নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা ও তাঁর ‘ম্যারি মাই এগ’

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ২৪ জানুয়ারি ২০১১ ১:৪৭ পূর্বাহ্ন


নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা’র ম্যারি মাই এগ

বেঙ্গল আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছিল নাজিয়া আন্দালিব প্রিমার একটি ভিডিও আর্ট। নাম ম্যারি মাই এগ (Mary My Egg)। সেখানে আরও অনেক শিল্পীর সাথে প্রদর্শিত হচ্ছিল তাঁর আঁকা কিছু ছবি ও এই ভিডিওটি। ‘ম্যারি মাই এগ’, নামটার মাঝে একটু নতুনত্বের গন্ধ পেলাম এবং শিল্পের এই মাধ্যমটিকেও একটু নতুন বলেই মনে হল। পাঁচ মিনিট তেতাল্লিশ সেকেন্ডের এই ভিডিও আর্টটিতে প্রথমে দেখা যায় একটি মেয়ে বিয়ের সাজে সজ্জিত। তাঁর গলা ও কানে ভারি গহনা, পরনে লাল শাড়ি এবং মুখে বিয়ের প্রসাধন। তাঁর সামনে একটি প্লেট ও তাতে রয়েছে অনেকগুলো পোচ করা ডিম এবং আশে পাশে ছড়ানো বেশ কিছু ডিমের খোসা। মেয়েটি কাঁটা চামচ আর ছুরি দিয়ে ডিম কাটছে এবং খাচ্ছে। বারবার সে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেই চলেছে।

—————————————————————–
আমি বলতে চেয়েছি—আমাদের ট্র্যাডিশনাল যে বিয়েগুলো হয় তাতে কেবল থাকে ডিম উৎপাদন আর ডিমটা খাওয়া। মানে খাওয়াটা এখানে সরাসরি না, আমি বলতে চাইছি আমাদের ভাবটা এমন, আমি নিজে যেটা ফিল করেছি সেটা হচ্ছে যে, আমি আমার ডিম এমনভাবে উৎপাদন করছি যেন আমি নিজেই শুধু তা খাচ্ছি, মানে নিজেই জানি না আমি এটা করছি কেন? আমাকে এটা করতে হবেই কেন? সে সম্পর্কে আমার কোন চিন্তাভাবনা নেই অথচ আমি কিন্তু কাজটা করছি এবং করেই যাচ্ছি। ওই করাটা একটা কনটিনিউয়াস প্রসেস-এ চলছে তো চলছেই।
—————————————————————-

তার চোখে-মুখে একটা নিস্পৃহ ভাব আবার একই সাথে অভিব্যক্তিতে রয়েছে কিছুটা যৌনতার ছাপ। পরের দৃশ্যে দেখা যায় সেই একই মেয়ে। কিন্তু এবার সে একটি কালো কাপড়ে আবৃত, শুধু মুখটা দেখা যাচ্ছে। তার সামনে রয়েছে সেই একই প্লেট এবং তাতে রয়েছে ডিম। সে ছুরি ও কাঁটা চামচ দিয়ে একইভাবে ডিম খাচ্ছে কিন্তু এবার সেটার রঙটা একটু অন্যরকম। ডিমের মধ্যে থেকে একটা লাল রঙ ফুটে উঠেছে। তার চোখে-মুখে সেই একই যৌন অভিব্যক্তি; মনে হচ্ছে, ডিমটা সে ঠিক খাচ্ছে না, যেন ডিমের সাথেই মিলিত হচ্ছে!

prof_preema.jpg…….
নাজিয়া আন্দালীব প্রিমা (জন্ম. ১৯৭৪)
…….

কথা বললাম ভিডিও আর্টটির কারিগর নাজিয়া আন্দালিব প্রিমার সাথে। তাঁর কাছে জানতে চাইলাম তার এই আর্টওয়ার্ক সম্পর্কে। তিনি বললেন, “এখন কনটেম্পোরারি আর্ট ওয়ার্ল্ডে যেটা হচ্ছে অর্থাৎ যে প্র্যাকটিসটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে আর্ট এখন শুধু একটা জায়গায় সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশে এখন যেটা নতুন শুরু হয়েছে কিন্তু বাইরের দেশে যেটা বহু আগে থেকে প্রচলিত সেটা হচ্ছে যে, আর্টের যে ফর্ম সেটা শুধু ছবি আঁকা বা পেইন্টিংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। এটা চলে গেছে; ভিডিও আর্ট, ডিজিটাল আর্ট ও ইন্সটলেশনে, কনসেপ্চুয়াল আর্টের মধ্যে এগুলো পড়ছে।

কারণ, শিল্পীরা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, নতুন কনসেপ্ট গুলোকে তারা ডেভেলপ করছে। আর্ট এখন শুধু পেইন্ট না তার সাথে আরও অনেক ইনগ্রেডিয়েন্টস্, এলিমেন্ট এগুলো যোগ করে একে একটা ভিন্ন মাত্রা দেয়া হয়েছে যাকে কিনা আমরা কনসেপ্টচুয়াল আর্ট বলে অভিহিত করি। তো এরই এক ধারাবাহিকতায় আমি এই ভিডিও আর্ট নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করি। যেমন, আমি ১৪ বছর ধরে ছবি আঁকছি প্রফেশনালি। তো একটা পর্যায়ে আমার কাছে মনে হল, যে ব্যাপারটা আমি বলতে চাই বা যে বিষয়টা আমি তুলে ধরতে চাই পেইন্টিংসের মাধ্যমে সেটা যথেষ্ট হচ্ছে না। তখন আমার কাছে অন্য একটা মিডিয়া খুঁজে নেয়া বেশ জরুরী বলে মনে হল। দেখা গেল যে, আমাকে অন্যান্য মিডিয়ার সাহায্য নিতে হচ্ছে। কারণ আমি আমার কাজটা যাদের জন্য করছি তাদের সাথে আমার কমিউনিকেশনটা তো ঘটাতে হবে, তাদেরকে আমার কাজের সাথে তো কানেক্ট করাতে হবে। আর সত্যি বলতে কি, আমি নিজেই খেয়াল করছি যে, আমার কাজ আস্তে আস্তে একটা সোশ্যাল মুভমেন্টের দিকে চলে যাচ্ছে। তো এটা একটা ধারাবাহিক ব্যাপার ছিল আমার জন্য। প্রথমে ছিল শুধুই অনুশীলন, তারপর ছিল সেটাতে দক্ষতা অর্জন—একটা মিডিয়ায়। তারপর হল শুধু নিজের ভাব প্রকাশ। তো যখন নিজের রিয়েল ভাবগুলো প্রকাশ করতে চাইলাম তখন কখনো যেমন শব্দের প্রয়োজন হয়, কখনো রঙের প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি কখনো আরও বেশি কিছু, আরও ভাস্ট কোন মাধ্যম—মানে বড় একটা থ্রি ডাইমেনশনাল প্ল্যাটফর্ম দরকার হয়। থ্রি ডাইমেনশনাল মাধ্যম বা যাকে বলে সিনেমাটোগ্রাফির মত একটা জিনিস, যেটার সাহায্যে মানুষকে অনেক সহজে কিছু জানানো সম্ভব।”

এই ভিডিও আর্টটির মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,  ম্যারি মাই এগযে ইন্সটলেশনটা আমার প্রদর্শিত হচ্ছে সম্প্রতি, সেটা আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। শুধু এটা না, আমার সব কাজই আমার পারসোনাল এক্সপ্রেরিয়েন্সেরই বহিঃপ্রকাশ। সবার কথা জানি না, আমি আমার কথা বলতে পারি—আমি আমার নিজের এক্সপেরিয়েন্স থেকে যা বলতে পারি, যা শেয়ার করতে পারি আমার মনে হয় না অন্য কোথাও থেকে এত জোরালভাবে, এত দৃঢ়ভাবে তা আমি বলতে পারব। তো একজন কনশাস শিল্পী হিসেবে আমি আমার সোশ্যাল অবস্থা নিয়ে এবং অবশ্যই সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে আমি যা বলতে পারব, তা আমি আমার কাজের মধ্যে তুলে ধরতে চাই। অবশ্য আমি নারী পুরুষ আলাদা করে কিছু বলতে চাই না, কিন্তু বলতে না চাইলেও নারী পুরুষ তো আলাদাই, আলাদা দুটো স্পিসিস। ব্যাপারটাই তো আলাদা। একটা ডিবেট আছে না যে—ছেলে মেয়ে আলাদা কেন? এরা তো আলাদাই। পুরোপুরি ভাবেই, শারীরিকভাবে, গঠনগতভাবে, মনন, চিন্তায় সবকিছুতেই তো তারা পৃথক। তো, ওই জায়গা থেকেই ম্যারি মাই এগ-এর চিন্তাটা আমার মাথায় এসেছে। আমাদের সমাজে একটা মেয়ের যে মা হওয়ার প্রবণতা এবং ওইটার যে সামাজিক টেনডেন্সি—ওটাকে নিয়ে এই ফিল্মটা তৈরি। এটা নির্দিষ্ট করে কোন কিছুর ভিতরে পড়ে না, আপনি দেখবেন যে, ফিল্মটা দেখে এটাকে যে কোন কিছুর মধ্যেই ফেলে দিতে পারবেন। ব্যাপার ইন্টারেস্টিং যে আমাদের চারপাশে যা ঘটছে সেটা যেকোনো কিছুর সাথেই রিলেট করা যায়। এটা যেমন ইগনোরেন্স-এর কথাও বলা যায়, প্রটেস্ট-এর কথাও বলা যায়, তেমনি আবার ড্রিমের কথাও বলা যায়। আবার হোপ এর কথাও বলা যায়। কারণ, লাইফে প্রত্যেকটা নোশন এবং ইমোশন একটার সাথে আরেকটা সম্পর্কযুক্ত।

আমি এটা—আসলে যেটা বলতে চেয়েছি সেটা হচ্ছে যে—আমার কাছে, আমার পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্সে আমার মনে হয়, বিয়ে বা ম্যারেজের মত এই প্রথাগত যে পদ্ধতিটা, এটা আমার জন্য ডিম্বাণু উৎপাদনের একটি প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছু বলে মনে হয় না। ব্যাপারটা শুধু এটার ভিতরেই সীমাবদ্ধ। এর বেশি এর কোন মূল্য আছে বলে অন্তত আমার কাছে মনে হয় না। আর ঠিক ওকারণেই সোসাইটিতে ম্যারেজের যে পদ্ধতিটা, যে ব্যাপারটা, সেটা আমার কাছে কিছুটা ইগনোরেন্স-এর একটা ব্যাপার। আমি এটাকে একটু ইগনোরও করি আবার এটা আমাদের জন্য এসেনশিয়ালও বটে। কারণ, আমি যদি এই সোসাইটির কথা চিন্তা করি, এখানে এটা—একটা এসেনশিয়ান পদ্ধতি হিসেবেই কিন্তু এটা চালু। আবার এটার একটা ভীষণ রকম ইগনোরেন্সের একটা দিকও আছে। আমি বলতে চেয়েছি—আমাদের ট্র্যাডিশনাল যে বিয়েগুলো হয় তাতে কেবল থাকে ডিম উৎপাদন আর ডিমটা খাওয়া। মানে খাওয়াটা এখানে সরাসরি না, আমি বলতে চাইছি আমাদের ভাবটা এমন, আমি নিজে যেটা ফিল করেছি সেটা হচ্ছে যে, আমি আমার ডিম এমনভাবে উৎপাদন করছি যেন আমি নিজেই শুধু তা খাচ্ছি, মানে নিজেই জানি না আমি এটা করছি কেন? আমাকে এটা করতে হবেই কেন? সে সম্পর্কে আমার কোন চিন্তাভাবনা নেই অথচ আমি কিন্তু কাজটা করছি এবং করেই যাচ্ছি। ওই করাটা একটা কনটিনিউয়াস প্রসেস-এ চলছে তো চলছেই।

মোট কথা আমার অর্ন্তজগতে বিয়ে নিয়ে যে চিন্তা-ভাবনা, সেটারই একটা বহিঃপ্রকাশ আমার এই কাজটিতে এসেছে। যেহেতু এটাকে জন্ম মৃত্যুর মতই একটা পার্ট বলে সবাই দাবী করছে, সোসাইটি দাবী করছে, তো এটাকে আমি ইগনোর করতে পারছি না। আবার সচেতনভাবে চিন্তা করলে ব্যাপারটা কিন্তু খুবই ইগনোরেন্সের একটা ব্যাপার, আবার সমাজের জন্য এটাকে খুব এসেনশিয়াল বলেও মনে হয়। তো, সেকারণেই এটা আমার কাছে খুব অদ্ভুত একটা ব্যাপার বলে মনে হয়। এটা হল একরকম নিয়মের মধ্যে ফেলে প্রজনন ঘটানো! এটা খুবই অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি। তা এই অদ্ভুত পরিস্থিতিটাকেই আমি আরও অদ্ভুতভাবে আমার কাজের মধ্যে উপস্থাপন করেছি। একটা মেয়ে যে অনবরত ডিম খাচ্ছে এবং খেয়েই চলেছে, এই যে অদ্ভুত একটা দৃশ্য, এই দৃশ্যটাই আমি মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই যে, ওই মানুষ যে বলছে না এটা কি করছে, কেন করছে। এটাই তো আমরা করছি রেগুলার! ওটাকে এত সুন্দরভাবে করছি যে এই অদ্ভুত ব্যাপারটা ইগনোরড হয়ে যাচ্ছে। মানে, এত সুন্দরভাবে, এত সিস্টেমেটিক ওয়েতে করছি, মনে হচ্ছে যে নরমাল একটা ব্যাপার। অথচ চিন্তা করলে এটা ভীষণ অদ্ভুত একটা ব্যাপার, ঠিক আমার ওই ডিম খাওয়ার মতোই।”

ভিডিও আর্টটির এক পর্যায়ে একটা দৃশ্য বদলের ঘটনা ঘটে। প্রথম দৃশ্যের লাল শাড়ি পরা মেয়ে পরে কালো কাপড়ে আবৃত হয় এবং প্লেটের ডিমের আকৃতি ও রঙেও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাই তার কাছে। তিনি বলেন, ‘এখানে আমি দুই স্টেজের দুইটা মেয়েকে দেখিয়েছি। প্রথমে যে মেয়েটা থাকে সে একটা বউ  আর পরের মেয়েটা হচ্ছে একটা ব্ল্যাক নিকাবে আবৃত একটা মেয়ে। বউটা হচ্ছে তাঁর একদম উন্মুক্ত একটা সোশ্যাল স্টেট, আর হিজাবটা হল তার একান্ত নিভৃত একটা স্টেট। দু’ভাবেই আমি মেয়েদের অবস্থান দেখি আমাদের চারপাশে। তো দু’টার কোন আভিধানিক সিম্বল নেই যে, এটা হচ্ছে বউ আর এটা হচ্ছে হিজাব। একটা মেয়ের দুইটা স্টেজ। একটা বাহ্যিক স্টেজ আর অন্যটা সিম্বলিক্যালি এর ভিতরের স্টেজ। যে মেয়েটা বউ সেই মেয়েটাই ভিতরে ভিতরে এরকম আবৃত। ওই আবরণটাকেই আমি কালো নিকাবের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি। মানুষ যদি এটাকে মুসলিম হিজাব ভাবে তাহলে একটু ভুল করবে। আমি চাই নারীকে শারীরিকভাবে উপস্থাপন বাদ দিয়ে তাঁর অন্য একটা উপস্থাপনকে শক্তিশালী করতে। সে কারণেই আমার সব কাজগুলোতেই হিজাব যখন আসে সেটা সিম্বলিক্যালিই আসে। এখানে খেয়াল করবেন মেয়েটার চেহারার কোন ভাবলেশ নেই। একরকম ইগনোরেন্স আছে। খেয়েই যাচ্ছে তো খেয়েই যাচ্ছে, তাঁর কোন ভাবান্তর নেই। সে অনেক কিছু বলতে চাচ্ছে যেন, কিন্তু আবার কিছু বলছেও না। আমি যখন পাবলিকলি পার্ফমেন্স করি তখন আমার মুখটা নিউট্রাল হয়ে যায়। সেটাতে আমি নিজেই অবাক। কারণ, সত্যিকার অর্থে যা ফিল করছিলাম, যা অনবরত ফিল করি, সেটারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন ফিল্মটা তৈরি করি।

ডিমের মধ্যে থেকে যে লাল একটা রঙ বের হয় এটা বোঝাচ্ছে যে ওটার ফরম্যাটটা বদলে গেছে। একদম আলাদা, মানে আমি প্রত্যেক স্লটে করি না। এটাকে বলা যায় ট্রান্সফরমশেন অব সিকোয়েন্স। একারণে এটার ঠিক আভিধানিক কোন মিনিং নেই; কিন্তু আপনি তাকিয়ে থাকলে আপনার মধ্যে একটা প্রশ্ন তৈরি হবে যে, এটা কেন হল? ভিডিও আর্টের একটা ব্যাপার কী—আমার, আমি মানুষের ভিতরে প্রত্যেকটা স্লটে একটা প্রশ্ন দিতে চাই। এই যে আপনি জিজ্ঞেস করেছেন এটাই হচ্ছে আমার ওই প্রশ্ন তোলার জায়গাটা।”

ভিডিও চিত্রটিতে মেয়েটির চোখ মুখের অভিব্যক্তিটি দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এখানে একটু সেক্সুয়ালিটি আনতে চেয়েছি। আমার মনে হয় আমি একটু কম পেরেছি, আরও পারা উচিৎ ছিল। এর পরেরটাতে হয়ত আরেকটু বেশি আনব। এবার শাড়িটা একটু বেশি ঢাকা হয়ে গেছে। আমি অনেক দেখছিলাম তো, আমার শাড়িটা আরও কম ঢাকার কথা ছিল। আমি চোখে মুখে একটা এ রকম এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। কারণ আমার মনে হয় ডিমের সাথে, শুধু ডিম না, যে কোন জিনিসের সাথেই আমি সেক্সুয়াল অরগ্যানের মিল পাই। আমি বলতে চাইছি যে সেক্সচুয়াল এলিমেন্ট ছাড়া খুব কম জিনিসই আছে। আমি যখন আপেল কাটি তখন দেখেছি যে প্রত্যেকটা ফলই দেখতে আমাদের সেক্সুয়াল অরগ্যানের মত। প্রতিটি ফলের ক্ষেত্রেই এটা আমি দেখেছি, আর ডিম তো বটেই। কারণ, এই ডিমের সাথে সেক্সুয়ালিটির ভীষণ একটা ইন্টিগ্রেশন আছে। ডিম উৎপাদনের প্রসেসটাই তো হাইলি সেক্সুয়াল। আর এটা যত প্রভোকেটেড হত এই কাজটার মজা আরও তত বাড়ত। মানুষ মাত্রই সেক্সুয়াল প্রাণী, তাদের সেক্সুয়াল এনগেজমেন্টই তাকে সবকিছু করিয়ে নিচ্ছে আর প্রজনন তো বটেই।”

ভিডিও আর্টটির নাম ‘ম্যারি মাই এগ’ রাখলেন কেন জানতে চাই তাঁর কাছে। তিনি বললেন, “ঘটনাটা বেশ ইন্টারেস্টিং। কিছুদিন আগে আমি গিয়েছিলাম একজন গাইনোকলোজিস্টের কাছে, আমার কিছু শারীরিক সমস্যা নিয়ে। তো আমি একজন ৩৫ বছর বয়স্ক অবিবাহিত মেয়ে। আমাদের সোসাইটিতে যে, প্রাকটিসটা চলে এসেছে, আমি তো এর আগে কখনো কোন এরকম লেডী ডক্টরের কাছে যাইনি। বাংলাদেশে তো সেই প্র্যাকটিসটা নেই বরং একজন অবিবাহিত মেয়ে মহিলা ডাক্তারের কাছে গিয়েছে শুনলেই তো সবাই আৎকে ওঠে এবং অনেক কিছু ভেবে বসে, তাই না? অথচ বিদেশে আনম্যারেড মেয়েরা প্রতিমাসে একবার ডাক্তারের কাছে যায় চেকআপ করাতে এবং সেটা না গেলেই বরং তাদের কাছে সেটা অস্বাভাবিক। তো আমাদের এই যে প্র্যাকটিসটা এটার মধ্য দিয়ে কিন্তু আমাদের একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সেটা হচ্ছে আমরা যে আসলে, আমাদের সোসাইটি যৌনতা নিয়ে, সেক্সুয়ালিটি নিয়ে কতটা ইগনোরেন্ট সেটাই বোঝা যায়। অথচ সহজাত কারণেই কিন্তু একটা মেয়ে একজন গাইনোকোলজিস্টের কাছে যেতে পারে। তো, যখন আমি ডাক্তারের রুমে ঢুকেছিলাম এবং উনি আমাকে চেক আপ করছিলেন তখন এই বিষয় হলো নিয়ে ভাবছিলাম। এটা হচ্ছে ম্যারি মাই এগ-এর শ্যুটিং এর কিছুদিন আগের ঘটনা। এমনিতেই তখন এই কনসেপ্টটা নিয়ে ভাবছিলাম, তো তখন আমার মনে হল, মেয়েদের এই যে জরায়ু, এই যে ডিম্বানু, এই যে মাতৃত্ব, এই প্রসেসটা কত ক্রিটিক্যাল। তখন আমার ভেতরে এই ডিম্বানু, ডিম্বাশয় এগুলো নিয়ে ভাবনা এল। এর আগে এ বিষয়গুলো নিয়ে আমি সেভাবে ভাবিনি। যৌনতা বা সেক্সুয়ালিটি এই ব্যাপারগুলো আমাকে অতটা বদার করে না কখনো। এটাকে লাইফের একটা নরমাল পার্ট হিসেবেই দেখি। তো যখন এই প্রসেসটার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন মনে হল এটা লাইফের রেগুলার কোন পার্ট নয়। এটা বেশ অন্যরকম। সাথে এও মনে হল—এটা নিয়ে ছেলেদের কখনো যেতে হয় না, শুধু মাত্র মেয়েদেরই যেতে হয়। তখন এটা আমাকে একটু, বেশ একটু নাড়া দিল। তখনই আমি নামটা পেয়ে গেলাম, হসপিটালের বেডে! আমি ভাবলাম, বাহ! এটাতো বেশ ইন্টারেস্টিং, ম্যারেজের সাথে সেক্স, সেক্সের সাথে ডিম, এগুলোর তো খুবই যোগসূত্র! একটা আরেকটার সাথে ইন্টারলিঙ্কড। ওই বিয়েটা আমাদের দেশে প্রথাগতভাবে যখন হয় তখন দেখা যায় সেখানে ওই ভালবাসাবাসির কোন জায়গাই নেই। ডিম উৎপাদনই ওটার একমাত্র উদ্দেশ্য। তো ওই খান থেকেই আমি একটা অদ্ভুত… এই আইডিয়াটা পেলাম।”

ম্যারি মাই এগ নামটিকে যদি বাংলা করতে বলা হয় তবে কি নাম দিবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাংলা নামটা হয়ত দেব, ‘তাহলে ডিমের সাথেই বিয়ে হোক’! আমি আস্তে আস্তে নামগুলো বাংলাতে নিয়ে আসতে চাই। এটা আমার খুবই ইচ্ছা। কারণ, আমি মনে করি এটা আমার একটা ল্যাকিংস। আমি মনে করি, এই জায়গাটায় আমার আরও স্ট্রেন্থ চলে আসবে যদি আমি আমার ভাষাটা ব্যবহার করতে পারি। কারণ, এটা আমার সোসাইটি নিয়ে তো কথা, তো ওখানেই ওই ব্যাপারটা আরও জোরালোভাবে ফুটে উঠবে যদি সেখানে বাংলা ভাষাটা ব্যবহার করতে পারি।”

ভিডিও চিত্রটি ধারণ করা সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি বলেন, “আমি তো বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়াই। সেখানে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি থেকে ওখানকার স্টুডেন্টদেরকে আমি সিলেক্ট করি। এরা কেউই প্রফেশনাল নয়। প্রত্যেকটা কাজের জন্য আমি নতুন নতুন ছেলেমেয়েদের নিয়ে আসি। নতুন একটা গ্রুপকে আমি নিয়ে আসি এটা করার জন্য এবং আমি কখনোই ওদের বায়াস্ড করি না, ওদের বলি না ফ্রেমিং ঠিক করতে। ওরা ওদের মতই করে। আর আমি ইমপ্রেস্ড যে ওদের কাজ দেখে আমাদের দেশের প্রথিতযশা ডিরেক্টররা পর্যন্ত আমাকে জিজ্ঞেস করেছে যে, ‘এই ফ্রেমিংটা কার!’ এটা খুবই অদ্ভুত ব্যাপার—মানুষকে যদি ফ্রিডম দেয়া হয় তখন সে যে কি করতে পারে, আর মানুষকে যখন পাওয়ার দেওয়া হয় তখন সে যে কি ভাল করতে পারে—তা সত্যিই বিস্ময়কর! আর এরা আর্ট কলেজেরও কেউ না; আমি বিভিন্ন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে ওদেরকে বাছাই করি। এমবিএস, বিবিএ-দেরকে নিয়ে কাজ করি। এখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে আর্ট ক্লাশ নিচ্ছি যা বাংলাদেশে এর আগে কখনো হয়নি। তো এবারও একরমই একটা গ্রুপকে দিয়ে আমি কাজটার শ্যুটিং করিয়েছি। আমরা সবকিছু ঠিকঠাক করে একটা দিন ঠিক করি, যেদিন শ্যুটিং হয়। শ্যুটিং-এর সময় বেশ মজা হয়। যেমন, এই ডিমেরটার সময় আমি বারবার বমি করছিলাম। আমি মনে হয় সব মিলে ডিম খেয়েছিলাম ১৬টা না ১৭টা! অনেকে বলেছে যে, ‘আপনি একটা খেতেন!’ কিন্তু তাহলে আমার মুখে যে একটা অভিব্যক্তি—এটাতো আসতো না। এটাতো এসেছিল ডিম খাওয়ার ওই ঘৃণা থেকে! ওই দৃশ্যটা, মানে বমির ভাবটা কিছু আনলে হয়ত আরও ভাল হত।

তাঁর প্রথম ভিডিও আর্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার প্রথম কাজ ছিল And Stare Continues। এটা ছিল এরকম, একটা মেয়ে হিজাব পরা, সারাক্ষণ তাকিয়ে আছে। পুরো মুখ ঢাকা, চোখটা সারাক্ষণ তাকিয়ে আছে এবং একটা পর্যায়ে চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে। মেয়েটা কাঁদতে থাকে। এখানে চোখের মনে হয় ষোল সতেরটা এক্সপ্রেশন ছিল। একটা হিজাব দিয়ে ঢাকা চোখের মধ্যে হাজার হাজার এক্সপ্রেশন। একটা পর্যায়ে সে একটা বেলুন ফুলানো শুরু করে। সেটা খুব ট্রমাটিক করেছিলাম আমি। বেলুন ফুলানোর সময় দেখবেন, স্পেশালি মেয়েদের ক্ষেত্রে খুব শ্বাসকষ্ট হয়। একটা ছেলে আর একটা মেয়েকে পাশাপাশি বেলুন ফুলানো অবস্থায় কখনো দেখেন—কিভাবে তারা ফুলায়, খুব তফাৎ। তো মেয়েটি যখন বেলুন ফুলাতে থাকে তখন এক পর্যায়ে খুব ট্রমাটিক একটা শব্দ হয়। বেলুন ফুলানোর সময় যে শ্বাস-প্রশ্বাসটা হয় সেই সাউন্ডটা থাকে। এক পর্যায়ে একটা জোরে সাউন্ড হয়। বেলুনটা ফেটে যায়। আমার হাতে একটা সুঁই ছিল, আমিই বেলুনটা ফাটিয়ে দিই। তো, বেলুনটা ফেটে যায় এবং ফেটে যাওয়ার সময় ঠাস করে একটা ভৌতিক শব্দ হয়। বেলুনটা ফেটে গেল এবং তাঁর শ্রমটা পুরা জলে চলে গেল। এই যে, তিন মিনিট ধরে সে বেলুনটা ফুলালো এবং সেটা ফেটে গেল, এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে সে আবারও একটি বেলুন ফুলানো শুরু করল। ওটা একটু বেশি বলা হয়ে গিয়েছিল। ওটা আমার প্রথম কাজ ছিল তো। এখানে বলা একটু কম হওয়া উচিৎ ছিল যাতে মানুষ আরও চিন্তা করে। এটাই আমি চাই। আমি চাই মানুষ ফিরে যাবার সময় যেন আরও চিন্তা করে, এটা কি করল, কেন করল, এটা কী হল, এই প্রশ্নগুলো তাদের মধ্যে তৈরি হোক।”

আমাদের দেশে আর্ট একটা টেম্পোরারি জায়গায় আটকে গেছে। আর্ট-এর সংজ্ঞায় আছে এটা কোন গোষ্ঠীর কাছে সীমাবদ্ধ নেই; কিন্তু বাংলাদেশে এটাই সবচেয়ে বেশি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আর্টিস্টদের মাঝেও একটা অদ্ভুত ব্যাপার কাজ করে, কেউ তাদের কাজ দেখলো কি দেখল না, তা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই কিন্তু কেউ নিয়ে গেল বাসায় বহন করে—তাতেই তারা খুব খুশি। কিন্তু সেটার চেয়েও আমি যা বলতে চাই তা মানুষের কাছে পৌঁছল কিনা—সেইটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাজ নিয়ে আমি না শুনতে চাই ভাল, না শুনতে চাই খারাপ, আমি শুধু চাই, আমি যা বলতে চাই তা মানুষ দেখল তো? এটুকু ছাড়া আমার আর কোন চাওয়াই নেই। আমি মনে করি, লাইফ এমন একটা জায়গা যার প্রতিটা স্টেপ-এ পাওয়া ছাড়া তো কিছুই নেই। সবকিছুর ভিতরেই কিছু না কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা পেতে পারতে হয়। যেমন, বিয়ের ব্যাপারটাই বলি, এখন দেখি যে অনেক ছেলে মেয়ে এটাকে ঠিক চায় না, আবার অনেকে চায়ও। চায় না যেমন ঠিক, আবার চায়ও ঠিক। সমাজে সবটাই বিরাজ করছে। তো, আমরা একটা দিক দেখব আর আরেকটা দিক দেখব না এটার মত অবান্তর ব্যাপার কি আর আছে? একটা জিনিস সবাই খেতে পছন্দ করে এটা কি কোনদিন হতে পারে? এটাতো অবান্তর। এটা লাইফের একটা জোরপূর্বক অবস্থা। আমাকে খুব স্ট্রেঞ্জ ফিল করায় এ ব্যাপারগুলো। ওটা থেকেই আমার এই ভিডিও আর্টগুলোর ইন্সপিরেশন। আমি মনে করি এগুলো ছবি এঁকে বলা যাবে না। এগুলোর জন্য আমার থ্রি-ডাইমেনশনাল মাধ্যম লাগবে। একইভাবে এগুলোর জন্য আমার নিজের উপস্থিতিটাও খুবই দরকার। যে কারণে আমি নিজেই এখানে অ্যাক্ট করছি। অনেকে আমাকে বলেছে যে অন্য কাউকে দিয়ে করালে তো পারতে, কিন্তু আমি ভাবলাম এই জিনিস আমি ছাড়া আর কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। সে হয়ত তার মত পারবে আর আমি ঠিক আমার মতই পারব।

আমার আরেকটা আগের কাজ ছিল সেটা কায়রোতে এবার প্রদর্শিত হচ্ছে। এটাও ওই হিজাবের উপরেই। এটাও মানুষ অনেক দেখছে, অনেক ফোন কল পাচ্ছি। সামনে হয়ত ওটা ইউটিউবে উঠিয়ে দিব। ওটা ছিল একশ জন মানুষের সামনে একটা পারফর্ম্যন্স এবং ওটাই ভিডিও করা হয়েছে তৎক্ষণাৎ। ওখানে একটা কান্নার দৃশ্য ছিল, সেটা দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আপনি কি গ্লিসারিন দিয়ে কাঁদলেন?’ আমি তখন তাকে বললাম যে, ‘এরকম ট্রমাটিক সিকোয়েন্স করতে গেলে নিজের এক্সপেরিয়েন্সই যথেষ্ট!’ মানে ওইটার জন্য আর গ্লিসারিন বা রসুন লাগে না! আসলে, আমার ভিডিও আর্টগুলো করে আমি অনেক স্যাটিসফাইড। অনেকের মতে, আমি অনেক দেরিতে শুরু করেছি। কিন্তু আমি মনে করি, আমার যেকোন কাজের ধারা পারফেক্ট টাইমেই শুরু হচ্ছে। সবকিছুতেই তো ধাপে ধাপে এগোতে হয়, ধাপ করে তো কিছু করে ফেলা যায় না। এক সময় আমি খুব ট্রাডিশনাল একজন আর্টিস্ট ছিলাম। নরমাল কাজ করতাম, যেভাবে সবাই করে। টেক্সচার বানায়, এই করে, ওই করে, তো সেখান থেকে এ জায়গায় আসতে কিন্তু আমার বেশ কিছু সময় দিতে হয়েছে; এটা বুঝতে হয়েছে, বিভিন্ন—ইউরোপের দেশে দেশে যেতে হয়েছে, ওদেরটা দেখতে হয়েছে। প্রথম প্রথম, দেখেও না আমি কিছু বুঝতাম না! ভাবতাম, কী যে বলে এগুলা! ঠিক আমারটা দেখে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে অনেকে যেটা ভাবছে। আজ এটা ভাবছে, কিন্তু আর চার বছর পর এটা তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। ঠিক যেভাবে এটা এখন আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে।”

ম্যারি মাই এগ-এর সিক্যুয়েল করার কথা ভাবছেন কিনা জানতে চাই। বললেন, “হ্যাঁ সিকোয়েন্স অল রেডি আমি করেছি এবং এখন আমি এডিটটা করব। আবার কিছু সিকোয়েন্সের পর ওটা বন্ধ করে দিব। মানে ম্যারি মাই এগ-এর একটা সিক্যুয়েল আমি করেছি, এরপর আরেকটা সিক্যুয়েল করে এই সিরিজটা বন্ধ করে দেব। ওগুলোর নাম নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা করছি। যাতে এটার মতই ওই নামগুলোতেও নতুনত্ব থাকে। আর নামগুলো আমি আস্তে আস্তে বাংলায় নিয়ে আসতে চাই সেটা তো আগেই বলেছি। যেমন, এখন আমি আরেকটা কাজ করছি, ওটার নাম দিয়েছি ‘মোনাজাত’। ওটা হয়ত আমি সামনে কোথাও দেখাব। আমি যখন নামাজ পড়তাম একসময়, অনেক আগে, তখন আমি যেটা ফিল করতাম—সেটাই আমি এবার অ্যাক্ট করলাম। আমি যা যা জীবনে ফিল করেছি তার সবই এখন আমি আমার কাজের মধ্যে দিয়ে এক্সপ্রেস করতে পারছি। এ ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে। আমি অনেক দিন ধরে আমার কথাগুলোকে, আমার চিন্তাগুলোকে এক্সপ্রেস করার একটা জায়গা খুঁজছিলাম। এখানে এখন আমি সেটা পেয়ে গেলাম। বলা যায়, এখন আমি পুরোদমে কাজ শুরু করে দিব। অনেকে আমাকে বলেছিল, লেখালেখি করে এটা করতে। কিন্তু আমার মনে হয়, থ্রি-ডাইমেনশনালের উপর কোন বড় ও সহজসাধ্য মাধ্যম এখনও আসেনি। আমার মনে হয়েছে—আমি এ জায়গাটাতে সবচেয়ে সহজভাবে আমার কথাগুলো এক্সপ্রেস করতে পারব, অন্যগুলোর চেয়ে।

তাছাড়া এই ব্যাপারটার একটা অন্যরকম ইমপ্যাক্ট আছে আমি দেখলাম। আমাদের সোসাইটিতে এটা এখনও খুব নতুন। একদম বলতে গেলে আনকোরা মিডিয়া, আর্টের ক্ষেত্রে। কিন্তু মানুষ সবচেয়ে বেশি রিঅ্যাক্ট করে এই ক্ষেত্রটিতে। আমি এটা ভেবে অবাক যে আমরা এত দেরিতে এটা শুরু করেছি। কারণ, আমাদের দেশের মানুষ ভিতরে ভিতরে খুবই প্রাণময় অথচ তারা প্রচলিত সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে খুব ভয় পায়। কিন্তু তারা ভীষণ পোটেনশিয়াল। যতবার আমি ভিডিও আর্ট প্রজেকশন করেছি, ততবারই দেখেছি মানুষ ভীষণ রিঅ্যাক্ট করেছে। ইনফ্যাক্ট, এই জন্যই তো পাবলিকলি ভিডিও আর্টগুলো চলে। সেদিন রফিকুন নবী আমাকে বললেন, ‘তুমি যদি এরকম করতে থাক তাহলে তুমি তো আর ছবি আঁকাতে ফিরতে পারবে না কোন দিন।’ উনি মোটামুটি ঠিকই বলেছেন। কারণ, মানুষকে যদি সত্যি কথাটা সরাসরি বলে দিতে পারি তাহলে এর থেকে ভাল আর কি হতে পারে? আমি সমাজকে তো আরেকটু এগিয়ে নিতে চাই, চিন্তাধারায় আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কারণ, আমাদের চিন্তাধারা এবং ভাঙার জায়গাগুলো খুব কম। আর আমি মনে করি, ভাঙার জায়গাগুলো আমরা তৈরি করে যদি না যেতে পারি তাহলে সব কিছু একদম ধ্বংস হয়ে যাবে। ভাঙার মধ্যে দিয়েই তো গড়বে। তাই ভাঙতে পছন্দ করি আমি! এটা আমার একটা শখ।”

‘সামনে কী তাহলে শুধু ভিডিও আর্টই করবেন, পেইন্টিং বা অন্য মাধ্যমে কি আর কাজ করবেন না?’ প্রশ্ন করি।

তিনি বললেন, “সুন্দর প্রশ্ন। আপনি যখন বললেন তখনই কিন্তু আমি কথাটা ভাবছিলাম। ভেবে মনে হল, তা না, হয়ত বা দেখা যাবে আমি আগামী এপিসোডে লেখালেখি শুরু করে দিলাম। হয়ত যদি দেখি এটাতে, মানে ভিডিও ওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে আমার মনের ভাব অতটা আসছে না তখন হয়ত দ্বারস্থ হব কিছু শব্দের, কিছু মিউজিক লাগতে পারে। যেহেতু আমি গানটা করেছিলাম এক সময়। আমি মনে করি, মাঝে মাঝে সুরেরও অনেক প্রয়োজন। আসলে, আর্ট ফর্মের সবগুলোকে নিয়েই আমাদের—শিল্পীদের বাঁচা উচিৎ।

আজকাল সারা পৃথিবীতেই সবাই বেশ সুবিধাবাদী হয়ে পড়েছে। যতটুকু সুবিধার মধ্যে পড়ছে ততটুকু নিচ্ছে, যেটুকু পড়ছে না সেটুকু নিচ্ছে না। কেউই কোন রিস্ক নিতে চায় না, আমরা সবাই একটা সেইফ গেম খেলে চলেছি। কিন্তু আর্টটা তো এত সেইফ না। এক্সিবিশনে আমার একটা স্টেটমেন্ট ছিল। আমি সেখানে বলেছি, ‘Art is always an unsuccessful act.’ আমার সব এক্সিবিশনেই এই কথাটা থাকে। আর্টের ক্ষেত্রে যদি কেউ আনসাকসেসফুল হয় তবে এর চেয়ে সাকসেসফুল ব্যাপার আর কিছুই হতে পারে না। কারণ, ওই আনসাকসেসফুল কাজটা আপনার ভিতরে আরও দশটা কাজের তাড়না যোগাবে। তো সেটা ভাল নাকি একটা সাকসেসফুল কাজ—সেখানেই শেষ হয়ে গেল—ওটা ভাল? আমরা প্রতিনিয়ত নিজেকেই নিজেরা ধোঁকা দিচ্ছি, নিজেকে দিচ্ছি এবং আর সবকিছুকেই। ধোঁকার মধ্যেই তো চলছে আমাদের সবকিছু।”

আর্টস প্রোফাইল: প্রমা সঞ্চিতা অত্রি
ইমেইল: pshanchita@gmail.com

—-
ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shimul Salahuddin — জানুয়ারি ২৬, ২০১১ @ ৮:৫৮ অপরাহ্ন

      ‘Art is always an unsuccessful act.’ আমার সব এক্সিবিশনেই এই কথাটা থাকে। আর্টের ক্ষেত্রে যদি কেউ আনসাকসেসফুল হয় তবে এর চেয়ে সাকসেসফুল ব্যাপার আর কিছুই হতে পারে না। কারণ, ওই আনসাকসেসফুল কাজটা আপনার ভিতরে আরও দশটা কাজের তাড়না যোগাবে। তো সেটা ভাল নাকি একটা সাকসেসফুল কাজ—সেখানেই শেষ হয়ে গেল—ওটা ভাল? আমরা প্রতিনিয়ত নিজেকেই নিজেরা ধোঁকা দিচ্ছি, নিজেকে দিচ্ছি এবং আর সবকিছুকেই। ধোঁকার মধ্যেই তো চলছে আমাদের সবকিছু।”

      ভিডিওটা আগেই দেখেছিলাম ফেসবুকে। অত্রির ইনডেপথ লেখাটা তাতে অর্থাৎ এই চিন্তা ও দেখার যুগল প্রসেসে ভিন্ন মাত্রা যোগ করলো।

      ধন্যবাদ দুজনকেই। আর্টসকেও।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com