সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, যখন আমি… (কিস্তি ৮)

চঞ্চল আশরাফ | ১৮ december ২০০৯ ১০:১১ পূর্বাহ্ন

কিস্তি:

(কিস্তি ৭-এর পরে)

ha_sr.jpg
শামসুর রাহমানের সঙ্গে হুমায়ুন আজাদ

বললাম, ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কোনও লেখকের বানানে ভুল দেখলে তার লেখাটি তিনি সঙ্গে সঙ্গে আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দেন। সুনীল মনে করেন, যে-লোক নিজের ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ, তার সেই ভাষায় সাহিত্য রচনার অধিকার নেই।’ হুমায়ুন আজাদ বললেন, ‘তার তো চিঠি লেখারই যোগ্যতা নেই। (আজ বা পাঁচ-ছ’বছর আগে এই আড্ডা হলে বলতাম, দুঃখিত স্যার, এখন কেউ চিঠি লেখে না কাউকে; মেসেজ পাঠায়, মেইল করে, ‘এবং’য়ের সমার্থক ‘আর’ লেখে একটি ইংরেজি বর্ণ দিয়ে) তবে সুনীলের মতো নিম্নমাঝারি লেখকের উদ্ধৃতি ব্যবহার না-করে কথাটা যদি তোমার মুখ থেকে শুনতাম, ভালো লাগতো।’ বললাম, ‘কথাটা তো আমার নয়।’ বললেন, ‘কথাটা অসাধারণ কিছু নয় যে, এর মালিকানা নিয়ে ভাবতে হবে।’ একদিন পশ্চিমবঙ্গের লেখক আবুল বাশার নিয়ে কথা উঠলে তিনি বললেন, ‘এর মতো অপরিচ্ছন্ন লেখক আমি আর দেখি নি; আচ্ছা, সাহিত্য করতে হলে কি এমন করে দাড়ি-গোঁফ রাখতে হবে? দাঁতে ময়লা থাকা, লেখার টেবিলের পাশে থুতু ফেলা কি জরুরি?’

হূমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে তিনি যে-রকম মন্তব্য করতেন, তেমনটি প্রায় সবার ব্যাপারেই করতেন। ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস নিয়ে তাঁর মধ্যে নমনীয়তা দেখেছি। সেটি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে মিলনের তুলনা করতে গিয়েই—যেমন, মিলন চেষ্টা করে উপন্যাস লেখার; তাঁর কিছু নিরীক্ষাও আছে; কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের কোনও ধারণাই নেই উপন্যাস সম্পর্কে। এমন কথাবার্তার এক পর্যায়ে আমি হেসে হেসে বলেছিলাম, স্যার, আপনার মধ্যে অঞ্চলপ্রীতি আছে। মিলনের বাড়ি বিক্রমপুর বলে আপনি উনার পক্ষ নিয়েছেন! ভীষণ রেগে তিনি বললেন, ওটা তোমার মধ্যেই দেখছি। তোমার বাড়ি নোয়াখালি না? ব্রিটিশ আমল থেকেই তোমাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে। মিলনের বনমানুষটা পড়েছ? ওইরকম নিরীক্ষা তখন কেউ করেছে? লেকচার থিয়েটারের চেম্বারে চেয়ারে হেলান দিয়ে সামান্য বিরতি নিয়ে বললেন, তার নিরীক্ষায় ছেলেমানুষি অবশ্য আছে, কিন্তু একটা চেষ্টা তো; আর হুমায়ূন আহমেদ ওসব কী লেখে? বইমেলায় তার বই কিনতে কারা ভিড় করে? সব বালক-বালিকা আর গৃহিণী…

‘মিলনের বই কিনতেও তো সেই রকম ভিড় হয়।’

‘তাই না-কি! আমি তো শুনেছি কলেজে-পড়া ছেলেমেয়েরা ওর বই পড়ে। মানে, হুমায়ূন আহমেদের পাঠকের চেয়ে এরা উন্নত…

১৯৯৭’র সম্ভবত ফেব্রুয়ারিতে সাপ্তাহিক রোববারে হুমায়ুন আজাদের একটা সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। তাঁরই বক্তব্য-অংশ উদ্ধৃত করে শিরোনাম ছিল, ‘শামসুর রাহমান এখন আওয়ামী লীগের তৃতীয় শ্রেণীর স্লোগানদাতা।’ এ-নিয়ে বেশ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সাহিত্যিকদের মধ্যে। বিশেষত তরুণ কবিদের বড় একটা অংশ এই বক্তব্য মেনেই নিতে পারে নি। বদরুল হায়দার বর্ধমান হাউজের পুব প্লাজায় বসে হুমায়ুন আজাদকে গালিগালাজ করেছেন, দেখেছি। সেখানে মনির জামান, প্রণয় পলিকার্প রোজারিও, অশোক দাশ (তরুণ লেখক প্রকল্পের প্রথম ব্যাচের সদস্য) সহ অনেকেই ছিলেন। তখন দুপুর। বিকালে মেলায় ঢোকার মুহূর্তে একাই বদরুল হায়দার হুমায়ুন আজাদের মুখোমুখি হন। তখন আমি মেলার বাইরে সিগারেট কিনছিলাম। বদরুলের শুরুটা ছিল, ‘আপনাকে ওই কথাটা উহথড্র করতে হবে।’

হুমায়ুন আজাদ: কোন কথাটা?

বদরুল: শামসুর রাহমানকে নিয়া যে অশোভন উক্তিটা আপনি করছেন।

আমাকে দেখে হুমায়ুন আজাদ ডাকলেন। কাছে যেতেই তিনি বললেন, ‘প্রকল্পে কি তোমাদের এই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়?’

বদরুল বললেন, ‘স্যার আপনি ত নিঃসঙ্গ শেরপা লিখছেন। ওইটার কী দরকার ছিল?’

‘ওটা লিখে আমি এমন কোনো কাজ করি নি যে, জীবনভর তার স্তাবকতা করতে হবে। এত নির্বোধ হওয়ার কারণেই তোমাদের কবিতাগুলো ব্যর্থ হচ্ছে।’ বলে তিনি স্থানত্যাগ করলেন আর বদরুল আমার ওপর খুব রেগে গেলেন: কেন আমি বিষয়টা নিয়ে একটা কথাও বলি নি! বললেন, ‘তোমার মেরুদণ্ড নাই, গুরুর সামনে তুমি খালি লেজ নাড়।’ শুনে আমার খুব বিরক্ত বোধ হলো। বললাম, ‘লেজ মেরুদণ্ডের সম্প্রসারণ, যদিও অনেক অমেরুদণ্ডীর লেজ দেখা যায়। আর আমার কোনও গুরু নাই। শিক্ষক আর গুরু এক জিনিশ না।’

ha_sr-1.jpg
স্ত্রী লতিফা কোহিনূরের সঙ্গে হুমায়ুন আজাদ

বাংলাদেশে দর্শনের চর্চা নিয়ে সরদার ফজলুল করিম সম্পর্কে একদিন কথা উঠল। তিনি বললেন, ‘প্রচারমাধ্যমগুলো এদেশে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছে দার্শনিক বলে। কিন্তু তিনি মোটেই তা নন; দর্শনের পুরনো কয়েকটি বই অনুবাদ ছাড়া তিনি কিছুই করেন নি, তাতেও আছে গোলমাল। এ-বাংলায় দর্শনের ব্যাখ্যাকার বা ভাষ্যকার বলেও কিছু নেই, কিন্তু একজন দার্শনিক আছেন। তিনি সরদার ফজলুল করিম।’

একদিন আন্ওয়ার আহমদের বাসায় তাঁকে ধরলাম শওকত ওসমান নিয়ে। বললাম, ‘একটা লিটল ম্যাগাজিনে আপনার এই প্রিয় শিক্ষকের আলাপচারিতা পড়েছি। উনার ভাষা নিয়ে তো তেমন কোনও কথাই বললেন না।’

‘মানে?’

‘মানে উনার উপন্যাসের যে ভাষা, তাতে বাঙলার মধ্যে আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দগুলো ঠেসে দেয়া হয়েছে আর এমন সময় ওগুলো লেখা হয়েছে যখন বাঙলা ভাষা আর বাঙালিত্ব রক্ষার মনস্তত্ত্ব সাহিত্যিকদের মধ্যে কাজ করছে।’

‘তাঁর চরিত্রগুলো পূর্ব বাঙলার মুসলমান। যেভাবে ওরা কথা বলেছে, সেভাবেই উনি লিখেছেন।’

‘স্যার, তাদের সংলাপের কথা বলছি না। বলছি ডিটেলিংয়ে বা ন্যারেশনে তিনি বাঙালি ঔপন্যাসিকের দায়িত্বটা পালন করেন নি বা সেই ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন।’

‘হুম। আসলে বাঙালি মুসলমান লেখকরা একটা জিনিশ এড়াতে পারে নি। সেটা হলো, মুসলমান হইয়া লিখিতে পারিলাম। তুমি দেখো মীর মশাররফ হোসেন থেকে কাজী আবদুল ওদুদ পর্যন্ত।’

আন্ওয়ার আহমদ সেদিন খুব কাশছিলেন। তাঁর চোখ প্রায় রক্তবর্ণ ধারণ করেছিল; হতে পারে সেটা কাশির জন্যে, নয়তো পেশাগত কারণে রাত্রিজাগরণের ফলে (তখন এয়ারপোর্টে রাতে তাঁর ডিউটি ছিল); কাশতে কাশতে তিনি কথাটা শুনলেন এবং খাট থেকে নেমে মুখে উঠে আসা কফ টয়লেটের বেসিনে ফেলে এসে তিনি বললেন, ‘আপনার এই কথা আমি মানছি না। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে আপনি কী ভাবেন? জহির রায়হানকে?’

‘এঁরা মনে করতেন মুসলমান হইয়া আধুনিক হইতে পারিলাম। লেখায়ও সেই ভাবটা আছে।’ এর পর আর কী কথা হয়েছিল, মনে পড়ে না। বোধ করি, প্রসঙ্গটা বেশিদূর যায় নি। মনে পড়ে, গরম পানিতে মেশানো তিন গ্লাস হুইস্কি খেয়ে তিনি আন্ওয়ার ভাইয়ের বিছানায় থাকা অ্যানালগ টেলিফোন সেটটি টেনে নিয়েছিলেন বাসায় কথা বলার জন্যে। ডায়াল করতে করতে বলেছিলেন, ‘যদি স্ত্রী ধরে, বিপদ হতে পারে। এই জাতির ঘ্রাণশক্তি প্রখর। ফোনেও তারা মদের গন্ধ পেয়ে যায়।’

আন্ওয়ার ভাই ১৯৯২-র এক সন্ধ্যায় হুমায়ুন আজাদকে জানালেন যে, বগুড়া লেখক চক্র তিন জনকে পুরস্কৃত করেছে, তাঁদের মধ্যে তিনিও আছেন; প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি পুরস্কারটি পেয়েছেন। তাঁকে পুরস্কার নেয়ার জন্যে বগুড়া যেতে হবে। শওকত আলীর হাত থেকে সেটি তিনি গ্রহণ করবেন। কয়েক দিনের মধ্যে দাওয়াতের চিঠি তিনি পাবেন। শুনে হুমায়ুন আজাদ খুশি হলেন কি-না বোঝা গেল না। তিনি বললেন, ‘আমি দাওয়াতের চিঠি গ্রহণ করি না। দাওয়াত দেয় জামাত-শিবিরের কর্মিরা; তবে নিমন্ত্রণপত্র হলে সেটা আমি নেবো। আর শওকত আলীর হাত থেকে কেন পুরস্কার নিতে হবে? তিনি প্রবন্ধের কী বোঝেন?’

আন্ওয়ার ভাই বললেন, ‘আপনি শওকত আলীর কী বোঝেন? উনি একজন বড় লেখক। উনার হাত থেকে পুরস্কার নিতে আপনার আপত্তির কারণ কী?’

‘একজন নিম্ন-মাঝারি লেখক আপনার কাছে বড় হতে পারে; আপনারা তাকে আমার চেয়ে বড় লেখক প্রমাণের জন্যে একটা অনুষ্ঠানও করতে পারেন। কিন্তু আমাকে তো ভাবতে হবে এ-ধরনের অনুষ্ঠানে হুমায়ুন আজাদ যেতে পারে কি-না।’

আন্ওয়ার ভাইয়ের মুড সেদিন, কেন যেন, ভালোই ছিল। একটুও উত্তেজিত হলেন না। বললেন, ‘পুরস্কারটা আপনি পাচ্ছেন, এটাই আসল কথা। আপনি কিন্তু যাচ্ছেন। আপনাকে বগুড়ার দই খাওয়াবো।’

হুমায়ুন আজাদ একটু হাসলেন। বললেন, ‘একবার কবি কায়কোবাদের মৃত্যুবার্ষিকীর একটা অনুষ্ঠানে আমাকে নিমন্ত্রণ করা হল। আমার যাওয়ার ইচ্ছা একেবারেই ছিল না। ছেলেদের প্রচণ্ড পীড়নে আমি যেতে বাধ্য হলাম। তো, আমাকে মঞ্চে বসানো হলো। ভুল বাঙলায় কায়কোবাদের খুব প্রশংসা করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে উপস্থাপক কায়কোবাদের কবিতা সম্পর্কে মূল্যবান বক্তব্য দেয়ার জন্যে আমাকে অনুরোধ করল। আমি বললাম, আয়োজকদের আমি ধন্যবাদ জানাতে পারছি না। যদিও তারা খুব পরিশ্রম করেছেন। কায়কোবাদ এমন কিছু লেখেননি যে, তার মৃত্যুর পর এধরনের অনুষ্ঠান করতে হবে। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তাতে বড়জোর একটা মিলাদ মাহফিল হতে পারে।’

‘বগুড়ায় গিয়ে এরকম করবেন না তো!’ আন্ওয়ার ভাই বললেন।

আমি বললাম, ‘করতেও পারেন। স্যারের কোনও ঠিক নাই। আনপ্রেডিক্টেবল।’

ওই অনুষ্ঠানে আমি যাই নি। আন্ওয়ার ভাই একবার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তাতে তেমন জোর ছিল না। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও আমন্ত্রণ জানানো হয় নি আমাকে। কেন যাবো? কিন্তু বগুড়ায় যে কিছু কাণ্ড ঘটে গেছে তা ফেরার কিছু দিন পর হুমায়ুন আজাদ ও আন্ওয়ার ভাইয়ের কথাবার্তায় টের পেলাম।

আন্ওয়ার আহমদ: হোটেলে শওকত আলীর সঙ্গে আপনার ওই আচরণটা ঠিক হয় নি।

হুমায়ুন আজাদ: আমার সঙ্গে আপনার আচরণটা তা হলে খুব ঠিক হয়েছে!

আন্ওয়ার আহমদ: ওটা আমি করেছি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য।

শওকত আলীর সঙ্গে হোটেলে কী আচরণ তিনি করেছেন, আন্ওয়ার ভাই তাঁর প্রতি কী আচরণ করেছেন, আমার জানার উপায় ছিল না। বিষয়টা জানতে পারি অনেক দিন পরে, ২০০৯-র ৮ নভেম্বর রাতে, সরকার আশরাফ (কবি; সম্পাদক: নিসর্গ)-র কাছ থেকে। যেহেতু সে-ঘটনা আমি দেখি নি, সেই বর্ণনা দেয়া এখানে ঠিক হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় আন্ওয়ার ভাই আর হুমায়ুন আজাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছিল, তা বলতে পারি।

হুমায়ুন আজাদ: আপনি তো দেখছি বেশ পরিবেশ-সচেতন। যখন স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল, লেখকদেরকে সাধারণ বগিতে তুলে দেয়া হচ্ছে, এই সচেতনতা তখন কোথায় ছিল?

আন্ওয়ার আহমদ: কোনও লেখকের তো আপত্তি তাতে ছিল না। আর আয়োজকরা প্রথম শ্রেণীর টিকেট পায় নি। পরিবেশের কথা যদি বলি, সেখানেও আপনিই সেটা নষ্ট করেছেন।

হুমায়ুন আজাদ: লেখকদের আত্মসম্মানবোধ থাকলেই তো আপত্তি থাকতো। গরু মেরে জুতা দান বোঝেন? ওরা করেছে তার উল্টোটা; গরু দিয়ে জুতা মেরেছে। শোনেন, আমি অত সুশীল নই। জুতা মারবে আর চুপ করে থাকবো, যিশুর আদর্শরক্ষা আমার কাজ নয়। তাতে পরিবেশ নষ্ট হলে হোক। আর শোনেন, প্রথম শ্রেণীর টিকেট ওরা পায় নি এটা মিথ্যা। আমি শুনেছি, আয়োজকদের কেউ টাকাটা মেরে দিয়েছে।

আন্ওয়ার আহমদ: আপনার এসব শুনতে আমার ভালো লাগছে না। যা ঘটেছে তা তো সেখানেই শেষ হয়েছে। আসলে আপনাকে ওখানে নিয়ে যাওয়াটাই ওদের ভুল হয়েছে। সবখানেই আপনি একটা গোলমাল বাঁধান।

হুমায়ুন আজাদ: আপনি এত ক্ষেপে যাচ্ছেন কেন? ঢাকার বাইরে যাওয়ার সময় পকেটে কমপক্ষে দু’হাজার টাকা নিয়ে বেরোই। শোভন শ্রেণীর কথা ওরা আমাকে আগেই জানিয়ে দিত, আমি প্রথম শ্রেণীর টিকেট নিতাম।

আন্ওয়ার আহমদ: হ্যাঁ, সেটা করেন নি কেন? কেন আপনি আমাদের সঙ্গে সস্তা কম্পার্টমেন্টে উঠলেন?

হুমায়ুন আজাদ: শওকত আলীই তো জোর করে…

এক সন্ধ্যায় আন্ওয়ার ভাই তাঁর জন্যে হুইস্কির সঙ্গে গরম পানি মেশাচ্ছেন, এমন সময় ডোরবেল বেজে উঠল। টেবিলের উপর বোতল রেখে তিনি দরজা খুলতে বেরোলেন। হুমায়ুন আজাদ বললেন, ‘আল মাহমুদ নয় তো!’ আমি বললাম, ‘উনি বেল বাজান না, গেট থেকে জানোয়ার-জানোয়ার বলে চিৎকার করেন।’ ‘আন্ওয়ার সেটা কত দিন ধরে সহ্য করছেন?’ ততক্ষণে তাঁর পিছু-পিছু শাড়ি-পরা এক মহিলা ঢুকলেন এবং আমাদের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন তিনি। তারপর গ্লাস বাড়িয়ে দিচ্ছেন হুমায়ুন আজাদের দিকে, আন্ওয়ার ভাইকে তিনি বললেন, ‘আপনি তো দেখছি আজকাল সাকীও যোগাড় করতে পারেন!’ আন্ওয়ার ভাই বললেন, ‘ও কবিতা লেখে।’ ‘বাঙালি রূপসীরা আজকাল কবিতা লিখছে। তা হলে তো কবিতার মধ্যে রূপচর্চার জিনিসপত্রও যোগ হবে। অ্যাই রূপসী, শোনাও তো একটা কবিতা!’

‘এটা ভদ্রলোকের বাসা। এখনও এক পেগ শেষ হয় নি। এতেই কাকে কী বলতে হবে, গুলিয়ে ফেলেছেন?’

ততক্ষণে সেই মহিলা উঠে ভেতরের রুমে চলে গেলেন। তারপর কিছুক্ষণ নীরবতা। টিভিতে তখন দি সোর্ড অব টিপু সুলতান চলছিল। আন্ওয়ার ভাই ভেতরে গিয়ে সামান্য পরে ফিরে এসে বললেন, ‘আপনি এখন যান।’ আমাকে লক্ষ করে বললেন, ‘তুমিও যাও।’

এর পর ওই মহিলাকে আমি দু’তিন বার সেই বাসায় মদ্যপান করতে দেখেছি। বেতের চেয়ারে বেসামাল অবস্থায় তার ফর্সা পেট নাভিসহ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।… পরে শুনেছি তিনি খুব ভালো বেতনের একটা চাকরি পাওয়ার পর আন্ওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন নি; যদিও এর আগে রূপম প্রকাশনী থেকে তার একটা কবিতার বই বেরিয়েছিল।

(কিস্তি ৯)

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: চঞ্চল আশরাফ
ইমেইল: chanchalashraf1969@yahoo.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Ashique Reja — december ২৭, ২০০৯ @ ২:৪৪ অপরাহ্ন

      চঞ্চল আশরাফকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভাল লাগলো।

      – Ashique Reja

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সানজানা — জানুয়ারি ৩০, ২০১০ @ ৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

      ভালো লাগলো সমগ্র লেখাটি…।

      – সানজানা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিপ্রতীব — এপ্রিল ১৯, ২০১২ @ ৮:২০ অপরাহ্ন

      জানলাম অনেক কিছু !
      ধন্যবাদ লেখক কে অনেক ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com