রৌরব (কিস্তি ৭)

লীসা গাজী | ২১ মার্চ ২০০৯ ৪:২৮ অপরাহ্ন

কিস্তি ১কিস্তি ২কিস্তি ৩কিস্তি ৪কিস্তি ৫কিস্তি ৬

(কিস্তি ৬-এর পর)
leesa-7.jpg

এতো দুড়দাড় করে ওঠার পরও বিউটির উপস্থিতি ফরিদা টের পেলেন না। তিনি তখন কায়মনবাক্যে কাক তাড়াতে ব্যস্ত। এক সময় কাকটা ক্লান্ত হয়ে পাশের বাড়ির ছাদে গিয়ে বসলো কিন্তু ডাক থামালো না। এমন হঠাৎ রণে ভঙ্গ দেয়ায় ফরিদা বোকার মতো দাঁড়িয়ে পড়লেন, টের পেলেন ব্লাউজের ভিতরটা ভিজে চুপচুপা হয় গেছে। ছাদের রেলিং ধরে কিছুক্ষণ জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলেন। বুকের ধড়ফড়ানি সহ্যের মধ্যে আসলে ধীরে ছাদ থেকে বেরিয়ে গেলেন। যদিও তার এক দৌড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করছিলো, তবুও দরজা ভিড়ালেন, চাবি লাগালেন তারপর সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলেন। কাকে দেখাবার জন্য যে তিনি নিজেকে শান্ত সমাহিত করবার চেষ্টা করলেন কে জানে। হয়তো নিজেকে দেখাবার জন্যই — মানসিক জোর এখনও বহাল আছে, এত সকালে তিনি মাথা নোয়াবেন না, এই তথ্য নিজেকে জানানো জরুরি ছিলো ।
—————————————————————–
মুখলেস সাহেব বিউটির কিছু ব্যবহার করলে চামড়ার নিচ পযন্ত চিড়বিড় করতে থাকে তার। অথচ চমৎকার অভিনয়ের কারণে বাড়ির কেউ ব্যাপারটা ধরতে পারে না। এই যেমন পেস্ট্রি যখন আনা হয়, তখন বিউটি তার ভাগের থেকে প্রায় অর্ধেকটা মুখলেস সাহেবকে দিয়ে দেয়। কিছুতেই লাভলিকে দিতে দেয় না।… এই চরিত্র বহির্ভূত আদরে লাভলির মন ভিজে যায়। মুখে শুধু বড় বড় কথা, ভিতরটা আদতে নরমই — শেষমেশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় ও। আর তখন বিউটি ভাবছে, ‘খা বুড়া, খায়া মর। পারলে আস্তো একটা কেক মুখে ঠুইসা দিতাম।’
—————————————————————-
ঘরে ঢুকে ফরিদার চোটপাট দ্বিগুণ বেড়ে গেলো। ছোট মেয়ের ঘর থেকে টিভির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, সোজা সেখানেই গেলেন।

সিনেমার বদল হয়েছে। বিউটি আধশোয়া হয়ে এখন ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ দেখার ভাণ করছে। যদিও এই সিনেমা তার অন্তত দশবার দেখা আছে। ফরিদাকে ঘরে ঢুকতে দেখে বিউটি হাসবে, নাকি পাত্তা না দিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে থাকবে মনস্থির করতে পারলো না। শেষ পর্যন্ত মায়ের দিকে তাকালো।

— উঠ্, সিনেমা বন্ধ কর।

— কেন?

— কাজ নাই, কাম নাই শুধু সিনেমা! ফাজিলের বাচ্চা ফাজিল।

— কী কাজ করবো?

— কুনো কাজ না থাকলে হাঁটাহাঁটি কর। শুইয়া থাকতে থাকতে মাজা ব্যথা করে না?

— না করে না।

তর্ক করার কোনো ইচ্ছা এই মুহূর্তে বিউটির ছিল না, বাড়িতে এত লোক থাকতে ফরিদা যখন তার উপরেই চড়াও হলেন তখন আবার শিরায় শিরায় রাগ অনুভব করলো সে।

— সামনে থিকা সরেন, আপনের জন্য সিনেমা দেখতে পারতেছি না।

এবার ফরিদা একাই কঠিন চোখে তাকিয়ে রইলেন বিউটির দিকে, বিউটি ভ্রূক্ষেপ করলো না। কী একটা সংলাপে জোরে শব্দ করে হাসলো। ফরিদা যথারীতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন।

— অনেকবার দেখছস না, এখনও হাসি আসে? বেকুবের বেকুব।

— হাসির সিনেমা হাসবো না তো কি মুখ গোঁজ কইরা বইসা থাকবো।

আলনার উপরের এলোমেলো কাপড় ফরিদা গুছিয়ে রাখছিলেন। মায়ের দিকে আড়চোখে একবার দেখে নিলো বিউটি। ছাদের ব্যাপারটা মাথা থেকে তাড়াতে পারছে না। অথচ ফরিদাকে এখন দেখে বুঝবার জো নাই অল্প আগে তার কী বেদিশা অবস্থা গেছে।

— তোর আব্বা বাড়িতে যাবে?

— কোন বাড়িতে?

— তোর দাদার বাড়িতে। এতদিনে শরিকরা খবর দিছে তোর বাপে নাকি কিছু পাবে। বেশিরভাগই তো মইরা ভূত। আমি কই কী, দরকার নাই। একা একা যাবে, বয়স হইছে, পথে ভালো-মন্দ কিছু হইয়া গেলে তো গেলোই।

— আপনে আপারে কেন একা যাইতে দিলেন?

— আমি নিজেও জানি না।

সকাল থেকে এই প্রথম ফরিদা সত্য কথা বললেন। তিনি আসলেই জানেন না তার কেন এই মতিভ্রম হলো। এটা কি কোনো কিছুর আলামত। একটা ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে তারই ইঙ্গিত!

— এখন যদি আপা আর বাড়িতে ফিরা না আসে।

— এত কুকথা তোর মাথায় আসে কেমনে? বাড়িতে ফিরবো না তো যাইবো কই? যাওনের জায়গা কি আছে, জায়গা থাকলে তুই ঠিকই জানবি, এণ ক’ আছে?

— থাকতেও পারে।

থাবা মেরে বিউটির থুতনি চেপে ধরেন ফরিদা। বিউটির আমোদ লাগে। মায়ের প্রতি যে দুঃখবোধ অল্পণ আগে সে অনুভব করেছিলো তার ছিটেফোঁটাও আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তার চোখ আর হাসি দেখেই বুঝে যান ফরিদা যে মেয়ে তাকে ধাপ্পা দিচ্ছে। হিসহিসিয়ে উঠেন, “শয়তানের শয়তান, তোর দিন ঘনাইছে…!”

— দিন সবারই ঘনাইছে, সবচেয়ে বেশি ঘনাইছে আপনের।

থুতনি ছেড়ে দেন ফরিদা। বিউটি সিনেমা দেখায় মন দেয়, এই জায়গাটা খুব মজার।

ফরিদা বিউটির ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

— আম্মা, রাবেয়ার মাকে বলেন ডাইল বাইটা ফ্রিজে রাখতে। ডাইল বাটা আর নাই।

— আচ্ছা, বলবো নে।

ফরিদা আবার ফিরে আসেন।

— কয়টা বাজে? নামায পড়বি না?

নামাযের কথায় বিউটি তড়াক করে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে। ওযু নাই ওযু করতে হবে। ফরিদাও নিজের ঘরের দিকে গেলেন। নামায পড়ে তারপর ইলিশ-পোলাও বসালেই চলবে।

ফরিদা ঘরে ঢুকে চোখ বন্ধ করে টানটান হয়ে কিছুণ শুয়ে থাকলেন। শুয়ে থেকেই তার মনে হলো, মোবাইল ফোনটা অন করতে হবে। কার ভয়ে ফোন অফ করে রেখেছেন! আলতু ফালতু মানুষের ভয় ফরিদা খানম করেন না। আস্তে ধীরে বিছানা থেকে নেমে ড্রেসিং টেবিলের কাছে আসলেন। নিজের প্রতিচ্ছবি আয়নায় দেখে টের পেলেন কত সুন্দরী ছিলেন তিনি!

সময় আর অবস্থার ফেরে এক সময়ের কাঙ্ক্ষিত মানুষও এক সময় তুচ্ছ হয়ে যায় — সেজন্য কোনো শস্তা অপরাধবোধে ভোগেন না ফরিদা। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ জীবনের মোড়ক দিতে যা করার দরকার তিনি করেছেন। তার মনে কোনো পাপবোধ নাই। কেন থাকবে, তবে এতোদিন পরে এই উপদ্রব উপস্থিত হওয়ায় উৎকণ্ঠা বোধ করছেন।

মোবাইল ফোনের সুইচ অন করলেন। সমস্যাকে এড়িয়ে গেলে সমস্যা আরও জাঁকিয়ে বসবে, সুতরাং মুখোমুখি হওয়াই ভালো। দেখা যাক, কার দৌড় কতো দূর।

মুখলেস সাহেব ঘরে ঢুকলেন, তিনিও নামায পড়বেন। স্ত্রীর থমকানো রূপ দেখে দ্বিতীয়বার তাকালেন। ফরিদাকে বিচলিত দেখাচ্ছে, ভাবলেন কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করতে সাহস পেলেন না। আজকে এমনিতেই অনেক কিছু প্রথমবারের মতো ঘটছে। এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না কিভাবে ফরিদা লাভলিকে একা ছেড়ে দিলেন।

— বশির ফোন করছিলো।

— বশির কে?

— ইয়ার্কি করো না কি? বশির কে তুমি জানো না?

এইসব কী ঘটছে, এতদিন পরে বশির কী চায়? মুখলেস সাহেবের চেহারা ঝুলে পড়লো। তার ঝামেলা ভালো লাগে না। বারান্দায় পা নাচিয়ে হিন্দি গান শুনবেন, দুই একটা সিনেমা দেখবেন, মাঝে মধ্যে বাজার করে আনবেন, ভালো-মন্দ দু’টা খাবেন — এইভাবে জীবন কাটিয়ে দিতে পারলেই তিনি খুশি। এ আবার কী যন্ত্রণা!

— কী চায়?

— আহাদ উথলাইয়া উঠছে। লাভলি, বিউটিরে দেখতে চায়। দেখাইতাছি, খেজুরের কাঁটা দিয়া দুই চোখ যদি না গালাইছি আমার নাম ফরিদা না।

মুখলেস সাহেব ফরিদার এই উগ্র মূর্তির সামনে থাকতে চাইলেন না। সুরুৎ করে বাথরুমে ঢুকে গেলেন, ওযু করতে হবে। তার এর মধ্যে না থাকাই ভালো, ফরিদা ঠিকই সব সামলে নিতে পারবেন। শুধু শুধু তিনি থেকে আরও ঝামেলার সৃষ্টি করবেন। এবং আশ্চর্য মুখলেস সাহেব আর দুশ্চিন্তাও বোধ করছেন না। অবশ্য সেটাও বিপজ্জনক। চিন্তিত চেহারা অন্তত ফরিদার সামনে দু’একদিন ধরে রাখতে হবে।

আধমরা মানুষটাকে কেন যে বলতে গেলাম — ফরিদার নিজের উপর বিরক্ত লাগছে। এখন সে আসলে মনে মনে চাইছে যাতে আবদুল বশির ফোন করে। এসপার-ওসপার একটা হয়ে যাক। লাভলি বিউটিকে দেখে সে কী কচুটা করবে? তার কাছে নিয়ে রাখতে পারবে, তার ছেলেমেয়ে, আত্মীয়-স্বজনদের আসল কিচ্ছা বলতে পারবে? তাহলে ফরিদার ভয়টা কিসের?

— খালাম্মা, রান্না বসাইবেন না?

— আসতাছি, নামায পইড়া আসতাছি; তুমি যাও। বারান্দার ফুলগাছে পিচ্চি পানি দিছে? না দিলে এণ দিতে কও।

ফরিদা মুখলেস সাহেবের জন্য অপো করতে থাকেন। মুখলেস সাহেব বাথরুম থেকে বের হলে এই নিয়ে আর দ্বিতীয় বাক্য বলবেন না বলে মনস্থির করলেন ফরিদা।

* * *

লাভলির জন্ম হলো সকাল আটটা বত্রিশ মিনিটে। দিনণ সব কিছু মুখলেস সাহেব সবুজ মলাটের একটা খাতায় লিখে রেখেছেন। জন্মের দু’তিন দিন পরে বড় ভাবি হাসতে হাসতে বললেন, “আমাগো ফরিদা আর দুলামিয়া দুইজনের গায়ের রঙই তো মাশাল্লাহ পরিষ্কার। এই মাইয়া এতো কালা-কুলা হইলো কোই থিকা?”

মন্তব্য মাটিতে পড়তে পারলো না, তার আগেই ফরিদার আম্মা পয়মন্ত মেঝো বউ বাঘের ক্ষীপ্রতায় কথাটা ধরে ফেললেন।

— না, এত কালা থাকবো না। রঙ খুলবো দেইখো নে। অবশ্য আমার শ্বশুর মশায়ের রঙ আবলুশ কাঠের মতো কালো ছিলো।
—————————————————————–
…জন্মের দু’তিন দিন পরে বড় ভাবি হাসতে হাসতে বললেন, “আমাগো ফরিদা আর দুলামিয়া দুইজনের গায়ের রঙই তো মাশাল্লাহ পরিষ্কার। এই মাইয়া এতো কালা-কুলা হইলো কোই থিকা?”…ফরিদার আম্মা পয়মন্ত মেঝো বউ বাঘের ক্ষীপ্রতায় কথাটা ধরে ফেললেন। না, এত কালা থাকবো না। রঙ খুলবো দেইখো নে। অবশ্য আমার শ্বশুর মশায়ের রঙ আবলুশ কাঠের মতো কালো ছিলো।…আম্মার কথার উত্তরে বড় ভাবি লজ্জা পেয়ে জিভ কাটলেন। বেশ আশ্চর্যও হলেন। তিনি জানেন তার দাদা শ্বশুর মোটেও আবলুশ কাঠের মতো কালো ছিলেন না।…

—————————————————————–
আম্মার কথার উত্তরে বড় ভাবি লজ্জা পেয়ে জিভ কাটলেন। বেশ আশ্চর্যও হলেন। কারণ এইসব ছোটখাটো কথাবার্তায় আম্মা কখনই অংশগ্রহণ করেন না। এবং এও তিনি জানেন তার দাদা শ্বশুর মোটেও আবলুশ কাঠের মতো কালো ছিলেন না। তাকে তিনি দেখেছেন। তখন কবরে পা দু’টাই দিয়ে রেখেছিলেন যদিও তবুও স্পষ্ট মনে পড়ে তার গায়ের রঙ মোটেও কালো ছিলো না, আর আবলুশ কাঠের মতো তো না-ই। সেই দিনের পর থেকে ফরিদার মা মুখলেস সাহেবের সাথে নবজাত লাভলির চেহারার যে কতো মিল তা প্রমাণ করবার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। তিনি এমনকি হাসি আর চাউনিতেও মিল খুঁজে পেলেন।

* * *

মুখলেস সাহেব বাথরুম থেকে নিঃশব্দে বের হলেন, তারপরও ফরিদার চিন্তায় ছেদ পড়লো, তিনি খুশিই হলেন, আজাইরা চিন্তা যত কম করা যায় ততই ভালো। ফরিদার সাথে চোখাচোখি হবার সমস্ত সম্ভাবনা সমূলে উপড়ে ফেলে সোজা গিয়ে দাঁড়ালেন নামাযের জায়গায়। এই ঘরে দু’টা জায়নামায সব সময় বিছানো থাকে। শুধু সেজদা দেয়ার জায়গাটা একটু মোড়ানো থাকে, পড়বার সময় সোজা করে নেন। মুখলেস সাহেব উবু হয়ে জায়নামায সোজা করলেন, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করলেন। ফরিদা এক মনে মুখলেস সাহেবকে ল্য করছিলেন। এবার তিনিও ওযু করার জন্য বাথরুমে ঢুকলেন। ওযু করতে গিয়ে বারবার তার ভুল হচ্ছিলো। তিন বারের বার ওযু নির্ভুলভাবে শেষ করে ফরিদা বাথরুম থেকে বের হলেন।

নামায শেষ করে মোনাজাতের জন্য হাত তুলে অনেকণ বসে রইলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট করে আল্লাহ’র কাছে কিছু চাইলেন না। হঠাৎ নিজেকে খুব ছোট লাগলো, আল্লাহ’র কাছে চাইতেও ছোট লাগলো। কঠিন জিদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। না, কারও কাছেই কিছু চাইবেন না, খোদাতা’য়ালার কাছেও না। যে জটিল জীবন তিনি পার করেছেন এর চেয়ে জীবন আর কত জটিল হওয়া সম্ভব। হলে হবে, তিনিও দেখে ছাড়বেন।

জায়নামায ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ফরিদা। উবু হয়ে প্রান্তটা একটু মুড়ে রাখলেন। নিজের অজান্তেই তওবা কাটলেন তারপর ওয়াড্রোবের সামনে গিয়ে একদৃষ্টে মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বেশ কয়েক সেকেন্ড কেটে গেলো, ঠোঁটে বাঁকা হাসি নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। যেন তার সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে কেউ হেরে গেছে।

বিউটি নামায শেষ করে আবার সিনেমা ছাড়লো কিন্তু এবার আর দেখতে ভালো লাগলো না। কাহাতক একই দৃশ্য দেখে হাসা যায়। টিভি, ডিভিডি বন্ধ করে দিলো। ঘড়ির দিকে তাকালো, একটা বেজে পাঁচ। আপার আসতে দেরি নাই। আল্লায় জানে কী হাবিজাবি সব কিনে আনবে। কিছুই যে পছন্দ হবে না এই ব্যাপারে বিউটি নিশ্চিত। লাভলির পছন্দের সাথে বিউটির পছন্দ কখনই মেলে না। লাভলির সব সময় চাপা রঙ পছন্দ, বিউটির পছন্দ চড়া: লাল, ম্যাজেন্টা, হাওয়াই মিঠাই — এইসব। বিউটি চুল ছেড়ে রাখে, কখনও একটা বেণী করে, লাভলির চিরকালীন চুলের স্টাইল দু’পাশে দু’টা লম্বা বেণী। লাভলির কোনো ছিরিছাঁদ নাই। বিউটি সাজে, চিমটা দিয়ে ভ্রূ তোলে, নখে নেল পালিশ দেয়। লাভলির রিয়াজকে ভালো লাগে, বিউটি ভেবেই পায় না রিয়াজের মধ্যে ভালো লাগার কী আছে। রিয়াজকে পছন্দ না করলেও বিউটি এটাও সহ্য করতে পারে না যে রিয়াজ তাকে বাদ দিয়ে লাভলিকে পছন্দ করেছে। তবে হিসাব করলে বিউটির কাউকেই পছন্দ না। তার সবচেয়ে অপছন্দ মুখলেস সাহেবকে। কেন তা সে নিজেও জানে না। নিজের বাবার প্রতি এই তীব্র ঘৃণা তার কীভাবে জন্মালো এই নিয়ে বিউটির কোনো ধারণা নাই। অবশ্য এই খবর বাড়ির কেউ জানে না। কারণ সে যেমন কাউকে পছন্দ করে না তেমনি কাউকে বিশ্বাসও করে না। নিজের ঘরটাই বিউটির সবচেয়ে পছন্দের। ঘরেই থাকতে ভালো লাগে তার। বাইরে বের হওয়া তো দূরের কথা অন্য ঘরে যেতেও বেশি ইচ্ছা করে না। তবে চাইনিজ খাবার ব্যাপারে সে সব সময় এক পায়ে খাড়া। ফরিদা, লাভলি আর বিউটি মাসে অন্তত এক বার চাইনিজ খেতে যায়। সেই সময়টুকু নিজেকে তার খুব সুখী সুখী লাগে।

আজকে আপার সাথে খেলাটা খেলবে, … ভাবছে বিউটি। আজকে খেলাটা একটু পাল্টে দিলে কেমন হয়। আজকে খেলবে আপার ঘরে, আম্মাকে টারগেট না করে আব্বাকে টারগেট করবে। দেখি সে না আপা কে আব্বাকে বাগে পায়। একবার আপা আব্বা হবে, একবার সে নিজে।

খেলার প্রসঙ্গে চিন্তা করতে করতে উত্তেজনাবোধ করলো বিউটি। রান্নাঘর থেকে ইলিশ-পোলাওয়ের অসহ্য গন্ধ নাকে লাগলো। এই জিনিস একটু পরে খেতে হবে ভাবতেই উটকানি এলো। কার জন্মদিনে যে সে প্লাস্টিকের টেবিল কথ টেনে সব খাবার ছত্রখান করবে আল্লায় মালুম। আজকে সে এই বালের পোলাও ছুঁয়েও দেখবে না, হাঁসের মাংস দিয়ে খাবে। খাবারের কথা মাথায় ঢুকতে খিদা পেয়ে গেলো। কিন্তু আপা না আসা পর্যন্ত তো খাওয়া যাবে না; অবশ্য আসতে বেশি দেরিও নাই।

খাবারের গন্ধে গন্ধে বিউটি হালকা পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। পিচ্চি টেবিল লাগাচ্ছে আর গুনগুন করে কী একটা গাইছে। জিনিসটা পিচ্চি এনেছে কি না কে জানে। আজকে না আনলে কপালে দুর্গতি আছে। শয়তান তিন দিন ধরে আজকে না কালকে, কালকে না আজকে করছে। জিনিসটা এমন কোনো সাংঘাতিক কিছুই না, গাঁজার পোটলা। বিউটি মোটেও গাঁজারু না, মাঝে মধ্যে বাথরুমে গিয়ে টানে, ভালো লাগে। পিচ্চি-ই প্রথম এনে দিয়েছিলো — বহুত সেয়ানা। আজ প্রায় বছর খানেক ধরে চলছে এই টানাটানি। এইসব ছাইপাশ ভাবতে ভাবতে তার হঠাৎ মনে পড়লো আপাকে আব্বা নিশ্চয়ই আজকে টাকা দিয়েছেন। অন্তত শ’খানেক টাকা আপার কাছ থেকে উদ্ধার করতে হবে।

প্রতি মাসে ফরিদা লাভলি আর বিউটিকে এক হাজার করে টাকা দেন। লাভলির টাকা লাভলির কোনো কাজেই লাগে না বলতে গেলে। মাঝে মধ্যে কোন্ আইসক্রিম বা ফুচকা আনিয়ে খায়, বাসার সামনের কুপারস-এর পেস্ট্রিও ওর খুব পছন্দ — সে আর কত টাকা, বাকিটা বিউটির পিছনেই খরচ হয়, তবে খাবার-দাবারও বেশিরভাগ বিউটির পেটেই যায়; — আর কুপারস-এর পেস্ট্রি যখন আনা হয় তখন মুখলেস সাহেব পর্যন্ত বিগলিত হয়ে যান। ডায়বিটিসের কারণে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া তার জন্য বিষতুল্য। কিন্তু পেস্ট্রি তাকে দিতেই হয় এবং তা ফরিদাকে লুকিয়ে। তারপরও বিউটির টাকা মাস না পুরাতেই হাওয়া। ডিভিডি কিনে আনে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই তিনটা। বেশির ভাগ সময় লাভলিই ফরিদার সাথে গিয়ে নিত্য নতুন হিন্দি সিনেমা নিয়ে আসে। এছাড়া বাসায় বিউটি তিনটা সিনে ম্যাগাজিন রাখে, দু’টা বলিউডের একটা দেশি। যদিও সে রাখে পড়ার বেলায় মুখলেস সাহেবও বাদ যান না। অসহ্য!

মুখলেস সাহেব বিউটির কিছু ব্যবহার করলে চামড়ার নিচ পযন্ত চিড়বিড় করতে থাকে তার। অথচ চমৎকার অভিনয়ের কারণে বাড়ির কেউ ব্যাপারটা ধরতে পারে না। এই যেমন পেস্ট্রি যখন আনা হয়, তখন বিউটি তার ভাগের থেকে প্রায় অর্ধেকটা মুখলেস সাহেবকে দিয়ে দেয়। কিছুতেই লাভলিকে দিতে দেয় না।

— থাক আপা, তোমারও পেস্ট্রি পছন্দ আব্বারও, আমার অতো ভালো লাগে না। আমার থিকাই দেই।

এই চরিত্র বহির্ভূত আদরে লাভলির মন ভিজে যায়। মুখে শুধু বড় বড় কথা, ভিতরটা আদতে নরমই — শেষমেশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় ও। আর তখন বিউটি ভাবছে, ‘খা বুড়া, খায়া মর। পারলে আস্তো একটা কেক মুখে ঠুইসা দিতাম।’

পিচ্চি আচারের বাটিতে আচার নামাচ্ছে। ইচ্ছা করে একবারও বিউটির দিকে তাকাচ্ছে না।

— এই শয়তান মোমবাতি আনছস? তিনদিন ধইরা মোমবাতি আনতে বলি কানে যায় না?

মোমবাতি হচ্ছে গাঁজার ছদ্মনাম। অনেক ভাবনা চিন্তার পর এই নামটাই সন্দেহাতীত বলে মনে হয়েছে বিউটির। যে হারে ইলেকট্রিসিটি যায় একমাত্র মোমবাতিই ঘন ঘন আনানো যেতে পারে। ফরিদা রান্না শেষ করে খাবার ঘরে ঢুকলেন।

— এখন মোমবাতির কী দরকার? আমার ঘরে আছে, যা নিয়া আয়।

— না, আপনের মোমবাতি নিব কোন দুঃখে। ওরে আনতে বলছি আনছে কি না দেখি। না, আনলে ওর একদিন কী আমার একদিন। এই বদমাইশ আনছস?

— হ আনছি। আপনের ঘরে রাইখা আসছি।

— আমার ঘরে কখন রাইখা আসছিস?

— আপনে যখন ছাদে গেলেন।

— তুই ছাদে কখন গেলি?

— আপনে যখন কাকের পিছে পিছে ঘুরতেছিলেন।

বিউটির উত্তরে ফরিদা মুহূর্তণ থমকে গেলেন, দ্রুতই আবার তা কাটিয়ে উঠলেন।

— তোদের না বলছি আমারে না জিজ্ঞাস কইরা ছাদে যাবি না।

— আপনে তখন ছাদে, আপনেরে জিজ্ঞাস করবো কীভাবে? রাবেয়ার মা বললো আপনে ছাদে, সেইটা শুনে গেলাম।

ফরিদা এই কথার আর উত্তর দিলেন না। কঠিন চোখে একবার তাকিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। তাতে বিউটির কিছু এলো গেলো বলে মনে হলো না। সেও মোমবাতি নামের গাঁজার পোটলার খোঁজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ঘরে ঢুকলো। ঘরে ঢুকে সে প্রথমে দরজা বন্ধ করলো। তারপর যথারীতি ড্রেসিং টেবিলের আয়নার পিছনে গুঁজে রাখা পোটলা বের করলো, দু’টা ছিলো। একশ’ পঞ্চাশ টাকা দিয়েছিলো, হারামির বাচ্চা হারামি মাত্র দু’টা পোটলা নিয়ে এসেছে। আমার সাথে ফাইজলামি করে। তোর ফাইজলামি বার করতাছি, দাঁড়া — কথাগুলো জোরেই বলে উঠলো বিউটি। আয়নার পিছনে পোটলা দু’টা আবার গুঁজে রাখলো। রাত্রে খাবে মনে মনে ঠিক করলো বিউটি। আর তুণি বসার ঘরের দেয়াল ঘড়ি জানান দিলো দু’টা বাজে। দু’টা বাজে এই উপলব্ধি বিউটিকে অসাড় করে ফেললো। হাতে-পায়ে জোর আসতেই দৌড়ে দরজাটা খুললো। আপা এখনও আসে নাই — দরজা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইলো কাঠের পুতুলের মতো। ফরিদাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। এক পা দু’পা করে মায়ের ঘরের দিকে এগোলো বিউটি।

অনেকণ ধরেই ভিতরের অস্থিরতা ফরিদার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিলো। মনে মনে তার জানাই ছিলো অন্তত দু’টা বাজার পনেরো মিনিট আগে লাভলি ঠিকই বাসায় ঢুকবে। এখন দু’টা বেজে গেছে, লাভলি ফেরে নাই। সে এখন কী করবে, কোথায় গিয়ে খুঁজবে। — না না, বাইরে তাকে শান্ত থাকতে হবে। ভিতরের তোলপাড় কেউ যেন ঘুণারেও টের না পায়।

বিউটি মায়ের ঘরে ঢুকে দেখলো ফরিদা রাস্তার দিকের জানালার পাশের বেতের চেয়ারে স্থানুর মতো বসে আছেন। নড়চড়হীন। বিউটি যে ঘরে ঢুকেছে এই বোধও আছে বলে মনে হলো না। মুখলেস সাহেবকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। দু’টা বাজার শব্দ শুনেই হয়তো কোথাও ঘাপটি মেরে বসে আছেন। এখন শুধু কেয়ামতের অপো!

এক সময় ফরিদা বিউটির উপস্থিতি টের পেলেন। দু’জন নিঃশব্দে দু’জনের মুখের দিকে খানিকণ তাকিয়ে থাকলো। নীরবতা ভাঙলো বিউটি।

— আম্মা খিদা লাগছে খাবো না?

— হ্যাঁ, রাবেয়ার মা’কে টেবিলে খাবার দিতে বল। টমেটোর সালাদ করে দিতে বলিস।

— আচ্ছা।

— তোর আব্বা কই দেখ, টেবিলে আসতে বল। তার বেলা করে খাওয়া ঠিক না।

স্বাভাবিক থাকার চেষ্টায় ফরিদার কথাগুলি ভাবলেশহীন কাটা কাটা শোনালো। দু’জনের কেউ লাভলি প্রসঙ্গে একটা কথাও বললো না। যেন এই বাড়ির মেয়েরা নিত্যই একা বাইরে যাচ্ছে আর আসবার সময় পার হয়ে গেলেও ফিরে আসছে না। বিউটি রাবেয়ার মাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে বেরিয়ে গেলো। বেরিয়ে যাওয়ার সময় দরজার চৌকাঠে বাড়ি খেয়ে পড়েই যাচ্ছিলো প্রায়, চকিতে দরজা ধরে নিজেকে সামলে নিলো, তারপর পিছন ফিরে ফরিদার দিকে তাকিয়ে ‘কী যে করি’ টাইপ একটা কুণ্ঠিত হাসি দিলো, আড়ষ্টভাবে মাথা চুলকালো। ফরিদা কিছুই বললেন না। হাসির জবাবে বরং তার চিন্তিত ভ্রূজোড়া আরও ভীষণ রকম বেঁকে গেলো।

তিনি অমঙ্গল চিহ্ন এখন চারিদিকে দেখতে পাচ্ছেন। অলীর একশেষ, হোঁচট খাওয়ার আর সময় পেলো না! ধাড়ি শয়তান। মনে মনে কথাগুলি কয়েক বার আওরালেন। দেয়াল ঘড়ির দিকে আরেকবার অবিশ্বাস নিয়ে তাকালেন। দু’টা সাত বাজে। এটা কী ভাবে সম্ভব।

বিউটি যতোটা পারা যায় নিজেকে সামলে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে দেখলো রাবেয়ার মা টমেটোর সালাদ বানাচ্ছে। বলার আগে কাজ করাও ফরিদা পছন্দ করেন না, মাতব্বরি তার দু’চোখের বিষ — তাহলে বলার আগেই রাবেয়ার মা সালাদ বানাচ্ছে যে বিষয় কী?

— রাবেয়ার মা কী করো?

— সালাদ কাটি ছোটো আফা, টমেটোর সালাদ।

— সালাদ বানাইতে কি আম্মা তোমারে বলছে?

— না বলেন নাই, কিন্তুক প্রত্যেক বছর আপনেদের জন্মবারে টমেটোর সালাদ বানাই। শসা দেওন যাবে না, শুধু টমেটো।

— নিজে থিকা মাতব্বরি করবা না। না বলা পর্যন্ত কোনো কাজ করবা না। বুঝলা?

— জে। টমেটোর সালাদ খাইতেন না?

— খাবো না কেন খাবো। আলগা মাতব্বরি করবা না এইটাই বললাম। মনে থাকবে?

— হ থাকবো।

— টেবিলে খাবার দাও। পিচ্চি কই?

— বাথরুম ধোয়।

পিচ্চিকে ধরতে হবে, একশো পঞ্চাশ টাকায় ছোট ছোট মাত্র দু’টা পোটলা কেন এর একটা বিহিত করতে হবে। শস্তা নাকি! যার যা খুশি করবে!

হনহন করে বিউটি নিজের ঘরে গেলো। উল্টা দিকের দেয়াল ঘড়ি কটকট করে তাকিয়ে আছে আর যেন তাকেই ব্যঙ্গ করছে। দেখ বিউটি দেখ, এত যে তোমার চোপা অথচ তুমি যা পারো নাই, তাই তোমার চোখের সামনে ‘শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্ট’ বোন করে দেখাচ্ছে। তোমার জারিজুরি সব শেষ!

সেই মুহূর্তে বিউটির অসহ্য ক্রোধ হলো নিজের উপর, অসহ্য। সে কি না বাড়িতে বসেই কাটালো এতগুলি বছর। বসে কাটাবে না তো কী, তাকে তো কেউ টেনেও বের করতে পারে না বাড়ি থেকে। তার এতো কীসের ভয়! এই দম আটকানো চার দেয়ালের বাইরে তার অবস্থা কেঁচোর মত কেন। নিজের উপর ঘৃণায় হতাশায় গা রিরি করতে লাগলো। বাড়ির ভিতরেই যত হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা নইলে বাড়ির বাইরে বাচ্চাদের মতো নিরাপত্তাহীন আর অসহায়। এই সত্য প্রথম উপলব্ধি করে এতটুকু হয়ে গেল সে। পিচ্চিকে দাবড়ানি দেবার ইচ্ছা তার ভিতর থেকে সম্পূর্ণ লোপ পেলো।

পিচ্চি বাথরুম থেকে বের হলো তারপর ছোট আপার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় জানতে চাইলো পোটলা পেয়েছে কি না। পিচ্চির সাহসে বিউটি স্তম্ভিত। দেখা যাচ্ছে এই বাড়িতে সে ছাড়া মোটামুটি কারুরই সাহসের কমতি নাই।

— মাত্র দুইটা পোটলা কেন?

— হাকিম ভাইয়ের কাছে স্টক নাই। নিজের থিকা দিছে। আরও দুইটা পাইবেন।

— পুরা টাকা দিলি কেন তাইলে?

— পুরা টেকা দেই নাই। আমার কাছে আরও দুইটার দাম আছে। আপনেরে ফিরত দেই নাই, কাইল পরশু গিয়া নিয়া আসুম।

— আব্বারে ডাক দে, বল টেবিল লাগানো হইছে।

— বড় আফায় কই গেছে? এখনতরি আসে নাই।

— ফড়ফড় করবি না, শয়তান… যা, এণ এই ঘর থিকা যা।

— না, চিন্তা হইতেছে দেইখা জিগাইলাম।

পিচ্চি ঘর থেকে বের হয়ে যেতেই বিউটির প্রবল ইচ্ছা করলো বাথরুমে ঢুকে গাঁজার কাঠি বানিয়ে বড়সড় একটা টান দিতে। কিন্তু এখন দেয়া যাবে না, যেকোনো মুহূর্তে খেতে যাবার জন্য ডাক পড়বে। শালার জীবন, কিছুই নিজের ইচ্ছা মতো করা গেলো না!

(কিস্তি ৮)

রচনাকাল: ২০০৮, লন্ডন

অলঙ্করণ: রনি আহম্মেদ

leesa@morphium.co.uk

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পূর্বা — মার্চ ২২, ২০০৯ @ ১:২৮ পূর্বাহ্ন

      ভালোই লাগছে। বাকি কিস্তির অপেক্ষায় আছি।

      – পূর্বা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Samina Luthfa — মার্চ ২৫, ২০০৯ @ ১১:০৫ অপরাহ্ন

      আমার ভালো লাগছে। বাকিটুকু পরার ইচছা আছে।

      – Samina Luthfa

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফিরোজ আহমেদ — মার্চ ২৯, ২০০৯ @ ৭:৩৭ অপরাহ্ন

      খুব ভালো লাগছে, যা ঘটে তাই ফুটে উঠেছে। পরের পর্বের প্রতিক্ষায়…।

      – ফিরোজ আহমেদ

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com