এমিলি ডিকিনসন মিউজিয়ামে

সেলিনা শিরীন শিকদার | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

dagt1.jpg
এমিলি ডিকিনসন (১৮৩০-১৮৮৬)

উনিশ শতকের আমেরিকান কবিদের মধ্যে দুজনকে অরিজিনাল কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন ওয়াল্ট হুইটম্যান অপরজন এমিলি ডিকিনসন। এমিলি ডিকিনসন তার কবিতায় ভাঙা ছন্দ, ড্যাশ চিহ্ন, যত্রতত্র বড় হাতের অক্ষর ব্যবহারের মাধ্যমে নিজস্ব প্রকাশরীতির জন্য আজ বিশ্বব্যাপী খ্যাত। আমেরিকান স্কুলে অহরহ এমিলির কবিতা পড়ানো হয়। স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে এ দেশের সব ধরনের মানুষ এমিলি ডিকিনসনের নাম ও লেখার সাথে অল্পবিস্তর পরিচিত। যে কোনো লাইব্রেরীতে গেলে তার উপর শতখানেক বই পাওয়া যাবে। তারপরও তার উপরে অনুসন্ধান করে চলেছেন পণ্ডিতরা। এমিলি ডিকিনসন প্রায় ১৮০০ কবিতা লিখেছেন। তার মধ্যে ৮/১২ কবিতা তার জীবদ্দশায় ছাপা হয়েছিল। যে অন্তর্গত তাঁকে জীবন সম্পর্কে লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিলো সেই অন্তর্জগতের ভিত গড়ে উঠেছে সত্যকে (অন্য কথায় সৌন্দর্যে) জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষা, প্রেম ও মৃত্যুচিন্তা থেকে। আর পাশাপাশি দুটি বাড়ি যে বাড়িতে এমিলি ডিকিনসন থাকতেন এবং তার পাশের বাড়ি যেখানে তার ভাই অস্টিন ও তার পরিবার বাস করতো – এই দুটো বাড়ির মধ্যেই এমিলি ডিকিনসন তার জীবন ও চলাফেরা সীমিত রেখেছিলেন। তাই পাশাপাশি এ দুটি বাড়ি তার অন্তর্জগত ছুঁয়ে নানা রূপে ও রূপকে উপস্থাপিত তার কবিতায়।
emily-dickinson-back-side.jpg
মিউজিয়ামের পেছন দিক। দরজার সর্বডানে রান্নাঘর, যেখান থেকে ট্যুর শুরু হয়। ছবি – লেখক

এমিলি ডিকিনসনের বাসার দরজায় দাঁড়িয়ে মনে হলো তার বিখ্যাত কবিতার কয়েকটি চরণ:

          I'm Nobody! Who are You?
          Are you nobody, too?
          Then there 's a pair of us—don't tell!
          They 'd banish us, you know.

এমিলি ডিকিনসনের বোধে যে নির্মোহতা যা তার কবিতায় প্রতিফলিত তা তার দীর্ঘদিনের সাধনার অর্জন। সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মাঝে পরিভ্রমন ও সত্য অনুসন্ধানে এমিলির প্রয়োজন ছিল সীমাহীন নির্জনতা। এই নির্জনতা তিনি খুজে নিয়েছিলেন তার মতো করে। এমিলির বাবা মা তাদের তিন সন্তানের ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও তাদের ইচ্ছার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। এমিলি চেয়েছিলেন একজন লেখক হতে। গৃহস্থালী কাজের দায়িত্ব এমিলি নিতে চাননি, গ্রহণও করেননি উনিশ শতকের এমহার্স্টের সুন্দরীতম এই নারী। সৃজনশীল কাজের জন্য প্রয়োজন নিজস্ব সময় ও অনুশীলন। লাজুক প্রকৃতির হলেও এমিলি ডিকিনসন খুব শক্তভাবেই জানতেন তিনি কি চান।

খন্ডিতভাবে তার জীবনের ঘটনাসমূহের দিকে তাকালে তা বোঝা যায়না। অনেক পন্ডিত এমিলি ডিকিনসন ও তার কবিতাকে বিভিন্ন অবস্থান থেকে দেখেছেন ও ব্যাখ্যা করেছেন। এই খন্ডিত দেখার চেষ্টা অনেকক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে মাত্র। কিন্তু কোথাও পৌঁছাতে সহায়তা করেনি।

এমিলি ডিকিনসনের কবিতার সাথে আমার প্রথম পরিচয় গ্রিটিংস কার্ডের মাধ্যমে। তখন দেশের বাইরে থেকে কার্ড আসতো ঢাকায়। কিছু কার্ডে সুন্দর সুন্দর কবিতা লেখা থাকতো। তার বহু পরে আধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ও সাহিত্যিক আহমদ ছফার মধ্যে আলাপের সময় আরো অনেক নামের মধ্যে আবারো এমিলি’র নামটা শুনলাম। লেখক ও লেখকের অরিজিনালিটি নিয়ে আলাপ হচ্ছিল সেদিন। রাজ্জাক স্যারের বাড়িতে গোল টেবিলটায় বসে কথা বলছেন দুই পন্ডিত, আমি একটু দূরে শেলফের বইগুলো দেখছিলাম। নামটা শুনে কান খাড়া করলাম। সেখান থেকেই এমিলি ডিকিনসন ও তার কাজের প্রতি আমার আরো আগ্রহ।

মিউজিয়াম
এমিলি ডিকিনসনের মৃত্যুর পরে দীর্ঘদিন ধরে দুটো বাড়িই স্বতন্ত্র ঐতিহাসিক গৃহ মিউজিয়াম হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিলো। ২০০৩ সালে এমহার্স্ট কলেজ-এর অধীনে এ দুটি একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয় এমিলি ডিকিনসন মিউজিয়ামটি। এই মিউজিয়ামের দুটি ভাগ। দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হোমস্টেড বা খামারবাড়ি, যেখানে এমিলি থাকতেন এবং এভারগ্রিনস, যে বাড়িটিতে এমিলির ভাই ও তার পরিবার বাস করতেন এবং যে বাড়ির মাধ্যমে এমিলির সাথে এমহার্স্টের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ঘটতো।

হোমস্টেডস, এভারগ্রিনস ও এমিলি ডিকিনসনের কবিতার ম্যাটাফোর
এমিলি ডিকিনসন জন্মেছিলেন ১৮৩০ সালের ৬ ডিসেম্বর। ১৭ বছর বয়সে এমিলি মাউন্ট হলিউক ফিমেইল সেমিনারীতে পড়াশোনা করতে যান। ঘরকাতরতা ও শারীরিক অসুস্থতার জন্য এক বছর পরই ফিরে আসেন। কারো কারো মতে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বন্দ্বের কারণে তিনি লাঞ্ছিত বোধ করেছিলেন, সে কারণে তিনি ফিরে আসেন। তারপর তিনি খুব একটা বাড়ি থেকে বের হননি বা তেমন কারো সাথে দেখা করেননি। এমিলি ডিকিনসন তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন বাড়ির ভেতরে। আর এ কারণেই তার আবাস গুরুত্বপূর্ণ। মেসেচুসেটস স্টেইটের এমহার্স্ট এ কবি এমিলি ডিকিনসনের (১৮৩০-১৮৮৬) অন্তরঙ্গ আবাসটি এখনো ধরে রেখেছে তার স্মৃতি। এমহার্স্টের মেইন স্ট্রিটের উপরে ব্রিক ফেডারাল স্টাইলের এই বাড়িটি তৈরি ১৮১৩ সালের দিকে। বাড়িটি তৈরি করেছিলেন এমিলির পিতামহ। যা এখন আমেরিকার একটি জাতীয় ঐতিহাসিক খুটিচিহ্ন। বড় হবার পরে এ বাড়ির মধ্যে এমিলির শোবার ঘরটি ছিলো দোতলায় ডান দিকের কোনায়। যে ঘরের এক জানালা দিয়ে এমহার্স্টের কেন্দ্রস্থল দেখা যেতো, অন্য জানালাটি ছিলো তার ভাই অস্টিনের বাসার দিকে। এই ঘরে বসেই তিনি তার কবিতাগুলো ঘষামাজা করতেন। যার মধ্যে রয়েছে ‘আই এম নোবডি! হু আর ইউ’ এবং ‘বিকজ আই কুড নট স্টপ ফর ডেথ।’
emily-dicinson.jpg
বাগানের দিক থেকে এমিলি ডিকিনসন মিউজিয়াম, মাঝখানের বারান্দার দরজাটি বর্তমানে এর প্রবেশদ্বার, সর্বডানে ছোট্ট বারান্দাটি বসারঘর সংলগ্ন। ছবি – লেখক

এমিলি ও তার বোন লেভিনিয়া দুই অবিবাহিত বোন থাকতেন বাবা মায়ের সাথে পৈতৃক নিবাসে। ভাই অস্টিনের বিয়ে উপলক্ষে ওদের বাবা তাদের বাসার পাশেই ওদের জন্য আরেকটি বাড়ি তৈরি করে দেন। বাড়িটি ইতালিয়ান স্টাইলে তৈরী। এমিলির বাসাটি যেমন তাকে দিয়েছিল নির্জনতা তেমনি অস্টিন ও সুজানের বাড়িটিতে বিশেষ ব্যক্তিদের আনাগোনার ফলে এমিলি সেখান থেকে পরক্ষে পেতেন এমহার্স্টের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উত্তাপ ।

১৮৮৬ সালে ৫৬ বছর বয়সে এমিলি তার ঘরে লোকান্তরিত হন আর পৃথিবীর জন্য রেখে যান অজস্র অপ্রকাশিত কবিতা।

এমিলি ডিকিনসন মিউজিয়ামে কবির পোষাকের নমুনা, ব্যবহার্য আসবাব, দু’একটি বই – সব দর্শনীয় করে সাজানো, যেমনটি ছিলো তিনি যখন বেঁচে ছিলেনে। যদিও দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে যে দরজাটি বাড়ির ফটক হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেটা এখন বন্ধ । শুধুমাত্র ট্যুর শেষে সেখান দিয়ে দর্শকরা বের হয়ে যান। রান্নাঘরটির আসবাব সরিয়ে অন্যভাবে সাজানো হয়েছে। সেখানে রাখা হয়েছে এমিলির মায়ের পেয়ানোটি।

বর্তমানে বাগানের দিক দিয়ে মিউজিয়ামের প্রবেশদ্বার। ঢুকেই প্রথমে অভ্যর্থনা। সেখানে গিফ্ট শপ এ সাজানো রয়েছে এমিলি ডিকিনসনের কবিতার বই, তার জীবনী, কবির উপরে লেখা অন্যদের বই, গ্রিটিংস কার্ড এবং বিভিন্ন সুভেনির। তার পাশেই পরিচিতি প্রদর্শনী। সেখানে আছে এমিলির কবিতাসম্বলিত পোস্টার, ট্যুর সেন্টারের কার্যক্রম, এমিলি ডিকিনসনের উপরে অনুষ্ঠানমালার বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি। এ দুটোই সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু বাকী ঘরগুলো দেখতে হলে গাইডেড ট্যুর নিতে হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় রয়েছে একটি করে ৪০ মিনিটের গাইডেড ট্যুর। প্রতিদিন গড়ে এরকম ৬/৮টি ট্যুর থাকে সাধারণত। মিউজিয়ামটি সারা বছর খোলা থাকে না। এ বছর এটা খোলা থাকবে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আমরা গিয়েছিলাম এ বছর গ্রীষ্মে – জুলাই মাসের ২৮ তারিখে।পৌছতে পৌছতে দুপুর।

মিউজিয়ামে গিয়ে তখন যে ট্যুরটি পেলাম তার নাম হলো ‘দিস ইজ মাই লেটার টু দ্য ওয়ার্লড’। এই ট্যুরটির গাইড ছিলেন লেখক ও স্কলার জোয়ান ডেবসন। আর ২০ মিনিট পরে ট্যুর শুরু হবে। এর মধ্যে আরো অনেকে এলো। সব মিলিয়ে ১০ জনের একটা দল। অভ্যর্থনা ঘরের বাম দিকের দরজা খুলে একজন জানতে চাইলেন এই ট্যুরে কতোজন? প্রশ্ন শুনে আমি এগিয়ে গেলাম বামদিকের ঘরটিতে। এমিলি ডিকিনসনের বড় একটি ছবি দেয়ালে। ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রমহিলার সাথে চোখাচোখি হতেই আমি হাসলাম, বললাম, হাই। তিনিও হাসলেন। বললেন ইজিন্ট সি বিউটিফুল? আমি বললাম ইয়েস সারটেনলি সি ইজ। ভদ্রমহিলা হাসলেন আবারো, তারপরে নিজের নাম বলতে বলতে বাড়িয়ে দিলেন হাত। আমি তার সাথে হাত মেলাতে মেলাতে আমার নাম বললাম। প্রশ্নের উত্তরে যথারীতি বুঝিয়ে বললাম বাংলাদেশটা কোথায়। ডেবি শুনে উচ্ছ্বসিত। জানতে চাইলেন আমি কি কবির নাম আগে শুনেছি? আমি বললাম, হ্যা বহুদিন আগে যখন বাংলাদেশে ছিলাম। আলাপচারিতায় ডেবি আরো উচ্ছ্বসিত। আমি যখন কথা বলছি ডেবির সাথে তখন অন্যরা বাইরের গিফ্টসপে দাড়িয়ে রয়েছে। কেউ আগ বাড়িয়ে ঘরটিতে আসছে না। আমি একটু অবাকই হলাম। তখনো আমি জানি না ডেবি একজন স্কলার ও খ্যাতিমান লেখক। ডেবির প্রশ্নের জবাবে আমি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেই চলেছি আমি কি দেখতে চাই। ‘আমি জানতে চাই কবির ব্যবহৃত চিত্রকল্পের সাথে তার পরিবেশের সম্পর্ক। কোন বিষয়গুলো এমিলির কবিতা ভাবনাকে উদ্দীপিত করেছিলো। আমি এমন ভাবে মিউজিয়ামটি দেখতে চাই যেন আমার মনে হবে কবি এইমাত্র এখান থেকে উঠে গেছেন, এক্ষণি ফিরবেন। আর ওনার কি আরো ফটো আছে ভেতরে?’ ডেবি হেসে বললেন ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে এমিলির তেমন সিংঙ্গেল ফটো নেই। দু’ একটি ফটো আছে আর আকা ছবি আছে। তবে মিউজিয়ামের ভেতরে গেলে কিছু পারিবারিক গ্রুপ ফটো দেখা যাবে। আর বাকীগুলো এই ট্যুর কিছুটা সহায়তা করবে। তবে আমাদের মেইলিং লিস্টে ঠিকানা দিয়ে গেলে বিভিন্ন ইভেন্টের খবর পাওয়া যাবে।’

এরপর ডেবি সবাইকে ডাকলেন, ওই ঘর থেকেই আমাদের ট্যুর শুরু হলো। প্রথমেই একটা পেসেজ দিয়ে যে ঘরটায় পৌঁছালাম সেটা নতুন করে সাজানো হয়েছে। ওটা ছিল ওই বাড়ির রান্নাঘর। দরজা দিয়ে ঢুকেই দরজা সংলগ্ন দেয়ালের দিকে এমিলির মায়ের পেয়ানো। যে ঘরটিতে প্রথমে দাড়িয়েছিলাম এটা ছিল প্রথমে সেখানে। এই পেয়ানোতে বসেই এমিলি আর তার ভাই অস্টিন গান শিখেছে মায়ের কাছে। এমিলির কবিতায় আওয়াজ বা ধ্বণির চিত্রকল্পের ব্যবহার অথবা কাব্যিক সংগীত সৃষ্টি করার যে প্রবনতা রয়েছে তা সম্ভবত তার এই শৈশবের সুরেলা বোধ থেকেই এসেছে। যদিও ডেবি বলতে শুরু করেছেন দেয়ালে ঝুলানো এমিলির দাদা আর বাবার গল্প দিয়ে। দাদা ছিলেন আইনজীবী, এই বাড়িটি তিনিই এখানে করেছিলেন। বাবাও ছিলেন পেশায় আইনজীবী, তিনি ছিলেন এমহার্স্ট কলেজের কোষাধক্ষ্য ও একজন কংগ্র্রেসম্যান আর মা ছিলেন তৎকালীন গৃহবধু। ওরা তিন ভাইবোন। অস্টিন, এমিলি ও লিভানিয়া।

ঘরের মাঝখানের দরজা দিয়ে বামের ঘরটিতে গেলাম আমরা। ওটা ওদের ডাইনিংরুম। এমিলির মায়ের হাতে তৈরি কাপড়ে সুতা দিয়ে এমব্রডায়েরি করা বাক্য ‘সুইট হোম’ ফ্রেমে ঝুলন্ত – দেয়ালে। পুরানো দিনের ডাইনিংটেবিল। ঘরের কোনে ছোট্ট শোকেসে একটা বই রাখা। বইটি এমিলির মায়ের। তখনকার শিক্ষিত মায়েরা/গৃহবধুরা এই বইটি পড়তেন। বইটির নাম হাও টু বি এ গুড ওয়াইফ। রাস্তার দিকের জানালার পাশে দুটো কাঠের চেয়ারের মাঝখানে একটা কাঠের সাইড টেবিল। তার উপরে অতি পুরানো একটা ইংরেজী অভিধান। ডেবি বললেন ‘এই অভিধানটি এমিলি ডিকিনসনের। এমিলির জীবনে অভিধানের গুরুত্ব অপরিসীম।’

সেটা সহজেই অনুমেয়। এমিলির কবিতায় ম্যাটাফোরের ব্যবহার ও অভিধানের গুরুত্ব দেখার জন্য তার Hope is the thing with feathers কবিতাটির দিকে দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে। এখানে উল্লেখ্য, এমিলি ডিকিনসন আলাদা করে কবিতার নামকরণ করতেন না। কবিতার প্রথম চরণই তাই কবিতার শিরোনাম বা পরিচিতি। তার সবগুলো কবিতাকে পরে পাচটি সিরিজের আওতায় বিন্যাস্ত করা হয়েছে। এই সিরিজগুলোর নাম হলো লাইফ (Life), নেচার (Nature), লভ (Love), টাইম এন্ড ইটারনিটি (Time and Eternity) ও সিঙ্গল হাউন্ড (The Single Hound)।

          Hope is the thing with feathers 
          That perches in the soul, 
          And sings the tune--without the words, 
          And never stops at all,

এমিলি ডিকিনসন হোপ বা আশাকে ব্যাখ্যা করেছেন পাখীর সাথে তুল্য উপমা দিয়ে। হোপ বা আশা হলো একটা জিনিস (“thing”) কারণ এটা একটা অনুভূতি, যে জিনিস বা অনুভূতি পাখীর মতো। এখানে ডিকিনসন সংজ্ঞার জন্য স্টেন্ডার্ড অভিধান ব্যবহার করেছেন। প্রথমে তিনি শব্দটিকে সাধারণ শ্রেনীতে ফেলেছেন (“thing”) এবং তারপর ঐ শ্রেনীভূক্ত আর সব শব্দ থেকে নির্বাচিত শব্দটিকে পৃথক করেছেন। যেমন, বিড়ালের সংজ্ঞা হবে এই রকম: বিড়াল হলো একটি ম্যামাল । এই শ্রেনীকরণে আরো প্রানী রয়েছে সুতরাং সংজ্ঞার বাকী অংশে থাকবে যা এই বিড়ালকে অন্য ম্যামাল থেকে আলাদা করে অর্থাৎ বৈশিষ্ট্যগুলো। যেমন – যা রোমশ, রাতের শিকারী, যে সমান্য শব্দে কান খাড়া করে ইত্যাদি, সংজ্ঞার দ্বিতীয় অংশ তার গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্যের কারনে অন্যান্য ম্যামাল থেকে বিড়ালকে পৃথক ভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এমিলি তার কবিতায় তুল্য প্রানীটির নাম না করে সংজ্ঞার দ্বিতীয় অংশ থেকে এমন সব বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা উপমা হিসেবে ব্যবহার করেছেন যা ওই প্রাণীটির চিত্র মানুষের মনে সহজেই তুলে ধরে। যেমন পালক/ পালকগুচ্ছ (feathers), আসনগ্রহণ বা অবতরণ করে (perches), গান গায় (sings) ইত্যাদি যা মনে একটি পাখীর অবয়বই ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু কবিতায় কোথও পাখী শব্দটি সরাসরি নেই।

অল্প বয়সেই এমিলি বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। যেমন ক্লাসিক সাহিত্য, ভারগিল ও লাটিন, গনিত, ইতিহাস ও উদ্ভিদবিজ্ঞান। ১৮৪০ সালে এমিলি এমহার্স্ট একাডেমীতে ভর্তি হন বিজ্ঞানী ও থিওলজিয়ান এডোয়ার্ড হিচককের তত্ত্বাবধানে। এর মধ্যেই প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী এমিলি প্রমাণ করেছেন নিজের মেধা ও অধ্যাবসায়। ১৭ বছর বয়সে এমিলি বাড়ি ছেড়ে যান মাসাচুসেটসের সাউথ হেডলি (South Hadley, Massachusetts)–তে অবস্থিত মাউন্ট হলিওক ফিমেইল সেমিটারি- তে (Mount Holyoke Female Seminary) পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এক বছরের মধ্যে তিনি ফিরে আসেন। শারীরিক অসুস্থতা ও ঘরকাতরতার কারণে, কেউ বলেন কর্তৃপক্ষ মেরি লিওনের এর সাথে মতভেদের কারণে এমিলি লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। পৈতৃক নিবাসে ফিরে এমিলি তার প্রথম কবিতা লেখেন। এমিলি যদিও কলেজ ক্যাম্পাসের কাছেই থাকতেন এবং তাদের বাড়িতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী ও নেতৃবৃন্দের আসা যাওয়া ছিল। তবু তিনি সব দিক থেকে গুটিয়ে আরো বেশী সময় একা থাকতে শুরু করেন এবং নির্বাচিত কিছু বন্ধু ও আত্মীয়দের সাথে চিঠির যোগাযোগ করতেই তিনি বেশী পছন্দ করতেন।

এই ঘর থেকে আমরা ডেবিকে অনুসরণ করে বাড়ির প্রধান দরজার সামনে দিয়ে গেলাম তার পাশের ঘরে। বসার ঘর। উনিশ শতকের সোফাসেটের গোল মধ্য টেবিলে আছে একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা – ইনডিপেনডেন্ট। এই পত্রিকাটির সাথে এমিলির সম্পর্ক নিবিড়।

অস্টিনের বিয়ের পরে এভারগ্রিনসে আসা যাওয়া ছিল রালফ এমারসন ও ‘স্প্রিংফিল্ড রিপাবলিকান’ পত্রিকার সম্পাদক সেমুয়েল বোলেস এর মতো আরো ব্যক্তিবর্গের। সেমুয়েল বোলেস এমিলির দু-একটি কবিতা তার পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। ১৮৬২ সালে মাসিক এটলান্টিক পত্রিকায় কবিতা জমা দেবার এক আহবানে এমিলি সাড়া দেন। তিনি পত্রিকার সম্পাদক হিগিসনের সাথে পত্রযোগাযোগ করেন। হিগিসন তার কবিতা সম্পাদনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এমিলি তাতে সম্মত হননি। যদিও তাদের মধ্যে একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চিঠির মাধ্যমে তাদের ভাবের ও চিন্তার আদান প্রদান চলতে থাকে। অনেকে মনে করেন হিগিসনের জন্য এমিলির মনে রোমান্টিক একটা স্থান ছিল। গবেষকরা এ রকম আরো কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন।

বসার ঘরের দেয়ালে রয়েছে গ্রুপফটো। পারিবারিক সব ছবি। দেয়ালের দিকে আছে একটা বিশাল কাঠের শেল্ফ। ওটাতে বই ছিলো। এখন আর নেই। বইগুলো চলে গেছে মিউজিয়ামের লাইব্রেরীতে। আমাদের গ্রুপের মধ্যে ছিলো চারটা স্কুলের ছেলেমেয়ে। ডেবি ওদের জিজ্ঞাসা করলেন ‘উনিশ শতকের বিশেষ একটা ঘটনা কি? তখন কি চলছিল চারদিকে?’ বাচ্চা দুটো সমস্বরে বলে উঠলো – ‘গৃহযুদ্ধ।’ ডেবি বললেন ‘এই যুদ্ধ এমিলিকে অস্থির ও হতাশ করতো। যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার তীব্র অনুভূতি তার কবিতার মধ্যে এসেছে।’ এর বেশী কিছু আর ডেবি বললেন না। খেয়াল করলাম যেখানেই বিতর্কের অবকাশ আছে সেখানেই ডেবি সাবধানী ও সংযত।

এমিলি ডিকিনসনের সবচেয়ে সৃজনশীল লেখার সময়টি যদিও আমেরিকান গৃহযুদ্ধের কাল, কিন্তু তার লেখায় যুদ্ধ এসেছে কি না তা নিয়ে মতভেদ ছিল। ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি ৮৫২টি কবিতা লিখেছেন। যদিও তিনি যুদ্ধের কথা তার চিঠিতে লিখেছেন, কিন্তু বিদ্বানরা তার কবিতায় যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে এক মত নন। ১৯৭৭ সালে এডমুন্ড উইলসন ঘোষরা করেন এবং উইলসনের সাথে কেউ কেউ মনে করেন এমিলির কবিতায় কখনোই যুদ্ধের বিষয়টি আসেনি। অন্যরা আবার ডেনিয়েল এরোনকে সমর্থন করেন। ইনি ১৯৭৩ সালে যুক্তি দেখিয়েছেন যে গৃহযুদ্ধ তখন সমগ্র জাতিকে স্পর্শ করেছিল, সেই সময়ে লেখা এমিলির জোড়ালো আবেগ ও যন্ত্রণাদগ্ধ কবিতাগুলো যুদ্ধেরই ফলশ্র“তি। প্রমাণের নিমিত্তে ১৯৮৪ সালে শিরা উলুস্কি এই বিষয়ের উপরে একটি প্রামাণ্য প্রবন্ধ লেখেন যেখানে তিনি এমন সব কবিতা নির্বাচন করে দেখান যেগুলোতে সরাসরি যুদ্ধের কথা বলা আছে। ১৯৬৫ সালে থমাস ফোর্ড তার লেখায় উল্লেখ করেছিলেন কবি বিশেষ কারো কথা না বলে যুদ্ধে নিহত সবার উদ্দেশ্যে একটি কবিতায় শ্রদ্ধানিবেদন করেছিলেন। আর এই কবিতাটি হলো “It feels a shame to be Alive –” (P444)। উলুস্কি ফোর্ডের ধারনাটিকে গ্রহণ করেন এবং এটাকেই বিস্তৃত করে দেখান “My Triumph lasted till the Drums” (P1227) কবিতাটি শুধুমাত্র যুদ্ধের প্রতি ডিকিনসনের প্রতিক্রিয়াই নয় উপরন্তু এটা তার সংগ্রামের একটা অভিব্যক্তি। যুদ্ধের সাথে তার সংগ্রাম ধর্মের সাথে তার সংগ্রামের মতোই কষ্টকর। ডিকিনসনের রেখে যাওয়া চিঠিতে রয়েছে তার এক আত্মিয় ও এক বন্ধুর কথা – যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং নিহত হয়েছেন। ধীরে ধীরে এখন আরো পন্ডিতরা একমত হচ্ছেন যে এমন একজন সংবেদনশীল কবির পক্ষে গৃহযুদ্ধের মতো মর্মান্তিক ঘটনা অগ্রাহ্য করতে পারার কথা না। তার চারদিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা কোনো না কোনোভাবে তার কবিতায় তিনি চিহ্নিত করবেন।
emily-maingate.jpg
মিউজিয়ামের সমুখভাগ। বাম দিকের দোতলার জানালাটি এমিলির শোবার ঘরের জানালা। এ জানালা দিয়ে তিনি এমহার্স্ট দেখতেন। গৃহযুদ্ধের সময়ে এ জানালা দিয়েই তিনি সৈন্যদের দলবদ্ধ আসাযাওয়া লক্ষ্য করতেন। দরজার সামনে লেখকের মুণ্ডু। ফটো – এস. হাসান

বসার ঘরের জানালার দিকের একটি ড্রয়ারের উপরে রাখা আছে একটি খাতা। খাতাটিতে যত্ন করে আঠা দিয়ে লাগানো অজস্র ফুল ও পাতা, তার নিচে লেখা প্রতিটি ফুল পাতার নাম – সব এমিলির নিজের হাতে লেখা। এমিলি উদ্ভিদ ভালোবাসতেন। তাদের সূক্ষ পার্থক্যগুলো পর্যবেক্ষণ করতেন। বনজংগল থেকে তুলে এনে রাখতেন নিজের সংগ্রহে। তিনি নিজে এতো ভালো উদ্ভিদ চিনতেন যে তার একটি চিঠিতে উদ্ভিদের শিক্ষকের প্রতি কটাক্ষ রয়েছে যারা মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখেও একটি সাধারণ উদ্ভিদের পাতা চিনতে পারে না। এই বৈঠকখানার পাশে একটা ছোট্ট বারান্দার মতো। এমিলি যখন আর একবারেই বাইরে যেতেন না, যে সময়টিকে বলা হয় এমিলি ডিকিনসনের জীবনের অন্ধকার সময়, সে সময়ে এখানে দাড়িয়ে মাঝে মাঝে বাগানের গাছ গাছালি দেখতেন। প্রকৃতি এমিলির প্রিয় একটি বিষয়। কারন প্রকৃতির দিকে তাকিয়েই তিনি দেখতে পেতেন সত্য অথবা সৌন্দর্য কিংবা চিরন্তন। পাখী পতঙ্গ এবং উদ্ভিদ নানা ভাবে তার কবিতায় রয়েছে। THE SPIDER as an artist বা ‘MORNING’ means ‘Milking’ to the Farmer বা Hope is the thing with feathers, অথবা Wild Nights! Wild Nights! এরকম অজস্র কবিতা থেকে পণ্ডিতরা মনে করেন হোমস্টেড এর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব তার কবিতার ম্যাটাফোরে ছড়িয়ে রয়েছে। এমর্হাস্টের দিকে যেতে যেতে উচু নিচু পাহাড়ি ঢাল, শস্যক্ষেত্র দেখে আমিও বারবার ভাবছিলাম এটা কি গ্রাম! বাংলাদেশের মতো গ্রাম আর শহরের পার্থক্য যদি বুঝি ক্ষেত ও খামারবাড়ি দিয়ে তবে পথঘাট, বিদ্যুৎ, স্কুল কলেজ থাকা সত্ত্বেও এমর্হাস্ট গ্রাম্য এলাকা। ওদিকটায় খামারবাড়ি আর সশ্যক্ষেত্র রয়েছে প্রচুর। তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও জায়গাটি চমৎকার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপূর।

এমিলির অবিবাহিত নির্জন জীবনযাপন বহু মানুষের মনে বহু কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এমিলি ডিকিনসনের ভাস্তি মার্থা ডিকিনসনের লেখা থেকে এটা স্পষ্ট – সামাজিক কোনো কারণে বা ব্যক্তিগত কোনো অপূর্ণ আকাংখা বা অসুস্থতা তাকে অন্তপুরে ঠেলে দেয়নি। বরং তিনি নিজের শিল্পসাধনার প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় নির্জনতাকে গ্রহণ করেছিলেন। মৃত্যুর জন্যও থামতে নারাজ – তিনি তার সাধনা নিয়ে এতোই নিমগ্ন।

          BECAUSE I could not stop for Death,
          He kindly stopped for me;
          The carriage held but just ourselves
          And Immortality.

সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে আমরা দাড়ালাম ডান দিকের কোনার ঘরটির সামনে – এমিলির শোবার ঘর। জীবদ্দশায় এমিলির ঘরে দু’চারটি মানুষ এসেছে মাত্র, অথচ আজ এই ঘরে পৃথিবীর কত দিক থেকে কত মানুষের পদধুলি পড়ে! জীবনের ছদ্মবেশে ধুলো ও আত্মা, মৃত্যু বা চিরন্তন এসে উকি দিয়ে যায় তার ঘরে। বৃটিশ মনোবিজ্ঞানী হেভলক এলিস’র একটি বিখ্যাত মন্তব্য আছে ‘যন্ত্রণা ও মৃত্যু জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোকে বাতিল করা মানে জীবনকেই বাতিল করে দেয়া।’ এদিক থেকে আমেরিকান কবি এমিলি ডিকিনসন জীবনবিমুখ ছিলেন না, বরং যন্ত্রনা ও মৃত্যু তার লেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। (তেমনি জীবন, প্রকৃতি ও চিরন্তন সত্য তার লেখার অপর তাপর্যপূর্ণ বিষয়।) আর এই ঘরের সাথে এমিলির মৃত্যুচিন্তার একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি মৃত্যুকে চিত্রিত করার উপকরণও রয়েছে এই ঘরের মধ্যেই। দরজা দিয়ে ঢুকেই প্রথমে তার বিছানা। বিছানার পাশে তার মুখ ধোবার পাত্র। জানালার দিকের দেয়ালের কাছে একটা ড্রয়ার। তার পাশে একটা টেবিল ও চেয়ার রয়েছে। কিন্তু এমিলির পড়ালেখার আসল টেবিলটি হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মিউজিয়ামে নিয়ে গেছে এটা আমি আগেই জানতাম।

এমিলির ঘরে ঢুকে ঘরের দরজাটি বন্ধ করে দিয়ে ডেবি বললো ‘এই ঘরটিতে এমিলি যখন ঘুমাতে যেতো আর বোন দরজাটি টেনে দিয়ে চলে যেতো। দরজা বন্ধের সাথে সাথে কড়িডোর থেকে আসা শব্দ ও আলো যেতো নিভে, ঘরময় ঘন অন্ধকার। এই দৃশ্যটি বারবার যখন ঘটছে তখন কবি মিল খুজে পায় কফিনের দরজা বন্ধের সাথে এই দরজা ও আলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত মিল। এখানে ঘরের দরজাটি যেন কফিনের ঢাকনা ও তার বিছানাটি কফিন। আর তখনি এমিলির মনে কয়েকটি পঙ্‌ক্তি গুনগুনিয়ে ওঠে :

          LET down the bars, O Death!
          The tired flocks come in
          Whose bleating ceases to repeat,
          Whose wandering is done. 

ডেবি আমার দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বললেন ‘এইভাবে তার ঘর ও খামারবাড়ির চারদিকের পরিবেশ থেকে আহরিত এমিলির কবিতার ম্যাটাফোর।’

‘যদিও এমিলি ডিকিনসনের এই সময়টিকে বলা হয় তার জীবনের অন্ধকার সময়। যখন তিনি ঘরের বাইরে যেতেন না, নিজের ঘরে বসে পড়তেন বা লিখতেন কিন্তু এই সময়টি ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল সময়। আমাদের ট্যুরে অংশরত এক শাদা ভদ্রলোক জানতে চাইলেন ডেবির কাছে ‘ উনার কি অসুখ ছিল?’

‘কিডনির সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তা ছাড়া তার চোখের সমস্যাও ছিল। অসম্ভব মাথা ব্যথা ছিল। হয়তো চোখের কারণেই কিংবা মাইগ্রেন।’

এক শাদা ভদ্রমহিলা জানতে চাইলেন ‘ওনার কি ডিপ্রেশন ছিল?’

ডেবি উত্তর দিলেন ‘অনেকে তাই মনে করেন। কিন্তু তার লেখা অজস্র ইতিবাচক কবিতা রয়েছে। মানুষের সম্পর্ক নিয়েও উদ্বুদ্ধ হবার মতো উনি অনেক কবিতা লিখেছেন।‘

ওদের আলাপে আমার মনে পড়লো একজন মনোবিজ্ঞানী মত প্রকাশ করেছেন এমিলির অসুস্থতাও তার কবিতায় ম্যাটাফোরিকেলি উপস্থাপিত। এই মনোবিজ্ঞানী তার লেখায় ধাপে ধাপে দেখিয়েছেন এমিলির টাইম ও ইটারনিটি সিরিজের I Felt a Funeral in My Brain কবিতায় কি করে ফিউনারেল ম্যাটাফোরটি কবির বোধে মাথায় যন্ত্রণা বা ব্যথার প্রতিরূপ হিসেবে এসেছে। শবযাত্রা (Funeral) বলতে এই মনোবিজ্ঞানী বোঝেন শোক এবং তারপরে তিনি খুজেঁছেন মস্তিষ্কের শোক কি? উত্তর খুঁজে পেয়েছেন – মাথাব্যথা।

কবিতায় আওয়াজ বা ধ্বণির চিত্রকল্পের ব্যবহার ছাড়াও এমিলি তার কবিতার অস্পষ্টতা ও বিস্তৃত ম্যাটাফোর ব্যবহারের জন্য সুপরিচিত। উপরন্তু এই মনোবিজ্ঞানী শবযাত্রা (Funeral) শব্দটির সাথে একটি মাত্র শব্দের অনুসংগ খুজেঁছেন, আর তা হলো শোক। কিন্তু একটু সুস্থিরভাবে দেখলেই বোঝা যায় শবযাত্রা মানে প্রথমত কারো বিদায়। স্মৃতিকাতরতা ও শোক এখানে বিদায়ের অনুষঙ্গ। অর্থাৎ এই বিদায়ের সাথে জীবন্তদের যে আবেগটি জড়িত তা হলো শোক। সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না এখানে শবযাত্রা বলতে মাথার ভেতর ব্যথাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। যদিও তাকে ধন্যবাদ। মস্তিষ্কে এ শবযাত্রা (Funeral) বলতে হয়তো তার ক্রমশ চোখের জ্যোতি কমে যাবার অসুখের কথা বলেছেন। মাথা ব্যথা হয়তো একটা উপসর্গ। শবযাত্রা বলতে আমরা বুঝি আমাদের মধ্যের কারো একজনের বিদায়। এমিলির মস্তিষ্কে ক্রমশ তার দর্শনেন্দ্রীয়র অংশটি কার্যকারিতা হারাচ্ছিল সেই বোধটিকেই তিনি হয়তো এভাবে প্রকাশ করেছেন, যদি তিনি তার অসুস্থতাকে নির্দেশ করে থাকেন। কিংবা এমনো হতে পারে তিনি ঘুমকে বুঝিয়েছেন। মানুষের যখন ঘুম আসে তখন তার মস্তিষ্কে আংশিক চৈতন্যের বিদায় ঘটে। কিংবা পরের লাইনগুলো থেকে মনে হয় ঘুমাতে চাইছেন ঘুমটি ঠিকমতো আসছে না।

I FELT a funeral in my brain,/And mourners, to and fro,/
কিন্তু যখন কবিতার অন্য চরণগুলো দেখি, (যেমন Kept treading, treading, till it seemed/ That sense was breaking through./) তখন মনে হয় না এ কবিতাটি কোনো ব্যথার বর্ণনা করছে।
And when they all were seated, /A service like a drum/ Kept beating, beating, till I thought/ My mind was going numb./
কিন্তু কবিতার শেষ স্তবক পড়ার পরে মনে হয় অসুস্থতা বা ব্যথা বা ঘুমের সমস্যার চেয়েও জরুরী কোনো আত্মোপলদ্ধি বর্ণনার জন্যই উপরের স্তবকগুলোর আগমন (As all the heavens were a bell,/ And Being but an ear,/ And I and silence some strange race,/ Wrecked, solitary, here.)|

এমিলি ডিকিনসনের জীবন তার নিজস্ব আধ্যাত্মিক চিন্তায় পূর্ণ। আত্মিক বিশুদ্ধতা ও চিরন্তনতা নিয়ে তার ভাবনা তার লেখায় সুস্পষ্ট। নিজের ধর্মতত্ত্বের উপরে তার ছিল অগাধ আস্থা আর এ কারণেই স্বজনের চেয়েও এমিলি ডিকিনসন ছিলেন স্রষ্টার অস্তিত্বে অনেক বেশী নিশ্চিত। তিনি কখনো দাবী করেননি স্রষ্টাকে তিনি সম্পূর্ণ জানেন বা বোঝেন। তার অনেক কবিতায় দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার ভার লক্ষনীয়, কিন্তু তা ঈশ্বর ভীতির চেয়ে অনেক বেশী স্রষ্টাকে না বোঝার মানসিক দ্বন্দ্বপ্রসূত। তার সীমাহীন জিজ্ঞাসা তাকে উন্নিত করেছিল শিশুসুলভ সরল দৃষ্টিভংগীর দরজায়। যেখানে এমিলির কাছে সত্য মানেই প্রকৃতি। আর সেই সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে তিনি সরাসরি অনুভব করতে পারতেন তার স্রষ্টাকে।

          "I died for beauty, but was scarce 
          Adjusted in the tomb, 
          When one who died for truth was lain 
          In an adjoining room. 

          He questioned softly why I failed? 
          "For beauty," I replied. 
          "And I for truth, -the two are one; 
          We brethren are," he said. 

          And so, as kinsmen met a night, 
          We talked between the rooms, 
          Until the moss had reached our lips,                
          And covered up our names."

একটি বিষয় যা সারাক্ষণ এমিলি ডিকিনসনকে তাড়া করে ফিরেছে তা হলো তার সত্যের চাহিদা। এমিলি তার নিজের চোখে এ সত্য দেখতে চেয়েছেন, নিজের হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে চেয়েছেন। গির্জার যাজকের খুতবা থেকে আহরণের চেয়ে তিনি নিজেই ব্রতী আপন ভাষায় নিজের কাছে সেই এক অদ্বিতীয়কে ব্যাখ্যায়। মৃত্যুও সেখানে মামুলি, তিনি এখানে এতোটাই দৃঢ় ।

যে আত্মিক স্বাধীনতা এমিলি ধারন করতেন তা তার সময়কার আমেরিকার নারীদের মাঝে ছিল বিরল। এই আত্মবিশ্বাসই ক্রমাগত প্রতিধ্বনিত হয়েছে তার কবিতার মাঝে।

অন্ধকার সময় দ্রুত ঘনিয়ে এলো এমিলির জীবনে। চোখের ডাক্তার দেখানোর জন্য ১৮৬৪ ও ৬৫ সালে এমিলি তার মামাতো ভাইবোনদের বাসায় আতিথ্য গ্রহণ করেন বস্টনে। তখন তিনি লিখতে ও পড়তে পারছিলেন না। সম্ভবত এটাই তার শেষবারের মতো এমর্হাস্ট থেকে বাইরে যাওয়া। ১৮৭০ সালের শুরুর দিকে এমিলির মা বিছানায় পড়ে যান এবং ওরা দু’বোন তখন মাকে দেখাশোনা করতেন। ১৮৭৪ সালে হঠাৎ এমিলির বাবা মৃত্যুবরণ করেন, তখন এমিলি সম্পূর্ণভাবে লোকচক্ষুর সামনে যাওয়া বন্ধ করে দেন, যদিও তিনি তার যোগাযোগগুলো তখনো চিঠিতে রাখতেন। সেই সময়টি তিনি তখন তার ডেস্কে বসে লিখতেন এবং তার নির্জনতা উপভোগ করতেন।

          AS children bid the guest good-night,
          And then reluctant turn,
          My flowers raise their pretty lips,
          Then put their nightgowns on.

‘তার ডেস্কের সামনের জানালা দিয়ে দেখতেন এমর্হাস্টের পথ আর পাশের জানালা দিয়ে দেখতেন এভারগ্রিনস। ভাইয়ের বাচ্চাগুলো দুই বাড়ির মাঝখানে ছুটাছুটি করে খেলতো। কখনো এমিলির জানালার নিচে দাড়িয়ে তাকে ডাকতো। ঝুরি নামাতে বলতো। জানালা খুলে এমিলি কাপড়ে বেধে একটা ঝুরি নামিয়ে দিতেন। আর সেই ঝুরি ভরে ভাই ও ভাবির পাঠানো খাবার ও ফল দিতো ওরা। এমিলি সেগুলো উপরে তুলে আবার ঝুরি নামাতেন। সেখানে থাকতো কখনো অন্য কোনো ফল, চকলেট বা একটা কবিতা।‘

‘ডিকিনসন তার এই অন্ধকার সময়েও বাচ্চাদের সাথে বাইরে বসেছেন, ওরা যখন খেলত তখন তিনি বাইরে ওদের জন্য কখনো রান্না করতেন। তবে পরের দিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সব সময় সেটা হয়ে উঠতো না। তখন তিনি নিচের বারান্দায় এসে দাড়াতেন। যখন এমিলি বিশেষ কারো সাথেই আর দেখা করেন না, তখনো ভাস্তি মার্থার সাথে তার আদান প্রদান ছিল ভালো।

          DEATH is a dialogue between 
          The spirit and the dust.

‘১৮৮৬ সালে এমিলি ডিকিনসন লোকান্তরিত হন। মৃত্যুর আগে তিনি তার ছোটবোন লেভিনিয়াকে একদিন ডেকে বালিশের নিচ থেকে বের করে তার হাতে তিনটি পান্ডুলিপি দেন। নিজের হাতে সেলাই করা বইয়ের মতো তিনটা পান্ডুলিপি।’ কথাগুলো বলতে বলতে ডেবি আমার হাতে তিনটি পান্ডুলিপি তুলে দিলো।

মুহূর্তে অক্কা পেলাম আমি। আমার মনে হলো আমি যেন মুর্হূতে হয়ে গেছি ধুলো। আমার বুকের পাখী আমার হাতের তালুতে এসে বসেছে, এই বুঝি যাবে উড়ে। পাশ থেকে ভেসে এলো একটা কন্ঠস্বর। কেউ একজন বললো – ‘এটা তো ফটোকপি, তাই না?’ তখন কাদার চাদর গায়ে আমি প্রশ্নের সমুদ্র নড়ে উঠলাম। একটা পান্ডুলিপি পাশের জনকে দিলাম, কেউ একজন ইতিমধ্যে আরেকটা আমার হাত থেকে নিজেই তুলে নিয়েছেন। আমার হাতে যেটা ছিল সেটা আমি উল্টেপাল্টে দেখে পড়ার চেষ্টা করলাম। কতক্ষন জানি না, বেশ একটুক্ষন পরে আমি পড়তে শুরু করলাম – দিস ইজ মাই লেটার টু দ্যা ওয়ালর্ড। কিন্তু ওখানেই থামতে হলো। অন্যরাও ফটোকপি পান্ডুলিপিটি হাতে ধরে দেখতে চান। এমিলি দিস্তা কাগজ সেলাই করে খাতা বানাতেন আর তাতে লিখতেন পেন্সিল দিয়ে। আমাদের হাতে যে পান্ডুলিপি সেটা সেলাই করা। লেখাগুলো একটু গাঢ় – কলমের কালির মতো।

এমিলি ডিকিনসনের ঘর থেকে বেরিয়ে ডেবি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কোরিডোরে শোকেসে রাখা তার শাদা জামাটির দিকে। উনিশ শতকের ইউরোপিয়ান আমেরিকান নারীরা যেমন সর্বাঙ্গে আচ্ছাদিত জামা পরতেন তেমনি একটা শাদা পোষাক। পোষাকের ডান দিকে একটা পকেট আছে। এই পকেটে একটা দিস্তা কাগজের সেলাই করা খাতা ও একটা পেন্সিল থাকতো অধিকাংশ সময়। এ জামাটির কলারে, হাতে ও পকেটের উপর লেভিনিয়া বেগুনি রঙের সুতার নকশা করে দিয়েছিলেন। শেষের বছরগুলোতে এমিলি শাদা পোষাক পড়তে খুব পছন্দ করতেন। মৃত্যুর সময় এমিলি ডিকিনসনের পরনে এমনি একটি পোষাক ছিল। তার মরদেহ কোনো চার্চে নেয়া হয়নি, বাড়িতেই জড়ো হয়েছিল কিছু মানুষ আর সেখান থেকে কবরস্থানে।
emily-museum.jpg
মিউজিয়ামের সাইনবোর্ড। মনোগ্রামটি কবির জীবন ও কর্মের প্রতীক। ছবি – লেখক

এমিলি ডিকিনসন মিউজিয়াম দেখা যখন প্রায় শেষ, আমরা সিড়ি দিয়ে নেমে এলাম বাড়িটির সদর দরজায়। বাইরে বের হয়ে পায়ে পায়ে সবাই জড়ো হলাম বাগানের বিশাল ওক গাছের নিচে। এই গাছের কাছে দাড়িয়ে এমিলি কোনো কবিতা লিখেছেন কি না জানি না, তবে কখনো কবি তার বাড়ির বাচ্চাদের জন্য রান্না করেছেন। আমাদের গাইড ডেবি তাই বললেন। ডেবি জানতে চাইলেন –‘কারো কোনো প্রশ্ন?’ আমি ঘড়ি দেখলাম। পরবর্তী ট্যুরের সময় আসন্ন। সওয়াল জবাব স্বল্প সময়ে পূর্ণ হবে না। ডেবি আমাদের সবার হাতে একটি করে লেমিনেটেড কবিতা দিলেন। সবাই তাদের যার যার কবিতা পড়লো। আমি আমার হাতের কবিতাটির দিকে তাকালাম, কবির বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে পড়তে শুরু করলাম কবিতাটি :

          This is my letter to the world,
          That never wrote to me,--
          The simple news that Nature told,
          With tender majesty.
          Her message is committed
          To hands I cannot see;
          For love of her, sweet countrymen,
          Judge tenderly of me!

আমার কণ্ঠস্বর আমার কানে গেঁথে রইলো – For love of her, sweet countrymen, Judge tenderly of me! সব! এমিলি ডিকিনসনের কাজ ও জীবন নিয়ে যেসব তদন্ত হয়েছে সৌভাগ্যবশত সবই আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়নি। যেমন, তার স্বেচ্ছা নির্বাসনকে প্রথমে মানুষ যেভাবে দেখছিলেন সে-সব দৃষ্টিভঙ্গী বদলে গেছে। কোনো সমাজবিরোধী অনুভূতি বা কোনো ব্যর্থতা এমিলি ডিকিনসনকে সমাজ থেকে গুটিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেনি। বরং স্বতস্ফূর্তভাবে নিজের সামাজিক জীবনের উপরে নিজেই কিছু সীমা টেনেছিলেন তিনি নিজের চূড়ান্ত শৈল্পিক ঐক্য অর্জনের জন্য, নিজের আত্মিক জগতকে আবিস্কারের উদ্দেশ্যে। এক কথায়, সত্য অনুসন্ধান ও শিল্পসাধনা ছিল তার আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসাজাত যা দ্বারা তার অর্ন্তজগত ও একান্ত জীবন পরিচালিত। আর তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার কাব্যিক সম্ভারে। তার এই আধ্যাত্মিকতা চিরাচরিত ধর্মাচার থেকে অনেক আলাদা। অতি উচ্চমার্গীয় শিল্পসাধনায় এমিলি ডিকিনসন নিজেই তার নিজের সূত্র। প্রচলিত কবিতার ব্যকরণ দিয়ে যেমন তার কবিতাকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তেমনি নারীদের প্রচলিত সামাজিক জীবনকে মানদন্ড ধরে ডিকিনসনকে বুঝতে চাইলে সে অনুসন্ধান কোথাও পৌঁছে না। তাই তাকে ও তার লেখাকে বিচার করতে হবে তার স্বতন্ত্র অবস্থান থেকেই।

বোস্টন, নভেম্বর ১২, ২০০৭

আনুষঙ্গিক তথ্য

ট্যুর
এই মিউজিয়ামের দুটি গৃহে প্রবেশের একমাত্র পথ হলো এখন গাইডেড ট্যুর। লেন্ডস্কেপের অডিও ট্যুরো পাওয়া যায়। মিউজিয়ামে ট্যুরগুলো আয়োজন করে ট্যুর সেন্টার। সেন্টারটি মিউজিয়ামের ভেতরেই রয়েছে। এই ট্যুর সেন্টারে গিফ্ট সপ রয়েছে। প্রাথমিক একটা ধারণা দেবার জন্য অভ্যর্থনা কক্ষের পাশের ঘরটিতে রয়েছে পরিচিতি প্রদর্শনী। আগে থেকেই ওদের সাথে যোগাযোগ করে আয়োজন করা যায় দলীয় ট্যুর। ২০০৭ সালে অক্টোবর থেকে মধ্য ডেসেম্বর পর্যন্ত বুধবার থেকে রোববার ১২:৩০ থেকে ৫:৩০ পর্যন্ত প্রতিদিন খোলা। মধ্য ডেসেম্বর থেকে ২০০৮ সালের ফেব্রয়ারী পর্যন্ত মিউজিয়ামটি বন্ধ থাকবে। আবার মার্চ ২০০৮ সালে এই সময় অনুযায়ী এটা খোলা থাকবে। পাকিং ও পথনির্দেশনার জন্য ইন্টারনেটে ডিরেকশন পাওয়া যায়। ওদের রয়েছে ওয়েবসাইট।

তথ্যপঞ্জি
1. An Emily Dickinson Encyclopedia. (1998) Contributors: Jane Donahue Eberwein – editor. Greenwood Press. Westport, CT. Page Number: 40.

2. Emily Dickinson Museum the homestead & the evergreens (Leaflet), published by Emily Dickinson Museum (2007), Amherst, Massachusetts.

3. Heaven Beguiles the Tired: Death in the Poetry of Emily Dickinson. (1966) Contributors: Thomas W. Ford – author. University of Alabama Press. University, AL. Page Number: 18.

4. The complete poems of Emily Dickinson Edited by Thomas H. Johnson (1961)
5. The Gift of Screws: The Poetic Strategies of Emily Dickinson. Contributors: R. Bruce Ward (1994) Publisher: Whitston Publishing. Troy, NY. Page Number: 1.

6. The Language of Exclusion: The Poetry of Emily Dickinson and Christina Rossetti. (1987) Contributors: Sharon Leder, Andrea Abbott – author. Greenwood Press. New York. Page Number: 58.

7. The Life and Letters of Emily Dickinson by Martha Dickinson Bianchi (1971); Biblo and Tannen, 388 pgs. New York. :. Page Number: 4.

8. The life of Emily Dickinson, by Richard B. Sewall (1994), 6th printing, Harvard University press, Cambridge, Massachusetts.

selina_sikder@yahoo.com

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফকরুল চৌধুরী — december ২, ২০০৭ @ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

      লেখাটি পরে আমিও ঘুরে এলাম এমিলি ডিকিনসন মিউজিয়ামে। আর জানলাম কীভাবে দেখতে দেখতে শেখা-জানা যায়। ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে সেলিনা শিরীন শিকদার আমাদের একজন কবির সমগ্রতা অতি কুশলতায় জানিয়ে দিলেন।

      আমি একবার কবি জসীম উদদীনের বাড়ি গেছিলাম। মনে হল, তার বাড়িটি নিয়ে তো এমন একটি আয়োজন করা যায়। তার লেখার সাথে তার জন্মভূমির অবিকল ভূদৃশ্যগত মিল দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম। সৃষ্টি এবং স্রষ্টার মধ্যে অদ্ভুত মিল দেখি।

      লেখাটির জন্য সেলিনা শিরীন শিকদারকে ধন্যবাদ।

      ফকরুল চৌধুরী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Tariq Rahman — december ৮, ২০০৭ @ ২:১৬ পূর্বাহ্ন

      এমিলি ডিকিনস তার লাইফস্টাইল (চিন্তায় এবং যাপনে) শব্দে ও ছবিতে জানলাম। ভার্জিনিয়া উলফ-এর এ রুম অফ মাই ওন পড়েছি ও চলচ্চিত্র দেখেছি। পড়া শেষেই উলফের কথা মনে হচ্ছিল। ভ্রমণ লেখা পাঠে ভ্রমণের আনন্দ ও অনুসন্ধিৎসু পর্যবেক্ষণ পাওয়ায় আরও কোনও লেখা পাঠের আগ্রহ প্রকাশ করছি। রুপকথার কল্পনা প্রবণ লেখকের থেকে ভ্রমণের এমন শিশুতোষ চোখে গভীর পর্যবেক্ষণ কাঙ্ক্ষিত ছিল। সম্ভব হলে ডিকিনসনের কবিতার নির্বচিত পঙ্‌ক্তিগুচ্ছ ভাষান্তর প্রত্যাশায়। ভালো থাকবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহমুদা — december ১৮, ২০০৭ @ ৩:০০ অপরাহ্ন

      যখন এসেছি কেউ চিনতো না আবার যখন চলে যাবো কেউ চিনবে না , জানবে না..। একা নীরবে চলে যাবো…। স্বপ্ন ছিলো লেখক হবো কিন্তু হলো না। এই লেখাটি পড়ে লেখক হবার স্বপ্ব দেখছি। এমিলি ডিকিনসন-এর নাম আগে শোনা হয় নাই।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com