গুলশানের কচুর শাক

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১৫ এপ্রিল ২০১০ ১:৫৮ পূর্বাহ্ন

beel-chanda-y-aporahnner-chhaya-ghonay.jpg
বিল চান্দায় অপরাহ্ণের ছায়া ঘনায়

লেখার শিরোনাম কোনো চমকের উপস্থিতি নয়, এ শিরোনাম বিশুদ্ধ কৃতজ্ঞতাবোধ-উৎসারিত। আমার স্ত্রীকে সেই শুক্কুরবার রাতেই—উইথ মাচ ক্যনভিকশ্যন—বলেছিলাম যে, ঐ রাত্তিরে চেটেপুটে খাওয়া সেই অপূর্ব ব্যঞ্জন বিষয়ে লিখব। মনে মনে এটাও ভেবেছিলাম, আমি যেমন সহজে অনেক কিছু ভুলে যাই, এক্ষেত্রে তেমনটি হওয়া চলবে না।
—————————————————————–
বললে তো বড়াই করা হবে—পদ্মার এপার থেকে সেই কোলকাতার এপাশ পর্যন্ত সর্বত্রই আমার মাতৃকূলের সুবিস্তৃত নেটওয়র্ক—প্রয়োজনে সূত্র ধরে একটু বাঁয়ে-ডানে পাঁচকদম হাঁটলেই মা বকুলের মামাতো-ফুপাতো-খালাতো ভাইবোন, বৈবাহিক বা তস্য বৈবাহিকের সাদর আহবান শুনতে পাওয়া যাবে এখনো, আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ইকবালেরও তাই। সেকথা বলতেই মোকাম্মেল লাজুক হেসে মনে করিয়ে দেয়, স্যর ঠিকই বলিছেন, এই যে এক্স-মৎস্য সচিব ডঃ ইউসুফ আলি—যিনি আপনাগের দু’ভায়ের সঙ্গে একই ঘরে বসেন বিসিএএস অফিসে—উনিও তো ইকবাল স্যরের দাদা, আপনার নানা আর আমারও ওই নানা-ই হন।
—————————————————————-
jalabhumi-gabeshona-kendre.jpg……..
জলাভূমি গবেষণা কেন্দ্রে
………
আরম্ভ সেই ছুটির দিনে সকালে, যখন ভাড়া করা নোয়া ভ্যানটির চালক সেলিম আমাকে সাড়ে সাতটার দিকে ফোনে জানাল, সে সুবাস্তু নজর ভ্যালির সামনে পৌঁছে গেছে। আরো জানলাম, সে রুবাই বা সাজ্জাদ—আমাদের মেয়ে-জামাই—কারো ফোন নম্বর জানে না। বুঝলাম, রুবি আমাকে ভুল তথ্য দিয়েছে। অতএব, আবার মা-মেয়ে-জামাইয়ের মাঝে ফোনালাপ চলল। আমি স্নান করতে গেলাম। স্নান সেরে, পোশাক বদলে নিতে-নিতেই মেয়ে-জামাই নিচে পৌঁছে জানান দিল। আমি, রুবি, ফরিদা—যার-যার ব্যাগ নিয়ে, ফ্ল্যাটের দরজা সিকিওর করে নেমে গেলাম। ড্রাইভার সেলিম আমাদের ব্যাগ তুলল। যাত্রা শুরু হল। রুবি গাড়িতে উঠেই তার খাবারের পেটিকা খুলল। রুবাই, সাজ্জাদকে বার্গার দিল খেতে। মা-মেয়ের আলাপ শুনেই বুঝেছিলাম, আলসে মেয়ে আমাদের কোনো মতে ঘুম থেকে উঠে গাড়িতে চেপেছে। নাশতা-টাশতা হয়নি।

ড্রাইভার সেলিম বাহাদুর ছেলে। বুধবার উবিনীগ-এর বিষ্ণুপুর প্রকল্প দেখতে গিয়েছিলাম। যাবার পথে রুবি সবাইকে—অর্থাৎ সাজ্জাদ, রুবাই, বাদল ও আমাকে এগরোল খেতে দিয়ে সেলিমকেও একটা রোল এগিয়ে দিল। অতএব, একহাতে সেটি গ্রহণ ও আরেক হাতে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ওর আর কিছু করবার ছিল না। তাতে আমাদের কন্যা সাতিশয় বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিল, ‘মা, তুমি ওকে খাবারটা পরে দিলেই পারতে। আব্বুকে কখনো হাইওয়েতে একহাতে স্টিয়ারিং কন্ট্রোল করতে দেখেছো? আব্বু ওর চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ গাড়িচালক নিশ্চয়ই।’ মেয়ের কনফিডেন্স, সেন্স অব সিকিয়রিটি বুঝতে পেরে রুবি চুপ করে গেল। আমি মনে মনে হেসে খুন। সেদিন সেলিমই, বার্গার খেতে খেতেই, সকলের মুখরক্ষার খাতিরে শেষ বাক্যটি বলেছিল, ‘আপু ঠিকই বলেছে, ম্যাডাম। আমার কোনো অসুবিধা হয় নাই যদিও।’

বোধকরি সেদিনের কথা মাথায় রেখেই রুবি সেলিমকে খাবার অফার করা থেকে বিরত রইল। আমি বললাম, ‘সেলিম আর আমি পাটুরিয়া পৌঁছে আরামসে খাব।’ সেলিম নড করে সমর্থন জানাল। যাব যেহেতু আমরা বিল চান্দা, মাওয়া ঘাট হয়ে যাওয়াই জ্বালানি সাশ্রয়কর সিদ্ধান্ত হত। কিন্তু ঐ ঘাটটি ঘিরে আমার মনে, বিশেষ করে সঙ্গে পরিবার-পরিজন থাকায়, এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি কাজ করে থাকে। মনের ভেতরে দুঃশ্চিন্তা কাজ করে, ফেরি চলছে তো? গিয়ে বসে থাকতে হবে নাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা? ঘাটমোড়লদের কাছে গিয়ে চুপি চুপি নিজের পরিচয় দিয়ে, ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে ওদের কেউ একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে, তবে তো ফেরিতে ওঠা আর ওপারে পৌঁছনো? ভাল লাগে না আমার—বিস্বাদও লাগে চোরের ওপর বাটপারি চাল চালতে। তাই সেলিমের পরামর্শমতো আমরা প্রায় দ্বিগুণ পথচলা স্বীকার করে নিয়ে ঘুরপথে পদ্মা পার হতে চলেছি। ঘাটের অনতিদূরে একটি ফুয়েল ডিপো থেকে ট্যাংক ভরে অক্টেইন আর সিলিন্ডার ঠেসে গ্যাস নেয়া হল।

ফৌজি জীবনের শিক্ষা—মুসাফির হালতে ফুয়েল আর খাদ্যদ্রব্যের সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে—আমি আর রুবি সর্বদাই মেনে চলি। পরিবারের বাইরের কেউ কখনো আমাদের সহযাত্রী হলে সেটা টের পায়, মন্তব্যও করে কেউ কেউ—নির্দোষ অথবা কিঞ্চিৎ হুল ফোটানোর চেষ্টাও থাকে। আমরা গায়ে মাখি না। পাটুরিয়া ঘাট পেরিয়ে ওপারে পৌঁছে আমি সাজ্জাদের জ্ঞাতার্থে পরিচিত হাইওয়ের দু’পাশের ল্যান্ডমার্কগুলির পরিচয় দিতে থাকলাম। পল্লীকবির মাতুলালয়, রাজবাড়ির ক্ষিরের চমচম, আকবর কবীরের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা—দেখতে দেখতে ফরিদপুর এসে গেল। গাড়ি চলছে, চলছে রকমারি স্ন্যাক খাওয়া, চিপস চিবোনো, ডাবের জল পান, চা-পান আর আমার ধূমপান—শেষেরটা অবশ্য গাড়ি থেকে নেমেই করছি।
—————————————————————–
ফরিদপুর শহরের ভেতরে না ঢুকেই প্রায় বেরিয়ে যাওয়া যায়। আমার কাছে এটা ভালই লাগে—এই-যে শহরটাকে দেখাও হল, আবার ডাউনটাউন যাকে বলে, সেই গাদাগাদি ভিড়ভাট্টা এড়ানো গেল! পুরোপুরি পাশ কাটানো হাল আমলের ‘বাইপাস’-এর সুবিধা ভোগ করতে গিয়ে আমাদের অনেকেরই মূল জায়গাগুলির সঙ্গে দেখাই হয় না।
—————————————————————-
বিসিএএস—বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্‌ স্টাডিজ (আমি দু’দশক আগে ঐ সংস্থার কর্মী ছিলাম)-এর গোপালগঞ্জের জলিরপাড়-ভেন্নাবাড়ি কেন্দ্রের কর্মী করিম ফোনে নিশ্চিন্ত করল, আমার পছন্দের জায়গা গণউন্নয়ন প্রচেষ্টার খালিয়া রাজবাড়ি বিশ্রামাগারে দু’টি ঘর বুক করা হয়েছে। দুপুরে পৌঁছে ওখানে ব্যাগ ট্যাগ রেখে, হাতমুখ ধুয়ে আমরা যেন সোজা ডব্লিউআরটিসি (জলাভূমিভিত্তিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র)-তে যাই। ফরিদপুর শহরের ভেতরে না ঢুকেই প্রায় বেরিয়ে যাওয়া যায়। আমার কাছে এটা ভালই লাগে—এই-যে শহরটাকে দেখাও হল, আবার ডাউনটাউন যাকে বলে, সেই গাদাগাদি ভিড়ভাট্টা এড়ানো গেল! পুরোপুরি পাশ কাটানো হাল আমলের ‘বাইপাস’-এর সুবিধা ভোগ করতে গিয়ে আমাদের অনেকেরই মূল জায়গাগুলির সঙ্গে দেখাই হয় না। শহর পার হতেই আমি সাগ্রহে বাঁয়ে তাকিয়ে রইলাম—কখন সদরপুর-আটরশি যাবার সেই সরু পিচরাস্তা এই মহাসড়ক থেকে বেরিয়ে যাবে! রুবিকে (গাড়ির সকল যাত্রীর জ্ঞাতার্থেও বটে) বলতে লাগলাম—বছর কুড়ি আগে আমার বিসিএএস-এ সহকর্মী, বন্ধু ও মামাতো ভাই সৈয়দ ইকবাল আলি (একই সময়ে যে আবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোলের শিক্ষকও), মৎস্য অধিদপ্তরের বিশেষ প্রকল্প ‘জাল যার, জলা তার’ প্রকল্পের পরিচালক মোকাম্মেল হোসেন ও আমি ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিতে আর এ্যান্ড এইচ-এর রেস্ট হাউসে রাত কাটিয়ে, ব্যাগ ট্যাগ রেখে জিপে চড়ে এই পথে চলেছিলাম আটরশির পাশ দিয়ে একেবারে পদ্মার ধারে – ওখান থেকে পাঙাশের নৌকোয় উঠব জেলা ফিশারি কর্মকর্তা সত্যবাবুর সঙ্গে—ঘুরব পদ্মা-যমুনার বলবন্ত পাঙাশ ফিশারি বেল্টে।

kendrer-kormi-teler-ghanite-kaj-korchhen.jpg
কেন্দ্রের কর্মী তেলের ঘানিতে কাজ করছেন

তো সেই মোকাম্মেল হোসেনের বাড়ি আবার আমার নানাবাড়ি আর ইকবালের দাদাবাড়ির লাগোয়া পাংশা উপজেলার গ-গ্রামে। বললে তো বড়াই করা হবে—পদ্মার এপার থেকে সেই কোলকাতার এপাশ পর্যন্ত সর্বত্রই আমার মাতৃকূলের সুবিস্তৃত নেটওয়র্ক—প্রয়োজনে সূত্র ধরে একটু বাঁয়ে-ডানে পাঁচকদম হাঁটলেই মা বকুলের মামাতো-ফুপাতো-খালাতো ভাইবোন, বৈবাহিক বা তস্য বৈবাহিকের সাদর আহবান শুনতে পাওয়া যাবে এখনো, আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ইকবালেরও তাই। সেকথা বলতেই মোকাম্মেল লাজুক হেসে মনে করিয়ে দেয়, স্যর ঠিকই বলিছেন, এই যে এক্স-মৎস্য সচিব ডঃ ইউসুফ আলি—যিনি আপনাগের দু’ভায়ের সঙ্গে একই ঘরে বসেন বিসিএএস অফিসে—উনিও তো ইকবাল স্যরের দাদা, আপনার নানা আর আমারও ওই নানা-ই হন। আমরা সকলেই, বুঝলে রুবি, যে যাই করি না কেন—একই জীবনাদর্শের অনুসারী ছিলাম। খাওদাও, দেখ, শোন আর গুড ফিলিংস-এর কথা বলে বেড়াও চারধারে। ছড়িয়ে দাও ভালবোধ করার বাণী, অহিংসা আর ওয়েলবিয়িং-এর বার্তা সেসব—গাছ কেটো না, জলাশয়ের পানি সেঁচো না, বঁড়শিতে টুকটাক মাছ ধরে ঝোল রেঁধে খাও। সব সাবড়ে খরচ করে ফেলো না – অর্থাৎ হাভাতেপনার বিরুদ্ধে আমরা ক’জন কেবল সমৃদ্ধি আর ভালবোধের কথা বলতেই বেশি আগ্রহী ছিলাম।

কথা বলতে গিয়ে ট্র্যাক বদলালেই পার্শ্ববর্তী কেউ না কেউ সেটা ধরে, ধরিয়েও দেয়, ফলে বেশি এদিক-সেদিক যাওয়া-আসা হয়ে ওঠে না কথকের। কিন্তু লিখতে বসলে আর আপনাকে আটকায় কে, যেদিকে যতদূর ইচ্ছে চলে যান, আবার ইচ্ছেমতো ফিরে এসে আরেক সুতো ধরে আরেক পথে উড়াল দিলেন। এরিমধ্যে কতবার নাকি ভেন্নাবাড়ি থেকে করিম ফোন করে জেনেছে, আমরা কতদূর এলাম। আচ্ছা, ছেলেটি এত ব্যস্ত হচ্ছে কেন? আমি ভাবি, বলেও ফেলি। রুবির ঝটিতি উত্তর, ভাববে না বেচারি, ও ইতোমধ্যে বাজার করে, ওর বউ গুলশানকে রান্নার যোগাড় করে দিয়ে, তোমাদের যথাসাধ্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে রাখছে আর সেটার জানান দেবে না? সামান্য অ্যাপ্রিসিয়েইশ্যনটুকুই তো ওর পাওনা—তো সেটার প্রাপ্তিযোগ নিশ্চিত করতে দোষ কী? না, না, দোষের তো কিছু নেই, আমার যে এদিকে সুতো, মানে ভাবনার বিচিত্র সূত্র, কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরি—করিমকে অ্যাটেন্ড করলে তো আমার এখন চলবে না, ওটা তুমিই চালিয়ে যাও, তবে বেফাঁস কিছু বলবে না। ওই তো তোমার গুণ—সবই নিজে করবে, নইলে কোয়ালিটি ব্যত্যয় ঘটে যাবে—কী লোকের পাল্লায় যে পড়েছি। রুবি গজগজ করে।

মেয়ে, জামাই, সেলিমের মুচকি হাসির মাঝেই রুবি ‘আবার করিম’ বলে আমার সেলফোন হাতে তোলে… আমি কুড়ি বছর আগের আটরশি দরবার শরীফের পাশ দিয়ে চলে যাই, মোকাম্মেল-সত্য-ইকবাল-পাজেরোর জাঁদরেল ড্রাইভারের আটরশি দরবারী অভিজ্ঞতার বিচিত্র কাহিনি শুনতে শুনতে, একসময় শীতে সঙ্কুচিত পদ্মার বিস্তীর্ণ বালুবেলায় গিয়ে নামি। ব্যাগ একপাশে ঝুলিয়ে একটু কায়দা করে হাঁটতে শুরু করি। তখন বয়স কেবল চল্লিশ ছুঁয়েছে, শরীরে অফুরন্ত বল। কিন্তু বালুময় ভূমিতে তরুণদের সঙ্গে হাঁটতে গিয়ে আমাদের দু’ভাইয়ের প্রাণ ওষ্ঠাগত—আক্ষরিক অর্থেই। বলি, মোকাম্মেল, সত্য, আর কদ্দূর রে ভাই? এই তো স্যর, সামনেই পদ্মার ঘাট, আপনারা চাইলেন বলেই না আসা এপথে—নইলে আরো পশ্চিমে ফরিদপুরের কাছাকাছি কোনো জায়গা থেকেও ওঠা যেত। সত্য বলে। যাকগে, নামবার সময় আমরা এখান থেকে উজানে—ড্রাইভারকে বলে দেব—নৌকায় উঠি আগে। জিরিয়ে জিরিয়ে, বিস্কুট-জলটল খেয়ে, জলবিয়োগ করে, কোমরের পেশি আর চর্বি যখন প্রায় জমাট বেঁধে গিয়েছে, তখন মোকামে পৌঁছনো গিয়েছিল। নৌকায় উঠেই, শার্ট খুলে ফেলে, পা ঝুলিয়ে চিত হয়ে পড়েছি। মাঝি-মাল্লাদের কেউ কেড্স খুলে নিয়েছে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে উঠে বসে ব্যাগ থেকে শুকনো শার্ট বের করে পরলাম। বেলা পড়ে যাবার সঙ্গে-সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস কন্‌কনে ধারে কেটে বসছে পরিবেশে, আবহে, ত্বকে।

এই যে তোমার তালগাছের সারি… আর তো পনের-কুড়ি কিলোমিটার বাকি, তাই না? রুবির প্রশ্নে দ্রুত অপসৃয়মাণ পথের দু’ধারে তালগাছের দঙ্গল দেখে এ সময়ে ফিরি। হ্যাঁ, তাই বোধহয়। আবার পদ্মার বোটে, রাতের আঁধারে হ্যাজাক বাতির আলোয় মস্ত জাল ঝলসে ওঠে ভয়াবহ, বিশাল আকারের সব পাঙাশের দাপাদাপিতে। সেবারেই জীবনে প্রথমবারের মতো পাঙাশ-মোগলদের পাল্লায় পড়ে পাঙাশের দো-পেঁয়াজার সঙ্গে পোলাও খেয়েছিলাম। খিদের মুখে সে সুখাদ্য যে কী অপূর্ব স্বাদে আমাদের পাতকে সমৃদ্ধ করেছিল, তা কী করে বর্ণনা করি? মনে করে রেখে চলেছি এতকাল, থাকবেও… অ্যালঝাইমার্স হরণ না করা তক। পদ্মা থেকে ফিরে সেবার ফরিদপুরের সেই ঝিলটুলি-কমলাপুরের গেস্টহাউসে আরেকরাত বিশ্রাম করে ঢাকায় ফিরেছিলাম। ডিনারের আগে কচি ডাবের পানিতে কিঞ্চিৎ ব্র্যান্ডি মিশিয়ে আমি আর ইকবাল একটু গা-গরম করছি, মোকাম্মেল আরেক রুম থেকে এসে যোগ দিল আড্ডায়। কী খান স্যর, আমি একটু নেব? ডাবের পানি, একটু ভেজালমিশ্রিত যদিও, তবুও নিন না একটু। হালকা মৌতাতের ঝোঁকে অনেক গল্পের মাঝে মোকাম্মেল জানাল, একা ঘরে ঘুমোলে ওকে পরী দর্শন দেয়। আমরা হতবাক হলেও চুপ করে শুনছিলাম। টিমটিমে হলুদ কম পাওয়ারের আলোয় গল্প ভাল জমেছিল। যাকগে সেসব পরী-দর্শন কথা।

ট্যাকেরহাটের পুল পেরিয়ে আমাদের গাড়ি গণউন্নয়ন প্রচেষ্টা-র খালিয়া শান্তিকেন্দ্রের দিকে এগোল। পৌঁছনোর পর নেমে, ঘরে ব্যাগ রেখে, হাতমুখ ধুয়ে আমরা আবার গাড়িতে উঠলাম। বিসিএএস-এর ভেন্নাবাড়ি জলাভূমি সেন্টারে পৌঁছলাম। হাইওয়ের ধারে গাড়ি রেখে পাঁচশ’ গজ ভেতরে ওদের কেন্দ্রে গেলাম। খাবার তৈরি। খেতে বসলাম। দেশি সরপুঁটির দোপেঁয়াজা, ছোট মাছের চচ্চড়ি এবং গুলশানের যত্নে পালা দেশি তাগড়া রাতা মোরগের মাংসের ঝোল। ভরপেট খাওয়া হল। করিমের স্ত্রী গুলশানও বিসিএএসের কর্মী। সেই রান্নাবান্না করেছিল। ওই বৃক্ষমণ্ডিত আশ্রমে বসে এত সুস্বাদু খাবার খাওয়া এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা। সেন্টারের জমিটা কুড়ি বিঘের একটা টানা প্লট। কেনা হয়েছিল প্রায় কুড়ি বছর আগে। এক হিন্দু ভদ্রলোক এক লাখ টাকায় জমিটা বিক্রি করে তখন ভারতে তার পরিবারের সঙ্গে গিয়ে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি গোটা পাঁচেক পুকুর কাটা হয়েছিল। আড়িয়ল খাঁ-মধুমতি বিল রুট ক্যানাল এলাকার যাবতীয় জলজ জীব ও উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করে জলাভূমি কেন্দ্রে তার কতকগুলি সংরক্ষণ এবং বাকিদের উৎপাদন, প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া হয়। খাওয়ার পর করিম আমাদের জলাভূমি গবেষণা ও প্রদর্শন কেন্দ্রের কর্মকাণ্ড ও সংরক্ষিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনাদি দেখাল আধঘণ্টার মতো।

beejagarey.jpg……..
বীজাগার
………
পুরো প্রকল্প এলাকায় চক্কর দিয়ে এসে দপ্তরে বসলাম। করিম জানাল, পাশের অতিথিশালায় স্নানাগার তৈরির কাজ শেষ হবে শীগগিরই। তখন আমাদের আর শান্তিকেন্দ্রে উঠতে হবে না। আমি অনেস্টলি বললাম, এখানে থাকব, ওখানেও। এতবছর ধরে চান্দা বিলে আসছি। শান্তিকেন্দ্রকে এখন পুরোপুরি পাশ কাটালে সেটা অধর্ম হবে, তাই না করিম? হ্যাঁ, স্যর, করিম হাসল, তারপর একে-একে উপস্থিত সকলকে দেখে নিয়ে বলল, আমাদের দিকে স্যরের খেয়াল যেমন, তেমনি গাছপালা, নদীখাল, এখানকার মানুষজনের ব্যাপারেও। স্যর, একটু রেস্ট নেবেন? বিছানা করে দেব? না, আমি জানাই, আমি আর আপনার আপা শান্তি কেন্দ্রে ফিরে যাব। ছেলেমেয়েরা আপনার নৌকো করে ঘুরবে বোধহয়।

খাওয়াটা একটু বেশিই হয়েছে, বুঝতে পারলাম। কোনো রকমে হেঁটে হাইওয়ে তক গিয়ে গাড়িতে ওঠা হল। ক্যানালের ঘাটে যেখানে করিমের ট্রলার বাঁধা, সেখানে থেমে করিম সাজ্জাদ আর রুবাই—ওদের তিনজনকে নামিয়ে দিলাম। পথে থেমে বাজার থেকে মস্ত একছড়া মর্তমান কলা আর রুচি-র বার্বিকিউ চানাচুর নিলাম। অতঃপর শান্তিকেন্দ্রে পৌঁছে বিছানায় লম্বা হওয়া গেল। বয়সে যে ভাঁটার টান ধরেছে, সেটা টের পাই আজকাল শহরের বাইরে ঘুরতে গেলে কোথাও। এইটুকু ঘুরে এসে হাঁপিয়ে উঠলাম! এই হেমন্তকালে, রাতে যেখানে অতিথিরা গায়ে লেপ চড়ায়! ঘণ্টাটাক গড়িয়ে উঠে গোটা দুই নেপালি মর্তমানের সদ্ব্যবহার করলাম। কলাগুলো যেমন পুরুষ্টু, তেমনি স্বাদু। ঢাকার বাসায় আমরা চিনিচাঁপা কলা খাই সম্বৎসর। ওই কলাটার স্বাদ মিশ্র, টক-মিষ্টিতে মেশানো। রাসায়নিক প্রয়োগে পাকানো সাগর কলা পারতপক্ষে কিনি না আমি। এখানে এই কলার ছড়াটিকে দেখেই কিনতে ইচ্ছে হল—নধর, পুষ্ট আর উজ্জ্বল হলুদাভ বরণ।

kendrer-dhenkishaley.jpg
কেন্দ্রের ঢেঁকি শালায়

বাদলদা টি-পটে গরম চা আর পাইলট নিয়ে এসেছে। গল্পগুজব হল। ওর সেই ছেলে এখন বেশ বড়টি হয়েছে, স্কুলে যায়। দশ বছর আগে, সারাদিন চান্দা বিলে কাজ করে সন্ধেবেলা ফিরে দেখতাম, ফ্লাস্কে গরম চা আর মুখার্জ্জি ক্যাবিনের তেলেভাজা কলাপাতায় মুড়ে বাদল আমাদের ক্ষুধা-শ্রান্তি অপনোদনে তৈরি।

বাদলদা আমাদের জামাই সাজ্জাদের সঙ্গে আলাপের জন্য উন্মুখ। বললাম, ওরা করিমের সঙ্গে নৌকোয় বিল রুট ক্যানালে ঘুরতে গেছে, আসবে এক্ষুনি। বলতে-বলতেই রুবাই, সাজ্জাদ আর করিম এসে হাজির। পরিচয় হল। সাজ্জাদ বাদলের সঙ্গে গল্প করতে করতে বাইরের ঘাসজমিতে হাঁটতে গেল। সেলিম বেশ ধীরে-সুস্থে গাড়ি ধোয়া-মোছা করছে। আমি বারান্দায় পায়চারি করতে করতে করিমের সঙ্গে কথাবার্তা কইতে লাগলাম। জানলাম, এই এতগুলো বছরে কর্মস্থলে ওর দায়দায়িত্ব বেড়েছে, কিন্তু আনুষঙ্গিক প্রাপ্তিযোগে তেমন কিছু ঘটেনি। দুঃখ পেলাম। এদের আন্তরিকতার মূল্য ধরে দিতে হয়, নইলে অধর্ম হয়। মনে-মনে ঠিক করলাম, ঢাকায় ফিরে ওর সুপারভাইজার সরদারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করব। এখানে রান্নাঘরে বাদলের প্রয়োজনীয় যা কিছু, তার যোগাড় হয়েছে জানিয়ে করিম বাসায় ফিরে যাবার আগে জানতে চাইল, মুখার্জ্জি ক্যাবিনের তেলেভাজা চলবে কিনা। খুশি হয়ে বল্লাম, গাড়ি নিয়ে যান। করিম হেসে বিদায় নিল।

মিষ্টিমূত্র রোগ প্রতিরোধকল্পে শান্তিকেন্দ্রের লেনিন সরণি, গাঁধী সরণি, কার্ল মার্ক্স সরণি বেয়ে দ্রুত পায়চারি সেরে যখন ঘেমে-নেয়ে ফিরছি, তখন বাদলদা’ উঠোনের কোণে শিউলি স্তম্ভে প্রদীপ জ্বালছে, দূরাগত শাঁখে ফুঁ-এ ভেসে আসছে মাঙ্গলিক আবাহন, সব পাখি কুলায় ফিরছে কিচির-মিচির শব্দে, কেবল গোপাটে গোরুর ক্ষুরাঘাতে ধূলো ওড়ার অবকাশ নেই, নেই কাজলি গাইটার গলায় বাঁধা ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি টুংটাং—কারণ, চাষ-বাস, চাষীঘর—এই খালিয়া রাজবাড়ির চৌহদ্দি থেকে একটু দূরে। এটি গ্রামের মাঝে আধা-শহুরে মেলানো-মেশানো এক জনপদ। আঁধার ঘনায় ক্রমশঃ, চারদিকে কী প্রশান্তি। বারান্দায় চেয়ারে পিঠ এলিয়ে বসে থাকা রুবি আহবান জানায়, এসো, হাতমুখে ঠাণ্ডা জল ছিটিয়ে এসে বোসো এখানে।

প্রক্ষালণপর্ব শেষে একটা ভডকা-পানি-লেবুর চাকার অনবদ্য শ্রান্তি নিবারক তৈরি করে নিয়ে বারান্দায় ফিরেছি। রুবির এগিয়ে দেয়া চেয়ার হেলায় সরিয়ে দিয়ে সিঁড়ির ওপরের ধাপে জেবড়ে বসে দুই পা নিচের ধাপে নামিয়ে দিলাম। আঃ, কী আরাম। পানীয়ে চুমুক দিয়ে পকেট থেকে রুচি-র বার-বি-কিউ নামক নতুন ডালমুট মিক্সের প্যাকেট ছিঁড়ে একমুঠো কুড়মুড়ে মিশ্রণ নিয়ে মুখে ফেলি। টক, মিষ্টি আর ঝালের সে এক আদর্শ মিলমিশ। চেখে দ্যাখো, বলে ঠোঙা রুবির হাতে দিই। সামনে আলো-আধাঁরি ফুঁড়ে বাদল তার ঝুঁকে হাঁটা শরীর নিয়ে এগিয়ে এল। বোসো বাদলদা, চানাচুর খাও, বলে আমি চানাচুরের প্যাকেট ওর হাতে দিই। সে আপ্যায়িত হয়ে আমার পাশে বসে, সামনে দৃষ্টি চারিয়ে দেয় গাছপালার ফাঁকে। চলবে একটু? আমার প্রশ্ন শুনে জিব কেটে বাদল বলে, আপনি খান। ভাবি যদি চা খান, একটু করে আনি? রুবি ত্রস্তে বলে, না, না, আপনি বসেন। গল্প বলেন, শুনি। লাজুক হেসে বাদল বলে, স্যরে বালোবাসেন আমারে, তাই আপনারা আসলে কাছে আসি, কথা কই, এই আমার পরম সৌভাগ্য!

বলি, বাদলদা, স্বাধীনতার পর তোমার সেই কোলকাতায় দিদির বাড়ি বেড়াতে যাবার গল্পটা আরেকবার হোক, ভুলে গেছি। রুবি গল্পের গন্ধে চেয়ার টেনে কাছে এল। গল্প এগোয়, আর আমি প্রায় চার দশক পিছিয়ে চলে যাই সত্তরের দশকে… দশ-বারো বছর বয়সী বালক বাদল আর কুড়ি-বাইশের সদ্যযুবা আমি একইসঙ্গে পরিক্রমণ করি পরিচিত পথঘাট, সেই যশোর রোড… ১৯৭১… বেনাপোল, হরিদাসপুর… বারাসাত… দমদম…। এরিমাঝে ছেলেমেয়ে বেড়িয়ে ফিরেছে। ওদের ঘরে বাতি জ্বলছে। ক্যাসেট প্লেয়ারে নজরুল-গীতি বাজছে। সেলিম তেলেভাজা নামিয়ে দিয়ে কোথাও গেছে আবার। সবাই মিলে মুড়ি সহযোগে মুখার্জ্জির দোকানের চপ-পেঁয়াজু-বেগুনির সদ্ব্যবহার করলাম। বাদল উঠে গেল, ডিনারের যোগাড়-যন্তর করবে।

unnotomaner-gobadi-poshu-projonon-propolpo.jpg
উন্নত মানের গবাদি পশু প্রজনন প্রকল্প

বাদলদা কখন যেন ডিনারের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। রুবাই, সাজ্জাদ, রুবি খাবার ঘরের দিকে এগোল। আমি ইনসুলিন পুশ করছি। এমন সময় দরজায়… নক্ নক্। পেনফিলের সুঁই-ডগা প্যাঁট করে টেনে বার করে সাড়া দিলাম, কে? আমি সেলিম, স্যর। ভেতরে এস, বলে আমি ইঞ্জেকশ্যনের কেইসটা বন্ধ করেছি। সেলিম একটা চিনেমাটির খুরিওয়ালা বাটি খবরের কাগজে ঢেকে নিয়ে সন্তর্পণে ঘরে ঢুকল। স্যর, করিম ভাইয়ের ইস্ত্রি গোলশান আপায় এইটা আমার হাতে দিছে। কইছে, খাওয়ার আগে-আগে যেন এইটা আপনেরে পৌঁছাইয়া দেই। অবাক আমি। জিজ্ঞেস করি, ওই কাগজে ঢাকা বাটিতে আবার কী আনলে? কচুর শাক, আপায় একবেলা দইরা রানছে ইলিশ মাছের মাতা দিয়া। কইছে, আপনেরে খাইতেই অইবো।

যারপরনাই বিব্রত হই। করিম বেচারা সারাদিন আমাদের জন্য খেটেছে, আবার বউটাকেও… চল, চল, খেতে যাই। তা, তুমি কি ওই কচুর শাক আনতেই আবার বাইরে গিয়েছিলে? আমার প্রশ্নের উত্তরে সেলিম ঘাড় চুলকে বলল, স্যর, পারমিশান না নিয়াই গেছি করিম ভাইয়ের বাড়ি আবার। গোলশান আপায় বিকালে এমন কইরা কইছিল…। ঠিক আছে, থ্যাঙ্ক ইউ। জিজ্ঞেস করলেও পারমিশান পেয়ে যেতে তুমি।

সবাই খেতে শুরু করেছে। সেলিম একটু দূরে বসেছে। ওর ভাত-তরকারি সব বাদল সাজিয়ে রেখেছে আগেই। কাগজের ঢাকা সরিয়ে চামচের ডগায় একটু কচুর শাক নিয়ে জিবে ঠেকালাম। সেকেন্ড কয়েক তারিয়ে স্বাদ নিয়ে বুঝলাম, উতরে গেছে। অতএব, ছেলে, মেয়ে, রুবি, সেলিম সবাইকে একটুখানি করে দিতে হল। মাংস-টাংস দিয়ে মূল খাওয়ার ব্যাপারটা সারা হয়ে গিয়ে থাকলেও কচুর শাকের অনির্বচনীয় সুস্বাদ ওদের টেবিলে বসিয়ে রাখল আরো কিছুক্ষণ।

modhumoti-beel-route-canal-e-noubhromon.jpg
মধুমতি বিল রুট ক্যানাল নৌ-ভ্রমণ

মোটের ওপর, গুলশানের কচুর শাক রান্নার পেছনে যে সুচিন্তিত রেসিপি নির্বাচন, যত্ন, সময় ও কয়েক ঘণ্টার কষ্টকর খুন্তি নাড়ন ছিল, সেটা ষোল আনার ওপর আঠারো আনার সন্তুষ্টি বিধান করেছিল সকলেরই—অর্থাৎ, যাদের চেখে দেখার সুযোগ ঘটেছিল। আমার অনুরোধে বাদলদা একটু শাক মুখে দিয়ে জানাল, একেবারে মা-মাসিমার হাতের রান্নাই বটে! সেই চিরকালের চেনা স্বাদ, গন্ধ ইলিশের মুড়োর রসায়নে আমাদের সবারই মুখ ফেরাতে সফল হয়েছিল সেরাতে শান্তি কেন্দ্রের ওই ডাইনিংহল-এ।

ঢাকা, ১২/৪/২০১০

m.waliuzzaman@gmail.com

free counters

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rashed Ahasan — এপ্রিল ২৪, ২০১০ @ ১০:৩৭ অপরাহ্ন

      মীর ওয়ালীউজ্জামানের গদ্য আমার সব সময় ভাল লাগে, একটু চটুল আর ছন্দমধুর। ফরিদপুর আমার নিজের বাড়ি। ‘পল্লীকবির মাতুলালয়, রাজবাড়ির ক্ষিরের চমচম, আকবর কবীরের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা—দেখতে দেখতে ফরিদপুর এসে গেল’–লেখকের বর্ণনা পড়ি মুগ্ধ হয়ে। বিল চান্দা আমার ভালোবাসার জায়গা। আশ্বিনের জ্যোস্না রাতে নৌকায় ঘুরে দেখেছি তার অপরূপ ভয়াল সৌন্দর্য।

      – Rashed Ahasan

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mahbub — মে ৭, ২০১০ @ ৯:০২ অপরাহ্ন

      আর্টস-এর পাতায় মাঝে সাজেই ঢুঁ মেরে যাই আপনার বেড়ানোর গল্প পড়বার জন্য। পড়ে আরাম পাইলাম।

      – Mahbub

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com