স্বর্ণজল্লাদ

পিয়াস মজিদ | ২৩ অক্টোবর ২০০৮ ৭:৩২ অপরাহ্ন

১.
ফুলপাহাড়ে যাত্রা তার; তূণের টিলায়। লাল নীল চুমকির বিভায় গলছে যেদিকে মোমের প্রাসাদ। এই দিবসের ডানাভষ্মে গুপ্ত সেই হেমবর্ণ ঢেউ। গোল বাঁকা রাতের রেখায় জাগে ঘুম। এত এত নিশিমাংস-হাড় তবু সুসমাচার জঙ্গলেই সন্ধ্যামালতী যত। আর সব শুষে মেয়ে এক পুষ্পাগ্নির লাভা। কৃষ্ণলয়ে ফুটছে ধীরে মরণসুন্দর।

২.
প্রবুদ্ধ হাওয়ায় ওড়ে শ্রীময়ী সাপিণী। বনে মর্মরিত সবুজে সাত সন্ধ্যার অঙ্গার। চাঁদ থেকে জড়ো করা সূর্যবালির পাহাড় ঐ। সিন্দুকের জঙ্গল; স্বর্ণের গায়ে গজিয়ে উঠছে শ্যাওলা। শেফালির গন্ধবিষে মেঘ হয়, রোদনিখিল। চেনা অচেনা তারার কান্নায় রাত্রি ফেটে যায়। নাচের মৃত্যু আমি আর তোমার ঘুঙুরের হাড়ে — কফিনের জন্মদিন লক্ষ হাজার

৩.
সন্ধ্যা স্নানের গোপন সুন্দর। ডুবে যাওয়া সূর্যের শোণিতে শোধিত নাচ। ওলো আজ লীলাবালি সই। বেণী খুলে দাঁড়িয়েছে অগ্নিবাঈ। চুলের ছায়ায় চুরমার জল। খরধুলোর ভৈরবী কোমল আর শাখা ভরা ফুল। প্রতিবুদ্ধের ধ্যান ফুঁড়ে কামকল্লোল শুরু। দগ্ধ রাতের ফেলে যাওয়া রক্তাক্ত কাচুঁলি এই …

৪.
জলের এই নীল নৃশংসতা; সমুদ্রশ্বাসের পাহাড় থেকে ভেঙে ফেলা মেঘের খিলান; হননের সব সৌধে পুষ্পাভা; কুঁড়ি ও পাতায় গড়ে ওঠা মৃত্যুর ভাণ্ডার সে। বনে আছে তোমার সবুজ নিরাময়। তিনদিকে কিছু রক্তচারী ব্রহ্মা। পথের শেষে স্বর্ণনাদের ছায়া আর দাগ, ধ্বংসের আরাধনায় লাল হলুদ তারায় ঝিলিক। হিমছুরি ফুটেছে; মত্ত সেই দাদুরীর কংকাল ভাসে।

৫.
অমল পিয়ানোতে টুটাফাটা দিগন্তের শুশ্রূষা, পুষ্পপোড়া সমুদ্র পরী হাটে। ছাইসুরভির স্রোতে স্রোতে প্রহর সমাগত। তোমার নাচের সামনে অসহায় জাহ্নবী। হেমন্ত এমন আর রুদ্ধ সব হাওয়া তবু উড়েছে আজ কৃষ্ণতা যত; পাষাণ-কোমল, সোমরসের পর্বতে অচিন সেই রাতের হ্রদ। প্রতিভোরে এখন তরঙ্গসন্ধ্যা…

৬.
পানশালার ভেতরে সব নক্ষত্রসেবক। তারাই লোপ করেছে শঙ্খের স্বর। অগ্নিগন্ধে মাতাল সে রক্তিম গোলাপ। রোদের গহ্বরে ছুঁড়েছি লঘুমেঘের ভার, পাথরে গুপ্ত গান সমুদ্রে ধেয়ে গেছে। পর্বতের শেষে সেই ময়ূরজঙ্ঘার স্তূপ। আর মৃত্যুর সঞ্জীবনে সমস্ত জাগরণ লেখা চন্দ্রস্রাবের প্রহর শুরু। স্বর্ণতরঙ্গে থৈ থৈ নিশিতন্ত্রী। ঘুমের গর্ভে তুমি হীরাফেনিল ভোর

৭.
এমন নীল নদী, রিরংসার কূল, বিদ্যুতের ঢেউ। ডুবন্ত রাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রভাতী তান। দূরডাঙায় কবরের সুবাসে নামে বসন্তবাহার। ঐ যে বাগিচা। ফুলের থাবায় কুমারী মেরি। থেকে থেকে গলায় পেচিঁয়ে — উঠছে সন্ধ্যা। দূরের জংলায় সব হলুদ ধূসর। এত বিকেল, তেরছা পবন! তোমার রূপজনমের ভারে ধ্বসে পড়ছে প্রাসাদ; স্বর্ণমোড়া তিনদিকে আজ ধ্বংসনিখিল, দক্ষিণে শুধু সামান্য সবুজ। কালচক্রের এবার রাগমোচনের বেলা

৮.
ঐ বায়ুভেলায় নগ্ন অগ্নিস্মৃতি। মিথ্যার অভিসার শেষে ফিরেনি তারা। মৃত্যুসমুদ্রের মাল্লারা জনমের দামে নিয়ে গেছে মাৎসর্য, সেজুঁতি আর সব কাচের পুঁতিমালা। তটপোড়া গন্ধে তবু ফোঁটা ফোঁটা সন্ধ্যা। ঘরে যায় মেয়ে; কলসভরা নাচ, মুদ্রাঘুমের শোক শুষে পাহাড়ের পিছে জাগি খুনি সেই ঝর্না। রক্তজলের খাতা জুড়ে তুমি সত্যলেখা মুখোশের ঝড়।

৯.
সন্ধ্যামোচী বৃক্ষের অরণ্যে এই মৃত্যুকল্যাণ রাগ। গান থেকে ঝরে পড়ে সুরেলা রক্ত। বরফফলকে গলমান অগ্নি; রাতভর জড়ো করা স্বপ্নভাষা। গোলাপে পেঁচিয়ে উঠুক সাত রকম সাপ। আর নাশযজ্ঞের স্রোতে ভেসে যাবে ক্রুশগাছের জঙ্গল। শ্বেত সব পাপের পরিখা ফুঁড়ে তার পর ঝিঁঝিটের ঝর্না। কুমারীর তৃষ্ণা বেঁচে ওঠে

১০.
সুর শেষ; পাঁচ জোড়া ভূতের কণ্ঠে পরীলুপ্তির গান, পুষ্পপটে আঁকা মেঘের মৃত্যুনকশা। বিনাশের নীল ক্ষুধায় লাল সবুজ চুমকি তুমি। জন্মের মার্জনা চেয়ে কবর ফুটে লক্ষ হাজার। কান্নায় কুলায় থেকে ঝরি রক্তশিখা রাত। আর পূরবীপরিখায় ভৈরবীর হাড়। তারপর ছোট নদী পাহাড় বাগিচা পরিযায়ী পাখির তনুপোড়া প্রহর জুড়ে সাড়ে তিন হাত মাটির সমুদ্র

piasmajid@yahoo.com

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাহিদ — অক্টোবর ২৩, ২০০৮ @ ১০:২২ অপরাহ্ন

      ভালো লাগে নি। গদ্যকবিতা সেটা বুঝলাম, কিন্তু সুরের অসংগতি আছে প্রচুর। অনেক বাক্যের ভাব অসম্পূর্ণ। পিয়াস (তাঁকে চিনি না)-এর সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই আমার মনে। কিন্তু তার আরো প্রস্তুতি প্রয়োজন। নিছক পাঠক হিসেবে আমার এমনই মনে হয়।

      – নাহিদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shudhakranto — অক্টোবর ২৭, ২০০৮ @ ১১:১১ অপরাহ্ন

      এই লেখাগুলো আমাদের কোথাও পৌঁছে দেয় না। কেবল ইমেজের ঊদ‌‌‍্‌‌‍ভাস। তাকাতে হবে বাইরে। ইমেজস্তূপের অনর্থের যাথার্থ্য ও সুবিচার করা চাই। ভাষার ব্যবহারে হতে হবে নিপুণ। উন্মাদনার ভাষা খুব নিপুণতা দাবি করে। লেখককে তার দখল পেতে হবে। আশা রাখি সে পথে তাঁর যাত্রা দীর্ঘ হলেও যেন ব্যর্থ না হয়।

      – shudhakranto

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন mansura — নভেম্বর ২, ২০০৮ @ ৩:৪৪ অপরাহ্ন

      কিছুদিন আগে সমকাল-এর কালের খেয়ায় আবদুল মান্নান সৈয়দের একটি লেখা পড়েছি। পিয়াস মজিদকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি আকারে লেখা। মান্নান সৈয়দের লেখা পড়ার পর তাঁর সম্পর্কে আগ্রহ জন্মে। আজকে এখানে কবিতা পড়ার পর ততটাই হতাশ হয়েছি। এগুলো কি কবিতা? ভাষার অসংলগ্নতাকে কি কবিতা হিসেবে চালানো যায়?

      – mansura

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আজহার ফরহাদ — নভেম্বর ৬, ২০০৮ @ ৬:৩৩ অপরাহ্ন

      পিয়াসের কবিতা আগে পড়েছি। তার কবিতা লেখার শব্দবান্ধব একটি রীতি আছে যা মাঝে মাঝে কবিতার ভারসাম্য নষ্ট করে। কী দারুণ ও আশ্চর্য সব শব্দ একের পর এক সাজান তিনি! ভাল লাগে। যদিও এসব শব্দের ভার থেকে তার কবিতা বেরিয়ে আসুক ভাবনার পাশে — কামনা করি।

      – আজহার ফরহাদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাজুল হাসান — এপ্রিল ১৫, ২০০৯ @ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

      সব কবিতা সবার ভাল লাগার কথা নয়, তারপরেও উপরে যাদের মন্তব্য দেখলাম তাদের খেদটা বুঝলাম না। পিয়াস বোধগম্য কবিতা লেখার দিব্যি নিয়ে লিখতে বসেন নি। সেটা তার করাও উচিৎ হবে না। পিয়াসের কবিতায় রং ও বৈপরিত্মবাদীতা আমার ভাল লাগে। পিয়াসকে শুভেচ্ছা।

      – মাজুল হাসান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমাদ মাযহার — সেপ্টেম্বর ২৮, ২০০৯ @ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

      পিয়াসের কবিতা আর্টস-এ পড়তে পড়তে খুব ভালো লাগছিল। কবিতা পাঠ শেষে পাঠ-প্রতিক্রিয়া পড়ে আমি যুগপৎ বিস্মিত ও মর্মাহত! উপর্যুপরি কয়েকজন পাঠকের অন্যায় তিরস্কার পড়ে আমার পক্ষে আর নিশ্চুপ থাকা সম্ভব হল না। পিয়াসের কবিতা আর্টস-এর পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল যে-সময় তখন কবিতাগুলো আমার নজরে পড়ে নি। পড়লে তখনই প্রতিবাদ জানাতাম। তবে এমন একজন শক্তিমান কবির সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য আশা করি সেই কবিকে কোনোভাবে হতাশ করবে না। আর্টস-এ প্রকাশিত কবিতাগুলো পাঠ করে আমি জোরকণ্ঠে বলতে চাই যে সমকালীন বাংলাভাষার একজন শক্তিমান কবির কবিতাই আমি পড়েছি।

      পিয়াসের কবিতা চিত্রকল্পের এক বর্ণাঢ্য ও বিভাময় ভুবন। তাঁর কবিতা সম্পর্কে এ-কথা আমি অন্যত্রও বলেছি। পরাবাস্তবতা ও সাংগীতিকতা—বিশেষত হিন্দুস্তানি সংগীতের ধ্বনিচিত্র সৃষ্টিতে পারঙ্গমতা তাঁর কবিতাকে উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে গেছে। কবিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শস্ত্র চিত্রকল্প: এই শস্ত্র পরিচালনায় পিয়সের কৃতি আমার কাছে রীতিমতো ঈর্ষণীয় মনে হয়েছে। আমাদের অনেক নামী কবির মধ্যেও এমন চিত্রকল্পবৈচিত্র্য দেখি না। বরং আমার মধ্যে আক্ষেপ জাগছে এই ভেবে যে, এই কবির কবিতা আমি খুব সাম্প্রতিক কালের আগে পাঠ করি নি! ‘স্বর্ণজল্লাদ’ শীর্ষক চিত্রকল্পময় শিরোনামের এই কবিতাগুলোর জন্য পিয়াসকে টুপিখোলা অভিনন্দন জানাই। আশা করি কবিচেতনার অন্তর্নিহিত শক্তিই তাঁকে পথ দেখাবে নিরন্তরের পথে চলবার। সত্যিকারের পাঠকের কবিতাশনাক্তির চুম্বকে পিয়াসের কল্পনাপ্রতিভা আকৃষ্ট হবে এই আশা করি।

      – আহমাদ মাযহার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Koronik Akhtar — সেপ্টেম্বর ২৯, ২০০৯ @ ৪:৩৫ অপরাহ্ন

      আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কোনো কিছু পড়ে বুঝতে যেমন ব্যর্থ হতেই পারি, তেমনি আমি তা সরাসরি প্রকাশ করতেও পারি। আমার এই ব্যর্থ হতে পারা এবং তা প্রকাশ করতে পারার অধিকার যদি কেড়ে নিতে চান তো, মাযহার ভাই, আপনি কিন্তু অত্যাচারীদের দলভুক্ত হয়ে যাবেন। আমার জ্ঞানপ্রাপ্তি পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরলে আপনার কী এমন ক্ষতি হবে, দয়া করে জানাবেন কি?

      – Koronik Akhtar

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com