউলজ অব হাইলি ইনফ্ল্যাম্যবল জুট কার্পেট। দ্য চপারস দে সেন্ড হিয়ার অলসো হ্যাপেন টু বি র্যা মশ্যাকল–রানডাউন লাইক দ্য সুপারসিডেড পাইলট্স। এইহাব এই ফর্মেশনের ইনটেলিজেন্স স্টাফ অফিসার। ওর অনেক এপ্রিশিয়েইশ্যন আউটসাইডারের মাথার ওপর দিয়ে যায়।

ওদের অফিসের সামনে এসে একে একে ইউনিট সিও-দের জীপ দাঁড়াচ্ছিল। কেউ কেউ পর্দা সরিয়ে ওদের দু’জনকে হ্যালো বলে যাচ্ছিলেন। চেইন অব কমান্ড অটুট রাখার বিষয়ে ফর্মেশন কমান্ডারকে নিশ্চিন্ত করতে আর নিজ নিজ অবস্থান পোক্ত করার গরজে এই যাওয়া-আসা। হেডকোয়ার্টার্স কম্প্যানিতে রানার পাঠিয়ে এইহাব খানা টেইস্ট্ করবে জানিয়েছে। যাক, তাহলে আজ আর লাঞ্চ খেতে মেসে যেতে হবে না। ছাউনির বাইরের দেশটায় তখন সব ওলট্পালট হয়ে গিয়েছে। ওরা পরের দিন, মাসগুলোতে কিছু কিছু জেনেছিল, দেখেছিল। এসব বিষয়ে ব্রেইনস্টর্মিং কার্যতঃ নিষিদ্ধ ছিল। স্থানীয় ফর্মেশনের শীর্ষ দপ্তরের আধিকারিক হিসেবে বন্ধুদের তুলনায় ওদের বেশি জানার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু উর্দি জীবনের অন্যতম গাইডিং প্রিন্সিপল-এ বিশ্বাসী ওরা–এরকমটাই পরিচিত জনেরা ধরে নিত। কাজেই ক্লাবে অথবা তাসের আড্ডায় রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় যে টানাপোড়েন যাচ্ছে, সেটা ওদের আলাপ আলোচনায় আসতো না।

ডাল-রুটি খেয়ে ওরা যখন কমান্ডারের অফিসে যাচ্ছে, দেখল, সিও ফিল্ড এমবুল্যান্স হন্তদন্ত হয়ে আসছেন। কী খবর স্যর? এইহাবের কেজো প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক অফিসারটি দু’হাত উলটে হতাশ ভঙ্গিতে বললেন, আমি ‘৬৫ আর ’৭১-এ দু’টো যুদ্ধ দেখেছি। এরকম গ্রোটেস্ক দৃশ্য দেখিনি আগে। ফ্লাইং ম্যাশিনটা টুকরো টুকরো হয়ে অনেকটা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে আছে। গ্রামবাসীরা ছুটে এসে পানি ছিটিয়ে আগুন নিবিয়েছে। শুধু ছাই। বডি চেনা যায় না। চক্রবর্তীর দীর্ঘশরীর কুঁকড়ে কুণ্ডলী। কার্পেটের রোলগুলো আধপোড়া, ভেজা। মিলিটারি পুলিস কর্ডন করে পাহারায় রয়েছে। ঢাকা থেকে মিলিটারি ইনটেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের এক্সপার্ট আসছে। আমি বডি নিয়ে এলাম। চল, কমান্ডারকে জানাই সব।

এইহাবরা কমান্ডারের অফিসে না ঢুকে নিচে গাড়ির পাশে গিয়ে দাঁড়াল। কমান্ডার তার চেয়ারে বসে ওদের দেখতে পাচ্ছেন । সিও এমবুল্যান্স দাঁড়িয়ে দু’হাত নেড়ে তার রিপোর্ট পেশ করছেন। খাস্তগীর ক্লান্তি অপনোদনের জন্য দু’হাতে মুখ ঢেকে ম্যাসাজ করছেন কপাল, চোখ আর কপোলদেশ। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে লাল রিবন শোভিত পিক্ড ক্যাপ মাথায় পরলেন। ব্যাটন হাতে বেরিয়ে এসে স্টাফকারে উঠলেন। ওরা দু’জনে গিয়ে গাড়ির পাশে দাঁড়াল। কমান্ডার অঙ্গুলিনির্দেশে আউটসাইডারকে তার গাড়িতে পাশে বসতে বল্লেন। এইহাব ছ’জন সশস্ত্র গার্ড নিয়ে জিপে উঠে আগে আগে পথ দেখিয়ে চলল। প্রকাণ্ড চওড়া, লম্বা ও মাথায় খাটো কালো শেভ্রলে রাজহাঁসের মতো মসৃণ ভেসে ভেসে ছাউনি ছাড়িয়ে, দরগা পেরিয়ে শিল্প এলাকার বুক চেরা কালো পিচের সড়ক ধরে পশ্চিমে সমুদ্র বন্দরমুখী হল। হাউ ফার ডু ইউ সি, জিথ্রি? গ্রেড থ্রি স্টাফ অফিসার আউটসাইডার জানাল, আপ টু দ্য রোউড বেন্ড এহেড, স্য। দেশের কী হবে, ভাবছ কিছু ? আ’ম নট সাপৌজড টু স্যর, আ’ম এফ্রেইড। ডু ইউ নৌ, দেই এস্যাসিনেইটেড দ্য লিডার অব দ্য স্টেইট… হি ওয়জ আওয়ার হাউজ টিউটর ব্যাক ইন দ্য ফর্টিজ… হি ইউজড টু লাইক আস আ লট, আই রিমেমবার। ইন দ্য লাস্ট মিটিং অব দ্য ফর্মেশন কমান্ডার্স, হি আস্কড্ মি টু গৌ ফর আ পলিটিক্যাল সেট্লম্যান্ট অব দ্য হিল কনফ্লিক্ট্স। দ্য গুড সৌল ওয়ান্টেড এন এন্ড টু অল দ্য ব্লাডশেড; গিভ মি আ সিগ্রেট…

নেভি, এয়ার ফোর্স-এর ঘাঁটিতে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ল না। কমান্ডার দুই বেইস কমান্ডারের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মিটিং সারলেন। ১৫ মিনিট করে বড়জোর। অতঃপর মহাসড়ক ধরে উত্তরমুখো কয়েক কিলোমিটার যাত্রা। ডাইনে ক্যাডেট কলেজের বিস্তীর্ণ এলাকা। একটু পর গাড়ি বাঁয়ে জেলেপাড়া রেখে ডানদিকে ঘুরল। প্যারামিলিটারি বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তরে প্রবেশ করছে এইহাবের অগ্রবর্তী জীপ। কমান্ডারের একটু অস্বস্তি হচ্ছিল বোধহয়। তার চোখমুখ ক্লান্তি সত্ত্বেও একটু যেন উন্মুখ, সচকিত। ঘাঁটি প্রধানের অফিসের সামনে গাড়ি থামল। কর্নেল কমান্ড্যান্ট খাস্তগীরকে স্যালিউট করলেন, ওদের সঙ্গে হাত মেলালেন। দুই ক্যাপ্টেনকে কাছে ডেকে আস্তে আস্তে জানালেন, ওদের আর্মস নিয়ে নেয়া হয়েছে। কোনরকম এজিটেশ্যন হয়নি। তবুও তোমরা এরিয়া কমান্ডারের পক্ষে একবার ইন্সপেকশ্যন সেরে এস, কেমন? ওরা মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে অফিসের ভেতর বসা খাস্তগীরের কাছে গেল। উনি কিছু না শুনেই বললেন, ইউ টু ক্যারি আউট এন অফিসিয়াল ইন্সপেকশ্যন অব দ্য ট্রুপস।

আধ ঘন্টায় আটিয়ারির কাজ সেরে ওরা হেডকোয়ার্টার্সে ফিরল। সন্ধে ঘোর হচ্ছে। কমান্ডার বাসার দরজায় গাড়ি থেকে নামলেন। ওরাও নামল। পাশেই মেস। আজ আর তোমরা ক্লাবে যেও না। ইট হ্যাজ বিন আ লং এন্ড ডিপ্রেসিং ডেই ফ’ মি। তবুও বলছি, তোমরা দু’জন শাওয়ার নিয়ে চলে এস। একসঙ্গে ডিনার খাব। ওরা স্যালিউট করে উল্টোদিকের ফটকমুখী হল।

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: মীর ওয়ালীউজ্জামান
ইমেইল: m.waliuzzaman@gmail.com

ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com