মাজুল হাসানের সাতটি কবিতা

মাজুল হাসান | ২৯ আগস্ট ২০১৭ ৫:০৭ অপরাহ্ন

Murtaja Baseer

হরিণ

তুলে দিলুম শব্দতবল, বাজাও, দৃশ্যরা বাজুক তুমুল
পোড়া বনস্থালীতে বসে বসে হাসতে পারাটাই জীবন
সারথি তোমার ত্রিশূলতৃণ। তোমার স্মৃতিভ্রষ্ট আতাগাছ
কামঐশে পূর্ণ। কে দেখায় রঙশেকল?
হাঁটো। দৌড়াও। বসো-স্থিত। দ্যাখো লম্ফমান মূর্ধন্য…

অদ্বৈতবৃক্ষ

মেঘমোহিত আপাতত এটুকু বলা। স্থির পড়ে আছে প্রেম
জবা। চক্তচোখ। আমি কি তবে শোনাব না দেহকাণ্ডবীণ?
কিভাবে তৈরি হয় মনোমালিন; পৃথক আয়না?
রোজ দেখছি স্ফুটন, তবু দেখছি না—হে জড় ক্রিয়াপদ
হারিয়ে ফেলেছি পাখি ও লাউডগা সাপ-প্রিয় দংশন
সপ্তরিপুর প্রকৃত অর্থ নিয়ে শুয়ে-বসে থাকা, ফেউলাগা
গোয়েন্দার মতো
রহস্য—তোমার অদ্বৈতবৃক্ষ চিরকালই অরক্ষিত
প্রতিবেশীর ভিটায় খসিয়ে দেয় ছায়াফল…

হস্তগীত

যতোদিন হস্তগীত ততোদিন শেষ বলে কিছু নাই
তব্দালাগা পা, ত্যক্ত মৌচাক, মিথুনপুষ্প—
সবই হস্তগীতের অনুঘটক। শুধু জানতে হবে দক্ষিণ।
কোন টেপাপুতুলটা ছোঁবে? কোন নির্দেশে বাইবে দাঁড়?

গন্তব্য জরুরি নয়; দিগন্ত হাতছানিই অধিক মনোহর

চৌদিকে দরিয়া, নুনজল, তবু গোপিকানৃত্যই সত্য
অল্পপ্রাণ অন্ধকার কার ভালো লাগে—হে ছন্দপতন

হস্তগীত তুমিই আমার ময়ূরপুস্তক…

হাবাগোবা সুর

এই ক্লিষ্টজীবন, পড়ে থাকা টুকরো রঙিন কাচ, বিভাজক
যা-ই দেখি ভেসে ওঠে হাবাগোবা সুর, নেচে ওঠে হৃদডমরু
কাটা হাত, তবু বাসনারা মন্থনমুখি, পাহাড়ও হাতছানিময়
জেগে থাকো কাকসিন্ধু ভোর, স্নানবাষ্প, মেঘজারুল—
হে ক্লিষ্ট রঙিন কাচ—তোমাতেই ভর করে সপ্তরিপু সুর

হাবাগোবা গান তুমিই শস্যবীক্ষণ; প্রকাশ্য অহম আমার…

দেহকাণ্ডবীণ

লেলিহান চুমু শীতলতার মানে তুমিই বোঝ শুধু
তুমিই প্রকৃত অস্থিবাদক। বাক্যনীড় থেকে সতত
ঈর্ষা করি তোমায়
লালাতন্তু-লালাতন্তু বলে ডাকে বৃষ্টিরহিত দিন
অতঃপর বিজলি চমক, লেপ্টে যায় জামা

আলোকসঙ্গত-আলোকসঙ্গত

রূপ ও শৃঙ্খলের মানে আমি জানি—হে শস্যকারাগার

নূর

মানুষ-গাছ সব ক্লিব, এমনকি চোখও, শুধু দৃষ্টিটা প্রাণবাচক

অম্বরচুমা জলধি, আরশিপৃষ্ঠ, তারি মধ্যখানে তারাগাছ
পাতা নড়ছে একটি—সবুজ বিদ্রোহ—শুধু দৃষ্টিটা গতিবাচক

পালতোলা নৌকার আগে তটরেখা ছুঁয়ে দেয় চোখ

পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞানগ্রন্থ আদতে একেকটি চোখের মালা
সেথায় লেখা: চাহনিতে পাহাড় সুরমা হওয়ার রোমাঞ্চ


বেলাতট

ফিরে আসে বেলাতট। ট্র্যাজেডির মতো ছেড়া বুট নিয়ে
আর কতো আকাশগঙ্গা বলো?

নিভে গেছে চিবুকে অঙ্কুরিত আলো। পলাতক কাঠবিড়াল
তোমার জন্য তোলা থাক লীলাসন্তরণ
পুরনো বইয়ে মনীষাবকুল, যতোটা মৃত তারোধিক জ্যান্ত
বায়ুখণ্ড জ্যান্ত—যেমন সূর্যোদয়—প্রথম ফুলকারি আথবা বুদ্বুদ
ওড়ে… উড়ছে…
‘একদিকে স্রোত তদোপরী শ্মশানভূমি’ ওড়ে… উড়ছে…

ফিরে আসে বেলাতট। ট্র্যাজেডির মতো ছেড়া বুট নিয়ে
আর কতো আকাশগঙ্গা বলো?

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ASHRAF JEWEL — আগস্ট ২৯, ২০১৭ @ ১০:৩২ অপরাহ্ন

      VALO LAGOLO, KOBITAGULOTE EKOTA NIRIKKHAR CHAP DEKHTE PEYE VALO LAGOLO.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাগর শর্মা — আগস্ট ২৯, ২০১৭ @ ১০:৪৩ অপরাহ্ন

      বাহ্ সবগুলোই ভালো লাগলো, বেশ মোহনিয়!♥

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সনাতন — আগস্ট ৩০, ২০১৭ @ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন

      অতুলনীয়। লাজবাব। খুব ভালো লাগলো। একটা প্রচ্ছন্ন ও প্রকাশিত দার্শনিক উপলব্ধিতে ঠাসা এইসব কবিতা। নীরিক্ষা ও নন্দন দুটোর দাবি মেটায়। আর কী বলব- এসব লাইন!
      *
      বনস্থালীতে বসে বসে হাসতে পারাটাই জীবন
      *
      রহস্য—তোমার অদ্বৈতবৃক্ষ চিরকালই অরক্ষিত
      *
      লেলিহান চুমু শীতলতার মানে তুমিই বোঝ শুধু
      তুমিই প্রকৃত অস্থিবাদক

      রূপ ও শৃঙ্খলের মানে আমি জানি—হে শস্যকারাগার
      *
      গন্তব্য জরুরি নয়; দিগন্ত হাতছানিই অধিক মনোহর

      চৌদিকে দরিয়া, নুনজল, তবু গোপিকানৃত্যই সত্য
      আল্পপ্রাণ অন্ধকার কার ভালো লাগে—

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৈকত আরেফিন — আগস্ট ৩০, ২০১৭ @ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

      পড়লাম। অপ্রথাগত শব্দে একটি পুরনো, বর্ণাঢ্য গন্ধ কিন্তু আছে। ধীরলয়ে এ যেন প্রকৃতিনির্মাণ, অন্তত আমার কাছে।
      তবে, কিছু শব্দের ব্যবহার যেমন, মূর্ধাণ্য,(আমি এর মানে জানি না) মনোমালিন,(মনোমালিন্য হতে পারে, বা মনোমলিন) বৃষ্টিরোহিত, (এটার মানে যদি বৃষ্টির রুইমাছ হয় তাহলে ঠিক আছে, কিন্তু বৃষ্টিহীন হলে ঠিক নেই।) আমি বুঝতে পারি নি। (আর আল্পপ্রাণ, আথবা, তদোপরী, ছেড়া প্রতিবেশি এগুলো ভুল বানানের কারসাজি সেটা বুঝতে পারছি।)

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাজুল হাসান — আগস্ট ৩০, ২০১৭ @ ৪:০২ অপরাহ্ন

      সৈকত আরেফিন ও আর্টস সম্পাদকে ধন্যবাদ, অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া ও তড়িৎ শুধরে নেয়ার জন্য। আর ‘একদিকে স্রোত তদোপরী শ্মশানভূমি’ এটি কমলকুমারের বাক্য; তাই ‘তদোপরী’ বানানটা অক্ষুণ্ন না রেখে উপায় নেই।
      শুভেচ্ছা সবাইকে

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন zunnu rien — সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭ @ ৪:৩৮ অপরাহ্ন

      এক সাথে অনেকগুলো পড়লাম, কবিকে অভিনন্দন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনুপম মুখার্জী — সেপ্টেম্বর ২, ২০১৭ @ ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

      অভিভূত। একসাথে বেশ কটা কবিতা পড়া হলো। আগ্রহ হলো আরও পড়ার।
      এই কথাটা মাথায় ঘুরছে,
      ‘পালতোলা নৌকার আগে তটরেখা ছুঁয়ে দেয় চোখ’

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com