কিস্তি ২

এডওয়ার্ড সাঈদের সাথে সংলাপ / তারিক আলী

হোসেন মোফাজ্জল | ২৩ আগস্ট ২০০৯ ১১:৫৫ অপরাহ্ন

কিস্তি ১

es11.jpg
এডওয়ার্ড সাঈদ (জন্ম. জেরুসালেম ১/১১/১৯৩৫, মৃত্যু. নিউ ইয়র্ক সিটি ২৫/৯/২০০৩)

অনুবাদ: হোসেন মোফাজ্জল

(কিস্তি ১-এর পর)

মিউজিক নিয়ে

একটা পর্যায়ে এসে আপনার কি মনে হয়েছে আপনি পেশাদার মিউজিশিয়ান হবেন?

বেশ, আমি এ নিয়ে টাইজারমানের সাথে আমার টীন্এজ্ বয়সের শেষের দিকে এবং বিশ বছরের শুরুর দিকে মেলা কথা বলেছি কিন্তু সবসময় আমি কেমন জানি একটা অসুবিধা বোধ করতাম। আর তা হলো আমার মনে হয়েছে একজন পারফর্মার হলে পরে, আসলে সেটা আরও অনেক অনেক কিছুরই পথ রোধ করে দেয়, যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলো। আর তাছাড়া আমার আসলে একবারে ছোটবেলা থেকে তেমন কোনো সঠিক ট্রেনিংও ছিল না। টাইজারমানের কাছে আমি গিয়েছি নয় বা দশ বছর বয়েসে, আমার টেকনিক্যাল ফরমেশনটা ওখানেই হয়েছে। কিন্তু আমি যখন সিরিয়াসলি এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠি তখন আমার বয়স আঠারো কি ঊনিশ, আমার মনে হয়েছে মেলা দেরী হয়ে গেছে। আমি এটাও ভেবেছি এ রকম একটা জীবন আমার জন্যে হবে অসম্ভব। কারণ এটা আমাকে টুকরো করে ফেলবে, বলা চলে পুরোপুরি, আমার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টাকে। স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় এ দুজা’গাতেই আমি যে সব মিউজিশিয়ানদের জানি, আমার কাছে মনে হয়েছে তারা খুবই আচানক স্বভাবের লোকজন। কেবল টাইজারমান বাদে, বলা চলে আসমান থেকে পাওয়া, যিনি কি-না আবার মিশরে বসবাস করেন। তিনি নিজেকে অনেক বিশাল করেই তৈরি করেছিলেন, সেটা হচ্ছে একজন অনন্য ব্যক্তি হিসেবে… আমি তাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম—আপনি ইসরায়েল যাচ্ছেন না কেন? তার জীবনের শেষের দিকটাতে, তখন খুবই খারাপ সময় যাচ্ছিল, ১৯৬৭ যুদ্ধের শুরুতে। উনি বললেন, বাবারে আমি যদি ইসরায়েলে যাই, আমার মতো ভুরিভুরি লোক সেখানে আছে! এখানে আমি কেবল মাত্র একজন! তাই তিনি ছিলেন অপ্রত্যাশিত ভাবে পাওয়া, আপনি যাকে পরিহারের চেষ্টা করতে পারবেন না। তাছাড়া ইঁদুর দৌড়, প্রতিযোগিতা, আর বাকি সবই ছিল বড়রকমের বিরক্তিকর। ঠিক বিশ, একুশ বছর বয়সে এসে বলা চলে আমি ওসব ভাবনা পুরোপুরি পরিত্যাগ করি।

এ নিয়ে কখনো কি আক্ষেপ হয়েছে…

না, একেবারেই না, চূড়ান্ত ভাবে না। না। আমি বাজনা চালিয়ে যাই এবং বিভিন্ন উপায়ে সঙ্গীত নিয়ে আমার আগ্রহ চলতে থাকে। তাই এ নিয়ে আমার কোনো প্রকারের আক্ষেপ নেই।

মিউজিকের উপর দেয়া আপনার ওয়েলেক লেকচারে , যা এখন বই আকারে বের হয়েছে—আপনি এমন ভাবে বলেছেন যেটা আরও অনেক মিউজিশিয়ানরা নিজেরাই বলেছেন… মানে আমি বলতে চাচ্ছি হ্যারিসন বার্টহুইসেল একই রকম পয়েন্ট উত্থাপন করেছেন, যে আজকাল এমন এক জমানায় আমরা বসবাস করি, এমন একটা সাউ›ড বাইট-এর জগতে, ফ্র্যাগমেন্টস্ এবং ক্ষণের মধ্যে কেড়ে নেয়… যেসব স্রোতারা এখন কনসার্টে যান তারা বলা চলে সঙ্গীতের ইতিহাসে সবচে’ বেশি রকমের বকলম। কেন এটা?

আমি মনে করি সোজা সত্যটা হচ্ছে আজকাল খুব সামান্য সংখ্যক লোক মিউজিকের উপর ট্রেনিং পেয়ে থাকে। এরজন্যে মেলা মাথার ঘাম পায়ে ঝরাতে হয়। সঙ্গীত শিক্ষা মানে ঠিক এই না যে কোনো একটা যন্ত্র নিয়ে প্রাথমিক স্তরে জানা, যেমন হতে পারে বাঁশি কিম্বা পিয়ানো। এরসাথে আরও অনেক প্রকারের মিউজিকের ব্যাপার চলে আসে, বিদ্যার ব্যাপার চলে আসে, মিউজিক পড়তে জানার ব্যাপারগুলো চলে আসে, স্কোর-এর ব্যাপারটা জানতে হয়, জানতে হয় মিউজিকের ইতিহাস, ফর্মের ইতিহাস, অপেরা এবং অপেরেতার ফারাক জানতে হয়, ফিউগ এবং সার্বজনীন মানের ফারাকটা বুঝতে হয়। যা আসলে সহজে মিলবে না।

দ্বিতীয়টা হচ্ছে, আমি মনে করি এটা একটা মহা সমস্যা যে পশ্চিমা চিরায়ত ঐতিহ্য দাঁড়িয়ে আছে তার অন্যন্যতা আর কুলীনতার উপর, যেটা আসলে আমাদের চারিদিকে আরও বেশি করে শব্দদূষণ তৈরি করছে, রেডিও আর টেলিভিশন এবং আরও হরেক রকমের মিউজিক্যাল রিপ্রোডাকশন ক্রমাগত বিঘœ সৃষ্টি করে চলেছে, সোজা কথায় একেবারে অস্তিত্বের কিনারে এনে ঠেকিয়েছে।

আর তৃতীয় কারণটা আমার মতে হতে পারে মার্গীয় সঙ্গীত বলা চলে রীতিমত সেকেলে শিল্প হয়ে উঠেছে। মানে আমি বলতে চাচ্ছি, পারফর্মেন্সের ধরন, পারফর্মেন্সের প্রথাগত আচরণ, যে ভাবে কনসার্ট পরিবেশনা করা হয় গত একশ বছরেও যার তেমন কোনো হেরফের হয় নি। রিচ্যুয়াল এবং আর্কেয়িক গুণাবলী মিশেল দেয়া এরকমের একটা কিছুর প্রতি এখনকার তরুণদের তেমন কোনো আস্থার সৃষ্টি হয় না। আমার মনে হয় উছিলা করেই এটাকে আলাদা রাখা হয়েছে। আর এতসব মিলিয়ে শ্রোতাদেরকে আলাদা রাখতে অবদান রাখছে যাতে করে তারা মিউজিক বোঝার পরিবর্তে আরও বেশি বেশি করে রেকর্ডিং আর বিখ্যাত সব তারকাদের পেছনে ছোটেন।

আর কেনই বা আজকাল অতি সামান্য ইমপ্রোভাইজেশন সৃষ্টি হচ্ছে?

বেশ, ব্যাপারটা হচ্ছে তারা আসলে ওভাবেই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আমি বলতে চাচ্ছি, দৃষ্টান্ত হিসেবে যদি ধরি পিয়ানোবাদক—আমি যেহেতু অন্য যে কোনো যন্ত্রের তুলনায় পিয়ানোবাদকদের সম্পর্কে ভাল জানি—কিন্তু পিয়ানোবাদকদের প্রাথমিক ভাবে তৈরিই করা হয়ে থাকে ক্রীড়াবিদ হিসেবে। যেমন যদি আপনাকে একশ গজ দৌড়াবার জন্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, আপনি আসলে তাই করেন। এটাই, আপনি একজন তরুণ পিয়ানোবাদককে শিক্ষা দিতে চেষ্টা করেন, কারণ ইঁদুরদৌড়টা এতটাই তীব্র। আবার সকলেরই এটা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ নেই—এবং কেউই চাবেন না তার জীবনটা শিক্ষক হিসেবে খতম হোক, সব সম্ভাবনাময় তরুণ পিয়ানোবাদকই চান তাদের জীবনটা শেষ হোক পারফর্মার হিসেবে, যেমন ধরেন হরোইজ্ (Horowitz) এবং বার্নস্টাইন (Bernstein) এবং আরও অনেকে অনেকে—এবং তারা সেভাবেই শিক্ষা নিয়েছেন যাতে মাত্র গুটিকয়েক ক্ল্যাসিকস্ বাজানো যায়, সেগুলোই মুখস্ত করেছেন। আইডিয়াটা হচ্ছে, যাতে করে এধরনের র‌্যাপেটোরির ক্ষেত্রে তারা জাহাবাজ একটা জিনিয়াস সেজে বসেন, আর তেমনটাই হচ্ছে। উদভাবনার চিন্তা, স্কোর ঠিক মত করে পড়ার যোগ্যতা, এবং অন্য আর সব মিউজিকের প্রতি আগ্রহ, মানে আমি বলতে চাচ্ছি সোজ কথায়…

হাওয়া হয়ে গেছে…

গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া। বাকিটা হাওয়া হয়ে গেছে। আমি বোঝাতে চাই গাউল্ড-এর কথা, আমার মতে সত্যিকার অর্থেই গ্লেন গাউল্ড (Glen Gould) হচ্ছে এমনই একজন শেষ ব্যক্তি, যিনি মিউজিক নিয়ে একটা কিছু ঘটাতে পারেন। তিনি এ নিয়ে কথা বলতে পারেন, পারফর্ম করতে পারেন, যে কোনো মিউজিক পারফর্ম করতে পারেন, বিভিন্ন মোড নিয়ে, বিভিন্ন স্টাইলে স্বছন্দে কাজ করতে পারেন এমনটা যেন তিনি বাসায় বসে বাজাচ্ছেন, এবং সবসময় তিনি এমন একটা একক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব বোধ নিয়ে থাকেন সোজ কথায় কনসার্ট সেখানে কোনো বাধ সাধে না। ভুলে যাবেন না, বেশিরভাগ পিয়ানোবাদক যারা পারফর্ম করেন, কিম্বা মিউজিশিয়ান যারা পাবলিকের সামনে পারফর্ম করেন, তারা নির্বাক! তারা ওখানেই শুধু বসে থাকেন। গাউল্ড সেই ধাঁচটা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি টেলিভিশনে এসেছেন, রেডিওতে এসেছেন, তিনি এ নিয়ে লিখেছেন, ইত্যাদি।

তাকে নিয়ে একটা নতুন চলচ্চিত্র হয়েছে, যা প্রদর্শিত হলো বলে…

হ্যাঁ। আমি দেখেছি। এখানে প্রায় মাসখানেক ধরে চলছে, ছবিটাতে তার অসম্ভব শক্তিমত্তা এবং কাহিনীবহুল বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জীবন তুলে ধরেছে। মিউজিক পারফর্মিং-এর আইডিয়াটা হচ্ছে এক প্রকারের সীমাহীন পরম্পরা। আপনি মঞ্চে আটকে থাকলেন আর ছোটখাট র‌্যাপেটোরি দেখালেন, যেন আপনার ব্যক্তিত্বটাই তৈরি হয়েছে কম্পোজ বা উদভাবনার পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে অই র‌্যাপেটোরি দেখানোর জন্যে।

এবং অপেরা কি আর্ট ফর্ম?

আসলে আমার মনে হয় আরও অনেক অনেক মনোজ্ঞ একটা কিছু, মানে আমি বোঝাতে চাচ্ছি এখনকার মিউজিকের আর অন্য সব শাখার মধ্যে এটাই হচ্ছে…একটা ব্যাপার যা নানারূপে প্রকাশিত। বোঝাতে চাচ্ছি দর্শক হিসেবে আপনার বিভিন্ন পাশ থেকে হাজারোটা ইনফরমেশন এসে আপনাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। সেখানে রয়েছে আলো, রয়েছে সেট, অবশ্যই রয়েছে সকল রকমের থিয়েটারীয় অভিজ্ঞতা, এবং সাথে তো মিউজিক রয়েছেই। এসব বিবেচনায় আমার মনে হয় আজকালকার সকল মিউজিক আর্টের মধ্যে এটাই সবচে বেশি চিত্তাকর্ষক। আর এটাকে একমাত্র সাঙ্ঘাতিক ভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারে যেমন ধরেন চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অপেরা করেন এমন পরিচালকদের কথা ভাবতে গেলে, যেমন পিটার সের্লাস (Peter Sellers) এবং জোনাথন মিলার (Jonathon Miller) —মানে তারা দেখতে একজন আরেক জনের মত না কিন্তু তারা উদ্যোগী—অথবা ফ্রান্সের পেট্রিস সিরো (Patrice Chéreau), জর্মানীর জিরার্ট ফ্রেড্রিখ (Gert Friedrich)। বেশির ভাগ অপেরা ডিরেক্টর, বেশির ভাগ অপেরা কোম্পানি, নিশ্চিত ভাবে আমেরিকার, যা সত্যি করে বলতে গেলে বিরক্তিকর। তারা আসলে অনেকটা যাদুঘরের রক্ষকের মত। যারা সীমাহীন ভাবে লা বোহেম (La Boheme) রিপ্রোডিউস করে চলেছে, কিন্তু র‌্যাপেটোরিগুলো এতটাই অসামঞ্জস যে মেট্রোপলিটানের মত ওরকম একটা স্টেজ যদি কোনো একজন মেধাবি ডিরেক্টরকে দেয়া হতো, ধরুন বছর দু’য়েকের জন্যে, তাহলে ওধরনের কোনো মিউজিকই তৈরি হতো না, বিশেষ করে শ্রোতাদের আগ্রহ এবং শ্রেণীভেদে।

তবুও এটা এখনও খুবই সামান্য লোকজনদের পছন্দ—

কারণটা হচ্ছে এটা খুবই ব্যয়বহুল। আমি বলতে চাচ্ছি টাকার অঙ্কটা এত বড় যে তাদের এখন কর্পোরেট সাহায্য ছাড়া হয় না। ন্যূইয়র্ককে মেট (Met) কী করলো? যারা কি-না বিশ্বের অপেরা হাউসগুলোর প্রধানতম। তারা মূলত করলো ইটালির ভারিস্‌মো (verismo) র‌্যাপেটোরি। তারা করলো ভারডি (Verdi), পুচিনি (Puccini), বেল ক্যান্টোর কিছুটা, ডোনিজিটি (Donizetti), বেলিনি (Bellini), এই ধরনের কাজগুলো। আমার ধারণায় এসব মর্মাহত হবার মতো কাজ। মাঝেসাঝে তারা করেছে লে তোয়াইয়া (Les Troyens—দ্য ট্রোজান) এর মত অপেরা, যেখানে তেহলিউজ সামান্যই পারফর্ম হয়েছে, যতটুকু করেছে তাও আবার বিশ্রীভাবে। বেশির ভাগ সময় আপনাকে এমন সব আইডিয়া পেশ করতে হচ্ছে যা কর্পোরেট স্পন্সরদের আকর্ষণ করতে পারে যারা আসলে চায় অতেল্লো (Otello) বা আয়িদা (Aida)-এর মত কাজগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হতে। আর কোনো ভাবেই যা করবে না, যেমনটা ধরেন বার্গ বা শোনবার্গ (Schoenberg)।

মিউজিক নিয়ে আপনার লেখায় আপনি ভাগনারকে (Wagner) নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন, মূলত তার অপেরা নিয়ে, অংশত অ্যাডোর্নোর সাথে বাহাস করেছেন যিনি ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে ভাগনারকে নিয়ে লিখেছেনও বিস্তর। একপর্যায়ে আমিও তার অপেরা পছন্দ করতে শুরু করি এবং মনে করি কোনো না কোনো ভাবে তিনিই হচ্ছেন কম্পোজারদের মধ্যে সবচে বেশি বুদ্ধিজীবি, তবুও কিছু না কিছু সন্দেহ তো মনে খচখচ করতে থাকে, যেমনটা আমরা কী দেখছি বা কী শুনছি? তার অপেরার রাজনীতি খুবই পরিষ্কার: তা হচ্ছে আইনের, শাসনের এবং অথরিটির পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

সত্যি কি অতটা পরিষ্কার? আমি সেসব মানুষদের মধ্যে একজন যারা এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে থাকেন। নিশ্চিতভাবে, যদি আপনি তার গদ্য লেখাগুলোতে চোখ বুলান, যা কি-না সংখ্যায় আবার অনেক, দেখবেন তিনি আসলে বিপ্লবী—

তার যৌবনে—

তার যৌবনে, এমনকি পরবর্তী বছরগুলোতেও। স্টেজ-এর প্রসঙ্গ আসলেও বলতে হবে তিনি ছিলেন বিপ্লবী। আচানক যত আইডিয়া ছিল তার। যেমন ধরেন বাইহয়িত বানানোটা, তিনি তা বানিয়েছিলেন, কিন্তু তার পেশার পরবর্তী সময়গুলোতে তিনি জোর দিয়েছেন কোনো কিছুই স্থায়ী হতে পারবে না। একটা বুদ্ধি সত্যিই তিনি দিয়েছিলেন বাইহয়িতে উৎসব করার যেমন বলি দ্য রিং, তারপর অপেরা হাউসটা পুড়িয়ে ফেলার। তাই আইন-শৃঙ্খলা, স্থায়িত্ব-স্থিরতা এসব বিষয়গুলো তার কাছে পুরোপুরি বাইরের বিষয় মনে হতো। আপনি যদি দ্য রিং-এর শেষের অংশটা খেয়াল করেন, পুরো ব্যাপারটাই আপনার কাছে মনে হবে অপরিষ্কার, তাই না! উদাহরণ হিসেবে যদি ধরি, তিনি আসলে এসব দিয়ে কী বোঝাতে চাইছেন? সোনাদানা একসময় রাইন নদীতে ফিরে যাচ্ছে. কিন্তু রাইন-এ আবার সবই তো উপচে পড়ে, একধরনের বিশ্বজনীন বন্যার মত, যেন প্রথম থেকেই আবার শুরু! তাই বলা শক্ত এটা নিছক আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মত একটা ব্যাপার।

আমি মনে করি কেউ যদি ভাগনারকে বুঝতে চায় তবে তাকে দেখতে হবে আশ্চর্যজনকভাবে নিত্যপরিবর্তনশীল হিসেবে। এবং আজকাল যদি তার ভঙ্গিটাকে তুলে ধরতে হয়, বরং তিনি যে ভাবে একটা বিভ্রান্তিকর উপায়ে নিজেকে পরিচিত করার কোশেশ করেছিলেন, ধরি বাইহয়িতে, তা ছিল বোকামিতে ভরপুর! তাকে নিতে হবে আইরনি হিসেবে। আমি এই বিষয়টা অ্যাডোর্নোর সাথে একমত—আপনি ভাগনারকে সরাসরি ধরতে পারবেন না। যে কোনো দিক থেকে তাকালেই দেখা যাবে গভীর অসঙ্গতিতে ভরা তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং মিউজিক, যা কি না কোনো না কোনো উপায়ে একটা ব্যবস্থায় সেঁটে না যেয়ে বরং সেটাকে তুলে ধরছে। এদিক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বড় রকমের আগ্রহের এবং চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমি মনে করি না তাকে একটা মাত্র ভাবধারায় প্রকাশ করা যাবে, কারণ তার অপেরার টেক্সট এবং তার মিউজিক-এর মধ্যে এত শত অসঙ্গতি, যেমন দ্য রিং (The Ring) যদি ধরি, এমন কি পার্সিফাল, নীটশে যাকে আক্রমণ করেছিলেন খ্রিশ্চান বা ‘আত্মসমর্পণ’ ধাঁচের অপেরা বলে। আমি মনে করি না আপনি আসলে এভাবে ওনাকে সত্যিকার অর্থে পড়তে পারবেন, তাহলে আপনাকে মেলা কাটছাঁট করতে হবে।

তাহলে অ্যান্টি-সেমিটিজমের ব্যাপারগুলো, সেগুলো তো সন্দেহতীত তাই না? তার ইহুদি বিদ্বেষী, তার উগ্র জাতীয়তাবোধ যেখানে জর্মানী বলে কথা, যেখানে এক চরম পথের থেকে আরেক চরম পথে চলাটাই ছিল অস্থিরতার অংশ?

হ্যাঁ, এটা নিশ্চিত যে তার লেখা জ্বালাময়ী ইহুদি বিরোধিতায় ভরা। ভাল কথা, একই রকমের ইহুদি বিরোধিতা সে সময়কার প্রায় সকল ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে ছিল। যেমন ধরুন রেনান-এর কথা। সমসাময়িক অনেক ইংরাজ লেখক যেমন কার্লাইল, একই রকমের পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন তিনি ইহুদি এবং কালোদের বিরুদ্ধে। তার লেখার এটাই ছিল সবচে নিয়মিত থীম। ভাগনারের বেলায়, অবশ্যই এটা আরও বেড়েছে সে সময়কার অস্বাভাবিক রকমের জর্মান জেনোফোবিয়ার কারণে, যা তার প্রতিটি কাজেই লক্ষ্য করা যাবে। তিনি ভেবেছিলেন একজন জর্মান কম্পোজার হিসেবে তিনি নিজেই জর্মান সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এত শত করে—এটাই সাঙ্ঘাতিক। বাস্তবে তার অপেরায় এর পরিমাণ সামান্যই।

সাম্প্রতিক কিছু স্কলার যাদের বলতে শোনা যায় তার অপেরাও নাকি ছিল ইহুদি বিরোধী, এধরনের বানোয়াট ব্যাপারগুলো আমি কখনও বুঝে উঠতে পারি না। সবার আগে, তার কোনো অপেরাতেই পুরোপুরিভাবে এটা পাওয়া যাবে না। তিনি ইহুদিদের চরিত্রায়ণ করেন নি। আমি বোঝাতে চাই মানুষজন বলে থাকেন মাস্টারসিঙ্গার (Meistersinger)-এ বেকমেসার-এর চরিত্রটা আসলে ইহুদি চরিত্রকে রূপ দিয়েছেন, যা কি-না জড়ানো হয়েছে মাত্র। ভাগনারের কাজে যেসব আখাস্তা আইডিয়া এবং ব্যঞ্জনা আপনি পাবেন সেটাকে দেখতে হবে তার পুরো কাজের একটা অংশ হিসেবে, আর এভাবে দেখলে সে সময়কার অন্যান্য প্রধান আর্টিস্টদের তুলনায় তিনি আলাদা কোনো কিছু ছিলেন না। উপন্যাসিক—যেমন কিপ্লিং, উদাহরণ হিসেবে একজন জাঁদরেল উপন্যাসিক, কিšত্ত তারও আখাস্তা আইডিয়া ছিল। এবং আমি মনে করি ভাগনারের বেলায়ও এটাই সত্য।

লোকজন যারা তাকে জুড়ে দেন তিনি সরাসরি কোনো না কোনোভাবে নাজিদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ সেসব ব্যাপরগুলো আমাকে সামান্যই রেখাপাত করে। হাস্যকর মনে হয় আমার কাছে। টেবিলের তলায় লুকিয়ে রেখে এমন একটা ভান করা যেন ওটা সেখানে নেই। আমি মনে করি ব্যাপারগুলো তুলে ধরা উচিত এবং আমি এর আগে অপেরা কী ভাবে মঞ্চস্থ হবে সে বিষয়ে বলার সময়ও বলেছি। এসবের আইরোনিক্যাল গুণাবলী হচ্ছে সেসব অসঙ্গত আইডিয়া, একদিকে মহানুভবতার ভাবনা আবার অন্যদিকে বিকৃত ভাবনা—এ বিষয়গুলো একে অন্যের সাথে সহাবস্থান করে এমন ধারণার প্রতি ভাগনার প্রবল আকর্ষণবোধ করতেন, এবং যার কারণে তিনি একই সাথে মনোজ্ঞ এবং জটিল।

আমার মনে হয়, আরেকটা ব্যাপার যা লোকজন খুব বেশি বলাবলি করেন যে তার মেয়ে এবং পরিবার নাজিদের সমর্থক ছিলেন

বেশ, তার পুত্রবধু ,ছেলের বউ, উইনিফ্রেড তো ছিলেন। সত্যিই তাই। অবশ্যই।

এবং হিটলার নিয়মিত সেখানে বেড়াতেও যেতেন—

বাইহয়িত! (Bayreuth) ভাগনারই একমাত্র ব্যক্তি এবং বাইহয়িত একমাত্র জায়গা হিটলার যেটাকে নিজের বাড়ির মত মনে করতেন এবং তারাও হিটলারকে বুঝতেন। যখন হিটলারকে ১৯২০ সালে জেলে ঢোকানো হয় তখন তারা হিটলারের পাশে এসে দাঁড়ায়, এসব সবই সত্যি। যদি আপনি এইভাবে দেখেন তাহলে বলতে হয় অই বিশেষ সাংস্কৃতিক ফর্মে এটাও ইতিহাসেরই একটা অংশ। কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য করেন দেখবেন আমার মনে হয় প্রতিটি সাংস্কৃতিক ফর্মের বেলায়ই এটা সত্য। যা কি-না সংযুক্ত থেকেছে যতসব আখাস্তা আইডিয়া, আন্দোলন এবং ঝোঁক-এর দিকে যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক রকমের মানবিক বিপর্যয়ের। আমার মনে হয় না ভাগনার এসব ব্যাপারে তেমন কোনো আলাদা ব্যক্তি—এটা হবার কারণ তার পুরো প্রতিষ্ঠানটা জুড়ে এমন একটা কিছু ছিল এতই নাটুকে এবং এমনই গুরুত্বপূর্ণ এবং যা ছিল জীবনের চেয়েও বড়, ফলে তিনি সহজেই চোখ কাড়ার মত। আমার মনে হয় না এটা তেমন কোনো বিশেষ ব্যাপার।

আধুনিক এমন কোনো কম্পোজার আছেন যাকে পছন্দ করেন?

ইয়াহ, আমি দারুণ ভাবে যার কাজ পছন্দ করি এবং খুবই সযতনে যাকে অনুসরণ করি তিনি হচ্ছে মেসিয়ঁ (Messaien), যিনি সাম্প্রতিক কালে মারা গেছেন। আমি খুবই মূল্য দিয়ে থাকি এবং সবসময়ই পছন্দ করে এসেছি বিশ শতকের ফরাসী মিউজিক—হেভেল (Ravel) এবং দাবিয়ুসি (Debussy), বিশেষ করে ফবের (Fauré) কাজ ছোট করে দেখা হয়েছে। তাই সাম্প্রতিক কালের মেসিয়ঁ এবং বুলেয্ (Boulez) এরকম লোকজন আমার কাছে অনেক মানে বহন করে।

উদাহরণ হিসেবে আমরা যদি আমেরিকান স্কুলকে ধরি, সেসব আমাকে অতখানি নাড়া দেয় না, বড় কারণটা হচ্ছে তারা আসলে সবসময় কণ্ঠটা, শব্দটা খুঁজে পেতে চায়—এসব লোকদের মধ্যে যেমন কোলম্যান (Coleman), বার্নস্টাইন—একধরনের ভুয়া আমেরিকানইজম এবং মিড ওয়েস্টার্ন, ওয়েস্টার্ন থীম যা পুরোপুরি ভুয়া। যদিও আমি ইলিয়ট কার্টার (Elliot Carter) পছন্দ করি। এবং আমি দীর্ঘদিন ধরেই বড় রকমের প্রশংসা করি ইংল্যান্ডের। যতটা না আমি কাছে এসেছি— [বেঞ্জামিন] ব্রিটনের, যাকে আমার অসাধারণ কম্পোজার মনে হয়, বিশেষ করে অপেরা কম্পোজার।

এবং জর্মানী?

অবশ্যই, গ্রেট জর্মান ঐতিহ্য শুরু হয়েছে, জর্মান—অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় ভিয়েনিস স্কুল। বার্গ (Berg) আমার কাছে অনেক বড় মনে হয়। কেবল মাত্র তার অপেরাগুলো না তার যন্ত্রসঙ্গীতগুলোও। এবং তার অর্কেস্ট্রার কাজগুলো। শোনবার্গও (Schoenberg)। ওয়েবার্ন (Webern), এরা সবাই আমার কাছে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এবং সাম্প্রতিক সময়ে যারা বাজান, তারাও আমার কাছে খুবই আগ্রহের এবং আমি খুব সযতনে তাদের অনুসরণ করি, স্টকহৌসেন (Stockhausen), যার পিয়ানো এবং গলার কাজ আমার কাছে খুবই ইমপ্রেসিভ মনে হয়েছে। কিন্তু আমি খেই হারিয়ে ফেলি এবং বুঝে উঠতে পারি না তিনি কোথায় চলেছেন। এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আমি অনেক বেশি রকমের আগ্রহ নিয়েই হেনয (Henz) শুনেছি, একজন অপেরা কম্পোজার এবং পাশাপাশি একজন স্টাইলিস্ট উভয় হিসেবেই।

মিউজিক নিয়ে আপনার লেখাতে এ নিয়েও আপনি বলেছেন যে কত না মিউজিশিয়ান যারা আপন কাজ থেকে কী ভাবে বিছিন্ন হয়েছেন—এখন যেভাবে তাদের মিউজিক পরিবেশন করা হয়, যে ভাবে শেখানো হয়, যেখানে তাদের মিউজিকের নিযার্স, মৌলিক নিযার্সগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকে, এবং আমার ধারণা আপানি এখানে সপেনের (Chopin) উল্লেখ করেছেন।

সপেন। ঠিকই। আমার মনে হয় তিনি হচ্ছেন যথার্থ দৃষ্টান্ত কারণ আমি মনে করি ভাগনারের স্কেলে যদি বিচার করি তবে তিনিই ঊনবিংশ শতকের মিউজিকের বিপ্লবী, হারমনিক্যালি এবং আনুষ্ঠানিক অর্থে। যদিও সপেন হচ্ছেন অণুচিত্রী, আর তার ঠিক উল্টোতে ভাগনার। যেখানে সবকিছুই বিশাল এবং অসীম…। সপেন-এর পরিমিতিবোধ, সপেনের সংক্ষিপ্ত স্কেলের ব্যাপারগুলো, আমার মতে এই দুটো ব্যাপারই যথার্থ ভাবে উল্লেখ করা হয় নি বলেই বিষয়টা এত গভীর ভাবে আকর্ষণীয়। কিন্তু হারমনিক্যালি, তার অভিব্যক্তির পরিসর, তার বিশদ ভাবে ফর্মকে আবিষ্কার করার ব্যাপারগুলো, যেমন ধরি, প্রিল্যূড বা নকটার্ন… এতোপরি সপেনের আরও বড় ব্যাপার হচ্ছে তার কাজে যে সূক্ষ্মতা আপনি পাবেন, এমন একটা সূক্ষ্মতা যা মনে হতে পারে চরম রকমের ক্ষণস্থায়ী, সাময়িক… আমার কাছে তার সবচে টিপিক্যাল কাজগুলো মনে হয়েছে উপস্থিত ভাবে রচিত। মনে হতে পারে সেসব উদভাবনা প্রসূত, এবং এমন একটা অবস্থা তৈরি করে… যেন সলন সবসময়ের জন্য সেখানে, কিন্তু প্যারাডক্স ভাবে তার এই বিস্ময়কর জটিলতর সুর (টোনাল) এবং সুরের আরোহ বা অবরহো (ক্রৌমেটিক্যাল) মেশানো শিল্পকর্ম (প্যালিট) আসলে সলনের বিপরীতে সাজানো, এবং তার সহজ বোধ যা হচ্ছে ভয়ানকরকমের অতিলৌকিক একটা ব্যাপার। ঊনবিংশ শতকে সে বাদে কেউ আর সেটা অর্জন করতে পারে নি।

বেশ, তিনি বলা চলে এখন একধরনের বিলুপ্ত কম্পোজার এবং তুলনা করা হয় তার ক্ষতির কারণটা হচ্ছে ভাগনার এবং ভামস্ (Brahms), এবং আরও অনেকে যা বলে তা হচ্ছে একপ্রকারের প্যারোডি! এবং উনি নাকি অতি সামান্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েই বাজিয়েছেন। আমি বোঝাতে চাচ্ছি, টাইজারম্যান প্রায়ই আমাকে বলতেন সাপেন-এর প্রিয় কম্পোজার কারা তুমি জানো—মানুষজন সপেন বাজায় কারণ তার বাজনাগুলো যেন লালি গুড়ের মতো একটা কিছু, নারীরা শুনলে ফিট খায় ইত্যাদি ইত্যাদি—টাইজারমান আমাকে বলতেন তুমি কখনো ভুলে যেও না, তার প্রিয় কম্পোজার ছিলেন বাখ আর মোৎসার্ট! তাই তার যথেষ্ট রকমের ক্ল্যাসিকাল শিক্ষা ছিল। কিন্তু আপনি যখন জানতে পারবেন, যেমন ধরুন তিনি তার কাজগুলো কত না যত্ন নিয়ে প্রকাশ করতেন, বিভিন্ন জায়গাতেই তিনি এসব প্রকাশ করেছেন এবং নিশ্চিত হতেন সব কাটাকুটি এবং কপিরাইট তার নিজের হাতেই যেন থাকে। কত না সতর্কতার সাথে তিনি সেসব লিপিবদ্ধ করেছেন… নিজের কাজগুলো তিনি পরিচালনা করেছেন বেটোভেনের মতই যতটা জটিলতার সাথে তেমনই নির্ভুল ভাবে। এবং এর উপরে দেখতে হবে তিনি নিজেকে কীভাবে তুলে ধরতেন। কোনো জাহির করতেন না, ছিল ইস্পাত কঠিন নিয়মানুবর্তিতা, তিনি যেসব অসাধারণ সাউন্ড তৈরি করেছেন তার একটা অংশ হারিয়ে গেছে, যা আসলে এখন হাওয়া হয়ে গেছে। তাই আসলে খুব হাতেগোনা কয়েকজন তাকে বাজান।

আপনি তাকে বাজান কি?

মেলা বাজিয়েছি।

আমাদের জন্য কি বাজাবেন?

ঠিক এই মুহূর্তে? না, কাভি নাহি (হাসি)।

(কিস্তি ৩)

hossain_mofazzal@ymail.com

free counters

বন্ধুদের কাছে লেখাটি ইমেইল করতে নিচের tell a friend বাটন ক্লিক করুন:

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com