মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ৯)

অদিতি ফাল্গুনী | ১২ মে ২০০৮ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

china.jpg
চীনে ১৯০০ সালে কয়েদীকে কোমল শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

—————————————————————–
শাস্তির কোমল পন্থা
—————————————————————–

কিস্তি:

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

খণ্ড ২ : শাস্তি

২য় অধ্যায়: শাস্তির কোমল পন্থা (The gentle way in punishment)
(পৃষ্ঠা ১০৪-১১৩)

(গত সংখ্যার পর)

দণ্ডপ্রদানের শিল্প, সেক্ষেত্রে, প্রতিনিধিত্বের সমগ্র কৃৎকৌশলের উপর নির্ভর করতে বাধ্য। এই কাজটি শুধুমাত্র তখনি সফল হতে পারে যদি এটি একটি সাধারণ কৃৎকৗশলের অংশবিশেষ মাত্র গঠন করে। ‘শরীরের অভিকর্ষবেগের মতো, একটি গুপ্ত শক্তি আমাদের কল্যাণের পথে সবেগে চালিত করে। এই আবেগ বাধাপ্রাপ্ত হয় শুধুমাত্র বিরুদ্ধ আইনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতা দ্বারা। মানুষের সব ধরনের বিচিত্র কাজকর্মই এই অন্তর্গত প্রবণতার প্রভাব।’ একটি অপরাধের যথোপযুক্ত শাস্তি হলো অপরাধীর জন্য এমন কোনো যন্ত্রণা তৈরি করা যার ভয়ে অপরাধটি করার জন্য আর কোনো আকর্ষণ অপরাধী খুঁজে পাবে না। এ যেন বিভিন্ন সঙ্ঘাতমুখী শক্তিগুলোর এক শিল্প। অনুষঙ্গ দ্বারা যুক্ত চিত্ররূপসমূহের শিল্প, সময়কে অস্বীকার করা স্থির সংযোগগুলোর চাপপ্রয়োগ। এ যেন বিরুদ্ধ মূল্যবোধগুলোর যুগ্মতার প্রতিনিধিত্বকে প্রতিষ্ঠা করা। বিরুদ্ধ শক্তিগুলোর ভেতর পরিমাণগত পার্থক্য প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিবন্ধকতা-চিহ্নের জটিলতা প্রতিষ্ঠা করা যা শক্তির আন্দোলনকে ক্ষমতা সম্পর্কের অধীনস্থ করে। ‘নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ডের ধারণাকে দুর্বল মানুষের হৃদয়ে সদা উপস্থিত থাকতে দাও। যেন এই নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ডের ভয় তাকে অপরাধ করা হতে বিরত রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে’ (বেক্কারিয়া ১১৯)। এই প্রতিবন্ধকতা-চিহ্নগুলো নিঃসন্দেহে গড়ে তুলবে শাস্তির নয়া অস্ত্রাগার। ঠিক যেমন পুরনো মৃত্যুদণ্ডগুলো একধরনের প্রতিশোধমূলক চিহ্নের ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছিল। তবে, সক্রিয় হবার জন্য এই প্রতিবন্ধকতা-চিহ্নগুলো অবশ্যই কতিপয় শর্ত মেনে চলবে:

১.
যতটা সম্ভব এই চিহ্নগুলোকে হতে হবে অস্বেচ্ছাচারী প্রকৃতির। একথা সত্য যে সমাজ, তার আপন স্বার্থের নিরিখেই, অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করে। বিষয়টি তাই খুব স্বাভাবিক নয়। কিন্তু, যে মুহূর্তে কেউ অপরাধ সঙ্ঘটনের কথা ভাবে, শাস্তিকে তখনই নিজেকে মনের কাছে উপস্থাপন করার কথা ভাবতে হয়। অপরাধী মন ও শাস্তির ভেতর যত দ্রুত সম্ভব, একটি সংযোগ গড়ে তোলার কথা ভাবা প্রয়োজন। সাদৃশ্য, সমধর্মীতা, নৈকট্যের সংযোগ। ‘শাস্তিকে অবশ্যই যতটা সম্ভব অপরাধের প্রকৃতির সাথে মিল রেখে তৈরি করতে হবে। যেন শাস্তির ভয় মনকে সেই রাস্তা হতে সরিয়ে নেয় যে রাস্তা ধরে অপরাধীর মন একটা অপরাধ করে কিছু সুযোগ সুবিধা পেতে চাইছিল। ’ (বেক্কারিয়া ১১৯)। আদর্শ শাস্তি যে অপরাধের শাস্তি বিধান করে, সেই অপরাধের জন্য তাকে সহজবোধ্য হতে হবে। কাজেই এমন কেউ যে শাস্তির ধ্যান বা প্রত্যাশা করে, তার জন্য শাস্তি হবে অভ্রান্ত ভাবে তেমন কোনো অপরাধের চিহ্ন যে অপরাধকে সে দণ্ড দেয়। এবং যে ব্যক্তি অপরাধ করার স্বপ্ন দেখে তার জন্যও অপরাধের চিন্তাটিই শাস্তির চিহ্নকে জাগ্রত করার জন্য পর্যাপ্ত হবে। সংযোগের স্থিরতার জন্য এটি একটি সুযোগ। অপরাধ ও শাস্তির ভেতর আনুপাতিক হিসাবের এক সুযোগ এবং স্বার্থের পরিমাণগত পাঠ। শাস্তির সেই সুযোগও রয়েছে যে একটি স্বাভাবিক পরম্পরার রূপ গ্রহণের মাধ্যমে শাস্তি মানবীয় ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী প্রভাব হিসেবে আবির্ভূত হয় না। ‘শাস্তির অনুপাত হতে অপরাধের মাত্রাটা নির্ণয় করা হলো অপরাধের সাথে শাস্তির সঙ্গতি রক্ষার সেরা পন্থা। এই যদি হয় শাস্তির বিজয়, তবে সেটা একইসাথে স্বাধীনতারও বিজয়। কারণ তখন শাস্তি আর আইনপ্রণেতার ইচ্ছা হতে উৎসারিত হবে না। বরং তা উৎসারিত হবে বিষয়সমূহের প্রকৃতি হতে। মানুষকে মানুষের উপর সন্ত্রাস সঙ্ঘটন করতে কেউ আর দেখবে না।’ (মারাত ৩৩)। সদৃশমূলক শাস্তিতে যে ক্ষমতা দণ্ড দেয়, তা গুপ্ত থাকে।

আইন সংস্কারকরা শাস্তির পুরো একপ্রস্থ জমকালো বর্মকে প্রস্তাব করেছেন। এই প্রস্তাবনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাভাবিক ছিল। এবং শাস্তির এই জমকালো বর্মসজ্জা তার আঙ্গিকে অপরাধের আধেয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে। উদাহরণস্বরূপ ভার্মেইলের কথাই ধরুন। যারা জনতার মুক্তিকে নিগ্রহ করে, তারা নিজেরাই নিজেদের মুক্তিকে নিগৃহীত করবে। যারা আইনের প্রাপ্ত সুবিধাদি এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে, তারা তাদেও নাগরিক সুবিধা হতে বঞ্চিত হবে। ফাটকাবাজি এবং সুদের ব্যবসার মতো অন্যায়ে আর্থিক জরিমানা প্রদান করতে হবে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে চুরিকে দণ্ডিত করা হবে। ব্যর্থগর্বকে অপমানের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে। মৃত্যুর মাধ্যমে খুন এবং খুঁটিতে বেঁধে হত্যার মাধ্যমে অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধের দণ্ড প্রদান করা হবে।

বিষপ্রয়োগে হত্যাকারীর ক্ষেত্রে ‘জল্লাদ অপরাধীকে একটি হাতলহীন পানপাত্র দেবে এবং পানপাত্রের ভেতরকার তরল পদার্থ তার মুখে ছুঁড়ে মারা হবে যাতে সে বুঝতে পারে তার অপরাধের ভয়াবহতা। এরপর তাকে এক কড়াই গরম পানিতে ছুঁড়ে মারা হবে।’ (ভার্মেইল ৬৮-১৮৫; আরো দেখুন দ্যুফ্রিশে দু ভালাজে ৩৪৯)। নিছকই দিবাস্বপ্ন মনে হচ্ছে কি? হয়তো। কিন্তু, লো পেলেতিয়েহ পরিষ্কারভাবে একটি প্রতীকী যোগাযোগের নীতি গঠন করেন। বিশেষতঃ যখন তিনি ১৭৯১ সালে নতুন ফৌজদারি আইনটি পেশ করেন: ‘অপরাধের প্রকৃতি ও শাস্তির প্রকৃতির ভেতর যথার্থ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন’; অপরাধ করতে গিয়ে যে সন্ত্রাস ব্যবহার করেছে, তাকে অবশ্যই দৈহিক কষ্ট পেতে হবে। যে অলস, তাকে অবশ্যই কঠোর শ্রমে দণ্ডিত হতে হবে। যে ঘৃণ্য কাজ করেছে, তাকে অপযশের মুখোমুখি হতে হবে (লো পেলেতিয়েহ, ৩২১-২)।

অতীত যুগের নির্যাতনের কঠোর স্মারক নানা নিষ্ঠুরতা সত্ত্বেও এই সাদৃশ্যমূলক শাস্তিগুলোয় একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কৃৎকৌশল কাজ করছে। ক্ষমতার ঘোড়দৌড় খেলায় আতঙ্ক আতঙ্কের বিরোধী নয়। এ আর প্রতিহিংসার সাদৃশ্য নয়। চিহ্নের সেই স্বচ্ছতা, যাকে সে দ্যোতিত করে। যা জরুরি তা হলো শাস্তির রঙ্গমঞ্চে একটি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যা ইন্দ্রিয়গুলোর কাছে প্রত্যক্ষভাবে বোধগম্য এবং যার উপর একটি সরল হিসাব নির্ভরশীল। এই হিসাবটি হলো শাস্তির এক ধরনের যৌক্তিক নন্দনতত্ত্ব। ‘এ শুধুমাত্র চারুকলার নিয়ম নয় যে কেউ প্রকৃতিকে বিশ্বস্ততার সাথে অনুসরণ করে চলবেন। অন্ততঃপক্ষে সেইসব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যা জ্ঞান এবং স্থায়িত্বকে প্রদর্শন করে, তা প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে স্থাপিত।’ (বেক্কারিয়া , ১১৪)। নিঃসন্দেহে অপরাধ হতেই শাস্তি তার অগ্রযাত্রা শুরু করবে। আইন অবশ্যই আবির্ভূত হবে বস্তুসমূহের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে। এবং প্রকৃতির শান্ত শক্তির আড়ালে ক্ষমতা লুকিয়ে থেকেই কাজ করবে।

২.
চিহ্নের এই জটিলতা অবশ্যই শক্তির কলাকৌশলের সাথে জড়িত হবে। এই জটিলতা হ্্রাস করবে সেই বাসনা যা অপরাধকে আকর্ষণীয় করে তোলে। বাড়িয়ে তুলবে সেই স্বার্থকে যা শাস্তিকে ভীতিকর করে তোলে। উল্টে দেবে তীব্রতার ঘনত্ব। যেন শাস্তির প্রতিনিধিত্ব এবং এর অস্বাচ্ছন্দ্যগুলো অপরাধ এবং তার আনন্দসমূহের চেয়ে বড় আকারে দেখা দেয়। সুতরাং, অপরাধের স্বার্থ এবং গতির একটি সামগ্রিক কলাকৌশল রয়েছে। রয়েছে যেভাবে একজন তার নিজের কাছে প্রতিনিধিত্ব করে। সেই সাথে আরো রয়েছে এই প্রতিনিধিত্বের সজীবতার কলাকৌশল। ‘আইনবিদকে অবশ্যই হতে হবে একজন দক্ষ স্থপতি যিনি জানেন কীভাবে সব শক্তিকে কাজে লাগাতে হয়। এই কাজে লাগানোর ক্ষমতার উপরই নির্ভর করে ইমারতের ঘনত্ব। আইনবিদকে স্থপতির মতোই কমাতে হবে সেইসব উপকরণ যা শাস্তিরূপী ইমারতের ক্ষয় রোধ করবে। ’ (বেক্কারিয়া, ১৩৫)।

কিছু নির্দিষ্ট পন্থায় উপরোক্ত লক্ষ্যগুলো অর্জন সম্ভব। ‘সরাসরি মন্দত্বের উৎসমুখে যাও’ (মেবলি, ২৪৬)। গুঁড়িয়ে দাও সেই স্রোত যা অপরাধের প্রতিনিধিত্বকে প্রাণদান করে। দুর্বল করে তোলো সেই স্বার্থকে যা অপরাধের জন্মকে সম্ভব করে তুলেছিল। ভবঘুরের সঙ্ঘটিত দুষ্কর্মগুলোর পেছনে মূল যে কারণ নিহিত তা হলো আলস্য। ‘খানাখন্দের মতো নোংরা কারাগারে ভবঘুরেদের তালাবন্ধ করে কেউ সফল হবে না।’ তাদের কাজে লাগাতে হবে। ‘ভবঘুরেদের সবচেয়ে কার্যকরী যেভাবে শাস্তি দেওয়া যায়, তা হলো তাদের কর্মে নিযুক্ত করা’ (ব্রিসোট, ২৫৮)। একটি মন্দ তাড়নার বদলে একটি ভাল অভ্যাস। একটি শক্তির পাল্টা আর একটি শক্তি। তবে, নিঃসন্দেহে এই শক্তিকে হতে হবে সংবেদনশীলতা ও আবেগের শক্তি। সশস্ত্র শক্তি নয়। ‘অবশ্যই কেউ সকল শাস্তিকে এই নীতি হতে বিযুক্ত করবে না। যে নীতি কিনা এত সরল, এত লাগসই এবং ইতোমধ্যে সুপরিচিত? শাস্তিগুলোর ভেতর হতে সেই শাস্তিকেই বেছে নিতে হবে যা অপরাধ করার জন্য অপরাধীর বাসনা সবচেয়ে বেশি ছেঁটে ফেলতে সক্ষম হবে। (লাক্রেতেল্লে, ৩৬১)।

সেই শক্তিকে মদদ যোগাও যা অপরাধীকে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। স্বার্থকে বিভক্ত করো এবং শাস্তিদানের জন্য ব্যবহার করো। শাস্তি যেন মোটামুটি ভীতিদায়ক হয়। অপরাধ অপরাধীর মনে যতটা আত্মপ্রসাদ তৈরি করেছে, শাস্তি যেন মানসিক তৃপ্তিকে আরো বেশি মাত্রায় উত্যক্ত করতে এবং বিব্রত করতে সক্ষম হয়। অহঙ্কার যদি অপরাধ সঙ্ঘটনের দিকে ঠেলে দেয়, তবে সেই অহঙ্কারকে আঘাত করো। শাস্তি যেন তাকে আহত করে। লজ্জাকর কাস্তিগুলো কার্যকরী। কেননা, এই শাস্তিগুলো অপরাধীর সেই অহঙ্কারের শেকড় ধরে নাড়া দেয় যার উপর ভিত্তি করে অপরাধটি সঙ্ঘটিত হয়েছিল। উগ্রবাদীরা তাদের মতামত এবং মতামতের জন্য যে নির্যাতন সহ্য করে, দুটোর জন্যই তারা গর্ব বোধ করে। আমাদের তাই উগ্রবাদের উদ্ধত একগুঁয়েমির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে: ‘পরিহাস এবং লজ্জার সাহায্যে উগ্রবাদকে কমাও। যদি কেউ অসংখ্য দর্শকের এক প্রকাণ্ড ভিড়ের সামনে উগ্রবাদীদের গর্বকে আহত করে, তাহলে কেউ এই শাস্তি হতে সুখী প্রতিক্রিয়া আশা করতে পারে।’ অন্যদিকে, তাদের উপর শারিরীক শাস্তি চাপানোটাও সম্পূর্ণ অর্থহীন ব্যাপার হতে পারে। (বেক্কারিয়া, ১১৩)।

প্রয়োজনীয় ও হিতকর স্বার্থাদিকে পুনরুজ্জীবিত করো যা অপরাধের কারণে এতদিন দুর্বল হয়ে থেকেছে। অপরাধী যখন ডাকাতি করে, কলঙ্ক রটনা করে, অপহরণ করে অথবা হত্যা করে, তখন শুধু সম্পত্তির জন্য শ্রদ্ধাবোধই নষ্ট হয় না। বরং সম্মান, স্বাধীনতা ও জীবনও নষ্ট হয়। সুতরাং, তাকে এই বোধ আবারো শিক্ষা দিতে হবে। এবং যে কেউ নিজের উপকারের জন্য নিজেকে এই শ্রদ্ধাবোধ শিখানোর মাধ্যমেই কাজটি শুরু করতে পারেন। তিনি নিজেই নিজেকে বোঝাবেন যে স্বাধীনতা হারানো কী পরিমাণ কষ্টদায়ক। কী পরিমাণ কষ্টদায়ক হলো অর্থ, সম্মান, সময় এবং শরীর হারানো। শুধুমাত্র এভাবেই একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারেন (প্যাস্টোরেট, ১, ৪৯)। শাস্তি যা স্থায়ী এবং সহজপাঠ্য চিহ্ন গঠন করতে পারে, তা নিশ্চিতভাবেই স্বার্থের অর্থনীতি এবং আবেগের গতি পুনর্গঠন করতে পারে।

৩.
ফলাফলস্বরূপ, একজন অবশ্যই একটি সাময়িক নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন। শাস্তি রূপান্তর ঘটায়, পরিশীলন সম্ভব করে, চিহ্ন প্রতিষ্ঠা করে, প্রতিবন্ধকতা সংগঠিত করে। শাস্তিকে চিরস্থায়ী হতে দিলে কোন কাজে আসবে? পরিণতিহীন। শাস্তি হবে স্ববিরোধী। শাস্তি অভিযুক্তের উপর যত বাধা নিষেধ প্রয়োগ করে, সেসব বাধার একটি হতেও অভিযুক্তের পক্ষে কোনো সুবিধা গ্রহণ সম্ভব নয়। এমনকি সে যদি পুনরায় সৎ জীবনও যাপন শুরু করে, তবুও নয়। এমন পরিশীলিত শাস্তি নির্যাতনের চেয়ে সামান্যই উত্তম। এবং অভিযুক্তকে সংশোধন করার চেষ্টা সমাজের জন্য খুবই বিড়ম্বনাকর ও ব্যয়বহুল এক প্রক্রিয়া। যদি দুর্ধর্ষ অপরাধীরা থেকেও থাকে, সমাজদেহ হতে তাদের পরিপূর্ণ ভাবে নির্মুল করার জন্যও সবাইকে দৃঢ়সঙ্কল্প হতে হবে। কিন্তু, বাদবাকি সবার জন্য, শাস্তি শুধুমাত্র তখনই কার্যোপযোগী হয় যদি তা সক্রিয় হয়। ফরাসী আইন পরিষদ কর্তৃক এই বিশ্লেষণ গৃহীত হয়েছিল। ১৭৯১ সালের আইন সংহিতা দেশদ্রোহী এবং খুনীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত করেছে। অন্য সব শাস্তিরও নিঃসন্দেহে একটি সমাপ্তি থাকতে হবে (মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত সর্বোচ্চ শাস্তি হলো বিশ বছর কারাদণ্ড)।

কিন্তু, সর্বোপরি শাস্তির স্থায়িত্বের ভূমিকাকে অবশ্যই শাস্তির অর্থনীতিতে সমন্বিত হতে হবে। এর নির্দিষ্ট সন্ত্রাসের কারণেই প্রকাশ্য শাস্তি নিম্নোক্ত ফলাফল পাবার প্রবণতা প্রদর্শন করে: অপরাধ যত বেশি গুরুতর হবে, শাস্তি ততই সংক্ষিপ্ততর হবে। শাস্তির পুরনো ব্যবস্থায় স্থায়িত্ব নিশ্চিতভাবেই হস্তক্ষেপ করেছে। কাঠের চাকায় নিষ্পিষ্ট হওয়া, নির্বাসনের বছরগুলো, চাকায় লটকে থাকা ঘণ্টাগুলো এর উদাহরণ। কিন্তু, এ ছিল অগ্নিপরীক্ষার এক সময়। সঙ্ঘবদ্ধ রূপান্তরের সময় নয়। শাস্তির যথার্থ প্রয়োগকে সাহায্য করতে শাস্তির স্থায়িত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘যন্ত্রণাদায়ী বঞ্চণার এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতা, মানবতাকে যা নির্যাতনের বিভীষিকা দেখার সুযোগ দেয়, যন্ত্রণাদায়ী একটি মুহূর্তের চেয়ে অপরাধী পক্ষের উপর তার প্রভাব অনেক বেশি। জনতার চোখে এটি ক্রমাগত প্রতিশোধপরায়ণ আইনের প্রত্যক্ষদর্শী স্মৃতিগুলো পুনর্নবায়ন করে। এবং একইসাথে কল্যাণকর সন্ত্রাসের সকল মুহূর্ত স্মৃতিতে পুনরুজ্জীবিত করে।’ সময় হলো শাস্তির চালক।

তবে, আবেগের সূক্ষ্ম কলাকৌশলকে একই পদ্ধতিতে বা একই জোরের সাথে বিবেচনা করা যাবে না। বিশেষতঃ যখন আবেগ উত্তরিত হতে শুরু করে। শাস্তির হ্রাস পাওয়া উচিত যেহেতু তা প্রভাব তৈরি করে। শাস্তি সুনির্দিষ্ট হতে পারে। সুনির্দিষ্টতা অর্থে আইনের চোখে সবার জন্য একই ভাবে প্রযোজ্য হিসেবে বলা যেতে পারে। তবে, এর অভ্যন্তরীণ কলাকৌশল নিঃসন্দেহে পরিবর্তিত হতে পারে। জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপনের প্রাক-মুহূর্তে লো পেলেতিয়েহ যেমন হ্রাসমান শাস্তির একটি ব্যবস্থা প্রস্তাব করেন। সবচেয়ে কঠোর শাস্তিতে দণ্ডিত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কাশোত (cachot — ফরাসী ভাষায় এর অর্থ কয়েদিকে দেওয়া এক বিশেষ প্রকারের সেল — অনুবাদক) দেওয়া হবে। এর অর্থ হলো, অভিযুক্তের বন্দিত্বের প্রাথমিক পর্বে তাকে হাত ও পায়ে শেকল পরিয়ে অন্ধকারে এবং নৈঃশব্দ্যে রাখা হবে। খেতে দেওয়া হবে শুধুমাত্র রুটি ও পানি। অতঃপর সপ্তাহে তাকে প্রথমে দু’দিন এবং পরে তিনদিন কাজ করতে দেওয়া হবে। তার বন্দিত্বের মেয়াদের দুই-তৃতীয়াংশ পার হবার পর তাকে জিন (gene) বরাদ্দ করা হবে। ফরাসী ভাষায় জিন অর্থ হলো কারাগারের এমন একটি সেল যাতে আলোর ব্যবস্থা থাকে। দণ্ডিতের কোমরে পরানো হয় শেকল। সপ্তাহের পাঁচদিন তাকে একা কাজ করতে হয়। কিন্তু, সপ্তাহের বাকি দুটো দিন সে অন্যান্য কয়েদিদের সাথে মিলে কাজ করার সুযোগ পায়। এই কাজের অবশ্য পারিশ্রমিক রয়েছে এবং ঠিকঠাক মতো কাজ করলে তার দৈনিক বরাদ্দের পরিমাণ বাড়তেও পারে। শেষতঃ অভিযুক্ত যখন তার বন্দিত্বের মেয়াদের একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছবে, তখন তাকে একদম সাধারণ কারা ব্যবস্থার আওতায় সোপর্দ করা যেতে পারে। এই সাধারণ ব্যবস্থার আওতায় ‘অভিযুক্তকে প্রতিদিনই কাজ করার সময় অন্য বন্দিদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে সে যদি একা একা কাজ করতে বেশি পছন্দ করে, তবে তাকে একা একাই কাজ করতে দেওয়া হবে। সে তার কাজ হতে যা রোজগার করতে পারে, সেই রোজগার হতেই দিনের খাবারের দাম তাকে চুকাতে হবে’ (লো পেলেতিয়েহ ৩২৯-৩০)।

৪.
অভিযুক্তের জন্য, শাস্তি হলো চিহ্ন, স্বার্থ এবং স্থায়িত্বের এক কলাকৌশল। কিন্তু, অপরাধী ব্যক্তি হলো শাস্তির নানা লক্ষ্যের একটি লক্ষ্য মাত্র। যেহেতু সর্বোপরি শাস্তি হলো সম্ভাব্য সব অপরাধীকে উদ্দেশ্য করে প্রদত্ত হয়। সুতরাং, দণ্ডিত ব্যক্তিকে দেওয়া শাস্তিতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার চিহ্ন থাকতে হবে যা দ্রুত এবং বহুল প্রচারিত হতে হবে। এই প্রতিবন্ধকতা-চিহ্নগুলো সবার দ্বারা গৃহীত এবং পুনর্বণ্টিত হতে হবে। চিহ্নগুলো যেন সেই বক্তৃতাকে আকার দানে সক্ষম হয় যা প্রত্যেক ব্যক্তিরই অপরের সাথে আছে এবং যার মাধ্যমে অপরাধ সবার কাছে নিষিদ্ধ হয়। জনতার মনে যেন অপরাধ করলে মিথ্যে মুনাফার প্রতিশ্র“তির বদলে সত্যের যথার্থ দিকটিই খোদাই হয়।

এজন্যই, সবাই শাস্তিকে শুধুমাত্র স্বাভাবিক কোনো প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করলেই চলবে না। শাস্তিকে দেখতে হবে আপন স্বার্থ হিসেবে। যেন প্রত্যেকেই শাস্তিকে তার নিজস্ব সুবিধা হিসেবে পাঠ করতে সমর্থ হয়। শাস্তি যেন অপরাধী ব্যক্তিকৃত সমাজের আর দশজন সহনাগরিকের প্রতি অন্যায়ের প্রতিশোধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন ধাঁচের শাস্তি ক্রমাগত নাগরিকদের চোখের সামনে তুলে ধরা হয়। এবং তা ‘সাধারণ ও বিশেষ নানা আন্দোলনের জন-উপযোগের দিকটি বের করে আনে’ (দ্যুফ্রিশে দ্যু ভালাজ, ৩৪৬)। আদর্শ শাস্তি হলো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একধরনের ভাড়াযোগ্য সম্পত্তি হিসেবে প্রতিপন্ন করা। সবার সেবায় নিয়োজিত এক ক্রীতদাস যেন। কেন সমাজ খামোকা একটি জীবন এবং শরীর ধ্বংস করবে যা সে বরং নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারে? বরং অপরাধীকে কাজে খাটানোটা বেশি ফলদায়ী। তাকে এমন ভাবে কাজে খাটাতে হবে ‘যেন সে রাষ্ট্রকে দাসের মতো সেবা করতে পারে। এবং অভিযুক্তের অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী তাকে দীর্ঘ বা স্বল্প মেয়াদে এই শাস্তি দেওয়া হবে।’ ফ্রান্সে বহু ভাঙাচোরা, দুর্গম পথ ছিল যা বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকারক। যেসব চোর পণ্যের মুক্ত সঞ্চালন রোধ করে, তাদের এই সব হাইওয়ে পুনর্গঠনের কাজে লাগানো যেতে পারে। মৃত্যুর চেয়ে বরং অনেক বেশি হবে এই শাস্তি ‘যাতে প্রত্যেক মানুষের চোখের সামনে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হবে কীভাবে অভিযুক্তের মুক্তি কেড়ে নিয়ে তাকে দিয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো সমাজের উদ্দেশ্যে করা তার ক্ষতিকারক কাজের ক্ষতিপূরণ সম্পন্ন করা হবে।’ (ব্যুশে দ’অর্গিস, ১৭৮১, ১৩৯)।

পুরনো ব্যবস্থায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির দেহ হয়ে দাঁড়াতো রাজার সম্পত্তি। এবং এই সম্পত্তির উপর সার্বভৌম সম্রাট তাঁর চিহ্ন রেখে দিতেন এবং তার ক্ষমতার প্রভাব সংহত করতেন। বর্তমান জমানায় অপরাধীর দেহ বরং সমগ্র সমাজের সম্পত্তি হয়ে দাঁড়ায়। হয়ে দাঁড়ায় একটি সম্মিলিত এবং ব্যবহারোপযোগী আত্মসাতের বস্তু। এটিই ব্যাখ্যা করতে যথেষ্ট যে কেন সংস্কারবাদীরা চিরকাল জনহিতার্থে ভারি শ্রমের নানা কাজকে সম্ভাব্য শাস্তিগুলোর অন্যতম সেরা হিসেবে প্রস্তাব রেখেছে। এভাবেই, কাইয়্যে দ্যু দোলিয়েন্স (অভিযোগের নথিপত্র) শাস্তির ব্যবস্থাগুলো সমর্থন করে। ‘যেসব অপরাধী অল্পের জন্য মৃত্যুদণ্ডের হাত হতে নিস্তার পেয়েছে, তাদের দেশের জন্য নানা জনকল্যাণমূলক কাজে লাগিয়ে দাও। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাদের কাজে নিয়োগের সময় নিরূপণ করা হবে।’ জনকল্যাণমূলক কাজে অপরাধীদের সম্পৃক্ততা মূলতঃ দুটো বিষয় বোঝাতো: অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তিতে সমাজের সবার সামগ্রিক আগ্রহ এবং শাস্তির দৃশ্যমান, পরিবর্তনযোগ্য চারিত্র্য। এভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যে খাটুনি খাটতে হয় সেই খাটুনি একটি মূল্য। অপর মূল্য হলো শাস্তির মাধ্যমে যে চিহ্নের প্রতিনিধিত্ব সে করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সমাজের হৃৎপিণ্ডে, নানা পাবলিক স্কোয়ার এবং রাজপথে মুনাফা এবং ইপ্সিত অর্থের কেন্দ্রবিন্দু। দৃশ্যমানভাবে মনে হতে পারে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সমাজের সবাইকে সেবা করছে। কিন্তু, একই সময়ে, সে প্রত্যেকের মনে গলিয়ে যেতে দিচ্ছে অপরাধ-শাস্তির চিহ্ন। একটি মধ্যম স্তরের পূর্ণ নৈতিক এবং অনেক বেশি বাস্তব উপযোগ।

৫.
সুতরাং, প্রচারণার এক গোটা শিক্ষিত অর্থনীতির বিষয়টি এখানে জড়িত হয়ে পড়ে। শারিরীক নির্যাতনের ক্ষেত্রে, গোটা উদাহরণটিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভয়ের ভিত্তিতে। শারিরীক ভয়, সম্মিলিত আতঙ্ক, দর্শক স্মৃতিতে খোদাই হয়ে যাবার মতো নানা চিত্রকল্প (যেমন, অভিযুক্ত ব্যক্তির গাল বা কাঁধে কলঙ্কদাগ)। উদাহরণটি তাই বর্তমানে পাঠক্রম, মতাদর্শ, পাঠোদ্ধারযোগ্য চিহ্ন এবং জন-নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। এটা আর কোনোক্রমেই সার্বভৌমত্বের আতঙ্ক জাগানিয়া প্রত্যাবর্তন নয় যা শাস্তির আনুষ্ঠানিকতা সইবে। বরং এ যেন আইনসংহিতার পুনরায় সক্রিয় হওয়া, অপরাধ ও শাস্তির ধারণাদ্বয়ের অভ্যন্তরীণ সংযোগের সম্মিলিত দৃঢ়ীকরণ। শাস্তিতে সার্বভৌম সম্রাটের উপস্থিতি দেখবার চেয়ে কেউ বরং নিজেই আইনগুলো পাঠ করবেন। এ আইনগুলোর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অপরাধকে একটি নির্দিষ্ট শাস্তির সাথে জড়িয়ে দেখা হয়। যখনি একটি অপরাধ সঙ্ঘটিত হয়, শাস্তিও সাথে সাথে দেখা দেবে। এবং এভাবেই প্রণীত হবে আইনের বিধিবিধান। প্রদর্শিত হবে আইন সংহিতা যা ধারণা এবং বাস্তবতার সংযোগ ঘটায়।

আইনগ্রন্থে খুঁজে পাওয়া ধারণা ও বাস্তবতার এই সন্ধি কাজেও প্রত্যক্ষ হতে হবে। ‘সেই প্রথম দিককার আন্দোলনগুলো স্মরণ করুন যেখানে কিছু ভয়ঙ্কর অপরাধের সংবাদ আমাদের শহর এবং গ্রাম অবধি ছড়িয়ে পড়ে। নাগরিকরা যেন বজ্রাহত হয়ে পড়ে সেসব অপরাধের সংবাদে…সেই হলো অপরাধকে দণ্ড প্রদানের আন্দোলন। এই আন্দোলনকে ফস্কে যেতে দিও না; অপরাধকে প্রমাণ করা এবং বিচার করার জন্য দ্রুতবেগে সব কাজ করো। বধ্যমঞ্চ স্থাপন করো, অপরাধীকে আটকে ফেলার খুঁটি গাড়ো, অপরাধীকে পাবলিক স্কোয়ার অবধি টেনে আনো, আর্ত চিৎকাররত অপরাধীকে ধর্মোপদেশ দাও। তাহলেই কেবল তখন শুনতে পাবে তোমার বিচার ঘোষণার সাথে সাথে সপ্রশংস উল্লাসধ্বনি। যেন বা শান্তি ও মুক্তির ঘোষণা হচ্ছে। এই ভয়ানক বধ্যমঞ্চগুলোয় জনতাকে দেখতে পাবে আইনের বিজয় ঘোষণার জন্য ছুটছে।’ (সার্ভান, ৩৫-৬)। জনসমক্ষে শাস্তি হলো দ্রুত বিধিবদ্ধকরণের উৎসব।

আইন পুনর্গঠিত হয়। আইন অপরাধের সেই পক্ষ নেয় যা অপরাধকে ভঙ্গ করেছিল। অপরাধী, অন্য দিক হতে দেখলে, সমাজ হতে বিচ্ছিন্ন। সে বরং সমাজকে পরিত্যাগ করে। কিন্তু, প্রাচীন যুগের সেই দ্ব্যর্থবোধক উৎসবগুলো আর নেই যেখানে জনতা অবধারিতভাবে অংশ নিয়েছে। হয় অপরাধ অথবা মৃত্যুদণ্ডে এই অংশগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে, এই অংশগ্রহণ ছিল শোকোৎসবে অংশগ্রহণ। যে সমাজ এই আইনগুলো পুনরায় আবিষ্কার করেছে, সেই সমাজ যেন হারিয়ে ফেলেছে তার সেসব নাগরিকদের যারা এই আইনগুলো ভঙ্গ করেছিল। একজন নাগরিক আইনকে তাচ্ছিল্য প্রকাশ করলে তাকে কতখানি দ্বিগুণ দুর্ভোগ সইতে হয়, প্রকাশ্য শাস্তি তা প্রদর্শন করবে। অপরাধীকে নাগরিক হতে আলাদা হবার জন্যও প্রকাশ্য শাস্তি তাকে বাধ্য করবে। ‘বধ্যমঞ্চকে শোকার্ততম এবং সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অনুষ্ঠানগুলোর সাথে সংযুক্ত করো; এই ভয়ানক দিনকে গোটা জাতির শোকাবহ দিন হতে দাও। সর্বত্র মোটা হরফে এই সাধারণ শোক আঁকতে দাও। শোকের কালো ক্রেপ পোশাকে ম্যাজিস্টেদের আইন এবং জনতার উদ্দেশ্যে আইনী প্রতিহিংসার প্রয়োজন আঁকতে দাও। এই ট্যাজেডি বা বিষাদসিন্ধু কাব্যের বিভিন্ন দৃশ্যকে সকল ইন্দ্রিয় স্পর্শ করতে দাও। কাঁপিয়ে তুলতে দাও সব কোমল ও সৎ স্নেহ।’ (দ্যুফাউ, ৬৮৮)।

শোকের এই অর্থ সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। এর প্রতিটি উপাদান যেন কথা বলে। যেন অপরাধের কথা সবাইকে মনে করিয়ে আইনের কথাও স্মরণ করে। যেন শাস্তির প্রয়োজনীয়তা প্রদর্শন করে এবং এর মাত্রাকে বৈধ করে। শাস্তির প্রচারণার যেন আতঙ্কের শারিরীক প্রভাব না থাকে। শাস্তির প্রচারণা যেন কোনো পাঠযোগ্য বইয়ের সূচনা করতে পারে। লো পেলেতিয়েহ পরামর্শ দিয়েছিলেন এই বলে যে মাসে অন্ততঃ একদিন সাধারণ মানুষকে জেলখানা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া উচিত। ‘জেলখানার বিষণœ সেল বা কুঠুরীগুলোর দরজায় মোটা হরফে লেখা অভিযুক্তের নাম, কৃত অপরাধ ও শাস্তির বিবরণ সাধারণ মানুষ পড়তে পাবে’ (লো পেলেতিয়েহ, ৩২৯-৩০)। এবং সাম্রাজ্যবাদী অনুষ্ঠানের সরল ও সামরিক ভঙ্গিমায় কয়েক বছর পরে বেক্সনের ঘাড়ে দায়িত্ব বর্তায় শাস্তির ঘোষণা পাঠের একটি গোটা চিত্র কল্পনা করার। ‘মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি গাড়িতে করে বধ্যমঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, যে গাড়িটার রং হবে কালো অথবা লাল। যদি সে দেশদ্রোহী হয়, তাহলে তাকে একটি লাল কোট পরানো হবে যার সামনে এবং পিছনে লেখা থাকবে ‘দেশদ্রোহী’। যদি সে পিতৃ বা রাজহত্যাকারী হয়, তাহলে তার মাথা একটি কালো আচ্ছাদনে ঢাকা দেওয়া হবে এবং তার শার্টের ওপর সুতার নক্সায় তলোয়ার আঁকা হবে। কিম্বা, আঁকা হবে সেই নির্দিষ্ট অস্ত্রের নক্সা যা দিয়ে সে হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করেছিল। যদি সে বিষপ্রয়োগে হত্যাকারী হয়, তাহলে তার লাল শার্টে সাপ ও অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর নক্সা আঁকা হবে’ (বেক্সন, ২৪-৫- এই প্রকল্পটি বেভারিয়ার রাজাকে জানানো হয়েছিল)।

এই বৈধ শিক্ষা, এই আনুষ্ঠানিক পুনর্বিধিবদ্ধকরণের যতটা সম্ভব পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত। উৎসবধর্মী হবার চেয়ে শাস্তিগুলো যেন স্কুলধর্মী হয়। যেন শাস্তিকে কোনো অনুষ্ঠানের পরিবর্তে একটি চিরদিনের খোলা বই হিসেবে দেখা যায়। অপরাধীকে দেওয়া শাস্তি দর্শকদের মনে প্রভাবসঞ্চারী করে তুলতে হলে শাস্তির স্থায়িত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অপরাধ ও শাস্তির চিরস্থায়ী অভিধান সবার উল্টেপাল্টে দেখতে পারা উচিত। একটি গোপন শাস্তি হলো অর্ধেক অপচয় হয়ে যাওয়া শাস্তি। শাস্তি প্রদানের স্থানে শিশুদের আসতে পারা উচিত। সেখানে তারা তাদের পৌরনীতি বিষয়ের পাঠ নেবে। এবং প্রাপ্তবয়ষ্করা পুনরায় আইন শিখবে। আমাদেরকে শাস্তির জায়গাগুলোকে আইনের উদ্যান হিসেবে কল্পনা করতে দিন যেখানে পরিবারগুলো প্রতি রবিবার ভ্রমণে আসবে। ‘আমি প্রস্তাব করছি যে কিছু নির্দিষ্ট সময় পরপর, মানুষের মনকে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা, শাস্তির প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত ভাবে বুঝিয়ে নেবার পরপর, পুরুষ বিশেষতঃ বালক বা কিশোরদের খনিতে এবং সশ্রম বন্দিশিবিরগুলোতে নিয়ে গিয়ে অপরাধীদের জীবনের ভয়াবহ পরিণতি দেখতে দেওয়া উচিত। এই তীর্থযাত্রা তুর্কিদের মক্কাশহরে তীর্থযাত্রা বা হজ্বের চেয়েও অনেক বেশি ফলদায়ী হবে’ (ব্রিসোত)। এবং লো পেলেতিয়েহ এটাও বিবেচনা করেছিলেন যে নতুন অপরাধ আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো শাস্তির এই দৃশ্যমানতা: ‘প্রায়ই, বিশেষ সময়গুলোতে, দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অপরাধীদের মাথা লজ্জায় নুইয়ে দেয় বটে। এবং এই যে সর্বসাধারণের সামনে তার অসহায় দশা তা অন্য মানুষদের আত্মায়ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হিসেবে কাজ করবে। অপরাধ মানুষের অবস্থান কতখানি নুইয়ে দেয়, তা তারা এই অপরাধীদের দুর্দশা দেখে সহজেই বুঝতে পারবে।’ বিজ্ঞানের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবারও বহু আগে অপরাধীকে নির্দেশনার এক ধরনের উৎস হিসেবে দেখা হতো। যেইমাত্র না কেউ কারাগার প্রদর্শনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের যন্ত্রণা বুঝতে শিখেছে, তখন থেকেই অনুমোদন করা হলো যে শিশুদের জেলখানায় আসা উচিত। কয়েদিদের দুর্ভোগ দেখে তারা আইনের সুবিধাদি সম্পর্কে জানতে পারবে। এ যেন শৃঙ্খলার যাদুঘরে এক জীবন্ত শিক্ষা। উল্লেখ্য, সপ্তদশ শতক হতেই কারাগার পরিদর্শনের এই প্রথাটি আবিষ্কৃত বা পুনরাবিষ্কৃত হয়ে থাকবে।

৬.
এ সবকিছুই সমাজে অপরাধের সনাতনী মতবাদকে উল্টে দেওয়ার কাজটি সম্ভব করে তুলবে। সমাজে অপরাধীর গৌরবজনক দ্বৈত অবস্থানকে বদলে দেবে? আঠারো শতকের আইন প্রণেতাদের কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। রোজকার সংবাদপত্র, দিনপঞ্জি এবং জনপ্রিয় গল্পগাছায় বড় অপরাধীদের অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী কে লুকিয়ে ফেলতে পারবে? শাস্তির পুনর্বিধিবদ্ধকরণ যদি সত্যিই ভাল ভাবে হয়ে থাকে, তাহলে শোকের আনুষ্ঠানিকতা যথোচিত ভাবেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। দুর্ভাগ্য ব্যতীত আর কোনোভাবেই অপরাধ আবির্ভূত হয় না। এবং অপরাধীকে দেখা হয় একজন শত্রু হিসেবে যাকে অবশ্যই সমাজজীবনে পুনর্শিক্ষিত করতে হবে। যেসব প্রশংসা স্তূতি অপরাধীকে বীর হিসেবে তুলে ধরে, তার বদলে বরং যেসব প্রতিবন্ধকতা-চিহ্ন অপরাধ সঙ্ঘটনের আগ্রহ কমিয়ে দেয়, শাস্তির সেই সব ভীতিই জনমনে বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। প্রতিদিনকার আটপৌরে ভাষায় শাস্তির স্বপক্ষের ইতিবাচক কলাকৌশলগুলো পুরো মাত্রায় কাজে লাগাতে হবে। যেন জনমনে শাস্তি বিষয়ক ভীতি প্রতিদিন নতুন নতুন নানা ঘটনা ও তথ্য-উপাত্তে ভরে ওঠে। এভাবেই, হিতভাষণ হয়ে উঠবে আইনের যানবাহন। হয়ে উঠবে শাশ্বত পুনর্বিধিবদ্ধকরণের স্থির নীতি। জনতার কবিরা শেষপর্যন্ত তাদের সাথে যোগদান করবে যারা নিজেদের ‘চিরন্তন যুক্তির প্রচারক’ বলে নিজেদের ডেকে থাকেন। তারা নীতিবাদী হবেন। ‘সেই যত চিত্ররূপ ও হিতকর নানা ভাবনা দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে, প্রত্যেক নাগরিক তার নিজস্ব পরিবারের মাধ্যমে শাস্তির এই ভয়াবহতার কথা সর্বত্র প্রচার করবে। শ্রোতাদের গোগ্রাসে গিলে খাওয়ার মত আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য শাস্তি সম্পর্কে লম্বা লম্বা বয়ান প্রচুর উত্তেজনার মিশেল দিয়ে তৈরি করতেন পরিবারের বাবা। শিশুরা তাকে ঘিরে বসতো। তরুণ স্মৃতিতে অনপণেয় দাগ হিসেবে বসে যেত শাস্তির বিবরণ। বসে যেত অপরাধ ও শাস্তির ধারণা, আইন ও দেশের জন্য প্রেম, ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সম্মান ও বিশ্বাস। গ্রামের মানুষ পর্যন্ত এসব উদাহরণের সাক্ষী হবেন। এবং এই দৃষ্টান্তগুলোর বীজ তাদের কুঁড়েঘরের চারপাশে বপন করা হবে। তাদের রুক্ষ ও কর্কশ আত্মায় ধর্মবোধ শেকড় গাড়বে। এবং অপরাধীরা তাদের কষ্টে জনতার আনন্দ দেখে, এত বেশি সংখ্যক শত্রুকে দেখে তাদের অপরাধ সঙ্ঘটনের নতুনতর পরিকল্পনাগুলো বাদ দেবে যার ফলাফল যতটাই দ্রুত ততটাই বিষণ্ন হবে। (সার্ভান, ৩৭)।

এভাবেই শাস্তির নগরী সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। পথের মোড়ে, বাগানে, মেরামত হতে থাকা রাস্তা বা সেতু, সবার জন্য উন্মুক্ত কারখানা এবং প্রদর্শনযোগ্য খনির গভীরতায় শাস্তির এরকম শয়ে শয়ে ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত থাকবে। প্রত্যেক অপরাধের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট আইন। প্রত্যেক অপরাধীকে পেতে হবে নির্দিষ্ট শাস্তি। এটি হবে একটি দৃশ্যমান শাস্তি। যে শাস্তি সবাইকে বলে, ব্যাখ্যা করে এবং নিজেকে বৈধতা দান করে। অভিযুক্ত করে অপরাধীকে। ব্যানার, বক্তব্য শোভিত নানা রঙের টুপি, পোস্টার, চিহ্ন, মুদ্রিত বা পড়ে শোনানো নানা বাক্য ক্ষান্তিহীন ভাবে আইনী গ্রন্থের পুনরাবৃত্তি করে চলে। দৃশ্য, প্রেক্ষিত, চোখের প্রভাবসমূহ, ধোঁয়াটে প্রেক্ষাপট কখনো কখনো শাস্তির দৃশ্যকে বড় করে তোলে। প্রকৃত দৃশ্যের চেয়েও অনেক বেশি বড় করে তোলে। আবার কখনো কখনো অধিকতর স্বচ্ছও করে তোলে। জনতা যেখানে বসে থাকে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি হতে বিচার করলে কিছু নিষ্ঠুরতার অস্তিত্বে বিশ্বাস করা সম্ভবপর হয় যা আসলে সঙ্ঘটিত হয় না। তবে, এই যাবতীয় বাস্তব অথবা বড় করে তোলা বাস্তবতার জরুরি বিন্দুটি হলো যে একটি কঠোর অর্থনীতি অনুসারে তাদের প্রত্যেকের একটি শিক্ষা দান করা উচিত। আর তা হলো যে প্রত্যেক শাস্তিরই একটি উপকথার মতো প্রভাবশালী হওয়া উচিত। এবং ধর্মবোধের বিপরীত বিন্দুতে দাঁড়িয়ে কেউ প্রতিটি মুহূর্তে প্রত্যক্ষ করতে পারেন মন্দ কাজের অশুভ ফলাফল। প্রত্যক্ষ করতে পারেন জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে।এই প্রতিটি নৈতিক ‘প্রতিনিধিত্বে’র পাশে স্কুলের শিশুরা তাদের শিক্ষকদের সাথে দাঁড়াবে। বয়স্করা শিখবেন যে তাদের উত্তর প্রজন্মকে কী শেখাতে হবে। প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের ভয়াবহ আনুষ্ঠানিকতা দিনের পর দিন, রাস্তার পর রাস্তায় অনুষ্ঠিত হলে, এই ভয়াবহ থিয়েটারের নানাবিধ প্ররোচণামুখর দৃশ্য উন্মোচিত হতে থাকে। জনতার মনে গেঁথে যাওয়া শাস্তির এই যত স্মৃতি গুজবের আকারে আইনী মতবাদ পুনরুৎপাদন করবে। তবে, অসংখ্য দর্শক ও বর্ণনার উর্ধ্বে, সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলোর জন্য শাস্তির চিহ্ন প্রতিষ্ঠা করা হলো শাস্তির প্রাসাদ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর। যে কোনো ক্ষেত্রেই, ভার্মেইল কল্পনা করেছেন যে চূড়ান্ত শাস্তির দৃশ্যগুলোরই প্রতিদিনকার শাস্তির নাটককে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

(খণ্ড ২, ২য় অধ্যায় চলবে)

তথ্যনির্দেশ

১. লো পেলেতিয়েহ দ্যু সঁ-ফাহজো। যেসব আইন রচয়িতা মৃত্যুদণ্ডকে অস্বীকার করেছেন, তারা কিছু সুনির্দিষ্ট শাস্তির প্রস্তাব করেছেন: ব্রিসোত, ২৯-৩০। দ্যুফ্রিশে দ্যু ভালাজ, ৩৪৪: ‘অসংশোধনযোগ্য মন্দ’ হিসেবে বিবেচিতদের জন্য আজীবন কারাদণ্ড নির্দ্ধারণ করা হয়েছে।

২. ম্যাসন, ১৩৯। তবু, সশ্রম কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে যে যুক্তি উপস্থাপিত হয়েছিল তা হলো সশ্রম কারাদণ্ড সন্ত্রাসের পক্ষপুট গ্রহণ করাকে বোঝায় (লো পেলেতিয়েহ)। অথবা, কাজের পবিত্র চারিত্র্যের মর্যাদাহানিকর এক ভাবমূর্তিও তা তুলে ধরতো (দ্যুপোর্ট)। রাব্যো সঁ-এতেইয়েন ‘বাধ্যতামূলক’ শ্রমের দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। এই দণ্ড দেওয়া হয়েছিল ‘মুক্ত মানুষের আয়ত্ত্বাধীন মুক্ত শ্রমে’র একদম বিপরীত দৃষ্টিকোণ হতে’ (আর্কাইভস্ দ্যু পার্লেমেন্তেয়েহ ২৬, ৭১)।

a_falgun@yahoo.com

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুমিত মণ্ডল — মে ১৩, ২০০৮ @ ২:২৯ অপরাহ্ন

      ইংরেজি পড়েছি। বাংলা অনুবাদ পড়ে ভাল লাগল। যদিও কিছু জায়গায় মনে হয়েছে বাংলা বুঝতে কষ্ট হয়েছে। আরেকটু সাবলীল বংলা হলে ভাল হতো। বই আকারে পেলে আরো ভাল লাগবে।

      সুমিত মণ্ডল

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আদনান সৈয়দ — মে ১৬, ২০০৮ @ ১:৩২ পূর্বাহ্ন

      খুব ভালো লেগেছে। ইংরেজীতে আগেই পড়ার কারনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আনুবাদ এর কঠিন পাহাড় ডিঙানো কঠিন হয় নি…
      তবে ভাষার চুলগুলো মনে হয় এবরো-খেবরো…এলোমেলো। একটু নরম করা যায় না? ফুকোর মতবাদগুলোকে আনুবাদ করে আমাদের পাতে তুলে দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

      আদনান সৈয়দ
      নিউইয়ক

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com