শহীদ কাদরীর সাথে কিছুক্ষণ

আদনান সৈয়দ | ২২ এপ্রিল ২০০৮ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

কবি শহীদ কাদরী ৭৮ সালের পর থেকেই বাংলাদেশের বাইরে। জার্মান, ইংল্যান্ড হয়ে তিনি এখন আমেরিকায় পাকাপাকিভাবে বসবাস করছেন। পঞ্চাশ উত্তর বাংলা কবিতা ধারায় আধুনিক মনন ও জীবনবোধ সৃষ্টিতে shahid-1 যে কজন কবির নাম করা যায় কবি শহীদ কাদরী ছিলেন তাঁদের মাঝে অন্যতম। বিশ্ব-নাগরিকতা বোধ, আধুনিক নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, রাষ্ট্রযন্ত্রের কূটকৌশল এসব কিছুই তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে স্বতস্ফূর্তভাবে। উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা এবং কোথাও কোন ক্রন্দন নেই এই তিনটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ দিয়ে কবি শহীদ কাদরী বাংলার
————————————

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদনান সৈয়দ

————————————
কবিতায় একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত ঝলসে উঠে কবি যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ঠিক তখনি লেখালেখির জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ইউরোপ পাড়ি জমালেন। বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে কবি তাঁর ঠিকানাটি বেছে নিলেও দেশ থেকে বয়ে নিয়ে আসা স্মৃতিগুলো সবসময় তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, এক ধরনের নস্টালজিক আবেগ তাড়িত করে বেড়ায়। শহীদ কাদরীর সাথে যখনই আড্ডা দেই সে আড্ডার এক বিশাল অংশ জুড়েই থাকে শুধু বাংলাদেশ আর তাঁর ছেলেবেলার কবি বন্ধুদের কথা। বর্তমানে কবি শারিরীকভাবে খুবই অসুস্থ। সপ্তাহের তিনদিন ডায়লিসিস করার পর এই পয়ষট্টি বছরের শরীর নুয়ে যাবার কথা। কিন্তু কবি শহীদ কাদরীকে যাঁরা চেনেন তাঁরা সবাই জানেন যে আড্ডার কাছে শহীদ কাদরীর শারিরীক অসুস্থতা কোনো বিষয়ই নয়। কবির সাথে আড্ডা মানেই হল কবির নিত্য ব্যবহৃত পাইপের ধোয়ায় নিমজ্জিত কবি শহীদ কাদরী নির্দ্ধিধায় বিচরণ করে চলেন শিল্প-সাহিত্যে তো বটেই আড্ডার জাল ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, ধর্ম-দর্শন থেকে শুরু করে কবির বাংলাদেশের ফেলে আসা অস্পষ্ট কোনো ধূসর শহরের অলি-গলি অব্দি। কবি শহীদ কাদরীর নিউইয়র্কের জ্যামাইকার বাসভবনে যখন যাই তখন নিউইয়র্কের রাস্তায় সবেমাত্র সন্ধ্যর বাতি জ্বলতে শুরু করেছে। অবশ্য এ কথা আমরা আগে থেকেই জানি যে শহীদ কাদরীর সাথে আড্ডার মানেই হল বিকেলের নরম রোদ ফিকে হয়ে তা গভীর রাত অব্দি গড়িয়ে যাওয়া। উল্লেখ্য, সেদিনের আড্ডার বেশির ভাগ অংশ জুড়েই ছিল কবির অন্যতম বন্ধু প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ।

আদনান সৈয়দ: কবি শামসুর রাহমানের সাথে আপনার পরিচয়ের যোগসূত্রটা কীভাবে হয়?

শহীদ কাদরী: খোকন ছিল আমার কলকাতার বাল্যবন্ধু। আমি যখন কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এলাম তখন খোকনও ঢাকায় চলে আসে। খোকন জানতো যে আমি একটু-আধটু কবিতা লেখার চেষ্টা করি। শামসুর ss2.jpg
শহীদ কাদরীর বাসায় আড্ডা
রাহমানের সাথে তার বেশ জানাশোনা ছিল। শামসুর রাহমানের কানে আগে থেকেই সে আমার কথাটা বলে রেখেছিল। এদিকে ‘জলকন্যার জন্যে’ কবিতাটি ছাপা হবার পর থেকে আমি প্রায়ই পত্রিকার স্টলে দাঁড়িয়ে আমার কবিতাটি বার বার পড়তাম এবং আড় চোখে দেখতাম যে তা অন্য কেউ পড়ছে কিনা? তা রোজই আমাকে এ কাজটা করতে হত। আমি একদিন প্রায় দুপুর বেলা স্টলে দাঁড়িয়ে আছি এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার কবিতাটি পড়ছি। আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আমাকে যে একজন ভদ্রলোক লক্ষ্য করছিলেন তা আমি বেশ টের পাচ্ছিলাম। আমি ঘাড় ফিরিয়ে দেখি খুব ফর্সামত মানে সর্ব অর্থে সুন্দর একজন পুরুষ স্পন্দন খুলে আমার কবিতাটি পড়ছে। তখন আমাদের চোখাচোখি হল। শামসুর রাহমান তখন আমাকে বললেন, আচ্ছা আপনি কী শহীদ কাদরী?

আমি বললাম, হ্যাঁ, কী করে বুঝলেন?

আপনার কথা আমাকে খোকন বলেছে।

আমি খুব অভিভূত হয়ে গেলাম শামসুর রাহমানের সাথে পরিচিত হয়ে। তখন সদর ঘাটে একটা রেস্টুরেন্ট ছিল, নাম রিভার ভিউ। সেখানেই চা খেতে খেতে শামসুর রাহমানকে বললাম, আপনার কবিতা তো দেশ-এ পড়েছি। তখন শামসুর রাহমান তাঁর পকেট থেকে অনেকগুলো কবিতা আমাকে পাঠ করে শুনালেন। তখন আমাদের সবার পকেটেই কবিতা থাকত। তা আমি বললাম যে আমার পকেটেও একটা কবিতা আছে, শুনবেন?

আদনান সৈয়দ: সেই থেকে শামসুর রাহমানের সাথে কবিতা নিয়ে আড্ডা?

শহীদ কাদরী: হ্যাঁ, সেই থেকে আমাদের কবিতার লেনদেন শুরু। সে দলে ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক, ফজল শাহাবুদ্দিন, সিকদার আমিনুল হক এবং আরো অনেক পরে আসেন আল মাহমুদ। ধুম আড্ডা চলত রেক্সে, বিউটি বোর্ডিং-এ, হোটেল রেস্তোরায়, পার্কের বেঞ্চে বসে, আবার কখনো কখনো শামসুর রাহমানের বাসায়। বেশ মনে আছে শামসুর রাহমান আমাকে বলেছিলেন বুদ্ধদেব বসুর কালের পুতুল বইটা পড়তে। বইটা অবশ্য আমার কাছে ছিলো না, তবে অনেক কষ্টে তা যোগাড় করেছিলাম। সে আরেক গল্প!

আদনান সৈয়দ: গল্পটা কি বলবেন?

শহীদ কাদরী: কালের পুতুল বইটি কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। তখন জানা গেল বইটির একটা কপি আছে কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের কাছে। তিনি তখন থাকতেন সলিমুল্লাহ হলে। ভাবছি কীভাবে তার কাছ থেকে বইটা পাওয়া যায়। তখন মনে পড়লো আলাউদ্দিন আল আজাদ আমার কাছে একটা বই ধার চেয়েছিলেন। খুবই সাধারণ একটা বই। তা বইটা জোগাড় করে আমি তার কাছে গেলাম। তিনি তো বইটা পেয়ে খুবই খুশি। ধীরে ধীরে তখন আমি আসল কথায় আসি। বুদ্ধদেব বসুর কালের পুতুল বইটা কি ধার পেতে পারি? আলাউদ্দিন আল আজাদ বইটা নির্দ্বিধায় আমাকে ধার দিলেন।

আদনান সৈয়দ: বইটা নিশ্চয়ই আর ফেরত দেওয়া হয়নি?

শহীদ কাদরী: তা কি আর কখনোও হয়? মনে আছে বইটার পাতাগুলো এতই পুরোনো হয়ে গিয়েছিল যে পাতাগুলো যেন প্রায় খসে পড়ছিল। সেটাকেই ঠিক ঠাক করে পড়তে শুরু করলাম।

আদনান সৈয়দ: আপনার প্রথম কবিতা ‘এই শীতে’ যখন বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় সে খবরটিও তো আপনাকে শামসুর রাহমানই দিয়েছিলেন, তাই না?

শহীদ কাদরী: হ্যাঁ, সেদিনটির কথা বেশ মনে আছে। আমার মা সেদিন গত হয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই পরিবারের সবাই সেই শোকে আচ্ছন্ন। আমি তখন নিতান্তই একজন বালক। বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর। ঘরের এক কোণে মন খারাপ করে শুধুই মার স্মৃতিতে বিচরণ করছি। হঠাৎ মনে হল পেছন দিক থেকে কেউ একজন দাঁড়িয়ে। কিছু একটা বোঝার আগেই পেছন দিক থেকে শামসুর রাহমান সদ্য প্রকাশিত বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকা ঠিক আমার মুখের সামনে খুলে ধরলেন। দেখি আমার কবিতা। ‘এই শীতে’। সেটা ছিল ১৯৫৬ সাল। তখন কবিতা পত্রে কারো কবিতা ছাপা হওয়া মানেই ছিল তাঁর কবি হিসাবে সাহিত্য আসরে স্বীকৃতি পাওয়া।

আদনান সৈয়দ: কবি শামসুর রাহমানের কবিতাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

শহীদ কাদরী: সন্দেহ নেই কবি শামসুর রাহমান একজন অনেক বড় মাপের কবি। তার কবিতায় নারী, নিসর্গ প্রেমের পাশাপাশি তিনি আমাদের মনোজগৎ এবং পারিপার্শ্বিক জগৎকেও ছুঁয়ে যেতে পেরেছেন। সবচেয়ে বড় কথা কবিতার সীমানাকে তিনি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। আমি মনে করি কবি শামসুর রাহমান ছিলেন দুই বাংলার ভেতরই একজন প্রধান কবি।

আদনান সৈয়দ: কেউ কেউ মনে করেন শামসুর রাহমানের শেষ দিকের লেখা কবিতাগুলো প্রথমদিকের লেখা কবিতাগুলোর চেয়ে অনেক দুর্বল। এ বিষয়ে আপনার মতটা কী?

শহীদ কাদরী: আমিও তাই মনে করি। উনি লিখেছেন প্রচুর। তবে তাঁর ভালো কবিতাগুলো লেখা হয়ে গেছে অনেক আগেই। সে কারণেই আমি মনে করি যে শামসুর রাহমান যদি আজ থেকে দশ বছর আগেও চলে যেতেন তারপরও শামসুর রাহমান আমাদের কাছে প্রধান কবি শামসুর রাহমানই থাকতেন।

আদনান সৈয়দ: শুনতে পাই শামসুর রাহমান অভিমান করে প্রায় তিন মাস আপনার সাথে কথা বলেন নি। কারণটা কি জানা যাবে?

শহীদ কাদরী: সত্যিকার অর্থেই আমি অনেকের সাথেই খুব রঙ্গ-রসিকতা করে কথা বলতাম। কাউকে আঘাত করার জন্য অবশ্যই নয়। তবে বিষয়টা অনেকেই সিরিয়াসলি নিয়ে নিতেন। এর জন্য আমাকে অনেকেই ভুল বুঝেছেন। ঘটনাটা ছিল এরকম। তখন আমরা সবাই খুব করে ফরাসি কবিতা পড়ছি। বলা যায় ইংরেজী কবিতার রোমান্টিকতার মোড়ক থেকে নিজেদের ধীরে ধীরে বের করার চেষ্টায় আমরা তখন ব্যস্ত। তা আমি কৌতুক করেই একদিন শামসুর রাহমানকে বলেছিলাম, “কী, বাংলা ভাষায় আপনার ফরাসী কবিতা লেখা কেমন চলছে?” এ কথা শুনে রেগেমেগে আগুন হয়ে গেলেন। আমার সাথে তিনমাস কথা বললেন না।

আদনান সৈয়দ: ফরাসী কবিতার সাথে ইংরেজী কবিতার মূল পার্থক্যটা আপনারা কোথায় দেখেছিলেন?

শহীদ কাদরী: ইংরেজী কবিতা মানেই ছিল রোমান্টিকতায় ভরা। কিন্তু ফরাসী কবিতার ব্যাপ্তিটা ছিল আরো বিশাল। প্রুস্ত বলেছিলেন কবিতা হল যেয়ে একজন লোক কাঁধে করে একটা আয়না বয়ে নিয়ে যাবার মত। এই আয়নায় আকাশের নীল রঙ, রাস্তার আশে-পাশের দৃশ্য যেমন ধরা পড়বে তেমনি রাস্তার খানা-খন্দও থাকবে।

আদনান সৈয়দ: কবিতার ধর্ম কী?

শহীদ কাদরী: কবিতার কোনো বর্ণবাদ নেই। কবিতার ধার্মিকতা হল আধ্যাত্মিকতা। ব্যাক্তি আত্মার সাথে পরম আত্মার বিরহ মিল হল কবিতার ধর্ম।

আদনান সৈয়দ: আপনি তো কবিতা লেখা বন্ধ করে দিলেন। বলছেন যে আমার যা বলার যা লেখার লিখে ফিলেছি। আপনার কি মনে হয় একজন লেখকের লেখালেখির জগৎ থেকে এরকম স্বেচ্ছানির্বাসন নেওয়া উচিৎ?

শহীদ কাদরী: হ্যাঁ, তা আমি মনে করি। আমি শামসুর রাহমানকেও বলেছিলাম কবিতার মান পড়ে যাওয়ার আগেই কবিতা লেখা বন্ধ করে দিতে। অবশ্য তিনি আমার কথার সাথে কোনোভাবেই একমত হন নি। বরং এ নিয়ে তিনি আমার উপর একটু অভিমানও করেছিলেন। সমর সেন বলেছিলেন আমার যা বলার তা বলা হয়ে গেছে। তিনি আর লিখেন নি।

আদনান সৈয়দ: জানি এধরনের প্রশ্নের উত্তর ঝট করে দেওয়া যে কোনো লেখকের জন্য খুব কঠিন। তারপরও বলছি, বাংলাদেশের কোন কোন কবিদের কবিতা আপনার ভালো লাগে?

শহীদ কাদরী: অনেকের কবিতাই আমার ভালো লাগে। হয়তো এ মুহূর্তে এদের সবার নাম করতে পারছি না তবে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, রফিক আজাদ, ফজল শাহাবুদ্দিন এদেরকে সবসময় আধুনিক কবি বলে মনে হত। কিন্তু কবিদের ক্ষেত্রে যা হয়। এদের কবিতার ব্যাপ্তিকে কোনো ভাবেই কোনোকিছুর মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা উচিৎ নয়। অডেনকে একদল মনে করত একজন খুব উঁচু দরের কবি আবার কেউ তাতে ভিন্নমতও পোষণ করতেন।

আদনান সৈয়দ: একজন লেখকের পড়াশুনার ব্যাপ্তি শুধু বিষয় কেন্দ্রিক হবে এটা কি আপনি বিশ্বাস করেন?

শহীদ কাদরী: মোটেও না। প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে। একজন লেখক তার পড়াশুনার গণ্ডি কোনোভাবেই সীমিত করে রাখতে পারেন না। আইনস্টাইন যেমন পড়তে হবে পাশাপাশি ফ্রয়েড, কার্ল মার্কস, জেমস জয়েস, প্রুস্ত পড়তে হবে। এগুলো না পড়লে বোঝা যায় না যে মানুষের মেধা কতদূর এগুতে পারে। অর্থাৎ মূল কথা হল জ্ঞানের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নাই। বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন যা কিছু পড়ার মত তা আমি সবই পড়েছি। বুদ্ধদেব বসু প্রতিদিন ৭/৮ ঘণ্টা নিয়মিতভাবে পড়াশুনা করতেন। শামসুর রাহমানকে দেখেছি তিনি দুই তিন দিন কবিতা না লিখতে পারলে অস্থির হয়ে যেতেন।

আদনান সৈয়দ: কবিতা অনেক ক্ষেত্রেই কল্পনানির্ভর আর বিজ্ঞান চলে যুক্তির উপর ভর করে। তাহলে কি বলবো কবিতার সাথে বিজ্ঞানের একটা দ্বন্দ্ব লেগেই আছে?

শহীদ কাদরী: একসময় কবিতার লিখিত কোনো আকার ছিল না। মানুষের মুখে মুখে কবিতা চর্চা হত। পরবর্তীতে মুদ্রণ এল। ইউরোপীয় রেনেসাঁ কবিতার উপর প্রভাব বিস্তার করলো। এদিকে বিজ্ঞান মোটামুটি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলেও টেকনোলজি বিজ্ঞানকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে মানুষ মধ্যযুগীয় ঈশ্বরচিন্তা থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হল। তা হলে দেখা যাচ্ছে কবিতা আর বিজ্ঞান পাশাপাশিই সহঅবস্থানেই চলছে। দ্বন্দ্ব থাকবে কেন?

আদনান সৈয়দ: এখন কবিতা লেখা হচ্ছে বিভিন্ন স্টাইলে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

শহীদ কাদরী: তা ঠিক। দেখতে পাই কবিতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনার অনেক নতুনত্ব এসেছে। কবিতার শব্দ নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হল যখন নতুন কোনো বাড়ি হয় দেখতে হবে তার ভেতরে বসবাস করার উপযোগী ভালো কামরা আছে কিনা। কবিতার ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য।

আদনান সৈয়দ: আপনার কি মনে হয় না যে বিজ্ঞান মানুষকে আগের থেকে অনেক বেশি সাহিত্যবিমুখ করেছে?

শহীদ কাদরী: একটা সময় ছিল যখন ঘরে ঘরে টিভি রেডিও ছিল না, কম্পিউটার ছিল না। মানুষ তখন বই পড়ত। এখন টিভি রেডিও আর কম্পিউটারের যুগে মানুষ চায় সস্তা বিনোদন। এখন মনে হয় জন্মদিনে কেউ আর বই উপহার দেয় না।

আদনন সৈয়দ: আপনার কি মনে হয় কবিতার পাঠক এখন আগের চেয়ে কমে গেছে?

শহীদ কাদরী: একসময়ে পেশোয়ারে একটা বাজার ছিল নাম কিচ্ছাখানি বাজার। পাগড়ী পরা পাঠানরা চা নিয়ে জমিয়ে আড্ডা দিত এই কিচ্ছাখানি বাজারে। তাদের ঝুলিতে জমিয়ে রাখা যতরকম কিচ্ছা কাহিনী থাকতো তার সবই একজন আরেকজনকে শুনাতো আর রাতভর কিচ্ছার আসর জমাতো। এটা ছিল এক ধরনের বিনোদন। এখন ফুটবল খেলা যেমন বিনোদন, কবিতার বই পড়াও তেমন একটা বিনোদন। এত হাজার হাজার বিনোদনের মাঝেও মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না।

আদনান সৈয়দ: আপনাদের সময় কবিরা এত বৈষয়িক ছিলেন না এখন যেরকমটা দেখা যায়। কবিতাকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা আপনি কীভাবে দেখছেন?

শহীদ কাদরী: কবিরাও মানুষ। তাদেরও সংসার আছে। জীবনানন্দ দাশ কখনোও বৈষয়িক কবি ছিলেন না। আবার বুদ্ধদেব বসু কবিতা লিখেই অর্থাৎ লেখালেখি করেই সংসার চালাতেন। আমরা কেউ কেউ খণ্ডকালীন চাকরি-বাকরি করেছি তবে টাকার জন্য কবিতা কেউ লিখেনি। অবশ্য আমাদের বড় একটা সুবিধা ছিল এই যে আমরা সবাই মোটামুটি স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছিলাম। আর সেজন্য আমাদের টাকার জন্য খুব একটা চিন্তাও করতে হত না।

আদনান সৈয়দ: এবার আপনার কবিতায় আসি। আপনার ‘বৃষ্টি বৃষ্টি’ কবিতায় আপনি লিখেছেন:
বৃষ্টি পড়ে মোটরের বনেটে টেরচা,/ভেতরে নিস্তব্ধ যাত্রী, মাথা নীচু,/ত্রাস আর উৎকণ্ঠায় হঠাৎ চমকে দ্যাখে,–জল, অবিরল…কারা এই যাত্রী?

শহীদ কাদরী: কবিতাটা খুবই মেটাফোরিক। যারা সমাজের দুর্নীতিবাজ, অসাধু, যারা মানুষের ক্ষতি করার চিন্তায় সবসময় নিয়োজিত তাদের কথাই এই কবিতায় বলতে চেয়েছি। বৃষ্টির জলে শহরের সমস্ত পাপ অন্যায় ধয়ে মুছে যাচ্ছে। এখানে মানুষের জয় সত্যের জয়ের কথাই বলতে চেয়েছি।

আদনান সৈয়দ: ‘তোমাকে অভিবাদন’ প্রিয়তমা কবিতায় আপনি লিখেছেন:
ভয় নেই/আমি এমন ব্যাবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী/গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে/মার্চপাস্ট করে চলে যাবে/এবং স্যালুট করবে/কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।

এই প্রিয়তমাটি কে, জানতে পারি?

শহীদ কাদরী: প্রিয়তমা হল আমার প্রিয় দেশ, বাংলাদেশ।

আদনান সৈয়দ: আমাদের চৈতন্যপ্রবাহে তুমি ট্রাফিক আইল্যান্ড/হে রবীন্দ্রনাথ (রবীন্দ্রনাথ)। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আগেও এবং এখনও অনেককেই বিরূপ সমালোচনা করতে দেখি। শনিবারের চিঠিতে সজনিকান্ত দাস এবং তার বন্ধুরা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলতেন। ইদানীং বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের একটা ধারাও সেই একই সুরের প্রতিধ্বনি করতে ব্যতিব্যাস্ত। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

শহীদ কাদরী: রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আমাদের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথা চিন্তাই করা যায় না। আমাদের সৌভাগ্য যে বাংলায় রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়েছিল। তা না হলে আমাদের বাংলা সাহিত্য আধুনিক আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছতে হয়তো আরো একশো বছর অপেক্ষা করতে হত। শুধু সাহিত্যে নয়, আমাদের আধুনিক চিন্তাধারা এবং মননে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা অতুলনীয়। নির্দ্বিধায় তিনি আমাদের চৈতন্যপ্রবাহে এক ট্রাফিক আইল্যান্ড।

আদনান সৈয়দ: না, না, তার কথা আর নয়, সেই বেরিয়েছে সকাল বেলায় সে তো–শহীদ কাদরী বাড়ি নেই” (অগ্রজের উত্তর)। শহীদ কাদরীর মত বোহেমিয়ান আড্ডাবাজ কবিরা কি বাড়িতে থাকতে পারেন? নরম তুল তুলে শয্যাকে অবজ্ঞা করে যারা রেক্সে, বিউটি বোর্ডিং-এ অথবা স্রেফ পার্কে বসে রাতের পর রাত আড্ডায় বুঁদ হয়ে থাকতেন তাদের জীবন যে অতৃপ্তির নেশায় ডুবে আছে তা তো বোঝাই যায়। কথা হল কী সেই পলায়ন, আত্মনিমজ্জন যা একজন কবিকে সবসময় কুঁড়ে কুঁড়ে তাড়িত করে বেড়ায়?

শহীদ কাদরী: একজন কবির জীবন অন্যান্য সাধারণ মানুষের জীবন থেকে একটু আলাদা। তারা একটা অতৃপ্তি নিয়ে সবসময় ঘুরে বেড়ায়। জীবনকে আরো কাছ থেকে বুঝতে চায়, জানতে চায়। আমরা নিজেদেরকে কতটুকু জানি বা বুঝি?

আদনান সৈয়দ: আপনার কবিতায় ব্যারিক্যাড, বি-৫২, মিগ-২১, আর্মাড, মার্চপোস্ট, রণতরী, সমরমন্ত্রী, ট্রেঞ্চ, মুদ্রাস্ফীতি, আকর্ডিয়ান, কারফিউ, ১৪৪ ধারা, মন্ত্রীর কালো গাড়ি, গরাদের সারি সারি খোপ, মিছিল, প্যামফ্লেট, ছত্রভঙ্গ জনতা, মাইক্রোফোন, পররাষ্ট্রনীতি, নিহত সৈনিকের স্ত্রী, লেফট রাইট লেফট রাইট ইত্যাদি এই শব্দগুলি বার বার চলে এসেছে। কেন?

শহীদ কাদরী: আমাদের দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটই এর প্রধান কারণ। আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন এসবের ভেতর দিয়েই আমাদের একটা জাতিসত্তার পরিচয় এসেছে। এর জন্য আমাদের অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কবিতার শব্দমালায় এর প্রভাব পড়বে এটাই তো স্বাভাবিক।

আদনান সৈয়দ: যদি কবি না হতেন তাহলে কী ধরনের পেশা বেছে নিতেন আপনি?

শহীদ কাদরী: শ্রেফ বাউণ্ডেলে হতাম। রাস্তা ঘাটে আড্ডা দিতাম আর দাউ দাউ করে ঘুড়ে বেড়াতাম।

আদনান সৈয়দ: এবার আড্ডার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আপনি নাকি আড্ডা দিতে যেয়ে বাড়ি থেকে প্রায়ই উধাও হয়ে যেতেন?

শহীদ কাদরী: একবার সাতদিন আড্ডা দিতে যেয়ে লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার বন্ধু আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ঢাকা কলেজে সদ্য জয়েন করেছেন। আবার ব্যাচেলর। তার বাসায় দিনের পর দিন আমাদের আড্ডা জমত। আড্ডা বসতো বিউটি বোর্ডিং, রেক্সে। কখনো কখনো রেস্টুরেন্টে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছি। একসময় গভীর রাতে রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যেত তখন আমরা রাঁস্তায় হাঁটতাম আর আড্ডা দিতাম।

আদনান সৈয়দ: আড্ডার বিষয় কী ছিল?

শহীদ কাদরী: অবশ্যই লিটারেরি আড্ডা হত। তবে সাহিত্য ছাড়াও অনেক বিষয় নিয়েও আড্ডা চলতো।

আদনান সৈয়দ: আপনাদের আড্ডায় যাঁরা থাকতেন…

শহীদ কাদরী: সৈয়দ শামসুল হক, ফজল শাহাবুদ্দিন, শামসুর রাহমান, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সিকদার আমিনুল হক কখনো কখনো আল মাহমুদ এরা সবাই থাকতেন আড্ডায়। শেষের দিকে আবদুল মান্নান সৈয়দ, আসাদ চৌধুরী, রফিক আজাদসহ অনেকেই আমাদের আড্ডায় আসতেন।

আদনান সৈয়দ: একজন সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে একজন লেখক, শিল্পী বা সাহিত্যিকদের জীবনের পার্থক্যটা কোথায়?

শহীদ কাদরী: আমি আগেও বলেছি যে শিল্পী-সাহিত্যিকদের রক্তে একটা অস্থিরতা সবসময় থাকে। এরা সবসময় একটা অস্থিরতা কাঁধে নিয়ে ঘুড়ে বেড়ান। এঁদের জীবন সাধারণ মানুষের জীবনের থেকে একটু আলাদা হয়। একটা অতৃপ্তি নিয়ে তাদের বেঁচে থাকতে হয়।

আদনান সৈয়দ: অতৃপ্তিটা কীসের?

শহীদ কাদরী: এই যে আমাদের জীবন এটাই কি সত্যিকারের জীবন? মোটেও না। এর বাইরেও আলাদা একটা জীবনসত্তা আছে। সেই জীবনটাকে খোঁজার জন্যই এই অতৃপ্তি। সেজন্যই আমার সবসময় মনে হত বোহেমিয়ান জীবনটাই হল বেটার লাইফ।

আদনান সৈয়দ: আপনি তো সেই ফেলে আসা আড্ডা থেকে অনেক দূরে? আড্ডাগুলোকে মিস করেন না?

শহীদ কাদরী: যদি সময় মত বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে নিশ্চয়ই আবার আড্ডা বসাতাম। অবশ্য আড্ডার জন্য চাই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। সেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি চলে গেলে আড্ডা আর জমে না।

আদনান সৈয়দ: সেই বিউটি বোর্ডিং নেই, রেক্স নেই। আপনি যে জায়গাগুলোতে আড্ডা দিতেন তারও চেহারার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ধরেন যদি আবার সুযোগ পেয়ে যান বাংলাদেশে গিয়ে আড্ডা দেবার, পারবেন কি আবার আড্ডা জমাতে?

শহীদ কাদরী: আড্ডার কি কোনো বয়স আছে? বন্ধুত্ব বয়সের সীমা মেনে চলে না। তবে এখনো মনে হয় আবার যদি সেই পুরনো বন্ধুদের সাথে ঠিক আগের মতই আড্ডা দেওয়া যেত! এখন তো আমি শারিরীকভাবেই অসুস্থ। তারপরও মাঝে মাঝে মনে হয় কাপড়-চোপড় পরে বাইরে কোথাও আড্ডা দিয়ে আসি।

আদনান সৈয়দ: শুনতে পাই আপনার নাকি এক ভবঘুরে হোমলেস আমেরিকান কবিবন্ধু জুটেছিল। ঘটনাটা কী একটু খুলে বলবেন?

শহীদ কাদরী: আমি তখন থাকি বোস্টনে। তার সাথে পরিচয় সেখানেই একটা কবিতার বইয়ের দোকানে। থাকতেন একটা হোমলেসদের শেল্টারে। প্রথম দেখে মনে হয়নি যে এই বাম (ভবঘুরে) হোমলেস একজন কবি হতে পারে। আমার সাথে পরিচয় হতেই আমাকে বললেন যে তিনি একজন কবি এবং ওখানকার নামকরা একটা সাহিত্য ম্যাগাজিনে নিয়মিত কবিতা লিখেন। তারপরের সপ্তাহেই দেখি সত্যি সত্যি তার চারটা কবিতা সাহিত্যপাতায় জ্বল জ্বল করছে। ব্যাস, তার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। একদিন তার সাথে এক মজার অভিজ্ঞতা হয়। এই হোমলেস কবি তার দুপুরের খাবারের জন্য প্রতিদিন চার্চ থেকে পাঁচ ডলারের কুপন পেতেন। একদিন কুপন দিয়ে তিনি খাবার কেনার পরও আবার খিদে পেয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হল কুপন তো মাত্র একবারই পাওয়া যায়। তাই তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন আমি যেন এবার চার্চে যেয়ে একটা কুপন আনি। যদিও আমি হোমলেস ছিলাম না তারপরও আমাকে হোমলেসের একজন হিসেবে অভিনয় করতে হল। ব্যাস, চার্চ থেকে কুপন পেয়ে গেলাম আর দেরি না করে পাশের রেস্তোরাঁয় বসে খাবারের অর্ডার দিয়ে দিলাম। ওর সাথে আমার অনেকদিন বন্ধুত্ব ছিল। একদিন সকালে দেখি সে হাউ মাউ করে কাঁদছে। জিজ্ঞেস করতেই বললো যে তার মেয়েবন্ধু তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তাই সেও ঠিক করেছে যে সেও আর বোস্টন থাকবে না। তার নিজ বাড়ি সাউথ ক্যারোলাইনা চলে যাবে। তারপর থেকে তাঁকে আর দেখিনি।

আদনান সৈয়দ: বাংলাদেশ থেকে কোনো লেখক-সাহিত্যিক এলেই আপনি তাদের সাথে কথা বলতে ব্যাকুল থাকেন। এই ব্যকুলতার কারণ কী?

শহীদ কাদরী: বাংলাদেশের খবর জানতে চাই। বাংলাদেশের নতুন লেখকদের লেখা, তাদের চিন্তা-ভাবনা, মনন এসবের খবর নিতে চাই। এখন নতুন যারা লিখছেন তাদের চিন্তা-ভাবনার সাথে নিজের চিন্তা-ভাবনার মিল অথবা অমিলগুলো খুঁজে বেড়র করার চেষ্টা করি।

আদনান সৈয়দ: প্রায় ত্রিশ বছর হয়ে গেল আপনি বাংলাদেশের বাইরে আছেন। দেশের জন্য কেমন লাগে?

শহীদ কাদরী: যেদিন থেকে দেশ ছেড়েছি সেদিন থেকেই দেশকে অনুভব করি। আমার একজন ভারতীয় ডাক্তার বন্ধু বলতেন, ‘টাকা-পয়সা তো অনেক করেছি কিন্তু রাত হলেই দেশের জন্য কেঁদে কেঁদে বালিশ ভিজাই।’ সত্যি, দেশে অভাব আছে, অনটন আছে তারপরও দেশ তো দেশই। নিজ দেশের চেয়ে আর কি কোনো ভালো দেশ হতে পারে? এই আমেরিকাতেও বাংলাদেশের মত অবিরাম বর্ষা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্ষার মত এত সুন্দর বর্ষা পৃথিবীর আর কোথায় দেখতে পাবো? বাংলাদেশে বৃষ্টি মানেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কাগজের নৌকা পানিতে ভাসাচ্ছে, প্যান্ট গুটিয়ে মানুষজন রাস্তা পার হচ্ছেন। এই দৃশ্যগুলোকে কল্পনা করলে আমার কাছে উৎসবের মতন মনে হয়। বাংলাদেশের আকাশ অনেক সুন্দর, বাংলাদেশের বৃষ্টিও অনেক বেশি সুন্দর। আমি স্বপ্ন দেখি কবে আবার সেই সবুজ দেশটাকে দেখবো। দেখবো তো?

adnansyed1@gmail.com

—-

ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন kabir — এপ্রিল ১৯, ২০০৮ @ ৫:৫৩ অপরাহ্ন

      ভাল লেগেছে। এক দমে পড়লাম। তবে সাহিত্যের বাইরেও আলোচনা বা কথা বলার সুযোগ ছিল। ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন choyon k habib — এপ্রিল ২০, ২০০৮ @ ৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

      কখনো আমাদের আত্মা ফুরিয়ে যায়, আমাদের দেহ ফুরোনোর আগে। প্রাণস্পন্দন হয়ত দেহকে ব্যস্ত রাখে কবিতাবিহীন সামাজকতায়!

      ওঁকে আমি একবারই দেখেছিলাম। আমার তখন পনের বছর। আজিমপুর কবরস্থানে গভীর রাতে উদ্ভ্রান্ত আর কিছু কিশোরের সাথে হাড়, খুলি ছোড়াছুড়ি শেষে দঙ্গলটি হাজির ফেব্রুয়ারির হাটভাঙা স্টল-বন্ধ বাংলা একাডেমীর বইমেলায়। রেস্তরা কর্নারে তখনো কর্মীরা চা বিক্রি করছে।

      আমরা প্রায় বিশজন। চিল্লাচিল্লিতে কবর আজাব। ফাহিম বলল: অই, ঐটা নির্মলেন্দু গুণ।

      আজিমপুরে সত্তর দশকে বড় হলে রনপাবাহী-কঙ্কালসার–গুণকে না চেনা মুশকিল! হ্যাপি, লাকি’র পাশাপাশি গুণও তখন আজিমপুরের আবাসিক ফোকলোরে পরিণত।
      আমাদের উচ্ছন্নতার অল্পদূরে বসা নিশাচর সাবালকদের ভিড়ে আমার চোখ আটকে গিয়েছিল, আমি বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছিলাম ঝাকড়া-কাল-নিগ্র-চুলের-বিশাল-দেহি-এক-পুরুষ জান্তব দৃষ্টিতে হাভাতের মত আমাদের নির্দোষ-বখাটেপনা গিলছে। ঐ একবারই দেখা। আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে ফোলা গালে শেটে বসানো ঐ ক্ষুধার্ত, হাসিমাখা চোখটি।

      আবিদ আজাদ, মূস্তফা আনোয়ার তাদের কবি সিদ্ধার্থ পত্রিকায় যেমনটি অপেক্ষা করতে করতে, বিরক্ত হতে হতে, নতুনদের আবিষ্কারের আনন্দে মেতে উঠে ভুলেছিলেন অপেক্ষার অভিমান; তেমনটি কি ঘটেছিল ঐ কবির আর দুজন দানবীয় কবি-সখা শামসুর রাহমান, আল মাহমুদের অন্তরেও?

      ভাষা বদলে গ্যাছে; শব্দ বদলে গ্যআছে; বায়ান্নর প্রবল আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-জাগরণ প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাসে পরিণত একাত্তরের সিডরে। ষাটের গীতলতার পাড় ভেঙে জেগে উঠেছে আবিদ আজাদ, রুদ্রের ভাষা। যারা সাগরে পৌঁছোতে পারেনি তারা নদ-নদী-নামাবলির যোগ্য দাবিদার হতে পারে; কিন্তু তারা ভিক্তর হ্যুগো নয়, তারা নেরুদা নয়। মেজর কবি তার বিষয়ের সাথে জড়িয়ে থাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। শুধু গজদন্ত মিনারে নিঃস্বর্গ ভাবনায় নয়। ডাইনোসরের জীবাশ্ম খোঁজা প্রত্নতাত্তিক বা ভূতাত্ত্বিকের কাজ, চলমান সাহিত্যের নয়। বাংলাদেশের সাহিত্য পঞ্চাশ দশকের এক ডজন নামে থমকেও যায়নি, হড়কেও পড়েনি।

      শামসুর রাহমান প্রধান না অপ্রধান তার তর্কে না গিয়ে আমি বলব যে ওঁ বাংলা কবিতার মেজর কবি। সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের এক কবিতা-সন্ধ্যাকে এই প্রধান-অপ্রধান তর্কে নিয়ে গিয়ে, আবদুল গাফফার চৌধুরী ও সৈয়দ শামসুল হক এক তিক্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। ওনেকের হয়ত মনে আছে রাহমানের “মুনাজাতের খসড়া”র
      পর গাফফার চৌধুরী তার এক জবাবী কবিতা লিখেছিলেন যায়যায়দিনে। এই আয়োজকেরাই একসময় মনিকা আলির ব্রিকলেন-এর ফিল্মিং, আরেক সময় গোলাম মুরশিদের ওপর পূর্ব-লণ্ডনে সেন্সরশিপ আরোপ করেন।

      মধ্য আশিতে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বন্ধুরা নতুন বাংলা, শিবিরের দ্বিমুখী তাড়া খেয়ে একদিন হলে ঘুমোলো তো তিনমাস হলছাড়া। শিক্ষকেরা, সাংবাদিকেরা, সাহিত্যিকেরা কেউ সামরিক শিবিরে, কেউ রাজপথে আন্দোলনে। ট্রাকে পিষে ছাত্র হত্যা তখন জান্তার প্রিয় কৌশল। এর ভেতর আমরা প্রতিটি ইঞ্চি বিশ্বজনীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে থাকবার পাশাপাশি কবিতা, নাটকের নন্দন চর্চাও করেছি। বাদ যায়নি শেক্সপিয়ার; বাদ যায়নি সোয়িঙ্কা। এ-সময় পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন রাহমান ও
      কামরুল হাসান। এ-দুজনকে ঘিরে অনেক রকম সাহিত্য ও সংস্কৃতি ব্যবসাও হয়েছে তখন। অকবি পদবাচ্য বেশুমার বানর কবিতা মঞ্চ দখল করে ফেলেছিল।
      কিন্তু সে-সময়ের পর থেকে এখনো কবিতার মূল ধারার মানবিক মহিমা ও নান্দনিক ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন কবি-গোষ্ঠি যখন বাস্তবে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে; লন্ডনে
      নিউইয়র্কে তখন “প্রধান কবি” কে তার তর্কাতর্কি!

      সাক্ষাৎকার সাহিত্য নাকি সাংবাদিকতার পঙ্‌ক্তিভুক্ত হবে? এ-সিদ্ধান্তের পর দেখতে হবে যে পঙ্‌ক্তিভুক্ত পর এটি আন্তরিক এবং পক্ষপাতশূন্য কিনা?

      “আদনান সৈয়দ: কেউ কেউ মনে করেন শামসুর রাহমানের শেষ দিকের লেখা কবিতাগুলো প্রথমদিকের লেখা কবিতাগুলোর চেয়ে অনেক দুর্বল। এ বিষয়ে আপনার মতটা কী?

      শহীদ কাদরী: আমিও তাই মনে করি। উনি লিখেছেন প্রচুর। তবে তাঁর ভালো কবিতাগুলো লেখা হয়ে গেছে অনেক আগেই। সে কারণেই আমি মনে করি যে শামসুর রাহমান যদি আজ থেকে দশ বছর আগেও চলে যেতেন তারপরও শামসুর রাহমান আমাদের কাছে প্রধান কবি শামসুর রাহমানই থাকতেন।”

      তাহলে তো উত্তরকারীর ওপর প্রশ্নটা সায় দেবার জন্য চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে?এটা ভর-সাহিত্যের লক্ষণ। বা সায়-সাক্ষাতের। এখানে সাক্ষাতপ্রার্থী ও দানকারী কাউকেই আন্তরিক মনে হয়নি। মনে হয়েছে সাজানো।

      চিনুয়া আচিবি যদি সোয়িঙ্কাকে বলে: তোমার লেখা দুর্বল হচ্ছে, লেখা ছেড়ে দাও…। সোয়িঙ্কার মর্মবেদনা তখন কোথায় স্বস্তি পাবে। যে কবি নিজের কবি-বন্ধুকে আগলে রাখে না, তার কবিতা কীভাবে কালান্তরে আস্রিত হবে? আর্তুর র‌্যবো একটি বই প্রকাশের পর অস্ত্র ব্যবসায় মেতে উঠেছিল। কিন্তু কাউকে কবিতা লেখা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেনি।

      এ-ব্যাপারটাকে বড় করে দেখতাম না; যদি না জানতাম এসেনিন, মায়াকোভস্কিকে কোনো এক-কেন্দ্রিক জুজুর শঙ্কায় আত্মহননের পথ বেছে নিতে হয়েছিল। কিন্তু পাস্তেরনাক আত্মহত্যা করেনি, এমনকি সোলঝেনিতসিনের মত নির্বাসনও মেনে নেয় নি। আমি পড়িনি কোথাও যে ইএফতুশেঙ্কো আক্ষেপ করছে: পাস্তেরনাক প্রধান নাকি অপ্রধান! ব্রিটিশ রাজকবি টেড হিউজকে নিয়েও এ-ধরনের তর্ক ওঠেনি। অথচ হিউজের জোয়ালে প্লাথের, আসিয়ার আত্মহননের ভয়াবহ স্মৃতিভার। সাক্ষাতপ্রার্থীরা এ-প্রসঙ্গ হিউ’র কাছে ওঠাত না। এটা শুধু সাহিত্যের কেতা নয়; বিশ্বজনীন শিষ্টাচার!

      এক্কেবারে ছোট্ট বেলায় কাজী নজরুলকে চাক্ষুস দেখেছিলাম ভাইবোনসহ তখনকার ঢাকার ডাকসাইটে সকল কাজের কাজী ওরা এগারজন-খ্যাত আমির হোসেন বাবুর সুবাদে। ফিরতে ফিরতে জমজ বোনের সাথে পুরোপথ তর্ক: ওটা নজরুল নয়!

      চয়ন খায়রুল হাবিব
      লন্ডন, ২০০৮

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শেষ প্রহর — এপ্রিল ২১, ২০০৮ @ ১২:২০ পূর্বাহ্ন

      উনি কেন চলে গেলেন এটা কি কেউ বলতে পারবেন? আমি না জানার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হিমেল — এপ্রিল ২২, ২০০৮ @ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

      মনের কথাগুলি ফুটে উঠেছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আদনান সৈয়দ — মে ১৬, ২০০৮ @ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

      চয়ন খায়রুল হাবিব-এর চিঠির উত্তরে…

      শামসুর রাহমান বাংলাদেশের কেন গোটা বাংলারই একজন প্রধান কবি হতে পারেন। তবে উনার সব কবিতাই যে শিল্প উত্তীর্ণ হয়েছে তা কি ঠিক? এক সময় অডেনকে তার সমসাময়িক কবিরা কবি হিশেবে পাত্তা দিতেন না। কিন্ত তাতে অডেনের কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? শামসুর রাহমান যেদিন মারা যান তার পরদিন আমরা নিউইয়র্কে এক স্মরণ-সন্ধ্যা করি। মনে আছে শহীদ কাদরীর সেদিন ছিল ডাইলিসিস। কিন্তু তাতে কী? অসু্স্থ শরীরে তিনি চলে এলেন আমাদের আসরে। সেদিন কাদরী তাঁর বন্ধু শামসুর রাহমানকে নিয়ে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা হয়েছিল বন্ধুর প্রতি এক গভীর ভালোবাসায় মাখা কাব্য। আমি সেদিন তাঁর গোটা বক্তৃতাই লিপিবদ্ধ করেছিলাম। সময় আর সুযোগমত তা আর্টস-এ প্রকাশ করার ইচ্ছা রাখি।

      আমরা একটা কথা প্রায়ই ভুলে যাই যে সমালোচনা করা মানেই কাউকে হেয় করা নয়। বরং চুলচেরা সমালোচনায় একজন লেখকের ভেতরের আসল সত্তাটা বের হয়ে আসে। আজকে পশ্চিমা দুনিয়ার লেখকদের দিকে তাকান, দেখবেন কেউ সমালোচনার উর্ধ্বে নয়।

      আমরা যখন কারো গুণ কেত্তন করতে শুরু করি তখন এমনভাবে করি যে লেখকটার বারোটা না বাজা পর্যন্ত আমাদের পথ শেষ হয় না। আমরা বুঝে না বুঝে, পড়ে না পড়ে আলোর রশ্মি দেখে পতঙ্গের মত ঝাঁপ দেই। তারপর আমাদের সাধের পাখা যখন সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয় তখন আমাদের টনক নড়ে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনে আপনারা শামসুর রাহমানের মত এক বড় কবিকে হাতের কাছে পেয়েছিলেন তা তো খুশির কথা? কিন্তু এর সাথে কবি শামসুর রাহমান এবং তাঁর কবিতার কী সম্পর্ক থাকতে পারে?

      একটা ঘটনা বলি শুনেন…শামসুর রাহমানের প্রয়াণের পরপরই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে শামসুর রাহমানকে বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রধান কবি হিশেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর এই বক্তব্য একটা লিটল ম্যাগ-এ ছাপা হয়েছিল। শহীদ কাদরী সুনীলের এই প্রতিক্রিয়া পড়ে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন। তাঁর সেদিনের প্রতিক্রিয়াটি তাঁর নিজের বয়ানে বলছি…”হালায় (সুনীল) কয় কী? শামসুর রাহমান নাকি বাংলাদেশের প্রধান কবি? আরে হালা ক দুই বাংলার প্রধান কবি…এই কথাডা স্বীকার করতে কী সমস্যা আছে?”

      এবার বোঝেন? শহীদ কাদরী আর শামসুর রাহমান এঁরা পরস্পর বন্ধু ছিলেন। তার চেয়ে বড় কথা এঁরা পরস্পরকে শ্রদ্ধা করতেন, ভালোবাসতেন আবার হাতাহাতি (কবিতার ক্ষেত্রে) করতেন। এটা সম্ভব হয়েছিল কারণ তাঁরা পরস্পর বন্ধু ছিলেন।

      আপনার গঠনমুলক সমালোচনার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

      আদনান সৈয়দ
      নিউইয়র্ক ৫/১৫/৮

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুমন আহমেদ — অক্টোবর ২০, ২০০৮ @ ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

      আদনান ভাই ও হাবীব ভাই এর মন্তবের প্রেক্ষিতে. . .

      আমাদের একেকজনের চিন্তাভাবনা একেক রকম। কবি শামসুর রহমানের চিন্তাভাবনা জুড়েই ছিল কবিতা। তাই কেউ যদি কবিতা লিখতে বারণ করেন তবে রাগ করাটা একেবারেই স্বাভাবিক।

      কবি শহীদ কাদরী লেখা বন্ধ করলেন। তিনি হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন যে তার দ্বারা আর ভাল সৃষ্টি হয়তো সম্ভব নয়। এরকম চিন্তাভাবনা মষ্তিষ্কে রোপিত হলে ভাল কিছু সৃষ্টি করা কি সম্ভব? কবি শহীদ কাদরী হয়তো আর চেষ্টাই করেননি, অথবা তিনি হয়তো ভেবেছেন, কবিতা তো এত চিন্তাভাবনা করে লেখার কিছু না, অন্তর থেকে সৃষ্টি হলে লিখব, নয়তো লিখব না (আমিও তাই মনে করি)।

      আমাদের কবিতাগুলো আমাদের অনুভুতি এবং চিন্তাভাবনাগুলোকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। তাই কবিতা ভালো হল কি খারাপ হলো এটা মুখ্য বিষয় না, মুখ্য হল অনুভুতিগুলোকে বোঝানো গেল কিনা। এখন যার পেশাই হল কবিতা লেখা, নেশাই হল কবিতা লেখা, খারাপ হোক আর ভাল হোক সে নিজেকে কখনোই কবিতা লেখা থেকে বিরত রাখতে চাইবে না! “সকল সৃষ্টিই স্রষ্টার কাছে শেষ্ঠ”।

      গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত, ‘কবি শহীদ কাদরীর নেশা ছিল কবিতা লেখা, আর কবি শামসুর রহমানের নেশা এবং পেশা দুটোই. . .’

      – সুমন আহমেদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রিয়ামনি চিশতী — আগস্ট ২৮, ২০১৬ @ ১০:০১ অপরাহ্ন

      লেখাটা পড়েছি আর কেদেঁছি। খুব বিষাদবানে ভুগছি। আমারো যে আর এই নির্বাস জীবন ভালো লাগছে না, আমিও মায়ের কাছে ফিরতে চাই, একজন লেখককে কেন এত বিষাদসিন্ধুতে ডুবে থাকতে হবে?

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com