মান বুকার পুরস্কার ২০০৮ বিজয়ী

দি হোয়াইট টাইগার নিয়ে ঔপন্যাসিক অরবিন্দ আদিগা

কৌশিক আহমেদ | ১৭ অক্টোবর ২০০৮ ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

দ্বিধাবিভক্ত ভারতীয় সংস্কৃতি ও সমাজের অন্তর্দ্বন্দ্বমুখর প্রতিকৃতি উপস্থাপনকারী অরবিন্দ আদিগা ১৯৭৪-এর ২৩ অক্টোবর ভারতের চেন্নাইয়ে ভূমিষ্ঠ হন। এ বছর তাঁর প্রথম উপন্যাস দি হোয়াইট টাইগার জিতে নিয়েছে পঞ্চাশ হাজার পাউন্ড মূল্যমানের মান বুকার পদক। tb-ad.jpg…….
অরবিন্দ আদিগা (Aravind Adiga), চেন্নাই, ইন্ডিয়া ২৩/১০/১৯৭৪
……..
চল্লিশ বছরের বুকার ইতিহাসে আদিগা চতুর্থ লেখক যিনি প্রথম উপন্যাসেই বুকার জিতেছেন। বিখ্যাত চিকিৎসক পরিবারের প্রতিনিধি অরবিন্দ শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন। ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় প্রদেশের প্রথম স্থান লাভ করেন তিনি। পরে তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হয়। ১৯৯৭ সালে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে চমকপ্রদ ফলাফল নিয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিক হিসাবে নাম লেখান ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, মানি এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে

ভারতে জন্মগ্রহণকারী বুকার বিজয়ী চতুর্থ লেখক অরবিন্দ আদিগা। তাঁর আগে সালমান রুশদী, অরুন্ধতী রায় এবং কিরন দেশাই এ পুরস্কার পেয়েছেন। দি হোয়াইট টাইগার শক্তসমর্থ দগদগে ও অন্ধকারচ্ছন্নতার রসঘন একটা উপন্যাস যেখানে ভারতের একটা গ্রাম থেকে একজন মানুষের সফল উদ্যোক্তা হিসাবে অধিষ্ঠানের চিত্র দেখানো হয়েছে। উপন্যাসটিকে বলা হচ্ছে ভারতের মুখাবয়ব উন্মোচনের দলিল, একদম গভীরে যার দৃষ্টিপাত। দি হোয়াইট টাইগার পুরস্কৃত হবার কারণ হিসাবে একজন সমালোচকের অভিমত হলো উপন্যাসটিতে একই সাথে বিনোদন ও তীব্র আঘাত প্রদানের সক্ষমতা রয়েছে। ঔপন্যাসিক একজন খলচরিত্রের মানুষের প্রতি পাঠকের সমবেদনা জাগ্রত করার মত দুরূহ কাজটি সম্পন্ন করেছেন অনায়াসে।

দি হোয়াইট টাইগার উপন্যাস গরীব এক গ্রাম্য যুবক বলরাম হালুইকে ঘিরে, যিনি ভারত সরকারের এক মন্ত্রীর গাড়িচালক হিসাবে চাকরি পাওয়ার পর তার জীবন বদলে যায়। বইটি নিয়ে অরবিন্দ আদিগা কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। bookbrowse.com থেকে সংগৃহীত সাক্ষাৎকারটিতে গ্রহীতার নাম পাওয়া যায় নাই।

অনুবাদ: কৌশিক আহমেদ

আপনার সাহিত্যে প্রভাব আছে এমন কয়েকজন কে কে? আপনি কি বিশেষভাবে নিজেকে একজন ভারতীয় লেখক হিসাবে চিহ্নিত করেন?

আমার চেয়ে এই বইয়ের উপরে কাদের প্রভাব রয়েছে সে বিষয়ে বলা বেশি অর্থবহ হতে পারে। দি হোয়াইট টাইগার উপন্যাসটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান লেখকের প্রভাব আছে; এঁরা হলেন: রালফ ইলিসন, জেমস বল্ডউইন এবং রিচার্ড রাইট। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে বছরের পর বছর গেছে কিন্তু আমি তাদের কারো বই পড়ি নাই — ইলিসনের অদৃশ্য মানব পড়েছি ১৯৯৫ অথবা ১৯৯৬ সালে এবং আর কখনই ফিরে দেখিনি — কিন্তু এখন যখন এই বইটি লেখা হয়ে গেল, দেখতে পেলাম কত গভীর ভাবে তাদের কাছে এটি ঋণী হয়ে আছে। একজন লেখক হিসাবে আমি যে কোনো একটা পরিচয়ে বাঁধা পড়তে চাই না, আমি প্রভাব আকর্ষণ করতে আনন্দ বোধ করি তা যেখান থেকেই হোক।
—————————————————————–
এখানকার দুর্নীতি সম্বন্ধে ধনী অথবা গরীব নির্বিশেষে যেকোনো ভারতীয়কে জিজ্ঞেস করুন। এ থেকে মুক্তির কোনো আলামতও দেখা যাচ্ছে না। ভারতের জন্য ভবিষ্যত কী বয়ে আনবে — উত্তর দেবার জন্য এটা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিনতম প্রশ্ন।
—————————————————————-
একজন লেখক হিসাবে আপনার পদ্ধতি একটু বর্ণনা করতে পারবেন? সাংবাদিকতা থেকে কল্পকাহিনীতে উত্তরণ কি কঠিন?

দি হোয়াইট টাইগার উপন্যাসটির প্রথম খসড়া ২০০৫-এ লিখিত এবং এরপর আমি তা একপাশে রেখে দেই। বইয়ের পরিকল্পনাই বাদ দিয়েছিলাম। তারপরে, কোনো এক কারণে নিজেকে পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারি না, অনেক দিন বাইরে থেকে ২০০৬-এর ডিসেম্বরে যখন আমি সবে ভারতে প্রত্যাবর্তন করেছি তখন খসড়াটি আবার তুলে নিলাম এবং এটিকে পুনরায় পুরোপুরি লিখতে শুরু করলাম। পরবর্তী মাস ধরে দিনরাত্রি আমি লিখে চললাম এবং ২০০৭ এর জানুয়ারিতে দেখতে পেলাম আমার হাতে উপন্যাসটি।

বলরাম হালুই-এর অনুপ্রেরণা কোত্থেকে এলো? কীভাবে আপনি তার বক্তব্য খুঁজে পেলেন?

ভারত পরিভ্রমণের সময়ে আমি যত বিচিত্র মানুষের সংস্পর্শে এসেছি তাদের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বলরাম হালুই। রেল স্টেশন অথবা বাসস্ট্যান্ড অথবা চাকরদের ঘর অথবা বস্তিতে ইতস্তত ঘুরে বেড়িয়ে দীর্ঘ একটা সময় অতিবাহিত করেছি। আমার আশেপাশের মানুষের কথা শুনেছি, তাদের সাথে কথা বলেছি। ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অভ্যন্তরে এক প্রকারের নিরবিচ্ছিন্ন গুঞ্জন বা গর্জন বিদ্যমান এবং এই কোলাহল কখনও ধারণ করা হয় না। বলরাম আসলে যেমন তা আপনি শুনতে পাবেন যদি কোনোদিন আপনার বাড়ির পয়ঃনালা বা নল কথা বলতে শুরু করে।

বিশদ বর্ণনায় এই উপন্যাস সমৃদ্ধ — পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম (কখনও দুর্নীতিগ্রস্ত) থেকে রাজনৈতিক পদ্ধতি, দিল্লীর চাকর শ্রেণী থেকে ব্যাঙালোরের ব্যবসায়ী পর্যন্ত। এই উপন্যাসের জন্য কোনো ধরণের গবেষণা করতে হয়েছে?

adiga-1.jpg
অরবিন্দ আদিগা

এই বইটি একটা উপন্যাস, কল্পকাহিনী। এর বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বর্ণিত কোনো ঘটনাই বাস্তবে চিত্রিত হয়নি এবং এখানে যাদেরকে দেখেন, কেউই বাস্তবের চরিত্র নয়। কিন্তু ভারতীয় বাস্তবতার অধঃস্তরের উপরে ভিত্তি করে এটা লিখিত হয়েছে। একটা উদাহরণ দেয়া যায়, বলরামের পিতা উপন্যাসে যক্ষায় মারা যায়। একটা তৈরিকৃত বিশ্বাসযোগ্য চরিত্রের এখানে তৈরিকৃত বিশ্বাসযোগ্য মৃত্যু প্রদর্শিত হয়েছে কিন্তু এর পেছনে রয়েছে নিঠুর বাস্তবের চিত্র — এটা তো সত্য যে বাস্তবেও প্রতিদিন প্রায় হাজারের মত ভারতীয় নাগরিক যাদের বেশির ভাগই দরিদ্র, যক্ষায় মারা যায়। সুতরাং বলরামের পিতার মত কোনো চরিত্র যদি বাস্তবে থেকে থাকে এবং সে যদি রিকাশা চালানোর পেশায় নিয়োজিত হয় তবে তার পক্ষে যক্ষায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশ প্রবল হবে। যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি উপন্যাসের সবকিছুর সাথে ভারতীয় বাস্তবতার একটা সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়াসে। উপন্যাসে গ্রন্থিত সরকারী হাসপাতাল, মদের দোকান ও পতিতালয় — এসবই আমার পরিভ্রমণকৃত ভারতের বিভিন্ন জায়গার বাস্তব চিত্রের উপরে ভিত্তি করে রচিত।

আলো ও অন্ধকার; জাতপাত কীভাবে কমে এসে এখন কেবলমাত্র “বড় ও ছোট পেটের মানুষ” এর মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছে — ভারতীয় সংস্কৃতির দ্বিধাবিভক্ত চরিত্র সম্বন্ধে লিখেছেন উপন্যাসে। দেশটি শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে আপনি কেন মনে করেন — আরেকটু বিশদ বলবেন কি?

আমর নিজের চেয়ে বলরাম কীভাবে এই শ্রেণীবিভাগগুলো দেখে সেভাবে আপনি দেখছেন — এটি গুরুত্বপূর্ণ। কেবলমাত্র বলরামের সাথে পাঠক সবকিছু মিলিয়ে ফেলবে এমন অভিপ্রায় পোষণ করি না, কেউ হয়তো তার সাথে আদৌ একমত হবে না। বিগত পঞ্চাশটা বৎসর দেখেছে ভারতীয় সমাজের এই বিশৃঙ্খল পরিবর্তনগুলো এবং এই পরিবর্তনগুলো .. যার বেশিরভাগই ভালোর জন্য … ঐতিহ্যগত ক্রমাধিকারতন্ত্র এবং জীবনের প্রাচীণতম নিরাপত্তাকে উল্টে দিয়েছে। প্রচুর ভারতীয় দরিদ্র এখন বিভ্রান্ত এবং তাদের চারপাশে ফুটে উঠতে থাকা নয়া-ভারত তাদের হতবুদ্ধি করে দিয়েছে।

যদিও অশোক দায়িত্ব রক্ষায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, কিন্তু তাকে চিত্রিত করতে গিয়ে বেশিরভাগ জায়গায় তার পরিবার এবং উঁচু শ্রেণীর অন্যান্য সদস্যরা ফুটে উঠেছেন নিষ্ঠুর রূপে। দুর্নীতি কি এমনই সুবিস্তৃত যেমন তুলে ধরা হয়েছে? উঁচু শ্রেণীর এই চরিত্র কি আদৌ পরিবর্তন হবে অথবা তারা কি ভারতের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ফলে রক্ষা পেয়ে যাবেন?

এখানকার দুর্নীতি সম্বন্ধে ধনী অথবা গরীব নির্বিশেষে যেকোনো ভারতীয়কে জিজ্ঞেস করুন। এ থেকে মুক্তির কোনো আলামতও দেখা যাচ্ছে না। ভারতের জন্য ভবিষ্যত কী বয়ে আনবে — উত্তর দেবার জন্য এটা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিনতম প্রশ্ন।

আপনার উপন্যাসে এমন একজন ভারতীর চরিত্র উঠে এসেছে যা সচরাচর আমরা দেখতে পাই না। বিকল্প একটা দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা কি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল? একজন পশ্চিমা পাঠকের জন্য এই বিকল্প চিত্রায়ণ দেখা কেন জরুরী?

tb.jpg…….
দি হোয়াইট টাইগার, প্রকাশকাল: ২২/৪/২০০৮; পৃষ্ঠা: ২৮৮; প্রকাশক: Atlantic;
…….
আমার আশানুযায়ী যে কেউ এই বইটা পড়তে চাইবে তার প্রধান কারণ শেষাবধি উপন্যাসটি তাদের বিনোদিত ও আটকে রাখবে। পড়তে হবে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলে কোনো কিছুই আমি পড়ি না। যা আমার পড়তে ভাল লাগে সেটাই আমার দরকার। আশা করি আমার পাঠকরা এই বইটি পড়ে মজা পাবেন। ভারত সম্বন্ধে যতটুকু জ্ঞান এবং বসবাসের অভিজ্ঞতা স্বাভাবিকভাবে তা আমি লিখেছি। আমার জন্য এটা বিকল্প ভারত নয়! বিশ্বাস করুন এটা পুরো মাত্রায় প্রধান ধারা।

বাণিজ্য-সাংবাদিক হিসাবে আপনার পূর্বাভিজ্ঞতা উপন্যাসে কীভাবে কাজে এসেছে, যার প্রধান চরিত্র একজন উদ্যোক্তা, স্বনির্ভর মানুষের? ভারত যেসমস্ত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে তা কি তার জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলছে অথবা বলরামকে উন্নতিলাভের জন্য যেমন ঝুঁকি ও মূল্য বহন করতে হয়েছে তা কি একই রকম আছে?

প্রকৃতপক্ষে বাণিজ্য-সাংবাদিকতার পূর্বাভিজ্ঞতা আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে বাণিজ্য-পত্রিকায় বেশিরভাগ যা লেখা হয় সবই ভণ্ডামী এবং প্রকৃতপক্ষে আমি বাণিজ্য অথবা কর্পোরেট সাহিত্যকে কখনই সাদরে গ্রহণ করি নাই। “কীভাবে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী হবেন” এমন ধরনের বইয়ে ভারত ভেসে যাচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে আয়াকোক্কা বানিয়ে দেবার ভয়ঙ্কর আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমার বর্ণনাকারী উপহাসচ্ছলে উল্লেখ করেছিল — এই বইয়ের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির চেয়ে জীবন একটু বেশিই কঠিন। ভারতে এখন বহু স্বউদ্যোগী কোটিপতি আছেন নিশ্চিতভাবে এবং অনেকে সফল উদ্যোক্তাও। কিন্তু মনে রাখতে হবে এখানে বসবাসকারী শ কোটির বেশি মানুষ যাদের বেশিরভাগের যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই তাদের উপরে উঠতে হলে বলরামের মতই কিছু করতে হবে।

একজন মানুষের নিজের ও পরিবারের প্রতি বিশ্বস্ততা নিয়ে স্নায়বিক চাপ এই বই এবং একই সাথে বলরামেরও মধ্যেও বিদ্যমান। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের চিত্র কি কেবলমাত্র ভারতে পরিদৃশ্যমান অথবা এটাকে কি বৈশ্বিক বলে আপনি মনে করেন?

ভারতে হয়তো এই সংঘর্ষ আরো তীব্র। এখানকার পরিবার কাঠামো অনেক শক্তিশালী — ধরুন আমেরিকার চেয়েই এবং পরিবারের প্রতি বিশ্বস্ততা কার্যত নৈতিক চরিত্রের একটা পরীক্ষাও বটে। (সুতরাং, “আজ সকালে তুমি মায়ের সাথে অসদাচারণ করেছো” এর অর্থ দাঁড়ায় “তুমি ব্যাংক থেকে আজ সকালে অর্থ আত্মসাৎ করেছো”)। তবে ভারতের এই অন্তর্দ্বন্দ্বের কিছু চিত্র সর্বত্র একই।

আপনার এর পরের কাজ কী? আরেকটা উপন্যাস লিখছেন কি?

হ্যাঁ!

kowshik.ahmed@gmail.com

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আশিক — অক্টোবর ১৭, ২০০৮ @ ৯:৫৮ অপরাহ্ন

      ভারতীয়রা ইংরেজী ভাষায় লেখে কেন? এই প্রশ্নটা করে উত্তরটা জানতে পারলে ভাল হতো। লেখক সম্ভবত প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতেন অথবা মিথ্যে উত্তর দিতেন। কারণ তিনি জানেন তাঁর মতো অনেকে ইংরেজিতে সাহিত্যচর্চা করার ফলে ভারতে স্থানীয় ভাষা গরীব হয়ে পড়ছে ও স্থানীয় মানুষজনও শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে যাচ্ছে।

      – আশিক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কৌশিক আহমেদ — অক্টোবর ১৮, ২০০৮ @ ১০:০১ অপরাহ্ন

      “ভারতীয়রা ইংরেজী ভাষায় লেখে কেন?” আপনার এই প্রশ্নটি কি নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর জানে?

      ১. সমস্ত ভারতীয়রা কতটা ভাষায় কথা বলে?
      ২. ক’জন ভারতীয় ইংরেজীতে লিখতে পারে?

      এবং অতপর…

      ১. লেখক সম্ভবত প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতেন অথবা মিথ্যে উত্তর দিতেন।
      ২. কারণ তিনি জানেন তাঁর মতো অনেকে ইংরেজিতে সাহিত্যচর্চা করার ফলে ভারতে স্থানীয় ভাষা গরীব হয়ে পড়ছে ও স্থানীয় মানুষজনও শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে যাচ্ছে।

      এই দুটো বিষয়ে আপনার অভিমতের সাথে আমি ভিন্নমত পোষণ করি। আমার মনে হয়, অরবিন্দ তাঁর নিজস্ব মতামত জানাতেন, যেমন আপনি জানাতে পারলেন। আমি কি বলবো যেমন আপনি বলেছেন “লেখক সম্ভবত প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতেন অথবা মিথ্যে উত্তর দিতেন” এটা আপনার এড়িয়ে যাওয়া বা মিথ্যে উত্তর? আপনার নিজস্ব মতই তো, আমি একটু হাসতে পারি মাত্র, তবে অরবিন্দ হয়তো বলতেন, ডুনট লাফ, দিস ইস রিয়েলিটি!

      আর ২ নং (কারণ তিনি ….শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে যাচ্ছে) বিষয়ে উত্থাপিত আপনার গবেষণার সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে ভারতীয় সরকারের কাছে প্রেরণ করুন; প্রমাণ করতে পারলে আপনি শিক্ষামন্ত্রীটন্ত্রী হয়ে যেতে পারবেন ভারতের।

      – কৌশিক আহমেদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লুনা রুশদী — অক্টোবর ১৯, ২০০৮ @ ১:৪৮ অপরাহ্ন

      ইংরাজিতে কেন ভারতীয়রা লেখেন তার জবাব আদিগা কীভাবে দিতেন যদিও জানি না তবে তাঁর বইয়ে ওয়েন জিয়াবাওকে লেখার শুরুতেই বলরাম লিখেছে, “আপনি বা আমি কেউ ইংরাজিতে কথা বলি না, তবে কিছু কিছু কথা শুধুমাত্র ইংরাজিতেই বলা যায়।”

      – লুনা রুশদী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন mansur aziz — অক্টোবর ২৩, ২০০৮ @ ২:৫০ অপরাহ্ন

      ভাল। একজন তরুণ পুরস্কার পেয়েছে তাও আবার প্রথম উপন্যাসে — এটা বিরাট ব্যাপার। আজকাল ইংরেজিতে পড়ুয়া ছাত্ররা পড়ায় এবং পড়ায়। বাসায় স্কুলে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে। পয়সা কামাই করা ছাড়া তাদের মাথায় আর সাহিত্য থাকে না। অরবিন্দ আদিগা সাহিত্য করছেন এটা বড় কথা। এই যে তিনি বলেছেন — উপন্যাসে গ্রন্থিত সরকারী হাসপাতাল, মদের দোকান ও পতিতালয় — এসবই আমার পরিভ্রমণকৃত ভারতের বিভিন্ন জায়গার বাস্তব চিত্রের উপরে ভিত্তি করে রচিত। উপন্যাসে হৃদয়বৃত্তির বিষয় উঠে আসলে তা পাঠকের হৃদয়ে নাড়া দিতে বাধ্য।

      mansur aziz
      mansuraziz@gmail.com

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com