সাহিত্যে কুম্ভীলকবৃত্তি

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে

রেজাউল করিম সুমন | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৪:১৭ অপরাহ্ন

boi_wakilur.jpg
শিল্পী: ওয়াকিলুর রহমান

অনন্যা থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নানা কারণেই একটি উল্লেখযোগ্য বই। নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে বাংলা ভাষায় খুব বেশি বই নেই; আর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত এ-বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা তো অঙ্গুলিমেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে কোনো লিখিত আলোচনা এখনো পর্যন্ত বেরোয়নি, কিংবা বেরিয়ে থাকলেও আমাদের চোখে পড়েনি।
—————————————————————–
আমরা যে-বইগুলি নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা করলাম এর প্রত্যেকটিই কবীর চৌধুরীর লিখিত অনুমোদন ও প্রশস্তি লাভে সমর্থ হয়েছে। … আমাদের দেশের এই প্রবীণ, খ্যাতিমান ও বহুপ্রজ অনুবাদক কি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের খবর আদৌ রাখেন না? … নিউটনের সঙ্গে যৌথভাবে পাস্তেরনাকের ডাক্তার জিভাগো অনুবাদের কথা ভাবছেন কেন তিনি? … জুলফিকার নিউটনের নকল বইগুলি যে-সব প্রকাশক ছাপছেন … এসব প্রকাশক কি সাহিত্যজগতের কোনো খবরই রাখেন না? না কি এই তস্করের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই এঁরা পাঠক ও ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণায় লিপ্ত হয়েছেন?
—————————————————————–
এই বইয়ের লেখক জুলফিকার নিউটনের অন্য কোনো বই আমি আগে পড়িনি। যদিও তাঁর নামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আমরা পরিচিত। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-একটি দৈনিকের সাময়িকীতে তাঁর লেখা গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হতে দেখা যায়।

শিল্পের নন্দনতত্ত্ব বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে জানা গেল: ‘বাংলা ভাষায় মুষ্টিমেয় যে কজন প্রত্যয়ী লেখক ও গবেষক আছেন, তাদের মধ্যে জুলফিকার zn2.jpg……..
‘অনূদিত’ একটি বইয়ের ব্যাক ফ্ল্যাপে জুলফিকার নিউটন
………
নিউটন অন্যতম। তাঁর লেখার সঙ্গে যারা পরিচিত তারা জানেন আমাদের জীবনযাত্রার, সমাজ ব্যবস্থার, ধ্যান ধারণার, ভাষা এবং সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধন জুলফিকার নিউটনের সাহিত্য চর্চার মূল উদ্দেশ্য।’

এই বইয়ে সংকলিত ‘লেখকের শিল্প সম্পর্কিত এক ডজন প্রবন্ধ’ প্রসঙ্গে ফ্ল্যাপে বলা হয়েছে : ‘তাঁর নিজস্ব চিন্তা, যুক্তি ও সাহিত্য পাঠের অভিজ্ঞতা, রুচি, বিবেক ও বুদ্ধি নির্ভর এই রচনাগুলির অন্তর্লীন গভীরতা যেমন পাঠককে নিয়ত প্রাণিত করে, তেমনই বিস্ময়ের উদ্রেক করে এই বিষয় বৈচিত্র্য। ‘শিল্পের নন্দনতত্ত্ব’ গ্রন্থে নিজস্ব চিন্তা ও মত প্রকাশে জুলফিকার নিউটন কোথাও আপস করেননি।’

কিন্তু শিল্পের নন্দনতত্ত্ব পড়তে গিয়ে প্রবন্ধগুলোর অন্তর্লীন গভীরতা, বিষয়বৈচিত্র্য কিংবা এসব লেখায় লেখকের নিজস্ব চিন্তা ও মতের দ্বিধাহীন প্রকাশের কারণে নয়, আমার বিস্ময় উদ্রিক্ত হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণে। জুলফিকার নিউটনের এই প্রবন্ধগুলো কি ইতিপূর্বে কোনো পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল? অন্তত আমি তো এর আগে সেগুলো পড়িনি। তাহলে কেনই-বা বইয়ের পাতা ওলটাতে গিয়ে জেগে উঠতে শুরু করেছে আমার পূর্বপাঠের স্মৃতি?

নিউটনের বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা প্রায় শ-তিনেক। ৫৫ থেকে ২৭১ পৃষ্ঠা জুড়ে যে-আটটি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে সেগুলি দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের রূপ, রস ও সুন্দর : নন্দনতত্ত্বের ভূমিকা বইটির আটটি অধ্যায়ের অনুক্রমে বিন্যস্ত। প্রথমে নিউটনের বই ও বন্ধনীতে দেবীপ্রসাদের বইয়ের প্রবন্ধ/অধ্যায়গুলির শিরোনামের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। শিল্পীসত্তা ও শিল্পবস্তু (শিল্পীসত্তা, শিল্পবস্তু ও সমাজ), শিল্পের স্বাতন্ত্র্য (শিল্প কি অনুকৃতি, না কি বিকৃতি?), শিল্পের রসবিচার (রস), শিল্পের রূপজিজ্ঞাসা (রূপ), শিল্প প্রকাশ ও শিল্পকর্ম (প্রকাশ অপ্রকাশ ও শিল্পকর্ম), সুন্দর ও অসুন্দর (সুন্দর ও অসুন্দর), শিল্পচৈতন্য নগ্ন ও উলঙ্গ (নগ্ন ও উলঙ্গ), শিল্পচিন্তা ও শিল্পবিচার (শিল্প ও শিল্প-বিচার)। নন্দনতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেবীপ্রসাদের বইটিকে পরবর্তী কোনো লেখক ‘মডেল’ হিসেবে গ্রহণ করতেই পারেন। তবে সেই ঋণটুকুর স্বীকৃতি থাকলে ভালো হতো নিশ্চয়। কিন্তু বই দুটোকে পাশাপাশি রাখলেই আমরা বুঝতে পারব, কেন নিউটন ঋণ স্বীকারের সৌজন্যসম্মত পথে পা বাড়াননি। কারো সর্বস্ব অপহরণের পর ঠগি নিশ্চয় তাকে বলবে না যে, ‘মশাই, আপনার কাছে আমি চিরঋণী রইলুম!’

শিরোনাম সামান্য নেড়েচেড়ে দিয়ে পাঠকের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করলেও মূল লেখা নিউটন বড়ো একটা পালটাননি। তবে দেবীপ্রসাদের লেখার উপশিরোনামগুলি তিনি বর্জন করেছেন, নিজের খেয়াল-খুশিমতো বাদ দিয়েছেন কোনো কোনো অংশ, কখনো অনুচ্ছেদ ভেঙেছেন, কোথাও-বা বাক্যকে খণ্ডিত করে অর্থের বিপর্যয় ঘটিয়েছেন। ‘শিল্পের স্বাতন্ত্র্য’ রচনায় মূল লেখার কয়েকটি অংশের স্থানান্তর ঘটানোয় সবকিছু তালগোল পাকিয়ে গেছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ-কৃত কোনো কোনো লেখকের নাম এদেশীয় পাঠকের কথা মনে রেখে পালটে দিয়ে বিচক্ষণতারও পরিচয় দিয়েছেন নিউটন! যেমন, দেবীপ্রসাদের ‘…তারাশঙ্করের লেখায় বীরভূমের ভূগোল এবং বিভূতিভূষণের লেখায় গ্রাম-বাংলার উদ্ভিদের নির্ভুল পরিচয় পাই’ (২১-২২) পালটে দিয়ে তিনি লিখেছেন : ‘… সৈয়দ শামসুল হকের লেখায় রংপুরের ভূগোল এবং কবি জসিমউদ্দিনের লেখায় গ্রাম-বাঙলার নির্ভুল পরিচয় পাই’ (৭৪)। উপরন্তু দেবীপ্রসাদের বইয়ের তথ্যসূত্র, টীকা ও প্রাসঙ্গিক শিল্পকৃতির ছবি পরিহার করে তিনি নিজের ও প্রকাশকের ভার লাঘব করে নিয়েছেন!

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, রূপ, রস ও সুন্দর : নন্দনতত্ত্বের ভূমিকা এবং লোকায়ত দর্শন-এর লেখক একই ব্যক্তি নন। যদিও তাঁদের নাম ও পদবী হুবহু এক। রূপ, রস ও সুন্দর-এর লেখক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর এই অসামান্য বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮১ সালে। ১৯৮৯ ও ২০০৭ সালে বইটি পুনর্মুদ্রিত হয় যথাক্রমে ঋদ্ধি-ইন্ডিয়া ও নয়া উদ্যোগ থেকে। এর ‘কৃতজ্ঞতা স্বীকার’ অংশে লেখক জানিয়েছেন : ‘এই রচনার মানসিক সূত্রপাত ১৯৬২-৬৩ সালে লন্ডনের ওয়ারবুর্গ ইনস্টিটিউটে গম্ব্রিখের বিশ্লেষণদীপ্ত ও অসাধারণ পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তৃতাশ্রবণে।’ জুলফিকার নিউটনের তখনো জন্মই হয়নি।

নিউটনের শিল্পের নন্দনতত্ত্ব বইয়ে ‘শিল্পের রেনেসাঁস’ নামে একটি প্রবন্ধ আছে। এর সূচনা-বাক্যটি এরকম : ‘অনেকেই হয়তো জানেন না ফরাসি ঐতিহাসিক মিশেলে রেনেসাঁস শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন তাঁর ‘ফ্রান্সের ইতিহাস’ গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডে (১৮৫৫)।’ এই তথ্যটা কি স্বয়ং প্রাবন্ধিকও জানতে পারতেন অমলেশ ত্রিপাঠীর ইতালীর র‌্যনেশাঁস ও বাঙালীর সংস্কৃতি (আনন্দ, ১৯৯৪) গ্রন্থটি তাঁর হস্তগত না হলে? ওই গ্রন্থভুক্ত ‘ইতালীর র‌্যনেশাঁস’ (১১-৩১) প্রবন্ধটিই নিউটনের বইয়ে ‘শিল্পের রেনেসাঁস’ নাম ধারণ করেছে। কেবল ত্রিপাঠীর ‘র‌্যনেশাঁস’কে নিউটন ‘রেনেসাঁস’ করে নিয়েছেন, যেরকম দেবীপ্রসাদের ‘প্লাতো’কে করে নিয়েছেন ‘প্লেটো’। সেই সঙ্গে প্রবন্ধের প্রথম অনুচ্ছেদ থেকেই যুক্ত হয়েছে মুদ্রাকর প্রমাদ।

‘শিল্পের নন্দনতত্ত্ব’, ‘আর্টের জন্য আর্ট’ ও ‘রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা’ নামে নিউটনের আরো তিনটি প্রবন্ধ রয়েছে বইটিতে। তাদের সুনির্দিষ্ট উৎসের সন্ধান আমার জানা নেই, যদিও ওই লেখাগুলোর গদ্যশৈলী বেশ পরিচিত।

শিল্পের নন্দনতত্ত্ব বইয়ের উৎসর্গপত্রটিও সবিশেষ উল্লেখযোগ্য :

‘উৎসর্গ / অধ্যাপক আনিসুজ্জামান / শ্রদ্ধাস্পদেষু / সময়টা সুবিধের নয় / কিছু না করে / যে পারে সেই হাতিয়ে নিচ্ছে / যারা কথা বলতে জানে না / তারা ভাষণ দেয় / যারা কোন কথা কানে তোলে না / তারা শোনে / যারা দেখতেই পায় না / তারা দেয়াল লেখে।’

এ বছরই প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত উপন্যাসের জুলফিকার নিউটন-কৃত বঙ্গানুবাদ। এসব বইয়ের কোনো কোনোটির ভূমিকা লিখে দিয়েছেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। রোদেলা প্রকাশনীর মবি ডিক-এ তাঁর ভূমিকা পড়তে গিয়ে বুঝতে পারি যে, এরই অংশবিশেষ ব্যবহৃত হয়েছে শিল্পের নন্দনতত্ত্ব বইয়ের ফ্ল্যাপে। এই ভূমিকা থেকেই জানতে পারি :

‘জুলফিকার নিউটন একাধারে লেখক, গবেষক এবং অনুবাদক। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সাড়া জাগানো কিশোর উপন্যাস ‘ইলাডিং বিলাডিং’ এবং প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘শিল্পের নন্দনতত্ত্ব’। তারপর থেকে তিনি নিরলসভাবে লিখে যেতে থাকেন যা আমাদের সাহিত্যের বিভিন্ন শাখাকে সমৃদ্ধ করেছে।’

শিল্পের নন্দনতত্ত্ব কি তাহলে এর আগেও প্রকাশিত হয়েছিল?
মবি ডিক-এর অনুবাদ প্রসঙ্গে কবীর চৌধুরী লিখেছেন :

‘জুলফিকার নিউটনের মেলভিলের ‘মবি ডিক’ উপন্যাসের অনুবাদ সাবলীল উপভোগ্য, উচ্চ প্রশংসার দাবিদার। … হারমান মেলভিলের চিরায়ত উপন্যাস ‘মবি ডিকে’র জুলফিকার নিউটনকৃত সাবলীল বাংলা অনুবাদ পাঠক মহলে সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস। অনুবাদ তাঁর পূর্ব প্রতিষ্ঠাকে অধিকতর সংহত ও উজ্জ্বল করবে।’

প্রবীণ বহুপ্রজ অনুবাদকের এই শুভকামনা সত্ত্বেও অমনটা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই! ২০০৫ সালে কলকাতার প্যাপিরাস থেকে মুদ্রিত গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য অনূদিত মবি ডিক হাতে নিলেই আরো একবার চমকে উঠতে হবে সবাইকে। ওই অনুবাদটি প্রথম ছাপা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। চার দশক পরে মবি ডিক-এর হুবহু একই অনুবাদ করেছেন জুলফিকার নিউটন! অবশ্য যথারীতি পালটেও নিয়েছেন দু-চারটা শব্দ।

মবি ডিক-এর সঙ্গে ওই একই প্রকাশনী থেকেই বেরিয়েছে জুলফিকার নিউটনের আরেকটি অনুবাদ — ‘স্ত্যাঁদাল’-এর উপন্যাস দি রেড এন্ড দি ব্ল্যাক। ওই ফরাসি লেখক অবশ্য ‘স্তাঁদাল’ হিসেবেই আমাদের কাছে সুপরিচিত। মূল ফরাসি উচ্চারণের আরো কাছাকাছি যেতে চাইলে সম্ভবত লেখা উচিত ‘স্তঁদাল’। সে যাই হোক, এ বইয়ের ভূমিকাও কবীর চৌধুরীর লেখা। এর শেষ অনুচ্ছেদে তিনি লিখেছেন : ‘স্ত্যাঁদালের কালজয়ী উপন্যাস ‘দি রেড এ্যান্ড দি ব্ল্যাক’-এর অনুবাদ জুলফিকার নিউটনের সাহিত্যিক খ্যাতিকে বিশ্লেতিত [?] করবে। অবশ্য বয়সে প্রৌঢ় হয়েও তিনি ইতিমধ্যে আমাদেও সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। স্ত্যাঁদালের কালজয়ী উপন্যাসটি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে রোদেলা প্রকাশনীর কর্ণধার রিয়াজ খান যে সাহস ও দূরদৃষ্টির পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

এই উপন্যাসটি ইতিপূর্বে কি বাংলায় অনূদিত হয়েছিল? ভূমিকা-লেখক সে-প্রসঙ্গে কিছু জানাননি। ২০০০ সালে সাহিত্য অকাদেমি (কলকাতা) থেকে প্রকাশিত লাল এবং কালো বাংলাদেশেও পাওয়া যায়। মূল ফরাসি থেকে উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসি সাহিত্যের অধ্যাপক পূর্ণিমা রায়। সে-বইটির আদ্যোপান্ত জুলফিকার নিউটনের অনুবাদ হিসেবে ছেপে প্রকাশক মহোদয় সত্যিই ‘সাহস’-এর পরিচয় দিয়েছেন! না, ‘আদ্যোপান্ত’ বলাটা অবশ্য ঠিক হলো না। কারণ বইয়ের শুরুতে ‘প্রকাশকের বিজ্ঞপ্তি’, সবশেষে ‘স্তাঁদালের পাদটীকা’ এবং দুই খণ্ডের সূচনায় ও প্রায় সব পরিচ্ছেদের শিরোনামের নিচে উদ্ধৃত মহান লেখকদের বাণীগুলিকে নিউটন বিনা নোটিসে ছাঁটাই করে দিয়েছেন। বইয়ের ফর্মা-সংখ্যা কমাতে গিয়ে মূল উপন্যাসের অঙ্গহানি করা যেতে পারে বই-কী! সে-কারণেই বাদ পড়েছে বাংলাভাষী পাঠকের সুবিধার্থে সংযোজিত আঠারো পৃষ্ঠার ‘সংক্ষিপ্ত শব্দকোষ’ও।

নিউটন তাঁর এই ‘অনুবাদগ্রন্থ’ উৎসর্গ করেছেন তিতাশ চৌধুরীকে। উৎসর্গপত্রে তিনি একটি কবিতাও লিখেছেন। আসলে, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সত্য সেলুকাস (১৯৯৫) গ্রন্থভুক্ত ‘থাকা মানে’ কবিতাটির শরীরে তিনি প্রথমে যথেচ্ছ ছুরি-কাঁচি চালিয়েছেন, তারপর সেটাকে ‘আপন করে নিয়েছেন’। আগ্রহী পাঠক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা (দে’জ পাবলিশিং, ২০০৩) গ্রন্থের ২১৬ পৃষ্ঠায় মূল কবিতাটির সন্ধান পাবেন।

জুলফিকার নিউটন অনূদিত মার্কেজের শ্রেষ্ঠ গল্প প্রকাশিত হয়েছে অন্বেষা প্রকাশন থেকে, ২০০৭-এর ঢাকা বইমেলায়। এই বইটিরও ভূমিকা কবীর চৌধুরীরই লেখা। এই ভূমিকায় মার্কেসের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনার পর শেষ দুই অনুচ্ছেদে তিনি লিখেছেন :

‘এখানে জুলফিকার নিউটনের বাংলা অনুবাদে প্রকাশিত হল মার্কেজের চল্লিশটি গল্প। জুলফিকার নিউটন প্রগাঢ় যত্নের সঙ্গে বৌদ্ধিক প্রণোদনাকে হৃদয়বত্তার সঙ্গে মিলিয়ে গল্পগুলি অনুবাদ করেছেন। তিনি ইতোপূর্বে একাধিক রচনায় অনুবাদক হিসেবে তার দক্ষতার নির্ভুল প্রমাণ রেখেছেন। বর্তমান গ্রন্থেও পাঠক তার পরিচয় পাবেন।

‘মার্কেজের কয়েকটি উপন্যাসের অনুবাদ আমরা পেয়েছি কিন্তু গল্পাবলীর কোনো অনুবাদগ্রন্থ এখনো প্রকাশিত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। জুলফিকার নিউটনকে তার এই উদ্যোগের জন্য আমি অভিনন্দন জানাই।’

এই শেষ অনুচ্ছেদটি পড়ার পর আমরা নতুন করে ধন্দে পড়ে যেতে বাধ্য। আলী আহমেদ, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, তরুণ ঘটক, সুরেশরঞ্জন বসাক প্রমুখের অনুবাদে মার্কেসের গল্পের বহুল-পঠিত সংকলনগুলি কি আদৌ কবীর চৌধুরীর চোখে পড়েনি?

অমিতাভ রায়ের অনুবাদে গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস্-এর গল্পসমগ্র প্রকাশিত হয়েছে দে’জ পাবলিশিং থেকে, ২০০৬ সালে। ওই বইয়ের ভূমিকায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছেন :

‘দিল্লি প্রবাসী এই লেখক [অমিতাভ রায়] অনেক দিন ধরেই মার্কেস অনুবাদে প্রবৃত্ত রয়েছেন। আগেও তাঁর অনুবাদে মার্কেসের বাংলা গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। এবারে গল্পসমগ্র। তাঁর অনুবাদ সাবলীল এবং সরস-পাঠ্য।…’

এই বইটিও নিশ্চয়ই অধ্যাপক চৌধুরীর চোখে পড়েনি। তবে জুলফিকার নিউটন বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের খোঁজ ভালোই রাখেন; অমিতাভ রায় অনূদিত মার্কেসের গল্পসমগ্র-ও তিনি বিলক্ষণ সংগ্রহ করেছেন। মার্কেজের শ্রেষ্ঠ গল্প বইয়ের অনুবাদক হিসেবে তাঁর পক্ষে ওইসব গল্পের অন্য অনুবাদে চোখ বোলানোর আগ্রহ তো স্বাভাবিক।

দুটি বই পাশাপাশি রাখলে দেখা যাবে, নিউটন অমিতাভ রায়ের চেয়ে অন্তত দুটি ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন। প্রথমত, নিউটনের বইয়ে একটি গল্প বেশি আছে; দ্বিতীয়ত, বোকার মতো ‘অনেক দিন ধরেই মার্কেস অনুবাদে প্রবৃত্ত’ না থেকে অমিতাভের অনুবাদগুলিই নিউটন নির্দ্বিধায় আত্মসাৎ করেছেন!

তবে কুম্ভীলকপ্রবরের জালিয়াতি এখানেই থেমে থাকেনি। তিনি গল্পগুলিকে ক্রমানুসারে না সাজিয়ে ইচ্ছেমতো আগে-পরে করেছেন, এমনকী কয়েকটি গল্পের নামও পালটে দিয়েছেন। ‘সুপ্ত সুন্দরী ও বিমান’-কে করেছেন ‘সবুজ সুন্দরী’, ‘ইভা রয়েছে নিজের বিড়ালের ভেতরে’-কে ‘ইভার ইতিকথা’, ‘সেন্ট’-কে ‘সেন্টের স্বীকৃতি’, ‘কর্নেলকে একজনও লেখে না’-কে ‘নিঃসঙ্গ নায়ক’, ‘বেচারী এরেনদিরা ও তার নির্দয় ঠাকুমার অবিশ্বাস্য করুণ কাহিনী’-কে ‘রোদন রূপসী’ ইত্যাদি। শেষোক্ত গল্পটার ক্ষেত্রে অবশ্য কেবল নাম পালটানোই যথেষ্ট মনে করেননি, গল্পের প্রথম বাক্যেই অমিতাভর ‘ঠাকুমা’-কে নিউটন করে নিয়েছেন ‘দাদী’ — সহজবোধ্য কারণেই।

জুলফিকার নিউটন এই বইটি উৎসর্গ করেছেন সৈয়দ শামসুল হককে। উৎসর্গপত্রে একটি পদ্যও জুড়ে দিয়েছেন, যার শেষ পঙ্ক্তি হলো : ‘সৈয়দ হক হাত বুলিয়ে দিলেন আমার মাথায়।’ এত কাণ্ডের পরও কি নিউটনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেবেন কেউ? কোনো ভদ্রলোক?


আমরা যে-বইগুলি নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা করলাম এর প্রত্যেকটিই কবীর চৌধুরীর লিখিত অনুমোদন ও প্রশস্তি লাভে সমর্থ হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অধ্যাপক চৌধুরী সে-সব ভূমিকায় বাংলা সাহিত্যে নিউটনের অবদান নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং ‘নির্ভুলভাবে লক্ষ’ করেছেন ‘তাঁর জিজ্ঞাসু মন এবং বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীলতা’।

আমাদের দেশের এই প্রবীণ, খ্যাতিমান ও বহুপ্রজ অনুবাদক কি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের খবর আদৌ রাখেন না? অন্তত নিউটনের বইগুলির ভূমিকা পড়ে তো যে-কেউই সেরকমই মনে করবেন। নিউটনের সঙ্গে যৌথভাবে পাস্তেরনাকের ডাক্তার জিভাগো অনুবাদের কথা ভাবছেন কেন তিনি?

জুলফিকার নিউটনের নকল বইগুলি যে-সব প্রকাশক ছাপছেন, তাঁদের কাছ থেকে কি নিউটন লেখক/অনুবাদক হিসেবে সম্মানী পাচ্ছেন? এসব প্রকাশক কি সাহিত্যজগতের কোনো খবরই রাখেন না? না কি এই তস্করের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই এঁরা পাঠক ও ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণায় লিপ্ত হয়েছেন?

প্রতিক্রিয়া (35) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুমন রহমান — সেপ্টেম্বর ১৮, ২০০৮ @ ৫:৪২ অপরাহ্ন

      জুলফিকার নিউটন নামটি আমার চেনা। কর্মসূত্রে আমি একদা দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজে ছিলাম। একদিন আমার বাংলা বিভাগের কলিগ কলেজের বার্ষিক স্মরণিকাটি আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমি উল্টে পাল্টে দেখলাম সব লেখাই দেবিদ্বার কলেজের ছাত্র-শিক্ষক-এলামনাইদের, কিন্তু একটি কবিতা অমিয় চক্রবর্তীর! সেখানে লেখক হিসেবে নাম ছাপা হয়েছে জনৈক জুলফিকার নিউটনের।

      দুঃখ পেলাম, তবে সেটা নিউটনের চৌর্যবৃত্তি দেখে যতটা, তারচে বেশি আমার বাংলা সাহিত্যের কলিগের জানাশুনার মর্মান্তিক হাল দেখে।

      যতদূর বুঝি, জুলফিকার নিউটন এই লাইনে কামেল লোক। প্রফেশনালও বটেন, নইলে ধারাবাহিকতার সাথে বছরের পর বছর এইভাবে চুরিচামারি করে যেতে পারতেন না। আর যারা ওঁকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন তাঁরা যে কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য তাঁরা ভদ্রলোক, এই ধরনের জিনিস যে কেউ করতে পারে সেটি হয়ত ঘূণাক্ষরেও ভাবেন নি। আর সেই সুযোগটিই নিয়েছেন নিউটন।

      বাংলা অনুবাদ প্রকাশনার বাজারে এখন যে ধরনের জুলফিকার নিউটন-সিনড্রোম চলছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী?

      সুমন রহমান
      ১৮/৯/৮

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিবলী নোমান — সেপ্টেম্বর ১৮, ২০০৮ @ ৮:২২ অপরাহ্ন

      রাজশাহীতে বইয়ের দোকান এমনিতেই হাতেগোনা। দু’টি দোকান থেকে নিয়মিত কিছু বইপত্তর পাওয়া যায়। মাস ছয়েক আগে সোনাদিঘি মোড়ের এক দোকান থেকে মার্কেজের গল্পের অনুবাদ দেখে আগ্রহী হয়ে কিনলাম। অনুবাদক দেখলাম জুলফিকার নিউটন। বইয়ের ছিরিছাঁদ দেখে সন্তুষ্ট হয়েই বগলদাবা করে ঘরে নিলাম। কিন্তু পাঠে পদে পদে যখন হোঁচট খেতে থাকলাম, তখন রাগে সমস্ত শরীর জ্বালা করতে থাকে। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অনুবাদক হন কীভাবে। পরে হাসান আজিজুল হক কলকাতায় গিয়ে অমিতাভ অনূদিত মার্কেজের গল্প সংকলন আনার পর তা দেখলাম। রীতিমতো শিউরে উঠলাম! জুলফিকার নিউটনের অনুবাদে গল্পের মাঝখানে অনেক প্যারা রীতিমতো বেমালুম গায়েব করে দেয়া হয়েছে। আসলে এটা পাঠকদের সঙ্গে প্রতারণা। অনুবাদকদের এক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ওই বই আমার পক্ষে পাঠযোগ্য না হওয়াতেই আমি সিদ্ধান্ত নিই, জুলফিকার নিউটনের অনুবাদ আমি আর আমার ঘরে তুলবো না।

      – শিবলী নোমান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইমতিয়ার — সেপ্টেম্বর ১৯, ২০০৮ @ ১:১৫ পূর্বাহ্ন

      আমি রীতিমতো হতভম্ব এই আলোচনা পড়ার পর। কী লিখব তাও ভেবে পাচ্ছি না!

      দাঁড়ান, একটু সামলে উঠি, তারপর না হয় সময় হলে আবার মন্তব্য করা যাবে। আপাতত এই বলি, এসব ঘটনার মধ্যে দিয়ে যেমন এক প্রজন্মের লাফ দিয়ে গাছে চড়ার দৈন্য ফুটে উঠেছে ঠিক তেমনি ধরা পড়েছে পূর্বপ্রজন্মের দায়দায়িত্বহীনতা।

      – ইমতিয়ার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহাবুবুর রাহমান — সেপ্টেম্বর ১৯, ২০০৮ @ ৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

      এবং রাত ৩.৩০-এ যখনই ঘুমাতে যাব — (আমাদের) কুম্ভীলককে চোখে পড়ল! পড়লাম এবং যুগপৎ বারবার হাসলাম (আনন্দে না কষ্টে তা বুঝতে পারলাম না)। আমাদের চৌধুরী জাতীয় বুদ্ধিজীবীরা শেষ কবে গাঁটের পয়সা খরচ করে বই কিনেছেন এবং মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন, তা তাঁরা নিজেরাও বলতে পারবেন না। এখানে ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে বিষোদাগার করছি না — বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার সুবাদে তাঁদের বয়সী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপকদের সম্পর্কে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা জন্মেছে তাঁর প্রেক্ষিতেই বলছি। হ্যাঁ আমরা জানি, এ বয়সে না পড়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সাহিত্যকে পুঁজি করে সামাজিক সুবিধা নেয়া, দলবাজি করা, সার্টিফিকেট দেয়া — এসবের বেলায় তো বয়স কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না!

      সার্টিফিকেট দিছে ভালো কথা, অক্ষণ দয়া করে শ্রদ্ধেয় স্যারকে আপনারা একটু বলেন, জুলফিকার নিউটনরে কুম্ভীলকবৃত্তিতে একটা সাহিত্যপুরস্কার দিতে। তাঁদের সেই ক্ষ্যামতা আছে। ভাইরে, নাহয় একটু অপ্রাসঙ্গিক ক্ষোভই প্রকাশ করলাম — এই চৌধুরীরা যে আমাদের শিল্পসাহিত্যের কত বড় ক্ষতি করেছে, ইতিহাস ধরে টান দ্যান — এখনো আমাদের কবি-সাহিত্যিকরা (সংখ্যাগুরুর কথা বলছি) তৃতীয়শ্রেণীর-দলীয় আনুগত্য, মেরুদণ্ডহীনতা ছাইড়া — মেরুদণ্ড সোজা কইরা উইঠ্যা দাঁড়াইত পারল না। যারা মেরুদণ্ড ব্যাঁকা করে নাই, তাগো আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দণ্ড ভোগ করন নাগছে। আর হ্যাঁ ইমতিয়ারকে (ইমতিয়ার শামীম?) বলছি, এসব আগাছা — না, পরগাছা; আগাছা তো তাও মাটিতে জন্মে — উদাহরণ হিসেবে টেনে একটি প্রজন্মকে ছোট করেছেন এবং পরগাছাটিকে বড় করেছেন। প্রত্যেক প্রজন্মেই কি কিছু ত্যাগী, অধ্যবসায়ী লোক থাকেন না? সুতরাং নির্বিশেষ মন্তব্য যতটা সম্ভব না করাই ভালো। আরেকটি কথা যেকোনো সার্টিফিকেটকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহের চোখে দেখি। কেননা আমি জানি, এবং এ আমার স্থির বিশ্বাস — প্রকৃতি মেধাবীরা সার্টিফিকেটের তরে কারো দুয়ারে ধর্না দেয়া তো দূরের কথা, ধারও ধারেন না। সবশেষে রেজাউল করিম সুমন এবং আর্টসকে ধন্যবাদ না-জানালে — অনেস্টলি বলছি — নিজের কাছেই অকৃতজ্ঞ রয়ে যাব যে!

      – মাহাবুবুর রাহমান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তপন বাগচী — সেপ্টেম্বর ১৯, ২০০৮ @ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

      গতকাল আমি ঢাকা গেজেটিয়ার ঘাঁটছিলাম। ঢাকা শহরের প্রাচীন মন্দির ও দুর্গাপূজা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ লেখার তথ্য খোঁজার জন্য বইটি যোগাড় করেছি। সাপ্তাহিক ২০০০-এর সম্পাদক মঈনুল আহসান সাবের ভাইয়ের অ্যাসাইনমেন্ট। প্রত্নতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মন্দিরের ইতিহাস খুঁজতে চেষ্টা করছি। পড়ার সুবিধার জন্য ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত বাংলা সংস্করণ ব্যবহার করছি। কিন্তু পড়ে দেখি আমার জানা ইতিহাসের সঙ্গে যেন হুবহু মিল। নতুন তথ্য মনে হচ্ছে না। কৌতূহলী হয়ে ড. রতনলাল চক্রবর্তীর বাংলাদেশের মন্দির বইটি মেলে ধরি। হায়! রতনলালের বইয়ের শব্দ-বাক্য-যতিচিহ্ন পর্যন্ত এক! এ কী করে হয়। বইটি ১৯৮৭ সালের। তাই ধরে নেয়া যায় যে রতনলালের বইয়ের তথ্যই গেজেটিয়ারে চুরি করা হয়েছে! চুরি বলছি এই কারণে যে, রতনলালের বইটির নামগন্ধও নেই ওই অধ্যায়ে। এই অধ্যায়ের লেখক হিসেবে নাম ছাপা হয়েছে মিজানুর রহমান চৌধুরীর। পরিচয় দেয়া হয়েছে সরকারি কলেজের প্রভাষক হিসেবে। ১৯৯৩ সালে প্রভাষক হলে এখন হয়তো তিনি সরকারি কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন! গেজেটিয়ারেও চুরির মাল ছাপা হয় — এই ভেবে আমি অবাক হয়েছি! গেজেটিয়ার হলো সরকারি তথ্যের আকর। সেই আকরেও দেখছি কাঁকর। সরকারি পর্যায়ে এই কুম্ভীলকবৃত্তি চলে, অন্যদের কথা আর কী বলব!

      আর্টস এই ধরনের লেখা আরো প্রকাশ করলে জাতির কিছুটা উপকার হতে পারে!

      – তপন বাগচী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনিন্দ্য রহমান — সেপ্টেম্বর ১৯, ২০০৮ @ ২:২৯ অপরাহ্ন

      কী ভয়াবহ। পাঠকদের আইনের আশ্রয় নেয়ার কোনো উপায় আছে কি?

      – অনিন্দ্য রহমান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুজিব মেহদী — সেপ্টেম্বর ২০, ২০০৮ @ ১২:২২ পূর্বাহ্ন

      কবীর চৌধুরীরা এভাবে সার্টিফিকেট দিয়ে যেতে থাকলে জুলফিকার নিউটনরা চুরিচামারিতে কখনোই উৎসাহ হারাবে বলে তো মনে হয় না। ফ্ল্যাপ-সাহিত্যে খ্যাতিমান এরকম আরো কয়েকজন বড় লেখক আছেন আমাদের, যাঁরা টেক্সট না পড়েই অজস্র ইতিবাচক বিশেষণ-সম্বলিত ফ্ল্যাপে সাক্ষর দিয়ে দেন। এভাবে যে সাহিত্যে দূষণ ছড়ায়, এ প্রয়োজনীয় সচেতনতাটা তাঁদের নেই কেন তা ভেবে আমি কিছুটা বিস্মিতই হই।

      অনেক রাবিশ কবিতার বইয়ে কবি শামসুর রাহমানের স্বাক্ষরযুক্ত ফ্ল্যাপ দেখে আমার খুবই মন খারাপ হতো। পরে শুনেছি, ফ্ল্যাপের প্রশ্নে তাঁর কাছ থেকে কোনো কবিযশোপ্রার্থীরই কখনো বিমুখ হতে হয় নি। এ দিয়ে তিনি নাকি নতুন লিখিয়েদের উৎসাহ দিতেন।

      এসব বিষয় থাক। আমরা বরং নিউটনের চুরিচামারি প্রতিহত করতে একটা জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আগামী বইমেলায় এই মর্মে একটা প্রচারণা চালালে কেমন হয় যে, জুলফিকার নিউটন একটা সেয়ানা চোর, তার নামে প্রকাশিত কোনো বই কেউ প্রদর্শন করবেন না, বিক্রি করবেন না ও কিনবেন না?

      – মুজিব মেহদী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরিফ জেবতিক — সেপ্টেম্বর ২০, ২০০৮ @ ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

      বাংলা ভূইঁফোড় প্রকাশকদের এই উৎপাত দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এখানে নিউটন সাহেব একা নন, কেঁচো খুঁজতে গেলে আরো অনেক সাপই বের হয়ে আসবে। পুরো বিষয়টি প্রকাশকদের জালিয়াতি।

      ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলি। আমি পেটের দায়ে কিছু সাপ্লাইয়ের বই লিখে দিয়েছিলাম এক সময়।

      একবার আমার কাছে একজন এলেন একটা সাপ্লাইয়ের বই “লিখে দিতে”। (সাপ্লাইয়ের বই মানে হচ্ছে সরকার কর্তৃক কিনে নেয়া হয় এমন বই, যে বই বিভিন্ন স্কুল লাইব্রেরিতে পোকাদের খাদ্য হিসেবে দেয়া হয়, কারণ বাংলাদেশের কোনো স্কুলেই লাইব্রেরিয়ান পদটি রাখা হয় নি, ওটা অনেক আগেই তুলে দেয়া হয়েছে।)

      সেই প্রকাশক অফার নিয়ে এলেন যে বইটি হবে সাহিত্যের নোবেল বিজয়ীদের জীবনী এবং লেখার উপর কিছুটা আলোচনা। আমি জানালাম যে নোবেল বিজয়ীদের সবার লেখা আমি পড়িনি, পড়া সম্ভবও নয়।

      তিনি হেসে বললেন, ব্যাপার না, আমার কাছে একটা ভারতীয় পত্রিকা আছে, যেটিতে সিরিজ আকারে লেখা বেরিয়েছে। সব জোগাড় করেছি। এখন শুধু গত কয়েকবছরের লেখকদের তথ্য দরকার। কারণ পত্রিকাটি কয়েকবছরের পুরোনো, নতুনদের তথ্য সেখানে নেই।

      এই হচ্ছে অবস্থা। আমি না “লিখলেও” সেই বই একজন লিখে দিয়েছেন, বইটি প্রকাশিত হয়ে সাপ্লাইয়ের রসদও জুগিয়েছে এবং তথাকথিত সম্পাদক মহোদয় আবার ভূমিকাতে “বিশেষ সাহায্যের” জন্য আমার কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

      – আরিফ জেবতিক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পার্থ সরকার — সেপ্টেম্বর ২০, ২০০৮ @ ২:২৩ অপরাহ্ন

      সংখ্যাবিচারে বাংলাদেশে প্রকাশকরা এক বিরল প্রাণীতে পরিণত হচ্ছেন। এখন যে কেউ বা যারা বিজ্ঞাপন দিয়ে বা ধরাধরি করে লেখক বাগিয়ে টাকা নিয়ে বই ছেপে দেয় তাদেরকেই আমরা “প্রকাশক” নামে আখ্যায়িত করছি। টেন্ডার দেয়ার মত একটা রেট দেয়া হল, লেখক টাকা দিলেন তার কিছু প্রকাশকের লাভ, ঐ বই মেলা আলো করে প্রদর্শিত হতে থাকল মাসজুড়ে, যে কেউ লেখক তকমা পেয়ে গেল। আর কেউ কেউ পেল প্রকাশক তকমা। এই অবস্থায় জুলফিকারদের ঠেকানোর পথ কী?

      জুলফিকার নিউটন যা করেছেন তা অপরাধ। তার সহযোগী হলেন কবীর চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট প্রকাশক। শুধু মেলায় নয়, সাহিত্য অঙ্গনেই জুলফিকারকে অবাঞ্ছিত করা প্রয়োজন আমাদের সাহিত্য চৌর্যবৃত্তির কলঙ্ক থেকে মুক্ত রাখার জন্য, কবীর চৌধুরী ও প্রকাশকদেরও সতর্ক করে দেয়া প্রয়োজন একই কারণে।

      আমি জেনে শিউরে উঠছি মানবেন্দ্রের করা “কর্ণেলকে কেউ চিঠি লেখে না” জুলফিকার ফন্দিফিকির করে নিজের অনুবাদ বলে চালিয়ে দিয়েছেন। এই খবর মানবেন্দ্রের কানে গেলে কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত হলে আমাদের দেশে যারা কঠোর পরিশ্রম করে বিশ্বসাহিত্যের সেরা কাজগুলো অনুবাদ করছেন তাদের দিকেও কেউ বাঁকা চোখে তাকাবে কিনা সন্দেহ জাগে।

      – পার্থ সরকার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুমন রহমান — সেপ্টেম্বর ২১, ২০০৮ @ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

      আমার মনে হয় জুলফিকার তথা এই জাতীয় ভণ্ড অনুবাদকদের বিষয়টা একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনরূপে মুদ্রিত দৈনিকে আসতে পারে। এখানে যারা মন্তব্য করেছেন তাদের সবাই এই মর্মে একমত যে, এটি অপরাধ এবং এই অপরাধের দায় শুধু জুলফিকার নিউটনের নয়, তার প্রকাশকের এবং তাকে যিনি সার্টিফাই করেছেন সেই ফ্ল্যাপলেখক বুদ্ধিজীবীর। পুরো বিষয়টি আসলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভালোমত তুলে আনা সম্ভব, সেই সাথে এর যথাবিহিত ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দোরগোড়া পর্যন্ত বিষয়টিকে এভাবে পৌঁছে দেয়াও সম্ভব।

      অসাধু অনুবাদক, মূর্খ/অসাধু/বেপরোয়া প্রকাশক, এবং ফ্ল্যাপ রচয়িতা বুদ্ধিজীবীদের এই পাপচক্র ছিন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। আশা করছি কোনো সাংবাদিক এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি সম্পন্ন করবেন। আগাম ধন্যবাদ রইল তার প্রতি।

      সুমন রহমান
      ঢাকা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইমতিয়ার — সেপ্টেম্বর ২১, ২০০৮ @ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

      মাহাবুবুর রাহমানের প্রতি :
      ”আর হ্যাঁ ইমতিয়ারকে (ইমতিয়ার শামীম?) বলছি, এসব আগাছা — না, পরগাছা; আগাছা তো তাও মাটিতে জন্মে — উদাহরণ হিসেবে টেনে একটি প্রজন্মকে ছোট করেছেন এবং পরগাছাটিকে বড় করেছেন। প্রত্যেক প্রজন্মেই কি কিছু ত্যাগী, অধ্যবসায়ী লোক থাকেন না? সুতরাং নির্বিশেষ মন্তব্য যতটা সম্ভব না করাই ভালো।”

      আমি কোনও নির্বিশেষ মন্তব্য করতে চাইনি এবং নিশ্চয়ই প্রতিটি প্রজন্মেই ত্যাগী, অধ্যবসায়ী আছেন। তবে যে দু’জনকে নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে, (এবং সে আলোচনার সূত্রপাত আমি করিনি), তারা দু’জন দু’প্রজন্মের, আমার মন্তব্যটি সেই নিরিখেই করা। এতে যদি অন্য কিছু বোঝার অবকাশ থাকে, তা হলে সে জন্য দুঃখিত।

      – ইমতিয়ার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জিয়া হাশান — সেপ্টেম্বর ২১, ২০০৮ @ ১:১৯ অপরাহ্ন

      সুমন রহমান জুলফিকার নিউটনদের চৌর্যবৃত্তি সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য সাংবাদিকদের প্রতি যে আহবান জানিয়েছেন তা ইতিবাচক। তবে নিউটনদের যারা গুরু তাদের অপকর্মের ব্যাপারে প্রতিবেদন হওয়া দরকার আগে। তার এক গুরু সম্পর্কে আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে।

      এক সময়ে বহুল প্রচারিত এবং অধুনা আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় তখন আমি কাজ করি। তার মালিক-সম্পাদক পার্শ্ববর্তী একটি দেশ ঘুরে এসে একটি ভ্রমণ কাহিনী লেখেন। তার ইংরেজি অনুবাদক হিসেবে একজন অধ্যাপকের নাম ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হয়। কিন্তু যখন পাণ্ডুলিপি আসা শুরু করল তখন দেখা গেল তার হাতের লেখা ঐ অধ্যাপকের নয়। (তখন কম্পিউটারে কম্পোজের ততো সমৃদ্ধি হয়নি) বরং কাটাকুটির জায়গাগুলোতে অধ্যাপকের হাতের লেখা জ্বলজ্বল করে আছে। কিন্তু বইটি যখন প্রকাশিত হয় তখন অনুবাদক হিসেবে যথারীতি অধ্যাপকের নাম ছাপা হয়। এজন্য তাকে প্রচুর অর্থের যোগান দিতে হয়েছে বলে অফিসের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাদের মুখে শুনেছি।

      আমরা যারা তখন ঐ পত্রিকায় কাজ করেছি তারা সবাই এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু যেহেতু কোনো প্রমাণপত্র আমার হাতে নেই তাই কারো নাম উল্লেখ করলাম না। তবে কোনো পরিশ্রমী অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের পক্ষে প্রমাণপত্র সংগ্রহ করে তা প্রকাশ করা কষ্টসাধ্য নয় নিশ্চয়ই ।

      – জিয়া হাশান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোস্তাফিজ রিপন — সেপ্টেম্বর ২১, ২০০৮ @ ৯:৪৫ অপরাহ্ন

      ভাবতে অবাক লাগছে, কবীর চৌধুরী দীর্ঘকাল ইংরেজী সাহিত্যে শিক্ষকতা করেও তাঁর পাঠদানকৃত বিষয়ের বাংলা অনুবাদকর্মের খোঁজ রাখেন না।

      পত্রিকার পাতায় জুলফিকার নিউটনের লেখা আমি পড়েছি। আমার বিরক্ত লাগছে এই জেনে যে, চৌর্যবৃত্তিতে আসক্ত একজনের লেখা আমি মনোযোগ দিয়ে পাঠ করেছি এতদিন।

      – মোস্তাফিজ রিপন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জি এইচ হাবীব — সেপ্টেম্বর ২২, ২০০৮ @ ৩:৪৩ অপরাহ্ন

      লাটভীয় এক সাহিত্যিক আছেন, নাম মারিস রাঙ্গুলিস (জন্ম. ১৯৫০)। টিনএজারদের জন্যে অসংখ্য গল্প লিখে বিখ্যাত হয়েছেন তিনি। ‘ফ্রীডা মিটবল’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত (২০০০ খ্রি.) তাঁর একটি বড়গল্পে তিনি ফ্রেইজি বলে একটি পরিবারের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। চার সদস্য বিশিষ্ট এই পরিবারের সবাই চৌর্যবৃত্তিকে একটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। চুরি-ই তাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন। নেতিবাচক বিষয়ে সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে যে একজনই চারজনের মহান দায়-দায়িত্ব নিজের বৃষস্কন্ধে তুলে নেবেন তাতে আর আশ্চর্য কী! তস্কর শিরোমণি-র অয় কীর্তি সম্পর্কিত কিছু তথ্য ‘মুরোদহীন’ ১৫ কোটি বঙ্গ সন্তানের জ্ঞাতার্থে পরিবেশিত হলো:

      ফ্রানৎস কাফকা’র দি ক্যাসল, প্রকাশকাল ২০০৮, মূল্য: ২৬০ টাকা; প্রকাশক, রোদেলা, (রিয়াজ খান, ৪৭/১, বাংলাবাজার, ঢাকা।
      পরিবেশক: অন্বেষা প্রকাশনী, ৯ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। উল্লেখ্য, অন্বেষা-ও জু. নি. অপহৃত অন্তত একটি অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশ ক’রে আমাদেরকে কৃতজ্ঞতার নাগপাশে আবদ্ধ করেছেন); উৎসর্গ: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, উৎসর্গ পত্র: রত্নময় মুখটি দেখি/রত্ন বাজছে শুনি/মুখের রক্তবিন্দু গুনি/রক্তমুখী চুনি।

      অকুস্থল: দুর্গ/ ফ্রান্স কাফকা/অনুবাদক: প্রদীপ চক্রবর্তী/ প্রকাশক: প্যাপিরাস, মে, ২০০৬, বৈশাখ ১৪১৩; মূল্য: ২০০ টাকা আইএসবিএন ৮১-৮১৭৫

      জু. নি.-র অন্যান্য চৌ(কস বা র্য, আপনার অভিরুচি অনুযায়ী বসিয়ে নিন)-কর্মের কয়েকটির ‘নামাবলী’ দেয়া হলো;

      ক্যান্সার ওয়ার্ড
      থিংকস ফল অ্যাপার্ট (জি, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, জু. নি. অপহৃত অনুবাদটি এ-নামেই এ-বছর প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গভূমি থেকে)
      দ্য ট্রায়াল
      সাইলাস টিম্বারম্যান
      ফার ফ্রম দ্যা ম্যাডিং ক্রাউড

      (আপাদমস্তক ঠকা) পাঠক, সেসবের বেশ ক’টির উৎস সম্পর্কে খোঁজ আমি দিতে পারি; কিন্তু, জু.নি. অনুসরণে আপনাদেরকেও একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিই, বা, বলতে পারেন, একটি (নয়, নয় এ মধুর) খেলায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাই (সবই আজ ইন্টার অ্যাক্টিভ কিনা):

      তাহলে তুমি-ও খুঁজে বার করো নাকো দুয়েকটি ইঁদুর এবার —

      জানাতে হবে, কাদের শ্রম জু.নি. আত্মসাৎ করেছেন, কার করকমলে সেসব অর্পণ করেছেন, কবে মৌলিক ও ‘চৌলিক’ বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে, কোন বঙ্গদেশীয় মহামতি প্রকাশক পাঠকের গাঁট কাটছেন, ইত্যাদি। বলাই বাহুল্য, দ্য মোর, দ্য মেরিয়ার, (অ-মদীয় বঙ্গানুবাদে, অধিকন্তু ন দোষায়)।

      আপনাদের (গোল্ডেন জিপিএ-৫) সাফল্য কামনা করছি।

      এবার দু’একটি গুরুগম্ভীর কথা।

      আমার ধারণা, বহুপ্রজ জু. নি. মহোদয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অধিকাংশ পাঠক একেবারেই অবহিত নন। তিনি যেসব অনুবাদ আত্মীকৃত করেছেন সেসবের মান ভাল; ফলে জু. নি. ইতিমধ্যে (বা ইতোমধ্যে) একজন যোগ্য অনুবাদক হিসেবে তাঁদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন, অর্থাৎ তাঁরা ভীষণভাবে প্রতারিত হয়েছেন, হচ্ছেন, সম্ভবত আরো হবেন। আসছে ‘ঢাকা বইমেলা’ এবং ‘অমর একুশে বই মেলা’-য় জু. নি. এন্ড গং-এর বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে এই অশুভ প্রবণতা দূর হবে বা হ্রাস পাবে, আশা করা যায়।

      অনুবাদক এখনো এদেশে ২য় শ্রেণীর সাহিত্যকর্মী। তার ওপর যদি জু. নি. এন্ড গং-এর এই ‘মহতী প্রচেষ্টা’ অব্যাহত থাকে তাহলে প্রথমোক্তদের আরো অবনমন অবশ্যম্ভাবী।

      একবার কল্পনা করুন, যেসব ভারতীয় অনুবাদক (ধীরে ধীরে আমরা জানবো, শুধু অনুবাদকই নন, প্রখ্যাত ‘মৌলিক’ লেখক-ও ) জু. নি. কর্তৃক প্রতারিত হলেন তাঁদের কাছে আমরা কতটা ছোট হয়ে গেলাম!

      কল্পনা করুন, বাংলাদেশের নিষ্ঠাবান অনুবাদকেরা, যাদের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখিয়ে পরের শ্রম অপহরণকারী জু. নি. ও তার সহযোগীরা সাহিত্যাঙ্গনে দাপট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তারা কোন হতাশার চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছেন!

      – জি এইচ হাবীব

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অমিয় চৌধুরী — সেপ্টেম্বর ২২, ২০০৮ @ ১০:৪৭ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ রেজাউল করিম সুমন। লেখাটি পড়ে বেশ ভাল লাগল। সাহিত্য চৌর্যবৃত্তিকে প্রশ্রয় দেয় না। কালের গতিতে সাহিত্য ও অসাহিত্য যেমন বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় তেমনি অসাহিত্যিকও নতজানু হতে বাধ্য হয়। নিউটন তার চৌর্যবৃত্তির যে সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন বা যেতে পারছেন তার জন্য সহায়কবৃন্দকে দায়ী করতে হয়। স্বল্প জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও অনেকেই এখন প্রকাশক। সাহিত্য সম্পর্কে অজ্ঞ হয়েও অনেকে লেখক হয়ে উঠছে। আর স্বল্পশ্রম অর্থযোগ ঘটাতে গিয়ে প্রকাশক বা শঠ লেখকের লিখিত ভূমিকায় স্বাক্ষর করে আমাদের দেশের স্বনামধন্যরা অসাহিত্যিক নয় বরং কুসাহিত্যিকদেরকে উৎসাহিত করছেন।

      আর্টস পাতায় সাহিত্যে চৌর্যবৃত্তি নিয়ে ধারাবাহিক রচনা প্রকাশ করে রেজাউল করিম সুমন কুসাহিত্যিকদের স্বরূপ পাঠকের সামনে তুলে ধরতে পারেন।

      – অমিয় চৌধুরী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মারুফ রায়হান — সেপ্টেম্বর ২৩, ২০০৮ @ ১১:০৮ অপরাহ্ন

      গত বছর দৈনিক যুগান্তরে নিউটন সাহেব কবীর স্যারের রেফারেন্স দিয়ে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন লেখা ছাপানোর জন্য। ছাপাইনি।তাঁর নকল সম্পর্কে ক্রমশ আমি জানতে পারছিলাম, এবং বাংলামাটিতে কিছু করতে চেয়েছিলাম। এরই মধ্যে বিডিনিউজে বোমাটি ফাটানো হল। ধন্যবাদ। অভিনন্দন।

      মারুফ রায়হান
      সম্পাদক, অনলাইন ম্যাগাজিন বাংলামাটি

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তপন বাগচী — সেপ্টেম্বর ২৫, ২০০৮ @ ৪:৩১ অপরাহ্ন

      জুলফিকার নিউটনের কুম্ভীলক নিয়ে অনেক আলোচনা হলো। ঘাঁটলে আরো তথ্য বেরুবে।

      আমি নতুন এক বিড়ম্বনার কথা বলতে চাই। গতকাল আমার তিনটি বইয়ের প্রকাশক জ্যোতিপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ফোন করে জানতে চাইলেন যে আমি তাঁর প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠানের নামে কোনও বই সম্পাদনা করে প্রকাশ করছি কিনা?

      আমি হাসতে হাসতে বলি, বইয়ের প্রকাশক আপনি, বই বাজারে এলো আর আপনি জানেন না — তা কী করে হয়?

      তিনি বলেন, আরে ভাই জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের বই পত্রিকায় আপনার সম্পাদিত ইয়াজউদ্দিনের শাসনকাল নামের একটি বইয়ের আলোচনা ছাপা হয়েছে। আলোচনা করেছেন মোহাম্মদ সাদত আলী। সেখানে সম্পাদক হিসেবে আপনার নাম দেখছি।

      আমি সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রে ফোন করি কিন্তু কারো নাগাল পাই না। এর পর কবি-সাংবাদিক মহসিন হোসাইন-সহ আরো দু’একজন আমার কাছে ফোন করে জানতে চান যে আমি ইয়াজউদ্দিনকে নিয়ে বই সম্পাদনা করেছি কিনা। আমি বিব্রত হই। প্রথমত কাজটি আমি করিনি। দ্বিতীয়টি আমার নামে কেউ কাজটি করলে তা তো গোপন রাখার কথা — আলোচনার জন্য পত্রিকায় পাঠাবে না।

      আজকে (২৫.০৯) সকালে আমি জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় বই পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত কারো সঙ্গে কথা বলতে চাই। এগিয়ে এলন এক ভদ্রমহিলা। আমি আমার আরজি পেশ করলাম — আপা, মোহাম্মদ সাদত আলী যে বইটির আলোচনা করেছেন এই আগস্ট সংখ্যায়, ওটি আমার সম্পাদনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওই নামে আমি কোনো বই সম্পাদনা করিনি। তিনি বই পত্রিকার একটি কপি দেখতে দিয়ে বললেন, কপিটি কিন্তু দেয়া যাবে না। আপনি দেখুন কী সমস্যা হয়েছে। আমি খুলে দেখি মোহাম্মদ সাদত আলী যে বইটির আলোচনা করেছেন শুরুতে তার তথ্য দেয়া হয়েছে এভাবে —
      লেখক : ড. মমতাজউদ্দিন পাটোয়ারী
      সম্পাদনা : ড. তপন বাগচী
      প্রকাশক : জ্যোতিপ্রকাশ
      প্রচ্ছদ : গৌতম ঘোষ।

      আমি আলোচিত বইটি দেখতে চাইলে সম্পাদকীয় বিভাগের ওই ভদ্রমহিলা আমাকে বললেন, বইটি এখানে নেই। আমি লেখককে ফোন করে জানব, আপনি আরেকদিন এসে জেনে যাবেন।

      আমি বললাম, আপা আমি তো বুঝে ফেলেছি কী হয়েছে। এর জন্য লেখককে ফোন করার দরকার নেই। বইর দুই সংখ্যা আগে আমার সম্পাদিত একটি বইয়ের আলোচনা ছাপা হয়েছে। সেই আলোচায় প্রকাশনা-তথ্যের স্থানে কেবল মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারীর নাম লেখা হয়েছে। এখানে মোহাম্মদ সাদত আলী কিংবা মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারীর কোনো দোষ নেই। ভুলটা হয়েছে আপনাদের কম্পোজিটরের আর বিভাগীয় সম্পাদকের। এখন আমি তো বিব্রত হচ্ছি, এর সমাধান কী?

      ভদ্রমহিলা তখন কক্ষ থেকে বেরিয়ে অন্য কক্ষ চলে যেতে বলেন, আমি তো বললাম লেখকের সাথে কথা না বলে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারব না।

      অগত্যা আমি পরিচালক মো. মাহমুদুর রহমানের (আনু মাহমুদ) সঙ্গে দেখা করি। তিনি দেখেই বুঝতে পারলেন তাঁর সহযোগীদের কর্মকাণ্ড। আমার সামনেই ওই ভদ্রমহিলাকে (?) ডেকে পরের সংখ্যায় ভুল স্বীকার করে সংশোধনী দেয়ার নির্দেশ দেন।

      আমি বললাম, আনু ভাই, কিন্তু এই সংখ্যা যাঁরা দেখবেন, তাঁরা তো ভাববেন যে আমি বুঝি ইয়াজউদ্দিনকে নিয়ে বই সম্পাদনা করেছি। এর কী বিহিত হবে?

      তিনি বললেন, ভাই ভুলটা যখন হয়ে গেছে, কী আর করা! আমরা দুঃখিত।

      আমিও আর কিছু না বলে চলে এসেছি। আগামী সংখ্যায় সংশোধনী পাঠের অপেক্ষায় থাকি। অন্যের লেখা নিজের নামে ছাপালে চুরি বলা হয়, কিন্তু অন্যের বইয়ের সম্পাদক হিসেবে আমার নাম জুড়ে দিয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ আলোচনা প্রকাশ করল, একে কী বলা যাবে?

      — তপন বাগচী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হোসাইন কবির — সেপ্টেম্বর ২৫, ২০০৮ @ ৫:২৭ অপরাহ্ন

      রেজাউল করিম সুমনের “সাহিত্যে কুম্ভীলকবৃত্তি: দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে” লেখাটি পড়ার পর অবাক হইনি, কারণ জুলফিকার নিউটনের এরকম কুকর্ম সম্পর্কে জানি সিকি শতাব্দী আগ থেকে। হারানো অর্কিড তাঁর একটি কবিতার বই ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়, যে-বইয়ের কোনো কবিতাই তাঁর নিজের লেখা ছিলো না। বিষয়টি সে-সময় জানাজানি হলে তাঁর লেখা পত্র-পত্রিকায় ছাপানো একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমার ধারণা এ বইটির কল্যাণে জুলফিকার নিউটনের জীবনে কিছু প্রাপ্তিযোগ ঘটেছিলো; যেমন: তিনি দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রকর্মী সেজে ১৯৯০-এর চাকসু-র সাহিত্য-সম্পাদক পদে মনোনয়ন লাভে সমর্থ হন এবং নির্বাচিতও হন। তাঁর শিল্পের নন্দনতত্ত্ব সহ বেশ ক’টি সম্প্রতি প্রকাশিত বই দেখেও ইচ্ছে হচ্ছিলো না এ বিষয়ে আবারও কথা বলি; কিন্তু রেজাউল করিম সুমনের লেখাটি পড়ার পর জুলফিকার নিউটনের অতীত কুকর্ম সম্পর্কে পাঠকদের জানানোর দায়বোধ করছি ।

      জুলফিকার নিউটনের কাব্যগ্রন্থ হারানো অর্কিড-এর দ্বিতীয় সংস্করণের একটি কপি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়েছে ১৯৮৫ সাল থেকে। বিগত তেইশ বছরে বেশ ক’বার বাসা বদল করেছি, এ অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থটি বারবারই ফেলে দিতে চেয়েছি; কিন্তু প্রতিবারই কী মনে করে বইটি সংগ্রহে রেখে দিয়েছি।

      পাঠক, আর ভূমিকা নয়, এবার মূল কথায় আসা যাক। “হারানো অর্কিড” শিরোনামের সাথে কবিতার পাঠকদের কম-বেশি পরিচয় রয়েছে। এটিও ধার নেয়া হয়েছে কবি অমিয় চক্রবর্তীর কাছ থেকে। জুলফিকার নিউটনের এ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ছাপা হয়েছিল ২০০০ কপি! বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ সালে, এবারে মুদ্রণ সংখ্যা ছিল ৩০০০ (বাংলাদেশে আর কোনো কবির একটি কবিতার বইয়ের একবারে এত সংখ্যক ছাপানো হয়েছে কিনা বলা মুশকিল)! আমার সংগ্রহের বইটি দ্বিতীয় সংস্করণের। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন কাজী ইনামুল হক দানু (রাজনীতিবিদ), বইটি মুদ্রিত হয় মিথুন প্রিন্টার্স, ১৪ জয়নগর, চকবাজার, চট্টগ্রাম থেকে; মূল্য: বারো টাকা।

      এই বইটিতে লেখকের অন্যান্য গ্রন্থাবলীর যে-তালিকা দেয়া হয়েছে তা এরকম :
      উলঙ্গ রাজা (কাব্যগ্রন্থ)
      গাছ পাথর (কাব্যগ্রন্থ)
      হংসমিথুন (কাব্যগ্রন্থ)
      নীরক্ত করবী (কাব্যগ্রন্থ)
      ভুখ-মিছিল (কাব্যগ্রন্থ)
      ফেরারী ফৌজ (কাব্যগ্রন্থ)
      সেরা সন্দেশ (কাব্যগ্রন্থ)
      কাল স্রোত (কাহিনী কাব্য)
      মানচিত্র (গীতিনাট্য)
      হীরামন (নৃত্যনাট্য)
      নকল রাজা (নৃত্যনাট্য)
      দূরের জানালা (কাব্য নাটক)
      পালা বদল (নাটক)
      কাল পুরুষ (নাটক)
      পদধ্বনি (নাটক)
      দূরবীণ (নাটক)
      গরম ভাত (উপন্যাস)
      গ্রাম বাংলা (উপন্যাস)
      প্রেম নেই (উপন্যাস)
      লোটা কম্বল (উপন্যাস)
      ভাঙ্গা বাঁশি (উপন্যাস)

      উপরোক্ত তালিকাভুক্ত এই বইগুলো কখনো দেখিনি, তবে একই শিরোনামে বিখ্যাত লেখকদের কয়েকটি বই তো যথেষ্ট জনপ্রিয়ই হয়েছিল।

      জুলফিকার নিউটনের কাব্যগ্রন্থের সূচীতে ৪১টি কবিতার শিরোনাম রয়েছে, তার কয়েকটি নিম্নরূপ:

      আমি কবি যত কামারের
      রিকশাওয়ালা
      কথা এখনো ফোটেনি
      একটি গলি
      সুকান্ত
      কাস্তে
      হঠাৎ যদি
      চিরদিন
      গান শ্লোগান মেসিনগান
      হরিণ চিতা চিল
      ফেরারী ফৌজ

      পাঠক, এসব শিরোনামের কবিতাগুলো যে-সব কবির (প্রেমেন্দ্র মিত্র, অরুণ মিত্র, দিনেশ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী প্রমুখ), তাঁদের সম্পর্কে কম-বেশি আমরা সকলেই জানি। জুলফিকার নিউটন যে কবিতা দিয়ে তার বইটি শুরু করেন তা প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতা। “হারানো অর্কিড” বইয়ে কবিতাটির দাঁড়ি-কমা-শিরোনাম সহ হুবহু একই। জুলফিকার নিউটন উল্লেখ করেছেন, এ কবিতাটি তিনি পহেলা মে ১৯৮০ তারিখে বারেরা নামক স্থানে বসে লিখেছেন। নিউটনের বই থেকে এ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উল্লেখ করছি:

      আমি কবি যত কামারের আর কাঁসারির আর ছুতোরের
      মুটে মজুরের,
      আমি কবি যত ইতরের।
      আমি কবি ভাই কর্মের আর ধর্মের;
      বিলাস বিবশ মর্মের যত স্বপ্নের তরে ভাই,
      সময় যে হায় নাই!
      [… … …]

      জুলফিকার নিউটন
      পহেলা মে, ১৯৮০
      বারেরা

      একইভাবে ২৭ নং পৃষ্ঠায় ‘কাস্তে’ শিরোনামের কবিতাটি লিখেছেন ২৫ মার্চ ১৯৮২ তারিখে, বারেরা নামক স্থানে। এ কবিতাটিও হুবহু কবি দিনেশ দাশের ‘কাস্তে’ কবিতার অনুরূপ। নিচে কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উল্লেখ করা হলো:

      ‘বেয়নেট হ’ক যত ধারালো
      কাস্তেটা ধার দিও বন্ধু,
      শেল্ আর বোমা হ’ক ভারালো
      কাস্তেটা শান দিও বন্ধু।

      বাঁকানো চাঁদের সাদা ফালিটি
      তুমি বুঝি খুব ভালোবাসতে?
      [… … …]

      জুলফিকার নিউটন
      বারেরা, ২৫ মার্চ, ১৯৮২ ইং

      তার বইয়ের প্রতিটি কবিতার শেষে লেখার স্থান-কাল উল্লেখ করা হয়েছে; অধিকাংশ কবিতাই বারেরা অবস্থানকালে লেখা, দু-একটি লেখা হয়েছে দেবিদ্বারে। জুলফিকার নিউটনের সূত্রমতে এ-গ্রন্থের সব ক’টি কবিতা পহেলা মে ১৯৮০ থেকে ২৬ মার্চ ১৯৮৪ তারিখের মধ্যে লেখা!

      এ বইয়ের কোনো কবিতাই কি আদৌ তাঁর লেখা? প্রেমেন্দ্র মিত্র, অরুণ মিত্র, দিনেশ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী প্রমুখের বিখ্যাত সব কবিতা জুলফিকার নিউটর নিজের নামে হারানো অর্কিড নামক কাব্যগ্রন্থে মলাটবন্দি করেছেন। যে-ব্যক্তি দুই যুগ আগে এই কুকর্ম করেছিলেন তাঁর পক্ষে বর্তমানেও একইরকম কুকর্ম করা সম্ভব। তবে সে-সময়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে এসব ধরিয়ে দেবার পর ভেবেছিলাম এ-লোকটি এ-কাজ আর করবে না, করার সাহস পাবে না। কিন্তু এখন দেখছি তাঁর “কাজের” পরিধি আরো বিস্তৃত হয়েছে।

      জুলফিকার নিউটন অতীতে তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার বহর দেখিয়ে বাংলাদেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদকের পদটি অর্জন করেছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্ষদ সিনেট সভার সদস্যও ছিলেন। অদূর ভবিষ্যতে দেশের ঢাকা কেন্দ্রিক সাহিত্যাঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের কৃপাদৃষ্টির বদৌলতে তিনি জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা বা পদকও পেতে পারেন বৈ-কী। এ আশঙ্কা তো রয়েই যাচ্ছে। বর্তমানে যাঁরা জুলফিকার নিউটনের এ-হেন কুকর্মে সহযোগিতা করছেন এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে তাঁকে লালন-পালন করছেন তাঁদের সম্পর্কেও পাঠক-মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

      হোসাইন কবির
      চট্টগ্রাম
      hkabir63@gmail.com

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজেশ পালিত — সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৮ @ ৯:২৮ পূর্বাহ্ন

      এইদিন একটা টিভি নাটক দেখলাম এক কয়েদির ঘটনা নিয়ে (হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত)। এইটা আমি অনেক আগে পড়েছি, most probably, জরাসন্ধের একটা গল্প। কিন্তু নাট্যকার দেখলাম অন্য কেউ। বুঝলাম দুই নাম্বারী।

      – রাজেশ পালিত

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গোলাম সারোয়ার — সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৮ @ ১২:৫০ অপরাহ্ন

      খুবই লজ্জার বিষয়। হোসেন কবিরের চিঠিটি পড়ে আরো মন খারাপ হয়ে গেল। মানুষ এত নিকৃষ্ট হয়? যে মানুষ এভাবে চুরি করতে পারে তার চেয়ে দাগী আসামী আর হয় না। তবুও তিনি সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রশংসা পত্র পাচ্ছেন দেশের মাথা জাতীয় বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে। এই লোককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া যায়? দেশের আইন কী বলে?

      সত্যিই লজ্জা জনক।

      – গোলাম সারোয়ার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঈদ নাসিম — সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৮ @ ৬:৪৯ অপরাহ্ন

      দেশের রাজনীতির ন্যায় সাহিত্যকেও সমভাবে কলুষিত হতে দেয়া যায় না । অধ্যাপক কবীর চৌধুরী অসাধু সাহিত্যিকের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাবেন তা মোটেও কারো কাম্য নয়। চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়ে অযোগ্য ব্যাক্তি (জু.নি) লেখক/সাহিত্যিক তকমা এঁটে ফিরবেন, যা কিনা ছিনতাই সমতুল্য, আর অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বট গাছের ছায়া বিস্তার করে তাকে ‘সুসাহিত্যিক’ হিসাবে পরিচিতি দিবেন — এ তো কলুষিত রাজনীতির গডফাদার সমতুল্য।

      আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে যখন জনাব জুলফিকার নিউটন, জনাব হোসাইন কবির এবং আমি চবির ছাত্র তখনই জনাব নিউটন হারানো অর্কিড নামের কাব্যগ্রন্থটি আমাকে দিয়ে তা পড়ে মন্তব্য করতে বলেছিলেন। সাহিত্য জগতে আমার খুব একটা বিচরণ না থাকলেও কাস্তে, হরিন চিতা চিল কিম্বা ‘ভাত দে হারামজাদা’ তখন পড়েছি কিম্বা আবৃত্তি শুনেছি। তাই জনাব হোসাইন কবিরকে বই দেখালাম। জনাব হোসাইন কবির বিষয়টি আগেই জানতেন। তাই প্রমাণ হিসাবে বইটি চেয়ে নেন।
      চবিতে ‘অভিব্যক্তি আবৃত্তি পর্ষদ’ নামে একটি সংগঠন ছিল। জনাব নিউটন তাতে ছিলেন। আমিও ছিলাম। একবার জনাব নিউটনের উপস্থিতিতে তার সাহিত্য চৌর্যবৃত্তির কারণে সংগঠনটির সদস্যগণ তাকে তীব্র তীরস্কার করেন। জনাব নিউটন সেদিন ভবিষ্যতে এরূপ গর্হিত কর্ম না করার অঙ্গীকারে নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন। সিকি শতক পর যখন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ শুনছি, তখন মনে হচ্ছে — এ যেন জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুরানো পেশায় ফিরে যাওয়া তস্কর।

      দোহাই জনাব নিউটন, জনাব চৌধুরী, — নিবৃত্ত হোন। এ সাহিত্য সেবা নয় — এ মৌলিক লেখকের প্রতি জঘন্য অবিচার। লেখক না হয়েও শুধু পাঠক হয়ে সাহিত্য সেবা করা যায়। লিখা না আসলে তাই করুন।

      ধন্যবাদ জনাব রেজাউল করিম সুমন সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার সাবলীল সাহসের জন্য।

      সাঈদ নাসিম
      nasim506@hotmail.com

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঈদ নাসিম — সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৮ @ ৭:৪১ অপরাহ্ন

      দেশের রাজনীতির ন্যায় সাহিত্যকেও সমভাবে কলুষিত হতে দেয়া যায় না । অধ্যাপক কবীর চৌধুরী অসাধু সাহিত্যিক-এর পৃষ্ঠপোষকতা করে যাবেন আর আত্মপ্রসাদ লাভ করবেন এ ভেবে যে, সাহিত্যে উনার অভিভাবকত্ব টিকে থাকলো — তা মোটেও কারো কাম্য নয়। চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়ে অযোগ্য ব্যাক্তি (জু.নি) লেখক/সাহিত্যিক তকমা এটে ফিরবেন, যা কিনা ছিনতাই সমতুল্য, আর অধ্যাপক কবির চৌধুরী বট গাছের ছায়া বিস্তার করে তাকে ‘সুসাহিত্যিক’ হিসাবে পরিচিতি দিবেন — এ তো কলুষিত রাজনীতির গডফাদারের কাজের সমতুল্য।

      আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে যখন জনাব জুলফিকার নিউটন, জনাব হোসাইন কবির এবং আমি চবির ছাত্র, তখনই জনাব নিউটন হারানো অর্কিড নামের কাব্যগ্রন্থটি আমাকে দিয়ে তা পড়ে মন্তব্য করতে বলেছিলেন। সাহিত্য জগতে আমার খুব একটা বিচরণ না থাকলেও ‘কাস্তে’, ‘হরিন চিতা চিল’, কিম্বা ‘ভাত দে হারামজাদা’ তখন পড়েছি কিম্বা আবৃত্তি শুনেছি। তাই জনাব হোসাইন কবিরকে বইটি দেখালাম। জনাব হোসাইন কবির বিষয়টি আগেই জানতেন। তাই প্রমাণ হিসাবে বইটি চেয়ে নেন।
      চবিতে ‘অভিব্যক্তি আবৃত্তি পর্ষদ’ নামে একটি সংগঠন ছিল। জনাব নিউটন তার সদস্য ছিলেন। আমিও ছিলাম। একবার জনাব নিউটনের উপস্থিতিতে তাঁর সাহিত্য চৌর্যবৃত্তির কারণে সংগঠনটির সদস্যগণ তাকে তীব্র তীরষ্কার করেন। জনাব নিউটন সেদিন ভবিষ্যতে এরূপ গর্হিত কর্ম না করার অঙ্গিকারে নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন। সিকি শতক পর যখন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ শুনছি, তখন মনে হচ্ছে — এ যেন জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুরানো পেশায় ফিরে যাওয়া তস্কর।

      দোহাই জনাব নিউটন, জনাব চৌধুরী — নিবৃত্ত হোন। এ সাহিত্য সেবা নয় — এ মৌলিক লেখকের প্রতি জঘন্য অবিচার। লেখক না হয়েও শুধু পাঠক হয়ে সাহিত্য সেবা করা যায়। লিখা না আসলে তাই করুন।

      ধন্যবাদ জনাব রেজাউল করিম সুমন সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার সাবলীল সাহসের জন্য। আমার নিজের এর অভাব আছে।

      সাঈদ নাসিম
      nasim506@hotmail.com

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তপন বাগচী — সেপ্টেম্বর ২৭, ২০০৮ @ ৫:২৭ অপরাহ্ন

      জুলফিকার নিউটনের সঙ্গে আমার ফোনালাপ

      জুলফিকার নিউটনের কুম্ভীলকবৃত্তি নিয়ে গবেষক রেজাউল করিম সুমনের লেখাটির পরে বেশ আলোচনা-বিতর্ক-নিন্দা উচ্চারিত হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে জি এইচ হাবীব ভাই এবং রেজাউল করিম সুমনের সঙ্গেও শাহবাগে আমার দেখা ও কথা হয়েছে। এরই মধ্যে জুলফিকার নিউটন আমাকে একদিন ফোন করে কুশলাদি জানতে চান।

      গত বইমেলায় তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সাপ্তাহিক ২০০০ পত্রিকায় বইমেলার প্রতিবেদন রচনার সুবাদে অনেক লেখক-প্রকাশকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তেমনি পরিচয় আর কি! শাহবাগে একদিন দেখা হয় তাঁর অটিস্টিক ছেলেসহ। সেদিন বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় বিভিন্ন বিষয়ে। দীর্ঘ ব্যবধানে তাঁর ফোন পেয়ে অবাক না হলেও কৌতূহল সৃষ্টি হয়। কথা প্রসঙ্গে তিনি লালন নিয়ে নতুন গবেষণার কথা জানান। এবং এ ব্যাপারে পরামর্শ গ্রহণের জন্য তিনি লালন-গবেষক ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরীর সেলফোন নম্বর দেয়ার অনুরোধ করেন। আমি নাম্বারটা দিই। এই সুযোগে তাঁর ইমেইল নাম্বারটা জানাতে বলি। কিন্তু তিনি জানান যে, অটিস্টিক ছেলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে ইন্টারনেটে পরিভ্রমণের সুযোগ পান না।

      তখন রাখ-ঢাক না করে বলেই ফেলি রেজাউল করিম সুমনের লেখাটির কথা। ভেবেছিলাম তিনি লেখাটির বিস্তৃত জানতে চাইবেন অথবা কপি পাওয়ার অনুরোধ জানাবেন। কিন্তু তিনি সেদিকে গেলেন না। শুধু বললেন, আমি পরে কথা বলব।

      দুইতিনদিন পরে তিনি আমাকে ফোন করে জানালেন, দাদা, আমি তো ইন্টারনেটে বসি না। কোনো খবর আছে? আমি ইতোমধ্যে জমা হওয়া সুমন রহমান, শিবলী নোমান, ইমতিয়ার শামীম, মাহবুবুর রহমান, মুজিব মেহদী, আরিফ জেবতিক, পার্থ সরকার প্রমুখের মন্তব্য জানাই। তিনি বললেন, ‘স্যারের (কবীর চৌধুরী) সঙ্গে আলাপ করেছি, উনি বলেছেন যে, ভালো কাজ করলে, এরকম নিন্দা-প্রতিবাদ আসবেই। আমি তাই চুপ থাকতে চাই। তবে আপনার কাছ থেকে পরে আবার খবর নেব।’

      পরশু দিন তিনি ফোন করে ছেলের অসুস্থতার কথা জানান। ভাবির ক্যান্সার ধরা পড়ার কথা জানান। ভাবির বোনের পারিবারিক বিপর্যয়ের কথা জানান। এবং নিজের রক্তচাপ বৃদ্ধিজনিত জটিলতার কথাও জানান। আমি আর মধ্যে জিয়া হাশান, মোস্তাফিজ রিপন, অমিয় চৌধুরী, মারুফ রায়হান, তপন বাগচীর প্রতিক্রিয়ার কথা জানাতে সাহস করি না। বরং তাঁর পারিবারিক অস্থিরতার ব্যাপারে সান্ত্বনা জানাই।

      একপর্যায়ে তিনিই আমার কাছে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চান। আমি অনেকটা নির্দয়ভাবেই সর্বশেষ পরিস্থিতি এমনকী হোসাইন কবির এবং রাজেশ পালিতের প্রতিক্রিয়ার কথাও জানাই। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পরে নিজের পারিবারিক কিছু বিপর্যয়ের কথা জানান। আমি সহানুভূতি জানাই।

      জুলফিকার: আমি একটু সুস্থ হয়ে প্রতিটি প্রতিক্রিয়ার জবাব দেব। কিন্তু ইন্টানেটে তো আমার দক্ষতা নেই। তাই আপনি আপনাকে হেল্প করবেন।

      আমি: অবশ্যই আমি আপনাকে হেল্প করব।

      জুলফিকার: আমার অনুবাদ নিয়ে কথা তুলছে — কিন্তু আমার তো বেশকিছু মৌলিক কাজ রয়েছে। তা নিয়ে তো কেউ কিছু বলছে না। এই যে আমি কবীর চৌধুরীর ওপর একটা বই লিখলাম।

      আমি: ওই বই হয়তো অনেকের চোখে পড়েনি, কিন্তু আপনার কবিতার বই হারানো অর্কিড নিয়ে তো হোসাইন কবির লিখেছেন।

      জুলফিকার: হারানো অর্কিড মানে? ওই নামে তো আমার কোনো বই নেই।

      আমি: (হোসাইন কবিরের তথ্য ধার করে) তাহলে ১৯৮৪ সালে প্রথম সংস্করণ, ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় সংস্করণ কে ছাপলো? এবং ২০০০+৩০০০=৫০০০ কপি বই চট্টগ্রামের মিথুন প্রিন্টার্স থেকে ছাপা হলো, আর তখন চাকসুর সাহিত্য সম্পাদক হয়ে আপনার নজরে কেউ আনলো না যে, আপনার নামে একটি কবিতার বই বেরিয়েছে। (এই সুযোগে আমি গত পোস্টে বই পত্রিকার আমার বিব্রতকর পরিস্থিতির ঘটনা পাড়ি।)

      জুলফিকার: না, ভাই, আমার কোনো কবিতার বই কখনো বের হয়নি।

      আমি: কিন্তু কাজী ইনামুল হক দানুকে চেনেন?

      জুলফিকার: হ্যাঁ আমার ভাই। উনি তো আমার বড়ভাই!

      আমি: তিনি প্রচ্ছদ আঁকলেন, ২বার সংস্করণ হলো, বারেরা এবং দেবীদ্বারে বসে লেখা উল্লেখ করে কবিতাগুলো ছাপা হলো, তারপরেও আপনাকে কেউ জানালো না, এটি কেমন করে হয়।

      জুলফিকার: তপন ভাই, আপনার সাথে আমার মাত্র ২/১ বার দেখা হয়েছে। কিন্তু আপনাকে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনে হয়েছে।

      আমি: ভাই, আপনি তো আমার তিন বছরের বড়, মানে সিনিয়র ভাই!

      জুলফিকার: তবু আমি আপনাকে বন্ধু মনে করছি। এই যে আমার বিরুদ্ধে সমালোচনার কথাগুলোও আমাকে জানালেন, প্রকৃত বন্ধু ছাড়া তো কেউ এ কাজ করে না।

      আমি: ভাই, আপনি বোধহয় ভুল বুঝেছেন, আর্টস-এ কিন্তু আপনাকে নিয়ে সমালোচনা হয়নি। সমালোচনা করে কেউ আপনার লেখা ভালো-মন্দ মন্তব্য করেনি। আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে চৌর্যবৃত্তির। এবং অনেক বিশ্বাসযোগ্যভাবে তা তুলে ধরা হয়েছে। সমালোচনায় কান না দিলেও চলে। কিন্তু অভিযোগের জবাব না দিলে সকলে তা সত্য বলে মেনে নেবে। অভিযোগগুলো যদি মিথ্যা হয়, তাহলে আপনাকে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ আপনি পাচ্ছেন। আমাকে তথ্য দেন, আমি আর্টস-এ তা প্রকাশের ব্যবস্থা করব। নতুন কারো মন্তব্য প্রকাশে বাঁধা দিতে পারে, কিন্তু আপনার বক্তব্য প্রকাশে কোনো বাঁধা নেই। অভিযুক্তের আত্মপক্ষ প্রমাণের সুযোগ দিতে সম্পাদক ‘বাধ্য’ থাকবেন।

      জুলফিকার: আচ্ছা দাদা, আর্টস-এর সম্পাদক কে?

      আমি: ‘মনে হয়’ ব্রাত্য রাইসু। কারণ আমাদের লেখার ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়।

      জুলফিকার: উনি কবি ব্রাত্য রাইসু তো? তাঁকে চিনি। তিনি তো প্রগতিশীল!

      আমি: হ্যাঁ প্রগতিশীল বলেই তো এইরকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, বাদ-বিসম্বাদ প্রকাশ করতে তাঁর আপত্তি নেই। মানে, তাঁর ভেতর কোনো রক্ষণশীলতা নেই।

      জুলফিকার: দাদা, আমার মন ভালো নেই। না হলে এখন ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করতাম।

      আমি: নিউটন ভাই, আমার কাছে নির্ভয়ে বলতে পারেন, আমি আপনার বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করব।

      জুলফিকার: দাদা, আপনাকে বলছি, এত যখন ঝামেলা হচ্ছে, আমি আর প্রকাশকদের অনুরোধে কোনো কাজ করব না।

      আমি: তার মানে ওই বই আপনি অনুবাদ করেননি? প্রকাশকরা আপনার নাম দিয়ে ছেপেছেন?

      জুলফিকার: দাদা, আমি আর এ ধরনের কাজে সময় দেব না। আমি কিছু মৌলিক কাজ করতে চাই।

      আমি: হ্যাঁ, তাই করুন। কিন্তু মৌলিক কাজ নিয়ে কথা উঠলে, তখন কী জবাব দেবেন?

      জুলফিকার: এই ধরেন হোসাইন কবিরদের সঙ্গে চাকসু নির্বাচনের সময়েই প্রতিপক্ষ ছিলাম। তাই আমার বিপক্ষে তো বলবেই। কিন্তু এতদিন পরেও…

      আমি: আপনি তো ছাত্রলীগ করতেন, মানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগিতিশীল ছাত্রসংগঠন। আপনার বিপক্ষে হলে তিনি তো…

      জুলফিকার: হ্যাঁ।

      আমি: আপনার কথামতো ধরে নিলাম যে প্রতিক্রিয়াশীলরা আপনার পিছু নিয়েছে। কিন্তু সুমন রহমান, মারুফ রায়হান তো প্রগতিশীল লেখক। তাঁরা কেন আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে।

      জুলফিকার: সুমন রহমানকে চিনি না। আর সুজাত আলী কলেজ বার্ষিকীতে কখনো লিখিনি। কবি মারুফ রায়হানের সঙ্গে একটি লেখা নিয়ে কথা হয়েছিল। তাঁর কাছে আমি পরিচিত নই বলে কবীর স্যারের রেফারেন্স দিয়েছিলাম। তাঁকে যদি তিনি চাপ সৃষ্টি মনে করেন, তাতে আমার কিছু বলার নেই। বিভাগীয় সম্পাদকের টেবিলে বসে তিনি যে সুরে কথা বলেছেন, তা নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

      আমি: কিন্তু এরকম অভিযোগ যদি উঠতেই থাকে…

      জুলফিকার: আর অভিযোগ উঠবে না, দাদা। আপনার কাছে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

      আমি: আমার কাছে নয়, পাঠকের কাছে দিলে ভালো হয়।

      জুলফিকার: আপনার মাধ্যমে পাঠকের কাছে জানালে হয় না? আমি তো ইন্টারনেটে দক্ষ নই!

      আমি: ঠিক আছে, আমি আপনার বক্তব্য আর্টস-এর পাঠকের কাছে জানানোর চেষ্টা করব। কিন্তু এতে তো পক্ষান্তরে স্বীকার করা হচ্ছে যে উত্থাপিত অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে নয়।

      জুলফিকার: দাদা, মনের অজান্তে হয়তো আমি কিছু ‘পাপ’ করেছি। না হলে, আমার ছেলে অটিস্টিক হবে কেন, আমার স্ত্রীর শরীরে রোগ ধরা পড়বে কেন, আমি কেন এই বয়সে উচ্চরক্তচাপে ভুগব? [তাঁর কণ্ঠস্বরে অসহায় কাতরতা ঝরে পড়ে।]

      আমি: নিউটন ভাই, আপনি বোধহয় সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়েছেন! প্লিজ ভেঙে পড়বেন না। আর্টস-এর পাঠকেরা যথেষ্ট সচেতন। আপনার মনের অবস্থা আমি তাঁদের বুঝিয়ে বলব।

      জুলফিকার: দাদা, আমার যাতে সম্মান রক্ষা হয়, তাই করুন দাদা।

      আমি: কিন্তু এই কথাগুলো জানিয়ে দিলে মনে হবে, আপনি অন্তত কিছু ভুল করেছিলেন এবং তার জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন এবং এই ধরনের কাজ আর ভবিষ্যতে করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করছেন।

      জুলফিকার: হ্যাঁ, ঠিক এরকমই।

      আমি: কিন্তু আমি যদি এ কথাগুলো জানাই, তাহলে আপনার প্রতি যাঁরা ক্ষিপ্ত, তাঁরা ভাববেন যে আমি আপনার পক্ষে ওকালতি করছি। এর জন্য আমাকেও কেউ ভুল বুঝতে পারেন।

      জুলফিকার: দাদা, তবুও আপনি আমার এই উপকারটুকু করুন। আমি এই চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে চাই। আমার নানা সমস্যা। এখন এগুলো থেকে মুক্তি চাই।

      আর্টস-এর পাঠকের কাছে আমি জুলফিকার নিউটনের সঙ্গে টেলিফোনের কথোপকথন তুলে ধরলাম। আমার মনে হয় এর মনের মধ্য দিয়ে জুলফিকার নিউটনের মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। আর্টস-এর একজন পাঠক হিসেবে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরছি। আশা করি আমাকে আবার কেউ ভুল বুঝবেন না।

      – তপন বাগচী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুমন রহমান — অক্টোবর ৫, ২০০৮ @ ১২:১৭ অপরাহ্ন

      নিউটনের পারিবারিক জীবনের বিপর্যয়ের জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। কিন্তু সেই সাথে এটাও বলি যে, চৌর্যবৃত্তিকে আড়াল করার জন্য, বা এর অপরাধের মাত্রাটুকুকে হালকা করার জন্য তিনি তার পারিবারিক বিপর্যয়কে বিক্রি করতে চেয়েছেন বলেই মনে হয়েছে আমার। এটাও খাঁটি তস্করপনার লক্ষণ। বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ান নাকি তিনি? কোন্ বিশ্ববিদ্যালয়ে? সেখানে ইন্টারনেটও নাই? হায় হায়!

      আমার মনে হয়, নিউটনের বইতে এবং বক্তব্যে তার ডিফেন্ডার ও সার্টিফায়ার হিসেবে বারবার কবীর চৌধুরীর নাম চলে আসতেছে। ইনি মানী লোক। এবং বয়োবৃদ্ধ। আদৌ নিউটনের সাথে তাঁর সে ধরনের যোগাযোগ আছে কিনা, সেটাও সন্দেহের বিষয়। যদি থাকে, তাহলে নিউটনের চৌর্যবৃত্তির আংশিক দায় তাঁকেও বহন করতে হবে বৈকি। খুনের আসামিকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিয়ে আমার এক কলিগকে তিনবছর পর্যন্ত আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছিল।

      আর্টস-এর পাতায় এই বিষয়টি অনেকদূর আগাল। এখন বাকি কাজটুকু সরেজমিন করার পালা। বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতে এই ধরনের নিউটন অনেকই আছেন, অনুমান করি। আছেন নিউটনের পেট্রনরাও। এটা একটা সিনড্রম, এক্ষেত্রে পালের গোদাদের দিকে আঙুল না তুললে এই সিনড্রম বহাল থাকবে। কয়দিন পর অন্য এক নিউটনকে অন্য এক কবীর চৌধুরী সার্টিফিকেট দেবেন। তপন বাগচী দারুণ একটা দায়িত্ব পালন করেছেন বলবো আমি। পরের দায়িত্বটুকু কোনো সাংবাদিকের। আর্টস-এর এই লেখা, আমাদের নানানজনের টেস্টিমনি, এবং নিউটনের জবানিকে ধরে কবীর চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া তো খুবই যৌক্তিক। আর জরুরিও।

      অপেক্ষায় থাকলাম।

      – সুমন রহমান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হোসাইন কবির — অক্টোবর ৫, ২০০৮ @ ১২:৪০ অপরাহ্ন

      তপন বাগচীর সাথে জুলফিকার নিউটনের টেলিফোনে কথোপোকথন (প্রকাশ:২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৮) পড়ার পর নিউটনের দেয়া দু’একটা ভুল এবং মিথ্যা তথ্য সম্পর্কে পাঠকদের জানানো জরুরী মনে করছি। এ ফোনালাপের জন্য তপন বাগচীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

      আমি চাকসু নির্বাচনে কখনই কোনো পদে নির্বাচন করি নি, নির্বাচন হয়েছিলো ১৯৯০ সালে, আমি আমার ছাত্রত্ব শেষ করে ১৯৯০ সালের ১২ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। জুলফিকার ফোনালাপে ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করেছেন আমি প্রতিক্রিয়াশীল শিবিরের মানুষ। জুলফিকার নিশ্চয়্ই জানেন আমি ছাত্রজীবনে কোন রাজনীতি করতাম। আমি যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক ছিলাম সেটিও তার ভুলে যাবার কথা নয়; আমি যে, ১৯৮৯-এ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম বিজয় মেলার দপ্তর উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম এবং ১৯৮৬ সাল থেকে দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠকের দায়িত্বে ছিলাম সেটিও তার ভোলার কথা নয়। তার কাছে আমার জিজ্ঞাস্য কোনো প্রতিক্রিয়াশীল লোক কী এসবের দায়িত্বে থাকে? শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ সম্পর্কে তিনি নিশ্চয়ই খবর রাখেন, এ সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন অধ্যাপক অজয় রায়, বশীর আলহেলাল, অধ্যাপক আকমল হোসেন, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ স্বনামধন্য অনেকে। জুলফিকার নিউটনকে বলছি, আমি নিজেও এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা পর্ষদে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলাম, ২০০৪-২০০৬ মেয়াদে আমি সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে হলুদ দলের হয়ে নির্বাচন করি এবং নির্বাচিত হই; জু. নিউটন নিশ্চয়ই জানেন হলুদ দলের শিক্ষক নেতৃত্বে ছিলেন এবং আছেন অধ্যাপক অনুপম সেন, অধ্যাপক হামিদা বানু, অধ্যাপক আবু ইউসুফ আলম, অধ্যাপক সরোজ সিংহ হাজারী, অধ্যাপক মনীন্দ্র রায়। জু. নিউটনকে বলছি হারানো অর্কিড এর এক কপি আমার নিকট এখনো আছে, যার প্রচ্ছদ আপনার ছবি দিয়ে করা হয়েছে, এবং পেছনের প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় `কবিতা’ শিরোনামের কবিতাটি মুদ্রিত রয়েছে। জু. নিউটন এ কবিতা তো আপনার নয়, এ বিখ্যাত কবিতাটি কার, অবশ্যই আপনি জানেন? আপনি ইচ্ছুক হলে বইটির স্ক্যান কপি ই-মেইল যোগে আপনাকে পাঠাতে পারি, আর পাঠক আপনারা ইচ্ছুক হলে, hkabir63@gmail.com আপনার ইচ্ছার কথা জানাতে পারেন।

      পাঠক নিজের সম্পর্কে নিজে উপর্যুক্ত বক্তব্য এভাবে দেয়াটা হয়ত শোভন হয় নি, কিন্তু জুলফিকার নিউটনের ফোনালাপের বক্তব্যের জবাবে আমাকে এ বক্তব্য তুলে ধরতে হয়েছে;

      হোসাইন কবির
      শিক্ষক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

      সংযুক্ত: হারানো অর্কিডের প্রচ্ছদপৃষ্ঠা ও মুদ্রণ সম্পর্কিত তথ্যপৃষ্ঠার স্ক্যান কপি

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউসুফ রেজা — অক্টোবর ৬, ২০০৮ @ ২:৫৬ অপরাহ্ন

      অবাক হয়েছি তপন বাগচীর ফোনালাপ পড়ে, জুলফিকার নিউটন এ কী তথ্য দিচ্ছেন! নিউটনের ফোনালাপের জন্য তপন বাগচীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

      রেজাউল করিম সুমনের লেখা ‘সাহত্যে কুম্ভীলকবৃত্তি: দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে’ পড়ে কুড়ি পঁচিশ বছর আগের ভুলে যাওয়া স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে। কবি হোসাইন কবিরের লেখাটি পড়ে মনে পড়ছে বোস ব্রাদার্সের স্বনন সাহিত্য আড্ডার কথাও। আড্ডার এক সন্ধ্যায় হোসাইন কবির জুলফিকার নিউটনের হারানো অর্কিড বইটি আমাদের দেখিয়ে মন্তব্য করতে বললেন। আড্ডার সুহৃদ দেবাশীষ রায়, কবি জিললুর রহমান (বর্তমানে ডাক্তার ও সহযোগী অধ্যাপক বরিশাল মেডিকেল কলেজ), নাট্যজন ও গল্পকার আলী শাহ (প্রয়াত) ও মারুফসহ আমারা সবাই হাসতে হাসতে বলেছিলাম: “কবির ভাই ওকে মাপ করে দেন, ওর সম্পর্কে তো আমরা সবই জানি, গুরুত্বহীন একটা ছেলেকে গুরুত্ব দিয়ে লাভ কী।” অবশ্য আমাদের অবাক করে দিয়ে সে ছেলে কী করে এবং কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে চাকসুর সাহিত্য সম্পাদকের পদে মনোনয়ন পায় তাও বুঝতে আমাদের দেরি হয় নি, স্রোতের তোড়ে অনেক সময় অনেক আগাছা পরগাছাও নেতা বনে যায়।

      একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক সময়ের ছাত্র ছিলাম বলে জুলফিকার নিউটনের কুম্ভীলকবৃত্তির অনেক কাহিনীই জানতাম। জানতো তার অপরাপর বন্ধুরাও (শিলু, টিপু, চপল, নাসিমরাও)।

      হোসাইন কবির (বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক চবি) কখনই চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নি, আর তাও আবার নিউটনের প্রতিপক্ষ হয়ে! হোসাইন কবির অপরিচিত কেউ নন। চট্টগ্রামের সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁকে সবাই চেনে। জুলফিকার নিউটন কী প্রলাপ বকছেন বুঝতে পারছি না। আমার জানামতে গত বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিকসহ একজন সাংবাদিককে একটি মৌলবাদী সংগঠন থেকে হত্যার হুমকী দেয়া হয়েছিলো, সেই চারজন শিকের নামের মধ্যে হোসাইন কবিরের নামও আমি দেখিছি, আর এ সংবাদ তো সেসময়ের প্রায় সব ক’টি দৈনিকেই প্রচারিত হয়েছিলো। জুলফিকার নিউটনের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনার ক্ষেত্রে ভুল সবই ভুল নয়, বরং মিথ্যা সবই মিথ্যা।

      ইউসুফ রেজা
      ডালাস, আমেরিকা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঈদ নাসিম — অক্টোবর ৬, ২০০৮ @ ৭:০৭ অপরাহ্ন

      জনাব নিউটনের বক্তব্য মিথ্যাচার ও স্ববিরোধিতায় পরিপূর্ণ। অসত্য বক্তব্যগুলোর কয়েকটির উদাহরণ দিচ্ছি —

      ক) জনাব হোসাইন কবির চাকসু নির্বাচনে উনার বিপক্ষে ছিলেন না। জনাব হোসাইন কবির ভোটপ্রার্থীই ছিলেন না।
      খ) জনাব নিউটন কোনো কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন নি — এরূপ বক্তব্য কিংবা হারানো অর্কিড না চিনতে পারা উনার স্মৃতিভ্রমজনিত নয় — এ আমি নিশ্চিত।

      পাঠক, আমার কাছে হারানো অর্কিড-এর প্রচ্ছদসহ কিছু পৃষ্ঠা স্ক্যান করা আছে — যা চেষ্টা করেও সাবমিট করতে ব্যর্থ হলাম। বইটি জনাব নিউটন নিজেই আমাকে দিয়েছিলেন। এ কি অবৈধ সন্তান যে এত সহজে জনাব নিউটন দায় অস্বীকার করছেন?

      দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের রূপ, রস ও সুন্দর: নন্দনতত্ত্বের ভূমিকা যদি জনাব নিউটনের নামে প্রকাশিত না হতো, তবে হয়তো আজ হারানো অর্কিড নিয়ে লিখার প্রয়োজন হতো না। জনাব নিউটন সরাসরি না হলেও অপকর্ম স্বীকার করছেন। এ অবস্থায় সার্টিফিকেট দেয়ার দায় কি জনাব কবির চৌধুরী নেবেন?

      — সাঈদ নাসিম
      nasim506@hotmail.com

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কামরুজ্জামান — অক্টোবর ৭, ২০০৮ @ ১২:১৯ অপরাহ্ন

      বেচারা নিউটন! সাহিত্যের এতো বড় ‘উদ্ভাবকের’ কী বিশ্রী পরিণতি! কপালের ফেরে নিউটনের মতো এমন একটা প্রতিভা মাঝপথে ফেঁসে গেলো। কিন্তু হযরত নিউটন হলেন বিরাট এক হিমবাহের একটি অংশ মাত্র। অনেক ‘আইনস্টাইন’, ‘হকিং’ আমাদের বাংলা সাহিত্যে রয়ে গেছেন যারা এখনো ফাঁসেননি।

      তবে মাঝখান থেকে আমাদের ‘সর্বজনশ্রদ্ধেয়’ অধ্যাপক কবীর চৌধুরীও হালে একটু বেকায়দায়, যিনি রাজনৈতিক স্নেহের বশে নিউটনকে নিজের হাত ধরে সাহিত্যের পথে এতোটা ‘এগিয়ে’ দিয়েছেন।

      নিউটনের মতো যেসব ‘ক্ষণজন্মা সাহিত্যিক’ তাঁদের কর্মকে আমরা ‘কুম্ভিলকবৃত্তি’, ‘চৌর্যবৃত্তি’ ইত্যাদি পরিশীলিত অভিধায় ভূষিত করি কেন? কেন আমরা উহাদিগকে সাদা বাংলায় ‘চোর’ বলি না? তাতে কি সাহিত্যের বিরাট অপমান হয়? নাকি স্বীকার করতে লজ্জা হয় যে, সাহিত্যাঙ্গনেও এহেন কীর্তি হয়।

      কেনই বা হবে না? সাহিত্য কি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের বাইরের কোনো বিষয়? সবখানে চুরিচামারি হলে এখানেও হবে বৈকি! নগর পুড়লে তার দেবালয়ও আগুনের আওতার বাইরে থাকতে পারে না।

      তাই এরকম নিউটনদের জন্ম হতেই থাকবে আমাদের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায়। আর কবীর চৌধুরীদের মতো গুরু থাকলে নিউটনদের মতো এমন শিষ্য, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের দোহাই পেড়ে একই রাজনৈতিক দর্শন আর মঞ্চের সারথি, গজাবে তো বটেই; পত্রে-পুষ্পে-পল্লবে মহীরুহ হয়ে উঠতেও কোনো বাধা থাকবে না।

      – কামরুজ্জামান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বপন মাহমুদ — অক্টোবর ৯, ২০০৮ @ ১২:২৩ অপরাহ্ন

      লেখালেখি থেকে দীর্ঘদিন দূরে, তবু খোঁজখবর যে একদম রাখি না তা তো নয়। তাছাড়া সাহিত্যের ছাত্র ছিলাম, কোন খবর না রাখতে চাইলেও বন্ধুদের কীর্তি-কুকীর্তি, ভালো-মন্দ, সুনাম-দুর্নাম, খ্যাতি–অখ্যাতির খবরটুকু কোন না কোনভাবে কারো না কারো মাধ্যমে পেয়ে যাই।

      বইপত্র দেখতে, নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে মাঝেমধ্যে চট্টগ্রামের চেরাগীর মোড়স্থ রুচিশীল বইপত্রের নতুনদিগন্ত, বাতিঘর ও নন্দনে ঘুরতে যাই। হঠাৎ একদিন দুটো বইয়ের উপর চোখ পড়ে। বই দুটো হচ্ছে–শিল্পের নন্দনতত্ত্ব এবং ক্যান্সার ওয়ার্ড। বই দুটো, বই দু’টোতে লেখক সম্পর্কে বক্তব্য এবং লেখকের অন্যান্য কৃতকর্মের ফিরিস্তি দেখে চক্ষু চড়কগাছ। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এসব জুলফিকার নিউটনের কিনা! যাকে একসময় কুম্ভীলকবৃত্তির জন্য আমরা সব বন্ধুরা (শিমুল, শাওন, সেলিম রেজা, কাজল, মেহেদি, রুবিনা ও নাহিদসহ অনেকে) বয়কট করেছিলাম; যাকে একসময় ইত্তেফাকে রোকনুজ্জামান দাদা ভাই কুম্ভীলকবৃত্তির জন্য বাইশ তেইশ বছর আগে তাঁর সম্পাদিত পাতায় লেখা না ছাপানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন; যাকে আমারা লেখালেখির জগতে অন্যের লেখা আত্মসাত্কারী হিসেবে জানতাম সে কিনা এ সময়ের মধ্যে এত গুণ অর্জন করে ফেলেছে! তা আমরা বন্ধুরা কেউই এতদিন জানতাম না।

      ক’দিন থেকে শুনছি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে আমাদের একদার বয়কটকৃত সেই বন্ধু জুলফিকার নিউটনকে নিয়ে কি সব লেখা হচ্ছে। কৌতূহলবশত জীবনে প্রথমবারের মত তেপান্তর সাইবার ক্যাফে এসে এক বন্ধুর সহায়তায় রেজাউল করিম সুমনের ‘হিত্যে কুম্ভীলকবৃত্তি সংক্রান্ত লেখাসহ অন্যান্যদের লেখাগুলো পড়ে বার বার মনে হয়েছে জুলফিকার নিউটন ক্রিপ্টোমেনিয়াক রোগে চরমভাবে আক্রান্ত। ন্যূনতম বোধসম্পন্ন কোন মানুষের পক্ষে এ কাজ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তপন বাগচীর ফোনালাপে দেয়া তার অনেক তথ্যই মিথ্যা। আমার স্মৃতিভ্রম না হলে, আমার যতদূর মনে পড়ে আমাদের অগ্রজ জনাব হোসাইন কবির তার প্রতিপক্ষ হয়ে কখনোই চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নি, তিনি তখন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানকারী তরুণ শিক্ষক ছিলেন। কারণ চাকসু নির্বাচনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে আমরা তার প্রামাণ্য সাক্ষী। আর হোসাইন কবিরকে যে পন্থী বলে নিউটন ফোনালাপে উল্লেখ করেছেন তা তো রাতকে দিন দিনকে রাত করার সামিল।

      স্বপন মাহমুদ
      চট্টগ্রাম

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তপন বাগচী — অক্টোবর ১৩, ২০০৮ @ ১২:১৬ অপরাহ্ন

      বিষয়টির জন্য জুলফিকার নিউটনের অনুতাপ প্রকাশ করা মানে পাপের দায় স্বীকার করা। কথোপকথন প্রকাশের পরেও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। এই ধরনের অভিযোগ যাতে না ওঠে সেই ধরনের কাজ করবেন বলে তিনি বলে অঙ্গীকার করেছেন। তিনি আমাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁর অবস্থান এই সাইটে তুলে ধরার জন্য। তিনি তাঁর বন্ধু অধ্যাপক হোসাইন কবিরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

      আমি চেষ্টা করেছি, একটা মীমাংসার পথ খুঁজতে। এজন্য অনেকের ধন্যবাদার্হ হতে পেরে খুশি লাগছে। কিন্তু তাঁর বইগুলো যে বাজারে রয়েছে! প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানানো দরকার যাতে ওগুলো আর বাজারজাত না করা হয়। ইতোমধ্যে একজন প্রকাশক আমাকে জানিয়েছেন পাণ্ডুলিপি হাতে পাওয়া সত্ত্বেও জুলফিকার নিউটনের বই তিনি বের করবেন না। আরেকটি অনুবাদের বই ২০০৯ সালে প্রকাশের জন্য তিনি এক প্রকাশককে দিয়েছিলেন। আহা! আমাদের প্রকাশকবৃন্দ যদি এরকম সচেতন হতেন!

      তপন বাগচী
      ঢাকা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রণদীপম বসু — ফেব্রুয়ারি ৭, ২০০৯ @ ১১:৩৯ অপরাহ্ন

      জুলফিকার নিউটনের মতো আরো যেসব অজ্ঞাত কুম্ভীলকরা রয়ে গেছে তাদেরকে প্রতিরোধ করা না গেলে জাতি সম্ভবত এমন বিশাল একটা মেধাশূণ্যতার কৃষ্ণগহ্বরে পতিত হবে যে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে একটা অপদার্থ তস্কর প্রজন্ম হিসেবে চিহ্ণিত হয়ে যাবো। এর প্রভাব কত গভীর তার সর্বশেষ নমুনা রোকেয়া কবীর ও মুজিব মেহেদীর মুক্তিযুদ্ধে নারী গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি চুরি করে বই প্রকাশের ঘটনা। এখানে দেখুন: http://www.sachalayatan.com/muzib_mehdy/21582

      ধন্যবাদ রেজাউল করিম সুমনকে শ্রমলব্ধ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ লেখাটির জন্য।

      – রণদীপম বসু

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হেলাল সুমন — এপ্রিল ২৯, ২০০৯ @ ১০:২২ পূর্বাহ্ন

      ভাইরে আমি তো একেবারে ‘থ’। কিন্তু আরও কত আছে, তার খবর কে দিবে? নামিদামি লেখকরা কী করেন?
      মুহম্মদ জাফর ইকবালের কপোট্রনিক সুখ দুঃখ আর আসিমভের রোবটিক্স পড়লে কী বলবেন? কিম্বা হুমায়ূন আহমদ-এর অমানুষ?
      এগুলা আর ভালো লাগে না রে ভাই। কোথায় গিয়া সৎ মানুষ পাই?

      – হেলাল সুমন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রেজাউল করিম সুমন — ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১০ @ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

      গত বছর ঝিনুক প্রকাশ করেছিল জুলফিকার নিউটন “অনূদিত” কাফ্‌কার গল্পসমগ্র। বইমেলায় ঝিনুক-এর স্টলে প্রকাশককে বলেছিলাম যে, নিউটনের চৌর্যবৃত্তির দীর্ঘ ইতিহাস তাঁর হয়তো জানা নেই। তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে জানিয়েছিলেন – তিনি এ বিষয়ে অবহিত; তবে বিষয়টি তাঁর গোচরে এসেছে ওই বইটি প্রকাশিত হয়ে যাবার। টাকা খরচ করে ফেলেছেন, অগত্যা তা তুলে আনার জন্য জেনেশুনেই ওই চুরি-করা অনুবাদ-বইটি তাঁকে বিক্রি করতে হচ্ছে!

      ক’দিন আগে খবর পেয়েছিলাম এ বছর তাম্রলিপি জুলফিকার নিউটন “অনূদিত” চারটি বই ছেপেছে! আজ বইমেলা বন্ধ হবার মুখে তাম্রলিপি-র স্টলে গিয়ে খোঁজ নিতেই প্রকাশক সগর্বে বইগুলো বের করে দেখালেন – টলস্টয় (তল্‌স্তোয়), চেখভ, মোপাসাঁ ও জ্যাক লন্ডনের শ্রেষ্ঠ গল্প!

      – রেজাউল করিম সুমন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর — জুলাই ২৬, ২০১০ @ ৪:৩৩ অপরাহ্ন

      জুলফিকার নিউটন-এর অনুবাদের চৌর্যবৃত্তি সম্পর্কে যেমন জানা গেল, তেমনি জানা গেল কবীর চৌধুরী কর্তৃক একান্ত উদাসীনভাবে সেসবকে অনুমোদন দেয়ার কাহিনী। এইভাবে যদি অনুবাদ চুরি করা হয় আর তা যদি কবীর চৌধুরীর মতো অনুবাদ-বিশেষজ্ঞ কর্তৃক প্রশংসা পায় তাহলে আমরা তো অবাক হওয়া ব্যতীত আর কোনো পথই দেখি না। রেজাউল করিম সুমনকে এমন অনুসন্ধানপ্রবণ কাজের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

      – কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com