ঈদুল ফিৎর উপলক্ষ্যে নবীন প্রবীণদের একগুচ্ছ কবিতা

| ২৬ জুন ২০১৭ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন


তোমার মায়ার ছায়া

মুহম্মদ নূরুল হুদা

তোমার মায়ার ছায়া
কায়া হয়ে জাগে
অনন্তের
অন্ধ অনুরাগে;
মায়াসভ্যতার আগে
আমি তার পেয়েছি পরশ;
অঙ্গ লাগি অঙ্গ কাঁদে
ব্রহ্মান্ডের রূপ-গন্ধ-রস।

সহর্ষ পরশ নিয়ে
জেগে আছি
কালে কালাতীতে;
সতৃষ্ণ সঙ্গম-লগ্ন
ত্রিভুবনে
বর্তমানে
ভবিষ্যতে
অথবা
অতীতে।

সতত
উড্ডীন,
আমি শুধু
তোমার
অধীন।

যুগল কবিতা

জাহিদুল হক

ফাটল

সিস্তিন চ্যাপেলে দেখা, সেই ফাটলটা মনে আছে?
কখনো তোমার চোখে তোমার মুদ্রার কালো নাচে
তোমার দেহের মধ্যে অন্তহীন সামারের ঘ্রাণে
সান্তামারিয়া নভেল্লা থেকে ফেরা অন্ধ কোনো গানে
খুঁজি তাকে !

কী আশ্চর্য সে ফাটল, যেন এক নদী;
নিঃসঙ্গ গন্ডোলা বাওয়া কেউ যেন এখনো আঁধির
মধ্যে ডুবে গিয়ে খোঁজে অফুরন্ত সেই আর্দ্র ধারা;
তোমার কি মনে আছে আমাদের সেই আত্মহারা?

তুমি

ভোরের বাড়িতে ঘুম ভাঙে; দেখি ভোর মজ্জমান
কুয়াশায়। শার্সিতে জড়িয়ে আছে রাত্রির তলানি।
হিটার আতপ্ত থাকে, স্পর্শ পাই হৃদয় অবধি-
যেন তুমি, তোমার শরীর থেকে স্পর্শ গন্ধ গান
আমাকে জড়িয়ে রাখে; জীবনের ঝর্নাধারা নদী
ফুসলায় বুকের মধ্যে;

এই নিয়ে এখনো মাতলামি।
কাল রাত্রি শ্যাম্পেনে গিয়েছে ভেসে, তুমি ছিলে ভেলা,
তুমি ছিলে স্বপ্নাচ্ছন্ন – কী মধুর চতুর্দশপদী!

বিষন্নতা

মতিন বৈরাগী

সময় ফুরালো হায় ঢের
এই পথ ছুঁয়ে গেছে আকাশ আকাশ
বিদায় বেলার হাত মেঘ হয়ে ওড়ে
জানি নাতো যেতে যেতে কেউ ফিরে আসে কিনা
কেউ কি আসে বসে পুরনো জানালায়!
দাঁড়িয়ে থাকে মাটির ঘরবাড়ি
সারিগুলো তার জ্যোৎস্না হয়ে ওঠে

জানিনা ফিরে আসে কিনা হাওয়ার সেই হাত
না-কি ফেরে কেউ দূর বনে চেনে না আপন
উচ্ছ্বল জলে যে মৃগ করে গেছে স্নান জলপান করে গেছে
বাঘের আড়ালে
সেও কি ফেরে কোনো একদিন প্রাচীন জঙ্গলে!
নাকি এক দূর দেশ পায়ে পায়ে জাগে
তোতেনখামেন নেই পিরামিড বন্দরে

দূরবন জাগে ধুধু পবন পহ্লাদ
আলোস্য কাঁপে শরীরে ও মনে; কেন ঘুম নামে
বিছানায় শত স্মৃতি ব্যাবেলের ক্ষয়ে পড়া দিঠি
কার মুখ ফিরে আসে হিম জানালায়
স্বপ্নের সেই হাত ঘুরে ফিরে গেলে স্পর্শ বিহীন
ইঁদুরের মতো নুয়ে থাকে আজব সংসার
যাবো না এই সত্য প্রলাপ হয়ে শার্সিতে কাঁপে

একটা রাত নিশ্চুপ
বকুল ডালের পাখিটাও উড়ে গেছে।

স্মৃতি, তোমারই…

মাসুদুজ্জামান

সারা রাত সারাক্ষণ কী যে বৃষ্টি হলো
মনের সকল রঙ ধুয়ে গেল জলে
সকালে উঠেই দেখি তোমার সে মুখ
আবার আলোয় ভাসে সাশ্রু মর্মতলে

ভুলে যাই আবার কেন যে মনে পড়ে
কেন যে আবার আমি অশ্রুজলে ভাসি
দূরে যাই দূরে গিয়ে তোমার কাছেই
মনোদীপ মেঘমন্দ্র দিনে ফিরে আসি

সতত জ্বলন্ত তুমি কুসুমিত দেহ
শরীর রাঙিয়ে রাখ ময়ুর পালকে
আজ দেখি ওড়ে শিখা দেহমূল জুড়ে
লেখো মৃত্যু রক্তপাঠ মনের আলোকে

বাংলার বৃষ্টির নাম

রেজাউদ্দিন স্টালিন

কত করস্পর্শে বদলে গেছে বাংলার বৃষ্টির নাম
পঞ্চাশ বছর আগে আষাঢ়ে অবিরাম
ঝরতেন রবীন্দ্রনাথ
হাজার বছর ধরে শ্রাবণধারায়
নামতো কবি কালিদাস
কিছুদিন আগে হেমন্তের কুয়াশামগ্ন বৃষ্টি ছিলো
জীবনানন্দ, বিষণ্ণ ডাগর
আর বৈশাখের রুদ্রফণায় দুলে উঠতো নজরুল
ভাদ্রে আকুল রিমঝিম নদীবৃষ্টি জসীমউদ্দীন
সাতশো বছর আগে আষাঢ়ের নাম ছিলো বড়ু চন্ডীদাস
আজ আষাঢ় শ্রাবণ নেই
মানুষের আগ্রাসনে জলবায়ু ভষ্ম চিতাভূমি
আকাশরাজের কাছে আমাদের বহু দায়দেনা
কোনো কবি নেই
যার নামে মহান আকাশ বিনা সুদে
মেঘবৃষ্টি কর্জ দিতে পারে

বাংলাদেশ

মজিদ মাহমুদ

আমি বলছি, বাংলাদেশ জিতেছে
তুমিও তাই বলছ, আমিও তাই বলছি
তুমি হারলে, আমি হারলে, বাংলাদেশ হারে
বাংলাদেশ জিতলে তুমি জেতো, আমি জিতি
তুমি যখন একাই জিততে চাও
তখন তুমিও হার, আমিও হারি
বাংলাদেশ হারে না, হারতে হারতে জিতে যায়
একটা উইকেট পড়ে গেলে আরেকটা থাকে
সবগুলো পড়ে গেলেও
ঘুরে দাঁড়াবার আকাক্সক্ষা থাকে
তিরিশ লক্ষ পড়লেও
আরো তিরিশ কোটি পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে
আমরা হারতে হারতে জিতে যাই
জিততে জিততেও জিতে যাই
বাংলাদেশ সবসময় জেতে, বাঙালিকে দেখ
এক বাঙালিই তো শুরু করেছিল
এক বাঙালির সাথে
আজ কোটি কোটি বাঙালি
কোটি কোটি বাঙালির সাথে
যারা মারতে এসেছিল তারা মারা গেছে
যারা বন্ধু ছিল তারা জেগে আছে
বাংলাকে মারতে এলে আমরা মেরে দিই
বাংলা আমার মায়ের মা, পিতার পিতা
তাদের প্রতিটি চিহ্ন রেখেছে ধরে এই বাংলা
বৈদিক বলেছিল সংস্কৃত হও
ব্রিটিশ বলেছিল ইংরেজ হও
পাকিরা বলেছিল উর্দু হও
আমরা বাঙালি ছিলাম বাঙালি হয়েছি
বাংলাকে দাবিয়ে রাখবে কে
বাংলাদেশ থাকে বাঙালির মুখে
বাংলাকে হারাবে কে
বাঙালি গেলে বাংলাদেশ সাথে যায়
বাঙালি ফিরলে বাংলাদেশ ফেরে
বাংলার জন্যই তো দেশ
বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ
যারা বাংলায় কথা বলে তারাই দেশ
যারা বাংলা জানে না তারাই বিদেশ
দেশের মধ্যেও বিদেশ থাকে
বিদেশেও থাকে দেশ
সবখানে বাংলাদেশ! বাংলাদেশ!!

এইসব দিনরাত্রি

মুস্তাফিজ শফি

তোমার চোখে ওটা কী?
তাকিয়ে দেখি, জেগে আছে
জন্ম-জন্মান্তরের জলদিঘী।

বহুদিন পর দেখা অচিনপুরে,
আমি বললাম, এ কেমন বাঁচা?
তুমি বললে, খাঁচা শব্দটার মানে
সকলেই জানে।

আজ শুধু ঝরছে ফুল
লাল পাহাড়ের দেশে
আজ শুধু কাঠচেরাইয়ের শব্দ
গাছকে ভালবেসে!

এপারে শীর্ণ নদী
ওপারে গোধূলির আঁধার,
মাঝখানে ছেড়া সূতো
সাতনরী হার।

বিষণ্ন মলিন পাতাগুলো
বুকে পোষে শিউলীদের মৃত্যুশোক,
শিশিরের স্পর্শ গায়ে মেখে
শিউলীরা শুধু ঝরে পড়ে, ঝরেই পড়ে।

চারিদিকে মৃত্যুফাঁদ

মোশাররফ হোসেন ভূঞা

বর্ণহীন তরুলতা, সূর্যালোক, চাঁদের ঝালর
ধূসর সন্ধ্যার মতো বোধশূন্য আরাধনারত।
এমন কী পাহাড়ের ঝর্ণাধারা নদীবর্তী হয়ে
সাপের দেহের মতো বহমান ভয়ঙ্কর রূপে।
এ জলে কুমীর নেই, মাছ-ব্যাঙ, জল ফড়িঙেরা
ঝাঁকে ঝাঁকে সেই কবে হারিয়েছে বাঁচার ঠিকানা।
মানুষের বাঁচামরা একীভূত ওদের সাথেই
অথচ মানব সৃষ্ট মৃত্যুফাঁদে পড়েছে সবাই।

দেখার কেউ কী নেই! জিব্রাঈল তাঁর ডানা ভরে
নিয়ে এলো কতো ওহী। ভালো কথা সব ধর্মে আছে
মানুষের কর্মে নেই, এ জগৎ কবে পূর্ণ হবে?
ভগবান অন্তরালে বসে বসে নীরবে নিভৃতে
কতোদিন, কতোকাল দেখে যাবে বাণিজ্য পীড়িতÑ
এ পৃথিবী? প্রশ্ন আছে, সদুত্তর কী দেবে না কেউ?

যতদূর চোখ যায়–একজন মানুষ দেখি না
অসহায় মানবতা কেঁদে কেঁদে শূন্য হাতে ফেরে
আমাদের পালাবার পথ নেই, মানুষের মাঝে
বাস করে অমানুষ–বুঝেনি তা আদম-হাওয়া।

শিরোনামহীন (দশ)

জুননু রাইন

ধর,
আমাদের মনে পড়াগুলো দূরে গেল।
গেল ফুল ফুঁটতে, ফসল ফলতে,
বনে আগুনের প্রতিবাদে- জলে আগুন দিতে।
কিংবা মানুষের সঙ্গে সবুজের দূরত্বের ইতিহাস লিখতে।
গতকাল রাতের শাড়ি পড়ে বারান্দায় এসেছিলে-
শাড়ি খুলে চাঁদ দেখি, দেখি জোছনায় রেখে দেয়া তোমার আলোয় ভিজছি
আর ডুবে যাচ্ছি জন্মজলে। একটা বাঁশি- ভাঙ্গা নয়, তবু দুই জন্মের হাতে,
সুরের অন্ধ ঢেউয়ে আছড়ে পড়ছে নদী, নদীটির আঘাতে
তুমি তো এতোটুকু এসে অনেকখানি চলে যাও, নিয়ে যাও আরও বেশি
এই দৃশ্যের জন্ম কী ভয়ংকর জানে আমার মা মাকড়সার রাশি!

ধর,
আমাদের দেখাগুলো গেল মানুষের সঙ্গে পাখির দূরত্ব মাপতে,
দু’দিনের বাঁকা চাঁদের মতো তোমার অভিমান খুঁজতে,
অথবা তোমার কপাল ছোঁয়া একটি বিশেষ নীলের খোঁজে
পাহাড়ের তলদেশে…

যে পাতা ঝরে যায় কোন কিছুর ‘মতো’ তারও জন্ম হয়।
দিন হয় রাত হয়। তুমি এলে এ শহর জীবনের গন্ধ পায়,
চলে যাওয়ায়- কিছু নেই থেকে আনেকগুলো তোমাকে হারায়।

ভেদ বৃত্তান্ত

গোলাম মোর্শেদ চন্দন

ভাঙতে ভাঙ্গতে কতকিছু…; তবুও কিছু, কিছুতে-ই নয় কিছু
ভাঙে না-কি মচকায়
সময়ের ফোঁড়। জাগতে জাগতে ব্যবধান ভরা প্রত্যয়;
ক্রমান্বয় চঞ্চলতায়… জন্ম হতে হতে ঘুম, কেমন নিঝুম।

সকাল, দুপুর, বিকেল; এভাবে-ই- সন্ধ্যায় অস্তমিত সূর্য্যটা
ক্রমান্বয় ক্রমান্বিত ক্রম
উদীয়মান শিশুটিও সময়ের ব্যবধানে বৃদ্ধাশ্রম হয়, কতকিছু-ই…
পর্ব থেকে পর্বান্তর… পরম্পরাগুলো ঘূর্ণায়মান চক্রে চক্রে

উঠলেও…, ওঠে না। সিঁড়িগুলো তখন ক্রমান্বয় ভারি হতে থাকে
সকাল থেকে দুপুর, বিকেলটা যেন এলপিআরের অবসাদ।
অস্তমিত সূর্য্যকে তখন কি বলা যায় জীবনচক্রের ?

প্রথম প্রহরটা-যদি মাতৃগর্ভ হয়, দ্বিপ্রহরটা আত্মার প্রবেশদার
তারও আগে না, একটি কুরুক্ষেত্র ছিল শুক্রানুর। সেই যুদ্ধ থেকে-ই
শেষ অব্দি জিতলে-ই জেতা । প্রহরে প্রহর বাঁক বদল পরম্পরার

জন্মটা উদয় হলে অস্তটা মৃত্যু। প্রতিটি প্রহর এক একটি অধ্যায়

জীবন, অষ্ট প্রহরে চালিত চাকা, সময় কাল থেকে মহাকালও…
জন্ম পরম্পরা বুঝতে বুঝতে দেখি সবকিছু গোল। নিজেতে নিজে

পাপ মোচন

রহিমা আফরোজ মুন্নি

ভরে থাক দুই চোখ।
আমার সুন্দর দুই চোখ।
ভরে থাক কেতর মাখামাখি ধবধব সাদায়।
অন্যের ঘিনঘিন জাগানো থকথক পিচ্ছিলে।
ফাঁকেফাঁকে খড়িওঠা শুকনা পুঁজে।
ও আমার ছোটোবেলার চোখওঠা, ফিরে আয়।
ও আমার ঘুম ভাঙার পরের যুদ্ধ রে,
ফিরে আয় আরও কঠিন হয়ে।
আম্মার দুই হাত অবশ করে ফিরে আয়।
ফিরে আয় তুলা ভেজানো টগবগ পানি,
মেঝেয় গড়াগড়ি অহেতুক চিক্কুর,
আব্বার নির্দয় হাসিতে আশঙ্কা।
শক্ত হয়ে জমাট বেঁধে ভরে থাক।
ভরে থাক মায়ায় দুই চোখে।

আমি গণি মিয়া নই

মাহবুবা ফারুক

নিজস্ব হৃদয় জমিন খুঁড়ে বীজতলা বানিয়েছি
বেদনা বুনবো বলে
কিছু ফেলে যাওয়া কারো-কিছু কুড়িয়ে পাওয়া
কষ্টের বীজ করেছি জমা
উর্বর কষ্টভূমিতে ডালপালায় ছেয়ে যাবে
সামান্য কিছু ঝরে পড়বে হয়তো
হৃদয়ের মাটিতেই জানি সেখানেই
আবার জন্ম নেবে কষ্টবৃক্ষ
তবু চাষ করি বেদনা নিজের মনে
আমি গণি মিয়া নই যে অন্যের
জমিতে চাষ করব ব্যথার ফসল
নিজের মনে বীজ বুনি আর ভাবি
গণি মিয়া পরের জমি চাষ করে সংসার চালায়
অথচ নিজের বেদনার বিনিময়ে
সুখ কেনা হয়নি আজও আমার
সত্য কথাটা হলো আমি
গণি মিয়ার চেয়েও দরিদ্র।

দিদির বাগানটা

মুর্শিদ আনোয়ার

দিদির বাগানটা
আহা কত ফুল কত রঙের
জানো কতটা
হাজারটা
কি করে বসে থাকি ঘরে
দিদির চোখ ফাঁকি দেয়া নয়তো সহজ ওরে
যেইনা ফুল ধরতে যাই
দিদি আসেন তেড়ে
আমার কেবল ফুল
ছিঁড়তে ইচ্ছে করে
জানলা খুলে দেখি
মৌমাছি আর টুনটুনি কয় পাখি
নাচছে ডালে
হালকা তালে
কিচির মিচির ডাকি
ভোমরা এলো বেজায় কালো
দিচ্ছে ফুলে হানা
তার ছোট্ট দুটি ডানা
ফুলের মধু স্বাদু স্বাদু
যেমন মিষ্টি বুড়ো দাদু
এফুল ওফুল গোলাপ ফুলে
মধুর মতো আহার মেলে
তাইনা দেখে রাজার প্রজাপতি
দল বেঁধে সব আসলো উড়ে
নেই কোনো বিরতি
প্রজাপতির রঙিন পাখায়
বাগান গেলো ছেয়ে
সবাই যেন লক্ষীমণি
দিদির মতন মেয়ে
ফুলের গায়ে আদর দিয়ে
মিষ্টি করে বসে
ফুলগুলো সব হাসে
হাসির আওয়াজ কেবল শুনে
আমার দিদিমণি
কেউ তোমরা শুনতে কি পাও
এমন মধুর ধ্বনি
সবটুকু তার পূর্ণাধিকার
কেবল দিদিমণির
সঠিক বিচার নেইগো দিদির
আমরাকি সব বধির
ভাবি, অঙ্কখাতা খুলে
দুহাত চেপে গালে
কেমন করে দেই যে ফাঁকি
দিদি এবং মাকে
তারা কেবল চোখে চোখে রাখে
দিদি বোঝেনা মা বোঝেনা
বোঝাই বলো কাকে
হেলে দোলে গোলাপটা যে
আমায় কেবল ডাকে

বোবা শব্দে জোড়াচোখ

সোহাগ সিদ্দিকী

যদি ভুলে যাই সব পৃথিবীর পাপ
তোমাদের নাম খায় ব্যাধিরঙা সাপ
একথালা সাদাভাত লঙ্কা পোড়া নুন
প্রিয়তা ফুলের মুখ গন্ধের উনুন
ভুলে যদি যাই সেই নদীর পরাণ
জলের শরীরে টিপ রজঃস্বলা বান
কোন রঙ লুকিয়েছে রঙেদের নামে
আকাশের বুক জুড়ে মেঘেদের ঘামে
যাই যদি ভুলে সব পাখিদের গান
আয়ুসাথী সেইসব সবুজের টান
চিরচেনা সহযাত্রী বাড়ি ফেরা পথ
পিতার বিশ্বাস আর সন্তানের রথ
ভুলে যাবো শব্দ আর কবিতার বুক
ভুলের খেলায় বাজি একমুঠো সুখ
মায়ের বাঁধানো ছবি কোন অজানায়
খুঁজে পাবো ঠিকঠাক চোখ ঠিকানায়
আর তোমাদের মুখ মায়ার মাদল
ঝিমধরা দুটি চোখ লাটিম আদল
খুঁজে নিও ঠিক ঠিক বুঝে নিও সব
তোমাদের যত প্রেম চোখের স্বরব

টান

নাহিদা আশরাফী

তাঁতের আশ্রয়ে
পরগাছা রঙ্গিলা সুতো হয় দৃষ্টিনন্দন।
অতঃপর কোন এক মাহেন্দ্রক্ষণে,
স্রষ্টাকে ছেড়ে সৃষ্টি চলে অভিসারে।
পৃথিবীর নগ্ন হাতে ঘুরে ঘুরে সৃষ্টি ভ্রষ্ট হয় নিয়ত।
দিন শেষে শূণ্য ঘরে রিক্ত শূণ্য থাকে পড়ে
তাঁত ও তাঁতের বুকভাঙ্গা হাহাকার।
যতবার ভাবে তাঁত, সুতোর দাম্ভিক আঘাত,
শূণ্যতায় মৃদু হাসি আঁকে ততবার।
রঙ্গিলা তাঁতের শাড়ি, ভাবে তাঁত খুব আনাড়ি।
ফাঁকি বুঝি অনায়াসে দেয়া গেল।
দিনান্তে ফিরে এসে, ফাঁকির হিসেব কষে।
বলতো ফাঁকির বোঝা কে বয়ে বেড়ালো?

স্বপ্ননীল মৃগয়া বিরোধ

সানাউল শাহ

দেখা হয়ে যাবে জানি তোমার আমার
উৎসবে ভরে যাবে ঠিকই আবার
নিরুদ্ধ স্বপ্নের সব আদিম শহর
ভোরের হলুদ রোদে এলাবে প্রহর;
একদিন শেষ নক্ষত্রের বিদায়ের কোন ক্ষণে
বুকভরা প্রভা নিয়ে আমরা দু’জনে
তেপান্তর পার হয়ে দিগন্তের সেই শেষ রেখা
ছুঁয়ে দিতে দেব ছুট ফেলে রেখে মিতাচার প্রথা;
সেইখানে অরণ্যের গেরস্থলি নির্বিঘ্ন বসত
চোখের নেশায় মত্ত দু’চোখে অর্পিত
স্বপ্ননীল মৃগয়া বিরোধ
ইচ্ছের শাসনে যাবে অনুপল সময়ের স্রোত;
নিষেধের বেড়াঝোপ ছেড়ে স্বপ্ন থেকে কিছু দূরে
আমাদের দেখা হবে অবাধ্য ইচ্ছের কোন তরঙ্গ শিখরে।

সাহসী হিজড়া

নিশাত খান

বাম্পার ফলন পাড় হয়ে যায় শস্যবীজ
জনসভা বিবৃতি পাতায় মিডিয়ার ফ্ল্যাস জলে
আহা প্রশান্তির বাঘের ঢেঁকুর লোকালয়ে আরণ্যক সুখ
পঁয়ষট্টি টাকা এককেজি চাল, চালবাজ জিন্দাবাদ

ধান্ধা জানে ধান্ধাবাজ সত্য বলা মহাপাপ মিথ্যে জ্ঞানী
এইসব পদ খেতাব পদবী অক্ষয় অম্লান যতদিন লেজ নড়ে
কেন যে বঞ্চিত করো নারী মুরগীর রান
ভালো থাকো শয্যাসুখ আলোর ঝিলিক অমিয় জীবন

বুকের জমিন ফেটে রক্তের ফোয়ারা মাটি ভিজালেও
প্রতিবাদ নেই নগর বন্দর জনপদে
পুড়তে পুড়তে আর বাকী নেই পোড়া সামান্য চামড়া
তবু বসে থাকে চক্ষুস্মান অন্ধ ঘরের দুয়ার চাপা

পাহাড় ধর্ষনে যদি নামে মৃত্যুর মিছিল এই অসভ্য সমাজে
কারো কিছু যায় আসে নদীর দখলে বালুচোর বাহুবাজ
আর কত দেখে যাবি হাঁটুজলে খাবি খাওয়া পুরুষ
এরচেয়ে ভাল সাহসী হিজড়া রাজপথে অধিকার চায়
ন্যায্য হিস্যা চায়।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আশরাফুল কবীর — জুন ২৮, ২০১৭ @ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

      >কেউ কি ‌”আসে” বসে পুরনো জানালায়! মতিন বৈরাগীর লিখা এ কবিতায় আসে শব্দটির সামঞ্জস্যতা বুঝতে সমস্যা হল, কবিতাটি ভাল হয়েছে।
      সবার কবিতা ভাল লেগেছে। ঈদ সংকলন এর জন্য ধন্যবাদ। সকল কবিকে শুভেচ্ছা।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com