নগরভাদগ্রাম, চরপাড়া ও শেওড়াতৈলে চৈত্রসংক্রান্তি

বাংলার বছরবিদায়

সাইমন জাকারিয়া | ১৩ এপ্রিল ২০১০ ৫:৪০ অপরাহ্ন

radha-krisno.jpg
রাধা-কৃষ্ণের সাজে

নতুন বাংলা ক্যালেন্ডারের কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শহরবাসীর চেয়ে একদিন পিছিয়ে আছে। শহরের লোকেরা যেদিন মহা ধুমধামে বর্ষবরণ করে গ্রামেগঞ্জে তখন মহা ধুমধামে বর্ষবিদায় তথা চৈত্রসংক্রান্তির আয়োজন চলে। গ্রামের লোকেরা সরকারী ক্যালেন্ডারটি গ্রহণ না করার কারণে এমনটি ঘটে। ইংরেজি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে গিয়ে সরকার এক সময় চাষবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা তারিখ বদলে দিয়েছিল। শহরের লোকেরা এই নতুন তারিখ মেনে নিলেও গ্রামে সেই পুরোনো তারিখের হিসাবই প্রচলিত আছে। বর্ষবরণের রীতিও আগের মতই রয়ে গেছে। শহরে যেখানে চৈত্রসংক্রান্তি এবং বর্ষবরণ উৎসব গুটিকয়েক অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে দুই দিন এক রাত্রিতে সীমাবদ্ধ, গ্রামে সেখানে এই উৎসব চলে সপ্তাহ থেকে পক্ষকালব্যাপী।

সে রকমই এক উৎসবের বর্ণনা এই লেখা। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই টাঙ্গাইলের তিনটি গ্রামে ব্যাপ্ত এই উৎসবে যোগ দেই আমি। সে সময়কার উল্লেখযোগ্য কিছু অনুষ্ঠানের বিবরণ এই লেখা।


টাঙ্গাইলের একটি গ্রামে চৈত্রসংক্রান্তি উৎসবের ভিডিও, ২০০৬। ফিলিপাইনসসের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো আইটিআই-এর ওয়ার্ল্ড থিয়েটার কংগ্রেসে প্রদর্শিত ভিডিও। নির্মাতা: সাইমন জাকারিয়া।

২.
বাংলায় নতুন বছরকে আহ্বান করা হয় মূলত পুরাতন বছরকে মহাসমারোহে বিদায় জানিয়ে। প্রতিবছর তাই চৈত্রসংক্রান্তি এলেই গ্রামে গ্রামে বিচিত্র কৃত্যাচারের হুল্লোড় পড়ে যায়। কেউ হর-গৌরি সেজে গ্রামের পথে পথে হাঁটে এবং গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে উঠানে গিয়ে ঢাক, কাসি, করতাল বাজিয়ে নৃত্য করে ফেরে, কেউবা আবার কৃষ্ণ, রাধা, শিব, কালী, অসুর ইত্যাদি পৌরাণিক চরিত্র সেজে অভিনয়ে অংশ নেয়। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার গ্রামের সামাজিক জীবনের বিভিন্ন চরিত্র বাইদ্যা-বাইদ্যানী, ঘোড়সাওর, হাইল্যা ইত্যাদি সেজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আনন্দ খুঁজে ফেরে। বর্তমান প্রতিবেদনে একটি এলাকার কয়েকটি গ্রামের চৈত্রসংক্রান্তির প্রত্যক্ষ বিবরণ উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এলাকাটি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার অধীন। আর গ্রামগুলো হলো: নগরভাদগ্রাম, চরপাড়া ও শেওড়াতৈল। এই গ্রামগুলো প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর ধরে চৈত্রসংক্রান্তির কিছু কৃত্যানুষ্ঠান করে আসছে। এই সব কৃত্যানুষ্ঠানের মধ্যে আছে: হর-গৌরির নাচ, বাইদ্যার নাচ, ডুগনী, কবিতা, বীচট, কালীকাচ, পরীনাচ, কুচকি বানাম, মইন জাগানো, সঙখেলা, চড়ক ও স্বাদ গ্রহণ। পর্যায়ক্রমে সেই সব কৃত্যানুষ্ঠান, নাট্যপালা ও চড়কের বিবরণ তুলে ধরছি।

বছর বিদায়ের কৃত্যাচার
নগরভাদগ্রামে প্রবেশের পথেই আমাদের চোখে পড়ে, পুরাণের চরিত্রগুলো রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে। তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গ্রামের পথ দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি বাড়ি ঘোরে। চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে সাধারণত পুরাণ চরিত্র হর-গৌরী সেজে এই ভ্রাম্যমাণ পরিবেশনাটি করা হয়। এতে হর তথা শিবের ভূমিকায় যেমন কম বয়সী বালক বা যুবকের অংশগ্রহণ করে থাকে তেমনি গৌরী তথা পার্বতীর ভূমিকাতেও প্রধানত ছেলেরা মেয়ে সেজে অভিনয় করে থাকলেও দুএকটি ক্ষেত্রে শিশু মেয়েদের অংশ নিতে দেখা যায়। এক এক জুটি হর-গৌরীর সাথে একদল বাদ্যযন্ত্রী, তাদের কেউ ডাক, কেউ করতাল, কেউবা কাসি বাজিয়ে হর-গৌরীর নৃত্যে প্রাণ সঞ্চার করেন। কেননা, হর-গৌরীর নৃত্যে কোনো ধরনের গান গীত হতে দেখা যায় না। এ ধরনের পরিবেশনায় শিশুদের অংশগ্রহণ থাকে চোখে পড়ার মতো। আমরা নগরভাদ গ্রামের পথে হর-গৌরীদের কয়েকটি দলকে অনুসরণ করে চোখে-মুখে আনন্দ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকি।

মেঠোপথের ধুলো পেরিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতেই দূর থেকে খোল-মন্দিরার তাল ভেসে আসে কানে। আমরা নগরভাদগ্রামের সুবাসচন্দ্র বণিকের বাড়িতে ঢুকে পড়ি। বাড়ির উঠানে সুর-নাচ-তাল একাকার হয়ে অপরূপ এক ইন্দ্রজালে আমাদের দশাগ্রস্ত করে। এর নাম বাইদ্যানাচ। আমরা মুগ্ধ বাইদ্যানাচ দেখি।

এই বাইদ্যা নাচে দুইজন বাইদ্যানী এবং দুইজন বাইদ্যা তাদের নৃত্যগীতে উঠানের ঠিক মাঝখানে একটি বৃত্ত রচনা করে তার কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে বাইদ্যার নাচ পরিবেশন করেন আর গাইতে থাকেন:

‘আমার ভাবনা কি রে আর
বাইদ্যা চালায় মটরগাড়ি
আমি হইছি যে মাস্টার…।’

এবং

‘বাইদ্যা আমার ভালোবাসে না…
বাইদ্যা মারে আর হাসে
কিছু কই না তরাসে
আমার ভাই নাইরে দ্যাশে॥’

নাচের মধ্যে সামান্য দৌড়ে তারা একবার বৃত্তের কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পরক্ষণেই পায়ে পায়ে তাল ঠুকে বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে। দেখি তাদের নৃত্যের ছন্দময় সেই কাব্যভঙ্গিমা। তাদের নাচে-গানে যন্ত্রসঙ্গত করে উঠানে বসে আরো কয়েকজন। তাদের কেউ হারমোনিয়াম, কেউ মন্দিরা, কেউ বা খোল বাজায়। তাদের সঙ্গে একজন গায়েনও থাকে। সে-ই তো বিচিত্র সুর-ছন্দে গেয়ে চলে: ‘বাইদ্যা আমার ভালোবাসে না…।’ তার সঙ্গে দোহার হয়ে বাইদ্যানীরাও গায়: ‘বাইদ্যা আমার ভালোবাসে না…।’

বাইদ্যা নাচের আরো দু’একটি গানের কথা হচ্ছে:

‘আমার বাইদ্যা জাতির এই তো রীতি
ঘর ছাড়িয়া বাইদ্যার নৌকায় বসতি॥…’

এবং আরেকটি গানের কথা হচ্ছে:
‘বিধি আমায় চিনো নি
হুদিনের পরে আইলাম আমি
ই তো বাইদ্যানী॥’

উঠানে আমাদের আগমনে ও মুগ্ধতায় বাইদ্যা নাচ একটু সময় নিয়েই চলে। যখন থামে, তখন নৃত্যকরদের দেখি বন্ধু দিলিপ ঠাকুরের পায়ে প্রণাম করতে–তাও আবার গড় হয়ে। দিলিপ নির্বিকার, কেননা সে তখন ধুতি পরা এবং পৈতা কোমরী দিব্যি ঠাকুর…। হঠাৎ একজন নৃত্যক বাইদ্যানী আমার দিকে ছুটে আসে এবং তার দুই বাহু দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তার বুকের কাপড়ে সিপটিপিনে গাঁথা টাকা দেখায়। আমি পকেট হাতড়ে দশ টাকার একটি নোট তার হাতে তুলে দিতেই সে খুশী হয়ে নেচে নেচে অন্যদিকে ছুটে যায়।

বাইদ্যানাচের দল এবার এবাড়ি ছেড়ে অন্য বাড়ি যায়–আমরাও তাদের সঙ্গে যাই। সে বাড়ির নাচ-গান শেষে বাইদ্যানাচের দল আরেক বাড়ি যায়। যতক্ষণ সূর্যের আলো থাকে ততক্ষণ এই বাইদ্যানাচ বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকে। এরপর সন্ধ্যা হলো। বাইদ্যানাচ শেষ হলো। এবার সন্ধ্যায় হর-গৌরী পূজা মন্দিরের সামনে কবিতা শুরু হয়। এ এক অদ্ভুত কবিতা–ঢাকের চটাঙ চটাঙ শব্দের তালে একজন মুখস্থ প্রচলিতপুরাণ কথা ছন্দে ছন্দে, ধীর লয়ে গেয়ে চলে, সাথে থাকে দোহার–যার নাম কবিতা। কবিতার এমন প্রত্যক্ষ ধরন দেখতে মন্দিরের সামনে যেতেই কবিতাপাঠক আমাদের কানের কাছে এসে ঢাকের চটাঙ চটাঙ শব্দের সঙ্গে রামায়ণ পড়তে শুরু করেন। কিন্তু ঢাকের চটাঙ চটাঙ শব্দের সঙ্গে আমাদের কানে রামায়ণের পবিত্র বাক্য প্রবেশের পথে খেই হারিয়ে ফেলে। আহ! আমাদের কানের কী যে দশা! কেননা, ঢাক আমাদের কানের কাছে এনে তারা অনবরত ঢাকের কাঠি দিয়ে ঢাকেরই টান টান চামড়া পেটাতে থাকে…। কী তীব্র শব্দ রে বাবা! এই বুঝি কানের তালা ফাটে। কিন্তু তারা তো কিছুতেই বোঝে না–আমাদের কানের কী অবস্থা! কবিতার পর শুরু হয় ডুগনি–এখানে পুরাণকথার ছন্দগীতির ঢাক বাদ্যের সঙ্গে সামান্য সামান্য নাচ যুক্ত হয়। এভাবেই কবিতা-ডুগনিতে সন্ধ্যা অতিক্রান্ত হয়ে যায়। শুরু হয় অন্য এক আখ্যান পর্ব, যার সঙ্গে পূজার চেয়ে কৃষকের চাষ-বাসের সম্পর্কই বেশি বলে মনে হয়। তার নাম বীচট।

এক রাতেই এক বছর
মন্দিরের সামনেই শুরু হলো বীচট বা বীজ বোনা। প্রথমে একজন গামছা পরনে গামছা কাঁধের হাইলা (কৃষক) পিঁড়িতে আসন হয়ে বসে যায়। তার মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয় এক ধামা ধানবীজ। সে দুহাতে ধানের ধামাটি কিছুক্ষণ মাথার উপরে ধরে রাখে।

shankranti-5.jpg……
বীচট
……..
এবারে মন্দিরের পূজাকার্যের গোছদার–সঞ্জিমা এসে অনেকগুলো বেতের লাঠি বাম বগলে চেপে রেখে হাইলার পেছনে দাঁড়িয়ে ধামার ধানবীজকে দুহাতে আগলে ধরে। কিছু সময় সাঞ্জিমা চুপচাপ কী সব ভাবে, দেখলে মনে হয় সে যেন অন্তরে কোনো মন্ত্র পড়ে। এরমধ্যে ধামাটার মাথা ধরে কাত করে ধামাটাকে ঘোরাতে থাকে। এতে করে হাইলার চারদিকে ধামার ধানগুলো সব ছিড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ছোট ছোট প্রাণবন্ত বাচ্চারা সশব্দে যথাক্রমে লাঠি হাতে বাওই (বাবুই) তাড়ায়, লাঠি ফেলে ফসল কাটে, ফসল মাড়াই করে এবং সেই ফসল গুছিয়েও দেয়। হাইলা এবার ফসল ভাগ করে। ভাগপর্বের প্রথমেই হাইলা তার ফলানো ফসলকে দুভাগ করে একভাগ লুকিয়ে রাখে। আর অন্যভাগ ফসলকে সে আবার দুভাগ করে এবং বলে: “এর এক ভাগ তার আর অন্য ভাগ শিবপূজার।” তার একথার পর পূজার ফসল সাঞ্জিমা ধামায় করে মন্দিরে তুলে নেয়। এভাবেই ধান তোলা পর্বের সমাপ্তি হয়।
এ পর্বের পর হনুমান ছুটে আসে। সে এত দিন আম গাছের পাহারায় ব্যস্ত ছিল–আজ হলো আম ভাঙানি… হনুমানের কাঁধে আনা আমডাল থেকে আম ছিঁড়ে নেয় অনেকেই। চৈত্রের আজ শেষ রাত–বৈশাখের প্রথম দিনেই খাওয়া হবে আম-ডাইল… হনুমান ছুটে চলে যায়।

মুক্তিপদ নিয়ে জাইলা আসে। সে তার পানি ছিটানিতে সন্ন্যাসদের মুক্তি ঘটায়–সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় গান-নাচ, সে যে মুক্তির উৎসব। রাত যত বাড়ে মানুষের চেহারায় ক্রিয়াকর্মে ততই উন্মাদনা ভর করতে থাকে। কেউ ঠাকুরস্নানে কুমে (ছোট জলাশয়) চলে যায়…।

অস্ত্রের ধার পরীক্ষা হয়… তার ওপর পা রেখে মন্দিরের দিকে ঝুঁকে পড়ে অনেকেই। কেউ ছুটে যায় চিতা নিমন্ত্রণে শ্মশান ঘাটে।

kuchki-banam_2.jpg…….
কুচকি বানাম
…….
এর মধ্যে শুরু হয় কুচকি বানাম। পেটের দুপাশের চামড়ার ভেতর ত্রিশূল ঢুকিয়ে ত্রিশূলের মাথায় নারিকেলের ছোবা পেঁচিয়ে আগুন ধরিয়ে ঢাকের তালে ধূপের ছিটা মেরে মেরে আগুনের ধপ্ ধপ্ শিখার সঙ্গে নাচতে থাকে অনেকেই। এর নাম কুচকি বানাম বা পাশ বানাম বা পাশ পঞ্চম।

বানাম শেষে রাতের উঠানে আগুনের থালা হাতে পরী নেমে আসে…। ঢাকের শব্দের তালে সে লাফিয়ে নাচতে থাকে আর কয়েকজন লেড়শব তাকে সর্বদা ঘিরে থাকে। পরীর উন্মাদনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে… নাচের মধ্যে সে যেন বা দিশা হারিয়ে ফেলে… কাঁপতে কাঁপতে পড়ে যেতে গেলে তাকে ঘেরা লোকগুলো তাকে আগলে ধরে… শুনি, তার ওপর সত্যি সত্যি পরী ভর করেছে। নারীরা তালপাখায় বাতাস করতে করতে তার মুখোশ এবং শাড়ি খুলে নেয়–সে তখন দিব্যি পুরুষ…। পরীনাচ শেষে হঠাৎ করে মন্দিরের সম্মুখ থেকে ঠাকুরসহ অনেকেই ছুটে বেরিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী মাঠের মধ্যে।

মইন জাগানো
মাঠের কাঁচা মাটিতে মৃত মানুষের মাথায় খুলি রেখে শুরু হয় মইন জাগানো। শোনা যায়, খুলিটা কোনো পুণ্যবান মানুষের। আজকের রাতে তার আত্মাকে ডাকা হচ্ছে–তারই খুলিতে পূজার ফুল ছিটিয়ে বা পূজা করে। মাঠের মধ্যে অন্ধকারে হ্যাজাকের আলোয় মইন জাগানোর ক্রিয়াকর্ম অদ্ভুত এক মায়া তৈরি করে। মনে হয় আমরা এ সময়ের কেউ নই… সম্পূর্ণ আদিম এক জমানায় পৌঁছে গেছি…। আমাদের সামনে ঠাকুর দুহাতে খুলিটাকে মাটিতে আগলে ধরে আছে, আর একটি লোক তার মুখোমুখি গড় হয়ে বসে উন্মাদের মতো খুলিটাকে বারবার প্রণাম করতে থাকে। অন্য একজন লোকটার প্রণামের হাত দুটির মধ্যে বারবার ফুল গুঁজে গুঁজে মন্ত্র পড়তে থাকে। লোকটার প্রণাম-ক্রিয়াতে উন্মাদ ভাব ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে মনে হয়, এখনই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে এবং ঠিক তা-ই হয়। লোকটা খুলিটার ওপর লুটিয়ে পড়ে আর কয়েকজন লোক তাকে উচ্ছে তুলে ধরে দৌড় দেয় মন্দিরের দিকে। খুলিটা আটকে থাকে প্রণামকারীর বুকে। কিন্তু তারা মন্দিরের সামনে পৌঁছলে খুলিটা ঠাকুরের কাছে চলে যায়।

kali.jpg
কালীর সাজে

এবারে অন্য বাড়ির অন্ধকার থেকে দুটি কালীমূর্তির আবির্ভাব ঘটে। তাদের এক হাতে তরবারি অন্য হাতে মাটির বড় টাকনীপাত্র। তাদের একজন ঠাকুরের কাছ থেকে খুলিটাকে ছিনিয়ে নিতেই শুরু হয় দুই কালীমূর্তির পরম যুদ্ধ…। ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ চলতে থাকে। যুদ্ধের চারদিকে মশাল জ্বেলে পাহারা দেওয়া হয়। ধারালো তরবারি মশালের আলোয় ঝিলিক কাটতে থাকে। যুদ্ধে তারা সমানে সমান। আমাদের মনে হয়–মা কালী তাণ্ডব বা রুদ্ররূপে পৃথিবীতে আবার নেমে এসেছেন… তার আরো মাথা চাই… কেননা এ জগতের নিষ্ঠুরতায়, অশুভ আর অন্যায়কারী নরমুণ্ডু গলে আবার তিনি মঙ্গল সাধন করতে চান–মানুষের তরে।

kali-kach.jpg
কালীকাচ

যুদ্ধে তারা কেউ কাউকে পরাস্ত করতে পারে না। বরং কালীর মূর্তির ভরক্রিয়ায় তারা তাদের নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতেই ঘের দেওয়া মানুষেরা তাদের আগলে ধরে। এর নাম ‘কালী কাচ’। কালী কাচ শেষে একদল গঙ্গা আনতে যায়। সব শেষে হাজরা চলে। ঢাকের বাদ্যের শ্মশানে তখন আরেক উন্মাদনা। সেখানে সবাই যেতে পারে না। কেননা, সেখানে যেতে মানা। এইসব শেষ হলে রাতের পথ হেঁটে আমরা শেওড়াতৈলের সঙখেলা দেখতে যাই। সঙখেলার পালা দেখে রাত পার করে পরদিন সকালে মানে বছরের প্রথম দিনে বা বৈশাখের প্রথম দিনে গ্রামের সবার সঙ্গে প্রথম আম খাবার সুযোগ হলো, সেই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি আমের খাটা বা টক এবং আম দিয়ে রান্না করা পায়েস। এবার বছরের প্রথম দিনে স্নান-ধ্যান করে নগরভাদগ্রামের পথে পথে ঘুরি–বাউল পথচারী শিল্পী কাঙাল আলম এবং খোকা মামার গান শুনি। আর বিকালে ছুটে যাই চড়কের মাঠের দিকে।

চড়ক
চড়কের আয়োজন হচ্ছে চরপাড়ার মাঠে। নগরভাদগ্রামের পাশ্ববর্তী গ্রাম। আমাদেরকে যেতে হচ্ছে গ্রামের ধূলিওঠা পথ হেঁটে, মৃত নদীর ভাঙা সাঁকো পার হয়ে এবং গ্রাম্য পথের বাঁক ঘুরে মাঠের মধ্যবর্তী সরু পথ পেরিয়ে। পথপার্শ্বে গ্রামের শিশু-কিশোরেরা ক্রীড়ামগ্ন, পথপার্শ্বে ডিপ টিউবওয়েল, দু-একটি বাড়ি, কলাগাছ। বাড়িগুলোর ছোট ঘরে পাটকাঠির বেড়া আর ওপরে ছনের ছাউনি। প্রতিটি বাড়ির পাশেই বুনো গাছ-ফুল আর ঘাসের স্নেহ।

কিছুক্ষণ থেকেই আমাদের কানে মাইকের শব্দ ভেসে আসছে। এবার আমরা শব্দের অর্থহীনতা কাটিয়ে স্পষ্ট কথা শুনতে পাই: ‘আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনারা দেখবেন মাত্র সাত বছরের একটি ছেলে পিঠে গাঁথা বড়শির ওপর ভর করে কীভাবে চড়কে ঘোরে–সেই আশ্চর্য ব্যাপার… সাত বছরের একটি ছেলের পিঠে গাঁথা বড়শির চড়ক দেখবেন আর কিছুক্ষণের মধ্যে…।’ আমাদের পায়ে দ্রুত গতি চলে আসে। দূর থেকে দেখি চড়পাড়ার বিস্তৃত একটি মাঠের মধ্যে ইলেক্ট্রিকের থামের মতো চড়কগাছ দাঁড়িয়ে আছে। আর সেই চড়ক ঘিরে অসংখ্য মানুষের জটলা। আরো মানুষ আসছে চারদিকের মাঠের পথ ভেঙে পড়ি-মরি করে।

আমরা চড়কের কাছাকাছি যেতেই দেখতে পাই চড়ক উপলক্ষে বসে যাওয়া জিলাপি, চানাচুর, কদমা, দানাদার, বাতাসা, মিঠাইয়ের ছোট ছোট খোলা দোকান। তার সাথে বাচ্চাদের শখের পুতুল, খেলনা-বাঁশি, খেলনা-ঢোল, একতারা, ঘড়ি–এসবেরও বিক্রয় স্থান হয়ে উঠেছে চড়কের একটি প্রাঙ্গণ। এই প্রাঙ্গণ পেরিয়ে সহসা আমরা চড়কের মূলমাঠে গিয়ে দাঁড়াই।

honuman.jpg……
চড়কের মাঠে হনুমানের সাজে
…….
চড়কের মাঠ–এক উন্মাদনার মাঠ। চড়কগাছকে কেন্দ্র করে একটি সদ্য চাষ দেওয়া বিস্তৃত মাঠে বৃত্ত তৈরি করে বৃত্তাকারে ঘিরে আছে রঙ-বেরঙের পোশাক পরা হাজারো মানুষ। মানুষের ঘের দেওয়া সেই বৃত্তের মাঠে বিশাল তরবারি হাতে রাবণের উন্মাদনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে তার কোমরে বাঁধা দড়ি দুই পাশ থেকে দুইজন ধরে রয়েছে। রাবণের সাধ্য কী সেই দড়ির বাঁধন ছিন্ন করে কাউকে বা রাম সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে! এ কী আশ্চর্য প্রহসন রাবণের দেশে আমরা রামকে দেবতা ভাবি আর রাবণকে ভাবি নিষ্ঠুর-অত্যাচারী! মধুসূদন দত্ত ভারতবর্ষে রামের ফাঁকিবাজি ধরিয়ে দিয়েও ভারতবাসীর বোধকে বদলাতে পারলেন না–হায় শ্রী মধুসূদন, হায় মেঘনাদবধ কাব্য! রাবণের অস্ত্রহাতের উন্মাদনা অন্য পাশে রামসুহৃদ হনুমানজী গাছের সবুজ পাতাসমেত দুটি ডাল হাতে কসরত করে চলেছেন। সারা দেহে পাটের পোশাক বেঁধে মুখে মুখোশ পরে একজন হয়েছেন হনুমান, অন্যজন সারা দেহে কালো রঙ মেখে-কালো হাফপ্যান্ট পরে বিশাল তরবারি হাতে হয়েছেন রাবণ। রামের প্রতিনিধি হনুমান আর রাবণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির সঙ্গে চলছে শিশুদের তীর-ধনুকের যুদ্ধক্রীড়া, এ যেন রাম-রাবণের যুদ্ধেরই প্রতীকী রূপ।

অন্যদিকে লাল ধুতি পরা এক ভক্তের প্রার্থনা-উন্মাদনা চলছে কালীমূর্তির সামনে। ভক্তের এই উন্মাদনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে একজন ঢাকবাদক। তার ঢাকের শব্দে ভক্ত তার দেহ-প্রাণ-ভাঙা উথাল-পাথাল প্রার্থনায় সদ্য চাষ দেওয়া জমিতে গড়াগড়ি যায়–তাক ধিনা ধিন নাচতে থাকে–নাচের সঙ্গে দৌড় দেয়–পুনরায় ঢাকের বাদ্যে কালীপ্রতিমার পায়ে লুটিয়ে পড়ে। কালী প্রতিমারও এখানে জীবন্ত রূপ-কালীর মুখোশ আর সাজবস্ত্রে একজন দাঁড়িয়ে আছে অস্ত্র হাতে–তার পায়ের নিচে কালীর স্বামীবেশে আরেকজন শুয়ে আছে। অন্যজন কালীকে আগলে ধরে আছে এই জন্য যে, যদিবা ভক্তের প্রার্থনায় কালী সত্যিই জেগে ওঠে তাহলে মহা সর্বনাশ!

এই চড়কে দুজন কালীর ক্ষেত্রেই এক রকম ঘটনা ঘটে। কালীমাকে এখানে পূজাও করা হয়–ঠাকুর বসে ধূপ-ধোঁয়ায়… ঘণ্টি বাজিয়ে… পুস্প ছিটিয়ে… মন্ত্র পাঠে শাস্ত্রমতে কালী অর্চনা করেন।

কালী অর্চনা শেষে চড়কের মূল আয়োজন শুরু হয়। এই পর্বের প্রথমেই তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধক্রীড়ার শিশুদের মুখে বা চোয়ালের মাংসপেশিতে এবং জিহ্বায় লোহার শিক বিঁধে দেন ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’-এর কাপড় মাথায় বাঁধা শঙ্কর। শিশুরা তাদের জিহ্বা ভেদ করা এবং চোয়ালের মাংসপেশি ভেদ করা লোহার সিক কীভাবে বিঁধে আছে তা দেখাতে জটলা বাঁধা চারদিকের মানুষের সামনে দিয়ে চুপচাপ হেঁটে চলে যায়। দর্শক সবার সঙ্গে আমরাও অবাক!

মূলপর্ব শুরু হবার কথা চড়কের মাইকে ঘোষিত হয়, ‘এখনই দেখবেন সেই আশ্চর্য ব্যাপার… সাত বছরের ছেলে এই প্রথমবারের মতো চড়কে উঠবে।’ আমরা মাইকে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সাত বছর বয়সের অসিতকে শনাক্ত করি–শনাক্ত করি তার বড় ভাই রতনের মাধ্যমে। রতন আমাদের কাছে এসেছিল–হাতের ক্যামেরা আর রেকর্ডার দেখে। রতনের মাধ্যমে তার বাবা ক্ষিতীশকেও পেতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয় না। রতন আগের বছর চড়কে ঝুলেছিল–এবারে ঝুলবে তার ছোট ভাই অসিত। অসিতকে জিজ্ঞেস করি ভয় করছে কি না? অসিত ভয়ে ভয়ে কম্পিত গলায় বলে–‘না।’ ‘তুমি কি নিজের ইচ্ছেয় চড়কে উঠছ?’ অসিত কোনো উত্তর করে না। তার বাবা ক্ষিতীশ বলেন, ‘ঠাকুরের ইচ্ছে…। আমি নিজেও চড়কে ঝুলিছি… আমার বড় ছেলে রতন গেল বছর ঝুলেছে… এই বছর এই আমার ছোট ছেলে অসিত পরথম।’

‘যদি কোনো বিপদ হয়?’

‘ঠাকুর আছে…।’ কথা শেষ না করেই ক্ষিতীশ তার ছেলেকে নিয়ে চড়কের আয়োজনে ফিরে যান।

ততক্ষণে অসিত তার মায়ের কোল থেকে বিদায় নিচ্ছে… মা তার অঝোরে কেঁদে চলেছেন–অন্য নারীরা মাকে প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কোনো প্রবোধেই মায়ের কান্না বাঁধ মানছে না। শেষ পর্যন্ত পিতা ক্ষিতীশ মায়ের কোল থেকে অসিতকে নিয়ে যায় আর মা তখন চড়কগাছের কাছে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আরো অধিক আবেগে কেঁদে ওঠে। ঠাকুরের অনুরোধে অন্য নারীরা আবেগে কান্নারতা অসিতের মাকে দর্শক সারিতে ধরে নিয়ে যায়।

সাত বছরের অসিতকে তার পরনের হাফপ্যান্টের ওপরেই লাল এক খ- কাপড় পরিয়ে দেওয়া হয়। অসিতকে শিখিয়ে দেওয়া হয় জোড়হাতে সবার কাছে ক্ষমা ভিক্ষার কথা। অসিত তা-ই করে–জোড়হাতে চারদিক প্রদক্ষিণ করে সে ক্ষমা চাইতে থাকে। তার সঙ্গে সঙ্গ দেয় বয়স্কগোছের এক লোক। ক্ষমাভিক্ষার পর অসিতকে চড়কগাছের কাছে এনে এবারে খেজুরপাতার পাটিতে উপুড় করে শুইয়ে দেওয়া হয়। এরপর বড়শি বেঁধার জন্যে অসিতের পিঠ মালিশ করা হয়। মালিশ শেষে পিঠের মাংসপেশি টেনে বড়শি গাঁথবার জন্য টিপে ধরে অসিতের বাবা ক্ষিতীশ–সঙ্গে সঙ্গে বড়শি বিঁধিয়ে দেয় হরিনাম মাথায় বাঁধা শঙ্কর। অসিতের পিঠে শিরদাঁড়ার দুপাশের মাংশপেশিতে একইভাবে দুটি বড়শি বেঁধানো হলে–বড়শির পেছনে বাঁধা পাটের দড়ি টান-টান করে পরীক্ষা করে অসিতেরই বাবা। আশ্চর্য কোনো রক্ত বের হয়নি অসিতের পিঠে বড়শি বেঁধার পরও! বড়শি বেঁধার সময় নকশি পাখায় অসিতকে বাতাস করা হচ্ছিল।

charak10.jpg
চড়কে ঘুরছে সাত বছরের বালক অসিত

এবারে পিঠে বড়শি বেঁধা অসিতকে খেঁজুরপাটি থেকে তুলে দাঁড় করানো হয়। আরো আশ্চার্যের বিষয় হচ্ছে–পিঠে বড়শি বেঁধা শিশু অসিতকে নিয়ে মাঠভরা দর্শক সারিতে ঘুরে ঘুরে অর্থ ভিক্ষা চলে বেশ কিছুক্ষণ। সারা ভিক্ষায় অসিতের মুখে তখন কান্না কান্না ভাব ফুটে থাকে। আর এই ভিক্ষাপর্বে অসিতকে সুস্থ রাখার জন্যে নকশি পাখার বাতাস কিন্তু থেমে থাকেনি, একজন লোক অসিতের সাথে ঘুরে ঘুরে তার পিঠে ও মাথায় বাতাস করতে থাকে। পিঠে বড়শি বেঁধা অসিতের ভিক্ষা সংগ্রহের স্টিলের থালাটি কাগজের টাকায় ভরে ওঠে। মাইকে তবুও ভিক্ষা দেবার জন্যে দর্শকদের প্রতি বারবার অনুরোধ ঘোষিত হতে থাকে। তখন আমাদের খুব করে মনে পড়ে যায়, হাট-বাজারে দেখা সেসব জাদুকরের কথা–যারা পেটের মধ্যে তরবারি চালানোর জাদু দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করত বা কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করত। আর পেটে তরবারি ঢোকানো শিশু বা কিশোরটির কষ্টকর অভিব্যক্তি দেখে সে সময় কী কষ্টই না হতো আমাদের! কিন্তু সাত বছরের শিশু অসিতের বড়শি বেঁধার পর তাকে নিয়েই ভিক্ষাদৃশ্য আমাদের আরো ব্যথিত করে। এখনই তাকে চড়কে ঝুলানো হচ্ছে–ওই তো চড়কগাছের মাথা থেকে নেমে আসা প্রলম্বিত দড়িতে বেঁধে দেওয়া হলো অসিতের পিঠে বেঁধা বড়শির দড়ি আর চড়কগাছের অন্য প্রান্তের দড়ি ধরে দৌড়ে উঠল এক দল মানুষ–শূন্যে উঠে গেল অসিত। সে এক শিহরণ জাগানো দৃশ্য। শিশু অসিত পিঠে বেঁধা বড়শির টানে শূন্যে চড়কগাছের চারদিকে বন বন করে ঘুরতে থাকল। এক সময় তাকে নামিয়ে তাল পাখায় বাতাস করে চড়কের আয়োজন শেষ করা হলো।

মণিহাজরা
টাঙ্গাইল অঞ্চলের কোনো কোনো গ্রামে আবার চড়কের বদলে মণিহাজরা অনুষ্ঠিত হয়। মণিহাজরার আয়োজনে পুরাণকাহিনীর অপূর্ব এক উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করা যায়, যেখানে বিশাল আকৃতির মুখোশ পরে খড়্‌গ হাতে কালীর আবির্ভাব ঘটে। সত্য ও সুন্দরের প্রতিপক্ষ হিসেবে খড়্‌গ হাতে অসুরের আগমন ঘটে। শুরু হয় তাদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ। সঙ্গে তীব্র গর্জনে ঢাক, কালি, করতাল ও শিঙ্গা বাজতে থাকে। মণিহাজরার অনুষ্ঠানে কখনো কখনো বাঁশি বাজাতে বাজাতে ঘোড়সওয়ার ছুটে আসে। চড়কের মতোই সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শিঙাধ্বনিতে কালী মাতার নৃত্যের মাধ্যমে মণিহাজরা সমাপ্ত হয়।

এই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের একটি অঞ্চলের পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের আদি অকৃত্রিম বছরবিদায়ের চিত্র। যার দিকে আছে পুরাণের সঙ্গে মানুষের বসবাস কৃত্যাচার, অন্যদিকে আছে স্বাভাবিক আনন্দ অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মানুষের অন্তরঙ্গ জীবনাচারের নাট্যাভিনয়, নৃত্য-গীত এবং সাহসী বাঙালির জীবন নিয়ে খেলা চড়কানুষ্ঠান।

saymonzakaria@gmail.com

free counters

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন pinaki — এপ্রিল ২২, ২০১০ @ ৬:০২ অপরাহ্ন

      লেখাটি অসাধারণ হয়েছে। আমাদের সংস্কৃকির এই সনাতন রূপটি নিয়ে কাজ করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। আর সেই সঙ্গে উৎসবের ভিডিও দিয়ে দেয়ার কারণে যারা এই ধরনের গ্রামীণ উৎসবের সঙ্গে পরিচিত নন তাদের জন্যও বিষয়টি সহজবোধ্য হবে।

      -pinaki

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডা: সিদ্ধার্থ সরকার — মে ২৪, ২০১০ @ ১২:২০ পূর্বাহ্ন

      ভালো লাগলো খুব। আজই প্রথম আপনাদের সাইট দেখলাম।

      – ডা: সিদ্ধার্থ সরকার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নয়ন কর্মকার সূর্য্য — মে ৩০, ২০১০ @ ১২:৫১ অপরাহ্ন

      আমাদের জয় মা সংঘের পক্ষ থেকে লেখককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন, আমাদের গ্রামবাংলার সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য। যদি একটু কষ্ট করে সম্পূর্ণ ভিডিওচিত্রটির একটি সিডি আমাদের ঠিকানায় পাঠাতেন লেখক তাহলে আমরা খুব উপকৃত হতাম॥

      – নয়ন কর্মকার সূর্য্য

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com