রৌরব (কিস্তি ৬)

লীসা গাজী | ১৩ মার্চ ২০০৯ ১২:০৯ অপরাহ্ন

কিস্তি ১কিস্তি ২কিস্তি ৩কিস্তি ৪কিস্তি ৫

(কিস্তি ৫-এর পর)
rourob_6.jpg

আপার একা বের হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আম্মাকে দিয়ে ভালো কিছু আদায় করা যাবে, ভাবলো বিউটি আর হাসলো। কিন্তু কী আদায় করা যায় এই নিয়ে কিঞ্চিৎ চিন্তিত হলো আর ভিসিআর কেনার ঘটনা মনে পড়ে গেলো। যেদিন বিউটি ফরিদার কাছে ভিসিআর কিনে দেয়ার কথা বলেছিলো সেদিন তিনি যাকে বলে আকাশ থেকে পড়েছিলেন।
—————————————————————–
সে অবাক হয়ে দেখলো তার মা, মিসেস ফরিদা খানম মাথা খারাপের মতো ছোটাছুটি করছেন, সমানে দু’হাত ছুঁড়ছেন শূন্যে। একটা কাক তার সেই দু’হাত অনুসরণ করে উড়ে বেড়াচ্ছে। একবার মনে হলো ঠোকর দিবে বা! কাকটা ফরিদার মাথার খুব কাছে নেমে আসছে আবার হুস খেয়ে গজ খানিক উপরে উঠে যাচ্ছে। মায়ের এই মূর্তি দেখে বিউটি ভীষণ রকম চমকালো, তাদের সমগ্র জীবনের অস্বাভাবিকত্ব চোখের সামনে নিয়ন সাইনের মতো জ্বলতে লাগলো। কষ্ট হলো বিউটির; ফরিদার জন্য কষ্ট হলো, লাভলির জন্য আর নিজের জন্য।
—————————————————————–
বিকাল সাড়ে চারটা কি পাঁচটা বাজে, চা দেয়ার সময় হয়েছে। সেই সময় গম্ভীর মুখে বিউটি ফরিদার ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো।

— আম্মা, ঘরে আসবো?

— কেন, কী দরকার?

— আসবো, না কি আসবো না?

— এইসব কী ঢং, আয়।

বিউটি ফরিদার ঘরে প্রবেশ করলো। কোনো রকম ধানাই-পানাইয়ের ধার দিয়েও গেলো না। সরাসরি ফরিদাকে বললো, “আম্মা, আমাকে একটা ভিসিআর কিনা দেন।”

— কী কিনা দিবো?

— ভিসিআর।

ফরিদা দুপুরের খাবারের পর একটু জিরান। ঠিক ঘুমিয়ে পড়েন না, কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকেন। সেইদিন সেই পর্ব তার তখনও চলছিলো। মেয়ে ঘরে ঢোকার পরেও আলস্য পুরোপুরি কাটে নাই, তাই ঠাহর করতে পারেন না মেয়ে কী বলছে।

— কয়েকদিন পরে পরীক্ষা না?

— হ্যাঁ, পরীক্ষার পরেই কিনা দেন।

— জিনিসটা কী?

— সিনেমা দেখার মেশিন। ঘরে বইসা সিনেমা দেখা যায়। বেশি দাম না। আমি টেলিভিশনে এ্যাড দেখছি।

ফরিদা মেয়ের আহ্লাদে হাসবেন না কাঁদবেন ভেবে পেলেন না। স্পর্ধা দেখে তিনি রীতিমতো স্তম্ভিত হলেন।

— দুই দিন পরে পরীক্ষা সেইদিকে খেয়াল নাই, ঘরে বইসা সিনেমা দেখবে? থাপড়াইয়া সবগুলা দাঁত ফালায় দিমু। তোর বুকের পাটা তো কম না। আমারে ঘুম থিকা তুইলা সিনেমা দেখার মেশিন চাস!

— সিঙ্গার থিকা কিনতে পারেন। সিঙ্গার থিকা কিনলে একটা ইস্তারি ফ্রি!

— তুই এক্ষণ এই ঘর থিকা বার হ। শয়তানের বাচ্চা শয়তান — দুপুর বেলা ফাইজলামি করতে আসছে।

— ফ্রি ইস্তারি আর এক সপ্তাহ দিবে।

— আমি হাবিজাবি জিনিস কিনা দিবো না।

— কেন দিবেন না? আপনের ন্যায্য-অন্যায্য সব কথা আমরা শুনি। সারাদিন বাসায় বইসা থাইকা আমরা করবোটা কী? বাসার ভিতরে আমাদেরকে আমাদের মতো থাকতে দেন।

ঠাণ্ডা গলায় কথাগুলো বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো বিউটি। তার ঠিক চার দিন পরে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে মুখলেস সাহেব ভিসিআর নিয়ে বাসায় ফিরলেন, সাথে ফ্রি ইস্তারি। এবং সেই ভিসিআর অনিবার্য কারণেই বিউটির ঘরে রাখা হলো। সেই ভিসিআর মাঝেমধ্যে বসার ঘরে নিয়ে যাওয়া হতো আর তখন সবাই মিলে কোনো পুরানো বাংলা সিনেমা দেখা হতো। উত্তম-সুচিত্রার একটাও ছবি এই পারিবারিক মুভি-নাইট থেকে বাদ পড়ে নাই। আজকাল অবশ্য সবাই মিলে সিনেমা দেখা আর হয় না। বরং মা আর দুই মেয়ে প্রায়শই একসাথে রাত জেগে সিনেমা দেখেন। যোধা আকবর-ও একসাথে দেখার কথা। কিন্তু বিউটি ভাবছে রাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ছবিটা একাই দেখে ফেলবে। আবার গরম গরম লুচি খাওয়ার জন্যও প্রাণটা আঁইঢাই করছে। লুচি খেয়ে সিনেমা দেখতে বসবে বলে ঠিক করলো। রাগ করে সে নিজেকে কষ্ট দিবে কেন। এই রকম ফালতু রাগ বিউটি করে না! বরং রাগ করে এমন ব্যবস্থা করবে যেন সে ছাড়া আর কেউ লুচি খেতে না পারে।

বিউটি সিনেমা দেখা আপাতত বন্ধ রেখে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলো। ফরিদা নিজেই গরম গরম লুচি প্লেটে নিয়ে বসে আছেন। বিউটি এসে বসাতে খুশি হলেন। বেশ আয়োজন করে বেড়ে-ধরে মেয়েকে খাওয়ালেন।

— আম্মা, হাঁসের মাংস রানবেন না? ঝাল দিয়েন।

— বেশি ঝাল দেয়া যাবে না।

— কেন, বেশি ঝাল দেয়া যাবে না কেন?

— তোর আব্বা খাবে জানস না, সব কথায় তর্ক করস।

— আব্বা কবে থিকা ঝাল খায় না?

বিউটির তর্ক করার রোখ চাপলে সে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে তর্ক চালিয়ে যায়। ফরিদা কঠিন চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। বিউটিও পাল্টা তাকিয়ে রইলো যেন এটা একটা খেলা। কে কতোক্ষণ চোখের পাতা না ফেলে তাকিয়ে থাকতে পারে।

— তোর বড় বাড় বাড়ছে বিউটি। দিন কইলাম ঘনাইছে।

ফরিদার হিসহিস গলা শুনে বিউটি হেসে ফেললো। ফরিদা আরও কয়েক মুহূর্ত কঠিন দৃষ্টি ধরে রাখলেন। তারপর স্বাভাবিক গলায় বললেন, “শুকনা মরিচ ভাইজা রাখমু নে। ঝাল খাইতে ইচ্ছা করলে ডলা দিয়া নিস।”

— আম্মা, সিনেমা দেখবেন?

— না, এখন রান্না বসাবো। ইচ্ছা হইলে তুই দ্যাখ। এক সিনেমা তো বহুবার দেখতে পারস, পরে আমাদের সাথে আবার দেখবি।

ফরিদা মন্থর পায়ে রান্নাঘরে চলে গেলেন। মেয়ের সাথে টুকটাক কথা বলে তার কিঞ্চিৎ হালকা লাগছে, কিন্তু তারপরও কপালের ভ্রূকুটি একেবারে মিলিয়ে যাচ্ছে না।

রাবেয়ার মা পিঁয়াজ কেটে রান্নার সব যোগাড়যন্ত করে রেখে গেছে কাপড় ধুতে, সেদিকে তাকিয়ে ফরিদা সন্তুষ্ট হলেন। মাঝারির চেয়ে বড় একটা কড়াই চুলায় বসালেন। তেল দিলেন অল্প, এমনিতেই হাঁস থেকে বিস্তর তেল বের হয়। গত মাসে মুখলেস সাহেবের কোলেস্টরাল চেক করা হয়েছে, বেশ হাই। হাঁস-মাস এখন তার না খাওয়াই ভালো। কিন্তু রান্না করলে দুই এক টুকরা মুখে তো দিবেনই। চার জনের সংসারে তিনজন খাবে একজন খাবে না, সেটা হয় না। ডানা, পাখা, গলা, আর দুই টুকরা হাড় রাবেয়ার মা আর পিচ্চির জন্য বেড়ে দেওয়ার পর মাংস থাকে অনেক। হাঁসের চামড়া বড় মেয়ের খুব পছন্দ। ফরিদারও ভালো লাগে, সত্যি কথা বলতে কী তারই সবচেয়ে প্রিয়। কিন্তু কখনও তা প্রকাশ করেন নাই, এমনকি খাওয়ার সময়ও এমন ভাব করেন যেন অনুরোধে ঢেঁকি গিলছেন। ঠিক করলেন, আজকে ভালো করে কষিয়ে ভূনা ভূনা করে রান্না করবেন। তেল মশলা একটু বেশিই খাওয়া হবে — থাক, ডেইলি ডেইলি তো আর খাচ্ছেন না। তাছাড়া ইলিশ-পোলাওটাও চড়িয়ে দিতে হবে। রান্নার সময় হাতের কাছে সব কিছু যেন পান, রাবেয়ার মা’কে মনে করিয়ে দিতে হবে। নইলে শেষ মুহূর্তে দেখা যাবে মাছ-ই ডিপ থেকে বের করে নাই।

এসব তুচ্ছ কথা ভেবে ফরিদা মনকে ব্যস্ত রাখছেন, নইলে এতক্ষণে আবদুুল বশির বিষয়ক চিন্তায় অস্থির থাকতেন। আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, তার একবারও লাভলির কথা মনে আসে নাই এবং সচেতনভাবেই তিনি মনে আসতে দেন নাই। তিনি নিশ্চিত দু’টার অন্তত দশ-পনেরো মিনিট আগে লাভলি বাসায় এসে যাবে, শুধু শুধু ব্লাড প্রেশার চড়িয়ে ফায়দা কী!

— কাপড় ধোয়া হইছে, ছাদের চাবি দেন খালাম্মা, নাইড়া দিয়া আসি।

— ইলিশ মাছ পরিষ্কার করছো?

— না, ভিজাইয়া রাখছি।

— এখন ইলিশ মাছটারে ভালো কইরা পরিষ্কার করো। পোলাওর চাল বাইছা রাখো, কাঙ্করে ভরা — ঠিক একটার সময় রান্না বসাবো, গরম গরম খাইতে পারবে।

— খালাম্মা, কাপড়?

— তুমারে যেইটা করতে বলি সেইটা করো, খালি প্যাচাল।

ফরিদা এক গাদা হুকুম দিয়ে মাংস কষানোতে মনোনিবেশ করেন। কষানো হয়ে গেলে অল্প পানি দিয়ে ঢেকে দিলেন, জ্বালও কমিয়ে দিলেন।

— রাবেয়ার মা, মাংস তেলের উপর উঠলে চুলা নিবায় দিও।

রাবেয়ার মা নিঃশব্দে ইলিশ মাছের আঁশ ছাড়াচ্ছিলো, কোনো রকমে মাথা নাড়লো। ফরিদা হুকুম দিয়েই তড়িঘড়ি করে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেলেন পিছনের বারান্দায়। বারান্দায় ঢোকার আগেই পুরানো হিন্দি গানের একটা লাইন কানে ঢোকায় ভ্রূজোড়ার সাথে তার বাঁ চোখটাও কিঞ্চিৎ কুঁচকে গেলো।

‘… যো ভি হো তুম খুদা কি কসম লা জওয়াব হো…’

মুখলেস সাহেব চিৎপাত হয়ে বেতের সোফা টাইপ চেয়ারে আধশোয়া হয়ে আছেন আর তার দুই পা সামনে রাখা সাইড টেবিলের উপর তুলে দেয়া। গানের আবেশে আর চুল টানার আরামে দুই চোখই বন্ধ। পিচ্চি টুইজার দিয়ে মন লাগিয়ে পাকা চুল তুলছে আর গানের তালে তালে মাথাটা ডানে বাঁয়ে দুলছে। ঠোঁটও নড়ছে কিন্তু কিছু শোনা যাচ্ছে না। পাকা চুল তুলতে পিচ্চির বড় ভালো লাগে। একটা একটা করে তোলে আর গোনে। কুড়িটা পযন্ত তোলা হলে আবার এক থেকে শুরু করে। এই পর্যন্ত তিন কুড়ি বারোটা পাকা চুল তোলা হয়েছে। গতকাল তুলেছে দুই কুড়ি আঠারোটা আজকে তার চাইতে অনেক বেশি। ফরিদা বারান্দায় ঢোকা মাত্র পিচ্চি তটস্থ হয়ে গেলো, মুখলেস সাহেব কিছুই টের পেলেন না, তিনি হয়তো ঘুমিয়েই পড়েছেন। খবরের কাগজ মুখের উপর ফেলে বা গান শুনতে শুনতে বারান্দায় উনি এরকম হরদম ঘুমান। ফরিদা ইশারায় পিচ্চিকে তার সাথে আসতে বললেন। মুখে কিছু বললেন না। আসলে মুখলেস সাহেবের ঘুম ভাঙাতে চান নাই।

এই লোকটার জন্য ফরিদার মায়াই লাগে। ভিনদেশী গাছের মতো শুধু বুনে দেয়া হয়েছে এই সংসারে, এছাড়া এই সংসারের সাথে তার কোনো সাত নাই। মেয়েদেরকে তিনি আদরও করেন না অনাদরও করেন না। সব কিছুকে ঘিরেই এরকম বন্ধনহীন সম্পর্ক। তবে ফরিদার উপর তার নির্ভর আর বিশ্বাস অন্ধত্ব ছুঁয়েছে। স্বামীর দিকে এক রকমের মমতা নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন ফরিদা। বারান্দা থেকে বেরিয়ে পিচ্চিকে ধোয়া কাপড়ের গামলা নিয়ে তার সাথে ছাদে যেতে বললেন।

— আমি ছাদে যাইতেছি, বাথরুম থিকা ভিজা কাপড়গুলা নিয়া আয়। একবারে পারবি?

— হ পারুম।

— সিঁড়ির গেইটের চাবি কই? বাইরে থিকা আইসা চাবি কইলজার মধ্যে নিয়া বইসা থাকস কেন? আসার সাথে সাথে আমার হাতে চাবি দিয়া যাবি, মনে থাকবে?

— হ থাকবো।

— চাবি কই? চাবি দে।

— খালুজান ডাকলো, হের বাদে বারান্দার টেবিলের উপরে রাখছি।

— যা নিয়া আয়, তারপরে কাপড় নিয়া ছাদে আয়।

পিচ্চি দৌড় দিলো চাবির জন্য আর তক্ষুনি কয়টা বাজে দেখার জন্য ফরিদার ভিতরটা কোনো রকম ওয়ার্নিং ছাড়াই ক্ষেপে উঠলো। বসার ঘরের দেয়াল-ঘড়িতে প্রায় তিন মাস ধরে পোনে একটা বেজে আছে। ব্যাটারি বদলাতে হবে কিন্তু সেটাই হয়ে উঠছে না। ফরিদা শোবার ঘরের দিকে এক রকম ছুটে গেলেন। শোবার ঘরের উল্টা দিকের দেয়াল-ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলেন এগারোটা কুড়ি বাজে। না, বিস্তর সময় আছে। এতো উতলা কেন বোধ করছেন সেটাও ভেবে পাচ্ছেন না। একবারেই যে ভেবে পাচ্ছেন না তাও ঠিক না। সকালে আবদুল বশিরের ফোন তার দুনিয়াকে মোটামুটি একটা ভালো রকম নাড়া দিয়ে গেছে। চমক জীবনে ফরিদা কম দেখেন নাই আর সেগুলিকে বলতে গেলে একাই সামলেছেন। কিন্তু সকাল বেলার চমকটার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। অবশ্য কোন চমকের জন্যই বা প্রস্তুত ছিলেন। অন্যগুলিকে যখন বাগে আনতে পেরেছেন এইবারেরটাকেও পারবেন ইনশাল্লাহ।

ত্রস্ত পায়ে ছাদে উঠে এলেন ফরিদা। কীসের এতো তাড়া কে জানে! এসে দেখলেন ছাদের দরজার সামনে পিচ্চি দাঁড়িয়ে আছে, কাপড়ের গামলাটা তার সামনে মাটিতে রাখা। ফরিদা চাবি দিয়ে ছাদের দরজা খুললেন। সিঁড়ি ঘর জুড়ে জমাট অন্ধকার কিন্তু দরজার নিচ দিয়ে এক চিলতে তীব্র রোদ মাথা কুটে মরছে ভিতরে ঢোকার জন্য। দরজা খোলার সাথে সাথে রোদের প্রখর তেজ এক লাফ দিয়ে সিঁড়ি ঘরে ঢুকে ওদের চোখ ধাঁধিয়ে দিলো। নিজের অজান্তেই ভ্রƒজোড়ার সাথে সাথে আরেক দফা চোখ কুঁচকে গেলো ফরিদার আর রোদের তীব্রতা ঠেকাতে পিচ্চি চোখের উপরে হাত উঠালো। ছাদে পা দিয়ে চমৎকার লাগলো ফরিদার। শীতের রোদের কোনো জবাব নাই।

— নিচের গেইটের চাবি আনছস? দে।

চাবির কথা ভুলতেই পারছেন না ফরিদা। পিচ্চির হাত থেকে চাবিটা নিয়ে আঁচলের প্রান্তে গিঁঠ দিলেন। এইবার শান্তি শান্তি লাগছে।

পিচ্চি কাপড়-শুকানো-দড়িতে ভেজা কাপড়গুলি মেলে দিচ্ছে। ফরিদা আড়চোখে দেখে নিলেন কাপড়গুলি টান টান করে মেলছে কি না। একটু দেখে ক্লান্ত লাগলো। ‘মেলুক যেভাবে খুশি মেলুক’ — এরকম একটা ভাব এলো মনে যা তার জন্য খুবই বেমানান। ধীর পায়ে ফরিদা ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়ালেন।

আজ ১৬ নভেম্বর ২০০৭, লাভলির জন্মদিন। আজকের দিনটাকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না ফরিদা। হাতের কঠিন মুঠি থেকে কেবলই ফসকে ফসকে যাচ্ছে। মুখলেস সাহেবকে কি বলবেন বশিরের ফোনের খবর — বলেই বা কী লাভ। তাকে বলা আর না বলা সমান কথা। থাক, এমনিতেও শরীরটা ভালো না।

— খালাম্মা, নিচে যামু।

— হ্যাঁ, নিচে যা। রাবেয়ার মা’রে গিয়া ক’ আমি ছাদ থিকা নাইমাই ইলিশ-পোলাও বসাবো। তুই টেবিল পরিষ্কার কর গিয়া, প্লেট বাসন যা আছে ধুইয়া ফালা।

পিচ্চি ছাদ থেকে বের হয়ে গেলো, সিঁড়িতে তার দুমদাম পায়ের শব্দ ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। ফরিদা ছাদে এখন সম্পূর্ণ একা, ছাদের এ মাথা থেকে ও মাথা দুইবার পায়চারি করলেন।

* * *

লাভলিকে পেটে নিয়ে আট মাস নয় দিন পোয়াতি অবস্থায় ফরিদা আবার বাপের বাড়ি ফিরে যান। বিয়ের পর বাপের বাড়িতে সেই তার দ্বিতীয় যাত্রা। মাঝে পোনে দুই বছর কেটে গেছে। বাপের বাড়ি যানও নাই, চিঠিপত্রও দেন নাই। মুখলেস সাহেব দু’একবার যাওয়ার প্রসঙ্গ আনলে ফরিদার সাফ জবাব, “বিয়ার পরে মেয়েদের আর বাপের বাড়ি থাকে না, স্বামীর বাড়িই সব। আমার বাপের বাড়ি যাওনের জন্য তুমার এতো চুলকানি উঠে কেন? বেশি চুলকানি উঠলে তুমি যাও।”

প্রত্যাশিত ধমক খেয়ে মুখলেস সাহেব এই নিয়ে আর কথা বলতেন না। তবে ফরিদা নিজেই একদিন বাপের বাড়িতে যেতে চাইলেন। তার তখন ভরা অবস্থা। মুখলেস সাহেব জান জীবন দিয়ে ফরিদার সেবা করছেন। কীসে সুবিধা, কীসে অসুবিধা দেখতে গিয়ে খুশি করার চাইতে ধমক খাচ্ছেন বেশি। সেই সময়টা ফরিদার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। বিউটি যখন পেটে এলো তখনকার সময়টাও ভালো ছিলো কিন্তু প্রথমবারের সাথে তার তুলনা চলে না। একবারের জন্যও ফরিদা বা মুখলেস সাহেব, এই দু’জনার একজনেরও মনে হয় নাই কোথাও কোনো ছন্দপতন আছে।

মুখলেস সাহেব চিঠি লিখে শ্বাশুড়ি আম্মাকে ফরিদার সন্তান পেটে আসার সুসংবাদ আগেই জানিয়েছিলেন। অনেক দিন মেঝো মেয়ের কোনো খবরাখবর পান না, খানিকটা দুশ্চিন্তা নিয়েই তিনি চিঠিটা খুললেন, এক নিঃশ্বাসে চিঠির আদ্যোপান্ত পড়লেন। পড়তে পড়তে ঠোঁটের বাঁ প্রান্ত কিঞ্চিৎ কুঁচকে গেলো। তবে তা মুহূর্তের জন্য কেবল। পরক্ষণেই তার চোখে-মুখে হাসির চ্ছটা ভোরের আলো ফোটার মতো ধীরে উদ্ভাসিত হলো। আর সেই আলোকিত উদ্ভাস বজায় রইলো ফরিদার বাপের বাড়ি অবস্থানের শেষ দিন পর্যন্ত। মেয়ের জন্য অসম্ভব গর্ব অনুভব করলেন তিনি। এমন না হলে তার মেয়ে।

মুন্সিগঞ্জে তাদের সেই বিশাল বাড়িটাতে সাড়া পড়ে গেলো, বাচ্চা যেন আর কারো হয় না! অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ ফরিদা বাচ্চা প্রসবের জন্য বাপের বাড়িতে গেলেন। হেমন্তকাল! নতুন ধানের গন্ধ উঠানময় ছড়ানো। কামলা বেটিরা ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে চাল কুটছে আর গুন গুন করে গান গাইছে। প্রতিদিন সকালে নতুন চালের পিঠা, খেজুরের রস আর ডাবের শাঁস। অপার্থিব সুখ আর আরাম। ফরিদার ফুট-ফরমাশ খাটার জন্য হাতের কাছে গোটা তিনেক মেয়ে। কেউ মাথায় তেল মালিশ করছে, কেউ কাঁঠালের বিচি আর শুঁটকি মাছের ভর্তা করছে আবার কেউ ফরিদার তলপেটে সেঁক দেওয়ার জন্য উনুন জিইয়ে রাখছে। ব্যতিব্যস্ত অবস্থা। ফরিদার বড় ভাবি, মেঝো ভাবি দু’জনেই তখন মুন্সিগঞ্জের বাড়িতে থাকেন, ফরিদার ছোটো বোনের তখনও বিয়ে হয় নাই। এতো যতœ-আত্তি দেখে ওদের তিনজনেরই চোখ ঠারাতো। বিশেষ করে ছোটো বোন শিরিনের।

ফরিদার মা বরাবরই ছিলেন মাপা মানুষ। নিতান্ত সাধারণ পরিবেশও তার উপস্থিতিতে বিশেষ দাম পেতো। সেই আম্মার আহ্লাদটাই সবার চোখে পড়লো সবচেয়ে বেশি। পরিবারে ফরিদার বাচ্চাই প্রথম না, তার আগে বড় বোন আর বড় দুই ভাইয়ের বাচ্চা হয়ে গেছে। প্রত্যেকেরই অন্তত দু’টা করে। সুতরাং ফরিদার বাচ্চা হওয়া নিয়ে এতো মাতামাতি কীসের তা কেউ ধরতে পারলো না, তাই হিংসার পরিমাণও গেলো বেড়ে। ফরিদার পেটে যাতে দাগ না পড়ে সেকারণে আম্মা সকালে, আর রাতে পরম নিষ্ঠায় তিলের তেল মালিশ করে দিতেন। গরম পানিতে নিজে গোসল করিয়ে দিতেন। ফরিদার পছন্দের খাবার নিজের হাতে রাঁধতেন। যতেœর চূড়ান্ত করতেন, চুল আঁচড়ে পাটপাট বেণী করতেন, ছায়ার মতো সাথে সাথে থাকতেন। মায়ের এই মনোযোগী-সেবায় ফরিদা নিজেও বুঝতে পারলেন যে ব্যক্তিত্বের দিক থেকে তিনি আম্মার চাইতে কোনো অংশেই কম না। ফরিদার মাথা আরও উঁচুতে উঠে গেলো, তার মঙ্গলের চাইতেও উঁচুতে।

‘… কা কা কা … ’

কাকের ডাকের কর্কশ ধাক্কায় ফরিদার সম্বিৎ ফিরে এলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন একটা কাক বেশ নিচু দিয়ে তাদের ছাদটাকে কেন্দ্র করে ঘুরে ঘুরে উড়ছে আর কা… কা… কা… ডেকে যাচ্ছে। আশে পাশে আর কোনো কাক দেখা যাচ্ছে না। কাকটাকে হাত উঁচু করে ‘হুস’ ‘হুস’ বলে তাড়াবার চেষ্টা করলেন। লাভ হলো না, কাকটা বরং আরও মরিয়া হয়ে ফরিদার থেকে বিপজ্জনক দূরত্বে বৃত্তাকারে ঘুরতে শুরু করলো আর তারস্বরে ডাকছে তো ডাকছেই। নির্জন দুপুর, আশেপাশের ছাদে একটা প্রাণীও নাই, এরকম সময়ে একটা কাক কর্কশ তীব্র স্বরে কা… কা… কা… ডেকে চলেছে। ঢেউহীন পুকুরের মতো সেই নিস্তরঙ্গ দুপুরে কাকের কর্কশ স্বর মনে হলো অন্য কোনো দুনিয়া থেকে আসছে, শুধু ফরিদাকে সাবধান করবার জন্য।

কাকটাকে তাড়াবার জন্য ফরিদার জিদ চেপে গেলো। ছাদের কোণা থেকে একটা ঢিল নিয়ে ছুঁড়ে মারলেন। ঢিলটা কাকের আশেপাশেও যেতে পারলো না, মাঝপথেই মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়লো। ঢিলটাকে গ্রাহ্যই করলো না কাকটা। আশেপাশে কোনো কাক মারা যায় নাই তো — একবার ভাবলেন ফরিদা। না না, তাহলে একটা না সাথে আরও কয়েকটা জুটে যেতো। মনের ভিতরের ‘কু’ ডাক আবারও প্রবল বিক্রমে ফিরে এলো।

অনেক উঁচু থেকে দেখলে দৃশ্যটা এরকম দেখাবে: একটা নির্জন ছাদ, দুপুরের নিস্তব্ধতা চারদিক থেকে ছাদটাকে চেপে ধরেছে, সেই ছাদে ততোধিক নির্জন একজন প্রৌঢ়া এলোপাথাড়ি ছুটে বেড়াচ্ছেন আর মাথার উপরে দু’হাত ছুঁড়ে অন্ধের মতো ‘হুস’ ‘হুস’ করছেন। তার ঠিক চোখের তারার উপরেই কালো মখমলে মোড়ানো একটা কাক বৃত্তাকারে ঘুরছে আর বিরামহীন কা… কা… ডেকে চলেছে। কিছু একটা ঘটবে, ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটবে — কুল ছাপানো নদীর মতো এই অমঙ্গল চিন্তা বার বার ফরিদার মনে আছড়ে পড়ছে আর তখন তার সমস্ত রোষ গিয়ে পড়ছে কাকটার উপর। যেন কাকটাকে তাড়াতে পারলেই তার এবং তার পরিবারের উপর থেকে সমস্ত বালা মুসিব্বত কেটে যাবে।

* * *

বিউটির ছবি দেখায় মন নাই। ফরিদার কাছ থেকে কী বাগানো যায় মাথায় শুধু সেই চিন্তা ঘুরছে। দামি কিছু বাগাতে হবে। প্রতিদিন ধীরেসুস্থে একটু একটু করে একটা ভয় আম্মার বুকের ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে হবে, যাতে আম্মার অবস্থা ‘চাহিবা মাত্র প্রাপককে দিতে বাধ্য থাকিবে’ টাইপ হয়। তারপর সুযোগ বুঝে চাহিদা নিয়ে উপস্থিত হওয়া। ফরিদার কাছ থেকে জিনিসপত্র আদায় করা এতদিনে বিউটির কাছে ডাল-ভাত হয়ে গেছে। অবশ্য এতদিন সে বড় কোনো দাও মারে নাই। সর্বোচ্চ দাও ছিলো ভিসিআর। এবার এমন কিছু চাইতে হবে যেটা সে সম্পূর্ণ একা ভোগ করতে পারবে। কী চাওয়া যায়! একটা বিশাল সাইজের টিভি চাইতে পারে। না না টিভি চাওয়া যাবে না। তখন এই ঘর থেকে আর কাউকে নড়ানো যাবে না। আব্বাও হয়তো বারান্দার বেতের চেয়ারটা নিয়ে এসে এখানে ঘাঁটি গাড়বেন, কিছুই বলা যায় না।

আম্মা কোন বিবেকে আপাকে একা ছাড়লেন, কোন বিবেকে! আপার একা একা গাউছিয়ায় যাওয়ার দরকারটা কী? লাভলিকে একা পাঠিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত বিউটি কিছুতেই হজম করতে পারছে না। এখন যদি সে দরজা খুলে নিচে যেতে চায়, একটু ঘোরাঘুরি করে আসতে চায় আম্মা কি সেটা দিবেন করতে, কোনোদিনও না। সে তো কখনও আম্মার অবাধ্য হয় নাই। লাভলি ভাব-ভালোবাসা করার দুঃসাহস পর্যন্ত দেখিয়েছে; সে বড়জোর ফরিদার সাথে অহেতুক তর্ক করে। এই তর্কে কারো কোনো ক্ষতি নাই, এটা বিউটি যেমন জানে ফরিদাও জানেন।

রিয়াজের কথা বিউটি যেদিন ফরিদার কানে তুললো সেদিন বিউটি ভেবেছিলো এইবার লাভলির ইহলীলা সাঙ্গ হবে, হওয়াই উচিৎ। কিন্তু সেই তুলনায় ফরিদা কিছুই করলেন না — দুইবোন শুধু আঠারো দিন ঘরবন্দি ছিলো। অথচ বিউটি যদি এরকম কোনো কাণ্ড করতো তাহলে খুন জখম হওয়াও আশ্চর্যের হতো না। এইবার একটা হেস্তনেস্ত— করতে হবে, এত শস্তা না! সবাই তার সাথেই কেন এরকম করবে বিউটি ভেবে পায় না। এই যেমন, সে হলো লাভলির চেয়ে সাড়ে তিন বছরের ছোট, একটা দু’টা বছর না, সাড়ে তিন বছর। অথচ রিয়াজ কি না ওর দিকে তাকিয়েও দেখলো না। লাভলির জন্য প্রেম-পাগল ইউসুফ বনে গেলো। বিউটি হলফ করে বলতে পারে সে লাভলির চেয়ে অন্তত দশগুণ সুন্দর, থাকেও সুন্দরভাবে। তাহলে, রহস্যটা কোথায়! আপা ভাব ধরে থাকে যেন কিছুই জানে না, কিছুই বোঝে না। আম্মাও তাই বিশ্বাস করেন, কিন্তু সে ঠিকই জানে লাভলি কত বড়ো সেয়ানা। আজকে কী কাণ্ড করে বেড়াচ্ছে কে জানে। আম্মা যদি তাকে ঘরবন্দি করে রাখেন লাভলিকে উচিৎ শিকল দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা।

এইসব ভাবতে ভাবতে অসহ্য ক্রোধে বিউটির শরীর জ্বলে গেলো। বিছানা ছেড়ে এক ঝটকায় উঠে টিভি বন্ধ করে দিলো।

— রাবেয়ার মা, রাবেয়ার মা…

— কী কন…

— আম্মা কই?

— খালাম্মা ছাদে কাপড়…

রাবেয়ার মা’র কথা শেষ করতে দিলো না তার আগেই রাতের ট্রেনের মতো ঘর ছেড়ে ছিটকে বেরিয়ে গেলো। ছাদে উঠতে গিয়ে পিচ্চির সাথে তুমুল ধাক্কা লাগলো। দুপদাপ করে পিচ্চি নামছে, দুড়দাড় করে বিউটি উঠছে। হেডঅন কলিশন। পিচ্চি-ই ব্যথা পেলো বেশি। ধাক্কার চোটে সিঁড়ির গায়ে হেলে পড়লো। সেইদিকে তাকালো কি তাকালো না, একটা গালি দিয়ে যেই বেগে উঠছিলো সেই বেগেই আবার ছাদমুখী ছুটলো বিউটি।

ছাদে পা দিয়ে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখে বিউটি স্থবির হয়ে গেলো। সে অবাক হয়ে দেখলো তার মা, মিসেস ফরিদা খানম মাথা খারাপের মতো ছোটাছুটি করছেন, সমানে দু’হাত ছুঁড়ছেন শূন্যে। একটা কাক তার সেই দু’হাত অনুসরণ করে উড়ে বেড়াচ্ছে। একবার মনে হলো ঠোকর দিবে বা! কাকটা ফরিদার মাথার খুব কাছে নেমে আসছে আবার হুস খেয়ে গজ খানিক উপরে উঠে যাচ্ছে। মায়ের এই মূর্তি দেখে বিউটি ভীষণ রকম চমকালো, তাদের সমগ্র জীবনের অস্বাভাবিকত্ব চোখের সামনে নিয়ন সাইনের মতো জ্বলতে লাগলো। কষ্ট হলো বিউটির; ফরিদার জন্য কষ্ট হলো, লাভলির জন্য আর নিজের জন্য। অস্তিত্ব জানান না দিয়ে চুপচাপ নিচে নেমে এলো।

কিস্তি ৭

রচনাকাল: ২০০৮, লন্ডন

অলঙ্করণ: রনি আহম্মেদ

leesa@morphium.co.uk

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাজী দিলরুবা আক্তার লীনা — মার্চ ১৩, ২০০৯ @ ১:২৮ অপরাহ্ন

      এই কিস্তিটা ভাল লাগল। মায়ের সাথে মেয়ের অন্যরকম কথোপকথন, মেয়ের ভাবনাগুলো লেখিকা ভাল করে তুলে এনেছেন। তাকে ধন্যবাদ, এমন একটি লেখার জন্য।

      – কাজী দিলরুবা আক্তার লীনা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shanto — মার্চ ২১, ২০০৯ @ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

      আমি গল্পটা পড়লাম। আম্মার ক্থা মনে হল। মুনশীগঞ্জের। অনেকটাই গল্পটার মত ঘট্না। জানি না – কেন এত মিল!!!

      – শান্ত

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com