রবীন্দ্রনাথের অমূল্য রচনা সম্বন্ধে আমাদের উপলব্ধি

খোসে পাজ্ রড্রিগেজ | ১৪ মে ২০১১ ১:০৮ অপরাহ্ন

আমি প্রথমবার রবীন্দ্রনাথের নাম শুনি গান্ধীর নামের সঙ্গে, করনা (পিন্যিয়র দে সেয়া-ঔরেন্সে) গ্রামের স্কুলে। এই গ্রামেই আমার জন্ম আর এই গ্রামের স্কুলেই আট বছর বয়সে আমার হাতে আসে দালমাও কার্লেস প্লা দে গিরোনার সম্পাদিত ‘‘তেরসের মানুসক্রিতো’’ বা তৃতীয় পাণ্ডুলিপি। কিন্তু তাঁর রচনা সম্বন্ধে সঠিক ধারণা হতে শুরু করে ১৯৬৬ থেকে, যখন আমি ঔরেন্সে হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছি। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী সারা বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়েছিল।

gandhi_and_tagore_1920.jpg
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী’র সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯২০

আর এই উপলক্ষে তাঁর বহু রচনার পুনর্মুদ্রণ হয়েছিল, কিছু রচনার অনুবাদও হয়েছিল। আমার প্রেমিকা, বর্তমানে আমার স্ত্রী আনা, বইয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা জেনেই আমার জন্ম দিনে, ১৯৬৬ সালের মার্চে, আমাকে রবীন্দ্রনাথের তিনটি বইয়ের অনুবাদ উপহার দেন–প্রথম দুটি উপন্যাস, ‘‘গোরা’’ ও ‘‘নৌকাডুবি’’, তৃতীয়টি ‘‘জীবনস্মৃতি’’র অনুবাদ। এই তিনটি বই আমার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়–বিশেষতঃ ‘‘নৌকাডুবি’’ উপন্যাসটি। এটি এখনও আমার কাছে আমার পড়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস এবং এটি আমি বাংলা থেকে পর্তুগীজে অনুবাদও—তেলো দ্য মাসকারেন্যিয়াসের করা–পড়েছি। এই অনুবাদটি আমার কাছে আরও বেশি আনন্দদায়ক কারণ গালিসীয় ও পর্তুগীজ একই ভাষা–কেবল এদের অ্যাকসেন্ট আলাদা। গালিসীয় আমার মাতৃভাষা—২০০৭ সালের মে মাসে ৯৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গত হয়েছেন আমার মা আর তিনি শুধু এই ভাষাতেই কথা বলতেন।

শান্তিনিকেতন- রবীন্দ্রনাথের শান্তির নীড়

jose-paz.jpg
খোসে পাজ্ রড্রিগেজ, শান্তিনিকেতন ২০১০

আমি চিরকালই শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত; তাই পরবর্তীকালে অতীব বিস্ময় আর আনন্দের সঙ্গে আবিষ্কার করলাম যে রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল প্রাপ্ত একজন অসাধারণ লেখকই নন, তিনি ১৯০১ সালের ডিসেম্বরে প্রাচ্যের প্রথম নব্য বিদ্যালয়ের স্থাপনকর্তাও বটে। তাঁর পিতৃদেব ১৮৬৩ সালে কলকাতা থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে একটি জমি কেনেন–রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন মাত্র দুই্, পরে এখানেই ১৯০১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে আসা, গৃহশিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষিত রবীন্দ্রনাথ তৈরী করলেন এমন এক বিদ্যালয় যেখানে শিশুদের তাঁর মত শোচনীয় শিক্ষাপ্রণালীর যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে না। সুন্দর ও তাৎপর্যপূর্ণ “শান্তিনিকেতন” নামে আজও এই বিদ্যালয়ের ক্লাস বসে মুক্ত হাওয়ায়, একশ বছরের পুরনো গাছের তলায়, পাখীয় গান শুনতে শুনতে আর রঙ বেরঙের ফুলের সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে। এই বিদ্যাস্থলটি এক পরম আশ্চর্য এবং ইউনেস্কো যদি একে মানবজাতির সম্পদ বলে ঘোষণা করে তবে তা যোগ্য সম্মান হবে। এখানে ২৫ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে আছে অসংখ্য শিশু শিক্ষালয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্র, হস্তকলাশিক্ষাকেন্দ্র ও বিশ্বভারতী নামে এক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় যাতে চৌদ্দটিরও বেশি শিক্ষাবিভাগ আছে। এই চৌদ্দটি বিভাগের মধ্যে চারুকলা, সংগীত, নৃত্য ও নাট্য বিভাগ সব থেকে প্রাচীন ও ঐতিহ্যমণ্ডিত।

near_amrokunjo.jpg
শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলা নববর্ষ, ১৯৪০ ইং

এই স্বর্গস্বরূপ শিক্ষাক্ষেত্রের সব থেকে সুন্দর হল এর পরিবেশ। এটা সম্ভব কারণ রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং এর সম্বন্ধে বলেছেন যে এই বিদ্যালয় একটি নীড়, কোনো পিঞ্জর নয়। এখানে রবীন্দ্রনাথের হৃদয়বৃত্তি, সত্য ও সুন্দর সম্পর্কিত সব নীতি কাজে পরিণত করা হয় আর ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়া হয় ঔদার্যের, সত্যকথনের, শান্তির, একে অপরকে ভালোবাসতে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে, অন্য ধর্মকে, অন্য সভ্যতাকে, অন্য জাতিকে, অন্য দর্শনকে (যা জীবন হরণের শিক্ষা দেয় না) শ্রদ্ধা করতে। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনা, শান্তিভাবনা ও দর্শনচিন্তা আলোকিত করতে পারে আমাদের আজকের এই বিশ্বকে–যেখানে মানবিকতা অনুপস্থিত। একথা আরও বেশি সত্যি পাশ্চাত্যের জগতের সম্পর্কে, যেখানে সত্তার থেকে ধনের মান বেশি।

১৯৬৬ আর্জেন্টিনার লোসাদা প্রকাশনার “মোরাদা দে পাজ” (“শান্তিনিকেতন”–এটি পিয়ার্সনের সহযোগিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন) পড়ে আমার প্রথম উপলব্ধি হয় যে, কবি একজন মহান শিক্ষাবিদ। সেই মুহূর্ত থেকেই স্থির করি আমার সমস্ত গবেষণাই হবে, রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে। আমার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিক্ষাবিদ রবীন্দ্রনাথের ওপর ১৯৭০-৭১ সালে মাদ্রিদের কম্পস্নুতেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেটা ছিল একটা ছোট গবেষণা পত্র, অধ্যাপক হুলিও রুইসা বারারিওর শিক্ষার ইতিহাস কোর্সের জন্য। ১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে আমার প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ঔরেন্সের ৫নং বিদ্যালয় মারিন্যিয়ামানসা অঞ্চলে) শিশুদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ‘‘ডাকঘর’’ অভিনয় করাই্; এর পোশাকগুলির নকশা আনা করেছিলেন আর তা রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি করেন আমার মা রোজা। এই অভিনয় অনুষ্ঠিত হয় জনসাধারণের জন্য ঔরেন্সের কোলেহিয়ো শালোসিয়ানোর পুরনো প্রেক্ষাগৃহে। আবার “ডাকঘর” অভিনয় করাই ১৯৭১ এর ডিসেম্বর মাসে আমার দ্বিতীয় স্কুল-ঔরেন্সের ভিরহেন দে কোভাডোঙ্গা কলেহিওতে। এতে অভিনয় করে ষষ্ঠ ইজিবি-এক্সপেরিমেন্টাল কোর্সের ছাত্রছাত্রীরা। ত্রিশ বছর পর ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। এতটাই অভিভূত হয়ে পড়ি যে নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করি এই সুন্দর জায়গায় প্রতি বছর আসার। আমার স্বপ্ন, যা রবীন্দ্রনাথেরও ছিল, শান্তিনিকেতনে এমন এক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থান করার যেখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শিক্ষক ও ছাত্রের আদানপ্রদান হবে; বিশেষ করে স্পেন থেকে, কারণ আমাদের দেশের প্রতি যুবসমাজের একটা তীব্র আকর্ষণ আছে, তারা কাস্তেইয়ানো (স্প্যানিশ ভাষা) শিখতে চায়, এছাড়া ইতালিয়, ফরাসি, জার্মান ও স্বভাবতঃই ইংরেজি ও বিভিন্ন প্রাচ্য ভাষা তো আছেই।

রবীন্দ্রনাথের ব্যর্থ স্পেন যাত্রা

rolland_with_tagore-switzerland-1926.jpg
রোমা রোলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভিলেনিউভ, সুইজারল্যান্ড ১৯২৬

এখানে উল্লেখনীয় এই যে, ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন সুইজারল্যান্ডে, এটাই স্থির ছিল যে তিনি ওখান থেকে স্পেন যাবেন। এই যাত্রার সব ব্যবস্থা করেছিলেন হুয়ান রামোন হিমেনেথ ও তার স্ত্রী ছেনোবিয়া কাম্প্রুবি (কাস্তেইয়ানো ভাষায় রবীন্দ্রনাথের অনুবাদিকা); স্থির হয়েছিল তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন ও কথা বলবেন দালি, বুনুয়েল, গারসিয়া লোরকা, মারান্যিয়োন, মারিয়া দে মায়েজতু এবং অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান হবে মাদ্রিদের মুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে। শেষ অবধি সব আয়োজন ব্যর্থ হয়। আজ অবধি এর সঠিক কারণ জানা যায় না। এই বিষয়ের ওপর রহস্যের এক পর্দা আছে এবং কোন কোন জীবনীকারের মতে এতে বৃটিশদের হাত ছিল, তারা এই স্পেনযাত্রাকে সুনজরে দেখেনি। তবে এর ফলস্বরূপ ছেনোবিয়া ও হিমেনেথ এতটাই হতাশ হয়ে পড়েন যে রবীন্দ্রনাথের আর কোনো অনুবাদ তাঁরা ছাপাননি, যার জন্য লন্ডনের ম্যাকমিলান প্রকাশনার সঙ্গে তাঁরা চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। আমার মনে হয়, নির্দ্বিধায় বলতে পারি, রবীন্দ্রনাথ যদি স্পেনে আসতেন তবে তাঁর ইংরেজিতে প্রকাশিত প্রতিটি রচনা আজ কাস্তেইয়ানো ভাষায় অনূদিত হয়ে থাকত। আর সেগুলিরও অসংখ্য পুনর্মুদ্রণ হত, যেমন হয়েছে ১৯১৫ সাল থেকে যে ক’টি স্পেনে প্রকাশিত হয়েছে, পরবর্তীকালে আর্জেন্টিনায় এবং আবার স্পেনে।

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে স্পেনে সর্বপ্রথম বলেন ঔরেন্সের বাসেন্ত রিস্কো যিনি ১৯১৩ সালে মাদ্রিদের আতেনেয়াতে ওঁর ওপর একটি বক্তৃতা দেন। আমার কাছে এর একটি প্রতিলিপি আছে। রিস্কো রবীন্দ্রনাথকে এতটাই শ্রদ্ধা করতেন যে তাঁর বন্ধুরা তাকে “তাগোরে” উপাধি দিয়েছিল। তাঁর উদ্যোগে ‘‘লা সেমত্তরিয়া ই নস্’’ ও ‘‘নসা তেরা ই লা রেহিয়োন’’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের রচনা ও তাঁর ওপর লেখা রচনা বেরোত। ত্রিশের দশকে রিস্কো বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা শুনতে যান। এই সুযোগে তিনি রবীন্দ্রনাথের একটি ক্যারিকেচারও আঁকেন। সেটি প্রকাশিত হয় ‘‘নস্’’ পত্রিকায় আর ‘‘মিটেলঅয়রোপা’’ বইয়ে। অন্যান্য গালিসীয় যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিকেইরা, পার্দো বাজান, ফেরনান্দেস দেল্ রিয়েগো, পুরা ভাজকেজ ও হুয়াকিনা গাইয়েগো।

আমার রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থাগার

১৯৬৬ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়া আর থামাইনি। তার সাথে সাথে এমন এক গ্রন্থাগার তৈরি করতে থাকি যা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সর্বোত্তম গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত হতে পারে। এতে তাঁর রচনা এবং তাঁকে নিয়ে রচিত যে কোন ভাষার বই আছে–এমনকি এসপেরানতো ভাষারও। আরও আছে তাঁর গুণগ্রাহী ও সহযোগীদের লেখা বই, ভারতীয় ও বাংলা সংস্কৃতির ওপর বই, ভিডিও ক্যাসেট, ডিভিডি, সিডি, ছবি, পোষ্টার, ফোটো ইত্যাদি। সময়ের সাথে সাথে রবীন্দ্রনাথকে আমি নূতন করে আবিষ্কার করছিলাম। যেমন তিনি ছিলেন এক মহান চিত্রকর এবং এক অসাধারণ সুরস্রষ্টা। তিনি সবরকম বিষয় নিয়ে ২৫০০-এরও বেশি গানের সুর ও বাণী সৃষ্টি করেছিলেন। আমার গ্রন্থাগারে ৫০০’রও বেশি সিডি আর কিছু পুরোনো রেকর্ড আছে যাতে বাংলার সব গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীর গাওয়া তাঁর গান আছে। প্রবাদপ্রতিম চিত্রনির্দেশক সত্যজিৎ রায় যিনি রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেছিলেন এবং যাঁর বেশ কিছু ফিল্ম আছে রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস ও ছোট গল্পের ওপর ভিত্তি করে, তাঁর প্রায় সব ক’টি ফিল্মই আমার গ্রন্থাগারে আছে। ১৯৬১ সালে ভারত সরকারের আনুকূল্যে তিনি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এক ঘন্টার জীবনীচিত্রটি বানান–তারও একটি কপি আমার কাছে আছে।

jose-paz-1969.jpg
স্পেনের ঔরেন্সে ‘ডাকঘর’ নাটকের স্টেজে কলাকুশলীদের সাথে খোসে পাজ্ রড্রিগেজ, ০৬ জুলাই ১৯৬৯

যখন আমার রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থাগারের ক্যাটালগ তৈরি হবে, বিশ্বের রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞরা আশ্চর্য হবেন–এখানে রক্ষিত প্রকাশনা ও ভাষার ব্যাপ্তি ও বৈচিত্র দেখে। কোনো জাতীয় গ্রন্থাগারে এত বৈচিত্র্য নেই। সেখানে ইংরেজি, বাংলা ও হিন্দির মত ভাষায় বেশি সংখ্যক বই থাকতে পারে, কিন্তু এত ভাষার বই থাকতে পারে না। আমার গ্রন্থাগারের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ হল ইংরেজি, কাস্তেইয়ানো, ইতালিয়, ফরাসি, জার্মান, পর্তুগিজ (ব্রাজিল), কাতালান, তুর্কী, বাংলা, ওলন্দাজ ও সুইডিশ ভাষায় প্রকাশিত রবীন্দ্ররচনার প্রথম সংস্করণ। এর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য হল গীতাঞ্জলির ১৯১২ সালের ইংরেজি সংস্করণ, লন্ডনের দ্য ইন্ডিয়া সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত ও লিবরো দেল ওরোর একটি কপি–এটির কেবলমাত্র ৫০০ কপি প্রকাশিত হয়। শান্তিনিকেতন ও অন্য দেশের প্রকাশিত বাংলা ও বিভিন্ন ভাষার পত্রিকা ও মনোগ্রাফ আমার গ্রন্থাগারে আছে। আমি এখন বাংলা মোটামুটি পড়তে ও লিখতে পারি, এর বেশ কিছু শব্দও এখন আমি জানি। এই ভাষার সম্পর্কে গোমেজ দে লা সেরনা বলেছিলেন, “এতই সুন্দর যে এতে রং বেরঙের পাখিরা গান গায়।” মৃত্যুর আগে রবীন্দ্রনাথকে তাঁর নিজের ভাষায় পড়তে চাই। সৌন্দর্যের জন্য এশিয়ার ইতালিয় ভাষা বলা হয়ে থাকে সংস্কৃতের এই কন্যাকে।

বর্তমানে আমি রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাসংক্রান্ত সব রচনার একটি বই প্রস্তুত করছি কারণ একজন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুবাদে তার শিক্ষাবিষয়ক চিন্তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া আমার কর্তব্য বলে মনে করি, বিশেষতঃ কাস্তেইয়ানো ও গালিসিয়—পর্তুগীজ ভাষায়। আমার ইচ্ছা সব রচনাই একত্র করার, কিন্তু কাজটি সুনিশ্চিতভাবে কঠিন; কারণ এগুলি বেশির ভাগই বাংলায় এবং চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। এ বইটি প্রকাশ করবে কাইরস্ প্রকাশনা যার পরিচালনভার আমার ভারতীয় বংশোদ্ভূত বন্ধু আগুস্তিন পানিকরের। যখন বইটি প্রকাশিত হবে শিক্ষা ও শিক্ষাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা রবীন্দ্রনাথের শিক্ষানীতির সৌন্দর্য, শান্তি ও কাব্যগুণ দেখে চমকিত হয়ে যাবেন।

ভিগো বিশ্ববিদ্যালয়, স্পেন
ঔরেন্স (গালিজা), নভেম্বর ২০১০

ইমেইল: pepe.paz.rodriguez@gmail.com
লেখকের আর্টস প্রোফাইল: খোসে পাজ্ রড্রিগেজ

ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৈকত আরেফিন — মে ১৫, ২০১১ @ ১১:৩৩ অপরাহ্ন

      খোসে পাজ্ রড্রিগেজ রচিত এই নিবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বিদেশির আগ্রহের জায়গাটি আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। খোসে পাজ্ রড্রিগেজ সম্পর্কেও জানা হল; তিনি পড়াশুনা করেছেন মাদ্রিদের উনিবের্সিদাদ কম্প্লুতেন্স-এ। তাঁর ডক্টরাল থিসিসের বিষয় ছিলো “Tagore, Pioneer of the New Education”। বহু ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ও রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক বই নিয়ে বড় একটি লাইব্রেরি গড়েছেন স্পেনের ঔরেন্সে।
      খোসে পাজ্ রড্রিগেজকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন; অভিনন্দন বিডিনিউজ২৪ডটকমকেও।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rahul Ray — মে ২৫, ২০১১ @ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

      লেখাটি পড়ে আশ্চর্য হলাম, সুদূর স্পেনে আমাদের প্রাণের মানুষ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এতটা চর্চা হয়! আজ এই দেড়শ বার্ষিকীতে এর বেশি সন্মান ও ভালবাসা আর কি হতে পারে!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ajaha sultan — মে ৩১, ২০১১ @ ১১:৫৯ অপরাহ্ন

      সত্যি এটা বড় আনন্দের বিষয়। আমাদের রবীন্দ্রনাথ আজ সারা বিশ্বের ‌‌‌‍`রবীন্দ্রনাথ’ এর চেয়ে বড় আশ্চর্য আর কি!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com