সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরির সাক্ষাৎকার: সমালোচনা লেখা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া

ফাতেমা খান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৩:২৩ অপরাহ্ন

Ashberyজন অ্যাশবেরি গত পঞ্চাশ বছর যাবত “মহত্তম জীবিত কবি” – এই অভিধার যথার্থ প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি লিখেছেন প্রথমে Art news এবং পরে New York Herald Tribune ও Newsweek এর প্যারিস সংস্করণের জন্য। স্তেফান মালার্মে, আর্তুর র‌্যাঁবো, রেমোঁ রাসেল এবং জর্জিও চিরিকোর রচনাসহ ফরাসী আভাগার্দ লেখকদের গীতল ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদের মাধ্যমে মার্কিন ও ফরাসী ভাবনার নান্দনিকতার মাঝে এক কেন্দ্রীয় সংযোগ হিসেবে ছিলেন। জ্যারেট আর্নেস্টের সঙ্গে সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরি কথা বলেছিলেন তাঁর জীবন ও লেখার বিভিন্ন দিক নিয়ে এই সাক্ষাতকারে। এটি প্রকাশিত হয়েছিল The Booklyn Rail পত্রিকায় ২০১৬ সালের ৩ মে। এই সাক্ষাৎকারের থাকছে অ্যাশবেরির আঁকা চিত্রকর্মও। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন ফাতেমা খান।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনার কবিতা সম্পর্কে আমি অন্য সবার মত গতানুগতিক কবিসুলভ প্রশ্ন করার পরিবর্তে আপনার জীবন ও কাজ নিয়ে মানবোচিত প্রশ্ন করব, যদি তাতে আপনার সম্মতি থাকে।
জন অ্যাশবেরি: ঠিক আছে।
জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: Ashbery: Collected Poems 1956–1987 বইটির জীবনপঞ্জীতে আশ্চর্য হয়েছিলাম আপনার সম্পর্কে এই কথাগুালো দেখে: “Life ম্যাগাজিনে নিউ ইয়র্কের মডার্ন আর্ট মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত সুররিয়ালিজমের শীর্ষস্থানীয় প্রদর্শনী সম্পর্কে পড়ে সুররিয়ালিস্ট চিত্রশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ” আপনার বয়স তখন নয় বছর। এটা লক্ষ্য করা বেশ মজার ব্যাপার যে আপনি কবিতা নয়, বরং চিত্রকলার মা্ধ্যমে সুররিয়ালিজমের সাথে পরিচিত হয়েছেন।
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ – আসলে ওই নিবন্ধের মাধ্যমে। মূলতঃ সেই সময় প্রতি সপ্তাহে আমার Life পত্রিকাটি পড়া হত, যেমন এদেশের আর সবাই পড়ত। মনে হয় না আমি এই পত্রিকাটি পড়ে সুরিয়ালিস্ট পেইন্টার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি রচেস্টার মিউজিয়ামে আর্ট ক্লাসে আর্ট শিখিয়েছিলাম, আমার বড় হয়ে ওঠা সেখানেই। আর্ট ক্লাসে আমি আমার শিক্ষককে সুররিয়ালিজম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি আমাকে বলেছিলেন “ সুররিয়ালিস্ট ধরনের কিছু চেষ্টা করছ না কেন?” তো আমি আমার আঁকায় সাধারণ পেইন্টিঙের পরিবর্তে সুরিয়ালিজম প্রয়োগের চেষ্টা করতাম। আমার কাছে এটা মহৎ ধারণা বলে মনে হয়েছিল। প্রতিদিন আমি এই কাজটি করতাম– বিশেষতঃ মহিলাদের পোষাকের ছবি। আমি ভাবতাম আমি বড় হয়ে একজন ড্রেস ডিজাইনার হব যেটায় আমি আসলেই ভাল ছিলাম। সময়টা ছিল ’৩০-এর দশকের শেষের দিকে। কিছু শিশুতোষ পদক্ষেপের কথা বাদ দিলে আমি সত্যিকার কবিতা লেখা শুরু করিনি ’৪০-এর দশকের আগ পর্যন্ত। এরপর যখন থেকে কবিতা লেখা শুরু করলাম তখন থেকে এটা আমার জীবনে আমৃত্যু সঙ্গী হয়ে রইল।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনার কি সঠিকভাবে মনে আছে ঠিক কখন আপনি প্রথম কবি অথবা চিত্রশিল্পী হওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন?
জন অ্যাশবেরি: আমার মনে হয় আমি সব সময়ই চেয়েছিলাম।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: বিভিন্ন জায়গায় শিল্পসমালোচক হিসেবে আপনার যে-লেখাগুলো আছে সেগুলোকে আপনি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। এব্যাপারে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।
জন অ্যাশবেরি: প্রথমতঃ আমি বলতে চাই যে আমি একজন চিত্র সমালোচক হিসেবে উপযুক্ত নই। শুধুমাত্র একটি কারণে আমি এই কাজটি করেছি আর তা হল আমার কিছু অর্থের প্রয়োজন ছিল। অবশ্য সেটা আমার খরচ চালানোর জন্য কোনো অর্থেই সবচেয়ে ভাল উপায় ছিল না।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল:আপনি ART news-এ লিখতে শুরু করেছিলেন। সেখানে কিংবদন্তী সম্পাদক টমাস বি হেস-এর সাথে পরিচয় হয়। সেখানে চিত্রসমালোচক হিসেবে আপনি যখন কাজ শুরু করেন তখন উনি কী বললেন?
জন অ্যাশবেরি: আমি তখন ফ্র্যান্সে NYU তে ২ বছর সফল্ভাবে ফরাসি ভাষায় ব্যাচেলর শেষ করে নিউইয়র্কে থাকতে শুরু করেছি। সে সময় আমার কোন চাকুরী ছিল না। আমি ভাবতাম পিএইচডি শেষ করে ফরাসি
ভাষার প্রফেসর হব। সে সময় আমি জেমস স্কুইলারির সাথে এক ফ্ল্যাটে বসবাস করতাম। ফ্ল্যাটের ভাড়া ছিল ৫৮ ডলার মাত্র। তারপরও সেটার অর্ধেক জোগার করা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। জেমি আমাকে বলল, তুমি কেন সমালোচনা লিখছো না? জেমস ইতিমধ্যে ART news এর জন্য কাজ করছে। আমি বললাম,আমি জানিনা কিভাবে সমালোচনা লিখতে হয়। সে বলল এটা খুব সহজ। আমি বিশ্বাস করি টমাস বি হেস তোমার নতুন ভাবনা পছন্দ করবে। আর টমাস হেস চায় কবিরাই শিল্পসমালোচনা লিখুক কারণ শিল্প সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় জ্ঞানবর্জিত একটা সজীব দৃষ্টিভঙ্গি কবিদের মধ্যে আছে। আমিও ভেবেছিলাম টমাস আমাকে যথার্থ শ্রমের মজুরী দিবে। আমি গিয়েছিলাম টমাসের কাছে। সে কিছুটা কঠোর ছিল। প্রথমে নিজেকে অযোগ্য মনে হচ্ছিল। সে আমাকে একটা আর্টিক্যাল লিখতে দিল যেটা ছিল আমার জীবনে লেখা প্রথম কোন চিত্রসমালোচনা। ব্র্যাডলি ওয়াকার টমলিনের প্রদর্শনীর পর্যালোচনা। তুমি ওর সম্পর্কে শুনেছো কখনো?

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: হ্যাঁ, একজন প্রচারবিমুখ অথচ অত্যন্ত প্রতাপশালী চিত্রকর ছিল সে। খুব কম লোকই আমি দেখেছি উনার মত। উনি ছিলেন একজন সমকামী, ঠিক না?
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ, আমি প্রায়ই বিস্মিত হই যে টম যদি এই কারণে এই কাজটায় আমাকে না জড়াতো।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: তাহলে, সে কি তখনই জানতে পারল যে আপনিও সমকামী ছিলেন?
জন অ্যাশবেরি: সম্ভবত, আমি জানি না,আমি আসলে কখনোই এ ব্যাপারে ওঁর সাথে কথা বলিনি, অন্তত তখন পর্যন্ত। আমি যা করতাম সেটা তার পছন্দ হতো। তারপর সে আমাকে তাঁর গ্যালারির সবগুলো প্রদর্শনীর জন্য আমাকে নিযুক্ত করে, যেগুলো নিউইয়র্কের সবগুলো প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছিল। সবচেয়ে হতাশাজনক ব্যাপার ছিল আমাকে ৫ ডলার দেয়া হত একটা বইয়ের পেছনের কভার পেইজে ছোট্ট বিবরণ লেখার জন্য, অবশ্য সেটা মন্দ ছিলা না।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: মাত্র কয়েক লাইন, আমার কাছে এটা ভাল পারিশ্রমিকই মনে হচ্ছে।
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ, সাবওয়ে খরচ।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: এমন কি কোনো চিত্র ছিল যেটার ব্যাপারে লিখতে আপনার সহজ অথবা কঠিন মনে হত?
জন অ্যাশবেরি: এটা একটা খুব ভাল প্রশ্ন। আমি সঠিক উত্তর দিতে পারব বলে মনে হয় না। বিমূর্ত চিত্রকলার ক্ষেত্রে সমালোচনা লেখা খুব সহজ। যেহেতু বিমূর্ত চিত্রকলা ছিল নতুন ধারণা এবং এ সম্পর্কে কেউ তেমন কিছু জানত না। তো তোমাকে তাই লিখতে হত যা আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এটি কবিতার মত নিজেই নিজস্ব স্বত্তা সৃষ্টি করে। তাই আমি ধারণা করি এটি আরো সহজ। আমার মনে পড়ে খুব বেশি কঠিন ছিল শুধুমাত্র ঐতিহাসিক চিত্রের সমালোচনা লেখা যেহেতু ঐতিহাসিক চিত্রের সমালোচনা করার জন্য অনেক পড়াশোনার দরকার ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় না আমি খুব বেশি সেগুলির সমালোচনা লিখেছি।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: ষাটের দশকে কেনেথ কোচ-এর সঙ্গে আপনার একটি কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছিল। কেনেথ বলেছিল,“আপনি কি কখনো শারীরিককভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন এই সমালোচনা লেখার জন্য?” আপনি বলেছিলেন,“না, কারণ আমি সব পছন্দ করি।” তারপর সে বলেছিল, “ আপনি কি বলতে পারেন যে এটাই সমালোচনার মূল কার্যক্রম?” যেখানে আপনি উত্তর দিয়েছিলেন, “যদি নাও হয় এটাই হওয়া উচিত।”
জন অ্যাশবেরি: আমার মনে হয় এর মধ্যে খানিকটা সত্য আছে।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: তো আপনার একটি অনুবাদ খন্ডের মুখবন্ধে শৈশবের ডায়েরীর কথা বলেছিলেন: কোনো কোনো অংশ ফরাসি ভাষায় লিখতে হত, যাতে কেউ বুঝতে না পারে।
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ!

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: ফরাসি ভাষায় লেখা আপনার অনুভূতিগুলো কী ধরনের ছিল?
জন অ্যাশবেরি: বাচ্চা ছেলেদের প্রতি অনুরক্ত হওয়ার অনুভূতি।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: হ্যাঁ, আমিও পড়েছিলাম যে কলেজে যাওয়ার আগে আপনার মা একটি ছেলেকে লেখা আপনার চিঠি পড়েছিল যেটায় প্রকাশ পেয়েছিল যে আপনি একজন সমকামী। আমি এ ব্যাপারে আরো জানতে চাই। কখন আপনি জানতে পারলেন যে আপনি একজন সমকামী?
জন অ্যাশবেরি: ভাল কথা, ‘সমকামী’ শব্দটির অস্তিত্ব তখনও ছিল না। এটা সম্পর্কে মানুষের ধারণা তখনও অস্পষ্ট ছিল বর্তমান সময়ের তুলনায়। কিন্তু আমি জানতাম যে আমি ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হই। আমি ডিয়ারফিল্ড একাডেমিতে ২ বছর পড়াশোনা করেছিলাম। সেখানে ওর সাথে আমার পরিচয়। আমার কলেজে যাওয়ার কথা ছিল যে বছর সে বছরে যাওয়া হল না। স্কুল থেকে আমাকে যেতে দেয়া হল না আমার বয়স কম বলে। দ্বিতীয় বছরের শেষের দিকে হার্ভাড আমাকে গ্রহণ করল। আমি ১৯৪৫ এর এক গ্রীষ্মে ওখানে চলে গেলাম। আমি জুনে গ্রাজুয়েট শেষ করেছিলাম এবং জুলাইতে হার্ভাডে গেলাম। ডিয়ারফিল্ডের প্রথম বর্ষের আমার সেই বন্ধু ততদিনে হার্ভাডে গ্রাজুয়েশন করছে, যে কিনা সমকামী ছিল। তাকে আমি একটি চিঠিতে গত বছরের সব রটনাগুলি সম্পর্কে অবহিত করেছিলাম। সেই চিঠিটাই আমার মায়ের হাতে পড়েছিল। আমি চিঠিটা সীল না করে আমার ঘরে রেখে চলে গিয়েছিলাম এক রাতের জন্য। আমার মা স্বভাবতই চিঠিটা পড়েছিল এবং অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিল। আমি বুঝতে পারি সে জোর করে বিষয়টি ভুলে যাবার চেষ্টা করেছিল। কারণ সে আর কখনোই এ ব্যাপারে উল্লেখ করেনি। সে যে বাবাকে বলেছিল সেটা আমাকে কখনোই বলেনি, কিন্তু আমি জানি সে বলেছিল। তা না হলে সে এটা আমাকে মনে করে বলত না।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনার মা কি সব সময় আপনার সব কিছুর উপর নজরদারী করত?
জন অ্যাশবেরি: অবশ্যই, এজন্যই আমি ফরাসি ভাষায় ডায়েরী লিখতাম। আমার মনে পড়ে একটা কৌশল ছিল আমার। আমি ফরাসি শব্দ Garcon ব্যবহার করতাম, তবে আমি বুঝতে পারলাম মা এই শব্দের অর্থ বুঝতে পারবেন, তাই আমি ওটা ব্যবহার না করে শব্দটার কেবল খিস্তিরূপ Gar ব্যবহার করতাম।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: ’৬০ দশকের মাঝামাঝি এক সাক্ষাতকারে আপনি বলেছিলেন, “আমার বিশেষণগুলো একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর কোন ব্যাক্তিবিশেষের জন্য আর নির্ভরযোগ্য হত না। আমার ধারণা বিশেষনগুলো একধরনের বহুমাত্রিক শব্দ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। আমি এটা আমার লেখায় ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি। আমাকে এ ব্যাপারটা তীব্রভাবে আকর্ষণও করেছে।”
জন অ্যাশবেরি: আমি আমার সর্বনাম ‘ইহা’ মানে কি বোঝাচ্ছে তার ব্যাখ্যা না দিয়ে ‘ইহা’ ব্যবহার করায় কুখ্যাত ছিলাম। যেটা কখনো আমার কাছে পরবর্তীতে আমাকে লেখার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করেছিল। আমাদের ‘ইহা’ র সম্পর্কে সব ধরনের অনুভূতি আছে যদিও কেউ জানে না কে কি ভাবছে। বিশেষত সেই সময়ের এবং সেই ঘটনার জন্য এটা আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ছিল। এই ‘ইহা’ সেখানে ছিল এবং আমরা জানি সেটা কি। সেটা ছিল স্বাভাবিক। আমি এর জন্য দুঃখিত নই, যদিও বিভিন্ন সময়ে আশা করা হত আমি ক্ষমা চাইব।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: কিভাবে আপনি এটাকে আপনার সমালোচনা লেখার সাথে সম্পর্কিত করেন যেখানে ‘ইহা’ এবং ‘আমি’কে সংজ্ঞায়িত করা যায়।
জন অ্যাশবেরি: সমালোচনা লেখা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া। এখানে ভাষার অর্থকে নিয়ন্ত্রন করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। চিত্রকলার ক্ষেত্রে তুমি যদি পুরো কোলাজের একটা আংশিক ইমেজ ব্যাখ্যা কর, তাতে তুমি একটা অর্থ বোঝাতে পারবে। কিন্তু বিশালতার অর্থে, ভাষার ক্ষেত্রে এরকম ব্যবহার সম্ভব নয় অথবা বলা যায় ভাষায় এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: কারণ, ভাষার দুর্বোধ্যতা বহুদূর পর্যন্ত যেতে পারে অথবা অধিক সংখ্যায় হতে পারে।
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ, আমিও তোমার সাথে একমত।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনি কি সবসময় কোলাজ তৈরী করতেন?
জন অ্যাশবেরি: আমার মনে পড়ে আমি যখন কলেজে তখন কোলাজ শুরু করেছিলাম। আমার রুমমেট এবং আমি দু’জনে মিলে কোলাজ করতাম। আমার কাছে এখনও সেই সময়ের কিছু কোলাজ আছে যেগুলো ২০০৮ এ Tibor De Nagy তে প্রদর্শিত হয়েছিল। সেগুলোর একটা এখনও আমার কাছে সযতনে আছে; যেটা সে সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ বলে গন্য হয়েছিল।
Ashbery-1
জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল:এটা কিসের জন্য বিখ্যাত হয়েছিল?
জন অ্যাশবেরি: এটা একটা পরিপূর্ণ কাজ ছিল। এটা ১৯ শতকের বাচ্চাদের বইয়ের মোড়ক করা হয়েছিল। ছবিটার প্রথম অংশে একটা ছেলে দৌড়ে স্কুলে যাচ্ছে। পেছনে তার বোন আর একটা বড় পাখি তার যাওয়ার রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। আর দ্বিতীয় অংশে সে স্কুল থেকে ফেরত আসছে কিন্তু ছেলেটির মাথার পরিবর্তে পাখিটির মাথা বসিয়ে দেয়া হয়েছে এবং মেয়ে দুটোকে উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে। ছবিটা খুব ভয়ঙ্কর ছিল।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: রহস্যজনক; কিছু অনাবিষ্কৃত কাহিনী ইঙ্গিত করছে। আমাকে এটা আপনার অনূদিত জর্জিয়ো চিরিকো’র উপন্যাস ‘হেবডোমেরোস’ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
জন অ্যাশবেরি: সত্যিই আমি অবর্ননীয় ভালবাসা অনূভব করি এই লেখাটির জন্য। এটা অত্যন্ত মূল্যবান। বিশেষত যখন তুমি একে চিরিকোর লেখা হিসাবে বিবেচনা কর, যিনি চিত্রকর হিসাবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। কিন্তু সাহিত্যের এমন একটি রচনাশৈলী আবিষ্কার করেছিলেন যা আগে কেউ কখনো ব্যবহার করেনি। তবে এটা ছিল সেই পুরনো অসন্তোষ। আমি একবার তার সাথে সাক্ষাত করেছিলাম নিউ ইয়র্কে। আমি ‘হেবডোমেরোস’ অনুবাদের অনুমতির জন্য গিয়েছিলাম। কলম্বাস সার্কেল জাদুঘরে তার প্রদর্শনী ছিল। আমার চিঠির জবাবে উনি আমাকে একবার একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বলেছিলেন আমি হেবডোমেরোস এর একটা পর্ব অনুবাদ করতে পারি। কিন্তু চেয়েছিলাম আমি পুরোটা অনুবাদ করতে। যদিও সেটা এর আগেই কেউ অনুবাদ করেছিল।
আমাকে তার সাথে সাক্ষাতের জন্য অতিক্রম করতে হয়েছিল দুইজন আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং তারপর ওনার বউ এবং সর্বশেষে এই মহামানবের সাক্ষাত পেয়েছিলাম। আমি “হেবডোমেরোস’ সম্পর্কে ভীষন উচ্ছাস প্রকাশ করেছিলাম এবং অনুবাদ করতে কি ভীষন আগ্রহী সেটাও বলেছিলাম। আর উনি শুধু হাত নেড়েছিলেন আর বলেছিলেন “এহ”। সেটাই ছিল আমাদের কথোপোকথনের পুরো মেয়াদ। তাই আমি বাকিটুকু আর অনুবাদ করিনি যেহেতু পরিস্থিতি আমার কাছে অষ্পষ্ট ছিল।
Ashbery-2
জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: দান্তে সম্ভবত ‘ইনিদ’ হৃদয়ঙ্গম করেছিল। ফলত এটা তাঁকে অনেক জানতে সাহায্য করেছিল। যখন অনুবাদ শুধু একটা মুখস্থবিদ্যা নয়, তখন অনুবাদ বিষয়বস্তুর সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিশ্বের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। অবশ্য, হতে পারে এটা আমার অ-অনুবাদকের কল্পনা মাত্র।
জন অ্যাশবেরি: সম্ভবত এটা ঠিক। কারণ আমি অত্যন্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক অনুভব করি র‌্যাঁবো এবং অন্যান্য অনুবাদের ব্যাপারে। অনুবাদ চর্চা একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছিল আমার লেখায়।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনি র‌্যাঁবোর ‘Illumination’-এর সবটুকু অনুবাদ করা থেকে তার সম্পর্কে কী শিখেছেন যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১১ সালে?
জন অ্যাশবেরি: আমার কাছে র‌্যাঁবোকে জানাটা বেশি সুপাঠ্য ছিল তাকে অনুবাদ করার ফলে। অনুবাদ করাটা এমন যে আমি যা একবার অনুবাদ করি আমি তাতে সবদিক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। আমার লেখায় এর সম্ভাব্য প্রতিফলনের জন্য অপেক্ষা করি কিন্তু আমি জানি না সেই প্রতিফলনগুলো কী রকম।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: মানুষ যখন প্রেমে পড়ে অথবা দুঃখে থাকে তখন তারা কবিতাকে অবলম্বন করে অনুভূতি প্রকাশের জন্য। আমি জানতে চাই প্রেম কিভাবে আপনার কবিতায় এসেছে অথবা আপনার সম্পর্করা কিভাবে আপনার ভাষাকে দখল করেছে?
জন অ্যাশবেরি: আসলে, আমার প্রথম প্রেম ছিল ম্যাসাচুসেটসের এক খামারে কাজ করা একটা ছেলের সাথে। যে নাকি প্রথম আমাকে র‌্যাঁবোর ব্যাপারে অবহিত করে।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: সত্যি?
জন অ্যাশবেরি: ও তাকে পড়েছিল। ও আমাকে “ O saison, o chatiaux, Quelle ameest sans defauts” নামক ছোট কবিতা দেখিয়েছিল যেটা ছিল আমার জীবনের সর্বাপেক্ষা সুপাঠ্য কবিতা। মনে পড়ে যখন ওকে প্রথম দেখেছিলাম আমি তখন কবিতা লিখতে শুরু করেছি। কিন্তু সেটা ছিল আমার কবিতার প্রথম ধাপ। প্রথম দিককার কবিতাগুলি এখন আমাকে লজ্জায় ফেলে। ও আমার কবিতাগুলির ব্যাপারে খুব সদয় ছিল। কিন্তু অবশ্যই সেগুলি খুব মূল্যবান ছিল বলে আমার মনে হয় না।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনার কোন নাটকীয় ঘটনা মনে পড়ে ওর সাথে?
জন অ্যাশবেরি: ও আর্মহারস্টে ওর বাড়িতে যাচ্ছিল আর আমি ডিয়ারফিল্ডে। সেটা ছিল সেপ্টেম্বর মাস। যখন সে চলে যায় আমি তখন অপরাধবোধে ভুগছিলাম আমি তার সাথে যা করেছি সেজন্য। চিঠি লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ও খুব আঘাত পেয়েছিল।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: এ ঘটনা অবশ্যই একটা সেতু তৈরি করেছিল ফরাসী ভাষা এবং কবিতার সাথে, ঠিক? আমার মনে হয় ফরাসি ভাষার প্রতি বিশেষ আগ্রহ এবং পরে র‌্যাঁবোর প্রতি রোমাঞ্চকর তীব্র অনুভূতিতে আচ্ছাদিত ছিলেন। চমৎকার! এবং শেষে ফ্র্যান্স ত্যাগ করেছিলেন। কিভাবে ফ্র্যান্স ত্যাগ করতে পেরেছিলেন?
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ,তখন সবকিছু পছন্দনীয় ছিল, শুধুমাত্র কিছু অসহনীয় অংশ ব্যতীত যা আমাকে থাকতে বাধ্য করেছিল হতদরিদ্র কামরায়।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: এটা খুব আশ্চর্যজনক যে আপনি নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করলেন ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে আর্টের প্রদর্শনীর জন্য। আমেরিকার আর্ট তখন ফ্র্যান্সের আর্টকে গ্রাস করে ফেলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনি আপনাকে আবিষ্কার করলেন প্যারিসে।
জন অ্যাশবেরি: তখন আমি কিছু মনে করিনি। আমি আসলে নিউ ইয়র্কে যা হচ্ছিল তার কোন অংশ ছিলাম না। ফ্রাঙ্ক ওহারা আর্টিস্টদের যেভাবে জানতেন আমি সেভাবে কিছু জানতাম না। আমি তখন একজন অপরিচিত কবি মাত্র। চিত্রকর্মকে আমি কবিতার পাশাপাশি ভালবাসতাম। কিন্তু কবিতাই ছিল সেই জিনিস যেটায় আমি আগ্রহ বোধ করতাম। একটা দীর্ঘ সময় ধরে আমি ফরাসি খুব ভাল পড়তে অথবা বুঝতে না পারার কারণে জানতাম না ফরাসি কবিতা কতটা ভালো বা মন্দ। তবে আমি সেই সময় নিজেকে বঞ্ছিত মনে করিনি শিল্পীদের মধ্যমণি না হওয়ায়।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনি রেমোঁ রাসেলের উপর পিএইচডি না করার সিদ্ধান্ত নিলেন কি কারণে?
জন অ্যাশবেরি: সত্যিকার অর্থে আমি চেয়েছিলাম প্যারিসে ফেরত গিয়ে বসবাস করতে। আমি প্যারিস গিয়েছিলাম এবং রাসেলের উপর গেবেষণা করেছিলাম এবং একটা সময় বুঝতে পেরেছিলাম আমি আর নিউ ইয়র্ক ফেরত যেতে চাই না। আমি আমার এক ফরাসি বন্ধুর সাথে থাকছিলাম যার সাথে সর্বপ্রথম ওখানেই পরিচিত হই। আমি ওর সাথে থাকতে চাইছিলাম যাতে আমার দৈনন্দিন ব্যয় কম হয় এবং কাজ খুঁজে পাওয়াও সম্ভব হয়। তখন আমার একটা কাজ হল হেরাল্ড ট্রিবিউনে, যেটা আমি অন্যান্য কাজ পাওয়ার জন্য করতাম। তবে কোন একটা কাজ করে ঠিকমত জীবিকা চালানোর মত উপার্জন তখন হত না। অথচ এই দারিদ্র সত্ত্বেও আমার চলে যেত আর সেটাই ছিল আমার মুখ্য চাওয়া।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: অতীতে আপনি বলেছিলেন আপনার অধিকাংশ আগের লেখা যখন আপনি “অপরিচিত কবি”, সেগুলো পাঠকের আশা না করেই লিখেছিলেন। এমনকি প্রকাশের আশাও করেননি। কিন্তু ’৭০ এর মাঝামাঝি সময়ে আপনি একজন কীর্তিমান কবি। এটা কিভাবে ঘটলো?
জন অ্যাশবেরি: যখন আমি প্রথম কবিতা লিখতে শুরু করি আমি ভাবতাম এটা অসাধারণ। সবাই এটা পছন্দ করবে এবং আমি খ্যাতিমান হয়ে যাব। আর আমাকে ফিরে তাকাতে হবে না। আমার প্রথম বই Some Trees ১৯৫৬ এ ৮০০ কপি প্রকাশিত হয়। ৮ বছর লেগেছিল বিক্রি শেষ হতে। এরপরের বই The Tennis Court Oath (১৯৬২) ছিল আগেরটার চেয়েও কম সফল। তারপর আমি ভাবতে থাকলাম লোকজন আমাকে আর কবি ভাববে না। ভাবছিলাম, কি করব। আমি কবিতা ভালবাসি বলে লিখে যাব নাকি ছেড়ে দিয়ে অন্যকিছু করা শুরু করব? তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম আমি কবিতাই লিখে যাব – আমি ভালবাসি বলে লিখব, এতে যা হয় হবে। এরপর আস্তে আস্তে পাঠকদের দৃষ্টি কাড়তে শুরু করলাম এবং এরপরেই আমার Self-Portrait in a Convex Mirror বইটি তিনটি বিখ্যাত পুরষ্কার পেল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর হঠাৎই কবি স্বীকৃতি পেলাম।
Ashbery-3
রেইল: আপনার কিছু বই যেগুলোর মধ্যে অামার প্রিয় কিছু বইও রয়েছে, আপনি উৎসর্গ করেছেন ডেভিডকে। ধারণা করছি সে ছিল ডেভিড কারমানি। দু’জন একসাথে ছিলেন একটা দীর্ঘ সময় ধরে। এই দীর্ঘ সম্পর্ককে কিভাবে ব্যাখ্যা করেন?
জন অ্যাশবেরি: আমরা একে অপরের পরিপূরক। তুমি মনে হয় খেয়াল করেছ ডেভিড ব্যবসায়ী মানুষ। ওর সবকিছু ঠিক সময়মত হওয়া চাই। আর আমি একেবারে অন্য রকম। কিছুটা অলস,ছন্নছাড়া। আমার যা করার কথা আমি সেগুলো নিয়ে থাকি। আমি ডেভিডকে চিনিও না আমার ব্যাঙ্কে ব্যালান্স ভরা শুরু করার তিনমাস আগে থেকে। অবশ্য তাকে আমি এটা কখনই করতে বলিনি। সে নিজে নিজেই এই কাজগুলির প্রতি ঝুঁকে পড়ছিল। সে হচ্ছে চিরায়ত ধরনের ‘কুম্ভ’ রাশির জাতক।
রেইল: আপনি কোন রাশির?
জন অ্যাশবেরি: সিংহ।
রেইল: আমিও। ডেভিডের সাথে সম্পর্ক আপনার জীবন এবং লেখায় কিভাবে পরিবর্তন এনেছে?
জন অ্যাশবেরি: আমার ধারণা ও আমার জীবনের অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে। ও আমার বিভ্রান্তি আর অলসতা কমিয়ে এনেছে। বলতে পারো আমরা একে অপরের সম্পূর্ণভাবে বিপরীত যেটা একে অপরকে আকর্ষণ করে।
রেইল: ‘চার্লস এলিয়ট নরটন’ বক্তৃতাটা খুব পছন্দ আমার। যেটা হার্ভার্ডে করা, যেটার নাম ‘আদার ট্র্যাডিশন’। সেই বক্তৃতাগুলোর একটায় লরা রাইডিং সম্পর্কে অশুদ্ধ পাঠের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন- “যেভাবে পড়তে বলা হয়েছে তার বিপরীতভাবে পড়া হয়। কবিতার বেলায় যেটা খুব বেশি ঘটে। এমন কোনো কবিতা খুঁজে পাওয়া যায়না যেখানে অন্তত একজন পাঠকের অনুভূতি কবির অনুভূতির সাথে সম্পূর্ণ মিলে যাবে যেমনটা কবি আশা করে। পাঠক তার নিজের মত করে বিশ্লেষন করবে এটাই স্বাভাবিক।” কি ধরনের মতৈক্য আশা করা যায় যেখানে অনুভূতির অমিল থেকে যায়?
জন অ্যাশবেরি: এ ব্যাপারটা অনেক ব্যাপক। লেখার ক্ষেত্রে যোগাযোগ করতে না পারার ব্যাপার বিবেচনায় রাখতেই হবে। এটা অনস্বীকার্য যে মতানৈক্য থাকবে। এটা কমিয়ে আনতে হবে।

রেইল: আপনার কবিতা অস্পষ্টতাকে যেভাবে উন্মোচিত করে তা ভুল-পাঠের জন্য সম্ভাবনাকে জায়গা করে দেয়, তবে একে অঙ্গীভূত করা বা ঐক্যবদ্ধ করাটা এক ইতিবাচক উপাদান বলে মনে হয়।

জন অ্যাশবেরি: সেটা সম্ভব, যদিও আমি এটা ভেবে কোন কবিতা লেখা শুরু করি না যে আমি এমন একটি কবিতা লিখবো যাতে করে এটি ভুল পাঠের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। আমার লেখার সময় এটা ঘটে না।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আনিসুজ্জামান — সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ @ ৩:২৮ পূর্বাহ্ন

      খুব সুন্দর কাজ! আরও লেখা আশা করব ভবিষ্যতে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আশরাফুল কবীর — সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭ @ ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

      দারুণ একটি সাক্ষাৎকার পড়লাম। প্রথম ছবিটি আসলেই চিত্তাকর্ষক লেগেছে। জন অ্যাশবেরির সাক্ষাৎকারের জন্য ধন্যবাদ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com