ডেভিড হোয়াইটের `কান পেতে শোনার শীত’

আনন্দময়ী মজুমদার | ৩ জুলাই ২০১৭ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

ডেভিড হোয়াইট ইংল্যান্ডের এক পাহাড় আর উপত্যকার ঢেউ-ওঠা মানচিত্রে, ইয়র্কশায়ারে বড়ো হয়েছেন। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে তার বাড়ি যেখানকার রঙ-পাল্টানো আকাশ তাকে তার ফেলে আসা অন্য স্বদেশ, আয়ারল্যাণ্ড, ইয়র্কশায়ার আর ওয়েলসের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান কবি, লেখক, প্রকৃতিবিদ এবং বক্তা, তিনিই হয়ত একমাত্র কবি যিনি প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সৃজনশীলতার প্রয়োগে তার অন্তর্দৃষ্টি কাজে লাগাতে পেরেছেন।

‘গৃহের মতো ঘর’ (The House of Belonging) তার চতুর্থ এবং ‘তোমার অতল জল’ (The Sea in You) তার অষ্টম কবিতার বই। আটটি কবিতার বই-এর মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য তাঁর ‘ঘরে ফেরার গান’ (Song of Coming Home), ‘নানা নদীর মোহনা’ (Where Many Rivers Meet), ‘মাটির ভিতর আগুন’ (Fire in the Earth), ‘সব তোমার অপেক্ষায়’ (Everything is Waiting for You), ‘নদীস্রোতঃ নতুন ও বাছাই কবিতা ১৯৮৪-২০০৭’ (Riverflow: New and Selected Poems 1984-2007), ‘পথিক’ (Pilgrim)। এ ছাড়াও চারটি বিপুলখ্যাত গদ্যের বই আছে তার –’হৃদয় থেকে জেগে : কবিতা ও কর্পোরেট আমেরিকায় আত্মার সংরক্ষণ’ (The Heart Aroused: Poetry and the Preservation of Soul in Corporate America ), ‘অজানা সাগরপাড়ি : কাজ যেখানে আত্মপরিচয়ের পথ’ (Crossing the Unknown Sea: Work as a Pilgrimage of Identity), ‘তিন পরিণয়: কাজ, আত্ম ও সম্পর্কের পুনরকল্পনা’ (The Three Marriages: Re-imagining Work, Self and Relationship)। এই বইগুলি, এবং তার বিখ্যাত অডিও ও ভিডিও বক্তব্যের সিডি এখন মেনি রিভার্স প্রেস থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

ডেভিড হোয়াইট সারা পৃথিবী ঘুরে তার কবিতা ও বক্তব্য দেশেবিদেশে পরিবেশন করে থাকেন। সমুদ্র প্রাণীবিদ্যার ওপর তার ডিগ্রী আছে, আছে পেনসিলভেনিয়ার নয়ম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সম্মানসূচক ডিগ্রি, এছাড়া তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঈদ স্কুল অভ বিজনেসের একজন এসোসিয়েট ফেলো। ডেভিড হোয়াইটের কবিতাটি বাংলায় তর্জমা করেছেন আনন্দময়ী মজুমদার। বি. স.

কান পেতে শোনার শীত

আমি ছাড়া কেউ কোথাও নেই
আগুনের ধারে
আমার হাত চনমন করে
করতল টকটকে লাল
আর রাতের বাতাস উড়িয়ে নেয়
তামাম সব, বাইরের পৃথিবীতে।

মুহূর্তের তুচ্ছ দুর্ভাবনায় কী হবে,
ততক্ষণ আকাশের আলখাল্লা
কালো হয়ে নেমে
ঘিরে ফেলেছে, যা কিছু বেঁচে।

নিজের ভিতরে যা মূল্যবান
তাকে মন দিয়ে
জানার উপায় কী?
জানতে গিয়ে সেসব কেবল
হারিয়ে যায়

আমাদের নিখুঁত হতে চাওয়া
আকাঙ্ক্ষাগুলি
আমাদের আলোকিত দেবদূত
ক’রে
তোলে না কিছুতেই

যা টালমাটাল করে
তার ভিতরেই
আমাদের গোপন পোষণ।

যা আমরা
ঘৃণা করি নিজের ভিতরে
তা হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে
চেনা কঠিন
আর সত্তার নক্সাকে
ব্যাখ্যা করার কিছু নেই।

প্রত্যেক হৃদয়ে
আনন্দের গভীর চিৎকার
জন্ম নেবার অপেক্ষায়
টনটন করছে।

এমন কি সূর্যপ্লাবিত দিন
যখন অনেক দূর মনে হয়
তখনো
সেই চিৎকার যেন সবুজ
এক বৃক্ষ হয়ে উঠে
পৃথিবীর কাছে
হাজির হবে।

কতো বছর
সেসব মানুষের সঙ্গে
কাটিয়েছি আমি
যাদের বলার মতো
কিছুই ছিল না।

কতো বছর ভুলে ছিলাম
শুধু কান পেতে থাকলেই
সব কিছু আপন
হতে পারে।

আর ধীরে ধীরে
খুব কষ্টে
মনে পড়ে যায়
কী করে সব কিছু এক
বিপরীত, অলৌকিক
অপর বাস্তবতা
থেকে জন্ম নেয়।

নীরবতা আর শীত
আমাকে সেই
অপরের কাছে
নিয়ে এসেছে।

এই কান-পেতে-শোনা
শীতের দিন
আমার কাছে সেই নতুন জীবন
ডেকে আনতে পারবে, আমি জানি
যে জীবনকে
আপন
ব’লে ডাকতে পারি।

প্রত্যেকটি শব্দের একটা ঘর আছে
যেখান থেকে সে আসে
আর একটা দরজা আছে
যেখান থেকে সে বেরিয়ে
নতুন ঘরে যায়।

আমরা সেইসব স্বরেই
কথা বলতে পারি
যে স্বর আমরা কান পেতে শুনি
আমাদের শরীরের কণ্ঠস্বর
কেবল সেই ধ্বনিতে কথা বলে
পৃথিবীর যেটুকু শরীরের স্বর
তার চেনা।

তখন নিজেই সে এক আস্ত পৃথিবী
কান পেতে শুনতে শুনতে এক
স্বকীয় ভুবন।

এভাবে সে জানতে পারে
তার কেমন হতে হবে
কী করতে হবে।

আর এই রাত্রির ডামাডোলে
আমি এক কাঠবাদামের ডালে
দোল খেতে শুনি কোনো শিশুকে
ডালটা দাঁড়িয়ে থাকা কালো পায়ের মতো
বাতাসে দোলে আর শব্দ করে
বৃষ্টির ঝাপটা এখন আমার জানালায়
আর এই হিমবাতাস আর তারা-ভরা রাতে
অদৃশ্য সব ঝোরা
যেন গ্রীষ্মের উষ্ণতায় সাপের মতো
জট খোলে
প্রত্যেকটি এক এক
অকল্পিত ফুটন্ত গোলাপ।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাজহার সরকার — জুলাই ৩, ২০১৭ @ ৭:৩৫ অপরাহ্ন

      কবিতা ভালো লেগেছে। অনুবাদককে ধন্যবাদ

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com