মোহামেদ চউক্‌রির ডায়েরি

তানজিয়েরে জঁ জনে

হোসেন মোফাজ্জল | ৭ জুলাই ২০০৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন

t06.jpg
মেইন স্কয়ার, তানজিয়ের, মরক্কো

genet_book.jpg ফরাসি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিস্ট জঁ জনের মরক্কো বাসের সময় সেদেশের লেখক মোহামেদ চউক্‌রির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জঁ জনে ইন তানজিয়ের (Jean Genet in Tanger, ১৯৯৩) বইটি ডায়েরির আকারে লিখিত চউক্‌রির সে সব দিনের স্মৃতিকথা। এখানে চউক্‌রি জনেকে দেখেছেন অনেক কাছ থেকে।

৮০ পৃষ্ঠার বইটি কয়েক কিস্তিতে আর্টস-এ প্রকাশিত হবে। অনুবাদকের ভূমিকার পরে ডায়েরির প্রারম্ভিকা হিসাবে ফ্রান্সের লো মোঁদ পত্রিকার ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত চউক্‌রির পরিচিতিটুকু যুক্ত হলো। পল ফ্রেডরিক বৌলস্-এর ইংরেজি থেকে লেখাটি অনুবাদ করা হয়েছে। বি. স.

১.

অনুবাদকের ভূমিকা

ফরাসী সাহিত্যের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং পরবর্তীতে পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিস্ট জঁ জনে ছিলেন ঘরপালানো ছন্নছাড়া কিশোর। পনের বছর বয়সে তাকে পেনাল কলোনিতে পাঠানো হয় দুরন্তপনার কারণে। জেলে বসে জনে লেখেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দ্য মিরাকল অব দ্য jean-genet-alberto-giacomet.jpg……
আলবের্তো জিয়াকোমিত্তির ছবি: ব্যালকনিতে জঁ জনে
……..
রোজ
। ফরাসী সামরিক বাহিনী থেকে তাকে বের করে দেয়া হয় সমকামিতার দোষে। পরে অনেক দিন ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর দিন কেটেছে ছেঁচড়া চুরি করে আর বেশ্যার দালালদের সাথে মিশে। এ অবস্থা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দ্য থিফ্স জার্নাল। এরপর লেখেন আওয়ার লেডি অব ফ্লাওয়ার্স

লেখায় মুগ্ধ হয়ে জঁ ককতো, পাবলো পিকাসো ও সার্ত্রের মত লোকেরা তাঁর সাথে বন্ধুত্ব পাতেন। সার্ত্রে তাঁকে নিয়ে লেখেন ঢাউস বই দরবেশ জনে : অভিনেতা এবং শহীদ (Saint Genet, Actor and Martyr)। তার বন্ধু ছিলেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো, ইয়াসির আরাফাত। তিনি ফিলিস্তিনি রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন ছয় মাস। সে অভিজ্ঞতা থেকে লেখেন প্রিজনার অব লাভ। প্যারিসে আলজিরীয়দের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফুকো ও সার্ত্রের সাথে মিলে প্রতিবাদ করেন তিনি। বৈরুতের উপকণ্ঠে শাবরা এবং শাতিলা ফিলিস্তিনি ক্যাম্পে বর্বর হত্যাকাণ্ডকে মনে রেখে তিনি লিখেন শাতিলায় চার ঘণ্টা (Four Hours in Shatila)।

মরক্কোর পর্যটন শহর তানজিয়েরে অনেকবার ভ্রমণ করেন জনে। এখানে ভবঘুরে গরীব আরব লেখক মোহামেদ চউক্‌রির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। উত্তর মরক্কোর নাদোর শহরের কাছে বেনি শিকোরে দুর্ভিক্ষের দিনে জন্মেছিলেন চউক্‌রি। মোহামেদ চউক্‌রিকে অল্প বয়েসে এক দোকানে মাসিক ত্রিশ পেসোয় বন্ধক রেখেছিলেন তার বাবা। এগারো বছর বয়সে অত্যাচারী পিতার কবল থেকে পালিয়ে কখনো ডককর্মী, কখনো চোরাকারবারী বা ক্যাফে বয় হিসেবে বড় হয়ে ওঠেন তিনি। বিশ বছর বয়েসে চউক্‌রি লেখাপড়া শুরু করেন। আমেরিকান নাট্যকার টেনিসি উইলিয়ামসের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব হয়েছিল। মোহামেদ চউক্‌রির অটো-বায়োগ্রাফি পড়ে টেনিসি উইলিয়ামসের মন্তব্য ছিল: ‘A true document of human desperation, shattering in its impact.’

চউক্‌রির উল্লেখযোগ্য বই তাঁর আত্মজীবনীমূলক ট্রিলজি — ফর ব্রেড অ্যালোন (Al-khoubz Al-Hafi, ১৯৭৩), টাইম অফ মিসটেকস অর স্ট্রিটওয়াইজ (Zaman Al-Akhtaâ aw Al-Shouttar, ১৯৯২) এবং ফেসেস (১৯৯৬)। তারও আগে তিনি লেখেন ভায়োলেন্স অন দ্য বীচ (Al-Unf ala al-shati, ১৯৬৬)। চউক্‌রি মরক্কীয় আরবী দরজা (Darja) বা বারবার (Berber) ভাষায় না লিখে ধ্রুপদী আরবিতে লিখতেন। ত্রিশটি ভাষায় অনূদিত হয় তাঁর বই। আমেরিকান আরেক লেখক পল বৌলস্-এর সাথে তাঁর সখ্য গড়ে উঠলে তারই ইংরেজি অনুবাদে জঁ জনে ইন তানজিয়ের বইটি প্রকাশিত হয়। চউক্‌রিকে ইংরেজি প্রকাশনার জগতে পলই নিয়ে আসেন ইংরেজ প্রকাশক পিটার ওয়েনের সাথে পরিচয় ঘটিয়ে দিয়ে। উল্লেখ্য, টেনিসি উইলিয়ামস্ ও পল বৌলসকে নিয়ে মোহমেদ চউক্‌রি বই লিখেছিলেন।

মোহামেদ চউক্‌রির লেখা বর্তমান ডায়েরিতে ধরা পড়ে গরীব জনগোষ্ঠির জন্য জনের মমতা। মানুষ হিসেবে তাঁর একাকিত্ব, লেখালেখি ও শিল্পসাহিত্যের জন্য তাঁর প্রচেষ্টার কথা। আমেরিকা জনেকে সে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। রাশিয়ায় জোসেফ স্তালিন তাঁর সব বই নিষিদ্ধ করেছিলেন। গলার ক্যান্সার হয়েছিল জেনের। ১৯৮৬ সালে প্যারিসের হোটেল রুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। মেঝেতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তানজিয়ের থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে লারাচিতে তাঁকে কবর দেয়া হয়।

genetgravel.jpg
লারাচিতে জঁ জনের কবর

২.

লো মোঁদ পত্রিকা থেকে

মোহামেদ চউক্‌রি অসাধারণ লেখক, সন্ন্যাসীও বলা চলে তাঁকে। এখন তাঁর বয়স চুয়ান্ন, কোনোদিনই শিশুকাল ছিল না তাঁর; শৈশব তাদের পরিবারে ছিল রীতিমত বিলাসিতা। একেবারে বাচ্চা বয়সে তার পরিবারকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। তেরো ভাইবোনের নয়জন মারা গিয়েছিল রোগে আর অপুষ্টিতে। ১৯৪২-এর শীতের সময়ের কথা। যুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষের বছর। শীত আর মৃত্যু থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য রিফ-এর ক্ষেতমজুররা উত্তর মরক্কোর এক গ্রামে এসে মিলিত হয়। কিছুটা দৈবক্রমেই চউক্‌রি তানজিয়েরে এসে হাজির হন। সাত বছর বয়স, অনেক কিছু শিখে ফেলেছেন আর ততদিনে মোহ কেটে গেছে। জেনে ফেলেছেন দুর্লভ মশলা আর চুরি করা রুটির স্বাদ।

তানজিয়ের সেসময় পৌরাণিক জঙ্গল; ডাকাত, নানান অবৈধ ব্যবসায়ী আর গলিত আত্মায় ঠাঁসা। বন্দরের একটা বিরাট পাথরের আড়ালে চউক্‌রি আশ্রয় পায়। হয়ে ওঠে সবচে’ ক্ষুদে রোগাটে ডককর্মী, যে আবার সবসময় লুকিয়ে থাকে কুয়াশায়। এর পরের কিছু বছর কাটে “গ্রান সোকো”তে পানি পৌঁছে দেবার ঠেকা কাম করে, ক্যাফে বয়, স্বল্প চাহিদার ট্যুরিস্টদের গাইড এবং ভবঘুরে হয়ে। কখনো সখনো বিক্রি করেছেন নিষিদ্ধ পণ্য, পরনের কাপড়ের তলে চোরাই আমেরিকান সিগারেট-এর কার্টন সামান্য বিনিময়ে বিক্রি করেছেন।

তার বাবা ছিলেন স্প্যানিশ আর্মির সৈনিক। একুশ বছর বয়েসেও চউক্‌রি জানতেন না কীভাবে পড়তে বা লিখতে হয়। তারপর মরক্কোর স্বাধীনতা আসে; নতুন যুগের আভাস দেখে চউক্‌রি বুক বাঁধেন আশায়, প্রথমবারের মত স্কুলে যাবার দুঃসাহস দেখান: “আমি লারাচির (তানজিয়ের এর ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাই,” স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “আমি লম্বায় ছিলাম শিক্ষকের কাছাকাছি। উনি বয়সে কম ছাত্রদের দায়িত্ব দেন আমার উপর। কোনো না কোনো ভাবে বলা চলে আমি হয়ে উঠি তার সহকারী। যেসব সময় আমি নষ্ট করেছি তা ফিরে পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠি। বেশ, বলা চলে সবটাই বৃথা যায় নাই। আমি এর চেয়ে আলাদা কিছু করতেও পারতাম না। আমি দেখেছি আমার ভাইদের না খেয়ে মরে যেতে। আমি স্কুলে ছিলাম চার বছর, তারপর আমার বিদায়ের পালা, আমি অনেক বুড্ডাহ্ হয়ে গেছি।”

“সেই থেকে আমি নিজে নিজেই শিখেছি। আবার জীবন শুরু হয় রাস্তায়, ক্যাফেতে। সবকিছু আমি পড়েছি। আমার কখনও থাকার জায়গা ছিল না; আমি ঘুমাতাম মসজিদে। সারারাত বসে থেকে ফজরের জন্যে অপেক্ষা করতাম। দিনের প্রথম প্রার্থনার জন্যে মসজিদের বাগানের দরজা খুলে দেয়া হতো। অন্যরা যেত নামাজ পড়তে, আমি যেতাম ঘুমাতে।”

একসময়কার মূর্খ চউক্‌রি আঞ্চলিক স্কুল থেকে এন্ট্র্যান্স পাশ করেন। তেঁতুয়ার এক স্কুলে কাজ করার সময় সেখানে এমন একজনের দেখা পান “যাকে সবাই শ্রদ্ধা করে।” তিনি লেখক মোহামেদ সেবাগ। চউক্‌রি তাঁর মতো হতে চেয়েছিলেন। তিনি স্মরণ করেন, “আমি একবার এক ক্যাফেতে গিয়ে তাঁর মালিককে বলেছিলাম, আমিও তাঁর মত লেখক হতে চাই।” চউক্‌রি এসময় থাকতেন এক গরীব ছাউনিতে। লেখা দিয়ে তিনি চেয়েছিলেন ধাবমান লাঞ্ছনার কিছুটা লাঘব ঘটাতে। “আমি পড়েছি অনেক, পরিশ্রম করেছি অনেক, কিন্তু হয়েছি একজন প্রান্তিক লেখক, কেউ চেনে না, কেউ স্বীকার করে না, আমাকে বিবেচনা করা হয়েছে খারাপ ভাবে। ১৯৬০ সালে আমি মরক্কো প্রেসে কিছু কবিতা এবং লেখালেখি প্রকাশ করি। ১৯৬৬ সালে নাম করা রিভিয়্যু বেরোথ আল আদাব আমার লেখা বের করে, Al-Unf ala al-shati (ভায়োলেন্স অন দ্য বীচ)। এরপর থেকে প্রায় সারা আরব জাহানে আমার লেখা বের হতে থাকে।”

সত্তরের দিকে চউক্‌রির সাথে দেখা হয় আমেরিকান লেখক পল বৌলস-এর, সে সময় তিনি তানজিয়েরে থাকতেন। বৌলস তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন ইংরেজ সম্পাদক পিটার ওয়েন-এর সাথে, যিনি কিছুদিন আগে
genet.jpg…….
পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিস্ট জঁ জনে, তাঁর ডানে মিশেল ফুকো
……..
তানজিয়েরের যুবক মোহাম্মেদ ম্রাবেট-এর অটো- বায়োগ্রাফি বের করেছেন। চউক্‌রির জীবন সম্বন্ধে বৌলস জানতেন, প্রস্তাব দেন চউক্‌রি লিখবেন আর ওয়েন সেটা প্রকাশ করবেন। ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে বইটি বের হয়।

তার কিছু পরে চউক্‌রি টেনিসি উইলিয়ামস্-এর সাথে তিনি যে সময় কাটিয়েছিলেন তার জার্নাল বের করেন, একই স্পৃহায় তিনি তাঁর আরেক বন্ধুর জন্য উৎসর্গ করেন তানজিয়েরে জঁ জনে (দি ইকো প্রেস)।

যৌবনের সেসব নিঃসঙ্গতা তিনি এখনও মনে করেন কৌতুক ভরে, তবে তীব্র মনঃকষ্টে। কষ্টের প্রতি জন্মানো ক্ষোভ এবং তাঁর বাবার সাথে বিরোধ আজও সবকিছুতেই চলে আসে। চুরি যাওয়া শৈশবের জন্যে সহিংস হয়ে ওঠেন তিনি। বোর্ডিং হাউসের একটা ছোট্ট রুমে একলা বসবাস করেন চউক্‌রি, কাজ করেন তানজিয়েরের এক কলেজে প্রশাসক হিসেবে। আর রাতের বেলায় ছায়া আর স্বপ্ন জয় করতে নেমে আসেন সেই রাস্তায় আজও যা লিজেন্ডদের নিয়ে মুখরিত।
জুলাই ২৩-২৪, ১৯৭৮

t04.jpg
মরক্কোর বিখ্যাত নীল

তানজিয়েরে জঁ জনে (কিস্তি ১)

অনুবাদ: হোসেন মোফাজ্জল

৮/১১/৬৮

ক্যাফে সেন্ট্রালে জেরার্ড বেটীর সাথে বসেছিলাম, হঠাৎ সে বলে ওঠে, দেখো! অই যে জঁ জনে!

হাত দু’টো পকেটে ফেলে চলেছেন ঢিলা তালে, উস্কুখুস্ক। ক্যাফে সেন্ট্রালের রকের দিকে একনজরে তাকিয়ে।

তখনও দাঁড়িয়ে, সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়ানো, চোখ ক্যাফে ফুয়েন্তেসের দিকে। এরপর পছন্দ করেন ক্যাফে তানজিয়ের। আমি জেরার্ডকে বলি, চললাম ওনার সাথে দেখা করতে।

না! চেষ্টাও কোরো না।

না কেন?

যেখানে থাকেন সেই ডেরায় ফিরে যাচ্ছেন। অন্তত এটুকু আমি তোমাকে বলতে পারি তুমি তাঁর সাক্ষাতও পাবে না। জেরার্ড-এর নিষেধ পাত্তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমি দেখতে পাই ক্যাফে ট্যান্জিয়েরে এক মরোক্কীয় তরুণের সাথে জঁ জনেকে বসে থাকতে।

প্রায় ঘণ্টা খানেক বসে থাকি আর মনে মনে গেল বছরগুলিতে কোন কোন লেখক আর পেইন্টার তানজিয়েরে এসেছে তার একটা তালিকা তৈরি করি। এক চোখ থাকে স্কয়ারের দিক থেকে পিলপিল করে আসা মানুষজনের ভিড়ের মধ্যে, আর অন্য চোখটা ঠিক জঁ জনের মাথার উপর, সূর্যের আলোয় যা চিক্‌চিক্‌ করছে। দেখি তিনি উঠতে শুরু করেছেন। আমি জেরার্ডকে বলি, এবার সামলে দেখো —

জেরার্ড চিৎকার তোলে, তোমার মাথামুণ্ডুর ঠিক নাই! তার দিকে ফিরে আমি দাঁত ভেঙচাই। পেছন থেকে শুনি সে আমাকে নিষেধ করে বলছে, এটা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না!

জনে হাঁটছেন। আমি তাঁর দিকে আস্তে এগুতে থাকি। তিনি থামেন, তাঁর হাতজোড়া পকেটে পোরা, সামনের দিকে সামান্য নোয়ানো।

আমার দিকে অনুসন্ধিৎসু চোখে তাকালেন। আমি বলি, আপনি মঁসিয়ে জনে, তাই না?

মুহূর্তের জন্যে কিছুটা ইতস্তত বোধ করেন, এবং কোনো উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, কে আপনি?

অপেক্ষা করে বলি, একজন মরোক্কীয় লেখক।

তিনি পকেট থেকে হাত বের করেন, খুশী হলাম।

জেরার্ডকে দেখলাম ক্যাফের জানালার পিছন দিয়ে আমাদের দেখছে, অভিভূত হয়ে হাসছে।

সায়াঘিনেস্ পর্যন্ত হেঁটে যেতে যেতে আমি জনেকে জিজ্ঞেস করলাম তানজিয়ের তাঁর পছন্দের কিনা।

অবশ্যই, তিনি নির্দ্বিধায় জানালেন।

আপনার কি এটাকে পৃথিবীর সুন্দর শহরগুলির মধ্যে অন্যতম একটি বলে মনে হয় না?

অবশ্যই না! কোথা থেকে আপনার এ ধারণা জন্মেছে।

আমি শুনেছি।

ঠিক না। এশিয়াতে এর চেয়ে ঢের ঢের সুন্দর শহর আছে।

জোকো শিকো থেকে হোটেল মিনজাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যেতে আমাদের মিনিট বিশেক লাগে, মরক্কোর লেখকদের সম্পর্কে আমরা আলাপ করি, লেখা এবং প্রকাশনার ক্ষেত্রে তারা কোন কোন ধরনের সমস্যার সামনাসামনি হয় সে সব নিয়ে কিছুটা আলাপ করি। হোটেলের সামনে আসতেই তিনি হাত এগিয়ে দিয়ে বলেন, দিনের বেলায় আমি সবসময় একটু ঘুমাই। কালকে, যদি আপনি চান, তবে আমরা জোকো শিকোতে বেলা দু’টার দিকে মিলিত হতে পারি।

tangier-early-morning-1.jpg
এখনকার তানজিয়ের, প্রভাত

১৯/১১/৬৮

ক্যাফে আল মিনারাতে বসেছিলাম। ভাবছিলাম তিনি আসবেন নাকি আসবেন না? আমার কাছে এখনও গতকালকের মতই মনে হচ্ছে কারণ যার জন্য আমি অপেক্ষা করছি তা এখনও ঘটেনি।

আমি তাঁকে আগের মতই ধীরতালে এ পথেই আসতে দেখি। তাঁর দিকে হাত নাড়ি। তিনি হাসেন এবং তাঁর চোখ দুটো জ্বলে ওঠে। উঠে দাঁড়াই। উষ্ণ হাত মেলাই।

তাঁর হাবভাব কালকের তুলনায় বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হয়। আমরা বসি। তিনি মিন্ট চা’য়ের অর্ডার দেন, আমি দ্বিতীয়বারের মত নিই। পথের মানুষজন কেউ কেউ রাস্তার উপরে দিয়ে যাচ্ছে, কেউবা নিচে নেমে আসছে তারপর আর ফিরে আসছে না। অন্যেরা ক্রমাগত সামনে পেছনে ছোটাছুটি করছে। যাদের বেশির ভাগই কিশোর, বালক — টুরিস্টদের ধান্ধায় আছে।

আমি বুঝতে পারি না কেন আপনার কোনো বই আরবিতে অনুবাদ হয়নি।

আপনি কি কোরআনের আরবি’র কথা বলছেন?

আমি তাঁকে ব্যাখ্যা করি কোরআনের আরবি হচ্ছে ক্ল্যাসিকাল আরবি।

আমি জানি না। কেউ সেটা করতে চায়নি। একদিন হয়ত হবে, নাও হতে পারে। নির্ভর করছে আমার বিষয়গুলো তাদের আগ্রহের সৃষ্টি করে কি-না। ব্যক্তিগত ভাবে, আমার ধারণা আরবরা নৈতিকতার ব্যাপারে বেশিরকমের স্পর্শকাতর।

আমার সাথে Le Rouge et le noir [দ্য রেড এন্ড দ্য ব্ল্যাক] ছিলো। তিনি তার পৃষ্ঠাগুলো উল্টেপাল্টে দেখেন। এটা পছন্দ করো তুমি?

জ্বী, আমি প্রথমে আরবিতে পড়েছি, এখন পড়ছি ফরাসিতে। আরও যোগ করি: একভাবে বলতে গেলে জুলিয়ানের পারিবারিক জীবন অনেকটা আমার মতই। একটা ব্যাপার তো বিশেষ করে পুরাপুরি মিলে যায় — মঁসিয়ে সোরেল তার ছেলেকে মেয়রের কাছে বার্ষিক তিনশ’ ফ্র্যাঙ্কে বাঁধা রাখেন। তেতুয়াঁয় আমরা যেখানে থাকতাম সেখানে আয়েন খাবাজের কোয়ার্টারে ক্যাফে চালাতো এমন এক হ্যাশিশখোরের কাছে আমার বাবা মাসিক ত্রিশ পেসোতে আমাকে বন্ধক রেখেছিল।

তোমার সমস্যাটা আমি বুঝেছি। এক্ষেত্রে তুমি কেবল একলা না। সাহিত্যপাঠে কখনোই কোনো সৌন্দর্য খুঁজে পাবে না যদি তুমি এভাবে পড়ো। এরকমের একটা কিছু মাথায় রেখে তুমি পাঠ করতে পারো না যে কারুর জীবনের সঙ্গে তোমার নিজের জীবনের মিল রয়েছে। এটাকে অবশ্যই তোমাকে আলাদা করে রাখতে হবে। তোমার জীবন অন্য কারুর জীবন না।

আমি ভেবেছিলাম বাসিলের ব্যক্তিত্ব (দ্য পিক্চার অব ডোরিয়েন গ্রে) এবং লর্ড হেনরীর সাথে শিল্প এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের আলাপচারিতার কথা।

আমি যা বোঝাতে চেয়েছিলাম সেটা হচ্ছে জুলিয়ান আমার অতীত জীবনের উপর অন্যরকমের একটা আলো ফেলে, যা কি-না সান্ত্বনা দেয় আমার বর্তমান অবস্থাকে।

তাই বলো, সে উত্তর দেয়। জুলিয়ানের জীবন বিস্ময়কর। সে বাস্তব। স্তাঁদাল তাঁর সময়ের একজন বিখ্যাত লেখক।

মুসল্ট আত্মপক্ষ সমর্থনে অস্বীকার করেছিল (কামুর L’Estrange [দি আউটসাইডার]-এ) জুলিয়ান যখন জেলে সেটা আমাকে মনে করিয়ে দেয়।

এটা কিন্তু এক জিনিস না, জনে বলেন। এবং স্তাঁদাল যে যুগে লিখেছিলেন তা নিয়ে একটু বলতে শুরু করেন। এরপর বলেন: কিন্তু কামু ছিলেন বেশি ভাগ্যবান। L’Estrange এমন একটা সময়ে লেখা যখন ফ্রান্স আর আর্মি এবং গির্জা দিয়ে পরিচালিত হয় না। আজকালকার বইগুলোর নায়করা প্রত্যাখান করার বেলায় আরও অনেক স্বাধীন। এটা খুবই দুর্লভ, সে যে মেয়েটিকে ভালবাসত তার জন্যই সে মারা গেছে। মেয়েটা হয়ত তাকে গুলি করতে পারতো, কিন্তু সে তার সেলে মেয়েটির জন্য কোনো ভালবাসা বোধ করেনি, এমনকি গেলোটিনে যাবার পথেও মেয়েটার নাম আর উচ্চারণ করেনি। তুমি বলতে পারো কাফ্কাই প্রথম রিফাস্ অবস্কার (রিফিউজাল অবস্কিউর) নিয়ে লিখেছে। ধরো K, দ্য ট্রায়াল যদি উদাহরণ হিসেবে ধরি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি মারাত্মক। তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে, কিন্তু তার কোনো বিচারই হয় না। এমন যখন সময় তার জীবন ঝুঁকির সামনে, তখন সে একটা মেয়ের সাথে বসে কমিক লাভার খেলছে।

কিছু পরে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি তাঁর বন্ধু সার্ত্রের কথা। তাঁকে গেল দু’বছর দেখেন না বলে জানান।

আমি তাঁর প্রায় বইগুলোই পড়েছি। একদিন আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব।

ব্যবস্থা করা কোনো ব্যাপার না। তিনি আরও বলেন: পোস্টওয়ার সার্ত্রে আর প্রিওয়ার সার্ত্রে এক মাল না। জার্মান কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছে নতুন চামড়া নিয়ে। আমিও তাই করেছি। আমরা দুজনেই দুজনার চামড়া না বদলালে বন্ধু হতে পারতাম না।

আমি তাঁর সাথে হোটেল পর্যন্ত হাঁটি। যাবার পথে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি তিনি স্প্যানিশ বলতে পারেন কি-না।

না, তিনি উত্তর দেন। আগস্টে আমি শিকাগোতে ছিলাম, সেখানে কয়েকটি শব্দ শিখেছি।

এবং ইংরেজি?

ধুৎ না।

সাক্ষাতের নতুন কোনো দিনক্ষণ ঠিক না করে আমি তাঁকে হোটেলের সামনে বিদায় দিয়ে চলে আসি।

t031.jpg
তানজিয়েরে হাঁটাপথ

২০/১১/৬৮

ব্রায়ন জীসিন-এর সঙ্গে মেদিনায় হাঁটছিলেন তিনি, আসছিলেন কলে বেনর্চকীর দিক থেকে। আমাকে কোনো প্রকার সম্ভাষণ না জানিয়ে, স্ত্যাঁদাল-এর উপন্যাসে ব্যবহৃত লাল রং নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন। শোনো, গতকালকে আমি যাই বলে থাকি না কেন তা সত্ত্বেও লাল মানেই আর্মি নয়। এটা আসলে বিচারকরা যারা লাল টুপি পড়ে তাদের অর্থে বলা। লাল রং হচ্ছে বিচারকদের আর কালো হচ্ছে পাদ্রীদের।

restaurant2.jpg
রেস্টুরেন্ট

২১/১১/৬৮

দুপুরের পরে আমি তাঁর সাথে জোকো শিকোতে গিয়ে দেখা করি। ঘণ্টাখানেক আমরা কথা চালাই। মরক্কোর কৃষ্টি এবং অর্থনীতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। জানতে চান শিক্ষক এবং ছাত্ররা অবসর সময়ে বা স্কুলের বাইরে মেলামেশা করে কি-না।

না, মরক্কীয়রা না ফরাসীরা। শিক্ষক এবং ছাত্রের মাঝে উঁচু দেয়াল তোলা আছে।

কিন্তু কেন?

আমি জানি না।

মনে হলো তিনি নিরাশ হয়েছেন। এরপর আমরা ইসলাম এবং ক্রিশ্চিয়ানিটি, চার ইভানজেলিস্টদের নিয়ে কী লেখা হয়েছে, এবং কোরআনের আত্মপ্রকাশ নিয়ে আলাপ করি। ব্যক্তিগতভাবে, আমার কাছে ম্যাথু, মার্ক, লুক এবং জন-এর চেয়ে কোরআন অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য মনে হয়েছে।

কিছুক্ষণের জন্যে আমরা চুপচাপ থাকি। আবার নতুন করে শুরু করি। আমি প্রশ্ন করি, আপনি কি কোনো আরব লেখকের বই পড়েছেন?

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে না। কেবলমাত্র খাতিব ইয়াছিন কিছুটা পড়েছি। সে আমার বন্ধুমানুষ।

নিশ্চিত হবার জন্য আমি জানতে চাই: এমন কি তাহা হুসেইন্ও না? অথবা তওফীক আল-হাকীম?

এঁরা কারা?

দুই মিশরীয় লেখক। তাদের কিছু বই ফরাসী এবং অন্য ভাষাতেও অনুবাদ হয়েছে। বিশেষ করে তওফীক আল-হাকীম।

আমি তাদের চিনি না। আশা করি কোনো একদিন তাঁদের বই আমি পড়ব।

২৪/০৯/৬৯

আজ সকালে জেরার্ড বেটী আমাকে জানায় সে জঁ জনেকে জোকো শিকোতে দেখেছে। দুপুরে আমি ব্রায়ন জীসিনের কাছে ক্যাফে জাগোরাতে ছুটে যাই। তার গুরুতরভাবে আহত পা নিয়ে সে এখনও খুব নাজেহাল অবস্থায়, যা কি-না তাকে হাঁটাচলা করতে দিচ্ছে না। সে আমাকে অনুরোধ করে আমি যেন হোটেল মিনজাহ্তে গিয়ে জনেকে কাল দুপরে খাবারের নিমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়ে আসি।

লবির পাশের ফোন থেকে আমি জনের সাথে কথা বলি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, এবং আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি La Chartreuse de Parme [দ্য চ্যাটারহাউস অব পারমা] পড়েছি কি-না। সহজ হতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করি, এবং উত্তর দেবার আগে হেসে ফেলি: উহ্, না। এখন পর্যন্ত না। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে কিছু দিনের মধ্যেই পড়া শুরু করবো।

জনে বলেন গতবছর আমি তোমাকে এটা পড়তে বলেছি, তারপর বলেন, আমাকে মাফ করবে আমি যদি নিচে না নামি। আমি কয়েকটা নেমবুটাল বড়ি গিলেছি। দেখা হবে আগামীকাল, কেয়ার অব আমেরিকা।

ব্রায়ন আমার জন্য ক্যাফে জাগোরাতে অপেক্ষা করছিলো। আমি তার সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্টে যাই। যাবার পথে সে তার পা নিয়ে, এবং কিছু বন্ধুদের নিয়ে অভিযোগ তোলে যারা তাকে, সে যে নতুন বইটা লেখার চেষ্টা করছে তা করতে দিচ্ছে না। আমরা প্যারেড বার-এ এসে থামি। ব্রায়ন তার জন্য হুইস্কির অর্ডার দেয়, আমি বিয়ার নেই। সে জোরের সঙ্গে বলে রাজকুমারী রাসপোলির পাপী দৃষ্টির কারণে মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনাটা ঘটেছে এবং যার জন্যে তার পা খানা গেছে।

মোটর সাইকেলে ওঠার আগে আমার আর জনের উপর সে যে শেষ দৃৃষ্টিটি নিক্ষেপ করেছিলো তা আমি এখনও দেখতে পাই। আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই সে জাদুবিদ্যা চর্চা করে।

মনে হচ্ছে জনে শহরে ফিরে এসেছে, আমি ব্রায়নকে বলি।

জ্বী। এবং ওই নেমবুটালই তাঁকে খুন করবে যদি না তিনি নার্সিং হোমে গিয়ে তাঁর চিকিৎসা করান।

মেলা বছর হলো তিনি কিছু লিখছেন না।

ব্রায়ন বলে আমার মনে হয় না তিনি আর কিছু লিখতে পারবেন। তিনি মনে করেন যা করার সবই তিনি করে ফেলেছেন। ব্রায়ন জানায় তাঁর বইগুলো সে বারবার পড়েছে। আমার বিশ্বাস হয় না যে এই লোকের কোনো প্রথাগত শিক্ষা নেই। সে জানায় জনে আসলে কিছু রহস্য লুকোবার চেষ্টা করছেন। তাঁর জীবন হচ্ছে এই শতকের একটা বিখ্যাত সাহিত্যিক রহস্য।

আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি সে কি ভেবে বলছে জনের এধরনের শিক্ষা নেয়া সম্ভব। সে জানায় এ নিয়ে জনের সাথে তার আলাপ হয়েছে, কিন্তু জনে তাঁর পুরো শিক্ষাটাই এসেছে চোর আর ভবঘুরেদের সাথে থাকা চরিত্র গঠনের সেইসব বছরগুলোতে এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলতে কখনও রাজি হননি। ব্রায়ন জনেকে খোলাখুলি জানিয়েছে সে এটা মানতে রাজি না, সে আরও যোগ করে তার সন্দেহ জনে কোনো ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠানে বড় হয়েছে।

তুমি রাস্তা থেকে রাসিন-এর মত একটা ভাষা শিখতে পারো না, ব্রায়ন বলে চলে, এবং আমি অবাক হবো না যদি শুনি যে জনে গ্রীক আর ল্যাটিন জানে।

আমি জিজ্ঞেস করি জনের এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া কী ছিলো।

কোনো প্রতিক্রিয়া নাই, শুধু মুখটা কিছু মলিন হয়েছিলো, এবং বেশ আশ্চর্যও হয়েছিলেন। তারপর তিনি হাসি দিয়ে সব অস্বীকার করেন। এবং আবার সেই একই গল্প ফাঁদেন সবসময় যা বলেন, সেই চোর আর বেশ্যার দালালের গল্প। তিনি দাবি করেন একটা বিশেষ সময় ছিলো, যদিও বেশি দিন ছিলো না, যখন অপরাধীরা চোস্ত ফরাসীতে কথা বলত। তাই না। তুমি জিনিয়াস জনেকে দেখেছো এবং ক্রিমিনাল জনেকে দেখেছো, কিন্তু আরও একটা জনে আছে, তৃতীয় জনে, সে হচ্ছে রহস্য মানব-জনে।

২৫/০৯/৬৯

আমরা ডেকচি থেকে হাত দিয়ে তুলে তুলে খাচ্ছিলাম। জনে খাবার ছুঁয়ে দেখলেন না বললেই চলে। দুপুরের আহারের শেষে H. আসর গরম করার জন্যে ধর্ম নিয়ে আলোচনা শুরু করে। লক্ষ্য করি জনের কোরআনের ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। তারপর জনেকে উদ্দেশ্য করে H. জিজ্ঞেস করে কেন সে আমাদের মত গরীব মরক্কীয়দের সঙ্গ পছন্দ করে আবার মিনজাহ্‌ মত হোটেলে অবস্থান করে। জনে হেসে ওঠে।

ও তুমি বুঝি জানো না কেন?

না।

কারণ আমি হচ্ছি গিয়ে ঘেয়োকুত্তা। মিনজাহ্ বা হিল্টনে আমি উঠি কারণ আমার দেখতে ভালো লাগে, আমার মত ঘেয়োকুত্তার জন্যে অভিজাত লোকেরা অপেক্ষা করে আছে।

আমরা সবাই হো হো করে উঠি। H. বলে, আর কেনই বা তুমি ঘেয়োকুত্তার মত হতে চাও?

কারণ তারা আমাকে সে রকমটাই ভাবে।

ব্রায়ন এখনও তার পা নিয়ে বড়ই চোটে আছে। আমার সঙ্গে ছিলো L’Etre et le neant [বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস,] La Chartreuse de Parme, এবং Le Balcon [দ্য ব্যালকনি ]। জনে স্তাঁদাল তুলে নিয়ে বললেন, সার্ত্রে আমার বন্ধুমানুষ, কিন্তু La Chartreuse de Parme হচ্ছে L’Etre et le neant থেকে আরও ভালো বই।

আমি বলি, সার্ত্রের বই বড় রকমের জটিল। তিন বছরে আমি মাত্র একশ’ ত্রিশ পৃষ্ঠা পড়তে সক্ষম হয়েছি। মাঝেমধ্যে একটা মাত্র বাক্য পড়তে গিয়ে আমাকে আবার পুরো বইটাই পড়তে হয়েছে।

প্রথম আমি যখন পড়ি তখন আমারও ওরকমের অসুবিধা হচ্ছিলো, জনে জানান। একদিন আমি বইটা সহ সার্ত্রের বাসায় গিয়ে হাজির, এবং আমি তাঁকে বলি: তোমার এই বইটা মেলা ভেজাইল্যা। সে আমার হাত থেকে বইটা নিয়ে তার নিচে নোটস্ এবং নাম্বার লিখে দেয়, এবং আমাকে ক্রমানুসারে দেখিয়ে দেয় কীভাবে বইটার বিভিন্ন অংশ পড়তে হবে। এবং সে আমাকে বলে: আমি মনে করি তুমি এখন থেকে আর কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই বইটা পড়তে পারবে। সে ঠিকই বলেছিলো। যে পদ্ধতি বাতলে দিয়েছিল তা দিয়ে আমি বইটা বুঝতে সক্ষম হই।

তাহলে তিনি আপনাকে যে ভাবে দেখিয়ে দিয়েছিলেন সেভাবে বইটা লিখলেন না কেন? আমি জিজ্ঞেস করি।

সে এটা লিখেছে বিশেষজ্ঞদের জন্য, এইটুকুই সে আমাকে বলেছিলো।

তারপর H. জনের কাছে জানতে চায় তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন কি না? জনে হেসে ওঠে। না আমি জানি না। আমি জানি যেটা তা হচ্ছে পৃথিবীর অস্তিত্ব রয়েছে। তবে ঈশ্বরই কেবল মাত্র জানেন তার নিজের অস্তিত্বের কথা।

দার্শনিকরাই ঠিক। H. বলে। ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই।

জনে কৌতুক করে বলেন: তার মানে তুমি কি একটা নাস্তিক।

ব্রায়ন তার রান্না বাদ দিয়ে এসে বলে H. সবসময়ই ওরকমের। কিন্তু সে কোনোদিনই খোলাসা করে বলে না সে কেন নাস্তিক। এধরনের কথাবার্তা সে শুধুমাত্র বলে যখন বিদেশীদের সঙ্গে থাকে। আবার যখন সে মুসলমানদের সাথে থাকে সে তখন হয়ে যায় কাপুরুষ এবং হিপোক্রেট। কারণ সে জানে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে।

আর তুমি? H. চিৎকার করে বলে তুমি তোমার বিশ্বাসের ব্যাখ্যাটা করো না?

হাঁ। ঈশ্বর আছে। এটাই যথেষ্ট।

না ঈশ্বর নেই, এটাও যথেষ্ট।

আমি জনেকে Le Balcon (The Balcony, ১৯৫৬) বইটার উপর কিছু লিখে দিতে বলি। তিনি আরবি এবং ফরাসী উভয়ই ভাষায় উৎসর্গ লিখে দেন।

লাঞ্চ টেবিল থেকে আমরা বেলা সাড়ে পাঁচটার দিকে উঠে পড়ি, এবং জনেকে প্যালেস দ্য ফ্র্যান্সে বিদায় দেই। সেখানে আমরা দু’টো মেয়ের সাথে মিলিত হই। H. এদের একজনকে আগে থেকেই চিনতো তাই আমরা তার অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ওয়াইন এবং কিফ্ সেবন করি। রাতের বেলায় হৈচৈ শুনে জেগে উঠি। H.-এর কাছে থাকা মেয়েটা আমার রুমে এসে কাঁদতে শুরু করে এবং আধা নগ্ন অবস্থায় আমার সামনে বসে H. কী রকমের বাজে লোক তা নিয়ে অভিযোগ তোলে। H. মেয়েটাকে অনুসরণ করে আমার রুমে এসে ঢোকে এবং মেয়েটিকে তার রুমে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য প্ররোচিত করে। লক্ষ্য করি আমার পাশে শুয়ে থাকা মেয়েটিও কাঁদতে শুরু করেছে। কেন সে কাঁদছে আমি তা জিজ্ঞাসা করার চেষ্টাও করি না।

রাতে অনেক দূর থেকে একটা বিয়ের বাজনা ভেসে আসতে থাকে। দূরের থেকে আসা উৎসবের বাজনা আমাকে সবসময়ই বিষণ্ন করে তোলে। আমি ভাবি: মানুষ বড়ই পলকা।

২৬/০৯/৬৯

আজ জনের সাথে ক্যাফে আল মিনারাতে মিলিত হই। আমার হাতে দি ইডিয়ট এবং আরও কিছু আরবি ম্যাগাজিন: আল আদাব, মোওয়াকিফ্ এবং আল মারিফা। তিনি মন্তব্য করেন নন্ আরব লেখকদের লেখা সে যতটুকু পড়েছেন, তাতে ধারণা হয়েছে আরবীয় সাহিত্য তার নিজস্ব সাধারণ সমস্যা নিয়ে যতটুকু না উদ্বিগ্ন তার চেয়ে আরব সেন্টিমেন্ট নিয়ে পুরোপুরি মগ্ন। তার ফ্রন্টিয়ারের পেছনে যে মানবতা লুকিয়ে আছে তা নিয়ে তারা তেমন আগ্রহী না।

আমি বলি: কিছু আরব সমালোচক মনে করে আপনি অস্তিত্ববাদী, আর অন্যরা মনে করে আপনি অ্যাবসার্ড ঘরানার লোক।

তিনি আমার দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। কারা আমাকে নিয়ে এসব লিখেছে।

কিছু আরব সমালোচক।

তারা যেই হোক না কেন, তারা ভুল। আমি অস্তিত্ববাদীও না আবার অ্যাবসার্ডিস্টও না। আমি সে রকম ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী না। আমি শুধুমাত্র লেখক, হতে পারি ভাল লেখক অথবা খারাপ লেখক।

একটা বালক টেবিলের কাছে আসে। জনে আগ্রহের সঙ্গে তাঁর সাথে হাত মেলান। আমার দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন: এ আমার এক বন্ধু। গত বছর তার সাথে পরিচয় হয়েছিল।

দু’জনা দুজনের সাথে একটা পরিচিত দৃষ্টিবিনিময় করে, কিন্তু কেউ কারুর সাথে কথা বলে না। জনে যখন বালকটার সাথে কথা বলে তখন মরক্কীয় এবং তিউনিসীয় আরবি মেশাল দিয়ে বলে। ছেলেটি হাসতে থাকে। জনে ছেলেটির পড়া ছেঁড়া জুতোর দিকে ইঙ্গিত করে বলে: একজোড়া নতুন জুতো কিনতে কতো পড়বে।

ছেলেটি মিনমিন করে জানায়: হাজার ফ্র্যাঙ্ক।

সব মিলায়ে? ছেলেটা মাথা নাড়ায়, জনে ছেলেটার হাতে পনেরশ’ ফ্র্যাঙ্ক দিয়ে সর্তক করে দেন: তুমি যদি এখনই গিয়ে একজোড়া নতুন জুতো না কিনো তবে আমাদের দোস্তি আর থাকবে না। তোমাকে যদি আবার দেখি তাহলে আর কথাই বলব না।

ছেলেটি হাসি দিয়ে পালিয়ে যায়।

জনে আমার দিকে ফিরে বলেন, খুবই প্রখর ছেলে। কেন সে স্কুলে যায় না বলো তো?

আমি তাঁকে ব্যাখ্যা করি।

বুঝেছি।

কিছু মুহূর্ত পরে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি জনের বই নিয়ে সার্ত্রে যা লিখেছেন তিনি তার সাথে একমত পোষণ করেন কি না।

কোনো প্রকার দ্বিধা না রেখে তিনি উত্তর দেন: স্বাভাবিকভাবে আমি একমত। সার্ত্রে প্রথম একশ’ পৃষ্ঠা জোরে জোরে পড়ে শুনিয়েছিলো, তারপর আমাকে প্রশ্ন করেছিলো সে যা লিখছে সব ঠিক আছে কি না, এবং সে এগুবে নাকি এগুবে না জানতে চেয়েছিলো।

কিছু লোকের ধারণা সার্ত্রে বরং জনের লেখার বিষয়বস্তুর তুলনায় তাঁর নিজের কিছু প্রিয় বিষয়বস্তুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। বোদ্লেয়রের উপর তাঁর লেখাকেও তারা ওরকমের মনে করে।

আমি মানি না। সার্ত্রে যদি আমার বইয়ের উপর কৌতূহলী না হত তবে সে যে বইটি প্রকাশ করেছে তা লিখত না। সে জানে আমি কী লিখেছি, সে স্টাডি করেছে, যেহেতু আমরা দুজনে বন্ধু তাই সে আমার ব্যক্তিগত জীবনের সত্যটুকুও জানে। সে সেই জ্ঞানটাকে কাজে লাগিয়ে আমার সম্বন্ধে একটা আইডিয়া তৈরি করেছে।

কিছু বাদে আমি বলি: ব্রায়ন আমাকে বলেছে ক্লদেল, লেখকের ছেলে, তোমাকে না কি ফ্রান্স কনস্যুলেট অফিসে একটা অফিসিয়াল রিসিপশন দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

আমি গ্রহণ করবো না। এরকম জায়গাগুলোতে আমি কখনও যাই না। প্যারিসের কিউবান কনস্যুলেট আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কিউবাতে হলিডে করতে। ফিদেল ক্যাষ্ট্রো আমার বন্ধু মানুষ, না তাঁর দেয়া কোনো অফিসিয়াল আমন্ত্রণ আমি গ্রহণ করিনি। কেবল মাত্র একজন রাষ্ট্রনায়কের সাথে আমি এক টেবিলে বসেছি সে হলো পম্পেদু এবং কারণ হলো সে আমার কিছু নির্বাসিত বন্ধুকে ছেড়ে দেয় যাতে তারা ফ্রান্সে ফিরে যেতে পারে। আমি সবধরনের সরকারকেই ঘেন্না করি। উদাহরণ হিসেবে ইউনাইটেড স্টেটস আমাকে স্বাগত জানায়নি, কারণ আমার হোমোসেক্সুয়ালিটি এবং ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে। যেন এমন, ইউনাইটেড স্টেটস-এ কোনো এক্স-কনভিক্ট বা হোমোসেক্সুয়াল নাই! এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে আমি যেতে পারিনি ঝাদনভের জ্বালায়, স্তালিনের সময় আমার সবধরনের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করেছে।

তিনি আমার আরবি সংস্করণের দি ইডিয়ট বইটা হাতে তোলেন। কে লিখেছে এটা?

আমি তাঁকে বলি বইটা কীসের।

আমার পছন্দ দ্য ব্রাদার্স অব কারামাজফ, আরো ভালো।

ব্রায়ন মনে করে দি ইডিয়ট ভালো।

আর তুমি?

আমি মাত্র শুরু করেছি এটা। কিন্তু দ্য ব্রাদার্স অব কারামাজফ-এর তারিফ করি।

পরে আমি তাঁর দেখা পাই জোকো দ্য ফুয়েরায়, লম্বাটে এক নীরস মরক্কীয়র সাথে যেতে, যাকে আমিও কিছুটা চিনি। আমি যাচ্ছিলাম জোকো শিকোর থেকে বুলাভার্ডের দিকে, আর তারা যাচ্ছিলো সিডি বোয়াবিদের দিকে। দুজনের এভাবে একসাথে জনতার মধ্যে দিয়ে যেতে দেখে আমার Le Journal du voleur [দ্য থীফস্ জার্নাল] কথা মনে পড়ে। বার্সেলোনার বারিয়সে সে আর তার বন্ধু স্টিলিতানো যে ভাবে হেঁটে গিয়েছিল সেই ভাবে। বাসায় এসে আমি বইটার প্যাসেজটা আবার দেখি। Mesvetement etaient sales et pitoyables. J’avais faim et froid. Voici l’epoque de ma vie la plus miserable. (Clothes were dirty and Shabby. I was hungry and cold. This was the most miserable period of my life.)

(মাস কয়েক পরে আমি অই মরক্কীয়র সাথে দেখা করে জানতে চাই সে জনের বিষয়ে কিছু জানে কি না। আহা ওই ধনী ফ্রেঞ্চম্যান সম্বন্ধে জানতে চাচ্ছো? সে জানায় জঁনে তাকে বলেছিলো সামান্য কিছু অর্থ পাঠাবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই পাঠায় নি। এসব মানুষেরা যেই একবার গেল, তারপর কোনোদিন আর তোমাকে নিয়ে ভাববেও না।)

২৭/০৯/৬৯

আমরা তার হোটেলের দিকে এগোই। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি সে টেনেসি উইলিয়ামস্-এর উপর কিছু পড়েছে কি না।

না, এবং এমন কি আমি তার উপর কিছু পড়তেও চাই না ।

কেন না?

যা কিছু আমি তার কাজ পড়েছি তাতে আমার ধারণা জন্মেছে ওতে আমার কোনো আগ্রহ জন্মাবে না।

আপনি কি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন?

প্যারিসে সে একবার আমাকে ফোন করেছিলো। সে সময় আমি শারীরিকভাবে খুব একটা সুস্থ ছিলাম না। আমরা পরের দিনের জন্য একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করেছিলাম, কিন্তু আমার শরীর এতো খারাপ ছিল আমি তা রক্ষা করতে পারিনি।

দেখি জেরার্ড বেটী আমাদের দিকে আসছে। আমি তাকে জনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই, এবং সে Journal du voleur-এ উৎসাহ দেখাতে শুরু করে। তারপর তারা তানজিয়ের এবং তার মানুষজন নিয়ে আলাপ তোলে। হঠাৎ করে জেরার্ড বলে: এমন কি এখানকার পুলিশরাও মানুষ। গতকাল তারা আমাকে কমিশনারের ওখানে নিয়ে যায় কিন্তু আমার সাথে পার্সপোট ছিলো না। কিন্তু কিছু বাদে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়। তারা মানবিক।

জনেকে শুরু থেকেই এসব অ্যানেকডটের ব্যাপারে খুবই ক্রিটিক্যাল মনে হয়েছে। তিনি ক্ষেপে ওঠেন: আমার কথা শোনো! তুমি খুবই অশোভন আচরণ করছো। যদি তুমি আমার বই পড়ে থাকো তবে তুমি পুলিশের ব্যাপারে আমার স্থূল মতামত জানো। তা সত্ত্বেও তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে আমাকে বলতে পারো তারা কতটুকু মানবিক। পুলিশ কোনো কালেই মানুষ ছিলো না, এবং যেদিন তারা মানুষ হবে তারা আর পুলিশও থাকবে না।

জেরার্ড বলে: আমি দুঃখিত। আমি ওভাবে ভেবে বলিনি। আমি খালি বোঝাতে চেয়েছি…

জনে আমাদেরকে তড়িঘড়ি করে একটা গুডবাই দিয়ে তাঁর হোটেলে হাঁটা দেন।

44.jpg
শহর তানজিয়ের

২৮/০৯/৬৯

দ্য ফ্রান্স ব্র্যাসরিতে এডওর্য়াড রোডিটি’র বন্ধু আবদেসালেম, আমাদের টেবিলে আসে, আমার পাশে বসে, এবং আমার কানে ফিস্ফিস্ করতে থাকে। এইটাই না সেই বিখ্যাত ফরাসী লেখক? আমি তার সাথে কথা বলতে চাই, তুমি কি আমার হয়ে একটু ইন্টারপ্রেট করে দেবে।

যদিও মনে হয় সে তার কাছে অর্থ চাইবে, এবং যা আমার জন্য খুবই অস্বস্তিকর, আমি তাকে জিজ্ঞেস করি সে তার কাছে কী জানতে চায়। সে ফিসফিস করে বলে, একটা বিরাট প্রজেক্ট আছে। যা শেষ করতে আমি তার সহায়তা চাই ।

এটা এখনও আমার কাছে টাকা চাওয়ার মতই মনে হয়, তাই আমি তাকে জানাই জনে আরবি বলতে পারেন, সে নিজেই তার সাথে কথা বলতে পারে।

কিফ্ ইনতায়া, মুঁসিয়ে? সে জনেকে বলে।

লবেস। জনে হাসে এবং আমার দিকে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি হানে।

বন্ধু মানুষ।

আবদেসালেম এখনও চায় আমি তার হয়ে ইন্টারপ্রেট করি। আমি একটা বই লিখছি, আমি চাই সেও আমার বইতে একটা দীর্ঘ কবিতা লিখুক। মেলা বড়। আমি বইয়ের সামনে সেটা ছাপাবো যাতে সবাই দেখতে পায়।

আমি জনেকে অনুবাদ করে শোনাই।

সে জানতে চায়, এই দীর্ঘ কবিতার বিষয়বস্তু কী হবে?

তানজিয়ের সম্বন্ধে এই কবিতাটি হতে হবে, আবদেসালেম জানায়।

জনে আবার হাসে। তাকে বলো যে আমি এখানে কাজ করতে এসেছি গ্যালিমার-এর হয়ে, আমার পাবলিশার। তাকে বলো আমি একটা চুক্তি করেছি এবং বই লেখার জন্য আগাম নিয়েছি। তাই আমি তার জন্য কোনো কবিতা লিখতে পারছি না, সেটা ছোট বড় যাই হোক না কেন।

জনে যদি এসব বাজে লোকের সাথে এত সিরিয়াসলি কথা না বলতো তাহলে হয়তো আমি হাসিতে ফেটে পড়তাম। আবদেসালেম টেনেটুনে আরবিতে স্পষ্ট ভাবে সই করতে পারে। এডওয়ার্ড রোডিটি হয়ত তাকে একসময় বলেছে বিখ্যাত লেখকের হাতের লেখা কোনো কাগজের মূল্য অনেক, এবং সে ইতিমধ্যে জনের কবিতার সম্ভাব্য খদ্দেরও হয়তো মনে মনে ঠিক করে রেখেছে। আবদেসালেম নাছোড়বান্দা। বলো তাকে যদি এখন লিখতে না পারে সে যেন পরে প্যারিসে গিয়ে লিখে পাঠিয়ে দেয়।

একটা আতুর ছেলে আমাদের টেবিলের কাছে আসে, এবং জনে তার হাতে একহাজার ফ্র্যাঙ্ক গুঁজে দেয়, আবদেসালেম প্রতিটা পদক্ষেপ লক্ষ্য করে। তারপর এক বামন, মোকতার নাম যে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, ফেটে পড়ে এবং হাত তুলে টেবিলের দিকে আসতে থাকে। জনের কাছে দেবার মত আর কোনো টাকা ছিল না, সে তাকে আতুরের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বলে। ক্যাফের ঠিক মাঝখানে আতুর আর বামনের মধ্যে এ নিয়ে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। যা বন্ধ করার জন্যে জনে ওয়েটারকে ডাক দেয় এবং তার কাছে শ’পাঁচেক ফ্র্যাঙ্ক ধার চায়। আমাকে এটা ওই বামনটাকে দিতে বলে এবং সে বিল পরিশোধ করে দেয়।

যখন আমি আর জনে রাস্তায় নামি, জনে তখন আমাকে জিজ্ঞেস করেন: চিড়িয়াটা কে?

যে তোমার কাছে কবিতা চাচ্ছিলো? সে একজন প্যারাশ্যুটিস্ট। কিন্তু হয় তাকে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে বা অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এখানে তানজিয়েরে সে কী করে?

আমার ইচ্ছে ছিল তাঁকে সত্যি কথা বলি, সে আসলে ট্যুরিস্টদের সাথে শুয়ে তার জীবনধারণ করে, কিন্তু আমি স্মরণ করি যে জনে যখন তরুণ তখন তিনিও এধরনের কাজ করেছেন। তাই তাঁকে আমি বলি: তেমন কিছুই করে না। ফ্রান্সের এক লেখক প্রতিমাসে কিছু কিছু টাকা পাঠায়।

তুমি বোঝাতে চাইছো এধরনের চিড়িয়ার হাতে মরক্কোর নিরাপত্তা? সে তো দেখি রান্নাঘরের বাসনকোসন ধোয়ারও যোগ্যতা রাখে না।

choukri.jpg
মোহামেদ চউক্‌রি (১৫/৭/১৯৩৫ — ১৫/১১/২০০৩)

২৯/০৯/৬৯ — এ.এম.

দেখি জনে আমাদের দিকেই আসছে, আমি আমার বোনকে বলি: ওই যে লোকটা দেখছো আমাদের দিকে আসছে সে আমাদের সাথে বসবে।

কে ওইটা?

বাবা, আমি তাকে বলে হাসি। একসময় বাবা আমাকে কত ঘেন্না করত, সে হতে যাচ্ছে আমার আধ্যাত্মিক পিতা।

আমার বোন হাসে। বেচারা! এতো গিদর কেন!

আমি তাকে বলি, আমরাই হচ্ছি বেচারা। সে হচ্ছে ধনী। একজন বিখ্যাত লেখক।

সে চিৎকার তোলে: বিশ্বাস করার না!

দাঁড়াও এবং তাঁকে হ্যালো বলো। জনে আমাদের কাছে আসে এবং আমাদের দিকে তাকায়। তারপর আমার বোনের দিকে তাকিয়ে হাসে। আমার বোন দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে হাত দিতে গেলে, আমি বলি: আমার বোন মালেকা।

জঁ, সে বলে।

সে তাকে জিজ্ঞেস করে তোমার বয়স কতো?

চৌদ্দ।

তুমি নিশ্চিত তো তুমি তার থেকে ছোট নও?

সে মালেকাকে কিছুটা পীড়া দেয়, মালেকা উত্তর দেয়: না! আমি চৌদ্দ। জনে বসে এবং একটা হুইস্কির অর্ডার দেয়। মালেকার কোকাকোলার বোতলের দিকে তাকিয়ে বলে: তুমি? তুমি কেন হুইস্কি নিচ্ছো না?

আমি মদ্যপান করি না। আমি মুসলমান।

কিন্তু কিছু মুসলমান তো পান করে।

মালেকা বলে, যারা অবাধ্য তারাই একমাত্র করে।

মোহামেদ জেরার্ড পৌঁছে। সে জনের দোস্ত। বেশ অনেক আলাপ হয় একজন তরুণের পাসপোর্ট

তৈরিতে কী কী কাগজপত্রের দরকার হয় তা নিয়ে।

আমার বোন যাবার জন্য উঠে দাঁড়ায়। জনে ওঠেন। পারডন, ম্যাদ্মোয়াজেল।

আমি জনেকে বলি, সে তেতুঁয়া যাচ্ছে। মালেকা হাসে, এবং জনের হাতের মুঠো থেকে তার হাত ছাড়াতে চেষ্টা করে।

তেতুঁয়ায় তোমার সাথে আমার দেখা হবে, জনে মাগরেবি ভাষায় মালেকাকে বলে।

মালেকা যখন জনের আলুথালু অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করে তখন আমার Le Journal du voleur -এর ওই প্যাসেজটার কথা মনে পড়ে যেখানে সে বলেছিল বারিয়ো চিনোতে কেউ কখনও কাপড় ধুঁতো না, খুব বেশি হলে কদাচিৎ শার্ট ধোয়া হতো, সচরাচর শুধুমাত্র কলার ধোয়া হতো। আজও সে সব দিনের তেমন রদবদল হয়েছে তেমনটি না, কারণ জনে এখনও সেরকমই বাঁধাধরা রুটিনের মধ্যেই রয়েছে বলে মনে হবে। হয়ত সেরকম আর নোংরা চিপা রুমে সে বসবাস করে না অথবা স্টিলিতানোর মতো যার হয়ত আর কোনো বন্ধু নেই যে কিনা স্বেচ্ছায় বাড়িয়ালির সাথে বাড়িভাড়ার বদলে শুতে যেতে রাজি হতো ।

girl_morokko-42.jpg
তানজিয়েরের রাস্তায় জেল্লাবা পরা মেয়েরা, বোরখা খুব দেখা যায় না

ঘোমটা এবং জেল্লাবা মরোক্কীয় মেয়েদের সঠিক গার্মেন্টস বলে অনেকবারই সে উৎসাহের সাথে ঘোষণা দেয়। La femme a toujours ete un mystere pour l’homme, সে বলতো। সত্যি বলতে কী মেয়েরা পর্দা নিলে পুরুষদের মনে তাকে নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। সে কী সুন্দর, নাকি না? মরক্কীয় মেয়েদের দেখতে আরও সুন্দর লাগে যখন তারা তাদের মুখ ঢেকে রাখে।

(কিস্তি ২)

hossain_mofazzal@ymail.com

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন audity falguni — জুলাই ৭, ২০০৮ @ ১১:০২ অপরাহ্ন

      আর্টস-এর পাঠকদের সম্ভবতঃ আমার তরফ থেকে এত এত প্রতিক্রিয়া দেখতে বিরক্তিই ধরে যাচ্ছে। দোষ আর্টস-সম্পাদকের। নিয়ত এই সাহিত্য অপুষ্টির দেশে হরেক রকমের পোলাও-কোর্মা, মণ্ডা-মেঠাই, রাজভোগ-পায়েসান্ন তিনি আমাদের যুগিয়েই চলেছেন। জঁ জনের উপর মরক্কোর লেখক চউক্‌রির দিনপঞ্জিরও অনুবাদ এই অভাগা বাংলাদেশের কোনো সাহিত্য সম্পাদক ছাপবেন…এবং তা-ও কোন নতুন অনুবাদককের, তা এই পোড়া দেশে কল্পনারও অতীত ছিল!

      যে দেশের বড় দৈনিকগুলোর সাহিত্য পাতায় পাঁচ/ছয় জনের দল মিলেও চার/পাঁচ লাইনের কয়েকটা কবিতা, একটা দায়সারা অল্প শব্দের গল্প (বড় কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা অনুবাদ পইড়া দেখতেও ওনাগো মনে হয় কষ্ট হয়), কোনো প্রবীণ লেখকের ধারাবাহিক রোজনামচা বা আত্মজীবনী ছেপেই সাহিত্যিক দায়িত্ব শেষ করা হয়, সাহিত্য সম্পাদনা যেখানে মাস কাবারে বেতনের বদলায় কিছু গোঁজামিলের কর্তব্য সম্পাদন, লাগাতার এবং ধারাবাহিক লেখক-নিগ্রহ, লেখক-অপমান এবং রাজনৈতিক দাবার অঙ্ক-কষা … সেই দেশে কোন প্রেমে আর নিষ্ঠায় যে ব্রাত্য রাইসু এই কাজগুলো করছেন তা একমাত্র দৈবই জানেন!

      জানি, এই স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্যের জন্য বড় মিডিয়াগুলোর আরো বেশি কোপানলে পড়বো। তা সেই কোপানলের ভয় আর কবে করেছি? অনুবাদককে জানাই অভিনন্দন। অসাধারণ অনুবাদের জন্য। অভিনন্দন রাইসুকেও। ফুকো অনুবাদের কারণে জানি কীভাবে রাত বারোটায় হঠাৎই লেখক/অনুবাদককে ফোন করে কেমন উচ্ছ্ল গলায় তিনি বলেন, ‘বস, দাঁড়ান–ওয়েবসাইট থেইকা আপনার এই লেখাটার লগে রিলেটেড কিছু ছবি ডাউনলোড করছি! কাইল দিমুনে!’ আতঙ্কে কাঁটা হয়ে থাকি। রাইসু প্রত্যেকটা শব্দ এবং কমা নিয়ে পর্যন্ত ফোনে জেরা করেন। শুদ্ধ হলো কিনা, কোথাও এতটুকু ভুল হলো কিনা? আমার চোদ্দ বছরের লেখক জীবনে এমন সম্পাদনা আগে দেখি নি। মরক্কোর নীল রঙের অমন সব ছবিও যে সারা রাত জেগে তিনি ডাউনলোড করেছেন, সেটাও বুঝতে পারি! এই রাইসুকে একটা সময় পেতাম ভয় আর তারও পরে ভেবেছি যে সে হলো এমন একজন মানুষ যার কাজ হলো সবাইকে হাসানো। রাইসু নিজেও দেশের ‘সর্বোচ্চ দৈনিকে’র সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন কয়েক বছর। তখনো এমন অগ্নিস্ফূরণ দেখিনি। বাংলাদেশে এখন হাজার পত্রিকার হাজারো দায়সারা সাহিত্য পাতা। নবীন সম্পাদকদের বলতে ইচ্ছা করে রাইসুকে দেখে কিছু শেখা যায় কিনা? হয়তো উচ্ছ্বাস একটু বেশিই হলো! আর একটি কথা বিডি নিউজের আর্টস পাঠকদের প্রতি। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে অনেক ভাল লেখার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। বেশ কিছু লেখাতে সম্পূর্ণ অচেনা লেখকের কোনো লেখা ভাল লাগলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছি। কিছু নির্দিষ্ট পাঠক কিছু নির্দিষ্ট লেখকের লেখাতেই প্রতিক্রিয়া পাঠাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত রাজনীতির মলিনতা না লাগা আর্টসের পাঠক আরো উদার হবেন আশা করি। লেখার প্রতিক্রিয়া যেন লেখকের সাথে বন্ধুত্ব এবং জান-পেহচান নির্ভর না হয়! সবাইকে ভালবাসা।

      অদিতি ফাল্গুনী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুমন রহমান — জুলাই ১১, ২০০৮ @ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

      উপভোগ্য অনুবাদ! বোঝাই যাচ্ছে চউকরি-র এই লেখায় আরো ম্যাজিক সামনে অপেক্ষা করছে। জাঁ জেনের জীবন সম্পর্কে জেনেছি, একটা নাটক পড়েছি, তবে সবচে বেশি যেটি পড়েছি সেটির নাম সম্ভবত “লে ফ্লুনবল”। ছোট একটা গদ্য, সার্কাসের ভাঁড়/দড়াবাজ/মাদারিকে নিয়ে লেখা। কিন্তু ভীষণ বিপদজনক, এর পঠন যে কারো জীবন পাল্টে দিতে পারে। এর একটা অনুবাদ বেরিয়েছিল বাংলায়, এখন পাওয়া যায় কিনা জানি না। পেলে পুনর্মুদ্রণ, আর না পেলে হোসেন মোফাজ্জল-এর কাছে ভবিষ্যতে এই লেখাটির অনুবাদের আবদার কিন্তু থাকল।

      সুমন রহমান
      ঢাকা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইমতিয়ার — জুলাই ১১, ২০০৮ @ ৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

      প্রাণবন্ত অনুবাদ, একটানে পড়ে যেতে কোনও সমস্যাই হলো না। অথচ এক পঠনেই দেখা যাচ্ছে এমন কিছু বিষয় পেয়ে গেছি, যা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই একমত হওয়া যায়, অথবা চিন্তা করা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। যেমন:
      ক. ”আমি বুঝতে পারি না কেন আপনার কোনো বই আরবিতে অনুবাদ হয়নি।

      আপনি কি কোরআনের আরবি’র কথা বলছেন?

      আমি তাঁকে ব্যাখ্যা করি কোরআনের আরবি হচ্ছে ক্ল্যাসিকাল আরবি।”

      খ. ”সাহিত্যপাঠে কখনোই কোনো সৌন্দর্য খুঁজে পাবে না যদি তুমি এভাবে পড়ো। এরকমের একটা কিছু মাথায় রেখে তুমি পাঠ করতে পারো না যে কারুর জীবনের সঙ্গে তোমার নিজের জীবনের মিল রয়েছে। এটাকে অবশ্যই তোমাকে আলাদা করে রাখতে হবে। তোমার জীবন অন্য কারুর জীবন না।

      আমি ভেবেছিলাম বাসিলের ব্যক্তিত্ব (দ্য পিক্চার অব ডোরিয়েন গ্রে) এবং লর্ড হেনরীর সাথে শিল্প এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের আলাপচারিতার কথা।

      আমি যা বোঝাতে চেয়েছিলাম সেটা হচ্ছে জুলিয়ান আমার অতীত জীবনের উপর অন্যরকমের একটা আলো ফেলে, যা কি-না সান্ত্বনা দেয় আমার বর্তমান অবস্থাকে।”

      গ. ”যাবার পথে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি তিনি স্প্যানিশ বলতে পারেন কি-না।

      না, তিনি উত্তর দেন। আগস্টে আমি শিকাগোতে ছিলাম, সেখানে কয়েকটি শব্দ শিখেছি।

      এবং ইংরেজি?

      ধুৎ না।”

      ঘ. ”আমি প্রশ্ন করি, আপনি কি কোনো আরব লেখকের বই পড়েছেন?

      দুর্ভাগ্যজনক ভাবে না। কেবলমাত্র খাতিব ইয়াছিন কিছুটা পড়েছি। সে আমার বন্ধুমানুষ।”

      ঙ. ”হাঁ। ঈশ্বর আছে। এটাই যথেষ্ট।

      না ঈশ্বর নেই, এটাও যথেষ্ট।”

      চ. ”আমি অস্তিত্ববাদীও না আবার অ্যাবসার্ডিস্টও না। আমি সে রকম ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী না। আমি শুধুমাত্র লেখক, হতে পারি ভাল লেখক অথবা খারাপ লেখক।”

      ছ. ”পুলিশ কোনো কালেই মানুষ ছিলো না, এবং যেদিন তারা মানুষ হবে তারা আর পুলিশও থাকবে না।”

      জ. ”ঘোমটা এবং জেল্লাবা মরোক্কীয় মেয়েদের সঠিক গার্মেন্টস বলে অনেকবারই সে উৎসাহের সাথে ঘোষণা দেয়। La femme a toujours ete un mystere pour l’homme, সে বলতো। সত্যি বলতে কী মেয়েরা পর্দা নিলে পুরুষদের মনে তাকে নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। সে কী সুন্দর, নাকি না?”

      ধন্যবাদ, লেখাটি অনুবাদ করার জন্যে এবং ছাপবার জন্যে।

      ইমতিয়ার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ — জুলাই ১৮, ২০০৮ @ ৮:৪২ পূর্বাহ্ন

      আমি আপাতত জঁ জনে সাহেবকে ধন্যবাদ দিই নীলু ভাই (হোসেন মোফাজ্জল) -কে এই অনুবাদে প্রণোদিত ক’রে আবার লেখালেখিতে ফিরিয়ে আনবার জন্যে। ভাইজান, আবার থামায়া দিয়েন না…।

      সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com