সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ যখন আমি…(কিস্তি ১)

চঞ্চল আশরাফ | ২৮ এপ্রিল ২০০৮ ২:১১ অপরাহ্ন

hacolor.jpg
হুমায়ুন আজাদ

১৯৯০ সালের খুব সম্ভবত এপ্রিলে, মাঝামাঝি কোনও এক দিনে হুমায়ুন আজাদের সামনে নিজের কবিতা নিয়ে হাজির হওয়ার প্রথম সুযোগটি পাই। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার দক্ষিণপাশে, রোদ-ঝলমল বিকালে, বেশ অনাড়ম্বরভাবে। উদ্যোক্তা ছিল মঙ্গলসন্ধ্যা। মিহির মুসাকী, সরকার আমিন, লিয়াকত জুয়েল কবিতা পড়েছিলেন। সবার শেষে আমার পালা এলে আমি সে-সময়ের লেখা নিজের সবচেয়ে ভালো কবিতাটি পড়ি। পড়ার সময় থেকে বুকে যে কাঁপুনি শুরু হয়েছিল, তা অনুষ্ঠান শেষ-হওয়া পর্যন্ত ছিল। সবার কবিতা পড়া শেষ হলে হুমায়ুন আজাদ সে-সব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। কার কবিতা নিয়ে কী বলছেন সেদিকে আমার খেয়াল নেই। থাকার কথাও নয়। কারণ, (অন্যরা গোল্লায় যাক) আমার কবিতা নিয়ে তিনি কী বলেন, সেই ভাবনায় আচ্ছন্ন ছিলাম তখন। কিন্তু কিছুই বললেন না। শুধু সামান্য তাচ্ছিল্যের হাসি মিশিয়ে আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওকে আল মাহমুদের ছেলে বলেই মনে হয়। এ্যাই, তুমি তার ছেলে না-কি!’
—————————————————————–
আমার কবিতা নিয়ে তিনি কী বলেন, সেই ভাবনায় আচ্ছন্ন ছিলাম তখন। কিন্তু কিছুই বললেন না। শুধু সামান্য তাচ্ছিল্যের হাসি মিশিয়ে আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওকে আল মাহমুদের ছেলে বলেই মনে হয়। এ্যাই, তুমি তার ছেলে না-কি!’
—————————————————————–
উল্লেখ বাহুল্য নয়, ১৯৯২ সালে আন্ওয়ার আহমদের বাসায় আল মাহমুদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই আমি তা বলি এবং তিনি আমাকে নিজের পুত্র বলে ঘোষণা দেন। শুনে আন্ওয়ার ভাই হেসে ওঠেন। আমি বলি যে ব্যাপারটা নিয়ে গর্ব করা যেত যদি আমি কবিতা না-লিখতাম; যদি বাপের পরিচয়ে আমার চলতে হতো। আর, আমার জন্মদাতা বেঁচে আছেন। যা-ই হোক, সাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ুন আজাদের সামনে আমার প্রথম উপস্থিতি সুখকর হয় নি। অবশ্য পরে সাপ্তাহিক বিশ্বদর্পণ-এর ঈদসংখ্যায় কবিতাটি ছাপা হলে (সরকার আমিন কবিতাটি সেখানে ছাপতে দিয়েছিলেন) তা সেই অভিজ্ঞতায় অনেকটা মলমের মত কাজ করেছিল। সত্যি বলতে কী, কবিতাটি ভালো ছিল না। চল্লিশ-পঞ্চাশের দশকের ভাব ও শব্দসর্বস্বতা দিয়ে লেখা হয়েছিল এটি; যদিও এর চেয়ে বাজে কবিতা এখনও প্রধান দৈনিকগুলোর সাময়িকীতে ছাপা হয়ে থাকে।

যা-ই হোক, ১৯৯২ সালে আন্ওয়ার ভাই (তিনিও, হায়, আজ নেই; ২০০৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাতে নিঃসঙ্গ অবস্থায় লালমাটিয়ায় তাঁর ভাড়া-করা বাসায় মৃত্যু হয়) কিছুধ্বনির জন্যে আমাকে হুমাযুন আজাদের কবিতা নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেন। আমি রাজি হই; কিন্তু অলৌকিক ইস্টিমার ছাড়া তাঁর আর কোনও কাব্যগ্রন্থ তখন আমার কাছে ছিল না। তখন পর্যন্ত প্রকাশিত বাকি চারটির মধ্যে আমার পড়া ছিল দুটি বই: জ্বলো চিতাবাঘসবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। ওই দু’টি বই আমি সহপাঠি এবরার হোসেনের (ছড়াকার ও কবি; ১৯৯০ সালে, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় সাইপ্রাসে গিয়ে উন্মাদদশা নিয়ে দেশে ফিরে আসে এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়; আর সুস্থ হয় নি সে) কাছ থেকে নিয়ে পড়ে ফেরত দিই। চারটি বইয়ের জন্যে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন আজাদের কাছেই যেতে হল। প্রবন্ধ লিখব শুনে তিনি খুবই খুশি হলেন এবং পরদিন কাগজের প্যাকেটে ভরে বইগুলো নিয়ে এলেন। লেকচার থিয়েটারের সেই চেম্বার থেকে আমি তাঁর পিছু-পিছু প্রথমে বাংলা বিভাগের অফিসে, পরে কলা ভবনের মূল সিঁড়ির সামনে, বের হওয়ার পথে বাঁ-দিকে ফটোকপির দোকানে (সেখানে দু’পাশে তিনটি ফটোস্ট্যাটের দোকান ছিল তখন, এখন একটিও নেই) থামলাম। মার্চের শুরুতে, এক দুপুরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নিজের চারটি বইয়ের ফটোকপি করিয়ে আমাকে দিলেন তিনি। আন্ওয়ার ভাই ওই কাজের জন্যে আমাকে টাকা দিয়েছিলেন; কিন্তু কবি নিজেই সেই ব্যয় বহন করায় তা আমার পকেটেই রয়ে গেল। সন্ধ্যায় সেই টাকা ফেরত দিতে চাইলে আন্ওয়ার ভাই ধমক দিয়ে বললেন যে হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে আমার কাজ শেষ হয় নি; তাঁর একটা সাক্ষাৎকার আমাকে নিতে হবে কিছুধ্বনির জন্যে।

সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা তাঁকে জানাতেই তিনি যে আরও খুশি হয়েছিলেন, তা আড়াল করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় নি। এই বৈশিষ্ট্য তাঁর সারল্যের অংশ হিসেবে বহুবার আমি দেখেছি। একটা মাইক্রোরেকর্ডার নিয়ে দু’দিন পর বিকালে ফুলার রোডে তাঁর বাসায় হাজির হলাম। ড্রয়িং রুমে বসার পর প্রথমে তাঁর স্ত্রী লতিফা কোহিনুর এলেন। তাঁর সঙ্গে কথা হল। তিনি বললেন, হুমাযুন আজাদের স্পষ্টবাদিতার কারণে অন্যান্য কলিগের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো নেই। প্রতিবেশী আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের স্ত্রী উদয়ন স্কুলের শিক্ষিকা, দু’বছর ধরে তিনি তাঁর সঙ্গে কথাই বন্ধ করে দিয়েছেন। এইসব কথাবার্তার মধ্যে হুমায়ুন আজাদ এসে বসলেন। জানতে চাইলেন, তাঁর কবিতার বইগুলো পড়েছি কি-না। রেকর্ডারটা ঠিক আছে কি-না পরীক্ষা করতে বললেন। এই ফাঁকে কলা, বিস্কুট আর চা এল। সাক্ষাৎকার শুরু হল। প্রথম প্রশ্নটি ছিল কবিতার আধুনিকতা ও নতুনত্ব — এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে এবং এর ব্যাখ্যাসমৃদ্ধ উত্তর পাওয়া গেল। সবকিছুই ঠিকমতো চলছিল। যখন তাঁর কবিতা নিয়ে কথা শুরু হল, গোলমালটা লাগল তখনই। ‘আপনার প্রথম দু’টি বই অলৌকিক ইস্টিমারজ্বলো চিতাবাঘ ছাড়া অন্য তিনটি শিল্পমনস্কতার দিক থেকে ব্যর্থ, কারণ এগুলোয় বিবৃতি আছে কেবল, কবিতা নেই’ — শুনে তিনি বললেন, ধর্মগ্রন্থের শ্লোকও বিবৃতি। আমি বললাম, ধর্মগ্রন্থকে কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করতে পারলে সুবিধা হতো, কিন্তু তা করা হয় না। তিনি ভীষণ রেগে গেলেন। বললেন, ‘আমার নামের আগে ডক্টর এবং প্রফেসর যুক্ত হওয়ায় আর সব মূর্খের মতো তুমিও আমাকে কবি বলে মানতে পারছ না। এই অবস্থায় আমার সাক্ষাৎকার নেয়া তোমার জন্যে উচিত হবে না।’ আমি বললাম, ‘কথাটা ঠিক না। আমি কেন এখানে এসেছি সেটা মনে করে দেখুন। আপনার কবিতা নিয়ে আমি প্রবন্ধ লিখব।’ শুনে তিনি বললেন, ‘আমার কবিতা সম্পর্কে তোমার যা ধারণা, তাতে ওই প্রবন্ধটা তো বিপজ্জনক হবে।’ বুঝতে পারলাম, এ-দফায় তাঁর
—————————————————————–
তিনি ভীষণ রেগে গেলেন। বললেন, ‘আমার নামের আগে ডক্টর এবং প্রফেসর যুক্ত হওয়ায় আর সব মূর্খের মতো তুমিও আমাকে কবি বলে মানতে পারছ না। এই অবস্থায় আমার সাক্ষাৎকার নেয়া তোমার জন্যে উচিত হবে না।’
—————————————————————–
সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব নয়। আমি বের হয়ে এলাম। তখন ফুলার রোডের বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে।

ঘটনাটা আন্ওয়ার ভাইকে জানালাম। আমার সামনেই তিনি হুমায়ুন আজাদকে ফোন করলেন কিছুদিন আগে জোগাড়-করা এনালগ ফোন থেকে। তাঁকে বললেন যে সাক্ষাৎকারে অমন বাক-বিতণ্ডা হয়েই থাকে এবং সেটা না-হলে জমে না। তিনি যেন সাক্ষাৎকারটি আমাকে দেন সেজন্যে বোঝাতে লাগলেন এবং তোষামোদের পাশাপাশি নানারকমে যথাসাধ্য আশ্বস্ত করতে লাগলেন। যেমন, আমি আপনার কবিতার ভক্ত, আপনার ওপর কিছুধ্বনির বিশেষ সংখ্যা হবে, রূপম থেকে আপনার কবিতাসমগ্র বেরুবে, আপনাকে নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে ইত্যাদি। কথা শেষ হলে আন্ওয়ার ভাই সাকসেসফুল একটা চেহারা নিয়ে আমাকে আবার হুমায়ুন আজাদের কাছে যেতে বললেন।

সাক্ষাৎকারশেষে তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি গ্রন্থনার পর তা দেখাতে বললেন। সারারাত ক্যাসেট বাজিয়ে পুরোটাই লিখলাম। কিন্তু তাঁকে না-দেখিয়েই তা কম্পোজে দেয়া হল আন্ওয়ার ভাইয়ের কথাতেই। (উল্লেখ বাহুল্য নয়, তখন রূপম প্রকাশনী, কিছুধ্বনি, সাহিত্য সাময়িকীরূপম-এর সমস্ত কম্পোজের কাজ হতো নাসা কম্পিউটারে। এটি ছিল আন্ওয়ার ভাই যে-বাসায় থাকতেন, তার চারতলায়, সালাউদ্দীন আহয়ুব (প্রাবন্ধিক, এখন আমেরিকায় আছেন) আর নাসির নামে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে-পড়া তার এক বন্ধুর বাসা ছিল সেটি।) যা হোক, সেই রাতে আন্ওয়ার ভাই আমাকে বাসায় ফিরতে দিলেন না। তাঁর পাশে আমার শোয়ার ব্যবস্থা হল, যদিও রাত কাটানোর জন্যে আরেকটা ঘর ছিল। কিন্তু সফলতার উত্তেজনায় তিনি আমাকে নিজের পাশে শুতে বাধ্য করলেন। মশারির ভিতরে তিনি ছটফট করছিলেন। একবার খাট থেকে নেমে ফ্লাস্ক থেকে দু’গ্লাসে পানি ঢেলে তাতে হুইস্কি মিশিয়ে মশারির মধ্যে ঢুকলেন। আগের রাতে গ্রন্থনাজনিত অনিদ্রার কারণে খুব ঘুম পাচ্ছিল আমার; কিন্তু ওই গ্লাসটা আমাকে নিতেই হল। খাওয়া শেষ হলে গ্লাস দু’টি নিয়ে আবার খাট থেকে নামলেন। এবার ঢুকলেন মাইক্রোরেকর্ডারটি নিয়ে। ওটা অন করে ভল্যুম বাড়িয়ে দু’টি বালিশের মাঝখানে রাখলেন। হুমায়ুন আজাদের সাক্ষাৎকারটি সেই রাতে আমার কাছে উপভোগ্য বিষয়ের বদলে একটা উপদ্রব হিসেবে হাজির হয়েছিল। পরের সকাল থেকে কিছুদিনের জন্যে আমি তাঁর বাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিলাম।

এর মধ্যে কখন যে কম্পোজ হয়ে লেখাটি হুমায়ুন আজাদের কাছে চলে গেছে, বুঝতেই পারি নি। লেকচার থিয়েটারের সামনে আমাকে দেখে তিনি বিকালে তাঁর বাসায় যেতে বললেন। গেলাম। তিনি আমাকে ভেতরের একটি ছোট ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে একটা কম্পিউটার আর কিছু বইপত্র টেবিলে এলোমেলো হয়ে ছিল। মেঝেতেও কিছু বই ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। দেখি, তিনি ওই সাক্ষাৎকারটি সংশোধন করছেন এবং কোথাও-কোথাও বদলেই ফেলছেন তাঁর কথাগুলো। প্রশ্নেও একই কাজ করছেন। ভাবলাম, এখানেই যদি এসব কাজ হয়ে যায়, তাহলে ক্যাসেটে ধারণ করা হল কেন, রাত জেগে তার কপি বানানোই-বা কেন; আমার দু’কান গরম হয়ে উঠল কিন্তু নিজেকে সংযত রাখতে পারলাম। ঠিক করলাম, তাঁর কবিতা সম্পর্কে প্রবন্ধ লিখব না।

সিদ্ধান্তটি নিয়ে এখনও যন্ত্রণা বোধ করি। যদিও সান্ত্বনা হিসেবে এই কারণটি আবিষ্কার করেছি: ওই অভিজ্ঞতার চাপ প্রবন্ধটির ওপর পড়ত এবং সেই বয়সে তেমনটিই ছিল স্বাভাবিক। সেটা হুমায়ুন আজাদের জন্যেও প্রীতিকর হতো না। কিন্তু না-লিখেও বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল আমাকে। যেদিন কিছুধ্বনি বেরোয়, তার কয়েক দিন পর আন্ওয়ার ভাইয়ের বাসায় ঢুকতে গেলে বিছানায় বসেই তিনি দরজার দিকে হাত বাড়িয়ে নাড়লেন, যার মানে, ‘এসো না’; আমি সরে গিয়ে গলিতে পায়চারি করতে লাগলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে সালাউদ্দীন আইয়ুব বের হয়ে এলেন, পিছু-পিছু আন্ওয়ার ভাই। ‘তুমি স্যারের কবিতা নিয়ে প্রবন্ধ লেখো নাই কেন?’ প্রশ্নটার উত্তর দেব, এমন সময় আন্ওয়ার ভাই তাকে ‘তোমার স্যার একা বসে আছেন, তুমি যাও’ বলার পর তিনি চলে গেলেন। ইসমাইল লেনে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যার আলো-অন্ধকারের মধ্যে প্রথম যে প্রশ্নটি শুনলাম, তাতে আমার কান ঝাঁ-ঝাঁ করতে লাগল। ‘তুমি কি তার কোন্ও ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে তাকে ভোগ করেছ? সিডিউস করেছ?’ তারপর ‘ওই ছাত্রীটি তোমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করে তোমার স্যারের কাছে চিঠি লিখেছে।’ এমনভাবে তিনি বলছেন যেন ঘটনাটি খুব উপভোগ্য। রাগে, দুঃখে, যন্ত্রণায় আমার শরীর কাঁপছিল। ‘যাকে তুমি এখানে নিয়ে আস, শোনো, সেই লিখেছে এই চিঠি। বুঝলে?’ (এখানে, এখন এই ঘটনার বিস্তারিত লিখতে চাই না, যদি কখন্ও আত্মজীবনী লেখার সুযোগ ঘটে, তখন, তাতে লিখব।) আন্ওয়ার ভাই আমাকে বললেন, ‘যদি এই কথাগুলো মিথ্যা হয় আর এর প্রতিবাদ যদি করতে পার, তাহলে আমার সঙ্গে আস।’ ঢুকে দেখি হুমায়ুন আজাদের এক হাতে গ্লাস, অন্য হাতে কিছুধ্বনির একটা কপি। বসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমার দিকে তাকালেন। তাঁর পরনে লাল গেঞ্জি আর জিন্স। ‘তুমি আমার কবিতা নিয়ে না-লিখে জয় গোস্বামীর কবিতা নিয়ে লিখেছ কেন?’ আন্ওয়ার ভাই বললেন, ‘ও আপনার কবিতার ওপর লিখবে, কিন্তু জয় গোস্বামীর মূল্যায়ন এখানে হয় নাই তো, ওকে দিয়ে আমিই প্রবন্ধটা লিখিয়েছি।’ আমি বললাম, ‘না, আমি নিজেই লিখেছি।’ শুনে তিনি ক্রুদ্ধস্বরে বললেন, ‘জয় গোস্বামীর কোন কবিতাটি আমার কবিতা থেকে ভালো, বলতে পারবে?’ বললাম, ‘সাহিত্যে এভাবে কিছু বলা যায় না। কিন্তু তার ভালো
—————————————————————–
ক্রুদ্ধস্বরে বললেন, ‘জয় গোস্বামীর কোন কবিতাটি আমার কবিতা থেকে ভালো, বলতে পারবে?’ বললাম, ‘সাহিত্যে এভাবে কিছু বলা যায় না। কিন্তু তার ভালো কবিতা আছে।’ বললেন, ‘পড়ে শোনাও।’ আমি চুপ করে রইলাম।
—————————————————————–
কবিতা আছে।’ বললেন, ‘পড়ে শোনাও।’ আমি চুপ করে রইলাম। তিনি আমার লেখা প্রবন্ধটি বের করলেন। ‘ডাল থেকে ঝোলে মৃত পশুদের ছাল’ বিড়বিড় করে পড়লেন। মুখ তুলে বললেন, ‘এইসব বালছাল যদি তোমার কাছে ভালো কবিতা হয়, তা হলে কবিতা সম্পর্কে তোমার ধারণা খুব বিপজ্জনক।’ আমি বললাম, ‘তা তো স্বাভাবিক, যখন অলৌকিক ইস্টিমারের একটি কবিতায় পড়ি: বৃষ্টি হচ্ছে যেন সৈনিকের পদপাত; আর ষাটের দশকের বৃটিশ কবি নরম্যান ম্যাকেজ আগেই তা লিখে ফেলেন: ইট ইজ রেইনিং লাইক সোলজার্স প্যারেডিং…’ শোনামাত্র তিনি ভীষণ ক্ষেপে যান। আন্ওয়ার ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে আপনি এজন্যেই কি এখানে আসতে বলেন?’ তিনি বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে উঠে দাঁড়ালে আন্ওয়ার ভাই তাঁকে ধরে বসিয়ে দেন এবং বলেন, ‘যা করার আপনার ছাত্র করেছে, সেজন্যে আমাকে অসম্মান করতে পারেন না।’ আমাকে ইঙ্গিত করে আন্ওয়ার ভাইকে তিনি বলেন, ‘ও কি বোঝে চেতনার ঐক্য কী জিনিস? পৃথিবীতে একই চেতনায় বহু কবিতা লেখা হয়ে থাকে, কিন্তু টিকে থাকে দু’একটি।’ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি এটা জানো?’ এতক্ষণ চুপ-করে-থাকা সালাউদ্দীন আইয়ুব বললেন, ‘স্যার, আপনার কথাটা ঠিক। কিন্তু ষাটের বাংলা কবিতার যেগুলো খুব বিখ্যাত, সেগুলোর বেশির ভাগই তখনকার ইংরেজি কবিতার হুবহু অনুবাদ।’ হুমায়ুন আজাদ বললেন, ‘কোন কোন কবিতা, বলতে পারবে?’ আমি বললাম, ‘দ্য নিউ পোয়েট্রি নামে একটা কবিতার বই বেরিয়েছিল পেঙ্গুইন থেকে, ষাটের দশকের শুরুতে। জে ওলভারেজ সম্পাদিত ওই সংকলনটা ছিল চল্লিশ আর পঞ্চাশের দশকের আমেরিকান আর বৃটিশ কবিদের কবিতা নিয়ে। ষাটের বিখ্যাত কবিদের অনেকেই সংকলনটির বেশ ক’টি কবিতা অনুবাদ করে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। এই দলে আবুল হাসানও আছেন, কিন্তু লাইসেন্স প্লেটটা বদলানোর কাজ তাঁর মতো নিখুঁত ও মৌলিকভাবে আর কেউ করতে পারেন নাই।’ সালাউদ্দীন আইয়ুব বললেন, ‘এটা তো একটা বই। আরও আছে। নেরুদা আর লোরকার কবিতাও নিজের মতো করে এখানে লিখেছেন অনেকে।’ সেই আড্ডা রাত এগারোটা পার হয়ে যায়। এর মধ্যে হুমায়ুন আজাদ বিশ শতকের সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান এইসব নিয়ে কথা বলেন এবং আন্ওয়ার ভাইকে প্রস্তাব দেন কিছুধ্বনির বিশ শতক সংখ্যা প্রকাশের জন্যে। জানিয়েও দেন সেই সংখ্যার তিনিই হবেন সম্পাদক। ১৯৯২ সালে, সাহিত্য সাময়িকীর ডিসেম্বর সংখ্যায় কিছুধ্বনির বিশ শতক সংখ্যার বিজ্ঞাপনও ছাপা হয়। কিন্তু সেটি আর বেরোয়নি। বের না-হওয়ার কারণ আমি আন্ওয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে পরে জানতে পারি। তা এই, একদিন আন্ওয়ার ভাইয়ের বাসার দেয়ালে বাঁধাই-করা আয়াতুল কুরসি দেখে হুমায়ুন আজাদ তাঁকে বলেন যে তিনি এত পশ্চাৎপদ তাঁর জানা ছিল না। আন্ওয়ার ভাই তাঁকে বলেন, ধর্মীয় কারণে নয়, এটা তিনি ঝুলিয়েছেন তাঁর মায়ের স্মৃতি হিসেবে। তিনি তাঁর এই অনুভূতি নিয়ে আর কোনও কথা বলতে তাঁকে নিষেধ করেন। কিন্তু হুমায়ুন আজাদ তা অগ্রাহ্য করে এ-নিয়ে আরও কিছু বলতে গেলে তিনি তাঁকে বের হয়ে যেতে বলেন। হুমায়ুন আজাদ বের হলেন; কিছুধ্বনির বিশ শতক সংখ্যা বের হল না।

(কিস্তি ২)

লিংক: শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ, যখন আমি তাঁর ছাত্র

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: চঞ্চল আশরাফ
ইমেইল: chanchalashraf1969@yahoo.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

প্রতিক্রিয়া (17) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন kabir — এপ্রিল ২৮, ২০০৮ @ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

      অসাধারণ লাগছে। চালিয়ে যান…।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Himel — এপ্রিল ৩০, ২০০৮ @ ১:১২ অপরাহ্ন

      একটা ব্যাক্তির পেছনে কী ঘটনা থাকে, তা আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষটাকে তাঁর জনপ্রিয়তাটাকেই চিনি। কিন্তু, পেছনের ঘটনাগুলো যে একটা মানুষকে বুঝতে সহায়ক তা অনেকাংশেই ভুলে যাই। সেই ভুলে যাওয়াটাকে মনে করিয়ে দিতে এ ধরনের লেখা বেশ জরুরী। লেখাটা ভাল লাগছে। ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রফিকউল্লাহ খান — এপ্রিল ৩০, ২০০৮ @ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

      হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে চঞ্চল আশরাফের কথকতা এবং মন্তব্য আজাদের স্বরূপকেই তুলে ধরেছে। মানুষ ও লেখক হিসেবে তিনি যে প্রচলিত ধারার বাইরে ছিলেন, এটা অনেকেরই জানা। কিন্তু ব্যক্তিমানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন, চঞ্চলের লেখায় তা অনেকটা প্রকাশ পেয়েছে। তবে সবার পর্যবেণেরই আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। আশা করি সামনে আরও নতুন কিছু পাবো।

      রফিকউল্লাহ খান

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mashooq Salehin — এপ্রিল ৩০, ২০০৮ @ ১০:৩৯ অপরাহ্ন

      অসাধারণ। খুব ভালো লাগল, পরের কিস্তির প্রত্যাশায়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্লুজ — মে ১, ২০০৮ @ ৩:২০ অপরাহ্ন

      অসাধারণ লাগছে।

      অপেক্ষায় আছি পরেরটা পড়ার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরিফুর রহমান — মে ১, ২০০৮ @ ৫:০১ অপরাহ্ন

      উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মনে হচ্ছে!

      হুমায়ুন আজাদ দোষগুনে গড়া সাধারন মানুষের মতোই, কিন্তু এই লেখায় তাকে যেভাবে কলঙ্কিত করা হয়েছে, তা কেন করা হয়েছে আমাদের বুঝতে হবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হিমেল — মে ৬, ২০০৮ @ ১১:২০ পূর্বাহ্ন

      হুমায়ুন আজাদ-এর মত মানুষদের আমাদের পরিচিত গণ্ডির মানুষদের সাথে তুলনা করাটা বোকামি। তাঁরা ভালো বা খারাপ সেটার গবেষণা চলছে চলবে। কিন্তু তাঁরা যে প্রকৃতিগত এবং কার্যগত ভাবে আমাদের থেকে অন্য রকম এটা অনস্বীকার্য। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রসাদ — মে ৬, ২০০৮ @ ৭:৫৯ অপরাহ্ন

      কিছুটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হচ্ছে…।

      প্রসাদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুজিব মেহদী — মে ১১, ২০০৮ @ ১:৪১ পূর্বাহ্ন

      হুমায়ুন আজাদ লেখক হিসেবে নিজেকে অনেক বড়ো মনে করতেন (বস্তুতপক্ষে বড়ো লেখক তিনি ছিলেনও)। বলতে কী, চঞ্চল আশরাফকেও এ লেখায় বেজায় বড়োম্মন্য মনে হচ্ছে।

      আমরা এখন চঞ্চলকেও হুমায়ুন আজাদের মতো নাক উঁচু লেখক বলে জানি। কিন্তু লেখক জীবনের শুরুতেই যে তাঁর নাক এমন উঁচু হয়ে উঠেছিল, সেটা এ লেখা পড়ার আগে আমাদের অনেকেরই ধারণায় ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুন আজাদের সাথে চঞ্চলের এ ধরনের আচরণ কিছুটা অবিশ্বাস্য ঠেকে বৈকি। চঞ্চল সত্যি সত্যি এ ধরনের পারফর্মেন্স করেছিলেন কি না, একমাত্র বিদেশ বিভুঁই সালাহউদ্দিন আইয়ুব ছাড়া তা প্রমাণ করবার এখন আর কেউ নেই, যেহেতু হুমায়ুন আজাদ এবং আনওয়ার আহমদ দুজনই প্রয়াত।

      চঞ্চল আশরাফ আমাদের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর এসব কথা ইতিহাসেরই অংশ হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী কিস্তিগুলোতে তিনি এটা মনে রেখে কথা বলবেন এরকম আশা করি।

      মুজিব মেহদী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চঞ্চল আশরাফ — মে ১২, ২০০৮ @ ২:০১ অপরাহ্ন

      লেখকের প্রতিক্রিয়া

      মুজিব মেহদীর প্রতিক্রিয়া আমাকে আনন্দ দিয়েছে। তাঁর পরামর্শটিও আমার পছন্দ হয়েছে। এটা অসত্য নয়, সালাউদ্দীন আইয়ুব সেখানকার এবং সে-সময়ের অনেক ঘটনার সাক্ষী; কিন্তু সব ঘটনার নন। আর যে-সব ঘটনার তিনি সাক্ষী, তার সাক্ষী কে?

      ‘ইতিহাস’ নিয়ে আমার কথা হল, এটি সৃষ্টি করে মানুষ। উপন্যাসে কথাসাহিত্যিকরা ব্যক্তির ইতিহাস লেখেন। সেই ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে-থাকা সমাজ তখন অনিবার্য হয়ে ওঠে। শাস্ত্রগত ইতিহাস ভিন্ন জিনিস। এটা অনেক বড় তর্কের ব্যাপার। আমি লিখছি স্মৃতি। জানি না, ইতিহাসের উপাদান হিসেবে এর রূপান্তর ঘটবে কি-না।

      মুজিব মেহদীকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

      চঞ্চল আশরাফ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন santosh — মে ২৫, ২০০৮ @ ৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

      দোষগুণে মানুষ। মানুষের দোষত্রুটি প্রকাশ করা ঠিক না। দোষত্রুটি না থাকলে তো মানুষ ফেরেশতা হয়ে যেত।

      সন্তোষ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Hasnath — মে ৫, ২০০৯ @ ৩:৩০ পূর্বাহ্ন

      এমন একজন লেখক/শিক্ষক সম্পর্কে লিখতে গেলে যে শ্রদ্ধাবোধ থাকা প্রয়োজন তার অভাব রয়েছে। আর চঞ্চল সাহেবের লেখার সত্যতা ১০০% গ্যারান্টি কে দেবে। তিনি যে নিজেকে হাইলাইট করার জন্য লিখছেন না তার ই-বা সত্যতা কী? উনি বলছেন এটা স্মৃতি লিখছেন, তবে ইতিহাসের উপাদান হবে কি-না এটা সন্দেহ। তবে আমি বলি কী, আমাদের মতো মাথামোটারা কিছুদিন পর এটাকে ইতিহাস হিসেবে কোট্ করবে। আর হুমায়ুন আজাদ বেঁচে থাকলে এমন লেখা লিখতেন কি-না তারও সন্দেহ আছে। তাই এমন ব্যক্তিদের সম্পর্কে লিখার আগে ভাবা উচিৎ।

      – হাছনাত

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসানআল আব্দুল্লাহ — মে ১২, ২০০৯ @ ৭:৫০ অপরাহ্ন

      আমি কিন্তু হুমায়ুন আজাদের অনেক কিছুর সাথেই একমত। বাংলা ভাষার একজন মহান লেখক তিনি। যেদিকেই হাত দিয়েছেন, ফলিয়েছেন বিপুল ফসল। হুমায়ুন আজাদ: রক্তাক্ত কবির মুখ (সাহিত্য বিকাশ, ২০০৭) গ্রন্থে আমি তাঁর সাহিত্যিক ও ব্যক্তিজীবনের অনেক ঘটনা তুলে আনতে চেয়েছি। চঞ্চলকে এ লেখায় বড়ো বেশি খোলামেলা মনে হলেও আপত্তি করার মতো কিছু পাইনি। তবে বাংলা সাহিত্যে পশ্চিমের প্রভাব নিয়ে আমরা যতটা বাড়াবাড়ি করি পশ্চিম কিন্তু পুবের প্রভাব নিয়ে অতটা করে না। একেবারে মাথা ঘামায় কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

      -হাসানআল আব্দুল্লাহ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রিপন — জুন ৩, ২০০৯ @ ২:০৬ পূর্বাহ্ন

      ভালো লাগলো।

      – রিপন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন liton — জুন ৮, ২০১১ @ ৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

      হুমায়ুন আজাদ পৃথিবীর অন্যসব লেখকের থেকে আলাদা। তিনি(হু আ) তাঁর লেখায় সেটা প্রমাণ করেছেন। কোন লেখার সাথে তাঁর লেখার মিল পাওয়া গেলে সেটা তুলনামূলকভাবে; তিনি অন্য সবার মত নন। এটা যিনি মানেন না তিনি হুমায়ুন আজাদ বিদ্বেষী।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন TALUKDER APURBA DEV — december ৪, ২০১৩ @ ২:২৬ অপরাহ্ন

      অনেক ভাল লাগল।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com