রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের সূচনা

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৪ এপ্রিল ২০১১ ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

শীতের শেষ রাত্রি বসন্তের প্রথম দিন আলাউদ্দিন আল আজাদের একটি উপন্যাসের নাম। নামের জন্যেই বইটির প্রতি আকৃষ্ট হই। এতে শেষ এবং শুরুর সন্ধিক্ষণের বিষয় মনের ভেতর নাড়া দেয়। যেমন এখন চৈত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর এগিয়ে আসছে বৈশাখ। সর্বত্রই প্রস্তুতি চলছে নববর্ষের।

panta-elish.jpg
পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ ভোজন

——————————————————
১৯৮৩ সাল। চৈত্রের শেষ। চারিদিকে বৈশাখের আয়োজন চলছে। আমরা আড্ডা দিতে পান্ত-ইলিশের কথা তুলি। বোরহান ভাই রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশ চালুর প্রস্তাব দিলেন, আমি সমর্থন দিলাম। ফারুক মাহমুদ পুরো আয়োজনের ব্যবস্থা করলেন। সম্ভবত ৫ টাকা করে চাঁদা ধরলেন। বাজার করা আর রান্না বান্নার দায়িত্ব দিলেন বিপ্লব পত্রিকার পিয়নকে। রাতে ভাত রেঁধে পান্তা তৈরি করে, কাঁচামরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, ইলিশ ভাঁজা নিয়ে পর দিন ‘এসো হে বৈশাখে’র আগেই ভোরে আমরা হাজির হলাম বটমূলের রমনা রেষ্টুরেন্টের সামনে। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হলো পান্তা-ইলিশ। এভাবে যাত্রা শুরু হলো পান্তা ইলিশের।
——————————————————

কানাডায় এখন শীত শেষ, শুরু হচ্ছে সামার। বরফে ঢেকে থাকা গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠছে পার্ক-প্রান্তর-প্রকৃতি। যেন দ্রুত সাদা ড্রেস বদলিয়ে পরে নিচ্ছে সবুজ ইউনিফর্ম। এতোদিনের নিরব থাকা, মনমরা ধুসর গাছগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে, নতুন পাতার আনন্দে মেতে উঠছে বাতাসের সঙ্গে।

এমনি এক বসন্ত ছোঁয়া বিকেলে হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে স্টারবাকসের কফি শেষ করে আমি আর কবি সিদ্ধার্থ হক মিসিসাগার পোর্ট এডিট লেকের পাড়ে গেলাম। অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখতে পেলাম নাম না জানা একটি মিষ্টি পাখি। আকারে দোয়েলের মতো। কিন্তু কুচকুচে কালো। ডানার দু’পাশে গাঢ় কমলা আর উজ্জ্বল হলুদের গুচ্ছ পালক। ফুটে আছে ফুলের মতো–যেন কোনো শিল্পী নিজ হাতে রং তুলি দিয়ে কাঁচা রঙ মেখে দিয়েছে, হয়ে উঠেছে চোখধাঁধানো অপূর্ব পেইন্টিং। সিদ্ধার্থ হক কৌতূহলী কিশোরের মতো অথবা আমি পাখিবিশেষজ্ঞ সলিম আলি হয়ে ওঠার আগেই ফুড়ৎ করে উড়াল দিয়ে হারিয়ে গেলো। এই পাখিটা যেন প্রবাসজীবনে দুই বাঙালি কবির কাছে বসন্তের বার্তা পৌঁছে দিয়ে গেলো।

আমরাও যেন ফিরে গেলাম গ্রামবাংলায়। মনে পড়লো আমাদের কৈশোরের কথা। বাংলার প্রকৃতি কীভাবে জানিয়ে দিতো ঋতু আগমনের কথা। চৈত্র হলেই খা খা দুপুরে ফুটে থাকতো আগুন রঙের পলাশ-শিমুল; আর চাতক পাখির চিৎকার আর ঘুঘু পাখির ডাক। শুকিয়ে যাওয়া নদীতে ভেসে থাকা ডিঙি। তারপর বৈশাখে আম্রমুকুলের ঘ্রাণ, কোকিলের কুহু কুঞ্জন, কচি পাতার নাচন, কাল বৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টির খেলা! আমরা দু’বন্ধুই নিজেদের অজান্তে নষ্টালজিয়ায় হারিয়ে গেলাম।

মনে পড়লো চৈত্রসংক্রান্তির কথা। হারিয়ে যাওয়া দিনটিকে নতুন সাজে সাজিয়ে নগরজীবনে যুক্ত করে রাজধানীতে উপস্থাপন করছিলেন এক আবৃত্তিকার দম্পতি। চৈত্রের শেষ দিন আর বৈশাখের প্রথম দিনের সন্ধিক্ষণে ইন্দিরা বোড়ে আরিফ-প্রজ্ঞার বাড়িতে সন্ধ্যা-সকাল বসতো চৈত্রসংক্রান্তির জমজমাট আড্ডাসর। যা মুখরিত হয়ে উঠতো প্রায় সকল সাংস্কৃতিক কর্মীর আনন্দঘন পদচারণায়।

আজ কাজী আরিফ চুপচাপ! প্রজ্ঞা লাবনী নিরব!! চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবও শেষ!!!

হ্যাঁ, মনে পড়লো, রমনার বটমূলে ফেলে আসা আমাদের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। যা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সর্বজনীন উৎসব! যা ছায়ানট শিল্পীগোষ্ঠী সেই ষাট দশক থেকে অদ্যাবধি নানান প্রতিকূলতার মধ্যে জাতীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাঙালি জাতিকে দিয়েছে এক অফুরন্ত সাংস্কৃতিক আনন্দ-উৎসব। ষাট দশকে প্রতিপক্ষরা নতুনভাবে আবির্ভূত হয়ে ভিন্নভাবে বোমা হামলা চালিয়ে মানুষ মেরে নসাৎ করতে চেয়েছে উৎসবকে। কিন্তু পারে নি। পারবেও না কোনোদিন! বরং বৃদ্ধি পাবে, মাত্রা পাবে, যুক্ত হবে নতুন কিছু। যেমন যুক্ত হয়েছে চারুকলার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কিংবা পান্তা-ইলিশের সংযোজন!

কিন্তু এখন আর সেই সব নেই! পাল্টে গেছে প্রকৃতি, পরিবেশ, সময় ও সংস্কৃতি। ‘আমাদের গ্রাম’ নামে একটি কবিতা লিখছি, তার শেষ পঙ্‌ক্তি দুটি থেকে আমার এই বক্তব্যের অর্থ পাঠক খুঁজে পাবেন। ‘আমাদের গ্রামে বসন্ত শেষে বৈশাখ আসে না/ আমরা বৈশাখীকে বিবাহ দিয়েছি–রমনা পার্কের কাছে।’

রমনা বটমূলের সাথে পান্তা-ইলিশের সমন্বয় হয় ১৯৮৩ সাল থেকে। এর সূচনার ইতিহাস প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক বোরহান আহমেদ গত বছর সেপ্টেম্বরে মারা গেলে মনে পড়লো সেই ঘটনা। তখন ‘রমনা বটমূলের পান্তা ইলিশের উদ্যোক্তা বোরহান ভাইকে কেউ কি মনে রাখবে’, শীর্ষক একটি লেখা লিখলাম ৩০ সেপ্টেম্বর ’০৯-এ দৈনিক আমাদের সময়ে। দু’দিন পর অর্থাৎ অক্টোবর ’০৯-এ সেই লেখার চমৎকার প্রতিবাদ করলেন সাংবাদিক শহিদুল হক খান। লিখলেন: ‘রমনা বটমূলের পান্তা ইলিশের ইতিহাস প্রকাশে দুলালের বিভ্রান্তি’। মানে তিনিই আসল উদ্যোক্তা হিসেবে দাবি করলেন। আমি আবার ০৯ অক্টোবরে লিখলাম: ‘আমি পান্তা ইলিশের ইতিহাস রচয়িতা নই, বোরহান ভাইয়ের শ্রদ্ধান্তে সঠিক তথ্যদাতা’। অন্যভাবে বললে বলতে হয় মি. খান ‘অন বিহাব অফ বোরহান ভাই’। ৫ সেগুন বাগিচা বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ছিলো দৈনিক দেশ এবং সাপ্তাহিক বিপ্লবের কার্যালয়। বিপ্লবের কবি সিকদার আমিনুল হক, সহকারী সম্পাদক ফারুক মাহমুদ, দেশের সাহিত্য সম্পাদক হেলাল হাফিজ, সাংবাদিক মাহবুব হাসান, শহিদুল হক খান, মুন্সী আবদুল মান্নান, রোজী ফেরদৌস প্রমূখ সম্পৃক্ত ছিলেন এ পত্রিকা দু’টির সাথে। সে কারণেই সেখানে বসতো লেখক আড্ডা। আমি ছিলাম একজন নিয়মিত আড্ডারু।

১৯৮৩ সাল। চৈত্রের শেষ। চারিদিকে বৈশাখের আয়োজন চলছে। আমরা আড্ডা দিতে পান্তা-ইলিশের কথা তুলি। বোরহান ভাই রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশ চালুর প্রস্তাব দিলেন, আমি সমর্থন দিলাম। ফারুক মাহমুদ পুরো আয়োজনের ব্যবস্থা করলেন। সম্ভবত ৫ টাকা করে চাঁদা ধরলেন। বাজার করা আর রান্না-বান্নার দায়িত্ব দিলেন বিপ্লব পত্রিকার পিয়নকে। রাতে ভাত রেঁধে পান্তা তৈরি করে, কাঁচামরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, ইলিশ ভাঁজা নিয়ে পর দিন ‘এসো হে বৈশাখে’র আগেই ভোরে আমরা হাজির হলাম বটমূলের রমনা রেস্টুরেন্টের সামনে। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হলো পান্তা-ইলিশ। এভাবে যাত্রা শুরু হলো পান্তা ইলিশের।

অপর দিকে (সম্ভবতঃ একই বছর বা পরের বছর) শহিদুল হক খানও এই প্রক্রিয়ার সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ‘তিনি দাবি করেছেন, নিজ হাতে পান্তার পোস্টার লিখেছেন, তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ভাত রেঁধেছেন, ইলিশ মাছ ভেঁজেছেন, কাঁচামরিচ পেঁয়াজ কেটেছেন, মাটির সানকি সংগ্রহ করেছেন’ (আমাদের সময়, ০৯ অক্টোবর ২০০৯)। এবং তাঁরা এ নিয়ে বিটিভিতে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন! তবে রমনা বটমূলের পান্তা-ইলিশের উদ্যোক্তার কৃতিত্ব এককভাবে কেউ নন। যাদের নাম উল্লেখ্য করলাম, তারা সকলেই নানাভাবে কমবেশি যুক্ত ছিলেন।

নববর্ষ উপলক্ষে তাঁদের সবাইকে বৈশাখী শুভেচ্ছা। প্রতিটি বাঙালিকে পান্তা-ইলিশের আমন্ত্রণ!

saifullahdulal@gmail.com
আর্টস প্রোফাইল: সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (10) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর — এপ্রিল ১৫, ২০১১ @ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

      আমরা আসলে পান্তা-ইলিশের বিষয়টা অনেকটা ধর্মগ্রন্থের মতোই নিজেদের বুদ্ধিজীবিত্বে জারি করতে চাই যেন। কারণ ধর্মগ্রন্থের বাণী যেমন চিরকালীন একটা ব্যাপার হয়ে গেছে, পান্তা-ইলিশও অনেকটা তাই হয়ে যাচ্ছে।
      আচ্ছা, পান্তা-মরিচ ইত্যাদি কারা খায়? কখন থেকে খায়? এর সাথে আবার এখন দেখি সমানে ইলিশ যোগ হচ্ছে। এসব আবার রঙ-চঙা সানকিতে খাওয়া হয়। এভাবে নাকি বাঙালি হওয়া যায়। আচ্ছা, বাঙালি হওয়া আর বাঙালি হয়ে বাঁচাটা এত ফরজ কেন হয়ে গেল? ভাষা, রাষ্ট্র, সমাজ ইত্যাদির ভিতর থাকার জন্য বাঙালিত্ব অপরিহার্য কেন–আমার ধারণাই আসে না। আর এই যে পান্তার সাথে ইলিশ যোগ হচ্ছে, এর মাজেজাই বা কি? যারা পান্তা খায়, বা খেতে বাধ্য হয়, তারা ইলিশ কোথায় পাবে? আর পান্তার সাথে এমন রোমান্টিক ইলিশের আমদানির মানে কি?
      আমার মনে হয় পান্তার সাথে ইলিশের যুক্ততায় শহুরে বাঙালি বাবুদের মাঝে নানা ধরনের শারীরিক প্রেরণা তৈরি করে।
      যাই হোক, এইভাবে ইলিশ-টিলিশ খাওয়া আমার কাছে বাংলা বছরের সেরা নাটক মনে হয়!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Md. Ali Azam — এপ্রিল ১৭, ২০১১ @ ৪:৫৬ অপরাহ্ন

      ভাজা-পোড়া যত না পছন্দের ততই অরুচি পহেলা বৈশাখের পান্তা-ইলিশ সৌখিনতায়। লেখাটি ভাল লাগল তথ্য বিভ্রাট ঘোচানোর বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। তবে টি-টা-খানা-খানি যুক্ত বাঙ্গালিকে দেখে বাসি ভাতের কপালকেও হিংসা হচ্ছে বৈকি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এহসানুল কবির — এপ্রিল ১৮, ২০১১ @ ৩:১৬ পূর্বাহ্ন

      জীবনে প্রথমবারের মতো এবারের পহেলা বৈশাখে গিয়েছিলাম ঐ বটমূলে। জাতীয় পুঁজিপোষ্য র‍্যাব-পুলিশ-সংস্কৃতিকর্মী-বাহিনী কর্তৃক পরিবেষ্টিত এবং বিজাতীয় পুঁজিদুষ্ট বিজ্ঞাপন কর্তৃক আচ্ছাদিত হয়ে বসেও ছিলাম রমণীয় বটতলায়। সুউচ্চ চৌকি-টঙ থেকে ত্রিমাত্রিক পরিসরের মনুষ্যসম্ভব সকল কোণে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ র‍্যাবগণের কেউ ঘোরাচ্ছিলেন মারণাস্ত্র, কেউ বা দূরবীন। সরকারি দূরদর্শনের সুদূরপ্রসারী ক্যামেরাবাহু শিরোপরে করছিল শিবনৃত্য। নাতিদীর্ঘ বিরতিতে দিগন্তবিস্তারী মঞ্চ থেকে শিলামুখো ও শোককণ্ঠী শিল্পীসকল একে একে পরিবেশন করলেন কষ্টোচ্চারিত অনেকগুলো রবীন্দ্রগান। এ কি বৈশাখের আবাহনগীত, নাকি চৈত্রসংক্রান্ত্রির বিরহসঙ্গীত; নববর্ষের আরম্ভসুখ, নাকি গতবর্ষের বিচ্ছেদশোক—বোধগম্যতার সীমায় কিছুতেই ধরা দিচ্ছিল না বলে চারপাশের স্ত্রীজাতীয়াদের আভরণ দেখে নিশ্চিত হতে চেয়েছি ঠিক জায়গায় এসেছি কিনা। কেউকেটা কারো জানাজার নামাজে এসে পড়ি নি তো, বিপথে দৈবের বশে! যতদূর মনে পড়ে, আমি একটা উৎসবে যাওয়ার উদ্দেশে বেরিয়েছিলাম, বিনা অজুতে, ভোরবেলায়।

      সে যাই হোক,নস্টালজিয়ার স্যুগারকোটিঙের ভিতরে পান্তা-ইলিশের বটমূলীয় ইতিহাসটা সত্যি স্বাদু হয়েছে। “বরফে ঢেকে থাকা গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠছে পার্ক-প্রান্তর-প্রকৃতি” এই বাক্যটার সাফল্য ও সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ। আপনাকে অভিনন্দন, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল।

      পুনশ্চ: আলাউদ্দিন আল আজাদের উপন্যাসটার নাম ‘শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন’; ‘শীতের শেষ রাত্রি বসন্তের প্রথম দিন’ নয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন md fakrul islam — এপ্রিল ১৮, ২০১১ @ ১:২৬ অপরাহ্ন

      খুব ভালো লাগল স্মৃতিচারণ মূলক লিখাটি। নিজে অনেক কিছু জানলাম। প্রবাসী দুলাল ভাইয়ের জন্য রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Zakir hossaen — এপ্রিল ১৮, ২০১১ @ ১১:০৮ অপরাহ্ন

      লেখাটি পড়ে রমনা-বটমূলের পান্তা-ইলিশের সূচনার ইতিহাস জানলাম। ধন্যবাদ সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল । আমি আপনার কবিতার ভক্ত। এই লেখা পড়ে আপনার চমৎকার গদ্য সম্পর্কে ধারনা পেলাম। জানলাম আনেক কিছুই।
      প্রবাসে থেকেও স্বদেশের প্রতি যে গভীর মমত্ববোধ, তাতে আমি মুগ্ধ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এহসানুল কবির — এপ্রিল ১৯, ২০১১ @ ১:৩৫ পূর্বাহ্ন

      আমার লেখা আগের প্রতিক্রিয়ায় “যতদূর মনে পড়ে, আমি একটা উৎসবে যাওয়ার উদ্দেশে বেরিয়েছিলাম, বিনা অজুতে, ভোরবেলায়।” বাক্যে “আমি একটা উৎসবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম” অথবা “আমি একটা উৎসবের উদ্দেশে বেরিয়েছিলাম” হবে; “আমি একটা উৎসবে যাওয়ার উদ্দেশে বেরিয়েছিলাম” হবে না। অমনোযোগজনিত এ-ভুলের জন্য দুঃখিত।

      কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর ভাইকে ধন্যবাদ বাঙালিত্বের জরুরত আর পহেলা বৈশাখের পান্তা ভাতে ইলিশের আমদানি বিষয়ে জরুরি প্রশ্নগুলো এখানে তোলার জন্য।

      সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল তাঁর আমন্ত্রণটিকে কেবল বাঙালিদের জন্য সীমাবদ্ধ রেখেছেন দেখে মনটা কেমন করে উঠলো।

      বাঙালির জাতীয়তাবাদী জোশ বেশিদিন জিয়ল না হোক!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nurul Anwar — এপ্রিল ১৯, ২০১১ @ ১২:৩৯ অপরাহ্ন

      বৈশাখী বেগমের হাত ধরে বাঙালি বাবুরা পান্তা-ইলিশ খায়, মন্দ লাগে না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Zakir hossaen — এপ্রিল ২০, ২০১১ @ ২:১৬ পূর্বাহ্ন

      লেখাটি তথ্যবহুল। জানতাম না যে কিভাবে রমনায় ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসের সূচনা হলো!
      আর আমি কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর-এর মতামতের সাথে একমত নই। তিনি কি বাংলা সংস্কৃতি বিরোধী? তাঁর বক্তব্যে মৌলবাদীর গন্ধ পাওয়া যায়!!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজীব নূর — এপ্রিল ১৭, ২০১২ @ ২:৫৩ পূর্বাহ্ন

      বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার কোনো ঐতিহ্য ছিল না। এটা যে আবহমান বাংলার উৎসবের সঙ্গে একটা নাগরিক সংযোজন তা জানিয়ে উপকৃত করলেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। এখন কৃতিত্ব দুলাল ভাই ও তাঁর বন্ধুরাই পাক বা শহিদুল হক খানের পরিবার পাক, আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন begum — এপ্রিল ১৪, ২০১৩ @ ১২:২৩ অপরাহ্ন

      yes i missed lot pohela boyeshk. Thanks to a lot ,i do enjoy to read.

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com