স্প্যানিশ আখরে নজরুল-পাঠ

মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়াল | ২০ জুলাই ২০১৭ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

স্প্যানিশ ভাষায় নজরুল-সাহিত্যের প্রথম অনুবাদক একুয়াদরের প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক মারিয়া এলেনা বাররেরা আগারওয়াল নজরুল-অনুবাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি ইংরেজি পত্রিকা ঢাকা ট্রিবিউনে একটি প্রবন্ধ লেখেন। এতে তিনি নজরুলের বিশ্বজনীন আবেদন ও অনুবাদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও অভিমত জানিয়েছেন তা বাংলাভাষার লেখক/পাঠকের কাছে তাৎপর্যময় বলে বিবেচিত হতে পারে ভেবে তর্জমা করা হলো। প্রবন্ধটি অনুবাদ করেছেন শাকিলা পারভীন বীথি। বি. স.
প্রাক -কথন
Nazrul-2 আমার বেড়ে ওঠার কালে রবীদ্র-সাহিত্যের স্প্যানিশ অনুবাদ গ্রন্থ ছিল অন্যতম অনুষঙ্গ । আমার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে সেনোবিয়া কাম্প্রুবি ও হুয়ান র‌ামন হিমেনেস-এর যুগ্ম অনুবাদ গ্রন্থ ছিল । গ্রন্থগুলো আর্জেন্টিনার লোসাদা প্রকাশনী কর্তৃক সম্পাদিত । রবি ঠাকুর ছিলেন আমাদের ঘরে এক সুপরিচিত নাম । আমার নানা , যিনি নিজেও কিনা কবি , তাকে ভীষণ পছন্দ করতেন । আমার মায়ের স্মৃতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তার বহু কবিতা । মা প্রায়শই রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করতেন । ঘরের বাইরে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ক্যারিকুলামের সৌজন্যে বেশ গুরুত্বের সাথেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাঠের সুযোগ আমার হয়েছিল । কে না জানতো তিনি লাতিন আমেরিকার সেই ত্রয়ী নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদা , গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল ও অক্তাভিও পাসকে কতখানি প্রভাবিত করেছিলেন !

ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়ে আমার ঠিক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হল । দেখলাম সেখানকার মানুষজন রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না । তাঁর প্রসংগ তুললে ওরা এমন ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকাতো ! বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছিল । আমার ধারণা ছিল লাতিন আমেরিকার মতো ইউরোপ – আমেরিকাতেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হবেন পরিচিত এক নাম । তখন আমার মনে হল তাঁর সাহিত্যকর্মের স্প্যানিশ অনুবাদের পশ্চাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে হয়তো নোবেল জয় । তবে এইরূপ বৈপরীত্য সত্যি আমাকে হতবিহ্বল করার জন্য যথেষ্ট ছিল । ঠিক কাছাকাছি সময়েই আমার সৌভাগ্য হয় ভারতীয় উপমহাদেশীয় কিছু মানুষের সংস্পর্শে আসার । তাদের মাধ্যমেই জানলাম নিজ উপমহাদেশীয় পরিমন্ডলে কতখানি সুউচ্চে তার আসন।

ইংরেজি ভাষা শেখার পর আমার ইচ্ছে জাগে রবীন্দ্রনাথের নিজের অনুবাদে তার লেখা পড়ার । পড়তে গিয়ে নানামুখী প্রশ্নের জট বেঁধে গেল মনে । স্প্যানিশ অনুবাদ একটু আলাদা । কখনো বা দেখলাম ইংরেজি থেকে বেশ বদলে গেছে । প্রশ্ন জাগলো এতোটা অমিলের কারণ টাই বা কি ? বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে কাম্প্রুবি– হিমেনেস-এর যুগ্ম প্রচেষ্টার প্রসঙ্গটি মাথায় এলো । দেখলাম তাদের দুজনের কেউ বাংলা জানতো না । হিমেনেসতো ইংরেজিও জানতো না । তবে ইংরেজি কাম্প্রুবির মাতৃভাষা ছিল । তাদের যুগল চেষ্টায়–হাওয়ার্ড ইয়াং এর ভাষায় বলা যায়–আমরা একজন “ আন্দালুস – ট্যাগোর ” কে পেয়েছি । আর এই আন্দালুস – ট্যাগোর মূলত হিমেনেসের সাংকৃতিক শিকড় দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত ।

প্রায় সমসাময়িক কালে আমার প্রথমবারের মতো ভারতে যাবার সুযোগ ঘটে । আমার ভারতীয় জীবনসংগী কনিস্কর আহবানে সেখানে যাওয়া । সেই সাথে এক নতুন সংস্কৃতি আর সাহিত্যের দুয়ার খুলে গেল আমার সামনে । এরপর ২০০৪ সালে এক ম্যাক্সিকান ম্যাগাজিনে কাম্প্রুবি –হিমেনেসের অনুবাদ নিয়ে ছোট্ট একটা প্রবন্ধ প্রকাশ করি । কয়েক বছর পর সেটাই এক অপ্রত্যাশিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল । ওটার ডিজিটাল ভার্সনের সুবাদে বাংলাদেশী কবি ও সাংবাদিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে আমার বন্ধুত্বের সূচনা । আর এভাবেই বাংলা সাহিত্যের প্রতি আমার আগ্রহ যেন নবযৌবন লাভ করল ।

ভাষান্তর
আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রবীদ্রনাথ ঠাকুর । আমি ক্রমশই বুঝতে পারলাম বাংলা সাহিত্য ভান্ডার আবিষ্কারের আরো বহু পথ বাকি আছে । আমি নিমগ্ন হয়ে শরৎচন্দ্রের লেখা পড়লাম । তার উপন্যাস স্প্যানিশে অনুবাদ না করাটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হল । বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়সহ বহু সাহিত্যিকের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য বলে মনে হল । সত্যজিৎ রায় কত বিখ্যাত একজন চলচ্চিত্রকার অথচ কত অচেনা একজন লেখক । দুই ভাষার সংস্কৃতি ও সাহিত্যের লেনদেন আমার ধারণার চেয়েও অপ্রতুল ছিল । এরপর নিউ ইয়র্কে একদিন হঠাৎ বেশ অপ্রত্যাশিতভাবে আমার আবিষ্কারের ঝুলিতে নতুন আরেকটি নাম যুক্ত হল – কাজী নজরুল ইসলাম । আমার স্বামীর সাথে ট্যাক্সি করে যাবার পথে আমি জীবনে প্রথমবারের মতো নজরুলগীতি শুনি । সঙ্গত কারণেই কিছুই বুঝতে পারি নি । আমাদের গাড়ির চালক ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশী । নিজের ভাষা ও দেশ নিয়ে গর্বিত এই মানুষটি সেদিন আমাকে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে শুনিয়েছিলেন ।

আমি যখন কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গবেষণা শুরু করি তখন তার মৃত্যুর অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেছে । অথচ স্প্যানিশে তার কোন অনুবাদ নাই । এই অবাক করা ঘটনাকে তিনটি বিশেষ কারণ দিয়ে ব্যাখা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি ।
প্রথমত , সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বাহ্যিক রূপ আর বাস্তব চরিত্রের যে বৈপরীত্য তার স্বরূপ নজরুলের বাণীতে ফুটে উঠেছিল । ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কখনই শাসকের জন্য পছন্দনীয় হতে পারে না । উল্লেখ্য , রবীন্দ্রনাথের সেইসব লেখাই উপমহাদেশীয় প্রথম সারির সাহিত্যিকদের ছাপিয়ে যাবার স্বীকৃতি বা উৎসাহ পেয়েছিল যেগুলো আধ্যাত্মিক ও বিমূর্ত ভাবপ্রধান।

দ্বিতীয়ত , নজরুল- সাহিত্যের ইংরেজি অনুবাদের অভাবে পরবর্তী পর্যায়ে স্প্যানিশে ভাষান্তর হয়ে ওঠেনি । যেমনটা ঘটেছে মির্জা গালিবের ক্ষেত্রেও । কেবলমাত্র গালিবের ইংরেজী অনুবাদের ঘাটতিই স্প্যানিশের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ন ইউরোপীয় ভাষায় গালিব অনুবাদের সুযোগ করে দেয় নি ।

তৃতীয়ত, সাম্রাজ্যবাদের পতনের পরও পশ্চিমাদের কাছ থেকে নয়া–ঔপনিবেশিক কালের সাহিত্যিকের স্বীকৃতি নজরুলের মেলেনি । এমনকি এখনো কোনো লেখকের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও স্বীকৃতি নির্ধারিত হয় ইউরোপ-কেন্দ্রিক ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে । আর এহেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকেই একজন লেখকের বৈধতা ও সম্মানের স্মারক হিসাবে বিবেচিত হয় ।

যখনই দেখলাম নজরুল–সাহিত্যের কোনো স্প্যানিশ অনুবাদ নেই তখনই নিজে তা করার তাগিদ বোধ করি । পদক্ষেপটি একই সাথে ভীতিকর আর আকর্ষনীয় মনে হচ্ছিল । কেননা এই বিদ্রোহী কবির কাব্যিক সত্তা শুধুমাত্র দ্রোহের ভাষায় পরিব্যাপ্ত ছিল না । বহুবিধ উপকরণ ও জ্ঞানের ভান্ডার ছিল তার সাহিত্যকর্ম । এতকিছু একজন বিদেশী অনুবাদকের অভিজ্ঞতায় অন্তর্ভুক্ত হবার কথা নয় । আমি যতটা সম্ভব কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী পড়েছি । বাংলা শেখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল । সেইসাথে দরকার ছিল তার লেখার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যকে বোঝার । ইতিহাস , ধর্ম ও সাহিত্যের যোগসূত্রে মালা গেঁথেছিলেন তিনি । আমি ব্যাক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির আশ্রয়ে এক কল্পিত নজরুলকে উপস্থাপন করতে চাইনি । যেমনটা দেখা যায় হিমেনেসের উপস্থাপনায় রবীন্দ্রনাথকে ।

কবির কবিতায় ব্যবহৃত স্থানীয় উৎপ্রেক্ষার মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করেছি । প্রয়োজনবোধে টীকা–টিপ্পনি বা ব্যাখা রাখা হয়েছে । ধর্মীয় কবিতাগুলোর অর্থ ও ভাব অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে । কোন বিমূর্তভাবের উপস্থাপন , আক্ষরিক অনুবাদ বা সাদামাটাভাবে মূলভাবটা তুলে ধরার পক্ষপাতী ছিলাম না । কেননা এতে আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় । সর্বোপরি কবির তেজ , ক্রোধ , ন্যায়পরায়ন মনোভাব যেন আপন দীপ্তিতে উদ্ভাসিত হয় তা অক্ষুন্ন রাখতে সচেষ্ট থেকেছি । ‘ বিদ্রোহী’কে ‘ বিদ্রোহী ’–ই হতে হয়েছিল । যে উদ্দীপনাকে বাহন করে তার কাব্যের উত্থান তার মিশ্র বহিঃপ্রকাশ এক অর্থে কবির অবমাননা । ধ্রুপদী স্প্যানিশ কবিতাগুলো আবার পড়েছি । বিষয়বস্তুকে মেলাতে নয় , ধ্বনির বিশেষত্বকে বোঝার জন্য । পাঠোপযোগী অনুবাদের জন্য এইসব প্রচেষ্টা যথেষ্ট ছিল না । আমি এমন ছন্দময়তার সন্ধান করছিলাম যা মূল কবিতাগুলোর স্বর-প্রবাহের স্বতঃফূর্তকে বজায় রাখে ।

নজরুল ইসলামের গদ্যসাহিত্য ( বক্তৃতা ও প্রবন্ধ ) আনন্দময় পাঠের এক বিপুল ভান্ডার । পেশায় একজন আইনজীবী হিসাবে বহু জবান–বন্দীর সারঃসংক্ষেপ আমি পড়েছি । কিন্তু ‘ রাজবন্দীর জবানবন্দীর ’ বিশেষ প্রশংসা না করে পারছি না । খুব কমই সৌভাগ্য হয়েছে এমন যথাযথ বাগ্মিতা প্রত্যক্ষ করার । তার অন্য সাহিত্য কর্মের , গীতধর্মী বৈশিষ্ট্যকে অনুবাদে রাখা যায় না ।
তার গদ্যে কাব্যিক আমেজ আছে । গদ্যগুলো মূলভাবকে ছাপিয়ে যায় উপস্থাপনার অসাধারণত্বে । সুতরাং , অনুবাদককে দ্বিমুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় । অনুবাদক কি বিষয়বস্তুকে নবরূপে বিন্যাস্ত করে প্রথানুযায়ী উপস্থাপন করবেন নাকি এর স্বতঃফূর্ত প্রবহমানতাকে আপন বৈভবে প্রভাব বিস্তার করতে দেবেন ? আমি পরের প্রক্রিয়াকে যথার্থ মনে করেছি । মনে হয়েছে কবির স্বকীয়তা যেন ওতেই প্রকাশ পায় । আলাপচারিতার ঢ়ংয়ে লেখা চিঠিগুলোও প্রশংসার দাবী রাখে ।

অনুবাদের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় দু ’ বছর লেগেছিল । ২০১৪ সালে নজরুল ইনিস্টিটিউট , ঢাকা অনুবাদ গ্রন্থটি “ Nazrul ,prosa y poemas seletos ” শিরোনামে প্রকাশ করে । নজরুল ইনিস্টিটিউটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। অনুবাদকে একটি চরম প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই হয় ; কোন অনুবাদ গ্রন্থই মূল গ্রন্থের অনুরূপ হতে পারে না যেহেতু সকল কবিতারই ভাষান্তর অসম্ভব । তার পরেও বলব অনুবাদ অপরিহার্য । ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের এরূপ লেনদেনের ঊর্ধে থাকা অবজ্ঞার নামান্তর । সুতরাং , অনুবাদ যেমনই হোক তা সেই অবজ্ঞাকে নাকচ করে সাহিত্যরসের নতুন উত্তরাধিকার সৃষ্টি করে । কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি নির্লিপ্ততা প্রদর্শন নিশ্চয়ই বেদনাদায়ক হতো । তিনি বিশ্বজনীন কবি । স্প্যানিশভাষীদের এমন একজন কবির উত্তরাধিকার হওয়ার প্রথম সুযোগ করে দিতে পারা আমার জীবনে এক সুবর্ণময় অভিজ্ঞতা ।

( মারিয়া এলেনা বাররেরা – আগরওয়াল নিউ ইয়র্কে বসবাসরত একুয়াদরীয় লেখক । পেশায় একজন আইনজীবী । নজরুল–সাহিত্যকে তিনিই প্রথম স্প্যানিশে অনুবাদ করেন )
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — জুলাই ২০, ২০১৭ @ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

      ট্রিবিউনে মূল লেখাটা পড়েছিলাম, শাকিলা পারভীন বীথির প্রাঞ্জল অনুবাদটি পড়া শুরু করে থামা গেলো না, শেষ করতেই হলো। ভালো একটি লেখা।

      শাকিলা পারভীন বীথির জন্য শুভকামনা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন K M Aminur Rahman — জুলাই ২৩, ২০১৭ @ ৭:৪২ পূর্বাহ্ন

      কাজী নজরুল ইসলাম স্বমহিমায় ছড়িয়ে যাচ্ছেন বিশ্বময়। স্পানিস ভাষায় নজরুল পাঠ তারই একটি অংশ। একবারেই পড়ে উঠলাম।এক কথায় অসাধারণ।বিশ্বাস করি এভাবেই একদিন বিশ্বব্যাপী নজরুল ইসলাম “মহা বিশ্বকবি”র মুকুট মাথায় তুলবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গাজী ফরহাদ — জুলাই ২৮, ২০১৭ @ ১:৩৬ পূর্বাহ্ন

      মাত্র একজন মিরজাফরের কূটকৌশলেই উপমহাদেশ প্রায় দুইশ বছর পরাধীন ছিলো, আর এখনতো দেশে ব্যবসা করা প্রতিটি মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানির হাজার হাজার এদেশিয় কর্পোরেট এক্সিকিউটিভের প্রত্যেকেই চৌকস মিরজাফর। তাহলে বুঝুন দেশের অবস্থা!! মারিয়া এলেনা বাররেরা আগরওয়াল যে স্বকীয়তা, নির্লোভ অবস্থান, বোধ থেকে বাংলা সাহিত্যের সুধা উপলব্ধি করেছেন, আমরা নিজেরা কি তা পেরেছি!! ভাষা নিয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কি সেই দায় বা চেষ্টা আছে!! পশ্চিমা সমাজের যারা নিয়ন্ত্রক, তারা যে কতটা হীন মানসিকতার এবং সুবিধাবাদী তা এভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের কেউ কোনো দিন কি বুঝাতে পেরেছে!! অসাধারণ তাঁর এই তিনটি পয়েন্টের বিশ্লেষণ… প্রথমত, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বাহ্যিক রূপ আর বাস্তব চরিত্রের যে বৈপরীত্য তার স্বরূপ নজরুলের বাণীতে ফুটে উঠেছিল। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কখনই শাসকের জন্য পছন্দনীয় হতে পারে না । উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথের সেইসব লেখাই উপমহাদেশীয় প্রথম সারির সাহিত্যিকদের ছাপিয়ে যাবার স্বীকৃতি বা উৎসাহ পেয়েছিল যেগুলো আধ্যাত্মিক ও বিমূর্ত ভাবপ্রধান।

      দ্বিতীয়ত, নজরুল-সাহিত্যের ইংরেজি অনুবাদের অভাবে পরবর্তী পর্যায়ে স্প্যানিশে ভাষান্তর হয়ে ওঠেনি। যেমনটা ঘটেছে মির্জা গালিবের ক্ষেত্রেও। কেবলমাত্র গালিবের ইংরেজী অনুবাদের ঘাটতিই স্প্যানিশের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ভাষায় গালিব অনুবাদের সুযোগ করে দেয় নি।

      তৃতীয়ত, সাম্রাজ্যবাদের পতনের পরও পশ্চিমাদের কাছ থেকে নয়া–ঔপনিবেশিক কালের সাহিত্যিকের স্বীকৃতি নজরুলের মেলেনি। এমনকি এখনো কোনো লেখকের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও স্বীকৃতি নির্ধারিত হয় ইউরোপ-কেন্দ্রিক ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে। আর এহেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকেই একজন লেখকের বৈধতা ও সম্মানের স্মারক হিসাবে বিবেচিত হয়।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com